Shariful Hasan hails from Mymensingh, Bangladesh. He has spent his childhood by the banks of Brahmaputra river. He completed his Masters in Sociology from University of Dhaka and is currently working in a renowned private organization.
Shariful's first novel was published on 2012 titled Sambhala. With two other books, this captivating fantasy trilogy has received widespread acclimation both within and beyond the borders of Bangladesh. The Sambhala Trilogy was translated in English and published from India.
Although his inception consisted of fantasy and thriller, he has later worked on a variety of other genres. These works have been received fondly by the Bangladeshi reader community. Lot of his works have also been published from different publications in West Bengal.
Award- Kali O Kalam Puroshkar 2016 for 'অদ্ভুতুড়ে বইঘর'
গল্পটা নব্বই দশকের একটা সময়ের, একজন দশ বছরের শিশুকে ঘিরে থাকা। একটা আয়না নিয়ে ঘটা রহস্যটা চলতে থাকলো এবং চমকে দিতে লাগলো নানা রহস্যে। সবচেয়ে ভালো লেগেছে ডিটেইলিং। লেখকের পড়া প্রথম গল্প আমার, তবে আশাহত হইনি।
• জম্বা - বাপ্পি খান
লেখকের 'হার না মানা অন্ধকার' এবং 'ঘিরে থাকা অন্ধকার', এই দুটো বই পড়া হয়েছে আমার। 'ঘিরে থাকা অন্ধকার' বইটির রিভিউ দেয়ার সময়েই বলেছিলাম তার গল্পের বর্ণনা আমার ভীষণ ভালো লাগে। এই গল্পটিতেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের একটা সময় নিয়ে বলা হয়েছে গল্পটা। যেখানে একজন ৮ বছর বয়সী মেয়ে এবং তার বাবা কিছু টুকটাক জিনিস নিয়ে বেড়িয়ে পরে আরেকটা জায়গার উদ্দেশ্যে। মুক্তিযুদ্ধের সময়গুলোর প্রতি ভীষণ আগ্রহ আমার, এবং এই সময়কার গল্পগুলো চোখের সামনে ভাসতে থাকে সবসময়। তার উপর এতো দারুন ডিটেইলিং! একটা জায়গাতে বৈশাখী আগমনের কথা বলা আছে, যেখানটায় মনে হলো পুরো দৃশ্যটা চোখের সামনে দেখতে পেয়েছি।
• কারাগার ৪৬০০ - তানজিরুল ইসলাম
'কারাগার ৪৬০০' এডভান্সড লেভেলের একটা কারাগার। যেটা পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ কারাগারগুলোর মধ্যে একটি। এখানকার সবকিছুই কন্ট্রোল করা হয় কোয়ান্টাম একটি কম্পিউটার দিয়ে। সেই কারাগাড়ে একটা বিধাল ঝামেলা বেধে যায়। কারাগাড়ের জেলার মিহনান রাশাদ খবরটা শুনে যখন সেখানে যান, ঘটে যায় অন্য এক ঘটনা। এক কথায় অসাধারণ লেগেছে এই গল্পটা এবং ফিনিশিং।
• নেচার কোড - কৌশিক জামান
মনের মধ্যে থাকা খিটখিট করতে থাকা একটা ব্যাপার নিয়ে ভেবে যাচ্ছেন গল্পের কথক সাংবাদিক মহসিন আনোয়ার। তার মনে চলতে থাকা ব্যাপারটা নিয়ে সে পুরোটাই বললো তার সামনে বসে থাকা রাসেলকে, যার কাজ তারই কথাগুলো রেকর্ড করে গুছিয়ে লিখে ফেলা। তার কল্পনা, বাস্তব বা মনে চলতে থাকা সবকিছুই সে বলে ফেললো রাসেলকে। এর মধ্যে আছে নেচার কোড এর ব্যাখা এবং এটা দিয়ে কি কি করা যেতে পারে সেটাও। কিন্তু শেষে কি হলো? সেটা আমি একটু আধটু আন্দাজ করতে পেরেছিলাম ঠিকই, তবে গল্পটার মজা এতে বিন্দুমাত্রও নষ্ট হয়নি।
• ডিমেনশিয়া - মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পি
সাই-ফাই বলা যেতে পারে গল্পটাকে। তবে থ্রিল এবং টুইস্টও আছে। রিক ব্রস্টম এবং তমালিকা নামের দুই নভোচারীকে নিয়ে ঘটতে থাকা এই গল্পটার প্রথমেই দেখা যায় চেয়ারে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে তমালিকাকে। আটকে রেখেছে রিক ব্রস্টম। পরবর্তীতে, কিছু কথা কাটাকাটির পরে তমালিকা তাকে বোঝাতে সক্ষম হয় রিকের এস.এন.বি. হয়েছে। যেটার মানেটা না বলাই বোধয় ভালো হবে। রিককে বোঝাতে সক্ষম হলেও, রিকের তমালিকার পুরোটা কথা বিশ্বাস হয়না! শেষের দিকে এসে, বিশ্বাস-অবিশ্বাস উপড়ে ফেলে গল্পটা শেষ হয় দারুন এক টুইস্টের মাধ্যমে।
• ধোঁয়াটে বাতাসে, নালিশ রেখে যায় - ইমতিয়াজ সজিব
গল্পটা হৃদয় আর তার মায়ের। এখানে ওখানে অনেক কথা ছড়ায় তার মা-কে নিয়ে। সে সহ্য করতে পারেনা। মানতে পারেনা। কিন্তু যা ছড়ায় তা একদম ভুলও কিছু নয়। অনেকের জীবনেরই সাধারণ ঘটনাটা, অসাধারণ হয়ে ফুটে উঠেছে লেখকের বর্ণনায়। সর্বোপরি, আমার কাছে ভালোই লেগেছে।
• ত্রান কর্তা - রবিন জামান খান
গল্পটা আলহাজ্ব মোহাম্মদ মফিউজ্জামান তরফদারকে নিয়ে। যে একজন এমপি। এমপি হতে গিয়ে তার করতে হয়েছে বহু কসরত। এই জায়গাটার সঠিক ব্যবহার করছেন তিনি এখন। গল্পটার নাম দেখে বোঝাই যাচ্ছে গল্পটা কেমন হতে পারে! ত্রান সম্পর্কিত! কিন্তু ত্রান নিয়ে হুট করেই শেষ হয়ে যাবে গল্পটা? একদমই না! শেষের দিকে একটা টুইস্ট আছে। পড়তে শুরু করে সাধারণ গল্পটা সাধারণের মতোই লাগে, কিন্তু শেষ লাইনে গিয়ে হয়ে উঠবে অসাধারণ। আমার ব্যক্তিগতভাবে শেষ লাইনটা পড়ে যথেষ্ট তৃপ্তি এসেছে।
• কালিজিরা কাব্য ও একটি সরল সমীকরণ - আলী ওয়াহাব সৌহার্দ্য
গল্পটা জহির সোলায়মান নামক একজনের। তার জীবনের কিছু মানুষকে ঘিরে চলতে থাকা এই গল্পটার বর্ণনা এবং বিবরণে মুগ্ধতা প্রকাশ না করে উপায় নেই। ভেতরে কেমন একটা শুন্যতা বিরাজ করছে, গল্পটা শেষ হয়ে যাবার পরে! এর কারণ গল্পটা খারাপ এমন কিছু নয়, বরং এর কারণ গল্পটা মুগ্ধতা ছাড়িয়ে গিয়েছে তাই। এক কথায় অসাধারণ।
• নিঃসঙ্গতার দিনে - সাঈদ শিহাব
এই লকডাউনের সময়ে একটা মানুষের বিষন্নতা নিয়ে গল্পটা। লকডাউনের হিসেব রাখতে গিয়ে একটা সময় আর পেরে উঠেনা সে। প্রায়শই দেখতে পায়, কে যেনো একটা লাফ দিচ্ছে তার ওপাশেরই অর্ধসমাপ্ত দালান থেকে। কিন্তু, বাইরে গেলেই তাকে আর খুঁজে পায়না সে! কে মানুষটা? কে লাফ দেয় ওই ছাদ থেকে? কেনো দেয়? আর লাশগুলো কোথায় যায়!? শেষটা ধারণা করতে পেরেছিলাম অনেকটাই, তবুও অসাধারণ।
• সালিতারিও - তানিয়া সুলতানা
পরিবারের দিক থেকে শান্তি না থাকাটা খুবই কষ্টকর একটা ব্যাপার, প্রায় প্রতিটা মানুষের জন্যই। আর লোভ জিনিসটাও ভয়াবহ খারাপ। গল্পটার একজন চরিত্র, এই লোভের কারণেই বিয়ে করেন তার বর্তমান স্ত্রীকে। কিন্তু সে সুখী নন! মানষিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এভাবে থাকতে থাকতে। গল্পের শ্রোতা, গল্পের কথকের স্ত্রীকে তার এই মানষিক সমস্যার কথা জানাবেন কিনা ভাবতে লাগলেন! কিন্তু শেষটা? অজানা!
• এই গলিটা ভালো নয় - নজরুল ইসলাম
ধানের মৌসুম শেষ হয়ে গ্রামে বেশি কাজ না থাকায়, শহরে যায় আফজাল। সেখানে সবজি, তরি-তরকারি বিক্রি করে ভালোই অর্থ উপার্জন হয় তার। কিন্তু একদিন গল্পের নামের মতো একটা গলিতে ঢুকে পড়ে পুরো জীবনটাই বদলে যায় তার। কিন্তু কিভাবে? অসাধারণ বর্ণনায়, দারুন একটা গল্প।
• দাঁড়কাক - ইশরাক অর্ণব
গল্পটা একজন কর্ন্ট্যাক্ট কিলারের। যার নাম দাঁড়কাক। তবে তার কাজের ধরণ আলাদা। বাকি সবার থেকে ভিন্ন সে। মানবিক কিলার একজন। দাঁড়কাকের কাজের শুরুটা এবং একটা কিলিং এর কর্ন্ট্যাক্ট আসা নিয়ে চলতে থাকা এই গল্পটা শেষ হয়, তারই মানবিক কর্ন্ট্যাক্ট এর মাধ্যমে।
• সহানুভূতি ক্যাফে - শাহেদ জামান
একটা ক্যাফে যেখানে সহানুভূতি বা মানষিক প্রশান্তি দেয়ার জন্য আছে একজন। তাকে নিজের কষ্টের গল্পগুলো বলে যাচ্ছে গল্পের কথক। একটা পর্যায়ে এসে থেমে যায় শ্রোতা, কিন্তু কেনো? আর শুনছেই বা কেনো সে গল্পগুলো? উত্তর আছে, সহানুভূতি ক্যাফেতে।
• নারী অথবা না'রী - ওয়াজেদুর রহমান ওয়াজেদ
গল্পটা একটা মেয়ের জীবনের কয়েকটা ধাপের। যার জীবন আটকে আছে কয়েকটা গন্ডিতে। যেই গন্ডি সে কখনো পেরোতে পারেনি। বিষন্নতা, প্রকৃতি সব মিলিয়ে দারুন লেখনীর একটা গল্প। বেশ ভালোই লেগেছে আমার।
• বিপদ যখন আসে - সুস্ময় সুমন
একজন লেখকের গল্প। যার জীবনে, গল্পের নামের মতোই শেষ নেই বিপদের। করোনার সময়কাল এবং বিভিন্ন বিপদ পেরিয়ে চলতে থাকা গল্পটার এক পর্যায়ে, সম্ভবত চোর বা কেউ ঢুকে পড়ে লেখকের ঘরের ভেতরে। এরপরেই ঘুরে যায় গল্পের মোড়! কেনো ঘুরে যায়? সমাধান এবং উত্তর আছে বিপদ যখন আসে গল্পটির ভেতরে।
• অভিনব স্বাভাবিকত্ব - কিশোর পাশা ইমন
একটা উদ্ভট নামের ভাইরাসের আগমনের পরবর্তী ঘটনা এটি। গল্পের মূল চরিত্র কিছু একটা খুঁজে চলেছে প্রতিনিয়ত। নৃশংসতা, পরিস্থিতির বর্ণনা এবং জীবনযাপনের দারুন বিবরণ নিয়ে চলতে থাকা গল্পটা পড়ে মুগ্ধ হয়েছি ভীষণ।
• বাতিঘর - জাহিদ হোসেন
অনেক আগের সময়ের একটা গল্প। যখন কবিরাজদের উপর মানুষ খুব বিশ্বাস করতো। গল্পটা একটা কবিরাজেরও বলা যায়। মৃত্যুকে কি চাইলেই উপেক্ষা করা যায়? বা যা��া জানে মৃত্যু কবে আসবে কারো, তারা কি চাইলেও মৃত্যুকে উপেক্ষা করে ফেলতে পারে? গল্পটার নামের মতো বাতিঘর একটা ঘরের নাম। যেখানে আছে কিছু প্রদীপ। কিন্তু প্রদীপগুলো কিসের এবং কেনো? বর্ণনা, বিবরণ সব মিলিয়ে এটাও দারুন একটা গল্প।
• প্রহরি - কায়সার কবির
বাঘা একজন পুলিশ অফিসার এবং একই সাথে একজন বাবার গল্প। বাবা মেয়ের গল্প বলাটাই বোধয় শ্রেয় হবে। প্রচন্ড রাগী হলেও, যে তার মেয়েকে ভীষণ ভালোবাসে। উপরে উপরে রাগী চেহারা ধরে রাখলেও এমন নয়, যে তার মেয়ে ভেতরে আবদ্ধ ভালোবাসাটুকু বোঝেনা। মেয়ে আর নাতনীকে চোখের সামনে দেখে সে খুব খুশি এবং একই সাথে বিষন্ন হয়ে যান! কারণ তিনি জানেন, একদিন সে আর এসব নিজের চোখের সামনে দেখতে পারবেন না! বাবার-মেয়ের মধ্যাকার ভালোবাসার খুবই সুন্দর একটি গল্প।
• রাত তিনটেয় - প্রিন্স আশরাফ
একজন ডাক্তারের গল্প। গল্পের নামের মতোই প্রায় প্রতিদিন রাত তিনটায় তার কাছে আসে অজানা একজনের কল। স্ক্রিনের উপর লেখা থাকে 'প্রাইভেট নাম্বার।' তবে রহস্যটা 'কে' এই প্রশ্নটা নিয়ে যতটুকু, ঠিক ততটুকুই 'কেনো' এই প্রশ্নটা নিয়েও। কোনো রোগী নাকি অন্যকেউ? জানেনা সে! তবে উত্তরটা ঠিকই পায় সে। পেতে পেতে ফেঁসে যায় আরেকটা ফাঁদে!
• রুম নাম্বার তিন - নিয়াজ মেহেদী
এনায়েত। যার বদলি হয় ভিন্ন এক জায়গায়। এবং থাকতে হবে একটি সরকারী অতিথিশালায়, দো'তলার তিন নাম্বার রুমে। গা ছমছমে এক পরিবেশে এসে সে ভীষণ বিরক্ত। সেদিন ঘুম ভেঙ্গে যায়, যখন সূর্য ডুবে গিয়েছে। চা খেতে হেঁটে যেতে হয় বহুদুর। এরপরে ফিরে যায়, খেয়ে নেয় এবং ঘুমোতে চলে যায়। কিন্তু ছমছমে পরিবেশের সেই রাতটা হয়তো তাকে আটকে রাখে নিজের কোনো রহস্যে!
• যাদুর শহর - নেওয়াজ নাবিদ
গল্পটা দেশে বহু সময় ধরে হয়ে আসতে থাকা একটা ঘটনাকে নিয়ে। ঢাকার রাস্তায়, রাতে চলাফেরা করতে থাকা দুজন পড়ে যায় এক প্রকার বিপদে! যেখানে তাদেরকে ফাঁসিয়ে দিতে চাওয়া হয় কোনো এক অপরাধের মিথ্যে বেড়াজালে। কিন্তু সম্ভব কি হবে তাদেরকে ফাঁসিয়ে দেয়া!? বর্তমান পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা দারুন একটা গল্প! এবং তার সাথে ঢাকার রাস্তাঘাট, রোমাঞ্চকর বর্ণনা তো আছেই।
• অদ্ভুত এক আঁধার - জুবায়ের রুমেল
বাসায় ফেরার সময়ে এক ভয়াবহ অবস্থার মুখোমুখি হয় গল্পের একজন চরিত্র। সে জানে না এসব পেরিয়ে সে বেঁচে ফিরতে পারবে কিনা। তার সামনে ভাসতে থাকে বিভিন্ন চেহারা। ওইদিকে, তার অপেক্ষায় বসে আছে কেউ। অতিপ্রাকৃত ধরণের একটি গল্প।
• ক্লেশ - সুমিত শুভ্র
গল্পটার শুরু একজন ষাটোর্ধ্ব গবেষক আজগর মৃধাকে দিয়ে। যিনি আবিষ্কার করেছেন দারুন এক স্যাটেলাইট। যেই স্যাটেলাইট খুঁজে বের করতে পারে দুঃখ জর্জরিত তরঙ্গ। সেই তরঙ্গের সাহায্যেই সে খুঁজে পান সবচেয়ে কষ্টে থাকা কাউকে। এবং শুনতে চলে যান ওই মানুষটার গল্প। কিন্তু তখনই গল্পটা মোড় নিতে থাকে নানান রহস্যে। বেশ ভালো রকমেরই একটা গল্প বলা যায়।
• এদিক দিয়ে কাউকে ঘোড়ায় চড়ে যেতে দেখেছেন? - নাবিল মুহতাসিম
স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকা দু'জন মানুষের কথোপকথনের মোড় ঘুরে যায়, যখন তাদেরই একজন আরেকজনকে উদ্দেশ্য করে প্রশ্ন করে, "এদিক দিয়ে ঘোড়ায় চড়ে কাউকে যেতে দেখেছেন?" করোনার সময়ে, এই লকডাউনে সব যানের উপর নিষেধাজ্ঞ। ঘোড়ার গাড়ি কি তার মধ্যে পড়ে না? এক পর্যায়ে গল্পে 'দ্য ফোর হর্সমেন' এর ব্যাখা চলে আসে। যেখানে চারটি ঘোড়া, চারটি পরিস্থিতির প্রতি ইঙ্গিত করে। কিন্তু, কিসের প্রতি সেই ইঙ্গিত! শেষের দিকে, এসে গল্পটা মোড় নেয় দারুন এক নাটকীয়তায়। বর্ণনা ভীষণ ভালো লেগেছে। এবং গল্পটা তো অবশ্যই।
• অবশেষে - রাইসুল আরেফিন
দুজন স্বামী-স্ত্রীর গল্প। ছোটবেলা থেকেই বিভিন্ন কারণে ভয় মেয়েটার। বিয়ের পরেও সেই ভয় কাটেনি। গোপনীয়তা ভঙ্গের কারণে, স্বামী রেগে যান তার উপরে। পা বাড়ান ভুল পথে। কিন্তু স্ত্রীর কথা মনে পড়তেই সে ফিরে আসেন আবার। এতোদিন ধরে সহ্য করে আসা মেয়েটার উপর রাগ করেও, মন আবার গলে যায়! মূলত, তখন সে ফিরে আসে আবার ঘরে। ভেবেছিলো রাগে ফেটে যাবে তার স্ত্রী। কিন্তু তা হলোনা! পরদিন সকালেই স্ত্রী জানায় তার সিদ্ধান্ত। কি সিদ্ধান্ত? গল্পের শেষটা দারুন লেগেছে।
• ছোট সামছু'র লকডাউন বৃত্তান্ত - শরীফুল হাসান
লকডাউনে এক প্রকার বিপদেই পড়ে গিয়েছে ছোট সামছু। টাকা পয়সা নেই হাতে। এক ভাইকে কল করলেও সে গালি দিয়ে ফোন রেখে দেয়। যে কাজটা দিয়ে জীবনে আয়-রোজগারের শুরু সেটাই করবে বলে সিদ্ধান্ত নেয়। এক বাড়িতে ঢুকে রান্নাঘরে আগে ঢুকে যায়। প্রচুর খাবারের দরকার তার। কিছু মাংসের টুকরো গিলে নিলো। টের পেলো মাঝবয়সী এক লোক দাঁড়িয়ে আছে কাছেই। এরপরে গল্পের ঘটনা মোড় নিতে শুরু করে অন্যদিকে। সাবলীল বর্ণনায়, দারুন একটা গল্প। শেষটাও ভীষণ চমৎকার।
• শাহেদ আলীর ফ্যান্টম হাত! - মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
গল্পের শুরুতেই বলা হয়েছে, জ্ঞান ফিরেই আবিষ্কার ডানহাতটা হারিয়েছে সে। এরপরে সেই হাত নিয়ে নানা রহস্য! কিন্তু ফ্যান্টম হাত? তা আবার কি!? এই গল্পটা নিয়ে বিশেষ কিছুই বলার নেই। কারণ যিনি গল্পটা লিখেছেন, তিনি বর্ণনা, ব্যাখা এবং চরিত্র গঠনে সেরা। তার বাকি সবগুলো গল্পের মতোই এটাও আমার মন কেড়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। শত হলেও, আইডল বলে কথা।
• ছায়ার সওদা - সিদ্দিক আহমেদ
রাতেরবেলায় লেখকের ঘরে ঢুকে পড়ে কেউ। যে ঢুকে পড়েছে সে বিক্রি করতে চাচ্ছে তার 'ছায়া।' একটা সময় তাদের মধ্যাকার কথোপকথনে উঠে আসে কিভাবে এই ছায়াটা সঙ্গী হয়েছিলো অজ্ঞাত ব্যক্তির। তবে লেখক ব্যাপারটাকে ব্যাখা করেছিলেন অন্যভাবে। এক পর্যায়ে ছায়াটা বিক্রি করার জন্য উঠেপড়ে লাগেন সেই অজ্ঞাত ব্যক্তি। অনেক বাক-বিতর্কে ছায়াটা কিনে নেন লেখক। আপদ গেলো! কিন্তু শেষটায়? কে জানে, আপদ গিয়েছে নাকি শুরু হলো!
• সময়ের মাত্রায় একজন সুন্দরম - যারিন তাসনিম প্রমি
একজন খুনি খুন করেছে, কিন্তু লাশ কোথায় রেখেছে খুঁজে পাচ্ছে না। পুলিশকে ডেকে পাঠিয়েছে সে। কিন্তু রক্তের ছিঁটেফোঁটা বা কিছুই নেই। "ব্যাটা নির্ঘাত মজা করছে", ভাবতে লাগে পুলিশেরা। কিন্তু ঘটনা যতোই এগোতে থাকে, প্যাঁচ লাগতে থাকে একটার পর একটা। কি হলো, কেনো হলো, কি হচ্ছে! কে জানে! পীচ- কালো অসীমের শূন্যতায় হারিয়ে যাওয়া যেতে পারে গল্পটার হাত ধরে।
• মোক্ষম চাল - আমের আহমেদ
রাশিয়া, আমেরিকার যুদ্ধের ব্যাখা সমৃদ্ধ গল্পটায়, দেয়া হয়েছে বহু তথ্য৷ শুরুটা হয়, একটা নোটিফিকেশনের দিকে তাকিয়ে যখন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ঘামতে থাকেন ঠিক তখনই। কিন্তু গল্পের শেষে জয়ী হবে কে? কে জানে! মোক্ষম চাল, টু বি কন্টিনিউড…
• অপরিচয় - সালমান হক
গল্পটা মুক্তিযুদ্ধের একটা সময়কে নিয়ে, রাশেদ থেকে শুরু হয় যেটা। বিজয়ীর বেশে যুদ্ধ থেকে স্বাধীন রাজধানীতে পা রাখে রাশেদ এবং আরেকজন চরিত্র সেলিম। যাওয়ার কোনো জায়গা নেই রাশেদের। কারণ, নেই তার বাবা-মা। নেই তার কোনো পরিচয়। বর্ণনা সুন্দর, তবে শেষটা বিষন্নতার! ভালো লেগেছে আমার প্রচন্ড।
• আকিফো - সিহান নাইম
রেনার্ড নামের একটা চরিত্র দিয়ে শুরু হয় গল্পটা। যে নিজের স্বীকার খুঁজে বেড়াচ্ছে। অন্যদিকে, বাবা-মা হারা ইরফান ছাদে ঘুরতে গিয়ে খুঁজে পায় এক অদ্ভুত যন্ত্র! যন্ত্রটা এবং দু'জন মানুষ নিয়ে চলতে থাকা গল্পটায় আছে সিরিয়াল কিলার এর রহস্য। তবে কে জানে, গল্পের প্রধান দুই চরিত্রের পরিনতি কি হয়, আর আকিফো-ই বা কি! অসাধারণ লেগেছে গল্পটা আমার।
• একটা সিনেমা দেখবেন? - ওয়াসিফ নুর
গল্পের নামের মতো উদ্ভট নামটা একটা সিনেমার। যেটার পোষ্টারের দিকে তাকিয়ে চোখ আটকে যায় গল্পের মূল চরিত্রের। সিনেমা দেখতে এমনিতেও ভীষণ পছন্দ করে সে। এই সিনেমাটা দেখারও লোভ সামলাতে পারলোনা। টিকিট কেটে যখন হলে ঢুকলো, দেখলো সেখানে আর কেউ নেই। সে একাই! শুরু হয়ে যায় সিনেমাটা। সবকিছু থেকে বের হয়ে গেলেও, কিছু একটা রয়ে যায় তার সাথে। স্মৃতি, নাকি অন্যকিছু?
• এনিওয়ার্ম - অনন্যা নাজনীন
এনিওয়ার্ম একটা কোম্পানির নাম। যেখানকার প্রোগ্রামার কাজ করে যাচ্ছে তাদের দর্শকদেরকে নতুন নতুন উদ্ভাবনের আনন্দ দেয়ার। তার নাম কিশিয়ে মিতো। চলতে থাকে গল্পটা। নতুন আপডেটেড প্রোগামের মাধ্যমে ভালোই যাত্রা যেতে থাকে এনিওয়ার্মের। কিন্তু শেষটাতেও কি সুন্দর থাকে সেই যাত্রা? জানা নেই উত্তর, তবুও চলতে থাকুক 'এনিওয়ার্ম'- এর যাত্রা।
• দোযখ - কাজী ঐশী
একটা বিজ্ঞাপন দিয়ে শুরু হয় গল্পটা। দোযখের বিজ্ঞাপন! বেশ ইন্টারেস্টিং, একই সাথে অদ্ভুতও। আগ্রহী হয়ে যায় গল্পের চরিত্র মাসুদ। ফুটফুটে মেয়েটা বায়না ধরে বিকেলে ঘুরতে যাওয়ার। কিন্তু বিকেলে অফিসে যেতে হবে তাকে। অফিস শেষে চলে যায় সেই বিজ্ঞাপনের উল্লেখ্য ঠিকানায়। দোযখ কি দেখতে পারবে মাসুদ? গল্পটা ভীষণ ইন্টারেস্টিং। ভালোই লেগেছে আমার। গল্পের ঘুরতে থাকা রহস্যটা অসাধারণ। "ঘুরতে থাকুক!"
• হারানো বিজ্ঞপ্তি - তানযীলা তারাইয়্যান
নিরবতা-নিস্তব্ধতায় থাকতে চাওয়া থেকে পছন্দ হয়ে যায় নীল রঙ্গা এক বাড়ি। থাকতে দিতে নারাজ প্রৌঢ়ার, অদ্ভুত দুই শর্তে রাজী হয়ে যান তিনিও। থাকতেও শুরু করেন। কিন্তু হারিয়ে যায় গল্পের চরিত্র টুকু। এরপরে মীরা। গেলো কোথায় তারা? জানেনা সে! উত্তর পায়না কোনো! রহস্যে ঘেরা চলতে থাকা এই গল্পটা শেষ হয় বিষন্নতায়। ভীষণ ভালো একটা গল্প।
• মহামারী - মৌলি আখন্দ
স্বামী-স্ত্রী আর তাদের মেয়ে! গল্পটা সাধারণ। চলতে চলতে ধরা দেয় বিষন্নতা। খানিকটা সুখ, কিছুটা জ্বালাপোড়া। এই মহামারী করোনায় চলতে থাকা একটা পরিবারের গল্প। তবে গল্পটার চরিত্রের কেউ একজন তার নিজের জীবনের গল্পটা পুরোপুরি দেখে যেতে পারবেন কিনা কে জানেন! শেষ হবে কবে এই 'মহামারী?'
• মৃত্যু - তানজিল সা'দ
মৃত্যুকে কি কখনো আটকানো যায়? পেছানো যায়? নাকি যা ঘটার তা ঘটবেই। ভাগ্যের নির্ধারিত বিষয়টা কি যেকোনো ভাবেই হবে? মৃত্যুর চাইতে বড় মুক্তির বিষয় আর কি হতে পারে? মৃত্যুকে ফাঁকি দিতে চাইলে হয়তো যাবে আরও জীবন! হবে আরও ক্ষতি। উত্তর অজানা, তবে মৃত্যু সবচেয়ে নির্মম সত্য। যার কোনো পরিবর্তন নেই। হবেওনা। উপরোক্ত সবগুলো প্রশ্নের উত্তর সমৃদ্ধ এই গল্পটা, মৃত্যুকে মনে করিয়ে দেবে একবার হলেও!
• উধাও গল্প - সালমান সাকিব জিসান
জাদু পছন্দ করে ঐন্দ্রিলা। বাবা ক্ষমতাধর। নাম হেমেন্দ্রবাবু। মা অন্য ধর্মের। অনেকেই ঐন্দ্রিলার মাকে অপয়া, অলক্ষী বলে অপবাধ দিলেও ছাড়তে পারেননি হেমেন্দ্রবাবু তাকে। আগলে রেখেছেন। আগলে রাখার জন্য যা যা দরকার করেছেন সবটাই। উধাও গল্প থেকে হারিয়ে যায় কে তাহলে? ঐন্দ্রিলা? কিন্তু কেনো? উত্তরটা অজানা নয়, 'উধাও গল্প' এর দুনিয়ায়!
• ফিয়ার অব ডেথ - নওশের ডন
নতুন শহরে ঘুরতে বেশ ভালোই লাগে আমাদের, তাইনা? নতুন খাবার, দোকান-পাট, বাড়ি সবকিছুই আকৃষ্ট করে আমাদের। ওহ হ্যা! নতুন খাবারও। ঘুরতে ঘুরতে অজানা জায়গায় চলে আসলে কেমন অনূভুতি হয়? দুঃসাহসী মানুষগুলোও বোধয় হুট করে কিছুটা সময়ের জন্য দূর্বিষহ হয়ে পড়ে! ভয়াবহতা চেপে বসে। বহু মানুষের মধ্যে থাকাকালীনও ঘামে ভিজে যায় গল্পের লেখকের শার্ট। শুকিয়ে আসে গলা। কিন্তু কেনো? কারা সেই মানুষগুলো? কিন্তু শুধু কি লেখকেরই? আমাদেরও তো আছে, "ফিয়ার অব ডেথ" অসাধারণ লেগেছে বর্ণনাগুলো। গল্পটাও বেশ শক্তপোক্ত।
• অস্তিত্বের বিষাক্ত লোবান - সালেহ আহমেদ মুবিন
কেমন গল্প বলা যেতে পারে এটাকে জানা নেই, তবে কিছু মানুষের বাস্তবিকতা ফুটে উঠেছে এই গল্পে। জীবন ধারণ কতো কষ্টের মানুষের। ক্ষুধার যন্ত্রণা কি প্রবল! যার জন্য একসময়ে করা হয় তারাই ছেড়ে দেয় অস্তিত্বের লড়াইয়ে। যেখানে তারাই রাখতে পারতো অনেকটা সুখে। এমনকি নিজের সন্তানেরাও। জীবনে এসব ঘটতে থাকা মানুষগুলো সবসময়ই একটা চিন্তায় পড়ে যায়, তাদের কি আসলেই অস্তিত্ব আছে? মাঝে মাঝে সেই চিন্তার সাথে একটা প্রশ্নও জুড়ে দেয় তারা হয়তো, খোদা কি আছেন? কতোটা কষ্টের পর্যায়ে গেলে এসব প্রশ্ন করা যায় তা হয়তো তারাই উপলদ্ধি করতে পারে কেবল! আর সেই উপলব্ধিটুকুর কিছুটা অনূভতি হলেও টের পাওয়া যেতে পারে, "অস্তিত্বের বিষাক্ত লোবান" -এ।
• জীবে প্রেম - গোলাম কিবরিয়া
স্বামী-স্ত্রীর গল্প। তবে একটু ভিন্নধর্মী। মুহিব-অদিতি যাদের বিয়েটা প্রেম করেই। মাঝে মাঝে এমন এমন কিছু হয় আমাদের জীবনে যার কারণে আমরা আফসোস করে যাই সারাজীবন। আবার অনেকেই, জীবনের জরুরি বিষয়গুলোর চাইতে বেশি গুরুত্ব দিয়ে ফেলি বাইরের কিছুকে। মুহিবের প্রচন্ড ভালোবাসা জীবের প্রতি। রাস্তার কুকুরগুলোর ক্ষুধা সে সহ্য করতে পারে না একদমই। বিয়ের আগেও পারতো না। কি মায়া, টান তার! এটাতে অন্যায়ের কিছুই নেই। কিন্তু আসলেই কি নেই অন্যায়ের কিছু? জীবে ভালোবাসতে গিয়ে কেউ কি ভুলে যেতে পারে নিজেরই হারিয়ে ফেলা কোনো এক অস্তিত্ব? হয়তো পারে! এই গল্পটাও ভীষণ অসাধারণ, যা মোড় নিয়ে নেবে হুট করেই।
বাতিঘরের ব্যানারে ৪১জন লেখকের, ৪১টা মৌলিক গল্পের সংকলনে বই - You can expect something special! প্রথমেই বাতিঘর প্রকাশনীকে ধন্যবাদ এরকম অসাধারণ উদ্যোগের জন্যে। ❤
সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন সুলেখক শরীফুল হাসান। সম্পাদনা আমি ভাল বুঝি না, তাই বলতে পারছি না কাজটা কতটা ভালো বা খারাপ হয়েছে। Ebook কোয়ালিটির দিক থেকে বইটি বেশ ভালো। তবে Single Page পিডিএফ করা উচিত ছিল।
এবার আসি, বইয়ের প্রাণ গল্পগুলির কথায়৷ বই শুরু করার পর, প্রতিটা গল্পের Short Review লেখা শুরু করেছিলাম। পরে ৪১টা গল্পের রিভিউ লেখা ধৈর্য্যে কুলায় নি বলে ক্ষমাপ্রার্থী :'(
ছোট গল্পের মূল প্রাণ হল গল্পের প্লট আর এক্সিকিউশন। প্রায় সবগুলা গল্পেরই প্লট ভালো। সমস্যা বেধেছে গল্পগুলো এক্সিকিউশনের বেলায়। বেশিরভাগ গল্পেই লেখক গল্পের কাহিনি ঠিকমত এক্সিকিউট করতে পারেন নি। এটা যেমন অপরিচিত কিছু লেখকের গল্পের বেলায় সত্যি, তেমন কয়েকটি বই পড়ে ফেলেছি এমন লেখকের বেলায়ও খাটে।
প্রিয় লেখকদের মধ্যে: নাবিল মুহতাসিমের "একদিকে কাউকে ঘোড়ায় চড়ে যেতে দেখেছেন" - যেমন মুগ্ধ করেছে। অন্যদিকে রবিন জামান খানের "ত্রাণ-কর্তা! হতাশ করেছে।
অপরিচিত লেখকদের মধ্যে: কাজী ঐশীর "দোযখ" দারুন লেগেছে। আবার, আলী ওয়াহাব সৌহার্দ্যের "কালজিরা কাব্য ও একটি সরল সমীকরণ" এর এক্সিকিউশন ভাল হয় নি একেবারেই।
এরকম সংকলনে কিছু অসাধারণ গল্পের ভিড়ে, গড়পড়তা কিছু গল্পও জায়গা করে নিবে - এটাই স্বাভাবিক। তবে ৪১টি গল্পের মধ্যে একেবারেই অসাধারণ - এমন গল্পের সংখ্যা সীমিত।
বাতিঘর প্রকাশনীর ব্যানারে যেহেতু বইটা অনলাইনে প্রকাশিত - গল্পগুলোর বাছবিচারে আরো সতর্ক থাকা উচিত ছিল। কন্টেটির থেকে কোয়ালিটির দিকে আরো অধিক মনোযোগী হওয���া যেত।
গতবছর করোনাকালীন সময়ে পাঠকদের আনন্দ দিতে বাতিঘর প্রকাশনী ৪২ জন লেখকের ৪২ টা গল্প নিয়ে প্রকাশ করে 'অবরুদ্ধতার গল্প'।যার সম্পাদক ছিলেন শরীফুল হাসান।
সংকলনের সমস্যা হলো গুটিকয়েক ভালোর ভেতরে অসংখ্য আজেবাজে জিনিস ঢুকে যায়।এই সংকলনটিও এর ব্যতিক্রম নয়।তারমধ্যেও দারুন কয়েকটা গল্প পেয়েছি।চমৎকৃত হয়েছি তাদের ভাবনার অভিনবত্বে।
প্রথমেই যে গল্পটার কথা বলতে আমি বাধ্য তা হলো তানিয়া সুলতানার "সলিতারিও"।আমার দৃষ্টিতে সংকলনের শ্রেষ্ঠ গল্প এটি।চমৎকার ভাবনার চমৎকার উপস্থাপন।অন্তত এক একটি গল্পের জন্যেও সংকলনটি স্বার্থক।
কাজী ঐশীর ''দোযখ'',নাবিল মুহতাসিমের "এদিক দিয়ে কাউকে ঘোড়ায় চড়ে যেতে দেখেছেন?",মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পীর "ডিমেনশিয়া", প্রিন্স আশরাফের "রাত তিনটেয়" - বেশ ভালো লেগেছে।
সংকলনটি যখন হাতে নিয়েছিলাম তখন বর্তমান বাংলা থ্রিলার সাহিত্যের অসংখ্য বড় বড় নাম দেখেই নিয়েছিলাম।বাংলা থ্রিলারের সব দিকপালদের গল্প একসাথে - রোমাঞ্চকর ব্যাপার।কিন্তু সে আশায় গুঁড়েবালি।এক নাবিল মুহতাসিম ছাড়া আর কারোর গল্পই আপ টু দ্য মার্ক লাগেনি।বরং মনে হয়েছে "অবরুদ্ধতার গল্প" যেন আমাদের গণ্যমান্য লেখকদের ট্র্যাশ ক্যান।তানজীম রহমান,শরীফুল হাসান,মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন,কিশোর পাশা ইমন,সালমান হক,জাহির হোসেন প্রমুখ দিকপালদের লেখা হতাশ করেছে।হয়তো আমার এক্সপেকটেশন বেশি ছিলো বলেই...
৪২জন লেখকের ৪২টি গল্প। তাদের মধ্যে কিছু লেখক বেশ স্বনামধন্য, কয়েকজন লেখক আবার ততটা সুপরিচিত নন। কয়েকজন লেখকের প্রতি এক্সপেকটেশনটা অনেক বেশী ছিলো, তাদের গল্প পড়ে হতাশ হয়েছি। আবার এমন অনেক লেখক, যাদের লেখা আগে পড়িনি, তাদের গল্প পড়ে চমতকৃত হয়েছি।
তবে, প্রতিটা গল্পই অনন্য। এবং কিছু কিছু গল্প মাস্টারপিস পর্যায়ের! আবার হাতে গোণা কিছু গল্প পড়ে মনে হয়েছে, এটা ফেসবুক টাইমলাইনেই ভালো মানাতো। বইয়ে নয়।
সবগুলো গল্পই ছোট, সাবলীল এবং সুখপাঠ্য। অবরুদ্ধতার সময় কাটানোর জন্য বেশ ভালো একটা বই।
একচল্লিশটা দারুণ মৌলিক ছোটগল্পের সংকলন। কোনো নির্দিষ্ট জনরাভিত্তিক নয়। সামাজিক, হরর, ক্রাইম, সাইফাই, সমকালীন সব গল্পই রয়েছে। লিখেছেন দেশসেরা ও তরুণ লেখকেরা। প্ৰকাশীত হয়েছে বাতিঘর প্রকাশনি থেকে। অনলাইন সংস্করণ। পাঠকের ঈদ উপহার হিসেবে। প্রায় প্রত্যেকটা গল্পই ভালো। গল্পগুলো ছোট ছোট। দ্রুত পড়ে ফেলা যায়। পড়ে ফেলতে পারেন। সময়টা ভালো যাবে।
বিশ্ব স্থবির হয়ে আছে। মানবজাতি গৃহবন্দি। অদ্ভুত এক ডিস্টোপিয়ান সময় পার করছি সকলে যেন। আতঙ্ক মুহুর্মুহু দলা পাকিয়ে গলার কাছে আটকে যাচ্ছে। মৃত্যু যেন সবার চারপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে। সবচেয়ে কাছের প্রিয়জনকেও প্রতিনিয়ত সন্দেহ হচ্ছে। সময়ও যেন তার সাধারণ গতি হারিয়ে পর্যবসিত হচ্ছে স্থূলতায়। অদ্ভুত এক মৃত্যু নেশায় নিজেকে আসক্ত করেছে যেন প্রকৃতি। মুক্তির সংজ্ঞাও যেন ধীরে ধীরে রুদ্ধতায় পরিণত হচ্ছে। আর আমরা…অদ্ভুত এক অবরুদ্ধ সময়ে মুক্তির আশায় প্রহর গুনে যাচ্ছি।
অস্থির এক সময় পার করছি আমরা। করোনার এই লকডাউনে গৃহবন্দি মস্তিষ্ক যেন অবরুদ্ধ হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে নিচ্ছিল। হাতের কাছে না পড়া বইয়ের স্তূপ কিন্তু ইচ্ছে করে না। মুভি আর টিভি সিরিজের এত সহজলভ্যতাও যেন মনকে টানে না। একদলা আতঙ্ক গলার কাছে এসে দলা পাকিয়ে আটকে থাকে সর্বদা। এরকম একটা পরিস্থিতিতে দরকার ছিল ভিন্ন কিছু; একদমই ব্যতিক্রমী কিছু। তরুণদের নতুন উদ্যোগের কিছু।
এমতাবস্থায় বাতিঘর প্রকাশনী থেকে অনলাইন গল্প সংকলন যেন খানিকটা স্বস্তি এনে দিল। শরীফুল হাসানের সম্পাদনায় মোট ৪২ টি গল্প অন্তর্ভূক্ত হয়েছে এই সংকলনটিতে। ৪২ জন লেখককে একটা সংকলনে পাওয়া চাট্টিখানি কথা নয়; তাও যদি হয় সকলের জন্য উন্মুক্ত অনলাইন সংকলন। সম্পাদনায় ছিলেন সুলেখক শরীফুল হাসান। উপদেষ্টা হিসেবে ছিলেন আরেক সুলেখক মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন বাপ্পী খান; অবশ্য সবকটা গল্পের প্রচ্ছদ করার দায়ভারও ছিল এই লোকটার কাঁধে। প্রচ্ছদগুলো আসলেই খুব সুন্দর হয়েছে।
সংকলনটির আয়োজনে ছিল বাতিঘর প্রকাশনী এবং এর প্রচারকার্য সম্পন্ন করেছে থ্রিলার পাঠকদের আসর নামক ফেসবুক গ্রুপ আর তার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল সদস্য। অনলাইন সংকলনটির লিংক আর মূল রিভিউয়ের লিংক -
পড়ে শেষ ক��লাম ৪১টা মৌলিক ছোটগল্পের সংকলন 'অবরুদ্ধতার গল্প'। বইটা শুরু করেছিলাম বেশ কিছুদিন আগে। প্রতিদিন একটা দুটা করে গল্প পড়তে পড়তে শেষ করলাম এবং স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি সময় লাগলো। এ কারণে অনেক গল্পই মনে নেই। সব গল্প ভালো না লাগলেও কয়েকটা গল্প বেশ ভালো লেগেছে। যেমন : মৌলী আখন্দ'র 'মহামারী' সবচাইতে বেশি ভালো লেগেছে, আরো ভালো লেগেছে গোলাম কিবরিয়ার 'জীবে প্রেম', তানজীম রহমানের 'প্রতিবিম্ব' ইত্যাদি। তবে অনেক গল্পই এ সংকলনে স্থান পাবার মত নয় বলে মনে হয়েছে। যাই হোক, এটা একান্তই আমার মতামত। সব মিলিয়ে সংকলনটি মোটামুটি লেগেছে।
এই অস্বস্তিকর সময়ে পাঠকদের জন্য এরকম একটা উপহার আসলেই প্রশংসনীয়। আমার কাছে সংকলনের সেরা ৫ টি গল্প হলো -অভিনব অস্বাভাবিকত্ব, এনিওয়ার্ম,বাতিঘর, এদিক দিয়ে কাউকে ঘোড়ায় চড়ে যেতে দেখেছেন? এবং নেচার কোড। সবার ভালোলাগার মতোই বেশ কিছু গল্প রয়েছে এই সংকলনে।
পড়ে ফেললাম বাতিঘর থেকে প্রকাশিত অবরুদ্ধতার গল্প(গল্প সংকলন)। ৪২ জন লেখকের রচিত ৪২টি ভিন্ন ধাঁচের গল্প আছে। সবগুলো গল্প ভালো লাগে নি, তবে যে সকল গল্প ভালো লেগেছে সেগুলো বলছি (যথাক্রমে):
১। জম্বা- বাপ্পী খান ২। কারাগার ৪৬০০- তানজিরুল ইসলাম ৩। ডিমেনশিয়া- মোহাইমিনুল ইসলাম বাপ্পী ৪। ত্রাণ-কর্তা- রবিন জামান খান ৫। সলিতারিও- তানিয়া সুলতানা ৬। এই গলিটা ভালো নয়- নজরুল ইসলাম ৭। দাঁড়কাক-ইশরাক অর্ণব ৮। সহানুভূতি ক্যাফে- শাহেদ জামান ৯। প্রহরি- কায়সার কবির ১০। রুম নাম্বার তিন- নিয়াজ মেহেদী ১১। জাদুর শহর- নেওয়াজ নাবিদ ১২। এদিক দিয়ে কাউকে ঘোড়ায় চড়ে যেতে দেখেছেন- নাবিল মুহতাসিম ১৩। অবশেষে- রাইসুল আরেফিন ১৪। ছোট সামছু'র লকডাউন বৃত্তান্ত- শরীফুল হাসান ১৫। শাহেদ আলীর ফ্যান্টম হাত!- মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন ১৬। সময়ের মাত্রায় একজন সুন্দরম- যারিন তাসনিম প্রমি ১৭। আকিফো- সিহান নাঈম ১৮। একটা সিনেমা দেখবেন?- ওয়াসিফ নূর ১৯। এনিওয়ার্ম- অনন্যা নাজনীন ২০। মহামারী- মৌলি আখন্দ ২১। মৃত্যু- তানজিল সা'দ ২২। অস্তিত্বের বিষাক্ত লোবান- সালেহ আহমেদ মুবিন