পৃথিবী চালাচ্ছে পুঁজিবাদের নামে ছদ্মবেশী গণতন্ত্র। পুঁজিবাদের এই স্বরূপটাকে পুরোপুরি বুঝতে হলে জানা প্রয়োজন পুঁজিবাদ কী, সমাজতন্ত্রের সঙ্গে এর দ্বন্দ্বটাই বা কী! এ বিষয়ে পৃথিবীর বিখ্যাত দার্শনিক ও গবেষকরা কী মতামত দিয়েছেন? পুঁজিবাদের সঙ্গে সমাজতন্ত্রের দূরত্ব কতটুকু? এই দুই তন্ত্রের উৎস, বিকাশ, বিস্তার, প্রকার, পরিবর্তন, সমস্যা-সংকট জানার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়েছে বইটিতে। এক মলাটে দুই তন্ত্রের দুই পৃথিবী। এই দুই তন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মার্কসবাদ, সামরিকতাবাদ, নারীমুক্তি, মুক্তচিন্তা, বিজ্ঞান-ধর্ম ইত্যাদি বিষয়। এসব নিয়ে দেশী-বিদেশী মনীষীদের বক্তব্য বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে। প্রবন্ধগুলি আমাদের জানার পরিধিকে যেমন বিস্তৃত করবে, তেমনি শাণিত করবে আমাদের বুদ্ধিকে।
প্রধানত প্রাবন্ধিক। পিতা: প্রয়াত নিধুবন ঘোষ ও মাতা: ভগবতী ঘোষ। জন্ম মুন্সীগঞ্জের নয়াগাঁও-তে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ এবং বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগে পড়াশোনা করেছেন। পেশা শিক্ষকতা। বর্তমানে তিনি মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে কর্মরত রয়েছেন।
পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্র বইটা একটা প্রবন্ধ সংকলন। দেশ বিদেশের খ্যাতিমান বিভিন্ন লেখকের লেখা পাওয়া যায় এখানে। যদিও বই এর নাম পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্র বইটা মূলত পুঁজিবাদের নিন্দা আর সমাজতন্ত্রের জয়গানই গায়। বই এর প্রচ্ছদ থেকে সহজেই অনুমান করা যায় ব্যাপারটা।
মানুষ এখন প্রাগৈতিহাসিক যুগ থেকে ঐতিহাসিক যুগে প্রবেশ করেছে। দাসপ্রথা সামন্তবাদ এর পর পুঁজিবাদের উত্থান। পুঁজিবাদের বিকাশ মানেই ধনী আরো ধনী হবে গরিব আরো গরিব। সম্পদের কেন্দ্রিভবনে গরিবের মধ্যে সৃষ্ট হতাশা দুঃখ কষ্ট থেকে আসে সমাজতন্ত্রের ধারণা। সেই অর্থে পুঁজিবাদ সমাজতন্ত্রেরই পূর্বাবস্থা। ঔপনিবেশিক কাল পারি দিয়ে এখন চলছে নয়া উপনিবেশ। এখানে স্বাধীনতা মূখ্য নয়। শক্তিশালী রাষ্ট্রের আধিপত্য আর দুর্বল রাষ্ট্রের নির্ভরশীলতাই নয়া উপনিবেশের ভিত্তি।
আমার নিজের দেশে যে আজ এতো অন্যায় অবিচার অনাচার দূর্নীতি অরাজকতা এর কারণ কি তা নিয়ে কি আমরা চিন্তা করি। আমরা কেন উন্নয়নশীল রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেই? বড় বড় নেতার দূর্নীতির ফলেই কি আমাদের আজ এই অবস্থা। নাকি এর পিছে আছে গভীর কোনো চক্রান্ত। কেন আমরা সব সময় দূর্নীতির সমালোচনা করার পরেও নিজের নাগরিক অধিকার ব্যবহার করে দুর্নীতিমুক্ত সরকার গঠন করতে পারি না?
অর্থনীতি এ পর্যন্ত আমার পড়াশোনার গন্ডিতে সবচেয়ে ইন্টারেস্টিং টপিক। এই একটা বিষয়ের অধীনে দুনিয়ায় এমন কিছু নাই যা আলোচনা হয় না।
রচনাগুলো অতিশয় বিখ্যাত তাত্ত্বিক ও জ্ঞানীগুণীদের কিন্তু ভাষাটা বড্ড নিরস অথবা আমার মাথার ঘিলু বিলকুল ধলা, ধূসর কিছু নাই। আবার হয়তো ফিরবো উক্ত বহির কাছে ধূসর পাণ্ডুলিপি নয়, ধূসর মগজ চাষ শেষে।
এই বিষয়ে অনেক রকম বই দেখা যায় তবে এই বইটার বিশেষত্ব হলঃ (ক) এক মলাটে দুই তত্ত্ব নিয়ে বিস্তর আলোচনা। (খ) আলোচনা ও সমালোচনা দুইটিই করেছেন দেশি বিদেশি অনেক বিশেষজ্ঞ।
দুই একটি অনুবাদ প্রবন্ধে অনুবাদ কঠিন বলে মনে হয়েছে, হয়ত অনুবাদ ঠিক আছে, আমার সীমিত জ্ঞানের কারনে কঠিন মনে হয়েছে। বইটি আরও ভাল লেগেছে এই কারনে যে, আলোচনার বিচিত্রতা। নারী মুক্তি থেকে সামরিকতাবাদ প্রভৃতি বিষয়েও লেখা হয়েছে। বিষয়ের প্রতি আরও গভীর আলোচনা করা যেতো তবে তা করতে গেলে হয়ত বইটি আরও হৃষ্ট পুষ্ট হতো। আমরা যারা সমাজ বিজ্ঞানের ছাত্র নই তাঁদের জন্য আরও সুবিধা হতো। সবকিছু মিলিয়ে, পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রের প্রাথমিক জ্ঞানার্জন ও গবেষণার জন্য বইটি পড়া যেতে পারে।