যেখান থেকে এটা বের হয়, তার নাম 'সমাজ-রূপান্তর অধ্যয়ন কেন্দ্র'। সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী থেকে শুরু করে আজফার হোসেন বা জোনায়েদ সাকি–এরা মার্কসবাদী মতাদর্শের মানুষজন। ফলে পত্রিকাটা তেমন গবেষণাধর্মী লাগে নি আমার কাছে। একটা ইসলামি পত্রিকা বা হিন্দু পত্রিকা যেমন শুরু থেকে ধরে নেয় ইসলাম বা সনাতন ধর্মেই সব সমস্যার সমাধান; সব দর্শন বিবেচনায় এনে তারপর সিদ্ধান্ত নেয় না–এ পত্রিকায়ও মার্কসবাদকে বা মাওবাদকে তেমনিভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। এই মতবাদগুলোকে কাটাছেঁড়া করার তেমন কোনো লক্ষণ পাই নি, অর্থাৎ মুক্তমনে বিশ্লেষণের যে চর্চা পাওয়া যায় নি–গোঁড়ামির লক্ষণ পাওয়া গেছে। অধ্যাপক সিরাজ যেমন তাঁর সম্পাদকীয়তে সবকিছুকেই তির্যক দৃষ্টিতে লিখতে লিখতে শেষমেশ নোবেলজয়ী অভিজিৎ নিয়েও লিখলেন: আগেকার মতো সৎ মানুষজনকে আর নোবেল দেওয়া হয় না। অভিজিতের কাজকর্ম না নিয়ে লিখলেন তাঁর ব্যক্তিজীবন নিয়ে। তাঁর ব্যক্তিজীবনের জন্য তো আর তাঁকে নোবেল দেওয়া হয় নি, হয়েছে কাজকর্মের জন্য। আর নোবেলজয়ী পদার্থবিদ আরউইন শ্রোডিঙারের ব্যক্তিজীবন তো কত ফুলের মতো পবিত্র ছিল! সিরাজ হয়তো তাঁদের কথা জানেনই না। তবে দুই তারা যার জন্য দেওয়া–সেই গারবজ়াদেগি (পাশ্চাত্যাসক্তি) প্রবন্ধের জন্য। সাইয়্যেদ জালাল আল-ই আহ়মাদের অসাধারণ এক প্রবন্ধ–যা আমাদেরকে অক্সিডেন্টোসিস নিয়ে সতর্ক হতে বলে। নিজেদের কথা নিজেদেরকে বলতে বলে।