বীথি চট্টোপাধ্যায়ের সুইডেন-ভ্রমণের সংশোধনাগারের স্মৃতিটাই বেশি উজ্জ্বল আমার প্রথম শারদীয়া কিশোর ভারতী পাঠে। সুরজিৎ চ্যাটার্জি নাকি 'অন্য জগতের তারকা'! এভাবে তকমা দেওয়াটা একেবারেই না-পসন্দ আমার। একজন যখন ভালো লিখছেন, তখন, সেই সময়টায়, তিনি নিঃসন্দেহে লেখক। আর লেখক সুরজিতের লেখা তাঁর গানের মতোই বাস্তবধর্মী। পিসি সরকার জুনিয়র দেখিয়েছেন তাঁর লেখার জাদু। ইনিও 'অন্য জগতের তারকা' নন। সায়ক আমানের নাম শুনেছি অনেক। এই থ্রিলার-রহস্য রচনার জোয়ারেই তাঁর নাম শোনা। অনেক ভালো লেগেছে তাঁর লেখা। পুনর্বার পূজাবার্ষিকী ঘাঁটতে গিয়েই দেখি, এঁর লেখা পড়া হয় নি। তাঁর লেখনী দারুণ! আমার সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে আঞ্চলিক ভাষার প্রয়োগ। সায়ক আধিভৌতিক রচনা ভিন্ন অন্য কিছু লিখলেও নাম করবেন। হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত। এনার ঐতিহাসিক উপন্যাস ভালো লেগেছে। তবে পরে বাতিঘরে গিয়ে ওনার বই খুঁজেছিলাম, তেমন লাগে নি। সৈকত মুখোপাধ্যায়—এনার আখ্যানও সেই। শঙ্খ ঘোষ–শ্রীজাতের কবিতায় ওম পেয়েছি। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মানবিক শিল্পীসত্তা আরেকবার প্রস্ফূটিত হয়েছে তাঁর জল-কবিতায়। প্রদীপ্ত মুখার্জি-সুমন্ত গুহর অঙ্কন অসাধারণ লেগেছে। নচিকেতা মাহাতের অলঙ্করণ শিশুতোষ।
আর গল্পের প্লটে 'ইসলামি' সন্ত্রাসবাদ আনয়নটা খুব একটা ভালো লাগে নি। সেই সাথে, কোয়ান্টিটি কমিয়ে কোয়ালিটি বাড়ালেই চলবে।