বাহরাম সিদ্দিকী বিশাল বড়লোক এবং খেয়ালী। একবার তিনি ঠিক করলেন পাঁচ কোটি টাকা দান করবেন। কোনো গোষ্ঠি বা প্রতিষ্ঠানকে নয়, টাকাটা দান করা হবে এক ব্যক্তিকে। তাও যেমন তেমন ব্যক্তিকে না, তেমন ব্যক্তিকে, যে টাকা-বিরোধী।
কথাটা অফিসে চাউর হওয়া মাত্র শুরু হয়ে যায় টাকাটা পাওয়ার খুব সুক্ষ্ম ও অদৃশ্য ষড়যন্ত্র। ষড়যন্ত্রে যোগ দেয় টপ বস নাজেমউল্লাহ থেকে বাহরাম সিদ্দিকীর সুন্দরী সেক্রেটারি হীনা আখুঞ্জি। কোনো পাকা অভিনেতা খুঁজে বার করে তাকে টাকা বিরোধী হিসাবে প্রমান করতে পারলেই তো পাঁচ কোটি টাকা হাতানো যায়! মাঠে নামলেন তারা যার যার ফন্দিফিকির নিয়ে।
রাহাত খান পাকা গোয়েন্দার মতো একেকজন মানুষের অন্তর পর্যন্ত পৌঁছেছেন, উদঘাটন করেছেন মানুষের অন্তর্গত রহস্য। একটা খুব শক্তিশালী ভাষারীতি তাঁর দখলে, মানব চরিত্র বিশ্লেষণেও লেখক হিসাবে তাঁর দক্ষতা অপরিসীম, গোষ্ঠীবদ্ধ একটা মানুষের জীবন রহস্য সহজেই তাকে ধরা দিয়েছে।
'অগ্নিদাহ' মানুষের গল্প। মানুষ কোথায় ভেঙে যায়, কোথায় কোথায় তার মর্ম বাঁধা আছে স্বপ্ন ও লুকানো আবেগের কাছে, সে সব রহস্য-সমষ্টি নিয়েই এই উপন্যাস। যে জীবন প্রবাহমান। রাহাত খান তারই দক্ষ রূপকার। এই উপন্যাসেও সেই পরিচিতি খুঁজে পাওয়া যাবে সন্দেহাতীত ভাবে।
রাহাত খান ১৯৪০ সালের ১৯ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার পূর্ব জাওয়ার গ্রামের খান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তৃতীয় শ্রেণীতে পড়াকালীন তাঁর প্রথম গল্পটি লিখেছিলেন। রাহাত খান আনন্দ মোহন কলেজ থেকে অর্থনীতি ও দর্শনে ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৬১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন। শিক্ষাজীবন শেষ করে খান ময়মনসিংহ জেলার নাসিরাবাদ কলেজ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, চট্টগ্রাম সরকারি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যাপনা করেন। ১৯৬৯ সালে তিনি দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় সাংবাদিকতা শুরু করেন। এরপর দৈনিক ইত্তেফাকে যোগ দেন, পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পত্রিকাটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। ছোটগল্প ও উপন্যাস উভয় শাখাতেই রাহাত খানের অবদান উল্লেখযোগ্য। সাহিত্যে অবদানের জন্য ১৯৭৩ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার ও ১৯৯৬ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। বিখ্যাত গোয়েন্দা সিরিজ মাসুদ রানার মেজর রাহাত খান চরিত্রটি তাঁর নামানুসারেই তৈরি করা।
২৮ আগস্ট ২০২০ সালে নিউ ইস্কাটনের নিজ বাসায় রাহাত খান মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন। তাঁকে মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে সমাহিত করা হয়।
A few grains of poison are mixed in all the love, respect and affection of people; Jealousy is the name of it.
চৌধুরী হাউস অব বিজনেসের চেয়ারম্যান বাহরাম সিদ্দিকী অনেক বড়লোক তো বটেই, একজন খেয়ালি মানুষও। হঠাৎ করেই কোনো একজনকে পাঁচ কোটি টাকা দান করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তবে শর্ত একটাই, সেই লোককে হতে হবে টাকা-বিরোধী! ব্যস! কথাটা জানাজানি হওয়ার পরেই শুরু হয়ে যায় তুলকালাম। টাকা হাত করার এক অদৃশ্য ষড়যন্ত্রে যোগ দিতে থাকে অফিসের টপ বস থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মচারী, এমনকি সুন্দরী সেক্রেটারিও।
মানব মনের ভেতরের কথা, সর্বোপরি জীবন রহস্য উদঘাটন করার চেষ্টা করা হয়েছে এই উপন্যাসে। এক্ষেত্রে রাহাত খানের পাকাপোক্ত লেখনী প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। তাঁর লেখা পড়ার সৌভাগ্য হলো এই প্রথমবার।
মোটের ওপর বলা যায়, উপন্যাসের বিষয়বস্তু ও লেখা দুটোর কোনোটি নিয়েই অসন্তুষ্টি প্রকাশ করার কোনো সুযোগ রাখেননি লেখক।