আয়না! . হয়তো আমরা খেয়াল করি অথবা করি না, কিন্তু আমাদের জীবনের হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনার সাথে জড়িয়ে থাকে আয়না। জীবনপথে ক্লান্ত হয়ে আয়নায় আশ্রয় খুঁজি আমরা। জান্নাত বা জাহান্নাম পর্যন্ত বিস্তৃত এই পথে চলতে গিয়ে ধুলো জমে আমাদের হৃদয়েও। চিরচেনা আয়নায় বিকৃত হতে থাকে প্রতিবিম্ব। পরতের পর পরত জমে ময়লা। একের পর এক হাতে তুলে নিই নানা মতবাদ, নানা ‘তন্ত্রমন্ত্রের’ আয়না। ধরা পড়ে না অসুখ। ক্রমাগত আয়না বদলাই। ভুল প্রতিবিম্ব আর ভুল চিকিৎসায় আরও বাড়ে যন্ত্রণা। পুরু হতে থাকে ময়লার পরত… . কিন্তু জানেন, রূপকথার স্নো-হোয়াইটের সেই জাদুর আয়নার চাইতেও শতগুণ বেশি নির্ভুল আয়না ছিল আমাদের পূর্বপুরুষদের কাছে? সেই আয়না দেখে পরিপাটি করে তাঁরা সাজিয়েছিলেন নিজেদের। সাজিয়েছিলেন এই পৃথিবীকে। সেজেছিল মেঘ, রোদ, জোছনা; সেজেছিল মরু, নদী, সাগর। তাঁরা মানুষকে ডেকেছিলেন সৃষ্টির দাসত্ব থেকে স্রষ্টার দাসত্বের দিকে; এ দুনিয়ার সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত হয়ে দুনিয়া ও আখিরাতের প্রশস্ততার দিকে। লিখেছিলেন মাটির পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে মহাকাব্যিক অধ্যায়টি…। . ধুলো পড়া সময়ে হারিয়ে যাওয়া সেই আয়নার কথা মনে করিয়ে দিতেই এই আয়োজন…আয়নাঘর।
বইটির বিষয়বস্তু অনেক বিস্তৃত। তাই গতানুগতিক রিভিউ লিখাও একটু মুশকিল। বইটি মূলত মুসলিম উম্মাহ বর্তমানে প্রতিনিয়ত যেসকল বিষয়বস্তু ও জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছে জীবনের নানান দিক থেকে এমন বেশ কিছু বিষয়ে আলোকপাত করেছে। আমাদের চোখের সামনে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনাবলী সম্পর্কে আমাদের কেমন এপ্রোচ হওয়া উচিত বইটি সেক্ষেত্রে আমাদের অনেক সহায়তা করবে ইন শা আল্লাহ।
বইটিতে বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলোকপাত করা হয়েছে যেমন পশ্চিমাবিশ্বের বুদ্ধিবৃত্তিক আগ্রাসন, মিডিয়া, গনতন্ত্র, ইসলামি শরিয়াহ ও তার সৌন্দর্য ও অপরিহার্যতা, পেরেন্টিং বিষয়ে দিকনির্দেশনা নিয়ে এসেছে খুব সুন্দর কিছু প্রবন্ধ, দ্বীন কায়েমের আবশ্যিক কর্তব্য, সব জড়তা ও গাফলতি ঝেড়ে দ্বীন কায়েমের কাজে আত্মনিয়োগ করতে উৎসাহ দেয়া হয়েছে, আত্মকেন্দ্রিক না হয়ে সমগ্র উম্মাহকে নিয়ে ভাববার এবং সে অনুযায়ী কাজ করার জন্য আহবান জানানো হয়েছে। এরকম নানান গুরুত্বপূর্ণ ও দ্বীনের মৌলিক বিষয় গুলো নিয়ে খুব সুন্দর ও জোরালো ভাষায় আলোচনা হয়েছে বইটিতে।
আপনার দ্বীনকে নিয়ে গর্ব করতে শিখাবে বইটি। আপনার ঈমানকে করবে সুদৃঢ় ও আপনার কাছে পৃথিবীর সবথেকে মূল্যবান বস্তু ইন শা আল্লাহ। যার ক্ষেত্রে কোনো আপোষ হয় না। আপনাকে মানসিক শক্তি জোগাবে দ্বীন পালনের প্রতিটি ক্ষেত্রে। একজন মুসলমান হিসেবে আপনি আত্মসম্মানবোধ অনুভব করবেন। দ্বীনকে নিয়ে সর্বদা ইতিবাচক চিন্তাভাবনা করার মানসিকতা তৈরি করতে সহায়তা করবে এই বইটি ইন শা আল্লাহ।
প্র্যাক্টিসিং,নন প্র্যাক্টিসিংদের জন্য বা দাওয়াহ করার ক্ষেত্রে বইটি একটি ভালো চয়েজ প্রমাণিত হবে ইন শা আল্লাহ। আমার কপিটি প্রথম সংস্করণ আর এটিতে অনেক টাইপিং মিস্টেক রয়েছে, তাই বাজারে অন্য সংস্করণ থাকলে সেটিই নেয়ার পরামর্শ থাকলো। অবশেষে আল্লাহ এই সুন্দর বইয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলকে উত্তম প্রতিদান দিন এই দোয়া করি। শাইখ ইয়াদ আল-কুনাইবী-কে হেফাজত করুন এবং দ্বীনের আরও খেদমত করার তৌফিক দিন। আমীন। সকল প্রশংসা এই বিশ্বজাহানের একক স্রষ্টা ও প্রতিপালক আল্লাহর।
এটাকে চিন্তাপরাধের সিক্যুয়েল বলা যেতে পারে। আর এই বই নিয়ে কিছু কথা না বলাটা অন্যায় হবে৷
বইটা ব্যাপকভাবে ধাক্কা দিয়েছে আমাকে। জানিনা অন্যান্য পাঠকদের কী অবস্থা! আমি নিজেকে যা ভাবতাম, আর প্রকৃতপক্ষে আমি আসলে কী সেটা বেশ ভালোভাবে ধরিয়ে দিয়েছে।
একথা সত্য যে মুসলিমেরাই ইসলামী বিধানকে কাফিরদের চেয়ে বেশী ভয় পায়। ফলাফল ইসলামের কিছু বিধান নিয়ে তাঁদের সাথে আলোচনা করলেই বুঝতে পারবেন।
ইসলাম কী আর আমরা কী নিয়ে পরে আছি, কী করছি আমরা আর কী করা উচিৎ ছিলো আমাদের, আসলে দুনিয়াতে কেন আমরা? বেশ ভালো জবাব আছে বইটাতে।
ছোট গল্পের মতো করে অল্প কথায় যেন আগুনের ফুলকি ছুটেছে প্রতিটি পাতায় পাতায়।
আসলে আমাদের তো এই দুনিয়ার গোলামী করার কথা না! বরং দুনিয়াটাকেই আমাদের গোলাম বানানোর কথা। আশা রাখি কেউ একজন উঠে দাঁড়াবে, চোখে ইস্পাতের দৃঢ়তা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাবে, আশা রাখি নিজেও সেই কাফেলায় শরীক হবো।
বহু মত, বহু পথ, বহু মতাদর্শ, বহু বিশ্লেষণ, বহু তত্ত্বকথার ছড়াছড়ি। বাড়াবাড়ি আর ছাড়াছাড়ির দুর্দম প্রতিযোগিতা। এর মধ্যে খেই হারিয়ে এদিক ওদিক ভাসতে থাকা গন্তব্যহীন, লক্ষ্যহীন, বোধহীন মুসলিম উম্মাহ। আমার অবস্থান কোথায়, আপনার অবস্থান কোথায়, কি আমাদের করণীয়, কোন কাজটা দরকারী আর কোন কাজটা বাহুল্য? একটা আয়না দরকার। যেই আয়নায় নিজেকে ভালভাবে দেখা যায়, পরখ করা যায়। যেই আয়নায় নিজের শরীরে লেপটে থাকা ধূলি, ময়লা, কাদার আস্তরণ চোখ এড়ায় না। কোথায় সেই আয়না? যে কোনো আয়না হলেই কি হবে? নাকি সেই আয়না হতে হবে নিখুঁত? যেই আয়নায় নিজের প্রকৃত প্রতিবিম্ব পাওয়া যায়? সেই আয়নার কথাই পাবেন এই বইতে। পড়তে পড়তে আয়নায় নিজের শরীরে লেগে থাকা ধুলো, ময়লাগুলো দেখে আবার আঁতকে উঠবেন না যেন?
দুনিয়ার কারাগারে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমাদের গুনাহগুলো। সাক্ষীপ্রমাণ সব প্রস্তুত। কেবল রায় দেয়ার অপেক্ষা। যদি আমাদের তাওহিদে সমস্যা থাকে, শাস্তি নিশ্চিত। আর সেই শাস্তির মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন করা অনর্থক।
মামলা খারিজ হবার একমাত্র উপায় আন্তরিক তাওবা। যিনি রায় দেবেন, তিনি সমগ্র সৃষ্টির একচ্ছত্র অধিপতি, প্রকৃত বিচারক, আল্লাহ আযযা ওয়া জাল।
আমাদের সব মনোযোগ থাকা উচিত বিচারককে সন্তুষ্ট করা নিয়ে। সব কাজের লক্ষ্য হওয়া উচিত দুনিয়ার এ কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে আখিরাতে জান্নাতে প্রবেশ করা।