বাংলা সংগীতজগতের অন্যতম প্রতিভা কবীর সুমনের লেখা কয়েকটি প্রবন্ধের সংকলন এই বইটি। প্রবন্ধের সংখ্যা ৫০ টির মতো, রচনাকাল ২০১২ থেকে ২০১৫-র মধ্যে, যেগুলি ধারাবাহিকভাবে আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। (সম্ভবত) কবীর সুমনের কথায় , " গানবাজনা শোনার জন্য জন্মেছিলাম। শুধু শোনা, শুনে মনে রাখা। এ- জীবনে আর কাউকে দেখিনি যিনি আমার গানবাজনার স্মৃতির একটা ছোট্ট ভগ্নাংশেরও অধিকারী। আমার গানবাজনা শোনা ও মনে রাখা থেকেই 'সুমনামি'। তবে এই লেখাগুলি নিছক স্মৃতিচারণ নয়। স্মৃতিকে একটা পরিপ্রেক্ষিতে আনার চেষ্টা। বিশ্লেষণ, মন্তব্য।" "সমকালীন সময়ে দাঁড়িয়ে আধুনিক বাংলা গানের অতীত আর বর্তমানের যে সড়ক ,তার নাম সুমনামি। আর সেইসঙ্গে কী কী ভাবে হয়ে ওঠে গান এবং কোন পথে গেলে গান, তারও সুলুক কবীর সুমনের সন্ধানী কলমে।" কী নেই তার প্রবন্ধগুলিতে! জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ, আমীর খান, নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায় ,মির্জা গালিব, বড়ে গোলাম আলি খানের গজল থেকে শুরু করে বাঁশি ও পান্নালাল ঘোষ , রবিশঙ্করের "পথের পাঁচালী" র থিম প্রভৃতি সবই তার প্রবন্ধের বিষয় হয়ে উঠেছে। মান্না দে, দিলীপ সরকার,পান্নালাল ভট্টাচার্য, নির্মলা মিশ্র, সুবীর সেন প্রমুখ বাংলা সংগীতজগতের কিংবদন্তীদের কথা রয়েছে বইটির ছত্রে ছত্রে । কখনো তার প্রবন্ধের বিষয় কলকাতার সাউন্ডস্কেপে পাশের বাড়ি থেকে ভেসে আসা কণ্ঠসংগীত ও যন্ত্রসংগীত, কখনো মহিষাসুরমর্দিনী, কখনো সুধীরলাল চক্রবর্তী ও নিখিলচন্দ্র সেনের বন্ধুত্ত্ব। কখনো আবার গানের গলা তৈরী করার জন্য কীভাবে রেওয়াজ করা উচিত তা নিয়ে আলোচনা।
তবে বইটি পড়তে গিয়ে বেশ কিছু অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছিলাম। তার মধ্যে একটি হলো বইটিতে প্রচুর মুদ্রণ ত্রুটি রয়েছে। পরবর্তী সংস্করনে প্রকাশক নিশ্চই বিষয়টিতে গুরুত্ব দেবেন। তাছাড়াও আমার বইটির প্রথম দিকের বেশ কিছু পৃষ্ঠা এলোমেলোভাবে সাজানো,তাই প্রথমে খুঁজে পেতে সমস্যা হচ্ছিল। বইয়ের প্রচ্ছদ ও অলংকরণ বেশ সুন্দর ও অভিনব ।(হিরণ মিত্রের আঁকা) ঝরঝরে ভাষায় লেখা কবীর সুমনের প্রতিটি প্রবন্ধ প্রচুর তথ্যসমৃদ্ধ এবং বিশ্লেষণাত্মক। বাংলার সংগীতরসিক ব্যক্তি , গায়ক, শিক্ষার্থী, সংগীতবিশেষজ্ঞদের কাছে এটি অত্যন্ত মূল্যবান হয়ে ওঠার যোগ্যতা রাখে নিঃসন্দেহে।