Jump to ratings and reviews
Rate this book

নুন চা

Rate this book
ভৌগোলিক তরল জমে ছিল পাহাড় হচ্ছে। তারই নিস্তরঙ্গ জীবনের নুনকথা। টয় ট্রেনের মতো ধরাবাঁধা নিসর্গের ভেতর দিয়ে ওঠা নামা। অপরূপ কিন্তু জীর্ণ। একথা বুঝতে সময় লাগে না লাল পতাকার পাশ দিয়ে উঠে এলো সবুজ নিশান। লাল সবুজের তৈরি হল হলুদ শিখা। পুড়তে লাগল ঘরবাড়ি। ক্ষেত গোয়াল। স্মৃতি আর স্বপ্ন নিসর্গের দাউ দাউ চিতা।

রাজনীতির নিশানে যখন আকাশ ঢাকে, জুনি পড়ে থাকে মাটি কামড়ে, পৃথিবীর দিকে পিঠ করে এগোতে চায় আর এক পৃথিবীর দিকে। পৃথিবীটাকে অবাক করে হতবাক করে।

576 pages, Hardcover

5 people are currently reading
124 people want to read

About the author

Bimal Lama

10 books8 followers
বিমল লামার জন্ম ৪ জুলাই ১৯৬৮ দার্জিলিং পাহাড়ের সিংতাম চা বাগানে এক চা-শ্রমিক পরিবারে। বাবা পুলিশের চাকরি নিয়ে সপরিবারে চলে আসেন হুগলি জেলায়। পড়াশোনা চুঁচুড়ার স্কুলে-কলেজে। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক। আইনের কলেজছুট। বর্তমানে রাজ্য সরকারি কর্মচারী, পুরুলিয়ায় কর্মরত। স্কুল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ছোটগল্পই জীবনের প্রথম প্রকাশিত লেখা। ‘দেশ’ পত্রিকা আয়োজিত ছোটগল্প প্রতিযোগিতায় পরপর দু’বার পুরস্কৃত। প্রথম উপন্যাস ‘নুন চা’। ‘রুশিকা’ লেখকের দ্বিতীয় উপন্যাস। ২০১৩ সালে পেয়েছেন জ্যোতিপ্রকাশ চট্টোপাধ্যায় স্মারক সম্মান।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
18 (78%)
4 stars
4 (17%)
3 stars
1 (4%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 7 of 7 reviews
Profile Image for Yeasmin Nargis.
199 reviews3 followers
January 6, 2026
“আমরা ইন্ডিয়ান কি না, কেউ ভাবে না”

‘নুন চা’ উপন্যাসে জনজাতির আত্মপরিচয়, লাঞ্ছনা ও প্রতিবাদের অনুপম অভিঘাত
“গোর্খাল্যান্ড হুনে ছৈ ন। এ হবার নয়। কে দেবে তোকে গোর্খাল্যান্ড? আধি বাঙালি ভাবে আমরা চিনা, আরশোলা খাই। কেউ ভাবে আমরা জাপানী, সাপ খাই। কেউ ভাবে না আমরা ইন্ডিয়ান।”

এই সংলাপ কেবল একটি চরিত্রের নয় উত্তরবঙ্গের এক বিস্তৃত জনজাতির দীর্ঘ সময় ধরে বুকে জমে থাকা অবহেলা, তাচ্ছিল্য ও রাষ্ট্রীয় বিমুখতার ক্ষতচিহ্ন। এটি এক ক্লান্ত উচ্চারণ, কিন্তু ক্লান্তি যেখানে থামে, প্রতিবাদ ঠিক সেখান থেকেই শুরু হয়।
আর এখানেই বিমল লামার ‘নুন চা’ উপন্যাসটি অনন্য। তিনি কোনও রাজনৈতিক ভাষ্য লেখেননি, কোনও ইস্তেহার নির্মাণ করেননি। বরং, তিনি লিখেছেন অদৃশ্যমান হয়ে ওঠা এক জনগোষ্ঠীর জীবন-যন্ত্রণা, সমাজের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া ইতিহাস, আর আত্মপরিচয়ের জন্যে লড়ে যাওয়া এক একটি প্রান্তিক মানুষের কথন।
🟢রাজনীতি যেখানে প্রেক্ষাপট নয়, চরিত্র
উপন্যাসের পটভূমি ১৯৮০-র দশকের গোর্খাল্যান্ড আন্দোলন, যেখানে গোর্খারা আলাদা প্রশাসনিক অঞ্চলের দাবিতে জ্বলন্ত প্রতিবাদ গড়ে তুলেছিল। সুবাস ঘিসিংয়ের নেতৃত্বে সেই আন্দোলন দার্জিলিংয়ের প্রতিটি অলিতে-গলিতে শিকড় ছড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু বিমল লামার মুন্সিয়ানা এখানেইতিনি আন্দোলনের বাইরের বা ভেতরের রাজনৈতিক রূপ নয়, বরং আন্দোলনের “মানুষ”কে সামনে এনেছেন। যাদের চোখে কুয়াশা, হাতে মেহনত, আর মনে প্রশ্ন।
“কখনো আন্দোলনের উপন্যাস, কখনো প্রেমের, আবার কখনো প্রান্তিকতা ও ব্যক্তিসত্তার অস্তিত্ব সংকটের জিজ্ঞাসা নুন চা যেন একেক পৃষ্ঠায় একেক স্বরলিপি।”

🟢অস্তিত্ব নয়, বিশ্বাসের সংকট
‘গোর্খা মানে ওয়াচম্যান’ এই আরেক সংলাপ যেন শ্রেণিগত লজ্জা আর জাতিগত সংকীর্ণতার এক গভীর প্রতিধ্বনি। এটি স্পষ্ট করে দেয়, গোর্খাদের লড়াই কেবল রাজনৈতিক স্বাধীনতার নয়, বরং সম্মান, স্বীকৃতি এবং 'মানুষ' হয়ে বেঁচে থাকার দাবির। উরগেন যখন বলে -
“এটাই তো আমাদের লড়াই। এই নিয়ম আমরাই বদলে দেব” সে কেবল কথার ঝাঁঝ নয়, বরং একটি নিপীড়িত চেতনার জেগে ওঠা।

🟢চরিত্রেরা চরিত্র নয়, তারা ইতিহাসের বুনন
বিমল লামা তাঁর চরিত্রগুলিকে গড়ে তুলেছেন তথ্যনির্ভর অন্তর্জীবনের উপাদান দিয়ে তারা যেন বাস্তব দার্জিলিংয়ের নির্দিষ্ট গলিপথে হাঁটা মানুষ, যাদের রয়েছে শিকড়, সংকট, সৌন্দর্য এবং সুর। তাদের দুঃখ, তাদের যাপন, তাদের আত্মদ্বন্দ্ব সবই যেন সাংস্কৃতিক লিপিবদ্ধতার বাস্তব দলিল।
“প্রতিটি মুখ একেকটি মানচিত্র, প্রতিটি আঘাত একেকটি ইতিহাস।”

নুন চা–র চরিত্ররা কেবল গল্পের অংশ নয়, তারা আত্মপরিচয়ের অনড় দলিল।
উরগেনের চারপাশে ছড়িয়ে থাকা প্রতিবাদী মুখগুলো জুনি, যে ধর্ষণের শিকার হয়েও নত হয়নি, 'ডোলমা' লাঞ্ছনার বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ায় যেন পাহাড় হয়ে, যশোমতী, যার ঘর হয়ে ওঠে গোর্খাল্যান্ডের আঁতুড়ঘর, - সুশীলা, প্রতিমা, প্রকৃতি প্রতিটি নারী প্রতিরোধের স্পন্দিত ছায়া।
আরো আছে মিলন, চুল না কাটার শপথে জেদ বাঁধে
''কেশ কাটদি ন গোর্খাল্যান্ড ন ভয়ে সম্ম''

পেম্বা, গোপাল, কুন্দন, কিশোর যারা এক একটি অনারক্ষিত আগুন।
তারা কেউ মহানায়ক নয়, তবু প্রত্যেকে প্রান্তের ইতিহাসকে জাগিয়ে তোলার একেকটি অক্ষর।
🟢যাপনের প্রতিস্পর্ধী নান্দনিকতা
‘নুন চা’ উপন্যাসে চা-বাগান আছে, শ্রমিকের কান্না আছে, পাহাড় আছে, কিন্তু ভ্রমণচিত্র নেই।
বরং রয়েছে জীবনের এমন অন্বেষণ, যেখানে প্রতিটি সম্পর্ক, প্রতিটি অবহেলা, এবং প্রতিটি ভালোবাসা এক একটি নির্বাক অথচ বিশুদ্ধ প্রতিরোধের ভাষা।
এই ভাষায় নেই অতিরঞ্জন, নেই নাটকীয়তা, আছে ভেতর থেকে চেপে আসা ক্রোধ আর তাতেই জন্ম নেওয়া মানবিক ব্যাকুলতা। নিসর্গনন্দনের ভেতরে রয়েছে যন্ত্রণার রক্তচিহ্ন, যা পাঠক সরাসরি টের পান না, কিন্তু তাদের হৃদয়ের ওপরে কুয়াশার মতো জমে থাকে।

🟢ভাষা যেখানে বাস্তবের প্রতিস্বর
বিমল লামার ভাষা সুনির্বাচিত, কখনও স্বল্প, কখনও ছন্দময়, কিন্তু সর্বদা চরিত্রের সাথে যুক্ত।
লোকজ উপভাষা, নেপালি-বাঙালি সংমিশ্রিত শব্দচয়ন এবং স্ল্যাং এই সবকিছু মিলে পাঠকের সামনে গড়ে তোলে এক নতুন সাহিত্য-ভাষা, যেটি পাঠকের কাছে প্রথমে ভিন্নতর ঠেকলেও, পরে হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলে।
তাঁর ভাষা “সামাজিক বহুবর্ণতার সুপ্ত তন্তু” হয়ে পাঠককে প্রশ্ন করে—
“তুমি আসলে কাদের ইতিহাস জানো? কাদের কষ্ট বুঝো?”

🟢আত্মপরিচয়ের সাহিত্যে পুনর্জন্ম
‘নুন চা’ পড়তে পড়তে মনে হয়, আমরা দীর্ঘকাল এমন একটি রাষ্ট্রচিন্তার মধ্যে বাস করেছি, যেখানে স্বাদেশিকতার নাম করে অনেককেই পরবাসী বানিয়ে ফেলা হয়েছে। উপনিবেশের ছায়া কেবল শাসনে ছিল না, চিন্তায়, সংস্কৃতিতে, এমনকি সাহিত্যের দৃষ্টিভঙ্গিতেও ছিল।বিমল লামা সেই চেনা কাঠামোকে ভেঙে দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন নতুন সাহিত্যের ভাষায় একটি প্রাচীন বঞ্চনার কবিতা।
🟢উপসংহার
‘নুন চা’ কেবল বই নয়, এটি একটি আত্মপরিচয়ের অন্বেষণ, যা পাঠককে প্রশ্ন করতে শেখায়—
“তোমার দেশ মানে কেবল ভূগোল, না কি মানুষের কথা?”
“তুমি কোন গল্পগুলো শুনেছো, আর কোনগুলোকে শুনতেই দাওনি?”

এই উপন্যাস, এই চরিত্রেরা, এই উচ্চারণ সব কিছু মিলিয়ে ‘নুন চা’ আজকের সাহিত্য পাঠকের জন্য একটি অপরিহার্য পাঠ। কারণ,

যেখানে ইতিহাস নীরব, সেখানে গল্পই কথা বলে।...

Profile Image for Anjuman  Layla Nawshin.
86 reviews147 followers
June 14, 2025
বাঙালির চিরকালের রোমান্টিক ভ্রমণগন্তব্য ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দার্জিলিং। আর এই দার্জিলিংয়ের সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতি হিসেবে দীর্ঘদিনের বসবাস গোর্খা জনগোষ্ঠীর। যাদের ভাষা আলাদা, সংস্কৃতি আলাদা। এই গোর্খাদের আদি ভূমি নেপাল। অবিভক্ত ভারতে ইংরেজদের দ্বারা পরিচালিত চা বাগানগুলিতে কায়িক শ্রমিক হিসেবে গোর্খারা নেপাল থেকে এই অঞ্চলে এসেছিলেন। ধীরে ধীরে তারা দার্জিলিং, জলপাইগুড়িসহ উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে নিজেদের বসতি গড়ে তোলেন। নিজেদের ভাষা ও সংস্কৃতিগত ভিন্নতার কারণে এই গোর্খারা একসময় অনুধাবন করেন যে তাদের একটি আলাদা অঞ্চল দরকার। বিংশ শতকের শুরুর থেকে গোর্খারা স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে বিচ্ছিন্নভাবে আন্দোলন করে এলেও তা বেশি দূর এগোয়নি।

গত শতাব্দীর আশির দশকে এসে গোর্খা ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্টের অধীনে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সশস্ত্র সংগ্রামে নামেন গোর্খারা। সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন গোর্খাদের অবিসংবাদিত নেতা সুবাস ঘিসিং। তার নেতৃত্বে জলপাইগুড়ি ও ডুয়ার্সের জঙ্গলে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে মুখোমুখি লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয় তারা। রক্তক্ষয়ী এই আন্দোলনে প্রাণ হারিয়েছিলেন প্রায় ১২০০ মানুষ। ঠিক তার পরেই ১৯৮৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় দার্জিলিং গোর্খা পার্বত্য কাউন্সিল। নুন চা উপন্যাসে মূলত ১৯৮৬ থেকে ১৯৮৮ পর্যন্ত গোর্খা জনগোষ্ঠীর সেই সহিংস আন্দোলনের দিনগুলিই পটভূমি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

৬০০ পৃষ্ঠার এই বইয়ের পুরোটা জুড়েই সবুজে মোড়া দার্জিলিং, তার অলিগলি, পাইন বন, কাঞ্চনজঙ্ঘা, সহজ সরল গোর্খা অধিবাসী, তাদের সংগ্রাম, আর প্রেমের গল্প। সমরেশ মজুমদারের উপন্যাসে পড়েছিলাম দারিদ্রের কাছে হার মেনে বাসি ভাতের উপর লবন চা ঢেলে খাওয়ার কথা। বিমল লামার উপন্যাসেও দেখতে পাই চিনি নামক বস্তুটিকে তারা মনে করে বিলাসিতা আর দুধ যেন প্রসাধন। তাই চিনির বদলে তারা নুন দিয়ে চা বানায়।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সবার গল্পই কি এক? ছোটবেলায় আমাদের উত্তরবঙ্গে দেখেছি নিম্নবিত্তরা শীতকালে একটু উষ্ণতার সন্ধানে সামান্য চা-পাতি জোটাতে পারলেও সেই চায়ে চিনি কিংবা দুধের চিহ্ন থাকতো না। চিনির বদলে উত্তরবঙ্গের দরিদ্র মানুষ ব্যবহার করত নুন।

উপন্যাসটি পড়ার সময় সবচেয়ে উপভোগ করেছি দার্জিলিঙের বর্ণনা। আমার পরিচিত দার্জিলিং! এই শহরের চেনা রাস্তাঘাট, বাজারহাট, চড়াই উতরাই, মানুষ। ঠিক যেন আমার পাশে বসে নিতান্ত আটপৌরে ভাষায় কেউ আমাকে শোনাচ্ছিলেন দার্জিলিঙের গল্প। অঞ্জনের গানের খাদের ধারের সেই রেলিং, দুষ্টু দোদো সিরিং, কিংবা চারটি নির্জন ঠোটের এক হওয়ার গল্প মিশে আছে দার্জিলিংয়ের কুয়াশা ঘেরা বাতাসে।

তাছাড়া, বিপ্লবের গল্প পড়তে আমার সবসময়ই ভালো লাগে। কিন্তু প্রায় প্রতিটি বিপ্লবের গল্পে আমি যেন খুঁজে পাই একটাই অমোঘ প্যাটার্ন। এর আগে সমরেশের কালবেলা পড়েও একই অনুভূতির সম্মুখীন হয়েছিলাম। গল্পের শুরুতে যে বিপ্লবী ছেলেটির সাহসী জীবন যাপন এবং চিন্তার মৌলিকতায় মুগ্ধ হই, গল্প শেষ হওয়ার পরে সেই মুগ্ধতা পর্যবসিত হয় করুণায়। যেন অনেক কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়ে কেউ তার কথা রাখতে পারলো না। মানুষ হিসেবে তাকে আর তেমন অসাধারণ মনে হল না।

উপন্যাসের আরেকটি ভালো লাগার বিষয় হল নারী চরিত্র। বিপ্লবীচেতনাসম্পন্ন বাঙালী নারীদের চেয়ে গোর্খা নারীদের আমার অনেক বেশি কর্মঠ মনে হয়েছে। কেবল চেতনাকে ধারণ করে পুরুষদের সহযোগী হিসেবে অবস্থান নেওয়া নয়, তারা প্রত্যক্ষভাবে যোগদান করেছে বিপ্লবে। হয়তো অস্ত্রধারণ করেনি সবসময়। কিন্তু পুরুষদের অবর্তমানে সংসার প্রতিপালন, কায়িক পরিশ্রম করা, বাজারে সবজি বিক্রি করে পারিবারিক ব্যবসার হাল ধরা, এইসব কাজকে আমি সশস্ত্র অ্যাকশনের চেয়ে কম বৈপ্লবিক বলে মনে করি না। নারীর মমত্ববোধ এবং বীরত্ব মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে এই গল্পে।

উপন্যাসটির একটি বড় ভালোলাগার ব্যাপার হল এর বর্ণনাকৌশল। দার্জিলিঙের মানুষ আর প্রকৃতির বর্ণনা গেঁথে আছে এই উপন্যাসের মর্মে। একটি জনপদের কতো অচেনা মানুষকে চিনতে পেরেছি। একই সঙ্গে দেখতে পেয়েছি দূরের পার্বত্য সৌন্দর্য। সন্ধ্যাবেলায় চোখের সামনে ভেসে উঠেছে মিটমিটে আলোজ্বলা পাহাড়ি শহর। “দার্জিলিঙের দিন যদি কাঞ্চনজঙ্ঘার, রাত অবশ্যই বিজলিবাতির।”

উপন্যাসটি আয়তনে আরেকটু ছোট হলেও বোধহয় বিশেষ ক্ষতি ছিল না। লেখকের গদ্যভাষা সাবলীল হলেও আঞ্চলিক ভাষার অতিরিক্ত ব্যবহার পড়ার সময় পীড়া দিয়েছে। বইয়ের শেষে আঞ্চলিক শব্দের একটি নির্ঘণ্ট থাকলে বুঝতে আরেকটু সুবিধে হত।

সবমিলিয়ে বিমল লামার নুন চা-কে একটি ব্যতিক্রমী বাংলা উপন্যাস হিসেবে মনে রাখবো আমি। দার্জিলিং আমার কাছে একেবারে অচেনা শহর নয়। কিন্তু তবুও চেনা দার্জিলিঙের ভিতরে লুকিয়ে রয়েছে কতো অচেনা দার্জিলিং। প্রকৃতি, মানুষ, প্রেম এবং বিপ্লব পাশাপাশি হেঁটে চলেছে এই শহরের উঁচু নিচু রাস্তা দিয়ে। পশ্চিমবঙ্গের চিরচেনা দার্জিলিংয়ের এক অন্য গল্প হয়ে ধরা দিয়েছে এই নুন চা। পাহাড়ের গল্পগুলো হয়তো এমনই হয়। আমার দেশেও পার্বত্য অঞ্চলের সুন্দর সুবিস্তীর্ণ পাহাড়গুলোর সৌন্দর্য উপভোগ করতে হাজারো মানুষ যায় প্রতিবছর। কিন্তু তাদের সত্যিকার জীবনদর্শন কিংবা জীবন সংগ্রামের গল্প আমরা কি জানি?

নুন চায়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমার জানা অজানা গোর্খাল্যান্ডের সেই গল্পগুলোই বলেছেন বিমল লামা। কিন্তু তারপরও কথা থেকে যায়— চায়ের দেশের নুনকথার গল্প কি শেষ পর্যন্ত শেষ হয়েছে বইটিতে?
নাকি নতুন করে সূচনা হয়েছে আরেক গল্পের?

৩.৫/৫
Profile Image for Imran.
70 reviews17 followers
February 17, 2025
"ভৌগোলিক তরঙ্গ জমে ছিল পাহাড় হয়ে তারই খাঁজে ভাঁজে নিস্তরঙ্গ জীবনের নুনকথা। টয় ট্রেনের মতো ধরাবাঁধা নিসর্গের ভেতর দিয়ে ওঠা নামা । অপরূপ কিন্তু জীর্ণ। নিরাপদ কিন্তু অস্বাধীন। একথা বুঝতে সময় লাগে না উরগেনের যখন লাল পতাকার পাশ দিয়ে উঠে এলো সবুজ নিশান। লাল সবুজের দ্বৈরথে তৈরি হল হলুদ শিখা। পুড়তে লাগল ঘরবাড়ি, ক্ষেত, গোয়াল। স্মৃতি আর স্বপ্ন। নিসর্গের দাউ দাউ চিতা।"

পাহাড়িদের জীবনযাত্রা, বিশ্বাস-সংস্কার, প্রাকৃতিক নিসর্গ ছবির মতো জীবন্ত হয়ে ফুটে উঠেছে লেখকের সাবলীল, সুন্দর গদ্যে। বিমল লামা শব্দ নিয়ে খেলা করতে ভালোবাসেন— এক অজানা জাদুমন্ত্র শব্দকে জীবন দান করে যেন! উপমার এমন অভিনব প্রয়োগ সচরাচর দেখা যায় না, চমৎকৃত হতে হয়।

গোর্খাদের একান্ত আরাধ্য গোর্খাল্যান্ডের দাবি যখন চাউর হয়, ছবির মতো সাজানো-গোছানো ধনমানধুরায় নেমে আসে দুর্যোগের খড়্গ। পাহাড়ি জীবনযাত্রার নিস্তরঙ্গ-নিঃসঙ্গ আকাশে পাক খায় দৈত্যাকার অজগরের মতো কালো ধোঁয়ার অজস্র কুণ্ডলী। আন্দোলনের নেতাদের তাড়া করে ফেরে জলপাই রঙের দৈত্য আর সি.আর.পি। চলতে থাকে লাগাতার ধরপাকড়, অত্যাচার, গুম-খুন। রাতের নৈঃশব্দ্য ফুঁড়ে লাগাতার প্রতিধ্বনিত হয় বোমা-বন্দুকের গগনবিদারী চিৎকার।

"বসে পুরোনো কাগজ ওলটাতে লাগল উরগেন। এককোণে সিংতামে ঘর পোড়ার খবর। লিখেছে, সত্তর ঘর। কাগজে বেশি জায়গা দেওয়া যায়নি এই সত্তর ঘর আর তার শ’পাঁচেক লোককে। তারা সর্বস্ব পুড়িয়ে হয়তো এটুকুই কালি তৈরি করতে পেরেছে। পাশেই কলকাতার কোনও এক মন্ত্রী তিনবার হেঁচেই তার দ্বিগুণ কালি তুলেছে, সর্দিতে কাহিল হয়ে মন্ত্রী হাসপাতালে। ঘর পোড়ার খবর অবশ্য আজকাল একঘেয়ে হয়ে গেছে। লোকে শুধু সংখ্যাটা দেখে নিয়েই অন্য খবরে চলে যায়, যেন খেলার স্কোর।"

...

"জুনি আতঙ্কে দ্বিতীয়বার চিৎকার করে উঠতেই সেই নিরেট অন্ধকার থেকে একটা বিরাট ভারী চাঙড় যেন আলগা হয়ে ভেঙে পড়ল তার ওপর। তাকে দম আটকে পিষে ফেলল...সে অসহায়ভাবে দু’হাতে ঠেলে সরাতে চাইল সেই অন্ধকার। একটু আলোর জন্য পাগলের মতো হ্যাঁচোড় প্যাঁচোড় করতে লাগল...সংজ্ঞা হারানোর আগে জুনির মনে হল তার ঘর ভরতি অন্ধকার থেকে আরও চাওড় ভেঙে পড়ছে...।"

যুদ্ধে সবাই-ই অবদান রাখে। কেউ জীবন দিয়ে, কেউ রক্ত ঝরিয়ে শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, কেউ নিজের সর্বস্ব খুঁইয়ে, কেউবা পেটে শোষকের ঘৃণিত দুর্গন্ধময় ক্লেদাক্ত নিশ্ছিদ্র অন্ধকার বয়ে বেড়িয়ে। লেখক শেষটিকে সমাজের চিরাচরিত প্রথার ঊর্ধ্বে, ঘৃণা-কলঙ্কের বিপরীতে এক মানবিক দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠা করে গল্পে বিশিষ্টতা দান করেছেন।

গোর্খাদের চিরাচরিত সংগ্রামী জীবনযাত্রার এক অবিস্মরণীয় স্বাক্ষর হয়ে থাকবে নুন চা— নিঃসন্দেহে!
This entire review has been hidden because of spoilers.
Profile Image for Ashik.
221 reviews42 followers
June 8, 2024
৩ টা দিন বুদ হয়ে ছিলাম এর মধ্যে।
অনবদ্য।
Profile Image for Farjana Rahman.
51 reviews3 followers
June 21, 2025
বই - নুন চা
লেখক - বিমল লামা
প্রকাশনী - সপ্তর্ষি প্রকাশন
ধরন - উপন্যাস
মূল্য - ৭০০ রূপী।

গত কয়েক বছরে এর থেকে অসাধারন কিছু পড়েছি কিনা সন্দেহ! বিমল লামার "নুন চা" উপন্যাস নয়, মহাকাব্যের এক নতুন ঘ্রাণ।

স্থান দার্জিলিং। গোর্খা জনগোষ্ঠী এখানে দীর্ঘকাল বসবাস করে আসছে সংখ্যাগরিষ্ঠ জাতি হিসাবে। আশির দশকে এই সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীই আলাদা একটা অঞ্চলের দাবিতে নামে আন্দোলনে। নেতৃত্বে গোর্খাদের সেই আন্দোলনের নেতা সুবাস ঘিসিং। পশ্চিসবঙ্গের সরকারের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের দিকে মোড় নেই সেই আন্দোলন। উপন্যাসের পটভূমি এই আন্দোলন ঘীরেই।

বিমল লামার "নুন চা" ক্ষমতার বিরুদ্ধে প্রান্তিক মানুষদের লড়াই, সবলের বিরুদ্ধে সর্বহারাদের লড়াই। লড়াইয়ের ডায়নামোতে স্বচ্ছ স্ফটিকের মতো বিন্দু বিন্দু মুখের মানচিত্র, প্রেম-ভালোবাসা, সবুজের সমারোহ আর দার্জিলিং - এবং সেই আন্দোলনের মাঝেও চিরায়ত একটা আন্তঃ-ক্ষমতাতন্ত্র গড়ে ওঠার আখ্যানও হয়ে ওঠে উপন্যাসটি।

একজন শিল্পী হয়তো সত্যি কখনও হয়ে ওঠেন দ্রষ্টা। অথবা একজন দ্রষ্টাও তার অমোঘ শব্দের রাজ্যে হয়ে ওঠেন অনবদ্য এক শিল্পী। নেপালি-বাঙালি লেখক বিমল লামার ক্ষেত্রে সেটা বলা যায় নির্ধিদায়। নিসর্গনন্দিত উপন্যাস শুধু প্রকৃতির মধ্যেই সীমবদ্ধ নয়, বরং হৃদয়বৃত্তি, বিসম শ্রেনগিত সমস্য, প্রেম, জীবনের নিরাভরণ প্রকাশ - কি নেই। উপন্যাসরে মূল চরিত্র উরগেন তামাং বটে। তবে উপন্যাসের মূল চারটি স্তম্ভের কোনটাতেই উরগেন আমার পাঠে থাকবে না। সুবাষ ঘিসিংও না। "নুন চা" এর সবচেয়ে স্ট্রং স্তম্ভ চার নারী: জুনি, প্রকৃতি, সুশীলা এবং যশোমতী।

এর চার নারীর প্রতিজনই তার সবল অস্তিত্ব নিয়ে দৃঢ়। প্রতিবাদ, সংগ্রাম এবং রক্তক্ষয়ী এই আন্দোলনে হয়তো নারীদের কিছুটা প্রান্তে ঠেলে দেয়া হয়েছে কহিনির স্রোতে। কিন্তু বিমল লামা আবার ঠিক ঠিক জায়গায় এবং সময়ে প্রতিরোধের জায়গাটুকু দারুন দৃঢ়তার সাথেই একেঁ দিয়েছেন। বিশেষ করে শেষের দিকে মনস্তাত্বিক জটিলতার ঘনায়মান অনুভূতি উপযুক্ত তুলির আঁচড়ে চিত্রায়ন করে গেছেন। অনেকগুলো প্রশ্ন, উত্তর এবং প্রতি-উত্তোরের মাঝেও পাঠকের জন্যে রেখে গেছেন এক উল্লেখযোগ্য এবং উজ্জ্বল অনুসন্ধান-পর্ব।

শেষের পরিনতির আগে মনে হচ্ছিল বিমল লামা প্রকৃতি, জুনি আর ডালামো - এই তিন নারী চরিত্র বেষ্ঠিত প্রধান চরিত্র উরগেন তামাং এর অবিভাবক হিসাবে পাঠককে দাঁড় করালেন কিনা? পাঠকের সেই ধরনের বিলাসিতা কোন জগতের দিকে বাঁক নিতো বলা দূরহ। তবে, শেষটায় সেই আশংকা বরং অমূলক হয়ে গেছে। বরং নেতৃত্বের যোগনটা লেখক নিজেই দিয়ে গেছেন সফলভাবে, এবং পাঠকও দ্বিমত করবে না নিঃসন্দেহে।

কখনও আন্দোলনের উপন্যাস, কখনও রাজনীতির অথবা ইউটোপিয়ায় বসবাস করতে চাওয়া প্রান্তিক সেই জনগোষ্ঠীর আর্তনাদের উপন্যাস মনে হলেও, বিমল লামা মূলত প্রকৃত একট সমাসব্যবস্থার চিত্রই তুলে ধরেছেন। কাশ্মিরের জনপ্রিয় নুন চা এর নুনের সুবাস পুরো উপন্যাস জুঁড়েই। কখনও তা চায়ের কাপের নুনে, তো কখনও ঘামের, কখনও রক্তের নোনতা স্বাদ বেয়ে নামা নুনের আরক।

বিমল লামার "নুন চা" যেন লেখকের নান্দনিক ও শৈল্পিক প্রকাশের ও সিদ্ধান্তের নির্দিস্ট ভঙ্গি। অনেক আঞ্চলিক (বোধহয় উপজাতীয়দের ভাষা) শব্দ এবং বাক্য থাকলেও অনকে সময় মনে হতে পারে, উপন্যাস শেষে একটা নির্ঘন্ট থাকলে পাঠক উপকৃত হত। হয়তো......। কিন্তু লেখকের লেখার ধরনে সেই অচেনা বাক্যগুলোও চেনা হয়ে ধরা দেয় চরিত্রগুলো কথোপকথনের স্লোপ বেয়ে। ফিনফিনে কুয়াশায় দৃশ্য দেখার মতো অনুভব; সম্পূর্ন স্পষ্ট নয়, আবার অচেনাও ঠেকে না।

তাই সেই অংশটুকুর পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরন পাঠ করে পাঠক একটা সাম্যক নিজস্ব চিত্রসত্তার অবিচ্ছন্নতায় মগ্ন হতেই পারেন। বৈচিত্র আছে, দ্বন্ধ আছে, লেখকের কিছু নির্দিষ্ট প্রকাশের সাথে দ্বিমতও হয়তো থাকার আবকাশ আছে পাঠক ভেদে (আমার নেই এই উপন্যাসের বেলা); তথাপি একরৈখিক চিন্তাভাবনা এবং নিটোল কাঠামোতে "নুন চা" কে বাঁধার চেষ্টা হয়তো উপন্যাস এবং লেখক উভয়কেই উপলব্ধির ব্যাপারে রয়ে যাবে বিশাল এক গ্যাপ।

কারন, বিমল লামার "নুন চা" বহু জায়গায়ই বাক্য-গঠনে, প্রকাশে, ভাষাতে এমনি আঞ্চলিকতাতেও গদ্যানুসারী নয় - পদ্য-অনুসারী। যেই "সই" এর জন্যে অপেক্ষা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর, সেই "সই" এর জন্যে অপেক্ষা পাঠকের - সব কিছু ছাপিয়ে বিমল লামার "নুন চা" নিজেই সেই "সই" হয়ে উঠেছে পাঠকের হৃদয়ে। পাঠকের গল্প সেখানেই সবে শুরু।

"নুন চা" যেকোন পাঠকের জন্যে আবশ্য আবশ্য পাঠ। বলতে পারেন "নুন চা" এর শৈল্পিক নাম - "ম্যাজিক"।
Profile Image for Dipankar Bhadra.
670 reviews60 followers
August 10, 2025
▲ নুন চা
▲ বিমল লামা
▲ সপ্তর্ষি প্রকাশন

''যেখানে ইতিহাস নীরব, সেখানে গল্পই কথা বলে।''

উত্তরবঙ্গের অপূর্ব সৌন্দর্যের মাঝে লুকিয়ে থাকা দুর্বিষহ ইতিহাসকে তুলে ধরেছে বিমল লামার উপন্যাস ‘নুন চা’। এখানে 'গোর্খা' শব্দটি শুনলে সাধারণত যে ধারণাগুলি আমাদের মনে আসে, লেখক সেগুলি ভাঙার চেষ্টা করেছেন। তিনি দেখান কিভাবে এই পাহাড়ি জনগণের জীবন ও ইতিহাস নানা বাঁকে প্রবাহিত হয়েছে।

ইতিহাসের পটভূমি নিয়ে লেখা এই উপন্যাসটি গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের প্রেক্ষাপট থেকে যাত্রা শুরু করে। উরগেন, একজন সাধারণ পাহাড়ের যুবক, যিনি মাউথ অর্গান বাজাতে পছন্দ করেন এবং তার প্রেমিকা জুনিকে বিয়ে করার স্বপ্ন দেখেন। কিন্তু তার এই স্বপ্ন মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস হয়ে যায় দেশপ্রেমে উজ্জীবিত আন্দোলনের ফলে। রাজনৈতিক অস্থিরতার দাপটে উরগেন, কুন্দন, পালধেন এবং পেম্বারের মতো তরুণদের জীবন হয়ে ওঠে বিধ্বস্ত। লেখক এখানে তুলে ধরেছেন কিভাবে তরুণদের স্বপ্নগুলো গোপন রাজনৈতিক মঞ্চে পিষ্ট হয়ে যায়।

উপন্যাসটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলিল নয়, বরং একটি সংস্কৃতির আত্মার প্রতিধ্বনি। গোর্খাল্যান্ডের ইতিহাসকে কেন্দ্র করে লেখক গোর্খা জনগণের সংগ্রামের চিত্র অঙ্কিত করেছেন, যেখানে স্থানীয় জনগণের জীবন থেকে শুরু করে ভাষা, সংস্কৃতি এবং অনুভূতি – সবকিছুর একটি বাস্তব চিত্র ফুটে উঠেছে।

অতএব, বিমল লামার 'নুন চা' শুধুমাত্র ইতিহাসের স্তুতি নয়; এটি পাহাড়ের অন্তরের কণ্ঠস্বর। এটি পাঠককে ভাবতে শেখায়, “তোমার দেশ মানে কেবল ভূগোল, না কি মানুষের কথা?”

Profile Image for Arnab Pal.
51 reviews9 followers
August 14, 2020
শুধুমাত্র পাহাড়ের জীবনযাত্রার এতো ডিটেইলড বর্ণনার জন্যেই বইটাকে ৪ তারা দেওয়া যেতে পারে। তারপরে গোর্খাল্যান্ড আন্দোলনের যে ছবি দেওয়া হয়েছে তার জন্যে যার যেমন ইচ্ছে তারা দিয়ে দিতে পারেন। উরগেনকে নিয়ে কিছু খুচরো প্রশ্ন যদিও থেকে যায় তবুও লেখকের প্রথম উপন্যাস বলে সেটা বোধহয় উপেক্ষা করে নেওয়া যেতে পারে।
(আমার নেপালি ভোক্যাবুলারি অনেক বাড়ানোর জন্য লেখককে আন্তরিক ধন্যবাদ)
Displaying 1 - 7 of 7 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.