অন্ধবিশ্বাসকে তিনি খুব খারাপ মনে করতেন । তিনি মনে করতেন, যা-কিছু মানুষের পক্ষে ভাল তাই ধর্মের অন্তর্গত। মনে করতেন, ধর্মের জন্য মানুষ নয়, মানুষের জন্য ধর্ম। যে বিজ্ঞানী মানুষের কল্যাণের জন্য গবেষণা করেন তিনি আল্লার উপাসক-সাধক, তপস্বীর মতোই মহৎ।
তার মধ্যে কোনো সাম্প্রদায়িকতা ছিল না। অন্য ধর্ম, সম্প্রদায় বা জাতিকে কখনো খাটো চোখে দেখতেন না। ইসলামকে অনন্ত মানবপ্রেমের ধর্ম বলে জানতেন । ইসলামের মধ্যে সুফিবাদের বিশ্বজনীন মানবপ্রেমই তার কাছে গর্বের বিষয় ছিল। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গাকে ঘৃণা করতেন । ১৯৪৬ সালে টাঙ্গাইলের দাঙ্গা ঠেকিয়েছেন। ১৯৫০ সালে ঢাকার দাঙ্গায় হিন্দুদের রক্ষা করেছেন।
ইবরাহীম খা মানুষের উপকার করতে ভালবাসতেন অসহায় দুর্বল মানুষের প্রতি দুর্বলতা ছিল বেশি।
বশীর আল-হেলালের জন্ম মুর্শিদাবাদ জেলার তালিবপুর গ্রামের মীর পাড়ায় ১৯৩৬ সালের ৬ জানুয়ারি। ছোটবেলা থেকেই তিনি লেখালেখি করতেন। ১৯৫৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় বিভাগে বাংলায় এম এ পাস করেন। তাঁর প্রথম গল্পের বই 'স্বপ্নের কুশীলব' কলকাতা থেকে প্রকাশিত হয়। ১৯৬৮ সালের শুরুর দিকে তিনি মাকে নিয়ে চলে আসেন ঢাকায়। তারপর ১৯৬৯ সালের শুরুতে সহ-অধ্যক্ষ হিসেবে নিযুক্ত হন বাংলা একাডেমিতে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। আর চব্বিশ বছর বাংলা একাডেমিতে কাজ করার পর ১৯৯৩ সালে পরিচালক পদে থেকে অবসর নেন।
গ্রামীণ ও শহুরে মধ্যবিত্ত মানুষের জীবনকে আরও অর্থবহ করতে জীবনধর্মী ও সমাজ সচেতনতামূলক অসংখ্য ছোটগল্প ও উপন্যাস লিখেন বশীর আল-হেলাল। প্রায় চল্লিশটি প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে বাংলাভাষার ওপরেই তাঁর গ্রন্থ সংখ্যা ছয়টি। তাঁর আটশো পৃষ্ঠার ভাষা-আন্দোলনের ইতিহাস (১৯৮৫) একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক গবেষণালব্ধ গ্রন্থ। তাঁর প্রকাশিত গল্পের বইগুলো হলো-'প্রথম কৃষ্ণচূড়া', 'আনারসের হাসি', 'বিপরীত মানুষ', 'ক্ষুধার দেশের রাজা', 'গল্পসমগ্র-প্রথম খণ্ড'। প্রকাশিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে- 'কালো ইলিশ', 'ঘৃতকুমারী', 'শেষ পানপাত্র', 'নূরজাহানদের মধুমাস', 'শিশিরের দেশে অভিযান' ও 'যে পথে বুলবুলিরা যায়'।
সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বশীর আল-হেলাল পেয়েছেন আলাওল সাহিত্য পুরস্কার ও বাংলা একাডেমি পুরস্কার।
২০২১ সালের ৩১ আগস্ট জীবনাবসান ঘটে বশীর আল-হেলালের।