আমার অনেক দিন ধরেই সাইকোলজি, ব্রেইন, মানুষের মন ইত্যাদি বিষয়ে জানার আগ্রহ ছিলো এবং সেই আগ্রহ থেকেই বইটি কেনা এবং পড়া। বেশ সুক্ষ্ম একটা ধারণা হয়ে গেলো বইটি পড়ে। আপনারা বইটিতে কি কি পাবেন এবং বইটি পড়লে কি কি শিখতে পারবেন তাই তুলে ধরছি।
বইটি মূলত ৭টি ভাগে লেখা হয়েছে। প্রতিটি ভাগ নিয়েই লিখছি...
১। আত্ম উন্নয়ন - self development 💪 এই অংশে লেখা হয়েছে, আপনি কিভাবে আপনি আপনার বদ অভ্যাস দূর করে ভাল অভ্যাস গঠন করবেন তার কিছু কার্যকরি টিপস। এছাড়া এই অংশের সবচেয়ে আকস্মিক বিষয়টি ছিলো ব্রেইন মাস্টারি অর্থাৎ কেও আপনার সাথে মিথ্যা কথা বলছে কিনা তা বোঝার অসাধারণ কিছু কলাকৌশল। এছাড়া একাকিত্ব দূর করার উপায়, ডিপ্রেশন নিয়েও লেখা হয়েছে এই অংশে।
২। ব্রেইনের হানিমুন-ঘুম ও সপ্ন 👀 এই অংশে আপনার কত টুকু ঘুমের প্রয়োজন এবং অতিরিক্ত ঘুমানোর কুফল, কম ঘুমানোর কুফল ইত্যাদি বিষয়ে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও সপ্নের সাথে আমাদের ব্রেইনের কতটা সম্পর্ক তা বলা হয়েছে। এছাড়া এই অংশে বিভিন্ন রিসার্চের মাধ্যমে পাওয়া ৯টি বহুল পরিচিত সপ্নের ব্যাখ্যা বৈজ্ঞানিক আলোকে তুলে ধরা হয়েছে।
৩। সাইকোলজি-কি কেন কিভাবে?🎃 প্রশ্নঃ আপনি কি মানসিক ভাবে অসুস্থ?? উঃ অবশ্যই না। (আপনাদের ধারণা) কিন্তু আমি বললাম হ্যাঁ আপনি অসুস্থ।। আপনাদের ধারণা চিন্তাধারা সব বদলে যাবে অংশটি যদি পড়েন। এছাড়া সাইকোলজি নিয়ে সুক্ষ্ম একটা ধারণা পাবেন এই অংশে।
৪। মন ও এর শক্তি-আপনার মন আপনার নিয়ন্ত্রণ 🌬 'মন' কি আপনার ব্রেইনের অংশ না কি হৃদপিন্ডের? এ সম্পর্কিত বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সহ মনের নেগেটিভ পজিটিভ চিন্তাভাবনা ইত্যাদি বিষয়াদি আলোচনা করা হয়েছে এই অংশে।
৫। রহস্যময় ব্রেইনের পরিচিতি🧠 এই অংশে ভয়াবহ আকারে বায়োলজিকাল বিষয়াদি আলোচিত হয়েছে। এছাড়াও আমাদের জীবনে সুখ, দুঃখ, আবেগ, ভালোবাসা ইত্যাদি ইত্যাদি বিষয়াদির জন্য যে হরমোন মশাই দায়ী তা বৈজ্ঞানিক তথ্য দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে।
৬। ব্রেইন বুস্ট🏋🚴 এই অংশটি পড়ার মাধ্যমে আপনি আপনার ব্রেইনের আনলিমিটেড পাওয়ার সম্মন্ধে ধারণা পাবেন এবং এই পাওয়ার বাড়ানোর জন্য কি খাবেন কোনো ব্যায়াম করবেন কিনা তা আলোচিত হয়েছে। এছাড়া পাবজি গেমার যারা আছেন তারা এই অংশটি পরে আরো বেশি বেশি পাবজি খেলার উৎসাহ উদ্দীপনা পাবেন।
৭। মাইন্ড ম্যাপিং ও পড়াশোনা 📖 এই অংশে ইফেক্টলি পড়াশোনা করার কিছু টিপস শেয়ার করা হয়েছে।
বইয়ের খারাপ দিক বলতে গেলে, খারাপ দিক তো নয় এটা আমার অজ্ঞতাই বটে, বইয়ে যেসব বায়োলজিকাল বিষয়বস্তু লেখা হয়েছে সেগুলো আমার মতো সাধারণ পাঠকদের বুঝতে একটু কষ্টদায়ক হবে বলে আমি মনে করছি।
এছাড়া বইয়ের ব্রেইন ফ্যাক্ট, বোনাস টিপস গুলো এককথায় অসাধারণ ছিলো।
সাইকোলজি, আত্মোন্নয়ন, অভ্যাস, পড়াশোনা, মন, স্বপ্নদেখা, ব্রেইন নিয়ে চিন্তাভাবনা করেন না, এরকম মানুষ খুবই কম। ব্রেইন বুস্টার বইটিতে মূলত এই সবকিছুর সাথে মানবমস্তিষ্কের সরাসরি সম্পর্ক তুলে ধরেছেন সাদমান সাদিক আর মনির উদ্দিন তামিম। একই সাথে বিভিন্ন প্রচলিত শ্রুতিকথার সত্যতাও দেখিয়েছেন তারা। এই যেমন ছেলেদের ব্রেইন মেয়েদের চেয়ে ৮-১৩ শতাংশ বড় হলেও মেয়েদের স্মৃতি মনে রাখার হিপ্পোক্যাম্পাস অংশটা ছেলেদের চেয়ে বড়। এজন্য মনে রাখার ক্ষেত্রে মেয়েরা এগিয়ে। ব্রেইন বুস্টার বইটিতে মেমরি পাওয়ার বাড়ানোর বেশ কিছু টেকনিক আছে। যেমনঃ
১। পড়া
২। ব্যায়াম করা
৩। শব্দ করে পড়া
৪। মাইন্ড ম্যাপিং
৫। পড়ানো
৬। অডিওবুক শোনা
৭। প্রতিদিন ঘুমাতে যাওয়ার আগে সারাদিন কী কী করেছেন তা চিন্তা করা।
এছাড়াও মানসিক দক্ষতা বাড়াতে ব্রেইনফুড গ্রহণ (ডাল, স্ট্রবেরি, ব্লুবেরী, নারকেল তেল, সবুজ শাক,গ্রিনটি,মধু, লাল চাল, এভোকাডো, ব্রকলি, কাজু, আখরোট), মাইন্ড গেম খেলা(সুডোকু, অংক,পাজল) সমান ভাবে উপকারী।
মানসিক সুস্থতার জন্য না বলতে শেখাটা ভীষণ প্রয়োজন। কীভাবে প্রোফেশনালি না বলবেন সেটাও শিখতে পারেন এই বই থেকে।
যারা ব্রেইন আর সাইকোলজির বিষয়ে বাংলায় সহজ কোন বই চান, ব্রেইন বুস্টার তাদের জন্য সেরা।
This entire review has been hidden because of spoilers.
স্টুডেন্ট হ্যাক দেখে অনুপ্রানিত হয়ে কেউ কিনে ফেললে-বুঝতে হবে এটা একটু উচ্চতর লেভেলের। অন্তুত উচ্চ মাধ্যমিকের মস্তিষ্কের গঠন জানতে ও বুঝতে হবে। আমি মেডিকেল শেষ করা মানুষ, তাও বই পড়তে পড়তে মনে হচ্ছিল টেক্সট বুক পড়ছি। গল্পের বইয়ের সেই ধাচ নেই। তাই মোটিভেশনাল না ভেবে পড়াশুনার ডিপ লেভেল, বা মেডিকেল লেভেল চিন্তা জানার জন্য বইটা। শুধু যে পড়াশুনা নিয়ে কথা আছে তা নয়, কিভাবে একাকিত্ব দূর করবেন, ডিপ্রেশনের সমাধান করতে পারবেন, তা নিয়েও বলেছেন। আরো জানতে দেখে আসুনঃ https://maruf7150.wordpress.com/2020/...
বইটা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষে পড়া একটা ছেলের পরীক্ষার আগের রাতে হুড়াহুড়ি করে করা একটা অ্যাসাইনমেন্ট মনে হয়েছে। ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করা 'famous quotes' যেখানে সেখানে যা তা ভাবে লাগিয়ে দেয়া। বাংলিশ ভাবে লেখা, ব্যাকরণের ব জানা নেই তামিম নামের ছেলেটার। এরা বই লেখে কীভাবে? স্পর্ধা টা আসে কোথা থেকে? হতে পারে ছেলেটা পড়াশোনায় ভালো, হয়তো দেয়ালে টাঙানো কটা ডিগ্রীও আছে, তাই বলে বই লিখতে বসে গেলে তো হবে না। ক্লাস ৯-১০ এর ব্যাকরণ বইটা নিয়ে আগে ব্যাকরণ শিখে নেও ছোট ছেলে। বাংলা জানো না বাংলাদেশ এ বই লিখতে এসেছ। নির্লজ্জ কোথাকার।
বেশ ভালো এবং অনেক কিছু শেখার আছে। কিন্তু ব্রেইন ফ্যাক্ট এর মতো টিপসগুলো ছাড়া তেমন আনন্দের কিছু খুঁজে পায় নি। বরং কিছু কিছু সেলফ হেল্প ট্রিক নিয়ে এতো বিশাদ বর্ণনা দেওয়া আছে যে কিছুটা বিরক্তই লেগেছে। সর্বপরি ৩/৫ দিলাম কেননা ২০২০ এ বের হওয়া আত্মউন্নয়ন বইগুলোর মধ্যে এ বইটি সত্যিই একটু ভিন্ন আর বেশি শিক্ষা লাভ করার উপযোগী বলে মনে হয়েছে।
খুব ভালো একটা বই। বইমেলায় যেসময় বের হয়েছিলো সেসমই কিনে পড়ি। ব্রেইন বুস্টার নিয়ে কোয়ান্টাম মেথড বইতে মোটামুটি ধারণা পেয়েছিলাম। কয়েক যুগ পর প্রকাশিত "ব্রেইন বুস্টার" ব���টি আপডেট তথ্য দিলো ব্রেইন এর উপর।