রাজনৈতিক চক্রান্ত, অস্ত্র ব্যবসা, মানি লন্ডারিং আর গুপ্তচরবৃত্তির ওপর লেখা বাস্তববাদী উপন্যাস। এই উপন্যাসের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিগত পাঁচ বছরে ঘটিত রাজনৈতিক তোলপাড়, মধ্যপ্রাচ্যের সমস্যা এবং সন্ত্রাসবাদ। বাংলা সাহিত্যে এই ধরনের লেখা অবশ্যই ব্যতিক্রমী বলে বিচার করা হবে।
মাদক পাচার, অস্ত্র ব্যবসা, আন্তর্জাতিক রাজনীতি, কূটনীতি, মৌলবাদ, সন্ত্রাস, গুপ্তচরবৃত্তি— এই শব্দগুলোর সঙ্গে আমরা পরিচিত। খবরের কাগজে বা টিভি কি ওয়েবসাইটে এগুলোর মুখোমুখি হওয়ার সময় আমরা শিহরিত হই, ক্ষেত্রবিশেষে হতভাগ্য কিছু নিরপরাধ উলুখাগড়ার কথা ভেবে দুঃখিতও হই। কিন্তু সবটাই থেকে যায় দূরের, অনেক দূরের, প্রায় দুর্বোধ্য একটা জগৎ হয়ে। এই বইটা পড়লে সেই 'সুখের স্বপন' ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। কাহিনির সূচনা হয় একটি সন্ত্রাসবাদী হামলায় এক সাংবাদিকের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে। সেই মৃত্যুর ঢেউ অত্যন্ত দ্রুত ছুঁতে থাকে নানা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে— যাদের মধ্যে কেউ ইনটেলিজেন্সের সঙ্গে যুক্ত, কেউ রয়েছে কাউন্টার-এস্পিওনাজে, আবার কারও বা লক্ষ্য একেবারেই অন্যরকম। বোঝা যায় যে এ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এই একটি মৃত্যু আসলে অনেক বড়ো কিছুকে লুকিয়ে রাখার পথে একটি ধাপ। ফেলুদার মতো আমরাও দেখি, এক বিচিত্র জিওমেট্রি দিয়ে গড়া জালে নড়াচড়া করছে অনেক চরিত্র— যাদের প্রায় সবার মুখেই আছে কোনো-না-কোনো মুখোশ। ইন্টারেস্টিং ব্যাপার কী, জানেন? এই চরিত্রদের কার্যকলাপ দেখতে-দেখতে হঠাৎ একটা ঘটনা ঘটে। মনে হয়, যেন রক্তকরবীর রাজা তথা সত্য আর আমাদের মধ্যের অত্যন্ত জটিল জালটি সহসা অপসৃত হয়েছে। আমরা সত্যিকে দেখতে পাচ্ছি!
বইটা মারাত্মক জটিল। 'ব্ল্যাক করিডর' আর 'ব্ল্যাক অপারেশন' দিয়ে হোমটাস্ক করা ছিল বলে এই বইয়ের চরিত্র ও ঘটনাদের অনুসরণ করতে পেরেছিলাম। কিন্তু দুম্ করে এটির মধ্যে ডুব দিলে যা হয় তাকে ফ্যাতাড়ুসুলভ বোম্বাচাক ছাড়া কিছুই বলা যাবে না। তবে বাস্তবানুগ চরিত্রচিত্রণ এবং গতিময় কাহিনি-নির্মাণের সৌজন্যে লেখকের সঙ্গে সেই জটিল পথ অনুসরণ করতে পেরেছিলাম। ভুলভুলাইয়ার শেষে পৌঁছে একটা অ্যান্টি-ক্লাইম্যাক্সের মুখোমুখি হয়ে হতাশ হলেও মেনে নিয়েছিলাম যে এ-সব ক্ষেত্রে এমনই হয়; এটাই নিয়ম। তবে লেখার সুবাদে সম্মুখীন হওয়া অজস্র তথ্য মাথার মধ্যে ঝমঝম করে বেজে চলেছিল ও চলেছে— ঠিক যেমনটা হয় গতিময় ট্রেনে চেপে ব্রিজ পেরোনোর সময়। হ্যাঁ, এই বই পড়া মানে আদতে একটা ব্রিজ, বা প্রায় রুবিকন পেরোনোই বটে। বিশ্ব-রাজনীতি তথা 'মতাদর্শ' বা গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ বা বিপ্লবকে এরপর থেকে আর কোনোদিন অপাপবিদ্ধ বিশ্বাসের চোখে দেখতে পারবেন না আপনি। জালের আড়াল থেকে রাজা এসে দাঁড়াবে আপনার সামনে— সত্যি-সত্যি! কিন্তু তারপর আপনি কী করবেন?
এইরকম বই যত বেশি পাঠকের হাতে যায়, ততই মঙ্গল। লোকে এগুলো পড়লে বুঝবে, "ধ্বংসের মুখোমুখি আমরা।" নইলে টেরও পাব না কবে রঞ্জন হয়ে পড়ে থাকব মাঠের এককোণে এইসব রাজাদের যুদ্ধে উলুখাগড়া হয়ে। বইটার ছাপা, লে-আউট শুদ্ধ ও নয়নসুখকর। তবে এতে বেশ কিছু ম্যাপ ও অলংকরণ থাকা অত্যন্ত জরুরি ছিল। সুযোগ পেলেই পড়ে ফেলুন।
অপারেশন ব্ল্যাক অ্যারো সুদীপ চট্টোপাধ্যায় প্রচ্ছদ ও অলংকরণ- স্বর্ণাভ বেরা প্রকাশক- দ্য কাফে টেবিল মুদ্রিত মূল্য- ২৫০ টাকা।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলির ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন এখন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবরের শিরোনামে। ইজরায়েল-প্যালেস্টাইনের চিরকালীন অন্তর্দ্বন্দ্ব সম্প্রতি আবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের রূপ নিয়েছে। জাতিসংঘের মতে তা আরও জটিল হয়ে বড় যুদ্ধে পরিণত হতে পারে। এই বিক্ষুব্ধ আবহে কাকতালীয় ভাবে হাতে পাওয়া একদম একই বিষয়ে লেখা সমসাময়িক থ্রিলারটি না পড়লে শুধুমাত্র খবরের মাধ্যমে সত্যিই এই অস্থিরতাকে বুঝে ওঠা সম্ভব হতনা। উপন্যাসটি বিষয়বস্তুর দিক থেকে অভিনবত্ব দাবি করে। ড্রাগ ও অস্ত্রব্যবসা, বেআইনি অর্থনৈতিক লেনদেন, আইসিস-আল কায়দা-বোকো হারাম-হামাসের সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ প্রভৃতি বিচিত্র বিষয় ছড়িয়ে রয়েছে পুরো গল্পে। আপাতকঠিন তথ্যকে উপযুক্ত উদাহরণের সাহায্যে প্রাঞ্জল ভাবে ব্যক্ত করা হয়েছে। আবার, এস্পায়োনেজ ফিকশনের পরিচিত স্তম্ভ মোসাদ, সিআইএ প্রভৃতি পরিচিত ইন্টেলিজেন্স সংগঠনগুলির কার্যপদ্ধতি ও পারস্পরিক কূটনীতিও বুঝতে অসুবিধা হয়না। তথ্যপ্রযুক্তিকে ব্যবহার করে যে কি অসাধ্যসাধন চলছে পৃথিবীজুড়ে, তা দেখে সত্যিই অবাক হয়ে যেতে হয়। প্লটের প্রয়োজনেই কিছু জায়গায় বিবরণমূলক কথোপকথন এসেছে, তবে তা গল্পের গতিময়তাকে বিশেষ রোধ করেনি, পাঠককেও বুঝতে মনোযোগ দিতে হয়েছে যেহেতু এগুলো দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত নয়। প্রথমার্ধ একটু ধীরগতির হলেও দ্বিতীয়ার্ধে জাল গুটিয়ে আনার পদ্ধতি বাহবাযোগ্য। চরিত্রনির্মাণ খুবই বাস্তবসম্মত এবং যথোপযুক্ত। বিশ্বাসী আর বিশ্বাসঘাতককে চিনিয়ে দেওয়ার ট্যুইস্টগুলি অনবদ্য, যা এস্পায়োনেজ থ্রিলারের মূল সম্পদ। শিল্পী স্বর্ণাভ বেরার প্রচ্ছদ মানানসই এবং আকর্ষণীয়। থ্রিলার হিসেবে ধরলেও বইটির আসল সার্থকতা কিন্তু অন্য জায়গায়। একাধিক বিতর্কিত আন্তর্জাতিক সমস্যা সম্বন্ধে পাঠককে সচেতন করা এবং মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক পটভূমি বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট ধারণা গড়ে দেওয়ার জন্য লেখক ধনবাদার্হ। বাংলায় এই গোত্রের লেখা খুব কম, তাই অনায়াসে একে "হুইসল ব্লোয়ার" বলা যেতে পারে। হয়তো অদূর ভবিষ্যতে অন্যান্য লেখককেও এবিষয়ে কাজের অনুপ্রেরণা যোগাবে "অপারেশন ব্ল্যাক অ্যারো"।
"ওরে হাল্লা রাজার সেনা, তোরা যুদ্ধ করে করবি কী তা বল"
যুদ্ধ - বিশ্বজুড়ে যদি কোনও একটা organised industry থাকে সেটা হল যুদ্ধ শিল্প। কখনও মুক্তির সংগ্রাম, কোথাও গণতন্ত্রর লড়াই, ধর্মীয় সংগ্রাম কিংবা স্রেফ সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন - নানা সময়ে, নানা দেশে যুদ্ধ হয়েছে, হচ্ছে। আর এই যুদ্ধ শিল্পের সাথে সুনিপুণ ভাবে জড়িয়ে আছে বেআইনি অস্ত্র কারবার, মানি লন্ডারিং এবং এস্পিওনাজ। সাধারণ লোকচক্ষুর আড়ালে চলছে ভয়াবহ এক খেলা।
সুদীপ চট্টোপাধ্যায়ের এই বইটি বাংলা ভাষায় একপ্রকার অনবদ্য। আমি অন্তত এস্পিওনাজ নিয়ে এর আগে বাংলায় সেরকম কোনও বই পড়িনি (আর আমি থ্রিলার পড়তে খুব ভালোবাসি)। মধ্য প্রাচ্যে একদিকে মাথা গজিয়েছে আইসিস, অন্যদিকে ইজরায়েলে চলছে প্যালেস্টাইনের লড়াই। এর সাথে জুড়ে গেছে মেক্সিকোর ড্রাগ কার্টেল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক বরখাস্ত ডিইএ এজেন্ট এই চক্রের পর্দাফাঁস করার জন্য কখনও ভারত আবার কখনও ইজরায়েল পারি দিচ্ছেন। কিন্তু কেন? মোসাদের সাথেই বা তার কী যোগ?
অপারেশন ব্ল্যাক অ্যারো বইটি পড়তে পড়তে বদলে যাওয়া যুদ্ধের সংজ্ঞার সাথে পরিচিতি হয়। বিশ্বযুদ্ধ, ঠান্ডা যুদ্ধের যুগ পেরিয়ে এখন সাইবার ক্রাইমের রমরমা। কম্পিউটারের এক ক্লিকে বিশ্বের যে কোনও প্রান্তে ঘটে যাচ্ছে নাশকতার ছক। কম্পিউটার স্ক্রিনের আড়ালে চলছে ব্যাপক সন্ত্রাস। ২০২১ এ দাঁড়িয়ে যথেষ্ট যুগ��পযোগী একটি স্পাই থ্রিলার এই বইটি।
প্রথম প্রথম মনে হবে 'হোমল্যান্ড' এর বাংলা সংস্করণ পড়ছি। মাঝে মাঝে তথ্যের আতিশয্যে ধৈর্যচ্যুতিও ঘটবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত লয়দানে টিকে থাকলে পয়সা যে উসুল হবে, তা নিশ্চিত। সুদীপ চট্টোপাধ্যায়ের চিত্তাকর্ষক রিসার্চ মন কাড়বে। আর যে কোনও থ্রিলারের মতই যথেষ্ট fast-paced ঘটনাবহুল page-turner বইটি। হাতে সময় থাকলে one-sitting এই অনায়াসে পড়ে ফেলা যায়।
যাদের গুপ্তচরবৃত্তি এবং রোমহর্ষক থ্রিলার পড়তে ভালো লাগে, অবশ্যই পড়ুন বইটি। বস্তাপচা ঐতিহাসিক, আধিভৌতিক ফিকশনের তুলনায় তো ভালোই।
মোসাদ,CIA,DEA এর কাজের ধরন, তাদের যৌথ অপারেশন, কালো টাকা সাদা করা, মানি লন্ডারিং, শেল কোম্পানির সাহায্যে বেআইনি টাকার লেনদেন, প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে সন্ত্রাসবাদী তৈরি ও তার নাশ, লিগাল অস্ত্র ও আমুনিসন কিভাবে সন্ত্রাসবাদী ও বিচ্ছিন্নতাবাদী দের হাতে পৌঁছয়, ড্রাগ কার্টেল এর কীর্তিকলাপ ও তাদের ব্যবহার, গুপ্তচর ও অত্যাধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় মূল্যবান তথ্যের আদানপ্রদান ও তার গোপন লেনদেনের মাধ্যমে দরকষাকষি -- বইটির মত দ্বিতীয়টি বাংলায় মনে হয় আর নেই। বোধ করি, ভারতেও না।
উপন্যাসের মধ্যে যে সমস্ত টার্মিনোলোজি ও বিষয়ভিত্তিক শব্দের ব্যবহার লেখক করেছেন, তা বইটির প্রতি আমার পড়ার আগ্রহ কে বাড়িয়ে তুলেছে, কারণ উপরোক্ত বিষয়ভিত্তিক নানা সিনেমা ও ওয়েবসিরিজ এর আমি পোকা।
এটা ঠিক যে, লেখক তার নির্দিষ্ট বিষয়বস্তুর গভীরতা নিয়ে লিখতে লিখতে অনেকাংশেই গল্পের চরিত্রগুলির চিত্রাংকনে সেভাবে নজর দেননি। মূল চরিত্র ইওনা কে ঘিরেই গল্পটি লেখা, অথচ তার সঙ্গে বাকি চরিত্র গুলির সম্পর্ক রচনায় সেভাবে কালি খরচ করেননি। এদিকে সমগ্র গল্পে রয়েছে অগণিত চরিত্রের নাম। তবে গল্পটি শেষ করলে বোঝা যায়, লেখক তার পাঠকদের গল্পের চরিত্রের সম্পর্ক-কচকচানির মধ্যে নয়, বলতে ও বোঝাতে চেয়েছেন বিশ্ব জুড়ে বেআইনি অর্থ-তথ্য -অস্ত্রের কাজকারবারের জটিল খেলা, যা পড়তে গিয়ে কিছু ক্ষেত্রে খেই হারানো মূলক মনে হলেও বিষয়বস্তুর প্রতি লেখকের গভীর চর্চা ও পাণ্ডিত্য কে নিখাদ ভাবে প্রকাশ করে।
আমি উপন্যাসটিকে দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে ব্যক্ত নানা জটিল অন্ধকারময় আন্তর্জাতিক বিষয়ের উপরে একটি সুন্দরভাবে সাজানো ডকুমেন্টারি হিসেবেই গ্রহন করতে সচ্ছন্দ বোধ করলাম।
ভৌগলিক রাজনীতির প্রেক্ষাপট বিচার করলে ভূ-মানচিত্রে অস্থিরতার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হল মধ্যপ্রাচ্য। কমবেশি দেশবিদেশের খোঁজখবর রাখা প্রায় প্রত্যেক সচেতন পাঠক জানেন মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি তেলের ব্যবসায় প্রভাব বিস্তারের রাজনীতির আঁচ সুদূরপ্রসারী। এই তেল আমদানি ও রপ্তানির সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িয়ে থাকে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলিতে বিভিন্ন সরকার গঠনের রাজনীতি যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করে আমেরিকা, রাশিয়া, ইংল্যান্ড কিংবা অন্যান্য প্রভাবশালী দেশ। সরকারগুলির উত্থান এবং শাসনব্যবস্থার সাথে আবার ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক চক্রান্ত, সাথে জঙ্গি কার্যকলাপে মদত দেওয়ার জন্য বেআইনি অস্ত্রব্যবসা ও অর্থপাচার। সেইসব আটকাতে (কখনো বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মদত দিতে) মার্কিন সিআইএ, ব্রিটিশ এমআইসিক্স, রুশ এফএসবির সাথে সমান তালে পাল্লা দিয়ে বিভিন্ন গোপন অপারেশন চালায় ইজরায়েলি মোসাদ কিংবা অন্যান্য দেশের কূটনৈতিক গোপন সংগঠনগুলি। তেলের ব্যবসা ও মধ্যপ্রাচ্যে সরকারগঠনে পশ্চিমী দেশগুলির প্রভাব বিস্তারের জটিল সমীকরণের আড়ালে ফুলে ফেঁপে ওঠা এইসব যুদ্ধব্যবসার কাঁচামাল হিসেবে অর্থপাচার এবং অস্ত্রব্যবসার মূলধন জোগানে ড্রাগ কার্টেলগুলি ও বিভিন্ন রাষ্ট্রশক্তির কূটিনৈতিক মস্তিষ্করা রিয়েল লাইফে কিভাবে ক্রিয়াশীল তা এক Espionage thriller বা গুপ্তচরবৃত্তির রোমাঞ্চকর কাহিনী হিসেবে যথেষ্ট অধ্যবসায়পূর্ণ গবেষণা দ্বারা বারোআনা সত্য ঘটনার সাথে চার আনা কাল্পনিক চরিত্রের মিশ্রণে বইটিতে ফুটিয়ে তুলেছেন লেখক। অত্যন্ত ঝরঝরে সাবলীল ভাষা বলে গতি কোথাও তেমন একটা রূদ্ধ হবে না একটানা পড়ে যাওয়ার পথে। ইজরায়েলে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে নিহত হওয়া জাঁদরেল সাংবাদিক সালোম ইলানি কি এমন তথ্য জোগাড় করে ফেলেছিলেন যার জন্য মরতে হল এবং তার একমাত্র মেয়ে ইয়োনা সিআইএ ও মোসাদের জাঁতাকল থেকে সেই তথ্য শেষ পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারলো কিনা তার হদিশ পেতে পড়ে ফেলতে হবে বইটি। অপারেশন ব্ল্যাক অ্যারো মিশনটাই বা কি সেটাও জানা যাবে। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতি, জঙ্গি সংগঠনগুলির ঠিকুজিসহ যুদ্ধব্যবসার ক্র্যাশকোর্স হিসেবে বইটি বর্তমান সময়ের উপযুক্ত। টানটান উত্তেজনার থ্রিলারটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য গল্পের প্রয়োজনমতো উপযুক্ত পরিমাণ তথ্য পরিবেশন (অহেতুক তথ্যপ্রাচুর্য তেমন একটা নেই কিন্তু তথ্যও নেহাত কম নয় যা আগ্রহী পাঠকদের ভালো লাগবে)- এজন্য লেখকের প্রশংসা প্রাপ্য। বইটির প্রচ্ছদ, কভার ও পেজ কোয়ালিটি এবং বাইন্ডিং আমার বেশ ভালো লেগেছে।
ক্যাফে টেবিল থেকে প্রকাশিত অপারেশন ব্ল্যাক অ্যারো বইটি সত্যিই দারুণ লেগেছে। সম্পূর্ণ থ্রিলার ঘরানার এই এসপিওনাজ থ্রিলার উপন্যাস আমার পড়া একেবারে নতুন একটি অভিজ্ঞতা বলা যায়। সত্য ঘটনা নির্ভর এই উপন্যাস যে কোন থ্রিলারপ্রেমীর কাছে ভালো লাগবে আশা করা যায়, তবে অতিরিক্ত তথ্য থাকার ফলে ঘটনার অনেক যোগসূত্র মেলাতে কষ্ট হয়েছে। তবে সবমিলিয়ে বইটি আমার যথেষ্ট ভালো লেগেছে।
প্রচণ্ড জটিল বিষয় নিয়ে ততোধিক জটিল বই। বইটা মোটেই আম পাঠকের জন্য নয়। ওপরের রিভিউ গুলো পড়ে যদি মনে হয় এগোতে পারবেন তাহলেই হতে তুলে নিন নতুবা হতাশ হতে পারেন। যদি পড়েন হাতে প্রয়োজনীয় সময় নিয়ে পড়তে বসবেন। সঙ্গে স্মার্টফোন রাখবেন, গুগল করতে হতে পারে।