Gajendra Kumar Mitra was born on 11 November 1908. He was a versatile writer. He wrote many novels, short stories, plays, essays and poems. Mitra also translated a few English novels into Bengali, such as Dickens's A Tale of Two Cities. He used to write with his left hand. His genuine love and concern for Bengali literature inspired him to co-found the famous Mitra and Ghosh Publishers. Mitra was childless. He died on 16 October 1994 in Calcutta (now Kolkata).
Mr Mitra along with his friend Sumathanath Ghosh established Mitra & Ghosh Publishers on 9 March 1934. Novels: Kanta Prem Pānchajanya Rai Jāgo Rai Jāgo Kolkatar Kāchei (Translated as A Stone's Throw from Kolkata) Paush Phāguner Pālā Upakanthe Bahnibanyā Rātrir Tapashyā Pashaner Khuda
বাংলা সাহিত্যে কথাসাহিত্যিক হিসেবে গজেন্দ্রকুমার মিত্র অদ্বিতীয় বললেই চলে। বিনা আড়ম্বরে, সহজতম ভাষায় মনের গোপনতম অনুভূতির প্রকাশে আর কলমের অল্প ক'টি আঁচড়ে চরিত্রকে রক্তমাংসের সচল সপ্রাণ অস্তিত্ব প্রদান করায় তাঁর জুড়ি ছিল না। এমন মানুষটি অন্য গল্প-উপন্যাস লেখার ফাঁকে বেশ কিছু অলৌকিক গল্প লিখেছিলেন। সেগুলো তাঁর বিখ্যাত 'কথা ও কাহিনি' সিরিজের নানা খণ্ডে ছড়িয়ে ছিল। তেমন তেইশটি গল্প এই বইয়ে সংকলিত হয়ে আমাদের সামনে এল।
কী-কী গল্প আছে এই বইয়ে? ১. দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ২. এক রাত্রির অতিথি ৩. অভ্রান্ত গণনা ৪. পিশাচ-সিদ্ধ ৫. ভূত ও ভূতপূর্ব ৬. একটি প্লেন ক্র্যাশের ইতিহাস ৭. অতৃপ্ত ৮. সাধুবাবা ৯. কাকতালীয়? ১০. ওপারের কৃতজ্ঞতা ১১. ভাগ্য-গণনা ১২. অন্তর্যামী ১৩. উপস্থিতি ১৪. প্রারব্ধ ১৫. নজর ১৬. পাষাণের ক্ষুধা ১৭. হাসি ১৮. মরণের পরেও ১৯. রহস্য ২০. অতীতের তীর ২১. প্রেতের আলিঙ্গন ২২. এপার ও ওপার ২৩. প্রথম অভিনয় রজনী
এই গল্পগুলো নিয়ে লিখতে বসলে চারটি বৈশিষ্ট্য সবচেয়ে বেশি করে নজর কাড়ে: (ক) গল্পগুলো একেবারে খাঁটি দেশজ ভয়ের গল্প। এদের উপাদান, পটভূমি, চরিত্র এবং কাহিনির নিয়ামক হিসেবে দেখা দেওয়া কার্য-কারণ সম্পর্ক— সবই বাংলা, ওডিশা বা ভারতের নানা জায়গা থেকে উদ্ভূত। (খ) এদের আসল সম্পদ এতে দেখানো নারী চরিত্ররা। খেয়াল করে দেখবেন, আমাদের সময়ের সাহিত্যে অলৌকিক রসের কাহিনির বিপুল উপস্থিতির মধ্যেও সঘন ও বাস্তবানুগ নারী চরিত্রেরা প্রায় অনুপস্থিত, বা থাকলেও তাদের ভূমিকা বড়োই সীমিত। অথচ প্রায় পঞ্চাশ বছর বা তারও বেশি আগে লেখা এই গল্পগুলোতে সেই ব্যাধি দেখাই যায় না। (গ) প্রাপ্তমনস্কদের জন্য লেখা হয়েছে এই গল্পগুলো। যৌনতা প্রকট রূপে দেখা না দিলেও অদেখা আগুনের মতো করে নারী-পুরুষ সম্পর্কের টানাপোড়েন এই গল্পগুলোতে এক অদ্ভুত উত্তাপের সঞ্চার করেছে। সেই উত্তাপের সঙ্গে মিশে গেছে অব্যাখ্যাত নানা ঘটনা আর চাপা হিংস্রতা। সব মিলিয়ে প্রায় জ্বরগ্রস্তের মতো আমি এই বইয়ের গল্পগুলো শেষ করতে বাধ্য হয়েছি এই উত্তাপের আকর্ষণ ও বিকর্ষণের মধ্যে থেকে। (ঘ) এদের পড়ে ভয় পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কিন্তু একবার এগুলো পড়লে স্থায়ীভাবে মাথার মধ্যে কিছু ছাপ পড়ে যেতে বাধ্য। ইনফ্যাক্ট এদের মধ্যে বেশ কিছু কাহিনি আপনি চেষ্টা করেও ভুলতে পারবেন না। হয়তো ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে এই গল্পমালার কোনো কথা ভেবে আঁতকে উঠবেন। হয়তো দরজা খুলে ঘরে ঢোকার সময় স্মৃতির পর্দায় ঝলসে উঠবে এইসব কাহিনিসঞ্জাত অন্ধকার। স্বস্তি পাবেন না আপনি— এটা দায়িত্ব নিয়েই বলে দেওয়া চলে।
তাও কি এই বই পড়ে কিছু অতৃপ্তি রইল? রইল। তার কারণগুলো হল~ ১) 'স্বপ্ন বা মায়া', 'চাওয়া ও পাওয়া', 'সন্ন্যাসের বিষ', 'সাধুদর্শন', 'জন্মান্তর', 'শাঁখের আংটি'— এমন বেশ কিছু গল্প আমরা এই 'সমগ্র'-তে পেলাম না। আশা রাখি যে অদূর ভবিষ্যতে একটি প্রকৃত অর্থে 'সমগ্র' পাব, যাতে লেখকের সবক'টি অলৌকিক গল্প স্থান পাবে। ২) বইটিতে বহু মুদ্রণ-প্রমাদ আছে। সর্বোপরি, আধুনিক নিয়ম অনুযায়ী যতিচিহ্নের ব্যবহার করার সময় বানানসমতাও কেন আনা হল না— সেটা বুঝলাম না। ৩) গল্পগুলোর প্রথম প্রকাশ সংক্রান্ত কোনো তথ্য পেলাম না। বাংলা অলৌকিক সাহিত্যে গজেন্দ্রকুমার মিত্রের বিশিষ্টতা নিয়ে অনির্বাণ মুখোপাধ্যায় তাঁর 'অতঃকিম ভূত'-এ অতি স্বল্প পরিসরেও অত্যন্ত মূল্যবান আলোচনা করেছিলেন। তেমন কোনো বিশ্লেষণাত্মক আলোচনা এই বইয়ে থাকা জরুরি ছিল। এই গল্পগুলো বাংলা সাহিত্যের সম্পদ হিসেবে বিবেচ্য। তাই তাদের সংকলনে কোনো প্রাবন্ধিককে দিয়ে এটুকুও করানো হয়নি দেখে খুবই খারাপ লেগেছে।
তবু, সব কিছুর পরেও থেকে যায় গল্পগুলো। স্রেফ সেগুলো পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্যই প্রকাশকের কাছে কৃতজ্ঞ থাকা যায়। যদি অলৌকিক কাহিনি পাঠে আগ্রহী হন, বিশেষত যদি আপনার আগ্রহ থাকে এমন গল্পে যা সম্ভব-অসম্ভবের সীমা ছাড়িয়ে স্থায়ী বাসা বাঁধে আমাদেরই মনের প্রদোষকালীন কুহেলিতে, তাহলে এই বইটি আপনাকে পড়তেই হবে।
গজেন্দ্র কুমার মিত্রের অলৌকিক কাহিনী সমগ্র নামে আরেকটি বই আছে। সেটা পিডিএফ এ পড়েছি, কোন প্রকাশনীর জানা নেই। তবু এই বইয়ের সূচীপত্রে সেই বইয়ে পড়া বেশিরভাগ পরিচিত গল্পের সাথে কিছু নতুন অপরিচিত গল্প দেখে না কিনে পারিনি। সবগুলো গল্পই প্রায় ভালো। অলৌকিক কাহিনীর সময় এ যুগেও শেষ হয় নি, আমার তো মনে হয় এই ধারা পছন্দ করা পাঠক এখন আরও বেড়েছে। যদিও মানসম্পন্ন অলৌকিক গল্প এ যুগে পাওয়া ভার। নিম্নমানের অলৌকিক স্বাদের গল্পগুলোর যে হাইপ এখন দেখি, তার চেয়ে বহুগুণে ভালো গজেন্দ্র কুমার মিত্রের অলৌকিক গল্প গুলো বেশিরভাগ পাঠকের কাছে অপরিচিত এখনো ভাবলে খারাপই লাগে।
"The world is full of magical things patiently waiting for our wits to grow sharper." – Bertrand Russell
গজেন্দ্রকুমার মিত্র বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পরিচিত নাম, তবে তাঁর অলৌকিক রচনাসমূহ তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত। তাঁর 'অলৌকিক সমগ্র' পাঠকের সামনে এক বিস্ময়কর জগতের দরজা খুলে দেয়, যেখানে অতিপ্রাকৃত ঘটনার সঙ্গে মিশে থাকে মানব মনের গভীর বিশ্লেষণ।
"There are more things in heaven and earth, Horatio, than are dreamt of in your philosophy." – William Shakespeare
এই সংকলনে মিত্রের গল্পগুলি কেবল ভূত-প্রেত বা অতীন্দ্রিয় ঘটনার ওপর নির্ভরশীল নয়; বরং এগুলোতে একধরনের বাস্তববাদী অলৌকিকতা মিশে থাকে। উদাহরণস্বরূপ, ‘আত্মার শান্তি’ গল্পে শুধু ভূতের উপস্থিতি নয়, বরং মানুষের অপরাধবোধ ও অনুশোচনা এক অদ্ভুত রহস্যময় পরিবেশ তৈরি করে।
"The supernatural is the natural not yet understood." – Elbert Hubbard
গজেন্দ্রকুমার মিত্রের অলৌকিক গল্পের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি কাহিনির বিশ্বাসযোগ্যতা অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য অতিপ্রাকৃত ঘটনাগুলিকে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে নির্মাণ করেন। তাঁর ‘বৈকুণ্ঠপুরের রাত্রি’ বা ‘অপার্থিব’ গল্পে দেখা যায়, চরিত্রের মনস্তাত্ত্বিক দোলাচল এবং আশেপাশের পরিবেশ এমনভাবে উপস্থাপিত হয়েছে যে, পাঠকের মনে বাস্তব ও কল্পনার সীমারেখা ধোঁয়াশা হয়ে যায়।
"Ghosts are a metaphor for memory and remembrance and metaphorically connect our world to the world we cannot know." – Leslie What
মিত্রের অলৌকিক গল্পগুলির মধ্যে বারবার ফিরে আসে অতীতের ছায়া, স্মৃতি, এবং দুঃখের উপাদান। ‘সায়াহ্নভ্রমি’ বা ‘নির্জন প্রহর’-এ আমরা দেখি কিভাবে অতীতের স্মৃতি চরিত্রদের মনে গভীর ছাপ ফেলে এবং অলৌকিকতার জন্ম দেয়।
"Mystery creates wonder and wonder is the basis of man’s desire to understand." – Neil Armstrong
গজেন্দ্রকুমার মিত্রের ভাষা ও বর্ণনারীতি অত্যন্ত মনোরম। তাঁর গল্পে অলৌকিকতার পরিবেশন এমনভাবে করা হয় যে, এটি কখনোই পাঠকের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হয় না। বরং, তিনি একধরনের ধোঁয়াটে রহস্য সৃষ্টি করেন, যা পাঠকের কল্পনাকে উসকে দেয়।
"We live on a placid island of ignorance in the midst of black seas of infinity." – H. P. Lovecraft
এই সংকলনের গল্পগুলোয় শুধুমাত্র ভূত নয়, বরং আরও গভীর দার্শনিক প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। কীভাবে ভয় কাজ করে? কীভাবে মানুষের অবচেতন মন অলৌকিকতাকে রচনা করে? এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে বোঝা যায়, মিত্র শুধুমাত্র এক গল্পকার নন, তিনি এক মনস্তাত্ত্বিকও।
"The only thing we have to fear is fear itself." – Franklin D. Roosevelt
সর্বোপরি, গজেন্দ্রকুমার মিত্রের 'অলৌকিক সমগ্র' বাংলা সাহিত্যে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। এর গল্পগুলির মধ্যে রয়েছে নিখুঁত শৈলী, রহস্যময়তা, এবং এক মনোমুগ্ধকর রসায়ন। যারা বাংলা অলৌকিক সাহিত্যের গভীরে যেতে চান, তাঁদের জন্য এই সংকলন অবশ্যপাঠ্য।
অলৌকিক সমগ্র গজেন্দ্রকুমার মিত্র মিত্র ও ঘোষ মম: ৩৫০/-
ভূত, অলৌকিক গল্পের ধরণ আমার কাছে দুরকম। এক, প্রচন্ড ভয়, নৃশংস বর্ণনা। সাহিত্য না থাকলেও চলে --- যা পড়তে পড়তে ভয় করবে, পড়ার পরেও ভয়ের ব্যাপারগুলো আরো কিছুক্ষন ভেবে ভয় করবে, কিন্তু গল্পটি মনে পড়বে না। দুই, সাহিত্য-কেন্দ্রিক গল্প। যা পড়তে পড়তে নিজেকে সেই গল্পের চরিত্র হিসেবে ভেবে পুরো ব্যাপারটাই পড়ার পরেও ভাবাবে।
এই বইটি আমার মতে দ্বিতীয় শ্রেণীর মধ্যে পড়ে। বইটা পড়তে পড়তে আমি অবাক হচ্ছিলাম এটা ভেবে, যে লেখক শ্যামা ট্রিওলজির মতো কালজয়ী উপন্যাস লিখেছেন, যার লেখন শৈলী এতো উঁচুমানের, সেই তিনি অলৌকিক গল্প লেখার সময় একদম সাদামাটা লেখা বজায় রেখেছেন, যাতে ভয়ের গল্প সহজ সরল ভাবেই আমরা পড়ে অনুভব করতে পারি। নৃশংসতা, Jump scare ধরণের গল্প বাদে (বর্তমানে এই ধরণের ভূতের বই চলছে) সাহিত্য-নির্ভর অলৌকিক-ভূতের গল্প মনে কতটা দাগ রেখে যেতে পারে, তার একটি অদ্বিতীয় উদাহরণ এই বইটি।
কয়েকটা গল্প ভালো লাগেনি। তবে ইনজয় করেছি। ছোটবেলায় লেপ মুড়ি দিয়ে ভুতের গল্প পড়তাম। সেই সময়ের ফীলটা কিছুটা পাবো ভেবেছিলাম। কিন্তু সেরকম কিছু হয়নি।