বইয়ের টাইটেল মিস লিডিং। সত্যজিতের পূর্নাঙ্গ জীবনী নয় বরং কর্মজীবনী বলা যেতে পারে। শুরুতে সত্যজিতের ছোটবেলার কিছু ঘটনা আছে, তারপর একলাফে তার কর্মজীবনে ঢুকে গেছেন লেখক। প্রচুর তথ্যের রিপিটেশন আছে, পড়তে বিরক্ত লাগবে। সত্যজিতের চৌদ্দপুরুষের চ্যালেন্টকে তার যোগ্যতার মাপকাঠি বলার অপচেষ্টা দেখে খুব বাজে লাগছে। সত্যজিতের পারিবারিক আবহ হয়তো তাকে সুবিধা দিয়েছে কিন্তু অর্জন তো নিজের করে নেয়া লাগে। এর চেয়ে বিজয়া রায়ের 'আমাদের কথা, সত্যজিতের লেখা 'যখন ছোট ছিলাম', 'একেই বলে শ্যুটিং, 'বিষয় চলচিত্র', এবং 'অপুর পাঁচালি' পড়লে ঢের ভাল আইডিয়া পাবেন।
ব্যক্তি সত্যজিৎকে জানতে হলে পড়তে হবে বিজয়া রায়-এর 'আমাদের কথা' আর সত্যজিৎ-এর নিজের লেখা 'যখন ছোট ছিলাম'। সত্যজিৎ-এর সিনেমা নিয়ে জানতে হলে পড়তে হবে 'বিষয় চলচ্চিত্র' আর 'অপুর পাঁচালি', সাথে পড়া যায় 'একেই বলে শুটিং'। তাহলে এই 'অদ্বিতীয় সত্যজিৎ'? এটা না পড়লেও চলবে। খুবই বোরিং, অনেকটা উইকিপিডিয়ার মত। আর যারা সত্যজিৎকে নিয়ে ২-১টা বই পড়েছেন তাদের জন্য নতুন কিছুই নেই। লেখক কি ধরণের সিকোয়েন্স বা ক্রম অনুসরণ করেছেন সেটা বোঝাও কঠিন, প্রচুর পুনরাবৃত্তি রয়েছে, আলোচনাও বিশ্লেষণী কিছু নয়, অতি মুগ্ধ ভক্তের স্তুতিবাদের মত। 'সত্যজিৎ রায়ের প্রথম পূর্ণাঙ্গ জীবনী'--এই পাঞ্চলাইন দেখে কিনেছিলাম, হতাশ হয়েছি রীতিমত। সত্যজিৎ রায়ের ভক্ত দেখেই ২ দিলাম, নয়তো সময় নষ্ট করার জন্য ১ দিতাম।
... খুব ছোট থেকেই গল্পের বই পড়তে ভীষণ পছন্দ করতাম, ‘বাবা-মা’কে অতিষ্ঠ করে দিতাম গল্পের বই এনে দেওয়ার জন্য । তখন স্কুলে পড়ি, বাবা এনে দিয়েছিলেন ‘ফেলুদার অভিযান’ নামের একটি বই, লেখকের নাম ‘সত্যজিৎ রায়’ । বইটির প্রথম গল্প ছিল ‘শেয়াল দেবতা রহস্য’, সেই প্রথম আমার পরিচয় সত্যজিৎ রায়ের সাথে ।
▪️তারপর থেকেই ‘সত্যজিৎ রায়’ আমার জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ । যত ওনার লেখা পড়তে লাগলাম ততই আরও যেন নতুন রূপে আবিষ্কার করতে লাগলাম ওনাকে । জানলাম, শুধু ‘লেখা’ এবং ‘পরিচালনা’ নয়... নিজের বইয়ের প্রচ্ছদ, ইলাস্ট্রেশন, ক্যালিগ্রাফি, সিনেমার পোস্টার মেকিং, মিউজিক অ্যারেঞ্জমেন্ট, গানের লিরিক্স লেখা... সৃষ্টিশীলতার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ ছিলেন তিনি ।
▪️খুব স্বাভাবিক কারণেই ‘অদ্বিতীয় সত্যজিৎ’ বইটির বিষয়ে আমার খুব আগ্রহ ছিল, তাই বেশ কিছুদিন আগে সংগ্রহ করেছিলাম বইটি ।
📜 ইতিমধ্যেই তো সত্যজিৎ রায়ের ‘জীবন’ এবং ‘কাজ’ নিয়ে প্রচুর বই প্রকাশিত হয়েছে... তাহলে এই বইটিতে অন্য বইগুলির থেকে আলাদা কি আছে ?
▪️১৯৮৬ সালের আগে অবধি সত্যজিৎ নির্ভর যে বইগুলি ছিল, সেগুলি ‘সত্যজিৎ-চর্চা’র ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ । কিন্তু, তখনও পর্যন্ত বাংলা ভাষায় সত্যজিৎ রায়ের কোনো পূর্ণাঙ্গ জীবনী লেখা হয়নি । ১৯৮৬ সালে নন্দিতা পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত ‘অদ্বিতীয় সত্যজিৎ’ বইটি রচনা করে সেই অভাব অনেকাংশেই পূর্ণ করলেন লেখক মঞ্জিল সেন । ২৩ এপ্রিল ১৯৯২ এ সত্যজিৎ রায়ের প্রয়াণের অব্যবহিত পরেই কিছু তথ্য এবং পরিশিষ্ট ঘটনাবলী যুক্ত করে প্রকাশিত হয় এই বইটির তৃতীয় সংস্করণ (মে, ১৯৯২)। কাজেই, সময়কাল এবং তথ্য সংযোজনের নিরিখে এই ‘অদ্বিতীয় সত্যজিৎ’ বইটি সত্যজিতের ‘প্রথম পূর্ণাঙ্গ জীবনী‘।
▪️বর্তমানে আমরা যে বইটি দেখছি এটি সত্যজিত রায়ের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষ্যে... ‘স্যমন্তক চট্টোপাধ্যায়’ সম্পাদিত এবং ‘বুক ফার্ম’ কর্তৃক প্রকাশিত পরিমার্জিত এবং সটীক সংস্করণ ।
📜 এই বইটির বিশেষত্ব কি ?
▪️এই বইয়ের ‘ভূমিকা’ শীর্ষক অংশে লীলা মজুমদার লিখেছেন - “মঞ্জিল সেনের এই সময়োপযোগী বইখানিতে দুই সত্যজিৎ রায়ের দর্শন পাওয়া যায় ৷ একদিকে অসাধারণ গুণাধিকারী চিত্রনির্মাতা, অতিশয় প্রতিভাসম্পন্ন শিল্পী, সাংগীতিক ও শক্তিধর লেখককে পাই । আবার অন্যদিকে কলকাতার এক বিশিষ্ট বংশের সন্তান, একটা বিশেষ অঞ্চলবাসী, সংস্কৃতিবান অথচ সরল, সহৃদয়, সততাপূর্ণ, গুণগ্রাহী, মায়ামমতাময় অন্তরঙ্গ এবং নিরহংকার একজন মানুষকেও পাই ।”
📝 পাঠ-প্রতিক্রিয়া : কোনো বিশিষ্ট মানুষের জীবনী পড়তে গেলেই আমার মনে হতো... এইধরনের বই কি আদৌ স্মুথলি পড়া যায় !! বিশিষ্ট মানুষের জীবনী মানেই তো ‘ইনফো ডাম্পিং’ । কিন্তু, ‘অদ্বিতীয় সত্যজিৎ’ বইটি আমার সেই ভুল ভেঙ্গে দিয়েছে । কারণ, গোটা বইয়ের লেখা ভীষণ ঝরঝরে... যা পড়তে ভালো লাগছিল, পড়তে পড়তে আগ্রহও জাগছিল মনের মধ্যে । ছেলেবেলা থেকে শুরু করে অস্কারপ্রাপ্তি পর্যন্ত প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাই বিভিন্ন পরিচ্ছেদ ভাগ করে আলোচিত হয়েছে । বিভিন্ন কাজে তাঁর পারদর্শীতা, তাঁর স্বভাব, অভ্যাস, তীক্ষ্ণ বুদ্ধি এবং যে কোনো বিষয়ে তুখোড় পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার বর্ণনা ভীষণ সুন্দর ভাবে দেওয়া হয়েছে । অনেক নতুন ঘটনা জানতে পেরেছি, আবার আগে পড়া অনেক কাহিনী পুনরায় মনকে উজ্জীবিত করেছে ।
🔹এই প্রসঙ্গে একটি ঘটনার উল্লেখ করি -
লেখক মঞ্জিল সেন ‘আমাদের গর্ব আমাদের অহংকার’ শীর্ষক প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন - ‘সন্দেশ’ পত্রিকার একটি আড্ডায় গোয়েন্দা কাহিনী কিরকম হওয়া উচিত সেই প্রসঙ্গে সত্যজিৎ রায় বলেছিলেন “গোয়েন্দা গল্প লেখা একদিক দিয়ে বিচার করলে অন্য কোনো লেখার চাইতে কঠিন । এখানে লেখককে সবসময় সজাগ থাকতে হয় যাতে আসল অপরাধীর পরিচয় আগেই প্রকাশ না হয়ে পড়ে । কাহিনির গতি স্বচ্ছন্দ এবং এমন ঘটনাবহুল হওয়া দরকার যাতে পাঠক-পাঠিকার মনে একটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হবে, কে অপরাধী ? তা বলে গোঁজামিল নয় । একটা যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা খাড়া করতে হবে, সূত্র ছড়িয়ে দিতে হবে, আর গোড়া থেকেই থাকবে সাসপেন্স যা পড়ুয়াকে নিবিষ্ট করে রাখবে— এমন না হলে সার্থক গোয়েন্দা গল্প হয় না । তাই ভালো গোয়েন্দা কাহিনি লেখা যেমন কঠিন কাজ তেমন উৎরোতে পারলে ছেলে-বুড়ো সবার মন কাড়তে এর জুড়ি নেই ।” কথাটা যে কত বড়ো সত্যি তার প্রমাণ ‘ফেলুদা’, তাকে ঘিরে সব বয়সের মানুষের উন্মাদনা ।
🔹ব্যক্তিগতভাবে আমার কয়েকটি জিনিস একটু খারাপ লেগেছে ।
▪️মঞ্জিল সেন তাঁর এই বইতে নির্দিষ্ট কোনো টাইমলাইন ব্যবহার করেননি, বরং সত্যজিৎ রায়ের জীবনের ছোট ছোট খন্ড-চিত্রের বিবরণ দিয়েছেন ইতঃস্তত... যা একটু অগোছালো মনে হয়েছে ।
▪️লেখকের ব্যক্তিগত জীবনের থেকেও ‘কর্মজীবন’এর আলোচনাই মুখ্য হয়ে উঠেছে, যার ফলে এটিকে কোনোভাবেই ‘পূর্ণাঙ্গ জীবনী’ বলা যায় না ।
📜 সম্পাদক হিসেবে স্যমন্তক চট্টোপাধ্যায় ভীষণ ভালো কাজ করেছেন, বিশেষত টীকাগুলো বইটিকে খুবই সমৃদ্ধ করেছে । এছাড়া... প্রচ্ছদ থেকে শুরু করে অলংকরণ, প্রোডাকশন কোয়ালিটি - সবকিছুতেই যত্নের ছাপ স্পষ্ট । সত্যজিৎ রায়ের ছবিগুলিও এই বইটির অন্যতম আকর্ষণ ।
🔹সবমিলিয়ে বলতে পারি, যারা সত্যজিৎ রায়কে জানতে চান বা তাঁর জীবনের অনেক ঘটনাবলী জানতে চান, তাদের জন্য এই বই ভীষণ উপযোগী ।
জীবনের প্রারম্ভেই যদি আমি কোন লেখক তথা মানুষের গুণমুগ্ধ হই, তিনি সত্যজিৎ রায়। কারণ, বইয়ের জগতে ঠিক পদচারণা না হলেও, জ্ঞানত কোন চরিত্র বা বিশেষ সিরিজ ভালো লাগা শুরু আমার তাঁর ফেলুদার হাত ধরেই। তাই যখনই আমি এই বইটির খবর পেলাম, আমি ঠিক করলাম যেভাবেই হোক সংগ্রহ করব। বাংলাদেশে আসার কিছুদিনের মধ্যেই আমি বইটি কিনেও নেই, তবে ইচ্ছে করেই পড়ছিলাম না। মনে হচ্ছিল, বইটি একটু হাতে থাক। পড়লেই তো শেষ। 'অদ্বিতীয় সত্যজিৎ' আমি দেড়দিনেই পড়ে ফেললাম, কারণ লেখাটা খুব ঝরঝরে। পড়তে ভালো লাগছিলো, আগ্রহ টিকে থাকছিলো। আমি আগে মঞ্জিল সেনের কোন লেখা পড়িনি। ছেলেবেলা থেকে শুরু করে অস্কারপ্রাপ্তি পর্যন্ত প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাই নানান পরিচ্ছেদে আলোচিত হয়েছে, আমার ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে ভালো লেগেছে 'রসে বসে ' অধ্যায়টি। বইয়ের সব ঘটনাবলি 'আমাদের কথা', প্রবন্ধ সংগ্রহ, যখন ছোট ছিলাম, উপেন্দ্রকিশোর ইত্যাদি বই পড়ার কারণে আমার কাছে নতুন নয়। তবে বেশ কিছু নতুন ঘটনা জানতে পেরেছি, বিশেষত টীকাগুলো খুবই সমৃদ্ধ হয়েছে। এছাড়াও অনেক কাহিনী পুনরায় মস্তিষ্ককে উজ্জীবিত করেছে। যাঁরা সত্যজিৎ সম্পর্কে মোটামুটি দুই মলাটের মধ্যে একটা ভালো ধারণা করতে চান, তাঁরা এই বইটি পড়লে অনেকটাই জানতে পারবেন সত্যজিৎকে। কিছু পুনরাবৃত্তি আর দু-একটা বানান ভুল ছাড়া তেমন ত্রুটি চোখে পড়েনি। জীবনী থেকেও যদিও তাঁর ছবি নিয়েই আলোচনাটা হয়েছে বেশি। তবে তথ্যের কমতি ছিলো না। লেখক-সম্পাদক দুজনেই অনেক খেটে বইটি দাঁড় করিয়েছেন সেটা বোঝা গেছে, যত্নের ছাপ আছে প্রচ্ছদ থেকে শুরু করে সবকিছুতেই। আর জলসাঘরের চিত্রনাট্যটা একটা অনন্য সংযোজন ছিলো। ছবিগুলোও একটা সুন্দর আকর্ষণ বইটিতে। নতুন প্রজন্ম যাঁরা সত্যজিৎকে জানতে চান বা যাঁরা আগে থেকেই জানেন, তাঁদের স্মৃতি ঝালিয়ে নেওয়া, দুটো ক্ষেত্রেই বইটি একটি ভালো প্রয়াস।
সত্যজিৎ প্রেমীদের ভাল না লেগে যায় না। চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ সাথে কিছুটা লেখক সত্যজিৎ মিলে এই অদ্বিতীয় সত্যজিৎ। কলেবরে বেশ বড় বলেই ডিটেইলে কিছু বিষয় জানা যাবে। তবে বেশিরভাগি সিনেমা, শুটিং, সন্দেশ আর পুরষ্কার। এসব নিয়েই অনেক সত্যজিৎ প্রেমীর দিল খুশ করে দেয়া যায়। তবে এর বাইরে, গভীরে-অগোচরে থাকা অম্লমধুর কোন সত্য জানার আকাঙ্ঘা থাকলে সেই আশার গুড়ে বালি। তাছাড়া সত্যজিৎ মুগ্ধতা তো রয়েছেই, কিন্তু স্নিগ্ধ শ্রদ্ধাকে অতিক্রম করে এর রেশ ভাব গদগদ। আর একটা কথা না বলে থাকা যাচ্ছে না। প্রতিভার মাপ জোকে গেলে হয়তো দেখা যাবে যে সত্যজিতের প্রতিভার পরিমাণ এক চামচ দুচামচ নয় বরং গামলা গামলা। কিন্তু এই গামলা গামলা প্রতিভার দায় হরে দরে সত্যজিতের পূর্বপুরুষদের কায়কারবারের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া কোন কাজের কথা নয়। বংশগতির ছাপ থাকে মানি। তাছাড়া বংশগতির অচিহ্নিত কিছু গতিধারা আছে তাও মানি। তবে পরদাদা বেহালা বাজাতেন তাই বলে সত্যজিৎও কম্পোজার হয়ে গেছেন এই গোছের কথা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে অবস্থা দৃষ্টে ইনিয়ে বিনিয়ে বলাটা একটু বাড়াবাড়ি। একজনের ডিএনএতে কি আছে, তার চেয়ে একজনের বেড়ে ওঠার পরিবেশ এবং নিজেকে গড়ে তোলার ইতিহাসকে বেশি মূল্যবান মনে হয়। না হয় মানুষটাকে খাটো করে দেখা হয়।
পারিবারিক বা ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে কিছুই নেই বলতে গেলে। কর্মজীবন, আর লেখকের অনেক অর্জন সম্পর্কে অনেক তথ্য আছে। কাজের বেলায় তার স্বভাব, অভ্যাস, তীক্ষ্ণ বুদ্ধি আর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার বর্ণনা অনেক সুন্দর ভাবে আছে। লেখলের ছোটবেলার কিছু খেলার কথা বা কাজের ফাকে সহকর্মীদের সাথে কাটানো আনন্দের সময় বা বিভিন্ন খেলাধূলার কথা গুলোও অনেক ভাল লেগেছে। তবে সব মিলিয়ে যা আশা করেছিলাম সেরকম কিছু নেই। পূর্ণাঙ্গ জীবনী বলা যায় না। তবে অনেক তথ্য আছে।
পারিবারিক বা ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে কিছুই নেই বলতে গেলে। কর্মজীবন, আর লেখকের অনেক অর্জন সম্পর্কে অনেক তথ্য আছে। কাজের বেলায় তার স্বভাব, অভ্যাস, তীক্ষ্ণ বুদ্ধি আর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতার বর্ণনা অনেক সুন্দর ভাবে আছে। লেখলের ছোটবেলার কিছু খেলার কথা বা কাজের ফাকে সহকর্মীদের সাথে কাটানো আনন্দের সময় বা বিভিন্ন খেলাধূলার কথা গুলোও অনেক ভাল লেগেছে। তবে সব মিলিয়ে যা আশা করেছিলাম সেরকম কিছু নেই। পূর্ণাঙ্গ জীবনী বলা যায় না। তবে অনেক তথ্য আছে।
পূর্ণাঙ্গ জীবনী বলা চলে না,অনেক ইন্টারেস্টিং তথ্য আছে মানিকদা সম্পর্কে এবং বেশির ভাগই তার কর্ম জীবনের।শৈশব কিংবা কৈশোরের তথ্য নাই বললেই চলে।পারিবারিক জীবনের ব্যাপারেও তেমন কিছু নাই। খুবই হতাশ এই বই পড়ে।