হাসন রাজার দৌহিত্র এবং জাতীয় অধ্যাপক দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফের আত্মজীবনী একটি অসাধারণ গ্রন্থ হতে পারতো। বাংলার সামন্ততান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার এক নিখুঁত ছবি এঁকেছেন আজরফ সাহেব। নিজে ক্ষুদ্র সামন্তপ্রভু ছিলেন। তবু এই ব্যবস্থা নিয়ে এমন নির্মোহ বিশ্লেষণ দুর্লভতর। বিংশশতাব্দীর বাঙালি মুসলমান সমাজের নানা উত্থান-পতনের সাক্ষী দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফ। ছুঁৎমার্গ নয়, বরং হিন্দুর সাথে মুসলমানের রুটি ভাগাভাগি নিয়েই দেশভাগ হয়েছিল বলে মতামত দেওয়ান সাহেবের এবং মতামতের সপক্ষে দৃঢ় প্রমাণাদি উপস্থাপন করেছেন।
নিজের ইরাক ভ্রমণের পুনরাবৃত্তি ব্যতীত সবকিছুই ঠিকঠাক ছিল। আইয়ুবের পোঁ ধরা ব্যক্তি ছিলেন দেওয়ান আজরফ। সেসব অবশ্য এড়িয়ে যেতে চেয়েছেন। গোল বাঁধলো মুক্তিযুদ্ধের সময়। সেই সময় দেওয়ান সাহেব রাও ফরমান আলির নির্দেশে নিয়মিত সভা-সমাবেশে অংশ নিয়েছেন, পাকিস্তান রক্ষায় ভূমিকা রেখেছেন - এই কুকীর্তির কথা লেখক নিজেই লিখেছেন এবং দালালির সাফাই গাইতে চেষ্টা করেছেন।
পাকিস্তানের এক দালালের বয়ানে মুক্তিযুদ্ধত্তোর বাংলাদেশের চিত্র পাওয়া যায়। যেখানে শুধু অরাজকতা। মোটকথা স্বাধীন বাংলাদেশ নিয়ে ক্ষুব্ধ এই দালালকেই ১৯৯৩ সালে বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার জাতীয় অধ্যাপকের সম্মানে ভূষিত করে!
যাহোক, স্রেফ পলিটিক্যাল কারেক্টনেসের অভাবে একটি ভালো গ্রন্থ হওয়া হলো না দেওয়ান মোহাম্মদ আজরফের আত্মজীবনীর।