এই যে ধরো, আমাদের রোজ কত কত গল্প। কতো কতো স্মৃতি। এগুলো একটু একটু বুকে গেঁথে থাকে। এই যে প্রতিদিনের প্রতিমুহূর্তের তুমি বুকে জমা হতে থাকো, এটাই স্মৃতি। আজ থেকে অনেক বছর পর, যখন আমরা বুড়ো হয়ে যাবো, তখন এই প্রতিদিনের তুমি কল্পনায় একটু একটু করে জেগে উঠতে থাকবে। সেটাতো আসলে সময়ই। তুমিতো তখনও থাকবে। কিন্তু এই সময়টা তখন স্মৃতি হয়ে সুবাস ছড়াতে থাকবে।
Sadat Hossain (born 29 June 1984) is a Bangladeshi author, screenwriter, film-maker, and novelist. Sadat Hossain was born In Madaripur, Dhaka, Bangladesh. He studied anthropology at Jahangirnagar University. He was a photojournalist in a newspaper. Then the editor told him that he should write the story of those photos. Eventually, with these, he published his first book in 2013 named Golpochobi. Then, he started to write short stories. In 2014 Janalar Opashe published. In 2015 Aarshinagor is the first book when people recognize him in 2015.[4] Besides writing he has interest in filmmaking as well. He has a production house named ‘ASH’ Production house, released a number of visual contents like short films, dramas, music videos, documentaries, etc.
আমার মাঝেমাঝে এমন একটা অবস্থা হয়– যখন বই পড়তেও ইচ্ছে করে না, আবার কিছু না পড়লেও ভালো লাগে না। অবস্থাটার জন্যই এই বইগুলোর কাছে আসতে হয় আমার! অন্য সময় পড়ার কথা চিন্তাও করতে পারতাম না।
বইগুলো পড়ার সবচে বড় সুবিধা হলো, যতই মোটা হোক না কেন, বেশিরভাগ লাইন বাদ দিয়ে পড়লেও সমস্যা নেই.. কাহিনি জানা হয়ে যাবে। তো কাহিনি হলো– গ্ৰামের এক প্রভাবশালীর অত্যাচারে দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন মহিতোষ এবং তার পরিবার। কিন্তু বসতভিটা তিনি কার কাছে বিক্রি করে যাবেন, এই নিয়ে ওই প্রভাবশালীর হম্বিতম্বি... এদিকে গ্ৰাম ছাড়ার সময়ে মহিতোষেরই কন্যা পারু মুসলমান এক ছেলে ফরিদের সাথে পালিয়ে গেছে। এই পারুর চরিত্রটি শুরুতে খুব বিরক্তিকর ছিল– তার এক চিঠিতেই ফরিদ চলে এসেছিল, পালিয়ে যা যা করা দরকার মাথা খাটিয়ে তা করেছেও। কিন্তু পারুর অংশগ্রহণ একদম নগন্য ছিল। ভাবখানা এমন, তাকে সেবতেই ফরিদের জন্ম! উপন্যাসের শেষে অবশ্য লেখক হুট করে পারুকে গায়েব করে দিয়ে 'পারু কোথায়' বলে শেষ করে "ইতি স্মৃতিগন্ধা" পড়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। লেখা ভালো না লাগলেও আমন্ত্রণ অগ্ৰাহ্য করতে পারছি না (একদম না পড়ার চেয়ে কিছু পড়া ভালো!!)
সাদাত হোসেনর বই এইটাই প্রথম। এইবইটা সামাজিক উপন্যাস হিসাবে একদম ঠিক আছে। ১৯৭১ এর পরের কাহিনী ভালোবাসা। হ্যাঁ এইটা ঠিক লেখক কিছু জায়গায় লেখা ইচ্ছা করে টেনেছেন। এইটা না করলে খুব ভালো লাগত। কাহিনী এমন জায়গায় শেষ হয়েছে দ্বিতীয় পর্ব না পড়ে আর উপায় নাই।
সংক্ষিপ্তসার: মহিতোষ মাস্টারের সংসারে আছে স্ত্রী অঞ্জলি, দুই মেয়ে পারু আর চারু এবং মা ছায়ারাণী। যুদ্ধের আগে ভাই পরিবার সহ পাড়ি জমায় ওপার বাংলায়। যুদ্ধের পর মহিতোষ মাস্টার ও ভিটে মাটি বিক্রি করে স্বপরিবারে ওপার বাংলায় যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কিন্তু পরিবারের সবারই মাটির টানে মন সায় দেয় না। তবে তারা এটাও জানে তাছাড়া উপায় নাই। গ্রামের জাহাঙ্গীর ভূইয়াঁর নজর পড়েছে মাস্টারের সেই জমি জায়গায়। নিজেও প্রাপ্য দামে কিনতে চাই না, ষড়যন্ত্র করে বাকিদের ও নিতে দেয় না। এদিকে মাস্টারের বড় মেয়ে পারুর উপর ও এলাকার কিছু মানুষের কুৎসিত নজর পড়েছে। কিন্তু পারুর মন গ্রামের ডাক্তারের ভাগ্নে ফরিদের কাছে। পারুদের চলে যাবার কথা শুনে ফরিদ ও অস্থির। মহিতোষ মাস্টার ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে দেশ ছাড়ার ব্যবস্থা করলে পারু ও এক অপ্রত্যাশিত পদক্ষেপ নেয়। যেই পদক্ষেপে বদলে যায় গ্রামের সকলের নিয়তি। পাঠ-প্রতিক্রিয়া: গল্পটা ভালো লাগেনি তা না, তবে লেখকের আরেক বই "তোমার নাম সন্ধ্যা নামে" এর সাথে এই গল্পের প্যাটার্ন টা অনেকটা একই। কাহিনী ভিন্ন হলেও সেই সমাজ অনুযায়ী অগ্রহণযোগ্য প্রেম, সেই একাধিক ভিলেন থাকা, সেই একাধিক ভিলেন এর সূক্ষ সুতায় সংযোগ, সেই এলাকার ষড়যন্ত্র, সেই অপ্রত্যাশিত ভাবে কোনো এক চরিত্রের উদার মন - উভয় বইতে একই রকম। তবে কাহিনী এ বই এ শেষ হয়নি। গল্পের অগ্রগতি হয়েছে দ্বিতীয় বইয়ে, "ইতি স্মৃতিগন্ধ"। সেখানে আশা করছি ভিন্ন কোনো যোগসূত্র থাকবে।
অসাধারণ একটা বই। খুব কেঁদেছি বইটি পড়ে। অনেক ভালোবাসা আর মুগ্ধতা বইটির প্রতি। বইয়ের প্রচ্ছদটা অসাধারণ রকমের সুন্দর 😍
এই উপাখ্যান ভিন্নধর্মী দু'জন প্রেমিক যুগলের সংগ্রাম,ত্যাগ ও তীব্র ভালোবাসার আসক্তির উপাখ্যান, অসহায় বাবার ভগ্ন হ্রদয়ের আত্নচিৎকারের উপাখ্যান, মুক্তিযোদ্ধা নামক মুখোশধারী এক রাজাকারের এক হিন্দু পরিবারের প্রতি অসহনীয়, নিমর্ম অত্যাচারের উপাখ্যান, মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী ইতিহাসের উপাখ্যান।
ভালোবাসা কোনো জাতি-ধর্ম-বর্ণ মানে না। কিছু কিছু জীবনের গল্প নাটক সিনেমাকেও হার মানায়। ভালোবাসাও এরকম বিশুদ্ধ হতে পারে, আচ্ছা আজকাল কি আমাদের সমাজে এমন বিশুদ্ধ ভালোবাসার দৃষ্টান্ত আছে। ভালোবাসা তো এমনি হওয়া উচিত স্বর্গীয়, দ্বিধাহীন, স্বার্থহীন, অন্ধবিশ্বাস। ভুবনডাঙ্গা গ্রামের অপরূপ সৌন্দর্য, পারু-চারু দু'বনের খুনসুটি-দুষ্টুমি, পারু-ফরিদের স্বর্গীয় ভালোবাসা, বাবা মহিতোষের মেয়ে হারানোর আত্নচিৎকার, জাহাঙ্গীর ভূঁইয়ার অসহায় হিন্দু পরিবারের প্রতি অত্যাচার, আশরাফ খাঁ-র মহত্ত্ব, দিলারা ভাবির দুষ্টুমি, মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী ইতিহাস খুব মার্জিতভাবে ফুটে ওঠেছে 'স্মৃতিগন্ধা' উপন্যাসে।
'স্মৃতিগন্ধার' সাথে আমার এক অদ্ভুত সম্পর্ক রয়েছে। ফেসবুকের একটা প্যারাসাইকোলোলজি গ্রুপে গত ১৮ মার্চ একটা "Spiritual Match Making" game হয়। সেই game উদ্দেশ্য ছিল নিজের চাওয়া, রুচিবোধের সাথে মিলে যায় এমন কাউকে জীবনসঙ্গী হিসেবে বাছাই করা। প্যারাসাইকোলজি গ্রুপে যখন গেইম শুরু হয় তখন গ্রুপের এডমিন একটি পোস্টের মাধ্যমে game এর নিয়মগুলো বলে দেয়। নিয়মটা এমন যে সবাই সবার নিজের সমন্ধে ৫ লাইন বলবে এবং কেমন জীবন সঙ্গী চায় তা উল্লেখ করে আরো পাঁচ লাইন লিখে কমেন্ট করবে। আমি নিয়ম অনুযায়ী পোস্টে কমেন্ট করলাম যে আমি বইপোকা, সলো ট্রাভেলার, হ্যাকার, কল্পনাবিলাসী এবং উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী এবং নিচে আরো পাঁচ লাইনে বলে দিলাম আমি যেমন ঠিক তেমন বইপোকা, কল্পনাবিলাসী, ভ্রমণপ্রিয় একজন কে জীবনসঙ্গী হিসেবে চায়। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর ও দেখলাম আমার কমেন্টের কেউ রিপ্লে দেয় নাই। পরক্ষণেই ফোনের নোটিফিকেশন চেক করে দেখলাম আমার এক ফেসবুক ফ্রেন্ড আমাকে ওই "Spiritual Match Making" game এর পোস্টের এক মেয়ের কমেন্টে আমাকে ম্যানশন করছে। তারপর মেয়ের কমেন্ট চোখে পড়ল এবং ওই মেয়ের পছন্দ-অপছন্দের সাথে আমার পছন্দ-অপছন্দ মিলে গেল তাই আমি আর দেরি না করে গেইমের রুলস অনুযায়ী তাকে এই বলে ইনবক্স করি, "from Parapsychology group, may I proceed". সাথে সাথে ওই মেয়ের রিপ্লে আসলো "Yeah!, of course. তার আইডির নাম "So... Mo..". তারপর কথা বলতে বলতে আমাদের প্রেম হয়ে গেল দু'দিনেই।
আমি বইমেলায় প্রতিদিনই যাওয়া হয় এবং প্রথম দু'দিনেই ৩৩ টা বই কিনে আনি। তারপর ২১ মার্চ বিকালে বইমেলায় যাওয়ার আগমূহুর্তে আমার প্রিয়সী কে মেসেজ দেই যে আমি এখন বইমেলায় যাচ্ছি রাতে কথা হবে, আজকে আমার বইয়ের লিস্ট অনেক দীর্ঘ তাই তাড়াতাড়ি যেতে হবে বইমেলায়। তারপর ও বলে ওর জন্য যাতে সাদাত হোসাইনের 'স্মৃতিগন্ধা' বইটা নিয়ে এসে তার বাসার ঠিকানায় বই পাঠিয়ে দেই। বই কিনে নিয়ে এসে প্রিয়সীকে মেসেজ দিয়�� বলি বই নিয়ে আসছি, আমি বইটা পড়ে শেষ করে তোমার কাছে পাঠিয়ে দিব।
আমি একদিনেই বইটি পড়ে শেষ করে ফেলি এবং ওর কাছে কুরিয়ারে পাঠিয়ে দেই। বই টি পড়ার সময় পারু আর ফরিদের জন্য অনেক কান্না করছি। আমি জীবনে আরেকটি বই পড়ে কান্না করেছিলাম এটা আমারা জীবনের দ্বিতীয় বই যা আমার মনে প্রচন্ড ধাক্কা দেয় আমার চোখের ফোয়ারা বেয়ে শ্রাবণ মেঘের মতো চোখের পানি ঝরতে থাকতে।
স্মৃতিগন্ধা বইটা প্রিয়সীর কাছে পৌচ্ছে গতকাল, ও প্রায় এক-তৃতীয়াংশ পড়ে শেষ করে ফেলছে। আমি বইটি পড়ার সময় বইয়ের মাঝখানে একটা স্টিকি নোটে লিখে দিয়েছিলাম 'তুই কি আমার পারু হবি'। প্রিয়সী চিরকুটটা দেখে অবাক হয়ে আমাকে ফোন দিয়ে বলে তুমি এসব আইডিয়া কোথা থেকে পাও। হাহাহা এসব আইডিয়া তো মন থেকে আসে তাই না !
আমি জানি না আমার প্রিয়সী আমার সাথে অভিনয় করছে কিনা, তবে আমি যে অভিনয় করতে জানি না। আমার মধ্যে যে ফরিদের সত্যিকারের ভালোবাসা অন্তর্নিহিত, তবে ও কি পারুর মতো আমায় ভালোবাসতে পারবে ? সময়ই সব বলে দিবে। মানুষ স্মৃতি হয় না , স্মৃতি হয় সময়। হয়তো তোমার সাথে অতিবাহিত সময়টা স্মৃতি হয়ে থাকবে, হয়তো আমার কোনো গল্পে কোনো প্রতাকর চরিত্রের ভূমিকায় থাকবে।
"তুই কি আমার পারু হবি"
"জানি যাচ্ছি ফেলে সন্ধ্যা সাথে তোমাকেও, স্মৃতিগন্ধা"
দ্বিতীয় খন্ডে সমাপ্ত। গল্পটা ভয়ঙ্কর সুন্দর। দ্বিতীয় খন্ডের জন্য অপেক্ষায় থাকবো।
সাদাত হোসেইনের লেখার মুল উপজিব্য সমকালিন সামাজিক ঘরানার হলেও উনার এখনকার বইয়ের গল্প গুলোতে একটু রহস্যের ছোয়া থাকে। এই বইটিতেও আছে। এর পর কি হবে, ওটার পেছনে কে আছে, ওই লোকটা কে এই ধরনের প্রশ্ন প্রায় প্রতিটা অধ্যায় শেষেই পাঠকের মাথায় আসবে।
গল্পটির কেন্দ্রবিন্দু একটি গ্রামের এক হিন্দু পরিবার। বাড়ির কর্তা মহিতোষ, তার স্ত্রি, দুই মেয়ে ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে তার সংসার। যুদ্ধ পরবর্তি সময়ে নানান কারনে দেশ ছেড়ে ভারতে যাবার পরিকল্পনা করে মহিতোষ। তার আগে দেশের সম্পত্তি বিক্রি করা নিয়ে বেশ কিছু সমস্যায় পড়ে। এদিকে তার বড় মেয়ে পারুর সাথে গ্রামের মুসলমান ছেলে ফরিদের মনদেয়া নেয়া চলছে। বাবা মা হিন ফরিদ তার মামার কাছে মানুষ। দুজন দুই ধর্মের হওয়ায় এবং পারুরা সপরিবারে দেশ ত্যাগের সিদ্ধান্ত নেয়ায় পারু ও ফরিদ তাদের বিচ্ছেদ একরকম মেনেই নিয়েছিলো। কিন্তু দেশ ছাড়ায় মূহুর্তে সিদ্ধান্ত বদলায় পারু। বাবা-মার অজান্তে নেমে পড়ে ট্রেন থেকে। তার আগেই ফরিদকে জানিয়ে দেয় যে সে তার অপেক্ষায় থাকবে স্টেষনে। ফরিদও তারা আশ্রয়দাতা মামার বাড়ি চিরদিনের জন্য ছেড়ে চলে আসে পারুর কাছে। এইখান থেকে শুরু হয়ে পারু ও ফরিদের জীবন সংগ্রাম। তাদের খোজে হন্যে হয়ে ঘুরতে থাকে পারুর বাবা মহিতোষ। জাহাঙ্গির ভুইয়া নামক আরো একজন খুজছে তাদের, তবে তার উদ্দেশ্য সৎ নয়।
তবে এই গল্পটির মাধ্যমে লেখক আমাদের সমাজের কিশোর কিশোরিদের মাঝে আবেগজনিত কারনে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনা তুলে ধরেছেন। অল্প বয়সের আবেগে বা ভালোবাসায় অনেক ছেলেমেয়েই ঘর ছাড়ে। সেই ঘর ছাড়ার পর তাদের কি কি কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়, কি কি বিপদের পড়ার সম্ভাবনা থাকে তা গল্পের দুটি চরিত্র ফরিদ ও পারু মাধ্যমে উঠে এসেছে। গল্পে পারু ও ফরিদ যে সব সম্ভাব্য বিপদের মাঝ থেকে হুট করে দৈবভাবে বেরিয়ে এসেছে আসল দুনিয়ায় তেমনটা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। অন্যদিকে মেয়ের খোজের পারুর বাবা মহিতোষের আকুলতা থেকেও এসব ঘরপালানো ছেলেমেয়ের বাবা মায়ের মনের উপর দিকে কি পরিমান ঝড় যায় এবং তারা কতটা মরিয়া হয়ে ওঠে ছেলে বা মেয়েকে আবার ফিরে পাবার জন্য সেটাও খুবভালোভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক।
হুমায়ুন আহমেদ -পর্বের পর নতুন করে আরেকজন বাংলাদেশের কথাসাহিত্য নিয়ে হাঁটতে চলেছেন। মাঝখানে অনেকটা বছর শূণ্যতা ছিল। কেউ ছিল না জায়গাটা পূরণ করার। সাদাত হোসাইনের যাত্রা সবে শুরু। ইতোমধ্যে ফ্যানবেইজ বেশ মোটা। সামনে আরো হাত পাকা হবে৷ বেশ কিছু উজ্জ্বল উপন্যাস তাঁর কাছে আশা করা যায়।
কেন যেন জহির রায়হান জাতীয় ঘ্রাণও আসে উনার লেখা হতে। কষ্ট, ঝামেলা ও বাস্তবমুখী অসুবিধা থাকবেই।
নিঃসঙ্গ নক্ষত্র, অর্ধবৃত্ত - র পর স্মৃতিগন্ধা। উনার তৃতীয়মত বই পঠন। কখনো ইতি স্মৃতিগন্ধা নামের পরের খন্ডটি হাতে পেলে পড়ে নেবো।
সবসময় ভাবতাম ফেলে আসা মানুষগুলো বোধহয় স্মৃতি হয়ে যায়। বইটা পড়ে বিশ্বাস করতে ইচ্ছা হলো আসলে মানুষগুলো স্মৃতি হয় না, "স্মৃতি হয় সময়"....
এটা বলব না, এখন জনসাধারণ তেমন একটা বই পড়ে না। বললে যারা পড়েন তাদের প্রতি নিগ্রহ হবে। তবে অবশ্যই বলব আগের মত বৃহৎ পরিসরে বই পড়ে না। সাদাত হোসাইন সহ আরো কিছু নতুন লেখক,লেখিকার জন্য অনেকে নতুন করে মুঠোফোন-যুগে বইমেলায় যেতে আগ্রহ বোধ করে। বই কেনে। পড়ে। আবেগতাড়িত হয়। সুতরাং, লেখক হিসেবে হোসাইন সাহেবের নিরলস চেষ্টার জন্য তাঁকে অভিবাদন জানাবো।
☀︎︎ অন্যের সমালোচনা করা সহজ৷ নিজে লিখতে গেলে বোঝা যায় কত ধানে কত চাল।
ভাগ্যিস নিজের টাকা দিয়ে কিনে এই সিরিজের বই দুটো পড়তে হয়নি.. নইলে আমার দিনে তিন বেলা আয়োজন করে কান্না করতে হতো! এই লেখকের বই এ-ই প্রথম পড়া এবং আমি ঠিক করেছি ভবিষ্যতে আর জীবনেও পড়বো না... ১২৭ পৃষ্ঠা একটানা পড়ে বুঝলাম আমি এক জায়গায়ই আটকে আছি.. কাহিনিকে লেখক না দিচ্ছেন সামনে এগুতে.. না দিচ্ছেন পিছু হটতে! বিরক্তিতে বারবার ছুঁড়ে ফেলতে ইচ্ছে করছিলো। আবার অর্ধেক পড়ে রেখেও দিতে পারছিলাম না।কারণ আমি কোনো বই'ই অর্ধেক পড়ে রেখে দিতে পারিনা! এত্তো বাজে অনুভূতি বইটা পরার পর! একই জিনিস পরবর্তী পৃষ্ঠায় অন্যভাবে লিখা.. মনে হচ্ছিল চোখের সামনে বাংলা সিনেমা দেখছি।হাবিজাবি যা মনে আসে তা লিখে পৃষ্টা বাড়িয়ে পাঠকের টাকা মেরে দেয়ার ধান্দা ছাড়া আর কিচ্ছু বলা যায়না এটাকে!ফাঁকে ফাঁকে যে কবিতার চরণ গুলো আছে তার জন্য দয়া করে ১ টা তারা দিবো।প্রথম বইটা পড়ার পর দ্বিতীয় বইটা আর ভুলেও পড়িনি.. পড়বোওও নাআআ
অনেকদিন পর কোনো বই এতো দ্রুত শেষ করতে পেরেছি৷ গল্পটা ভালোই, গ্রামীণ প্লট টা বেশ সুন্দরভাবেই ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে মনে হয়েছে অযথা গল্পটা টেনেছেন। দ্বিতীয় কোনো পর্ব না বেরোলেই বোধহয় ভালো হতো। তবে বইটা যখন পড়েছি, ২য় খণ্ড কিনতে তো হবেই। কারণ যে জায়গায় শেষ করেছে প্রথম খণ্ড, মনে প্রশ্ন রয়ে গেছে। প্রশ্নের উত্তরের জন্য হলেও কিনতে হবে "ইতি স্মৃতিগন্ধা"। তবে বইটির ভাষাশৈলী পছন্দ হবার মতন।