অন্য ঘরে অন্য স্বর
মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশের একটি হিন্দু পরিবারের গল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিশৃঙ্খল বাস্তবতা, চাঁদা আদায়ের নামে রাজনৈতিক তেলবাজি, মেয়েদের নিরাপত্তাহীনতার পাশাপাশি পারিবারিক বিচ্ছিন্নতা ও শূন্যতার হাহাকার থেকে সৃষ্ট বেদনাবোধ অঙ্কিত করা হয়েছে।
নিরুদ্দেশ যাত্রা
মানসিক ব্যাধিগ্রস্ত রঞ্জু, যে কিনা বৃষ্টির সময় ঘরে থাকতে চায় না। তেমনি এক বৃষ্টির রাতে বিষন্ন ও বিপন্ন রঞ্জু রাস্তায় বের হয়ে গেলে কোনো এক পরিচিত অফিসারের সাথে পরিচয়ে জানতে পারে পারিবারিক ইতিহাস। গল্পের রঞ্জু যেন লেখকের নিজের জীবনের প্রতিকৃত।
তারাবিবির মরদ পোলা
অচরিতার্থ যৌন-বাসনার শিকার, মনোবিকারগ্রস্ত মা'র তার ছেলের প্রতি সন্দেহ প্রবনতা এবং স্বামীর প্রতি রাগ তুলে ধরা হয়েছে গল্পে। প্রথম দিকে ছেলের প্রতি মায়ের শাসন প্রকাশ পেলেও শেষে তার অচরিতার্থ যৌন-বাসনাই প্রাধান্য পেয়েছে।
দুধভাতে উৎপাত
অসুস্থ জয়নাব দুধ ভাত খাওয়ার বায়না করে৷ সুস্থতার সময়ে তার স্বামী বছরে একবার বাসায় এলে দুধভাত খেতো সবাই। নিজেদের গাভীটি পাওনা টাকা পরিশোধ করতে না পারায় পাওনাদার নিয়ে যায়৷ গ্রাম বাংলার দারিদ্যতা, বঞ্চনতা জয়নব ও তার ছেলের চোখে স্পষ্ট তুলে ধরা হয়৷
পায়ের নিচে জল
দুই ভাইয়ের চাদিহা পূরণের জন্য আতিক যখন গ্রামের জমি বিক্রি করার জন্য আসে তখন তার বাবার সাথীরা স্মৃতিরোমন্থনে, কৃতজ্ঞতায় উদ্বেল হয়ে উঠে। সাথে থাকে আলতাফ মৌলবির মত ভূমিগ্রাসি। অপর দিকে যমুনার ভাঙ্গনে বাড়ি ঘর ছেড়ে কৃষকরা আশ্রয় নেয় বাঁধের উপর যা কিনা আলতাপ মৌলবির মোটেও পছন্দ না। একদিকে যমুনার হিংস্র ছোবল, অন্যদিকে আলতাফদের অনিঃশেষ ভূমিগ্রাসে নিঃস্ব হতে চলা কৃষিশ্রমিকের বিষণ্ণ চাহনি, অঙ্গভঙ্গি, মুদ্রা ও কথনে আনুপুঙখিক উপস্থাপন করা হয়েছে গল্পটিতে৷