Entrepreneur, reformist and politicker, Dwarkanath Tagore lived at an exigent time in his country's history, the so-called preparatory period of the 19 century during which the British were consolidating their colonial regime in India. The first of its kind, Mittra's Memoir of Dwarkanath Tagore is indispensable for understanding the discourse of the 19 century colonial rule in India.
উনিশ শতকের বাংলার ইতিহাসের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যাঁকে আমরা 'প্রিন্স' দ্বারকানাথ ঠাকুর নামে জানি, তাঁর জীবনের এক অনন্য দলিল হলো কিশোরীচাঁদ মিত্রের এই স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থটি। ১৮৭০ সালে প্রথম প্রকাশিত এই বইটি কেবল একটি জীবনী নয়, বরং সেই সময়ের বদলে যাওয়া কলকাতার এক জীবন্ত ছবি।
আমরা অনেকেই তাঁকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ঠাকুরদা হিসেবে জানি, কিন্তু এই বইতে ফুটে উঠেছে তাঁর অসামান্য ব্যবসায়িক বুদ্ধি। ব্যাঙ্কিং থেকে শুরু করে জাহাজ ব্যবসা বা চা শিল্প—কীভাবে একজন বাঙালি বিশ্বমঞ্চে নিজের আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন, তা সত্যিই রোমাঞ্চকর।
দ্বারকানাথ ঠাকুর কেবল একজন জমিদার ছিলেন না, তিনি ছিলেন আধুনিক ভারতের প্রথম সারির একজন শিল্পোদ্যোক্তা।
কার-ঠাকুর অ্যান্ড কোম্পানি: ১৮৩৪ সালে তিনি উইলিয়াম কার-এর সঙ্গে মিলে এই কোম্পানি গঠন করেন। এটি ছিল ভারতে প্রথম যৌথ উদ্যোগে (Indo-British partnership) তৈরি ম্যানেজিং এজেন্সি।
ব্যাঙ্কিং ও ইনস্যুরেন্স: তিনি 'ইউনিয়ন ব্যাঙ্ক' (Union Bank) প্রতিষ্ঠায় প্রধান ভূমিকা নেন। এছাড়াও বীমা ব্যবসায় তাঁর বিশাল বিনিয়োগ ছিল।
বিচিত্র বাণিজ্য: কয়লা খনি (রানিগঞ্জ), নীল চাষ, চা শিল্প (Assam Tea Company), এবং জাহাজ ব্যবসায় (Steam Navigation) তাঁর একচেটিয়া আধিপত্য ছিল।
আন্তর্জাতিক সংযোগ: তাঁর ব্যবসা কেবল বাংলা বা ভারতে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং চীন এবং ইউরোপের বাজারের সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
দানশীলতা ও সমাজসেবা: 'দ্য চ্যারিটেবল প্রিন্স'
ব্যবসায় যেমন তিনি অঢেল সম্পদ অর্জন করেছিলেন, সমাজ ও শিক্ষার উন্নতিতে সেই সম্পদ দুহাতে ব্যয়ও করেছেন।
কলকাতা মেডিকেল কলেজ: ১৮৩৫ সালে এই কলেজ প্রতিষ্ঠায় তিনি অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। শুধু তাই নয়, ছাত্রদের উৎসাহিত করতে তিনি নিজের পকেট থেকে বার্ষিক পুরস্কার ও বৃত্তির ব্যবস্থা করেছিলেন।
শিক্ষা বিস্তার: হিন্দু কলেজ (বর্তমান প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়) এবং 'বেথুন স্কুল' (Bethune School) স্থাপনে তাঁর আর্থিক সাহায্য ছিল অপরিসীম।
রাজা রামমোহন ও সমাজ সংস্কার: সতীদাহ প্রথা বিলোপ আন্দোলনে তিনি রাজা রামমোহন রায়কে আর্থিকভাবে এবং সামাজিকভাবে বিশাল সমর্থন দেন। 'ব্রাহ্ম সমাজ'-এর উন্নতির জন্যও তিনি প্রচুর অর্থ দান করেন।
উদার সাহায্য: ১৮২৯ সালের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের সময় তিনি হাজার হাজার মানুষের অন্নসংস্থানের ব্যবস্থা করেছিলেন। এমনকি ইউরোপ ভ্রমণের সময়ও তিনি সেখানকার বিভিন্ন দাতব্য সংস্থায় বিপুল পরিমাণ অর্থ দান করে সকলকে অবাক করে দিয়েছিলেন।
দ্বারকানাথ ঠাকুরের দর্শন ছিল—"অর্থ উপার্জন করো দেশের উন্নতির জন্য।" তাঁর এই ব্যবসায়িক দূরদর্শিতা এবং দাতা হিসেবে উদারতা তাঁকে সমসাময়িক অন্য সব জমিদারদের থেকে আলাদা করে রেখেছিল।
পরিশেষে বলবো, এটি একটি memoir, জীবনী নয়। তার পারিবারিক জীবন সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য এই বইতে পাবেন না। একরকম দলিল-স্বরূপ ভঙ্গিমায় লেখা এই বইটি সাহিত্যরসের দিক দিয়ে আপনার খিদে মেটাবে না।