Jump to ratings and reviews
Rate this book

Ditar Ghori: দিতার ঘড়ি

Rate this book
কোনো এক অজানা সময়ে চিতা সামরিক বাহিনী দখল করে রেখেছিলো সমতল ভূমি। তাদের নির্মমতায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিলো বিজ্ঞানী, মনিষীদের তিলে তিলে গড়ে তোলা সভ্য এক লোকালয়।
চিতা সামরিক বাহিনীর হাত থেকে সমতলকে রক্ষা করতে তরুন প্রটাগনিস্ট ত.যে পথে এগোয় তাতে এক মহাবিশ্ব ভাগ হতে পারে কয়েকটি মহাবিশ্বে। এ রহস্যের মধ্যে দিতা ও তার ঘড়ি। ভিন্ন স্বাদের এই বিজ্ঞান-কল্পকাহিনির রহস্যের বিভিন্ন স্তর উন্মোচন করে পাঠক আনন্দ পাবেন।

Kindle Edition

First published February 1, 2012

13 people are currently reading
229 people want to read

About the author

Dipen Bhattacharya

20 books47 followers
দীপেন (দেবদর্শী) ভট্টাচার্য (Dipen Bhattacharya) জ্যোতির্বিদ, অধ্যাপক ও লেখক। জন্ম ১৯৫৯ সালে। আদি নিবাস এলেঙ্গা, টাঙ্গাইল। ঢাকার সেন্ট গ্রেগরিজ স্কুল, নটরডেম কলেজ ও ঢাকা কলেজে পড়াশুনা করেছেন।

মস্কো স্টেট ইউনিভার্সিটি থেকে পদার্থবিদ্যায় মাস্টার্স এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নিউ হ্যাম্পশায়ার থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞানে পিএইচডি করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ম্যারিল্যান্ড-এ নাসার (NASA) গডার্ড স্পেস ফ্লাইট ইনস্টিটিউটের গবেষক ছিলেন। পরে ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার রিভারসাইড ক্যাম্পাসে (ইউসিআর) গামা রশ্মি জ্যোতি জ্যোতিঃপদার্থবিদ হিসেবে যোগ দেন। মহাশূন্য থেকে আসা গামা-রশ্মি পর্যবেক্ষণের জন্য পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে বায়ুমণ্ডলের ওপরে বেলুনবাহিত দূরবীন ওঠানোর অভিযানসমূহে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে পদার্থবিদ্যায় গবেষণা করছেন ক্যালিফোর্নিয়ার রিভারসাইড কমিউনিটি কলেজে; এছাড়া পদার্থবিদ্যা এবং জ্যোতির্বিজ্ঞানে অধ্যাপনা করছেন ক্যালিফোর্নিয়ার মোরেনো ভ্যালি কলেজে।
১৯৭৫ সালে তিনি বন্ধুদের সহযোগিতায় ‘অনুসন্ধিৎসু চক্র’ নামে একটি বিজ্ঞান সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৬-২০০৭ সালে ফুলব্রাইট ফেলো হয়ে ঢাকার ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়িয়েছেন। বাংলাদেশে বিজ্ঞান আন্দোলন ও পরিবেশ সচেতনতার প্রসারে যুক্ত।

পত্রপত্রিকায় বিজ্ঞান বিষয়ক লেখা ছাড়াও বাংলা ভাষায় তাঁর বিজ্ঞান-কল্পকাহিনিভিত্তিক ভিন্ন স্বাদের বেশ কয়েকটি ফিকশন বই প্রকাশিত হয়েছে।

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
59 (57%)
4 stars
34 (33%)
3 stars
9 (8%)
2 stars
0 (0%)
1 star
1 (<1%)
Displaying 1 - 30 of 37 reviews
Profile Image for Harun Ahmed.
1,741 reviews493 followers
December 1, 2021
দীপেন ভট্টাচার্যের লেখা মানেই অসাধারণ কিছু-তার মাত্র দুটো বই পড়েই এই প্রতীতি জন্মেছে।কিন্তু "দিতার ঘড়ি" শুধু অসাধারণ নয়,মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো অসাধারণ।শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিমুগ্ধ বিস্ময় নিয়ে পড়েছি।শেষটা অদ্ভুত সুন্দর।

এ বই একইসাথে উত্তেজনাপূর্ণ, জীবন ও জগত সম্পর্কে বিভিন্ন দার্শনিক অভিজ্ঞতায় ঋদ্ধ,জটিল বৈজ্ঞানিক আলোচনা সমৃদ্ধ এবং লেখকের অন্যান্য লেখার মতোই অবধারিতভাবে বিষণ্ণতা উদ্রেককারী।
"দিতার ঘড়ি" বাংলাভাষায় লেখা অন্যতম সেরা বিজ্ঞান কল্পকাহিনি তো বটেই,এই লেখা বিশ্বমানের-পড়লে যে কেউ বুঝতে পারবে।প্রত্যেকের এই বই কিনে পড়া উচিত।
Profile Image for Zunaed.
54 reviews123 followers
April 19, 2017
বইটা সিয়ামের, ধার হিসেবে নিয়েছিলাম। এখন অবশ্য ফেরত দেয়ার বিশেষ ইচ্ছে নেই, সিয়ামের চেয়ে আমার কাছেই বইটা বেশি যত্নে থাকবে।

কোনো রিভিউয়ে পাঁচতারা দেখলেই আমরা ভেবে বসি, রেটিংদাতার কাছে বইটাকে পারফেক্ট লেগেছে। এই রেটিং দেখেও যে কেউ ভাবতে পারেন, তাই ক্লিয়ারিফিকেশন দরকার। এই বই মোটেও পারফেক্ট না, সত্যি কথা বলতে আমি শুরুতেই ঠিক করে রেখেছিলাম বইটা থেকে কিছু তারা কেটে রাখবো আর শেষ পর্যন্তও সেই সিদ্ধান্ত পাল্টায়নি। তাহলে পাঁচ তারা কীভাবে এল? বলছি।

বইটা সায়েন্স ফিকশন ঘরানার। লেখকের পরিচিতি যা পড়েছিলাম অল্প বইয়ের পেছনে, তা থেকে এটা ফিকশন হিসেবে কেমন হবে তা ধারণা করতে পারিনি, তবে সায়েন্স অংশটা যে ভালোভাবেই থাকবে, সেটা বুঝতে বেগ পেতে হয়নি। নাসা আর ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়ায় গবেষক হিসেবে কাজ করা লোকটা বিজ্ঞান বেশ ভালোই আনবেন, গল্পের দরকারেই হোক কিংবা নিজের জ্ঞান জাহির করার জন্যই হোক, বই শুরু করার আগে তা বেশ বুঝতে পারছিলাম।

এই গল্পটা সময় নিয়ে, চিতাদের বিশ্বাস সময়ের জ্ঞান মানুষের অজ্ঞানতার নির্দোষ আনন্দকে ধ্বংস করে। (আমি কিন্তু চিতাদের সাথে একমত, পরীক্ষার আগে যখন বুঝতে পারি আর একদিন বাকি কিন্তু সিলেবাস ধরাও হয়নি, অজ্ঞানতার নির্দোষ আনন্দ তখন চলেই যায় :P ) আর তাই চিতাদের সামরিক বাহিনী সমতলের সময় নিরুপনের বিরুদ্ধে, তারা বিশ্বাস করে সময়ের অখন্ডতায়। তাই সময়কে ভাগ করে যে বিজ্ঞান, তাকে তারা অপবিজ্ঞান হিসেবে মনে করে। আর তাই সমতল দখলের উদ্দেশ্যে তাদের নির্মম যুদ্ধ শুরু হয়। সেই যুদ্ধের এপিঠ-ওপিঠ নিয়েই গল্প।

গল্প আমার বেশ ভালো লেগেছে। ফ্ল্যাপে বলা ছিল এই কাহিনীর যুদ্ধ বাংলাদেশের মানুষের কাছে বেশ পরিচিত। তা খানিকটা বটেই। বিশ্বাসের দোহাই দিয়ে বিজ্ঞান চর্চায় বাঁধা দেয়া, বিশ্বাসকে বিজ্ঞানের সাথে নয়, বরং বিজ্ঞানকে বিশ্বাসের সাথে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা আর তা নিয়ে লড়াইয়ের সাথে বাংলাদেশের মানুষ পরিচিত বৈকি। কিংবা একটা যুদ্ধে জেতার পর কেবল বিশ্বাসঘাতকের ক্ষমতায় আসা আর যুদ্ধের সব জয় পরাজয়ে রূপান্তরিত হওয়া কি খুব অচেনা কিছু আমাদের জন্য?

বইটায় ভালো লেগেছে কিছু কথাও। মাঝে মাঝে কিছু কথা বলেছেন লেখক, কিংবা তার চরিত্ররা, যেগুলো ভাবিয়েছে খানিকক্ষণ। এর মাঝে খারাপ লাগার একমাত্র ব্যাপার ছিল বইটার ভাষা। ভাষায় প্রাঞ্জলতা ছিল না, সে কথা বলাই বাহুল্য। প্রাঞ্জলতার অভাব শুরুতে বিরক্ত করছিল প্রচণ্ড। এই জন্যই তারা কাটার কথা ভেবেছিলাম, আর কেটেছিও। কিন্তু গল্পে পাঁচ তারা, প্রিয় কথায় দুই তারা, মৃত্তিকার জন্য এক তারা আর প্রাঞ্জলতার অভাবের জন্য মাইনাস দুই তারা, সব কেটেকুটে ছয় তারা পায় বইটা। দিতে পারলাম না, গুডরিডস একটা বেশি তারা দিতে দেয় না।

একটা ব্যাপার বেশ ভালো লেগেছে। দেশি সায়েন্স ফিকশনগুলোতেও আমরা বিদেশি নাম দেখেই অভ্যস্ত। কিন্তু এখানে মৃত্তিকা, আদ্রিকা, মৈনাক কিংবা ক্রান্তিকের মত নাম দেখে ভালো লেগেছে। বাকি নামগুলোও এমন হলো না কেন?

সব মিলিয়ে ভালো যে লেগেছে সেটা বোঝানোর জন্য আর কিছু মনে হয় বলা লাগবে না। খুব পরিচিত না বইটা, তবে আমার মনে হয় বাংলায় পড়া আমার সেরা সায়েন্স ফিকশনগুলোর একটা। প্রথমা যদি বইটার সম্পাদনা করত ঠিকঠাক, তাহলে হয়ত প্রাঞ্জলতা নিয়ে মাথা ঘামাতে হত না।

হয়তো একাডেমিক প্রেসার আর হতাশা পাল্লা দিয়ে বাড়তেই থাকবে, আফসোস চলতেই থাকবে কেন কেউ নেই, কিংবা কেন এই জীবন আমার, ঐ জীবন নয়। হয়তো মৃত আমি মৃতদেহে আমাকে খুঁজতে থাকবো, কিন্তু আমাকে হতাশ করে মৃতদেহ আরো প্রাণহীন হতে থাকবে, আর সেই মৃতদেহ খেতে আসা পোকামাকড়গুলোই মৃত্যুর নগরীতে জীবনের বার্তা বয়ে আনবে। তবু মাঝে মাঝে মৃতদেহকে ধাক্কা দেয়া দরকার, যাতে করে মৃতদেহ কেঁপে উঠে, মনে হয়, বেঁচে আছি, মরে গেলে কী নাচতে পারতাম? কিংবা মৃতরা কি মৃত্তিকা, আদ্রিকাদের ভালোবাসে? বই পড়াটা কমে গেছে, বাড়ানো দরকার। হাসি আগে, নাকি শান্তি?
Profile Image for Dystopian.
478 reviews261 followers
August 19, 2024
আমরা মাঝে মাঝেই কোনো জিনিস কে অতুলনীয় ট্যাগ দিয়ে দিই। কিন্তু এই ট্যাগের মাধ্যমে তুলনাহীন ব্যাপারটাকে অনেকটা নরমালাইজ করে ফেলেছি।
তবে এই বছর পড়া যদি সত্যিই অতুলনীয় কোনো বই থেকে থাকে সেটা অবশ্যই দিতার ঘড়ি।
Profile Image for Amit Das.
179 reviews122 followers
May 2, 2022
'Time is a storm in which we are all lost.'
~ William Carlos Williams

সংখ্যাগরিষ্ঠ এক দল, বলা ভালো বাহিনী। তারা চায় সময়ের ওপর হস্তক্ষেপ না করতে, সময় পরিমাপক যন্ত্র এবং পরিমাপকারীদের তিলে তিলে গড়ে তোলা সভ্যতাকে ধ্বংস করে দিতে।
সংখ্যায় এবং লোকবলে লঘু আরেক দল, তারা লড়াই করে চলে তাদের পূর্বপুরুষের শেষ চিহ্নটুকুকে জীবন দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে।

সত্য-মিথ্যা, ভালো-মন্দ, সংখ্যাগুরু-সংখ্যালঘু, ন্যায়ের পথগামী-অন্যায়কারী - এই দুই দলের দ্বন্দ্ব এবং লড়াই চলে এসেছে সভ্যতার সূচনালগ্ন থেকেই। দীপেন ভট্টাচার্যের দিতার ঘড়ি'র গমনপথ একদিকে যেমন এরকমই দুটো দলের লড়াই নিয়ে বিস্তার লাভ করে, কাহিনীর মোড়ে মোড়ে সাজিয়ে রাখা বিস্ময় আর ঘূর্ণিত-মস্তকের আবেশের পসরায় বুঁদ হয়ে বইয়ের প্রথম পাতা থেকে শেষ পাতা পর্যন্ত পাঠকও এগিয়ে চলে একই গতিতে।

দিতার ঘড়ি

'সময় মুছিয়া ফেলে সব এসে,
সময়ের হাত
সৌন্দর্যেরে করে না আঘাত
মানুষের মনে
যে সৌন্দর্য জন্ম লয়-
শুকনো পাতার মতো ঝরে নাকো বনে
ঝরে নাকো বনে।'


সময় নিয়ে জীবনানন্দ দাশের এই কবিতার কথা মনে আসে উপন্যাসের চুম্বক অংশ পড়ার সময়, মনে পড়ছে এই পাঠপ্রতিক্রিয়া লিখতে গিয়েও।

দুশো চব্বিশ পৃষ্ঠার বৃহৎ এই উপন্যাসের পাতা ওল্টানোর সময় নিস্তার মোল্লার মহাভারত এর দীপেন ভট্টাচার্য যেন ফিরে ফিরে আসেন বইয়ের প্রতিটি অলিগলিতে, গল্পের রাস্তার মোড়ে মোড়ে, কাহিনীর ডালপালা ও শাখা-প্রশাখায়।

'আমি থামি ঘাসের মর্মরধ্বনি শুনতে, বন্য সবুজ ও হলুদ ঘাসের গুচ্ছ আমার পায়ের নিচে। সেই ঘাসকে নিচের মাটি উঁচু-নিচু হয়ে বহন করে নিয়ে যায় আমার দৃষ্টির বাইরে।
আমি নিশ্বাসে গন্ধ নিই, রঙের গন্ধ, সবুজের সঙ্গে হলুদের, যে রঙগুলো, আমি ভেবেছিলাম বাতাসে বাস করে....।'


দীপেনবাবুর লেখার প্রশংসা বার বার করলেও একবারের জন্যও অত্যুক্তি বলে মনে হয় না গল্পের চমৎকার বুননের পাশাপাশি ক্ষুরধার ও অসাধারণ শক্তিমত্তাসম্পন্ন লেখার জন্য।
শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী হিসেবেই নয়, বিশ্বমানের গল্প/উপন্যাস হিসেবে তাঁর লেখার উৎকর্ষতা সহজাতভাবেই উপলব্ধি করা যায় পাঠমাত্রই।

অনেক কিছু লিখব বলে শুরু করেও খুব বেশি কিছু লেখা আর হয়ে ওঠে না প্রতিবারই৷ দিতার ঘড়ি পড়ার অভিজ্ঞতা আমার জন্য কেবল অভূতপূর্বই নয়, দীর্ঘদিন মনে রাখার মতোও- আপাতত এটুকু বলেই শেষ করি।


(০১.০৫.২২)
Profile Image for Rehan Farhad.
268 reviews15 followers
October 13, 2024
বহু বছর আগে উত্তরের বিশাল সমতল ভূমিতে গড়ে উঠেছিল এক সভ্যতা। সেই সভ্যতায় যে দার্শনিক বিজ্ঞানীগোষ্ঠী বাস করতেন তাদেরকে বলা হত যান্ত্রিক। এক সময় তারা সমতলে নিজেদের ঐতিহ্যের বিজ্ঞান ও দর্শন চর্চা করে সমৃদ্ধির অনন্য নিদর্শনে পরিণত করেন। কালের বিবর্তনে, ইতিহাসের সংঘাতে ধীরে ধীরে তারা সমতল থেকে হারিয়ে যেতে থাকেন। তবে যান্ত্রিকরা এত দূরদর্শী ছিলেন যে নিজেদের অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার আগেও তারা সমতলে ভবিষ্যতের কথা ভেবে রেখেছিলেন। তাদের হারানো ইতিহাস খুব বেশি জানা না গেলেও পরবর্তী প্রজন্মেকে রক্ষার জন্য বিকল্প এক পথের সন্ধান দিয়ে গিয়েছিলেন। দিতার ঘড়ি…….

দিতার ঘড়ি এক কথায় আমার পড়া এ বছরের সেরা মৌলিক সাই-ফাই। আমি প্রথম যখন আতাউর রহমান সিহাবের 'প্রত্যাবর্তন' পড়েছিলাম, মনে হয়েছিল মৌলিকে এই বইটাকে সহজে কেউ টেক্কা দিতে পারবে না। কিন্তু দিতার ঘড়ি অন্য যেকোনো সাই-ফাই থেকে দুটো বিশেষ কারণে পাঠকের মনে সহজে জায়গা করে নিবে। প্রথমত, দীপেন ভট্টাচার্যের অসাধারণ লেখনশৈলীর জাদুতে আপনি মজে যাবেন। উপন্যাসটা উনি কোনভাবেই কঠিন করতে চাননি, খুব জটিল সায়েন্টিফিক টার্ম নাই, লেখায় কৃত্রিম ভাবগম্ভীরতা আনারও চেষ্টা করেননি। বেশির ভাগ সাই-ফাই বইয়ে সায়েন্স বেশি কপচাতে গিয়ে কাহিনির গভীরতা ও লেখার সাবলীলতা কমে অনেক কাটখোট্টা হয়ে যায় । এই সব কারণেই সাই-ফাইয়ের লেখনশৈলী পাঠকের মনে অদ্ভুত রকমের ভালো লাগার অনুভূতি দিবে এমনটা আশা করা বৃথা। দিতার ঘড়ির ব্যতিক্রমী বিষয় এখানেই। বইটা আপনার শুধু ভালো লাগা কাজ করাবে না, একটা ঘোরের ভিতর নিয়ে যাবে। এটাই আমার বলা দ্বিতীয় কারণ।

এবার বইয়ের মূল কাহিনির দিকে আসা যাক। বইটি শুরু হয়েছে সমতল ভূমিতে কোন এক সময়ে চিতা সামরিক বাহিনীর আক্রমণ এবং তাদের অত্যাচারে যান্ত্রিক তথা সমতলের বুদ্ধিজীবী গোষ্ঠীকে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার ঘটনার মধ্য দিয়ে। এখানে রূপক অর্থে ঘড়ি নির্মাণকে দেখানো হয়েছে দর্শন ও বিজ্ঞান তথা মুক্তবুদ্ধি চর্চার বিরুদ্ধে বহিঃশক্তির অভিযান। বইয়ের প্রায় সব ঘটনা আপনার চোখের সামনে ভাসবে মাত্র কয়েকটি চরিত্রের ভিতর দিয়ে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য তিনজন হলো অসিতোপল নামের একজন ঘড়ি নির্মাতা, তার মেয়ে দিতা এবং সমতলের হয়ে যুদ্ধ করা পার্টিজান বাহিনীর যোদ্ধা ত। উপন্যাসে এই চরিত্রগুলোকে ভিন্ন সময়, ভিন্ন দেশ-কালে আপনারা দেখতে পাবেন। একই উপন্যাসের ভিতরে চরিত্রগুলো এরকম ভিন্ন দেশ-কালে আলাদাভাবে চিত্রায়িত করা, তাদের ভিতরে সম্পর্কের পার্থক্য কাহিনিতে দিয়েছে দারুণ বৈচিত্র্যময়তা। একবার নিজেকে আয়নার সামনে দাঁড় করিয়ে ভাবুন তো; বর্তমানে যে জীবনটা পার করছেন আপনার সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে যদি আপনার কাছের মানুষ থেকে আশে পাশের সব কিছু বদলে যায় এক পলকেই, আপনি কি মানতে পারবেন? বইয়ে দর্শন ও বিজ্ঞানের অভূতপূর্ব মিশ্রণে কোয়ান্টাম মেকানিক্সের টার্ম আছে, পরবর্তীতে প্যারালাল ইউনিভার্সের বিষয় আছে। তবে এসব বিষয় না বুঝলেও বইটা পড়তে কোনো সমস্যা হবে না। বইটা পড়ার সময় মনে হচ্ছিলো আমি নিজেই আরেক দুনিয়ায় চলে গিয়েছি। লেখক এত দারুণভাবে লেয়ার বাই লেয়ার কাহিনি সাজিয়েছেন, সত্যি প্রশংসনীয়। বাংলা সাহিত্যের কত শত বই পড়ে আছে হয়তো আমরাই জানি না, দিতার ঘড়ি তার উজ্জ্বল উদাহরণ। সাই-ফাই পড়ে বিষন্ন হবার মত ঘটনা আগে কখনো হয়নি আমার।

বইয়ের এক জায়গায় লেখক লিখেছেন বাংলাদেশী পাঠকদের জন্য তিনি বিশেষ কিছু রেখে গেছেন। এই কথাটা দিয়ে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন দিতার ঘড়িতে বর্ণিত যুদ্ধ আমাদের কাছে অতি পরিচিত ঘটনা। হয়তো আমাদের বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড, হয়তো ৭১ পরবর্তী উত্তাল সময়ের কথা অথবা বর্তমানে আমাদের বাকস্বাধীনতাহীন পরিস্থিতিকে রূপক অর্থে প্রকাশ করতেই লেখক এই কাহিনীর অবতারণা করেছেন। লেখক রহস্য রেখে গেছেন সে রহস্য আমিও ভেদ করতে পারিনি পুরোপুরি,সেজন্যই মুগ্ধতা আরো বেড়েছে। কাহিনির এক পর্যায়ে আপনি জানতে পারবেন__জীবনের কোন মুহূর্তটা সঠিক আর কোনটা নয়, তা সেই মুহূর্তে বোঝা কখনোই সম্ভব না। শুধু ভবিষ্যতে দাঁড়িয়ে আপনার অতীতের খতিয়ান দেখা যেতে পারে, কিন্তু সেটাও সব সময় সঠিক হবে না। কারণ ভবিষ্যতের আপনি বর্তমানের আপনি নন, বর্তমানের আপনার মৃত্যু ঘটছে প্রতিটি মুহূর্তে। এই বইটা পড়ার পর আমারো একই রকম অনুভূতি হয়েছে। আমার নিজের কাছেই আমাকে প্রশ্ন করতে হয়েছে। অতীতে কি করেছি আমি? বর্তমানে কি করছি? আর ভবিষ্যতে আদৌ কিছু করতে পারবো? আপনার কি কখনো এরকম অনুভূতি হয়েছে? এরকম অদ্ভুত রকমের উপলব্ধি নেয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই দিতার ঘড়ি পড়তে হবে।

🖍️14/09/23
Profile Image for Riju Ganguly.
Author 39 books1,897 followers
May 11, 2024
সে এক চেনা দেশ। একসময় যান্ত্রিকেরা সেখানে সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিকাশ ঘটিয়েছিল; আজ তারা লুপ্ত। চিতাদের বাহিনী সে-দেশের দখল নিয়েছে। সমতলের বাসিন্দাদের মধ্যে যারা চিতাদের মতো করেই বিশ্বাস করে সে সময়ের পরিমাপ করা অন্যায় ও অস্বাভাবিক, তারা দ্বিতীয় বাহিনী গড়ে চিতাদের সঙ্গে সহযোগিতা করছে। তাদের সাহায্যে চিতারা ঘড়ি ব্যবহারের অপরাধে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করেছে। হত্যা করা হয়েছে এমন প্রায় প্রতিটি মানুষকে, যাদের কাছ থেকে মানুষ জানতে পারত সময়ের তত্ত্ব। তবু হার মানেনি সেই বিদ্রোহীরা, যারা সময়ের চলনের পরিমাপ করে। তাদের সংঘাতের পটভূমিতে কাহিনির এক চরিত্র— যাকে আমরা 'ত' নামে চিনি— এক চিকিৎসকের শরণাপন্ন হল ভারি অদ্ভুত সমস্যা নিয়ে। চিকিৎসক তাকে পাঠালেন অসিতোপল নামের এক ঘড়ি-নির্মাতার কাছে। সেখানেই 'ত' পরিচিত হল অসিতোপলের মেয়ে দিতার সঙ্গে। সে জানতে পারল, একটা বিশেষ ঘড়ি তৈরি করেছেন অসিতোপল, যা আছে দিতার কাছেই।
তাদের সবাইকে নিয়ে চলতে লাগল এক অদ্ভুত যুদ্ধ। দমন ও নির্যাতনের কাছে হার না মেনে বিজ্ঞানের উপর আস্থা রেখে লড়ে যেতে লাগল মানুষ। আর সবশেষে...
কে জিতল? কে হারল? বিশ্বাসঘাতকেরাই কি শেষ অবধি ক্ষমতা পেল?
আজ্ঞে হ্যাঁ, প্রতিটি বাঙালি বুঝবেন, এ মুক্তিযুদ্ধেরই গল্প। কিন্তু দর্শন, প্রেম, বিশ্বাস আর কোয়ান্টাম মেকানিক্স এই কাহিনিকে যে ঠিক কোন স্তরে নিয়ে গেছে তা আমি কিছুতেই লিখে বোঝাতে পারব না। বরং বইটা পড়ার দফায়-দফায় আমার অভিমত কালানুক্রমিক ভঙ্গিতে তুলে দিলে ব্যাপারটা হয়তো পরিষ্কার হবে।
প্রথম ধাপ: ধুর-ধুর! এটা বাংলা হয়েছে? এই নাকি বাংলায় বাক্যগঠন? ভদ্রলোক নির্ঘাত সবটা ইংরেজিতে লিখে গুগল ট্র্যান্সলেটে ফেলে বাংলা ব��ে চালাচ্ছেন।
দ্বিতীয় ধাপ: লেখাটার মধ্যে একটা অদ্ভুত কবিত্বের... না, একটা লালিত্যের ভাব আছে, তাই না? ইভান ইয়েফ্রেমভের লেখায় প্রকৃতি আর মানুষের বর্ণনা যেমন কেঠো গল্পকে ছাপিয়ে একটা অন্য স্তরে পৌঁছোয়, এখানেও তেমনই পাচ্ছি।
তৃতীয় ধাপ: গল্পটা সিরিয়াসলি জমে গেছে। আর... অদ্ভুত ব্যাপার, এখন তো পড়তে একটুও সমস্যা হচ্ছে না!
চতুর্থ ধাপ: রাত একটা বাজতে চলল। না পাড়ছি ছাড়তে, না পারছি বুঝতে যে গল্পটা কোনদিকে গড়াচ্ছে। অ দীপেন স্যার, গল্পটার শেষে আমাদের (হ্যাঁ, এতক্ষণে আমিও মুক্তিযোদ্ধা হয়েই পড়েছি) মারবেন, না ছাড়বেন?
পঞ্চম ধাপ: হাইজেনবার্গ আর শ্রডিংগারের কসম! এ আমি কী পড়লাম? এ গল্প কি শেষ হল আদৌ, নাকি মোবিয়াস স্ট্রিপের মতো এ আরও একরাশ সম্ভাবনার জন্ম দিয়ে আমাদের আবার আগের জায়গাতেই ফিরিয়ে আনল? আমরা কি তাহলে জ্ঞানহীন দর্শক হয়ে ঘটনাকে নিজের মতো প্রবাহিতই হতে দেব চিরকাল, নাকি বিশেষ কিছু মুহূর্তে আমাদের হস্তক্ষেপেই পালটে যাবে সময়ের ধারা?
বুঝতেই পারছেন, বই শেষ করে আমি স্রেফ হতবাক হয়ে গেছি। মানে এভাবেও যে ইতিহাস আর বিজ্ঞান, দর্শন আর বাস্তব মেশানো যায়, সেটাই ঠিক বিশ্বাস হচ্ছে না। এ-রকম বই... বাপরে বাপ!

অতি সামান্য এক-আধটি মুদ্রণপ্রমাদ ছাড়া আর কিছু আমার চোখে ধরা দেয়নি। তবে এইরকম বইয়ে কিছু অলংকরণ থাকা অত্যাবশ্যক। পরবর্তী সংস্করণে যদি প্রকাশক উদ্যোগী হয়ে সেগুলোর ব্যবস্থা করেন, তবে দুরন্ত হয়।

শেষ কথা~ আমরা কল্পবিজ্ঞান পড়ি কিছু নতুন সম্ভাবনা, কিছু অন্যরকম আলো আর অন্ধকারের সন্ধান পাওয়ার আশায়। এ বই ঠিক সেই কাজটাই করে। সবচেয়ে বড়ো কথা, এ বই আরও একবার আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে জীবন মানে আসলে অসংখ্য সম্ভাবনার সমষ্টি। নিজেদের নিশ্চিত অবস্থানের অহংকারে ডগমগ আমাদের আরও একবার স্বচ্ছ চোখে আশপাশ দেখতে শেখায় এ-বই। এমন একটি জিনিসের সান্নিধ্যে আনার জন্য লেখকের উদ্দেশে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম জানালাম।
October 8, 2024
ধরেন আপনি একটা রাস্তা দিয়ে হাঁটছেন, সামনে সেটা দুইভাগ হয়ে দুইদিকে গেলো। আপনি জানেন না কোনদিকে কি অপেক্ষা করছে। কোনটি বেছে নিবেন? হয় ডানে, না হয় বামে, অথবা ফিরে আসবেন - তাই তো? এখন যদি বলি যে আপনার এই এক সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করে তিনটা মাল্টিভার্স তৈরি হবে, যেখানে একটায় আপনি হারাবেন স্মৃতি, আরেকটায় স্বাধীনতা, আরেকটায় সময় - আপনি কোন সিদ্ধান্ত নিবেন?

একটা শাসকগোষ্ঠী চাইছে, সাধারণ জনতা ঘড়ি ব্যবহার করবে না, সময় নিয়ে কোনো গবেষণা হবে না, সময় নিয়ে কোনো ধারণা থাকবে না মানুষের, হত্যা করছে ঘড়ি নির্মাতাদের, পৈশাচিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন সময় নিয়ে চিন্তা করেন যারা, সেইসব দার্শনিকদের। ঠিক এরকম এক পরাবাস্তব সময়ের পৃথিবীর গল্প নিয়ে "দিতার ঘড়ি"।

প্রথমত বইয়ের চরিত্রগুলোর নাম অভিনব: অসিতোপল, শেফালিকা, অদ্রিকা, মৈনাক, প্রান্তিক, কর্নিক, আরাত্রিক, মৃত্তিকা, ত, ত.২, ত.৩। একটি গ্রামের নাম দিনান্তিক, নদীর নাম সিমসাং।
এরপর আসি কাহিনী বর্ণনাতে। বিভূতিভূষণের লেখায় আমরা যেমন পারিপার্শ্বিক প্রকৃতি সম্পর্কে একটা পূর্ণ চিত্র মাথায় রেখে গল্পে এগোই, এখানেও (প্রকৃতিনির্ভর না হলেও), খুব সুন্দর করে লেখক চারপাশের আবহ ফুটিয়ে তুলেছেন। তাই লেখায় ডুবে যেতে পাঠকের সময় লাগবে না একদম।

কল্পবিজ্ঞানের বই। বিজ্ঞানের যেসব তত্ত্ব এনেছেন, উচ্চ মাধ্যমিকে বিজ্ঞানের ছাত্র হলে মোটামুটি সবই বোধগম্য হবার কথা। উপভোগ্য হবে আর কি।
কিন্তু উনার সবথেকে সেরা কাজটা হচ্ছে, এই কল্পনা ও বিজ্ঞানের এই মিশেলকে সুন্দর সাবলীল গদ্যে ফুটিয়ে তুলেছেন। তাই এই বইটা বেশি ভালো লেগেছে।


সময়, স্মৃতি, আর দর্শন নিয়ে চিন্তা করার নতুন দ্বার উন্মোচনের আমন্ত্রণ রইল।


(এটার পরপরই পড়বেন - নিওলিথ স্বপ্ন)
Profile Image for Aishu Rehman.
1,138 reviews1,147 followers
March 20, 2024
'দিতার ঘড়ি'। সংগ্রহে ছিল প্রায় অর্ধযুগ আগে। অথচ পড়া হয়নি। বোধ করি শেষ ক বছর সবচেয়ে বেশি অবহেলা করেছি এই বইটাকে। কেন? কারণ এই বইটার ভাষা। মাঝে মধ্যে সবকিছু ব্রেন্টের উপর দিয়ে চলে যাচ্ছিলো 😜। কিছু প্যারা দুবার তিনবারও পড়তে হয়েছে। প্রাঞ্জলতার অভাব ছিল প্রচন্ড রকম। ঠিক এ কারণেই কয়েক পৃষ্ঠা পড়েই বইটা রেখে দিতাম। কিন্তু পাঠক হিসেবে এখন বেশ জাতে এসেছি হয়তো। ধৈর্য নিয়ে তাই এবার শুরু করেছিলাম, পণ ছিল শেষ করবই।

শেষ পর্যন্ত এক অদ্ভুত ভালো লাগা তৈরি হয়েছে বইটির উপর। বিজ্ঞান আর দর্শনের অপূর্ব মিশেল পুরো বইটিকে এক অন্যরকম মাত্রা এনে দিয়েছে। লেখক প্রত্যেকটা চরিত্র অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তৈরি করেছেন। প্রথম অর্ধেক বইটার সাথে যুদ্ধ করলেও পরবর্তী অর্ধেক ছিল রোলারকোস্টারের মতো। বই রেখে এক চুল পরিমাণ নড়তে পারিনি। ভাষাটাতে যে প্রাঞ্জলতার অভাব ছিল সেটাও আমার মস্তিষ্ক টের পায়নি। টুইস্টের অভাব ছিল না পুরো বইতে। শেষ পর্যন্ত হতভম্ব হয়ে গেছিলাম। আমি ধারণাই করতে পারি নি লেখক গল্পটাকে মাল্টিভার্সের মতো কোন বিষয়ের মধ্যে এনে দাড় করাবেন।

বইটি আমার ভীষণ রকম পছন্দ হয়ছে। তাইলে এক স্টার কম কেন? কারণ এটা একবার পড়ে আত্মস্থ করার মতো বই না। আমাকে আবার পড়তে হবে। অনেক খুঁটিনাটি জিনিস আমি মিস করে গেছি। যেমন একই মাল্টিভার্সে দিতা এবং দিতার অন্য সংস্করণ 'শেফালিকা' কিভাবে আসলো? তুরার পাহাড়ে ত শেফালিকাকে কিভাবে এবং কেন দেখল? শেফালিকার নাম শুনে দিতার মুখে এক ধরনের ছায়া পড়ে পরমুহুর্তে তা মিলিয়ে যায়। এর রহস্যটা কি? তাছাড়া পুরো গল্পটা পুনরায় পড়ে পরিপূর্ণ তৃপ্তি নিয়ে পাঁচটা তারা দেওয়াটাই আমার ইচ্ছা ।

গুডরিডসে ঢুকে অনেক ভালো ভালো রিভিউ দেখলাম। যদিও আমি বই পড়ে তারপর রিভিউ দেখি। নাহলে নিজের আবিষ্কারের মহাত্ম থাকে না। সত্যি বলছি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি হিসেবে এই বইটি অনন্য। ভাষাটাকে কাটিয়ে উঠতে পারলে দুর্দান্ত কিছু পাঠক জীবনে সংযুক্ত হবে।
Profile Image for Shuk Pakhi.
531 reviews350 followers
April 9, 2026
শুরুটা খটোমটো হলেও একবার গল্পে ঢুকে গেলে আর তেমন খটোমটো লাগে না।
শেষটা দারুন ছিল।
Profile Image for Akhi Asma.
249 reviews480 followers
April 15, 2026
This is, at its core, a story about time—and the consequences of trying to understand it too precisely. The Chitas believe that once you start measuring time, you lose a kind of natural, unthinking joy. To them, time is something whole and indivisible. Any attempt to break it down into units isn’t real science but a flawed way of looking at reality. Because of this belief, they actively oppose the idea of time measurement, and that resistance eventually turns into a violent military campaign against the plains. The story follows both sides of that war.

I liked the book quite a bit—enough to say it’s one of the best Bangladeshi science fiction works I’ve read. The ending especially was handled really well, and satisfying in a way that’s going to stay with me for a long time.

The blurb mentioned that the conflict would feel familiar to readers from Bangladesh, and that’s quite true. The tension between belief and science—where people try to force science to align with their beliefs instead of adjusting their beliefs to evidence is something we’ve seen around us. That aspect felt grounded and relevant. There’s also the idea that even after winning a war, things can go wrong, power can end up in the hands of the wrong people, and what should feel like victory starts to feel like a loss. That didn’t feel unfamiliar either.

There were also certain lines in the book that stayed with me. At times, the author or the characters—said things that made me pause for a moment. I liked that.

One thing I really appreciated: the names. In a lot of deshi science fiction, there’s still a tendency to rely on foreign names and settings. But here, names like Mrittika, Adrika, Mainak, Aratrik, and Krantik felt natural and fitting. I loved that detail.

Dipen Bhattyacharya is easily becoming one of my favourite Bangladeshi writers.
Profile Image for Nabila Tabassum Chowdhury.
388 reviews288 followers
January 10, 2026
বইটির মূল থিম কোয়ান্টাম টানেলিং এবং ব্রাঞ্চড টাইমলাইন। এ বিষয়ে আমার পড়া প্রথম বাংলা সায়েন্স ফিকশন এটি। আরেকটি থিম হচ্ছে প্রগতির সাথে প্রতিক্রিয়ার চক্রাকার লড়াই। আমাদের দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে যা অনেকটাই প্রাসঙ্গিক। তৃতীয় থিম নিয়ে রবিবাবু ১৯৩৬ এই লিখে গেছেন-

"আমারই চেতনার রঙে পান্না হল সবুজ, চুনি উঠল রাঙা হয়ে।
আমি চোখ মেললুম আকাশে, জ্বলে উঠল আলো, পুবে পশ্চিমে।
গোলাপের দিকে চেয়ে বললুম "সুন্দর', সুন্দর হল সে।
তুমি বলবে, এ যে তত্ত্বকথা, এ কবির বাণী নয়।
আমি বলব, এ সত্য, তাই এ কাব্য।"


সুবিশাল মহাবিশ্বে আমরা যেমন বাঁচি, আমাদের চেতনায় বাঁচে মহাবিশ্ব।

এই বইয়ের থিম, গঠন, বিষয়বস্তু, চরিত্র সবই প্রশংসনীয়। ���বে আফসোস, ভাষা ঠিক কটমটে অনুবাদ বইয়ের ভাষার মতো দাঁতে আটকে যায়। মৌলিক এত ভালো বাংলা সায়েন্স ফিকশনের ভাষা এমন হতে হলো কেন!
Profile Image for Ruhshan Ahmed Ahmed.
Author 1 book21 followers
July 27, 2015
কোয়ান্টাম মেকানিক্সটা বুঝলে বইটা আরো উপভোগ্য হতো। তবে যা পেয়েছি তাও কম না। চমৎকার সাজানো প্লট, মাইন্ড ব্লোইং একটা ফিনিশিং।

Profile Image for SH Sanowar.
121 reviews29 followers
September 18, 2023
অসাধারণ, চমৎকার, অবশ্যপাঠ্য - এরকম হরেকরকম বিশেষণে বিশেষায়িত হবার মতো বই।
Profile Image for Peal R.  Partha.
216 reviews13 followers
October 25, 2023
‘...অতীত অসত্য নয়, কিন্তু অতীত বাস্তবতার একটা স্মৃতিমাত্র, অতীত কোথাও বাস করে না। অতীতকে পরিতাপের বিষয় করলে বর্তমানের সত্যতাকে অস্বীকার করা হয়।’

হুট করে কোনো একটি বইয়ের উক্তি লিখে দিলে সেটা সহজে অনুধাবন করা যায় না। এর গভীরে প্রবেশ করতে চাইলে উক্ত বইটি পড়তে হয়। একজন লেখক কেন আর কোন পরিস্থিতির কারণে সেই উক্তি লিখেছেন তা জানার আগ্রহ থাকলেই তবে আকর্ষণ বৃদ্ধি পায়। এবং একজন উৎসাহী ও সতর্ক পাঠকের ঠিক এই কাজটিই করা উচিত। যখন কোনো পাঠক—একজন লেখকের মনস্তত্ত্বের পরিষ্কার আসনটিতে নিজেকে বসাতে কর্মক্ষম—তবেই সেই লেখকের দর্শন, ভাবনা আর জ্ঞানের সাথে সন্ধি করতে সক্ষম হয়। নয়তো অতীতের করা ভুলের দায়ভার স্মরণ করে রাস্তা হারিয়ে অথবা আসন্ন ভবিষ্যতের ভুলটা বর্তমানে করে নেতিবাচকতার নাগপাশে বন্দি বানিয়ে নিতে পারে নিজেকে।

আলোচনা কঠিন মনে হতে পারে, তবে একটু ধৈর্য ধরে পড়ুন। সত্য বলতে বইটি এত দারুণ, যার দরুন আমাকে এমন উদ্ভট প্রতিক্রিয়া জানাতে হচ্ছে। তবে গভীরে ভাবতে এমনকিছুর আবশ্যকতা রয়েছে।

অতীত [ত.২]─সময় [ত.]─ভবিষ্যৎ [ত.৩]─সময়কে এখানে বর্তমান হিসাবে বিবেচনা করুন। কারণ হলো, ‘দিতার ঘড়ি’ ‍উপন্যাসের শুরুটা হয়েছে বর্তমান সময়কে ঘিরে, কিন্তু আদতে সেটা কোন সময়ের বর্তমান তা আপনাকে বুঝতে হলে যেতে হবে বইয়ের শেষ অবধি। আর ত.? —ওটা উপন্যাসেরই এক চরিত্রের নাম। অর্থাৎ এক ত.-কে আপনি সময়ের তিনটি স্থানে দেখতে সক্ষম হবেন! কিন্তু কীভাবে?—এই প্রশ্নটা হয়তো এখন আপনার মনের গহীন কোনো কোণে ঘুরপাক খেয়ে চলেছে। সেটাকে এখনই চাপা দেওয়ার অথবা বেঁধে রাখার প্রয়োজন নেই। প্রশ্নের সংখ্যা যত বৃদ্ধি পাবে—ততই আপনার চিন্তা করার ক্ষমতা জ্যামিতিক হারে বাড়বে। এতে আপনি বইটি নিয়ে উৎসাহিত হবেন আর আমারও আপনাকে উৎসাহ দিতে সহজ হবে।

মূল প্রসঙ্গে আসা যাক, সময় নিয়ে যে আলাপ করছিলাম। ওই ত. চরিত্রকে নিয়ে। সেই ত.-য়ের সাথে সময়কে কেন বেঁধে দিলাম? সত্য বলতে পুরো উপন্যাসটা সময়ের মারপ্যাঁচে অবরুদ্ধ। আপনি এমন কিছু বহুবার পড়েছেন অথবা দেখেও থাকবেন। তাই পাঠক হিসেবে একটা কর্তব্য বা দায়িত্ব বোধ; যা-ই কিছু বলুন না কেন, আপনার কিছু না কিছু করার তো থাকবেই। রহস্য সমাধানের মতো হয় এই কঠিন সমস্যা থেকে ত. চরিত্রকে উদ্ধার করুন নতুবা তার দিকে তাকিয়ে থাকা সমতল ভূমির মানুষদের একটি বসবাসযোগ্য বিশ্বে স্থানান্তরিত হওয়ার উপায় বলুন। কি পারবেন না? আসলে, এসব পাঠক-আলোচনার একটি অংশ হয়ে থাকবে। বাস্তবে কিংবা বইয়ের পাতায় যার কোনো প্রভাব হয়তো পড়বে না। কিন্তু প্রভাবহীন কাজটি করতে হলেও ত.-কে গুটি হিসেবে ব্যবহার করতে হবে। কারণ অতীত পরিবর্তন তার হাতে না থাকলেও ভবিষ্যৎ গঠনে ত. ব্যতীত—সবজান্তা কেউ সেই ভূমিকা পালন করতে কর্মক্ষম হবে না। অন্তত যতক্ষণ পর্যন্ত ’দিতার ঘড়ি’ উপন্যাস চলমান থাকবে সময়ের ঘূর্ণিত বলয়ের অংশ হয়ে।

এই ফাঁকে উপন্যাসের প্রেক্ষাপটে একটু ঢুঁ মেরে দেখি যে কী এমন জটিলতা তৈরি হয়েছে সময় আর ত.-কে ঘিরে যার দরুন এত সমস্যার সৃষ্টি। বই পড়ে যতটুকু বুঝেছি, লেখক উপন্যাসে যে সময় বা বিশ্বের সাথে পাঠককে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন তা আমাদের চেনাজানা কোনো স্থান নয়। লেখকের ভাষ্যমতে, অনেক উত্তরের বিশাল পাহাড় ভেঙে সমতল ভূমি গড়ে উঠেছিল কোটি কোটি বছর ধরে। বহু শত বছর আগে সেই ভূমিতে বাস করত এক দার্শনিক গোষ্ঠী, যাদের আধুনিক সংজ্ঞায় বিজ্ঞানীও ডাকা হতো। শুধু এটুকুই তাদের পরিচয় ছিল না। লোকে তাদের যান্ত্রিক হিসেবে বেশি চিনত। দয়া করে তাদের রোবট টাইপ কিছু ভেবে বসবেন না যেন। তারা আমাদের মতো রক্ত-মাংসে গড়া খাঁটি মানুষ। যান্ত্রিকরা সমতল ভূমিতে যে সভ্যতার উত্থাপন করেছিল তা টিকে ছিল কয়েক ’শ বছর ধরে। কিন্তু সবকিছুরেই উত্থান যেমন হয়—তেমনই পতনও। যান্ত্রিকরা ধীরে ধীরে কালচক্রের ফাঁদে পড়ে, ইতিহাসের নানান সংঘাতে জড়িয়ে সমতল ভূমি থেকে বিলোপ হয়ে গেল। আজকাল যেমন আমাদের নিকট মিশরীয়, গ্রিক, সিন্ধু, মায়া, অ্যাজটেক, ইনকা কেবলই এক সভ্যতা হিসেবে পরিচিত, তেমনই সমতল ভূমির মানুষদের কাছে যান্ত্রিক গোষ্ঠী একটা সময় কিংবদন্তিতে পরিণত হলো। তাদের তৈরি সভ্যতা ঠাঁই পেল ইতিহাসের পাতায়। একইসাথে বিলুপ্ত হলো অমূল্য জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা আর দর্শনের আলামত। কিন্তু, কিংবদন্তি কখনও হারিয়ে যায় না, তারা ফিরে আসার কোনো না কোনো পথ তৈরি অবশ্যই করে রাখে। যেমনটা করে রেখেছিল যান্ত্রিকরা। তারা ভেবেছিল সমতলের ভবিষ্যতের কথা। আর এই দূরদর্শিতাই সমতলকে এক গভীর অজ্ঞানতা থেকে বাঁচানোর চাবিকাঠি হিসেবে বর্তমান বা ভবিষ্যতে রাস্তা দেখিয়েছিল একটি ঘড়ি রূপে। যা দিতার ঘড়ি হিসেবে পরিচিত। কিন্তু প্রশ্ন হলো দিতা কে আর একটি ঘড়ি কী করে, কেনই-বা সমতল ভূমির ভবিষ্যৎকে পরিবর্তন করবে অথবা আদৌ করতে সক্ষম হবে কি না? এর উত্তর খুঁজতে চাইলে আপনাকেও সমতল ভূমিতে পদার্পণ করতে হবে।

প্রথমেই এখানে এসে পরিচিত হতে হবে অসিতোপলের সাথে। যে একজন ঘড়িনির্মাতা। অথবা যান্ত্রিকও হতে পারে। তবে তার পূর্বে আপনার দেখা হবে একজন নিউরো-চিকিৎসকের সাথে যার নাম আদ্রিকা। সেই আপনাকে অসিতোপলের ঠিকানা দিবে। আমার কী মনে হয়েছে জানেন? বলছি─নেটফ্লিক্সের সারা জাগানো ওয়েব সিরিজ ‘ডার্ক’ তো দেখেছেন নিশ্চয়? আপনি যদি একজন পোড় খাওয়া কল্পবিজ্ঞান বা সাই-ফাইয়ের ভক্ত হয়ে থাকেন তবে এই জিনিস মিস দেওয়া অপরাধের সামিল। আর যদি সময় নিয়ে অবসেশন থেকে থাকে, তবে তো মহাপাপ করে বসেছেন। নোলানের ইন্টারস্টেলার, ইনসেপশন কিংবা ট্রায়াঙ্গলের মতো সিনেমা দেখে যদি আপনি অবাক হোন তবে এই বই আপনাকে সমানভাবে চমকিত করতে সক্ষম। ডার্ক সিরিজ টেনে আনার পিছনে একটা গভীর আঁতাঁত জড়িয়ে আছে উপন্যাসের অভ্যন্তরে। এখানের চরিত্রগুলোকে কেন যেন ওই ধাঁচে গড়া। ইয়োনাস, মার্থা, ক্লডিয়া টিডাম্যান এবং─থাক আর বলছি না। যাহোক, আদ্রিকা এই উপন্যাসে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি চরিত্র যেমনটা ছিল ডার্ক সিরিজে ক্লডিয়া। আর অসিতোপল হলো সেই চরিত্র, যার সমতল ভূমি রক্ষার মন্ত্র জানা ছিল। সেই মন্ত্র ধারা একটি ঘড়ি নির্মাণ করেছিল সে। আর সেটা রাখতে দিয়েছিল তারই মেয়ে দিতাকে। হ্যাঁ, যার নামকরণে এই ‍উপন্যাস রচিত। আক্ষরিক অর্থে, এই উপন্যাস শুধুমাত্র ত. চরিত্রের ওপর নির্ভর থাকেনি। শক্তিশালী অনেক চরিত্রের আবির্ভাব ঘটেছে। যার মধ্যে মৈনাক, মালিকা, আরাত্রিক, কর্নিক, জেনারেল উল্লেখযোগ্য। কর্নিক হলো চিতা সেনাবাহিনীর একজন ক্যাপ্টেন, গল্পের অ্যান্টাগনিস্ট। আর জেনারেল সেই বাহিনীর নেতা। যারা কি না সমতল ভূমিকে নিজেদের কব্জায় করে নিয়েছে। ধ্বংস করেছে সেখানকার সবকিছু। বিশেষ করে সময় সংক্রান্ত কোনোকিছু তারা জীবিত রাখেনি। নষ্ট করেছে ঘড়ি, মেরেছে ঘড়িনির্মাতা ও বেঁচে থাকা নামমাত্র যান্ত্রিকদের। আর এদের থেকেই রক্ষা করতে হবে সমতল ভূমি। এখন সেই ঘড়ি কীভাবে সমতল ভূমি দখলে রাখা চিতা বাহিনী থেকে তাদের রক্ষা করে সেই ঘটনার অতীত বিবরণে উপন্যাসটি লেখা! একটু খটকা লাগছে না─কেন অতীতের কথা টানলাম? তার মানে বর্তমানে এমন কিছু কি ঘটেছে যা অতীতের স্মৃতি বহন করে চলেছে?

প্রশ্ন আর প্রশ্ন। কাহিনির শুরুর দিকে ঘটনা কোন দিকে মোড় নিচ্ছে তা বুঝতে কিঞ্চিৎ হিমশিম হয়তো খেতে হতে পারে। কিন্তু লেখক যখন ফোর্থ ওয়াল ব্রেক করে পুরো কনসেপ্টটা সাবলীলভাবে মেলে ধরে তখন সবকিছু ভীষণ সহজ মনে হবে। তবে অত সহজও রাখেননি শেষটা। কারণ সেখানে ওপেন এন্ডিং লটকে দিয়েছেন তিনি। কিন্তু সেই রহস্যময়তা ছাপিয়ে যে দিকটি বিশেষ আকর্ষিত করবে তা হলো লেখকের লেখনশৈলী। শব্দের কারুকার্য আর বাক্য গঠনে যে নৈপুণ্যতা দেখিয়েছেন তিনি─তা সচারচর সামসাময়িক বইগুলোতে দেখা যায় না। সেখানে কিছুটা ছন্দের আধিক্য রয়েছে। সেইসাথে কাহিনির প্রয়োজনে এসেছে বৈজ্ঞানিক কিছু পরিচিত টার্ম, যা প্লটের গভীরতা আরও পোক্ত করেছে আর সহায়তা করেছে রহস্য সমাধানের সূত্র হিসেবে। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির যে ধারা—তার সবটা লেখক তুলে ধরেছেন অনায়াসে। তবে কল্পকাহিনি হলে বিষয়টা ডিস্টোপিয়ার মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলার কারণে আরও চমকপ্রদ লেগেছে। একইসাথে সময়ের কয়েকটি রহস্যময় ধারাকে যুক্ত করে দেওয়া কম আগ্রহজাগানিয়া নয়। অর্থাৎ এক বইতে অনেক জনরার স্বাদ বিদ্যমান।

এখন সময় প্রেক্ষাপট থেকে বের হওয়ার। প্রাসঙ্গিক কিছু আলোচনা করে আমারও এই লেখার সমাপ্তি টানা একান্ত প্রয়োজন। কারণ বেশিকিছু আমি চেয়েও লিখতে পারব না। তবে কিছু জানিয়ে যেতে তো পারি। যেমন লেখক নিজে বইয়ের ফ্ল্যাপের শেষাংশে জানিয়েছেন─বিদগ্ধ পাঠক এই কাহিনির রহস্যের বিভিন্ন স্তর উন্মোচন-প্রক্রিয়ায় কৌতূহলী হবেন। বাংলাদেশের মানুষের কাছে এই কাহিনির যুদ্ধ অতি পরিচিত।

লেখক যথাযথ বলেছেন। বিদগ্ধ পাঠক হিসেবে কি না জানি না, তবে দেশ স্বাধীনের আগে ও পরের বেশকিছু ঘটনাচক্রের সাথে উক্ত উপন্যাসের কাহিনি সামঞ্জস্যপূর্ণ। লেখক যে যান্ত্রিক গোষ্ঠী দ্বারা ঠিক কাদের বুঝিয়েছেন তা সহজে অনুমেয়। এমনকি চিতা সেনাবাহিনী, দ্বিতীয় বাহিনী এবং পার্টিজান সৈনিকদের কাদের ভেবে ট্রিবিউট দিয়েছেন তা-ও। এসবকিছু খোলাসা করে বলছি না। একজন পাঠক যদি এই হিডেন মিনিং বা রেফারেন্সগুলো ধরতে পারে তবে বইটি পড়া সার্থক। এমনকি যেসব দর্শন লেখক কপচেছেন, তা-ও গুরুত্বপূর্ণ। কল্প-বিজ্ঞান, ডিস্টোপিয়ায়─দর্শন বিষয়টা খুবই সাধারণ। এসব উপন্যাসে লেখকের সবচেয়ে বড়ো অস্ত্র হচ্ছে এটি। সবশেষে বইটি শতভাগ রেকোমেন্ড করছি। যদি আপনি একজন কল্পবিজ্ঞান প্রেমী না-ও হয়ে থাকেন তবুও। কারণ কিছু বই জনরা দেখে পড়া থেকে বিরত থাকা উচিত নয়। আর চিন্তায় তা দিতে এমন বই-ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সবসময়। নন-ফিকশন পড়ে জ্ঞান আহরণ করতে পারবেন, জানবেন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। থ্রিলার পড়ে রোমাঞ্চকর অনুভূতির মুখোমুখি হবেন, ফ্যান্টাসি আপনাকে নিয়ে যাবে অদেখা ভুবনের অন্তরালে, যেখানে বাস্তব-অবাস্তব পিঠাপিঠি হয়ে আপনাকে শিক্ষা দিবে। অন্যদিকে কল্পবিজ্ঞান মস্তিষ্কে লুকিয়ে থাকা রহস্যের অজানা দিক ও গোপনীয় বিষয় সম্পর্কে তালিম দিতে সহায়তা করবে। যে ক্ষুধা লুকিয়ে থাকে, জ্ঞান ঘুমিয়ে থাকে─সেই ঘুমকে জাগ্রত আর ক্ষুধাকে নিবারণ করতে কল্পবিজ্ঞানের ভূমিকা অপরিসীম।

‘দিতার ঘড়ি’ প্রকাশিত হয়েছে দ্যু প্রকাশন থেকে। ২২৪ পৃষ্ঠার বইটির মুদ্রিত মূল্য ৩০০ টাকা। কিছু বই থাকে যা পড়তে গেলে দামের হিসাব বা পৃষ্ঠা কত সেটা দেখতে হয় না─এই বই তেমনই। এমন বই নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনা করা সম্ভব। এমনকি বইও লিখে ফেললে খুব একটা অত্যুক্তি হবে না। কারণ এখানে সব খেলা ‘সময়’-কে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে। আর সেই সময়ের বাঁধনে অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যৎ নিহিত থাকে। সবকিছু থেকে মুক্তি পেলেও, সময় থেকে কারও মুক্তি নেই।
Profile Image for বিমুক্তি(Vimukti).
161 reviews96 followers
February 2, 2023
তারা দিয়ে বইকে মূল্যায়ন করাটাকে আমি আর প্রিফার করি না। কিন্তু এ বই নিয়ে লিখতে গিয়ে আমার আবার পুরোনো ধাচে ফিরে যেতে হলো। এ বইকে পাঁচ তারা না দিলে প্রকৃতপক্ষেই মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যাবে।

একটা প্রশ্ন বারবার মাথায় ঘুরছে, দীপেন ভট্টাচার্যকে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ 'বাংলা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী লেখক' বলা যায়? কারণ T শেপড জংশনের ত্রিমোহনায় যেমন কেউ স্বাধীনতা হারায়(৩), কেউ সময় হারায়(২) আবার কেউ স্মৃতি হারায়(১), এমন গোছালো 'যেমন' বাংলা সাহিত্যে দেখা যায় না। একদমই দেখা যায় না।

আমার মাথায় শেফালিকা এবং দিতা ঘোরে, আর ঘোরে মানুষের পরিণতি। আরেকবার পেছনে তাকিয়ে ভাবলে উপলব্ধি করি, আমার পুরো জীবনের কেমন সুন্দর অভিব্যক্তি এই বই! অরিত্রিকা যেমন বলেছে, বর্তমানের 'আমি' প্রতিনিয়ত মারা যাচ্ছে। প্রতিটি সিদ্ধান্ত জন্ম দিচ্ছে আমার নতুন সত্ত্বার।

ক্লাইম্যাক্স দীপেন ভট্টাচার্যকে যেমন অমর করে দিয়েছে, তেমন বইটির জনরাকেও পালটে দিয়েছে। দুইটি সাব-জনরার দারুণ সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন লেখক৷ এ বই শুধু সায়েন্স ফিকশনই না,ডিস্টোপিয়ানও। রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে মানুষের চিরায়ত যুদ্ধকেই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ভালোবাসা, বিজ্ঞান এবং ইতিহাসের সংমিশ্রণে।

গতবছর আমার পড়া শ্রেষ্ঠ বই ছিল, নিস্তার মোল্লার মহাভারত। এ বছর দিতার ঘড়ি পড়লাম। আফসোস নেই একটুও, একটি ফোটন পরিমাণও নেই।

সতর্কবার্তা: এ বইয়ের ন্যারেটিভ এক্সপেরিমেন্টাল৷ বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী না হলে অনেক জিনিস বুঝাই সম্ভবপর হবে না৷
Profile Image for Akash Saha.
158 reviews27 followers
April 6, 2022
এই বইটা পড়ে একটা কথাই মনে হল,
''Inception মুভির বড় ভাই''
11 reviews52 followers
May 25, 2024
বাংলা সাহিত্যে এমন সায়েন্স ফিকশন গল্প আসলে পড়িনি। শুরুটায় একটু খেই হারিয়ে ফেলছিলাম, তবে খানিক পরেই দশ বছরের অতীতের গল্প শুরু হলে তরতর করে কাহিনী এগিয়ে যায়। আর, শেষটায় তো দারুণ মিলিয়েছে গল্পটা, শুরুর ওই খেই হারিয়ে যাওয়া অংশটুকুও মিলে গেছে দারুণ৷

তবে ভাষায় প্রাঞ্জলতার বড্ড অভাব, যেটা কথপোকথনের অংশগুলোয় বেশ চোখে লাগে। বাংলায় খটমটো ভাষায় আক্ষরিক অনুবাদের বইগুলোয় এরকম ভাষা দেখা যায়৷ একটি মৌলিক সাহিত্যে এরকম ভাষা দেখতে পাওয়া বেশ অদ্ভুত বটে!
Profile Image for Sakib A. Jami.
362 reviews45 followers
September 14, 2023
সময়ের সাথে পদার্থবিদ্যার এক অন্তর্নিহিত সম্পর্ক বিদ্যমান। যেকোনো সূত্র, তত্ত্ব কিংবা বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে পদার্থ বিদ্যা সবসময় সময়কে মেনে চলে। সময়কে নিরূপন করতে না পারলে কখনোই বিজ্ঞানের প্রসার সম্ভব নয়। কিন্তু, যদি সেই সময়কে থামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়? তবে বিজ্ঞানও তার আপন কক্ষপথ থেকে হারিয়ে যাবে। বিজ্ঞানের সেই গবেষণা একসময় থমকে যাবে। আর এই থমকে যাওয়ায় একসময় যারা বিজ্ঞানের প্রসার ঘটিয়েছিল, তারাও আর থাকবে না। থাকলেও বাঁধাপ্রাপ্ত হবে তাদের এই কর্ম!

সময় তার আপন নিয়মে চলতে থাকে। শত, সহস্র, করি বছর পেরিয়ে ছুটে চলে। তার থেমে থাকার লক্ষণ নেই। ঘড়ির কাঁটা ঘুরতে থাকে আর এই ঘূর্ণনে সময়ও তার পরিক্রম অতিক্রম করে। সে যাই হোক, আজ যে সময়ের কথা বলব— ঠিক কত বছর পরের গল্প জানা যায় না! শুধু জানা যায়, সেই সময় সময় নিয়ে যেকোনো ধরনের গবেষণা নিষিদ্ধ। সময়ের কথা বলা পর্যন্ত অপরাধের শামিল। এমনকি, সময় দেখার জন্য ঘড়ি রাখাটাও দোষের! যারা এই কথার অমান্য করবে তারা দে শ দ্রো হী। এমনকি ঘড়িনির্মাতারা আরও বড়ো অপরাধী। তাদের একমাত্র শাস্তি মৃ ত্যু দ ণ্ড।

যুগে যুগে যতবার কেউ না কেউ শাসনের নামে শো ষ ণ করেছে, অন্যায়ভাবে নিজেদের মতামত ছাপিয়ে দিয়েছে— ততবার-ই প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে সমাজের মানুষ। অন্যায় দেখে মাথা নোয়াবার চেষ্টা করেনি। রুখে দাঁড়িয়েছে নিজেদের মতো করে। আজকের এই সময়টা কবেকার? হতে পারে আজ থেকে একশ বছর আগের কোনো ঘটনা। কিংবা হতেই পারে দুইশ বছর পরের সময়। যখনই হোক, সেই সময়ে সময় নিয়ে কথা বলা নিষিদ্ধ। বসতবাড়িতে ঘড়ি রাখা দে শ দ্রো হি তার শামিল। তাই স্বৈরাচার জেনেরাল আর তার দল চিতা একে একে নিশ্চিহ্ন করে দিচ্ছে সমতলের সব ঘড়ি। মে রে ফেলছে একে একে সময় নিয়ে গবেষণা করা বিজ্ঞানীদের। সেই সমাজে বিজ্ঞানীকে যান্ত্রিক বলে অভিহিত করা হয়। যান্ত্রিক ভিন্ন এক সমাজে কোনো বৈজ্ঞানিক চর্চা হয় না। হবে কী করে? সব যে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার মিশনে নেমেছে চিতা বাহিনী।

যে সকল ঘরে ঘড়ি পাওয়া যায়, সেখানে যেন ধ্বংসযজ্ঞে মেতেছে চিতা বাহিনী। মানুষের জীবনের এখানে কোনো দাম নেই। আগুনে পু ড় ছে বাড়িঘর। এরই মধ্যে একদল চেষ্টা করছে প্রতিরোধের। যাদের বলা হয় পার্টিজান। অন্যায়ের সাথে আপোষ নয়। যে করেই হোক চিতাদের থামাতে হবে। নাহলে সমতলবাসী শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু চারিদিকে চিতাদের চর, দ্বিতীয় বাহিনী ঘুরছে। এই লড়াই সহজ নয়।

পার্টিজান এক যোদ্ধার কাঁধে দায়িত্বে জীবিত একমাত্র ঘড়িনির্মাতাকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনা। তাকে বড্ড বেশি দরকার এই সময়। তার কাছে এমন এক ঘড়ি আছে, যে ঘড়ি বদলে দিতে পারে এই যুদ্ধের গতিপথ। গুরুত্বপূর্ণ এই ব্যক্তিকে কীভাবে বের করে আনা যাবে? তার মেয়ে কোথায় আছে। জানা যায়, ঘড়িটা সেই মেয়ের কাছে সংরক্ষিত আছে। কিন্তু তবে… চারিদিকে চিতাবাহিনীর চর ঘুরছে। তাদের চোখ এড়িয়ে সেই মেয়ের কাছে পৌঁছানো অসম্ভব। একই সাথে সেই বৃদ্ধ ঘড়িনির্মাতাকে উদ্ধার করাও বেশ কঠিন। কে বন্ধু, কে মিত্র— ঠিক বোঝা যাচ্ছে না। ধরা পড়লে চিতা বাহিনীর ভয়ংকর দর্শন ডায়নোসর যন্ত্র কেড়ে নিবে জীবনের একাংশ। যেভাবে কেড়ে নিয়েছে বিজ্ঞানী মৈনাকের প্রাণ। তাই নিজেকে বাঁচিয়ে লড়তে হবে। কিন্তু… সে সুযোগ কি পাওয়া যাবে?

▪️পাঠ প্রতিক্রিয়া :

“দিতার ঘড়ি” বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির ঘরানার এমন একটি বই, যা ভবিষ্যতে থেকেও আপনাকে নিয়ে যাবে হয়তো অতীতের কোনো এক সময়ে। যু দ্ধে কোনো এক দলের মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার সহজ কাজ কীভাবে করা যায়? সবচেয়ে সহজ যে উপায়, সেটি হলো জ্ঞান-বিজ্ঞানে পারদর্শী যারা দেশ বা সমাজের গুরুত্বপূর্ণ তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া। যে সভ্যতা বিজ্ঞানীরা গড়ে তুলেছিল, দার্শনিকরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল— সেই সভ্যতা নিমেষে গুড়িয়ে গিয়েছে একদল স্বৈরাচারের প্রভাবে। স্বৈরাচার শাসক কখনো নিজেদের বিরুদ্ধে যাওয়ার পছন্দ করে না। যদি দেখে এমন কিছুর আভাস দেওয়া হচ্ছে, তাহলে ধ্বংসের বীজ বুনে সব নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার খেলায় মেতে ওঠে। আ গু নের লেলিহান শিখার মতো দাউদাউ করে জ্ব লে তাদের তেজ। যাতে ভ স্ম হয়ে যায় সাধারণ মানুষ।

আমি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির বিশ্লেষণ ঠিকঠাক করতে পারি না। সাধারণ পাঠক হিসেবে উপভোগ করা-ই মূল লক্ষ্য থাকে। “দিতার ঘড়ি” বইটিও বেশ উপভোগ করেছি। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি জনরার এক অনন্য সংযোজন বলা যায়। তবে অবশ্যই বইটি পড়তে হলে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা বা জানাশোনা থাকতে হবে। কেননা এই বইয়ের ক্ষেত্রে অনেক কিছু বোধগম্য হবে, কিছু হবে না। এই বইয়ের পদার্থ বিদ্যা আছে, আছে কোয়ান্টাম মেকানিজম। পদার্থ বিজ্ঞানের সাথে সময়ের ক্ষণ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সময়কে থামিয়ে দিতে পারলে বিজ্ঞানও থেমে যাবে অচিরেই। বেশ কিছু বিষয় মাথার উপর দিয়ে গিয়েছে। শুরুতে না বুঝলেও ধীরে ধীরে সব বুঝতে পেরেছি।

যখন কোনো ঘটনা সংগঠিত হয়, তার অনেক কিছুর সম্ভাবনা থাকে। “দিতার ঘড়ি” যেন সেই সম্ভাব্যতার নিদর্শন রেখে গিয়েছি। যুদ্ধে দুই পক্ষ জিতলে কেমন ফলাফল হবে তার যেন চিহ্ন ছিল। ভিন্ন সম্ভাবনা যেন ভিন্ন মহাবিশ্বের নতুন এক স্তর উন্মোচন করে। আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনেক পথ খোলা থাকে। আমরা কোন পথ বেছে নিবো, সেটা আমাদের সিদ্ধান্ত। হয়তো ভিন্ন সেসব পথ ভিন্ন মহাবিশ্বের দ্বার খুলে দেয়! সেখানে ঘটে ভিন্ন ঘটনা। কোথায় সফল, কোথাও বা বিফল… আমার কোথাও সম্পূর্ণ অন্য কিছু সামনে চলে আসবে! কে জানে!

▪️চরিত্রায়ন ও বর্ণনাশৈলী :

লেখকের তার চরিত্রদের ব্যাখ্যা করার ধরন আমার ভালো লেগেছে। একদম গভীর থেকে চরিত্রগুলো ফুটে ওঠে। এতে একেবারে স্পষ্ট হয়ে ওঠে কার কী দায়িত্ব। গল্পের মূল চরিত্র ত-কে যেভাবে বর্ণনা করা হয়েছে অনবদ্য। ভিন্ন খেতে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের জন্য খুব আপন মনে হয়েছে। এছাড়াও অন্যান্য চরিত্র যেমন অসিতোপল, দিতা, মৈনাক, মৃত্তিকা, আদ্রিকা— সবাই ছিল নিজেদের জায়গা থেকে সেরা। কেউ কম সময়ের জন্য ছিল, তবুও এতটুকু হালকা হয়ে যায়নি। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় লেগেছে চরিত্রের নামকরণ। সচরাচর দেখা যায় বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির ক্ষেত্রে বিদেশি নাম গ্রহণের প্রচলন বেশি। এক্ষেত্রে লেখকের খাঁটি বাংলা নামের ব্যবহার বেশ লেগেছে।

লেখকের গল্প বলার ধরন ভিন্ন। ভিন্নভাবে উপস্থাপন করেছেন সবকিছু। যা একজন পাঠককে দারুণভাবে আকৃষ্ট করবে। বিশেষ করে চরিত্রের ভেতর ডুব দিয়ে তিনি তার গল্পের গতিপথ এঁকেছেন। আমি মুগ্ধ হয়েছি লেখকের ভাষাশৈলীতে। কাব্যিক ছন্দে লেখক বর্ণনা করেছেন গোটা উপন্যাস। পড়তে দারুণ লেগেছে। যদিও সংলাপে এমন কাব্যিক ভাব একটু বিরক্তিকর অনুভূতি দিয়েছিল। তবুও সংলাপের বিষয় ছিল সামান্য। লেখক কেবল গল্প বলার ক্ষেত্রেই মন দিয়েছিলেন।

আমার সবচেয়ে যে বিষয় ভালো লেগেছে, তা হলো লেখকের শব্দচয়ন। ইংরেজি শব্দের ব্যবহার ছিল না বললেই চলে। বৈজ্ঞানিক বিষয় বাদ দিলে লেখক পুরোটা সময় বাংলা শব্দের ব্যবহারের ক্ষেত্রেই মন দিয়েছেন। এমন এক বইয়ের ক্ষেত্রে যা যথাযথ বলেই মনে হয়েছে। বর্তমান সময়ের লেখনীতে সচরাচর এমন দেখা যায় না। অনেকেই লেখার সময় অধিক ইংরেজি শব্দের ব্যবহার করে, যা সাহিত্যের মান কমিয়ে দেয়।

▪️বানান ও সম্পাদনা :

বানান ও সম্পাদনার ভুল তেমন পাওয়া যায়নি। শুরুর দিকে না হলেও শেষের দিকে বেশ কিছু ছাপার ভুল ছিল। একটি ঊর্ধ্বমুখী তির চিহ্ন কোন এক অজানা কারণে কিছু জায়গায় থাকার কারণ বোধগম্য হয়নি। এছাড়া বানান ভুল নিতান্তই কম। যা খুব একটা চোখে লাগে না।

▪️পরিশেষে, আমাদের প্রত্যেকের জীবনে একটা লক্ষ্য থাকে। যে লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে হয় সফলতার খোঁজে। কখনো কখনো এই পথ দীর্ঘ হয়। ক্লান্ত হয়ে যায় শরীর। তখন মনে হয়, হয়তো ভুল পথে চলছি। এখানে কোনো আলোর দেখা নেই। তখন ফিরে যেতে উদ্যত হয় অনেকেই। কেউ আবার ফিরেও যায়। কিন্তু তারা হয়তো জানে না, আর দুই কি তিন কদম পরেই ছিল তাদের কাঙ্ক্ষিত বস্তু। সেই সফলতা স্পর্শ না করেই ব্যর্থতা বরণ করে নিতে হয়। অথচ ধৈর্য ধরে আর একটু এগিয়ে গেলেই হয়তো জীবন অন্যরকম হতে পারত।

▪️বই : দিতার ঘড়ি
▪️লেখক : দীপন ভট্টাচার্য
▪️প্রকাশনী : দ্যু
▪️ব্যক্তিগত রেটিং : ৪.৮/৫
Profile Image for Habib Rahman.
79 reviews2 followers
December 1, 2023
দিতার ঘড়ি গল্পের নায়ক ত । শারীরবৃত্তীয় বয়সের হিসেবে যার বয়স ৩০-৩৫ হলেও হতে পারে। কিন্তু তার নিজের চেনা পরিচিত পৃথিবীর বয়স মাত্র ১০ বছর। বহু বছর ধরে সমতল নামে এক জায়গার স্থানীয় পার্টিজান বাহিনী এবং হানাদার চিতা বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ চলে আসছিল। ১০ বছর আগে যেদিন এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে সেদিন সমতলের তুরা নামের এক শহরের হাসপাতালে নিজেকে আবিষ্কার করে আহত ত । যুদ্ধ পূর্ববর্তী নিজের সমগ্র জীবনের স্মৃতি হারানো অবস্থায়। তারপর থেকেই পাহাড়ী নদী সিমসাং এর ধারে তুরা শহরে শান্ত নিরুদ্রপ ১০টি বছর কাটিয়েছে সে। নিজের অতীত খোজার কোনো চেষ্টা ই করেনি ত এতগুলো বছর। কিন্তু তুরার পাহাড়ে ক্যাম্প করার সময় যেদিন তার প্রান্তিক আর শেফালিকার সাথে দেখা হয় ঐদিন থেকেই ত এর জীবনের সব হিসাব বদলে যায়। তুরার পাহাড়ে এক জীবন্ত গলিত লাভাকুন্ডের হদিস খোজার পাশাপাশি নিজের অতীতকে উদ্ধার করতে ত আসে রাজধানীতে এক নিউরোবিজ্ঞানী চিকিতসকের কাছে। চিকিতসক ত এর মস্তিস্ক স্ক্যান করে কোনো আঘাত এর চিহ্ন পান না। তার মানে নিজের স্মৃতি ফিরে পেতে ত এর কোনো সমস্যা ই হবার কথা না। তারপরেও কেন এত চেষ্টার পরেও ত তার অতীতকে মনে করতে পারছে না? তাহলে কি ত এর স্মৃতি হারানোর পিছনে রয়েছে কোনো ভীত জাগানিয়া অতীত? যার সন্ধান ত এর অবচেতন মন কোনোভাবেই ত এর কাছে ফাস করতে চাচ্ছে না। এবার তাই চিকিতসকের পরামর্শে ত শহরে বেরিয়ে পড়ে এক ঘড়ি নির্মাতার খোজে। কেননা ১০ বছর আগে স্মৃতি হারানো অবস্থায় ত এর কাছে পাওয়া গিয়েছিল একটি ঘড়ি আর একটি চিরকুট। শহরের সেরা ঘড়ি নির্মাতা ই হয়তো পারবে ত কে এই ঘড়ির উতস সম্পর্কে আরো জানাতে। তার সাথে সাথে হয়তো নিজের অতীত সম্পর্কেও জানতে পারবে ত । কিন্তু অতীত যে সবসময় সুখকর হয় না। ত কি পারবে তার অতীতের মোকাবেলা করতে?


প্যারালাল ইউনিভার্স কী জানেন তো। আমাদের এই চিরচেনা মহাবিশ্বের সমান্তরালে রয়েছে আরো অনেক মহাবিশ্ব। এই বিশ্বে বই কিনতে হাহাকার করা কর্পদকশুণ্য আপনি হয়তো অন্য আরেকটি বিশ্বে বিল গেটসের থেকেও বড়লোক কেউ। কিংবা কোনো একটি বিশ্বে জীবনের সফলতার চুড়ায় উঠা আপনার হয়তো অন্য আরেকটি বিশ্বে কোনো অস্তিত্ত্ব ই নেই। সহজভাবে বলা যায় আমাদের জীবনে নিশ্চিত বা চূড়ান্ত বলে কোনো কিছুই নেই। সবকিছুই একটা প্রবাবিলিটি ট্রি এর মত। জীবনের কোনো একটি বিশেষ মুহুর্তে আপনার নেয়া কোনো সিদ্ধান্ত আপনাকে আজকের বর্তমান অবস্থায় নিয়ে এসেছে। যদি আপনি অন্য কোনো সিদ্ধান্ত নিতেন তবে আপনার জীবন হয়তো অন্য রকম হতেও পারতো।
মনে করুন মসজিদে আজ জিলাপি দিবে। তাই আপনি সিদ্ধান্ত নিলেন মিলাদ পড়ে জিলাপি নিয়েই যাবেন। মিলাদ শেষে আপনি জিলাপি নিয়ে বের হয়ে দেখলেন চোর আপনার জুতা নিয়ে গেছে। তখন জিলাপি খেতে খেতে আপনার নিশ্চয়ই আফসোস হবে যে, ইশ! যদি জিলাপির জন্য বসে না থাকতাম তাহলে হয়তো আজ জুতা চুরি হতো না। এখানে আপনার নেয়া সিদ্ধান্ত দুটো ঘটনার জন্ম দেবে। একটা ঘটনার ফলাফল হিসেবে আপনি জিলাপি পাবেন ঠিকই , কিন্তু জুতা হারাবেন। আবার আরেকটি ঘটনায় আপনি জিলাপি পাবেন না কিন্তু আপনার জুতা ঠিকই থাকছে। এই দুটো ঘটনার যেকোনো একটা ঘটবে আপনার জিলাপির আশায় মসজিদে বসার সিদ্ধান্ত নেয়া না নেয়ার উপর। তবে এক্ষেত্রে কিন্তু আরো দুইটি ঘটনা ঘটতে পারে। আপনি জিলাপি নিতে মসজিদে বসলেন ঠিকই কিন্তু শেষে দিয়ে ভাগে জিলাপি পেলেন না। এদিকে বেরিয়ে দেখলেন আপনার জুতা ও চুরি হয়ে গেছে। আবার এমন ও হতে পারে আপনি জিলাপি ও পেলেন আবার জুতা ও অক্ষত রইলো। অর্থাত আমাদের জীবনের নেয়া প্রতিটি সিদ্ধান্ত ই এরকম অসংখ্য সম্ভাবনার ক্ষেত্র সৃষ্ট করে। ভবিষ্যত সম্পর্কে একেবারে অজ্ঞ না হলে যা সংঘটিত হতে পারে না। বিখ্যাত মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সের সেই দৃশ্যটির কথা অনেকের ই মনে আছে হয়তো। আয়রন ম্যান যখন ডক্টর স্ট্রেঞ্জ এর কাছে ভবিষ্যত সম্পর্কে জানতে চায় তখন ডক্টর তাকে বলে, আমি যদি এখন তোমাকে বলে দিই পরবর্তীতে কি ঘটতে চলেছে তাহলে তা কখনোই ঘটবে না। এই কারণেই হয়তো অতীত নিয়ে জাবর কাটার সুযোগ থাকলেও ভবিষ্যত সম্পর্কে আমাদের সম্পুর্ণ অজ্ঞ রাখা হয়েছে।

আপাতত এইটুকু ব্যাপার যদি আপনি বুঝতে পারেন তাহলে দিতার ঘড়ি পড়তে আর কোনো বাধা নেই আপনার। কোনো রকম স্পয়লার না দিয়ে আমি চেষ্টা করেছি যত সহজ ভাবে আপনাদের কাছে দিতার ঘড়ি আরো আকর্ষনীয় করে উপস্থাপন করা যায়। যাতে আপনারা বইটি পড়তে উদগ্রীব হন। কেননা, সায়েন্স ফিকশন জনরার দুর্দান্ত এই বইটি নিয়ে খুব কমই আলোচনা হয়েছে।আপনার যদি সাই ফাই জনরা প্রিয় হয় তাহলে এই রিভিউটি পড়ার পরে আপনার প্রথম কাজটি হবে দিতার ঘড়ি বইটি কিনে পড়া শুরু করা। কথা দিচ্ছি, অনুশোচনা হবে না আপনার।


পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ
সাহিত্যের কোনো জনরার বই পড়তে গেলে আমি চেষ্টা করি একটানা ঐ জনরার বই পড়ার । থ্রিলার জনরার উপর বিরক্তি ধরে যাবার পরে এখন শুরু করেছি সাই ফাই জনরা। এখন বলতেই হচ্ছে এ যাবত কালে আমার পড়া যত সাই ফাই জনরার বই পড়া হয়েছে তার থেকে সবচেয়ে জটিল,দুর্দান্ত এবং সেরা বইটি হচ্ছে এই দিতার ঘড়ি। বইটি পড়ার সময়কার অনুভূতি আমার খুব ই প্রিয় একটি টেলিভিশন সিরিজ ডার্ক এর কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। জার্মান এই সিরিজটি যাদের ভাল লেগেছিল দিতার ঘড়িও তাদের ভাল লাগবে বলে মনে করি।

বইয়ের চরিত্র সংখ্যা বেশ কম হলেও প্রতিটি চরিত্র নিজ স্বকীয়তায় পরিপূর্ণ। অসীতোপল,মৈনাক,দিতা,কর্নিক প্রতিটি চরিত্র ই লেখক নিপুনভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। বইটি নিয়ে অভিযোগ করবার কোনো সুযোগ লেখক রাখেননি।


লেখনশৈলীঃ
দীপেন ভট্টাচার্যের লেখা কোনো বই এই প্রথম পড়লাম। আর প্রথম বইটি পড়েই লেখকের গুণমুগ্ধ হয়ে পড়েছি। লেখকের শব্দ ভান্ডার বেশ সমৃদ্ধ। সহজ কথা বার্তায় তিনি জটিল বাংলা শব্দ ব্যাবহার করে লেখাটিকে একটি কাব্যিক রুপ দিয়েছেন। এমনও হয়েছে কোনো প্যারা দুই বার পড়া লেগেছে ভালোভাবে বোঝার জন্য। এতে চিন্তা করার সময়ও বেশি পাওয়া গেছে। যা লেখাটির গুরুত্ব বুঝতে আরো সহায়তা করেছে। অনেকের কাছে এত জটিল লেখা ভাল নাও লাগতে পারে।
এছাড়া বইয়ে সাইন্সের কচকচানি বেশি একটা না থাকলেও আলোর দিত্ব ধর্ম , ব্যতিচার, কোয়ান্টাম ফিজিক্স নিয়ে বেশ আলোচনা রয়েছে যা সাইন্সের ব্যাকগ্রাউন্ডের বাইরের মানূষদের বুঝতে হালকা সমস্যা হতে পারে। কিছু কিছু ব্যাপার আমি নিজেও অজ্ঞানতার কারণে বুঝতে ��ারিনি। আরেকটু পড়াশোনা করে পরবর্তীতে বইটি পড়ার ইচ্ছে আছে আমার।

বইয়ের নামঃ দিতার ঘড়ি
লেখকঃ দীপেন ভট্টাচার্য
প্রকাশনীঃ দ্যু
মুদ্রিত মুল্যঃ ৩০০ টাকা
Profile Image for Dhiman.
209 reviews16 followers
April 29, 2025
সেরা, সেরা, সেরা!! শুরুতে ভাষাশৈলির কারনে একটু খটমট লাগছিল পড়তে। তারপরও ভালো কিছুর আশায় পড়ে গেছি শেষ পর্যন্ত। ভালো কিছুর বদলে যে এত অসাধারণ কিছু পাব ভাবিনি। বইটি লেখা ২০১২ সালে। এই বইয়ের যে কনসেপ্ট সেই কনসেপ্ট নিয়ে 'ব্ল্যাক ক্রাউচ' এর লেখা ও 'সালমান হক' এর অনুবাদ করা একটা বই আছে 'ডার্ক ম্যাটার' কিন্তু এই বইটা অনেক পড়ে লিখিত হয়েছে। এরকম একটা কনসেপ্ট নিয়ে এরকম একটা হার্ড সাই-ফাই একজন বাংলাদেশী লেখক এত আগে বাংলা ভাষায় লিখেছেন। সেটা কজনই বা জানে?
Profile Image for Sazedul Waheed Nitol.
87 reviews33 followers
October 11, 2018
বাংলা ভাষায় লিখিত শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞান-কল্পকাহিনীগুলোর তালিকায় একেবারে শুরুর দিকে থাকবে দীপেন ভট্টাচার্যের এই ম্যাগনাম ওপাস। পিরিয়ড!
Profile Image for Asib Gazi.
87 reviews1 follower
October 30, 2024
ইউনিক প্লটের সাথে দারুন লেখনি। সাইন্স ফিকশন লেখার ক্ষেত্রে দীপেন বাপু অনন্য হয়ে উঠেছেন।
Profile Image for Rifat Shohan.
35 reviews16 followers
December 3, 2025
❛𝘛𝘪𝘮𝘦..𝘵𝘩𝘦𝘺 𝘸𝘪𝘭𝘭 𝘮𝘦𝘴𝘴 𝘺𝘰𝘶 𝘸𝘪𝘵𝘩 𝘦𝘷𝘦𝘳𝘺 𝘶𝘯𝘪𝘷𝘦𝘳𝘴𝘦!❜
5/5
Profile Image for Rehnuma.
462 reviews22 followers
Read
October 10, 2023
❛𝚃𝚒𝚖𝚎 𝚒𝚜 𝚊𝚗 𝚒𝚕𝚕𝚞𝚜𝚒𝚘𝚗.❜
সময় অবাক করা ব্যাপার। সময় নিয়ে ভাবতে গেলে কতশত চিন্তা, তত্ত্ব যে এসে যাবে তার ইয়াত্তা নেই। আমাদের জীবন সময়ের জালে আবদ্ধ। জীবনের প্রতিটা ক্ষেত্রে সময় আমাদের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। সময় নিয়ে চলছে কত পরীক্ষা, বিজ্ঞানের উন্নতির সাথে সময়ের রহস্যের কূলকিনারা করতে কত কিছু আবিষ্কার হচ্ছে। তবুও সময় এক রহস্য এক মরীচিকার মতো বহমান আছে।
আচ্ছা, সময় ছাড়া জীবন কল্পনা করতে পারবেন?
জীবন থেকে কয় সেকেন্ড, কয় মিনিট অতিবাহিত হচ্ছে সেটা যদি আর না জানা যায় তবে? অথবা সময় নিয়ে কাটাছেঁড়া করাই যদি নিষিদ্ধ ঘোষণা হয়, জীবন কেমন হবে? সময়কে ঘিরেই তো চলছে সব। সময় নিয়ে কথা বন্ধ মানে তো জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নত স্তরে যাওয়া বন্ধ, গবেষণা, আবিষ্কার সব বন্ধ!
সমতল ভূমিতে এমন আইন-ই করা হয়েছিল। সময়কে তারা গণনা, পরীক্ষা, গবেষণার থেকে বাদ দিয়েছিল। সময় নিয়ে কথা বলাও পাপ সেখানে। সময় নিরূপণ যন্ত্র ঘড়িকে ধীরে ধীরে নিষিদ্ধ করে দিয়েছে তারা। যার কাছেই ঘড়ি পাওয়া যাবে সে সহ সব ধ্বংস করে দিচ্ছে চিতা নামক বাহিনী। সময় গবেষক, পদার্থবিদ্যার গবেষক, ঘড়ি নির্মাতাদের সমূলে উৎপাটন করার এক নির্মম চেতনা নিয়ে কাজ করছিল জেনেরালের নেতৃত্বে চলা চিতা বাহিনী। বাড়ি বাড়ি তল্লাশি করে সকল ঘড়ি, সময় নিয়ে করা যেকোনো গবেষণা নষ্টের পাশাপাশি শত শত মানুষকে হ ত্যা করেছে চিতা বাহিনী। তাদের উদ্দেশ্য মুক্ত চিন্তার পথ রুদ্ধ করে দেয়া। সমতলে থাকবে না কোনো সময়, ঘড়ি, বুদ্ধিজীবী। তাদের সাহায্য করছে আপন ভূমির কিছু বিশ্বাসঘা তক চর, যারা দ্বিতীয় বাহিনী নামে পরিচিত। সময় না থাকলে সেখানে কোনো উন্নতি ঘটবে না, সভ্যতা পিছিয়ে পড়বে কিন্তু চিতাদের তা-ই সই।
একদল যেখানে অন্যায়-অত্যাচার শুরু করে সেখানে তাদের রুখতে চেতনা সম্পন্ন দলের উদ্ভব হয়। সমতলের সেই দলের নাম পার্টিজান। কঠিন পরিস্থিতি এবং অপেক্ষাকৃত কম শক্তি নিয়ে তারা লড়ছে।
সমতল ভূমির গবেষক বা বিজ্ঞানীদের বলা হতো যান্ত্রিক। অতীতে যান্ত্রিকেরা তিলে তিলে তৈরি করেছিল সুন্দর এক লোকালয়। কিন্তু কালের আবর্তে সেইসব যান্ত্রিকেরা বিলীন হয়ে গেছে। তবু দূরদর্শী তারা আগেই হয়তো আঁচ করেছিলেন সমতল ভূমির বর্তমান এই সভ্যতা সংকট সম্পর্কে। তাই বাতলে দিয়ে গিয়েছেন মুক্তির পথ। সেই পথের রহস্য এবং সমাধানের পথে সূত্র হলো ❝দিতার ঘড়ি❞।
উপন্যাসের প্রটাগনিস্ট ত সময় নিয়ে এই বিবাদের সমাধানে ভ্রমণ করে। যার একটি সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারে অনেককিছু। একটি সিদ্ধান্তে তৈরি হতে পারে অনেকগুলো সম্ভাবনা। যার ফলাফলও ভিন্ন। একেক সম্ভাবনায় সমতলের ভাগ্য বদলে গেছে নিদারুণভাবে।
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
সময় সত্যিই অদ্ভুত একটা বিষয়। সময় নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট হয় আবার সময় নিয়ে ভেবেই কত নতুন দিক রচিত হয়েছে। কত নতুন সমীকরণের আবির্ভাব হয়েছে।
সময় এবং ঘড়িকে পুঁজি করে এমন বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি আমি খুব কম পড়েছি। ❝দিতার ঘড়ি❞ দীপেন ভট্টাচার্যের লেখা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি। সময়, পদার্থবিদ্যা, বিজ্ঞানের খুঁটিনাটি বিষয়কে নিয়ে গোটা উপন্যাস সাজিয়েছেন তিনি। ঘড়ি এবং ঘড়ির প্রকৌশল নিয়ে যে বর্ণনা তিনি দিয়েছেন তা ছিল মুগ্ধ করার মতো।
সমতল ভূমি অতীত বা ভবিষ্যতের কোন এক সময়ের ঘটনা। যেখানে সময় নিয়ে তৈরি হয় বিচিত্র এক সংকট। সে সংকটের থেকে পরিত্রাণ পেতে কীভাবে যান্ত্রিকদের দেখানো পথের অনুসরণ করে সম্ভাব্য ফলাফল আসে সেটা নিয়েই পুরো উপন্যাস।
লেখকের মুগ্ধ করার মতো বর্ণনাশৈলী, ভাষার ব্যবহার, বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের বর্ণনাগুলো খুব সুন্দর ছিল। গদ্যধারার বাইরে গিয়ে কিছুটা ছন্দ বা নান্দনিক ভঙ্গিতে পুরো উপন্যাস রচনা করেছেন তিনি। ভাষার কাঠিন্য কিছুটা মনে হলেও লেখকের বর্ণনার ধরনে সেটা খুব একটা বিরক্তির কারণ হয়নি।
কোয়ান্টাম মেকানিক্স, টানেলিং নিয়ে লেখক যেসব বর্ণনা দিয়েছেন সেসব বুঝতে অবশ্যই বিজ্ঞানের এই বিষয়গুলোতে আপনার ধারনা থাকতে হবে। নাহয় বুঝতে এবং উপন্যাসের গভীরতা অনুধাবন করতে কিছুটা কিংবা বেশ ভালই বেগ পেতে হবে। সবকিছু মনে হয় মাথার উপর দিয়ে যাবে। তবে বুঝে গেলে আপনার মনে হয় আপনি বইয়ের বর্ণনা পড়ছেন না শুধু, দেখছেনও!
সময়, সমান্তরাল অবস্থান এবং বিভিন্ন সম্ভাব্যতা এ বিষয়গুলো নিয়ে পড়তে, জানতে আমি খুব উপভোগ করি। বাংলা ভাষায় এই বিষয় নিয়ে এত দারুণ উপন্যাস আছে এতদিন অজানা ছিল এটাই যেন আমার বিশাল অজ্ঞতা মনে হচ্ছে।
লেখকের প্রতিটা বর্ণনা, অধ্যায়ের পরিবর্তন এবং চরিত্রদের ব্যাক্তিত্ব আমাকে মুগ্ধ করেছে। ২২৪ পৃষ্ঠার অন্য কোনো বই হয়তো এক বা দুইদিন সময় শেষ করে ফেলি। তবে এই বইটা আমি একসাথে বেশি অধ্যায় পড়ার চেষ্টাই করিনি। সময় নিয়ে, ধীরে ধীরে পড়েছি। প্রতিটা ঘটনা, টার্ন গুলো মনে রেখে সামনে এগিয়েছি। বিশেষ করে ঘড়িনির্মাতা অসিতোপল যখন কোয়ান্টাম টানেলিং এর বিশদ বর্ণনা দিচ্ছিলেন তখন যেন আমি চোখের সামনে সব দেখতে পাচ্ছিলাম। মন্ত্রমুগ্ধের মতো পড়ে গিয়েছি।
বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনির ক্ষেত্রে দেখা যায় কঠিনসব নাম, তত্ত্ব থাকে। মুন্সিয়ানা লেখক এই জায়গায় দেখিয়েছেন। মাথা আউলে দেয়া তত্ত্বের মাঝেও লেখক দারুণ সুন্দর বাংলার ব্যবহার করেছেন। পুরো উপন্যাসে ইংরেজি শব্দের প্রয়োগ হাতে গোনা ছিল। বাংলা ভাষায় ��ৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি পড়ছি এই অনুভূতিটাই সবসময় ছিল। মনে হচ্ছিল বাংলাদেশেরই কোন এক সময়ের কথা বলছেন লেখক।
যদিও শুরুতে তিনি বলেছেন এর সাথে বাংলাদেশের মানুষের কাছে চিতা বাহিনীর এই যু দ্ধ ওই পরিচিত ঠেকবে। আসলেই তাই। চিতা বাহিনী, তাদের চর বিশ্বাসঘাতকেরা, পার্টিজান বাহিনী এগুলো রূপক অর্থে স্মরণ করিয়ে দেয় আমাদের অতীতের এক ঘটনা। বুদ্ধিজীবী নিধন, বিশ্ববিদ্যালয় আক্রমণ দিয়ে সূচনা সবই কিন্তু পরিচিত ঘটনা!
বিভিন্ন প্রান্তের বর্ণনা এবং ঘটনা পড়তে গিয়ে যেন খেই না হারিয়ে যায় তাই উপন্যাসের শুরুতে চরিত্রদের নাম এবং কাজ, পরিচয় আলাদাভাবে দিয়েছেন। যা উপন্যাসে নিজেকে আটকে নিতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে।
উপন্যাসের শুরু, মধ্যভাগ যত না উপভোগ্য ছিল তার পুরোটা ছাড়িয়ে গেছে শেষের দিকের ঘটনাগুলো। সমাপ্তি বা সম্ভাবনাগুলো লেখক এত সূক্ষ্মভাবে টেনেছেন যাতে পরিতৃপ্তি আসবেই। একরাশ মুগ্ধতা, বিষণ্ণতায় ছেঁয়ে যাবে আপনার মন।
চরিত্র:
উপন্যাসের চরিত্রগুলো নিয়ে আলাদা করে না বললে অবিচার করা হবে।
প্রথমেই আসা যাক নামে। বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনি সাথে বাংলা একেবারে খাঁটি বাংলা নামের চরিত্রের মেলবন্ধন কেমন লাগে?
আদ্রিকা, মৃত্তিকা, মৈনাক, প্রান্তিক, আরাত্রিক, সমুদ্র, দিতা, মালিকা, শেফালিকা নামগুলো শুনলেই কেমন আপন আপন অনুভূতি হয়।
অসিতোপল, ত, দিতা, উপন্যাসের মূল ভিত্তি হলেও মৃত্তিকা, আদ্রিকা, মৈনাক কিংবা দুষ্টু বাহিনীর কর্নিক চরিত্র প্রত্যেকেই ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তাদের কাজ, উপস্থাপন এবং বৈশিষ্ট্য লেখক সুন্দরভাবে দিয়েছেন। এবং প্রতিটি চরিত্র নিজ অবস্থানে সেরা ছিল। আমার কাছে প্রটাগনিস্ট থেকেও অসিতোপল চরিত্রটা মনে ধরেছে বেশি। সমাপ্তিতে তার বিভিন্ন সম্ভাবনার যে উল্লেখ ছিল তার সাথে আমি নিজেও অন্যান্য আরো সমাপ্তি ভেবেছি। লেখকের সমান্তরাল তত্ত্বই হয়তো নিজের মতো ভাবতে প্রবোধ দিয়েছে।
প্রচ্ছদ, সম্পাদনা:
খুবই সাধারণ কিন্তু চোখে ভালো লাগার মতো প্রচ্ছদ বইটির। আমার খুব পছন্দ হয়েছে।
বইয়ের সম্পাদনা খুব ভালো হয়েছে। শেষের দিকে কিছু শব্দের ক্ষেত্রে একটু সমস্যা হয়ে গেছিল তবে সেটা সহনীয়।
দ্যু প্রকাশনের বইটির বাঁধাই, পৃষ্ঠার মান ছিল সেরা।
দীপেন ভট্টাচার্যের লেখা প্রথম পড়লাম এবং বলাই বাহুল্য সাই-ফাই জনরায় আমার প্রিয় লেখক হিসেবে তিনি স্থান করে নিয়েছেন। আমি কখনোই বইয়ের রেটিং করিনা। বিষয়টাকে আমার ক্ষমতার বাইরের কঠিন কিছু মনে হয়। অথবা নির্দিষ্ট রেটিংয়ে বইকে বেঁধে ফেলাটাকে সমীচীন মনে হয় না। তবে এই বইটার জন্য নিয়মের বাইরে আসাই যায়। পাঁচ এ একশ দিয়ে দিলাম একে!
ভাবুন তো, আসলেই সময় নিয়ে বাঁধা আসলো, বন্ধ করে দেয়া হলো সময় নিয়ে সকল কথা, ভেঙে ফেলা হলো সকল ঘড়ি বা বর্তমানের সাথে মেলালে মোবাইল, কম্পিউটার তথা প্রযুক্তির দারুণ এইসব আবিষ্কারের ব্যাবহার রুখে দেয়া হলো! কেমন হবে!
❛𝘛𝘪𝘮𝘦, 𝘵𝘩𝘦𝘺 𝘸𝘪𝘭𝘭 𝘮𝘦𝘴𝘴 𝘺𝘰𝘶 𝘸𝘪𝘵𝘩 𝘦𝘷𝘦𝘳𝘺 𝘶𝘯𝘪𝘷𝘦𝘳𝘴𝘦!❜
Profile Image for Zihad Al Faruqe .
62 reviews65 followers
February 16, 2026
সময় আসলে কেমন? আমরা যে বিশ্বে আছি, সেটাই কি সত্যি? নাকি এমন অসংখ্য মহাবিশ্ব ভিন্ন ভিন্ন পরিণতি নিয়ে আমাদের ঘিরে ঘুরপাক খাচ্ছে? বইটি পড়তে গিয়ে লেখক বারবার এমন প্রশ্নের মুখোমুখি করেছেন।

"দিতার ঘড়ি" এক ডিস্টোপিয়ান সময়ের গল্প বলে। প্রায়ই থেমে থেমে কয়েকবার করে পড়তে হচ্ছিল লাইনগুলি। জীবনবোধ, বিজ্ঞানের জটিল তত্ত্ব ও এর প্রয়োগ, জীবনের বাঁকে নেয়া সিদ্ধান্ত ও এর পরিণতি সবকিছু মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছে বইটিতে। এটা ঠিক যে, প্রাঞ্জলতার অভাবে গল্পের মাঝপথে এসেও খেই ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছিল। আবারও পড়তে হবে..
Profile Image for Kripasindhu  Joy.
605 reviews1 follower
May 12, 2025
কিছু বই আছে, যা পড়ার পর লেখার মতো কিছু থাকে না, থাকে শুধু একরাশ মুগ্ধতা। এটা সেই শ্রেণির বই।
Profile Image for Tahsin Reja.
74 reviews1 follower
November 18, 2015
ভাষার প্রাঞ্জলতার অভাবে পুরোটা উপভোগ করতে পারিনি। তবে ফিনিশিংটা সত্যি দারুণ।
Profile Image for Dipankar Chowdhury.
28 reviews6 followers
January 27, 2026
সেই ঘরে সব মিলিয়ে ছিল দুজন লোক, তার মধ্যে একজনের বয়স ছিল আরেকজনের ঠিক দ্বিগুণ।



‘আমি আমার মেয়ের কাছে ঘড়িটা গচ্ছিত রেখেছি, অসিতোপল বলল এমন বিষাদপূর্ণ গলায়, যাতে মনে হল সে সব সময়ই এমনভাবে কথা বলে। তার একটা গুরুত্বপূর্ণ পেশা ছিল, এমন পেশা যা সমতল ভূমির খুব কম লোকের পক্ষেই করা সম্ভব ছিল। সেই পেশা ছিল ঘড়ি নির্মাণের, অসিতোপল উদ্ভাবন করত নতুন নকশার ঘড়ি যা সব সময় নিখুঁত সময় দিত আর চলত বহুদিন ধরে। …যতক্ষণ আমার মেয়ে নিরাপদে থাকবে, ততক্ষণ সেই ঘড়িও নিরাপদে থাকবে’,-- অসিতোপল…||
[অধ্যায় ৬, ‘দশ বছর আগে’ ]


না সুধী পাঠক, এটা কোনো এসিমভীয় সাই-ফির বঙ্গানুবাদ পড়ছেন না (বরং এনার বইয়েরই ইঙ্গানুবাদ বেরিয়েছে সম্প্রতি), নিখাদ এক বঙ্গসন্তানের লেখা রোমহর্ষক কল্পবিজ্ঞান কাহিনী এটি। এ’ কাহিনীর নায়িকার নাম দিতা, হরোলজিস্ট অসিতোপলের কন্যা সে। আর আর প্রধান চরিত্রের নাম ত, ত২, ত৩। না না, শুধু যে এমন এমনই নাম তা নয়, প্রান্তিক, আর্ক, আরাত্রিক নামের যোদ্ধারা আছে পার্টিজান বাহিনিতে; এবং চিতা সেনাবাহিনিতে আছে কর্নিক, পদার্থবিদ্‌ প্রমুখ।


এদের ঘনঘোর লড়াইয়ের কথা পড়তে পড়তে স্মরণ করি চিতা সামরিক বাহিনিকে যারা দখল করে রেখেছিল সমতল ভূমি, যাদের নির্মম অত্যাচারে সমতলভূমি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিল। সেই সমতলভূমে অতীতে বাস করতেন মনীষী বিজ্ঞানীগণ যাঁদের ‘যান্ত্রিক’ বলে আখ্যায়িত করা হতো। এই ভয়াবহ সঙ্কট থেকে উদ্ধারের জন্য যান্ত্রিকেরা অতীতেই এক পথের সন্ধান দিয়ে গিয়েছিলেন। সমতলকে জয়ী করতে সেই সমাধানের পথে ভ্রমণ করে পার্টিজান যোদ্ধা ‘ত’, যুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে আর একটি দেশ-কালে (বা মহাবিশ্বে) যে নিজেই কিনা ত২ অথবা ত৩ নাম ধারণ করবে। (সত্যি বলতে কি, এতো আঁটোসাটো ব্লার্ব খুব কম বইতেই পাওয়া যায়।)


বস্তুতঃ, ‘দিতার ঘড়ি’ যত না কল্পবিজ্ঞানের কাহিনী তার চাইতে বেশি মানুষের লড়াইয়ের গল্প--বিশ্বাসঘাতকের সঙ্গে বিশ্বাসের, নির্যাতনের বিরুদ্ধে বৈজ্ঞানিক সত্যের। তাই এর চরিত্রগুলি যেন একেক ‘মানুষিক সৈনিক’—‘গভীর অন্ধকারের ঘুম থেকে নদীর চ্ছল চ্ছল শব্দে আবার’ জেগে উঠেছে তারা!


পড়তে পড়তে প্রথম প্রথম মনে হচ্ছিল, এ’ কেমনধারা বাং বাক্যগঠন গো? ঃ

“একটা বিশাল আকাশের গায়ে উড়ছিল দু-তিনটি খণ্ড খণ্ড লাল-কমলা মেঘ, যাদের পেছন থেকে শেষ বিকেলের আলো ভেসে এসে আবছা আভায় আমাদের ট্রেনটা ভরিয়ে দিয়েছিল এক উদাস চলন্ত আবেগে।” বা,

সেই ‘ডাইনোসর-যন্ত্র’-এর ওখানে--“অসিতোপল জানত তাকে এর মুখোমুখি হতেই হবে--এক ধরনের পৈশাচিকতা, তার কিছুটা হয়তো মানুষের ধর্ম, বিবর্তনের ফসল, আর কিছুটা প্রাগৈতিহাসিক অবশিষ্টাংশ।”

হ্যাঁ, এ’হেন বাক্যগঠন সারা উপন্যাসখানির অঙ্গ জুড়ে। (তা, কলমকুমারের গদ্যে ফরাসী সিনট্যাক্সের রসাস্��াদন কর��ে তো বাঙালি পাঠকের পাঁচ-সাত বছর গিয়েছিল প্রথমে।)


পরে বুঝি, এটাই দীপেন ভটচাজের গদ্য-স্টাইল, যেটা পাঠশেষে বুঁদ করে রাখে।


বস্তুতঃ, সাই-ফি লেখক নিজেই যদি হন এক বিজ্ঞানসাধক তাহলে কাহিনীগুলি যে এক বিশেষ উচ্চতায় উঠে যায় সেটা মার্কিনী হাইনলাইন সাহেব থেকে আমাদের দিলীপ রায়চৌধুরীর লেখার মধ্যে দেখতে (থুড়ি, পড়তে) পেয়েছি আমরা। বর্ষীয়ান দীপেন ভটচাজ মশাইও এই গোত্রের এক স্টলওয়ার্ট বলে বিবেচিত হবেন সন্দেহ নেই-- সাবেক সোভিয়েত রাশিয়া থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নামী নামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদের স্বীকৃতি করতলগত এই বাংলাদেশী স্কলারের, বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়াতে অধ্যাপনারত। এহ বাহ্য, এ’ সব তথ্য কো-ল্যাটারেলি এসে গেল…এ’বছরেই প্রকাশিত এই গ্রন্থখানি যে বাংলা সায়েন্স ফিকশনের জগতে নূতন এক দিগন্ত খুলে দিয়েছে তাতে কোন সন্দেহ নেই আমাদের, কারণ তাঁর এই সাই-ফি গল্পে যেন শোনা গেছে বাঙালির একাত্তরের বিজয়ের গল্প--সামরিক বাহিনীর কব্জা থেকে সুজলাং সুফলাং সমতলভূমির বিজয় সূচীত হয়েছিল যখন।


(যে একাত্তরকে কেহ কেহ যেন এখন অস্বীকার করতে চাইছে!)
Displaying 1 - 30 of 37 reviews