এক নারকীয় প্রেতবস্তু আর দেড় হাজার বছর থেকে শুরু করে আজ অবধি ঘটে চলা তিনটি আপাতবিচ্ছিন্ন সময়স্রোতের সঙ্গে মিশে গেছে গুপ্তচরবৃত্তির হিংস্র ইতিহাস, বিশ্বাসঘাতকতার প্রায়শ্চিত্ত, বন্ধুত্বের অভেদ্য বন্ধন।
অভীক সরকারের জন্ম পয়লা জুন, উনিশশো উনআশি সালে। বেড়ে ওঠা প্রাচীন শহর হাওড়ার অলিগলিতে। বাবা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ছিলেন, মা স্কুল শিক্ষিকা। রয়েছে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। পেশায় সেলসম্যান, কর্মসূত্রে ঘুরেছেন পূর্ব-ভারতের প্রায় সব শহর ও গ্রাম। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে বাসা বেঁধেছেন হায়দ্রাবাদ, পাটনা, মুম্বাই ইত্যাদি বিভিন্ন শহরে। শখের বই ব্যবসায়ী ও প্রকাশক। লেখালেখির শুরু আন্তর্জালে ও বিভিন্ন ব্লগে। প্রকাশিত বইগুলো হল মার্কেট ভিজিট, তিতিরপাখি ও প্রিন্সেস (সহলেখক অনুষ্টুপ শেঠ), এবং ইনকুইজিশন, খোঁড়া ভৈরবীর মাঠ, চক্রসম্বরের পুঁথি, ইত্যাদি। বিবাহিত। কন্যা সন্তানের পিতা। ভালোবাসেন ইলিশ, ইস্টবেঙ্গল, ইয়ারবন্ধু এবং ইতিহাস।
The story begins in ancient Tibet. A young man searching for his dear friend - his pet dog, stumbles upon a dark ritual wherein his dog has been sacrificed and turned into a terrible object of death and destruction. A monk would use his power to avert the evil. Then we moved ahead in time to when China would occupy Tibet and finally to the present age - to a location in north Bengal where people would start disappearing. I liked the character of Krishnananda Agambagish - I believe he also features in other stories.
The author has combined various themes such as ancient Hindu and Buddhist tantra, prophecies, sci-fi, espionage, conspiracy, love and friendship. And the author has managed to tell the story with 135 odd pages. The result is a very fast paced story ideal for a quick read or when the mind seeks come thrills and chills.
On the flip side, 135 pages are not sufficient for character development. Some readers might also feel that too many things are happening in the story.
Overall a satisfying read for supernatural thriller lovers.
বিজ্ঞান আর তন্ত্রের সমন্বয় ঠিক জমলো না। লেখকের 'এবং ইনকুইজিশন' বেশ ভালোই লেগেছিল, বিশেষ করে 'শোধ' নামের গল্পটা। সে তুলনায় এটা বেশ দুর্বল বলে মনে হলো।
3.5 /5 এর আগে খোঁড়া ভৈরবীর মাঠ পড়ে লেখকের লেখার সাথে আলাপ। আর এই বই টা নিয়ে তো চারিদিকে হইহই । তাই শখ করে কিনে ফেললাম। বইটা খুব বেশি দৈর্ঘ্যর না। কিন্তু অনেক বেশি ঘটনা। এত ঘটনায় বিজ্ঞানের সাথে তন্ত্র একটু যেন ঘেঁটে গেছে। তাই খুব বেশি ভালো লাগলো না
বেশ মন ভালো করে দেওয়া একটা বই পড়লাম। অভীক সরকারও আবারও বেশ তাক লাগিয়ে দিলেন পেতবত্থু দিয়ে। Sci-fi, তন্ত্রমন্ত্র এমনকি তার সাথে পুনর্জন্ম কে একসাথে মিশিয়ে বেশ জমাটি গল্প ফেঁদেছেন।
গল্পের কন্টেন্ট বেশ ভালো। " দেড় হাজার বছর আগে তৈরি এক পৈশাচিক ঝামেলা বর্তমান কালে এসে মিটে যাচ্ছে happy ending দিয়ে।" সারকথা এই। তার মাঝে জড়িয়ে যায় ওই লম্বা হাজার বছরের ইতিহাস, বন্ধুত্ব, বিশ্বাস ঘাতকতা, পূর্বপুরুষের ঋণশোধ ইত্যাদি।
কী ভালো লেগেছে :
✴️ একটা (আসলে অনেকগুলো) সম্পূর্ণ কাল্পনিক এবং একদমই অবাস্তব দৃশ্যের কিভাবে চিত্রানুগ বর্ণনা লিখতে হয় তা রীতিমত শেখার জিনিস লেখকের কাছে। একদম যেন চোখের সামনে হতে দেখছেন মনে হবে।
✴️ কিছু দৃশ্য মনে খুব জোড়ালো ধাক্কা দিয়েছে। নিজের কোন পোষ্য থেকে থাকলে সেই দৃশ্য গুলো পড়ার সময় কান্না আটকাতে পারবেন না। আরও আছে পরিবারের প্রতি ভালোবাসা, বন্ধুর প্রতি ভালোবাসা, আত্মত্যাগ। After all "ভালোবাসাই সব থেকে বড় জাদু, সব থেকে বড় তন্ত্র।" ভালোবাসা শুধু কয়েকটা বইয়ের কালো কালিতে লেখা শব্দ দিয়ে ব্যক্ত করা বেশ চাপের কাজ। তবে লেখক তাতে সিদ্ধহস্ত।
অপছন্দের বিষয় সমূহ :
🔸কল্পবিজ্ঞানের পার্ট গুলো একটু কাঁচা কাঁচা, তবে ক্ষমার অযোগ্য নয়। মানে Electro-gravitational dilation চলছে সেখানে বালি ঘড়ি কাজ করছে। এটাও মানতে হবে? 🤷🤷 তবে এটা গল্প, seriously নেওয়ার জন্য নয়; তাই চাপ নিলাম না।
🔸কৃষ্ণানন্দ আগম বাগীশ বেশ under-utilized এই গল্পে। এটা একটু খারাপ লেগেছে।🤦
🔸গল্পে কোনো নারী চরিত্র নেই।🤦
ব্যক্তিগত মতামত :
🔸তন্ত্র মন্ত্রের সাথে sci-fi কে জুড়ে দিলে আমার বেশ রাগ ধরে, but then again "magic is just science that we don't understand।"🙇 ✴️ হয়ত লেখক পড়ে কোন গল্প লিখবেন যাতে কোনো advanced civilization থেকে আসা alien আমাদের পূর্বপুরুষ দের তন্ত্রমন্ত্র শিখিয়ে যাবে। Who knows!!🧘🧘
সব মিলিয়ে বলব বইটা খারাপ না। পড়লে আফসোস হবে না। বেশ ভালোই লাগবে। তবে লেখকের ট্র্যাক- রেকর্ড দেখে যদি একটা expectation তৈরি করে পড়া শুরু করেন তাহলে কপালে দুঃখ আছে। (Maybe খানিকটা, আমি বিশাল কিছু নিরাশ হইনি।)🤷🤷
বইটিতে লেখক তন্ত্র এবং বিজ্ঞানের মেলবন্ধন ঘটাতে চেয়েছেন অথচ কাহিনী নির্মাণের ত্রুটিতে লেখকের উদ্দেশ্য সফল হয়নি, কোথাও যেন খেই হারিয়ে গিয়েছে। সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক, উপন্যাসটি কৃষ্ণনন্দ আগমবাগীশ সিরিজের হলেও, উক্ত চরিত্রটিই কাহিনী প্রবাহে বলপূর্বক প্রবিষ্ট মনে হয়।
কাহিনী ভাল। তবে শুরুর দিকে হিন্দি বাক্যের বাহুল্যে বুঝতে বেশ কষ্ট হয়েছে। এছাড়াও, প্রথম দিকের অনেকখানি পড়ে মনে হয়েছে শুধু মাত্র পৃষ্ঠা বাড়ানোর জন্য যুক্ত করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের যে ক'জন লেখককে নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে গুডরিডসে হাইপ চলছে, অভীক সরকার তার মাঝে একজন, এবং একমাত্র তার কিছু লেখাই, আমার মনে হয়েছে, সেই হাইপের কাছাকাছি যেতে পেরেছে। তবে এই বইটা নয়। এরচেয়ে খারাপ বই পড়িনি তা নয়, কিন্তু এই বইটা ছোট সাইজের হওয়ায় হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছি। অলৌকিকের সাথে সাই-ফাই যায় না, একেবারেই না। মনে হলো জলের ওপর কেরোসিন তেল ভেসে রয়েছে।
পূজাবার্ষিকীতে প্রকাশিত হওয়ার আগেই লেখাটা পড়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। তন্ত্র ও বিজ্ঞানের এক ক্ষুরধার খেলা এই উপন্যাস। তবে এর হৃৎপিণ্ড হল এক পশুর জন্য এক মানুষের প্রেম - যা দেশ-কালের সীমা পেরিয়ে এক অদ্ভুত মায়ায় ভাসিয়ে দেয় প্রতিটি পাঠককে। আমার পড়া অন্যতম সেরা লেখা। পিরিয়ড।
বিজ্ঞান আর তন্ত্রকে এক করতে গিয়ে একটা জগাখিচুড়ি সৃষ্টি হয়েছে। না বিজ্ঞানের দিকটা ঠিক আছে, না তন্ত্রের দিকটা। আরও অনেক খুঁটিনাটি ভুলত্রুটি ধরা যায়, যেগুলো না ধরাই ভালো।
রীতিমতো হতাশ বইটা পড়ে। অতিপ্রাকৃতিক হরর আর সায়েন্স ফিকশনের মিশেল একদমই জমেনি। যার নামে এই বই, সেই ভয়াবহ অশুভ শক্তি পেতবথুর দেখাই পাওয়া গেল না। কোনো চরিত্রই ভালোমত গড়ে ওঠেনি।
এবং ইনকুইজিশনের চারটে গল্প ধরলে, প্রকাশকাল অনু্যায়ী প্রেতবত্থু হয় কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ সিরিজের পঞ্চম গল্প। (এর মাঝে লেখক অন্য কিছু লিখে থাকলেও আমার জানা নেই, এক্ষেত্রে আমি ভুল হতেও পারি)।
গল্প এগিয়ে চলে তিনটে ভিন্ন সময়কাল ধরে। পটভূমিকা যথাক্রমে দেড় হাজার বছর পূর্বের তিব্বত, ৫০-এর দশকের টালমাটাল দিল্লি, এবং বর্তমান সময়ে উত্তরবঙ্গের লাল ঝামেলা বস্তি। গল্পে আগমবাগীশ মশাইয়ের আগমন যথারীতি মাঝবরাবর। কিন্তু কোথাও গিয়ে যেন মনে হয় চরিত্রটি না থাকলেও গল্পে খুব একটা পরিবর্তন আসতো না। ত্রিকাল জ্ঞানী কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ তাই এই গল্পে বড়ই স্তিমিত। তবে লেখকের একাধিক টাইমলাইন নিয়ে সুনিপুণ ভাবে খেলার প্রচেষ্টা কে জানাই সাধুবাদ। অনেকই আজকাল এটা চেষ্টা করেন বটে, তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাবলীলতার অভাব লক্ষ্য করা যায়।
অভীক সরকারের লেখনি আমার বরাবরই ভীষন পছন্দের। এ গল্পেও সেটার কোনো পরিবর্তন নেই। শেষাংশে কেবল মাত্র বর্ণনা শক্তির দ্বারা থ্রিল জিইয়ে রাখার ক্ষমতা লেখক পুনরায় ব্যবহার করেছেন এ গল্পে। এবং এ ক্ষেত্রে ইনকুইজিশনের গল্প গুলোকেও মাঝে মধ্যেই ছাপিয়ে গিয়েছেন বলেই আমার মনে হয়। তবে মানতে হবে, শুরুতে হিন্দি সংলাপের অতিমারী, এক গুচ্ছ নতুন চরিত্রের ঘনঘটা পড়ে খানিকটা বিরক্তই হয়েছিলাম। লেখক সেটা শেষ পর্যায়ে এসে পুষিয়ে দিয়েছেন বলেই রক্ষে।
তবে কিনা গল্পের মূল বিষ়বস্তু হলো বইটির প্লাস পয়েন্ট এবং দুর্বলতা দুটোই। তন্ত্রের সাথে বিজ্ঞানের মেলবন্ধনের একটা সাহসী প্রচেষ্টা করেছেন লেখক। ফলাফল, উপন্যাসটি যতটাই তন্ত্রের উপাখ্যান, তারও বেশি সায়েন্স ফিকশন। এবারে বলে রাখা ভালো, বিজ্ঞানের ছাত্র বা চর্চিতা কোনটাই আমি নই। তাই কোয়ান্টাম বা পার্টিকল ফিজিক্স, ম্যাটার বা অ্যান্টি ম্যাটার, স্পেস এবং টাইম কন্টিন্যুয়াম। লেখকের চর্চিত কোনো তত্ত্বই আমি আমার এই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মস্তিষ্কের জোরে ঠিক না ভুল বিচার করতে পারলাম না। ওসব আমার পক্ষে ধৃষ্টতা। তবে কিনা এটুকু বলতে পারি, যে অভীক সরকারের সাবলীল লেখনীর জোরে তন্ত্র, সাইন্স এবং সিউডো সাইন্সের এই জগাখিচুড়ী বেশ উপভোগ্য। পড়তে দারুন লাগে। তবে 'শোধ' বা 'ভোগ' পড়ে আসার পরে একটি তন্ত্র বর্ধিত ভয়াল উপন্যাসের খোজে যারা আসবেন তারা যারপরনাই হতাশ হবে। গল্পটিতে ভয় খুব একটা লাগে না বললেই চলে।
তন্ত্রের দিক থেকে প্রেতবত্থু লঘু হলেও, গল্পের হৃদয় বহাল তবিয়তে অক্ষত সেই কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশের কাছেই। হালফিলের অজস্র তন্ত্র হরারের অযাচিত বিভৎসতা, নৃশংস রগরগে যৌনতার আবেশ থেকে অভীক সরকার বরাবরই কিছুটা হলেও সতন্ত্র। কারন তার গল্পের মূলে যে নির্ভেজাল নিষ্কামনার জয়। শেষ অবধি অন্ধকার ভেদী আলো রুপি ভালোবাসার উত্থান। কারন ভালোবাসাই যে হল সবচেয়ে বড় তন্ত্র, সবচেয়ে বড় জাদু। তার লেখা গল্প পড়ে তাই কৃষ্ণানন্দের ভাষায় বলে উঠতে ইচ্ছে হয়, ভালো হোক, যারা ভালোবাসে তাদের ভালো হোক। ভালো হোক।
- যার ভিতরে কোনো প্রেতাত্মা লুকিয়ে রাখা হয়। যার জন্য এই প্রেতবস্তু বানানো হয়,তার সর্বনাশ ঘটে, সে সবংশে নিহত হয়।
দেড় হাজার বছর আগের প্রাচীন তিব্বত। থুবতেন নামক এক যুবকের এই জগতে কেউ নেই। আছে শিনজে নামক একমাত্র সংগী দ্রোক-খি। দ্রোক-খি হলো বিরাট তিব্বতি ম্যাস্টিফ কুকুর। এক রাতে থুবতেনের সামনে উন্মোচিত হয় তিব্বতের সম্রাট মে অগছোমের বিরুদ্ধে করা এক ভয়ানক ষড়যন্ত্র। যে ষড়যন্ত্র সফল করতে থুবতেনের শিনজেকে প্রেতসিদ্ধ করতে চায় ষড়যন্ত্রীরা। সর্বনাশ ঘটে যাবার আগেই থুবতেন সাহায্য চায় সর্বশ্রেষ্ঠ তান্ত্রিক পদ্মসম্ভব এর কাছে। কিন্তু ততক্ষণে যে পেতবত্থু জাগ্রত হয়ে গেছে!!!
১৯৫৯। চায়না দখলে নিয়েছে পবিত্রভূমি তিব্বত। দলাই লামা এবং তার বিশ্বস্ত সহযোগীরা পালিয়ে চলে এসেছেন ভারতে। তাদেরই একজন লোবসাং। তিব্বত থেকে পালিয়ে আসার সময় সামান্য যা কিছু নিয়ে সবাই পালিয়ে এসেছে তাদের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অমূল্য পঞ্চজ্ঞানমঞ্জুশ্রী। পঞ্চজ্ঞানমঞ্জুশ্রী হচ্ছে কদম্পা ধর্মমতের এমন পাঁচটি পবিত্রতম পুঁথি যা একমাত্র স্বয়ং দলাই লামা বা তাঁর মনোনীত ব্যক্তি ছাড়া আর কারও দেখার অধিকার নেই। তার থেকে একটি মঞ্জুশ্রী উধাও হয়ে যাওয়াতে ডাক পড়ে দলাই লামার আজ্ঞাধীন গোপনতম যোদ্ধাবাহিনী মহাকালচক্রের। অন্ধকারের গহীনতম শক্তি এই মহাকালচক্র। এরা পারে না হেন কোনো কাজ নেই। গুপ্তহত্যায় এদের সিদ্ধি প্রবাদপ্রতিম, আর মহাকালচক্রের হাতে মৃত্যু বড় ভয়ঙ্কর, বড় নৃশংস। মহাকালচক্রের হাত থেকে বাঁচতে লোবসাং আশ্রয় নেন ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা আই বি এর কাছে। কিন্তু সর্ষের মধ্যেই যদি ভূত লুকিয়ে থাকে তখন?
বর্তমান সময়। ডায়না নদীর তীরে অবস্থিত টেংমারি টি গার্ডেন আর লাল ঝামেলা বস্তি। এরই পাশে অতি গোপনীয় এক প্রজেক্ট চালু হবার পরপরই একের পর এক লোক গায়েব হয়ে যাচ্ছে। তাদের হদিস আর পাওয়া যাচ্ছে না। আসল ঘটনা কি জানতে মামার অনুরোধে টি গার্ডেনে আসে দুই বন্ধু দেবু আর সুজন। শুরুতে মামুলি ঘটনা ভাবলেও শীগ্রই সবকিছু মোড় নেয় ভয়ানক এক দুঃস্বপ্নে।
অভীক সরকারের পেতবত্থু বইটিকে পাঁচমিশালী বই বলা যায়। তিন-চারটে টাইমলাইন, তন্ত্র-মন্ত্রের সাথে সাইন্সের মিশ্রণ আর ফাস্ট পেসড বইয়ে লেখনীর গুণে দুর্দান্ত দৃশ্যায়ন; এসব কিছুই আবার ১৩৫ পৃষ্ঠার মধ্যে এটে যাওয়া। বইটিকে শুরতে মনে হচ্ছ��ল অতিপ্রাকৃত হরর কোনো বই হবে। তন্ত্র-মন্ত্রের বিশদ বর্ণনা সেই ইংগিতই দিচ্ছিল। কিন্তু পরে আবার তাকে সায়েন্স দিয়ে জাস্টিফাই করতে গিয়ে মনে হবে যেন এটি কোনো সাই-ফাই। কিছু ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুর এই দুইয়ের মিশেলে চমৎকৃত হচ্ছিলাম। কিছু ক্ষেত্রে আবার ভীষণ বিরক্তিকর এবং হাস্যকর লাগছিল। ছোট সাইজের বইয়ে এসবকিছু ঠেসে ভরতে গিয়ে ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট কিছুই ছিল না। এমনকি যেই পেতবত্থুর নামে বইয়ের নাম তার দেখাই পাওয়া যায়নি।
তবে বইটি তারপরেও পড়তে বেশি একটা খারাপ লাগেনি তার কারণ হচ্ছে লেখনীর গুণে। সবকিছু যেন চোখের সামনে ভাসছিল। অভীক সরকারের প্রশংসা করতে হবে এক্ষেত্রে। ছোট কলেবরের এবং ফাস্ট পেসড হওয়াতে বিরক্তিকর বোধ হয় না তেমন। ওয়ান টাইম রিড হিসেবে ঠিক আছে।
আমাদের তন্ত্রের এত খারাপ দিন আসেনি যে সস্তার বিজ্ঞানযুক্তি দিয়ে সেটাকে ব্যাখা দিতে হবে। শুরুটা ভালোই হয়েছিল, কিন্তু মাঝখান থেকে রোগের উপসর্গ দেখা দিল আর শেষে গিয়ে সব গুলিয়ে ঘেটে ঘন্ট পাকিয়ে গেল। অভিকবাবু অন্তত তন্ত্রটা ভালো জানতেন এইটুকু বিশ্বাস ছিল...
প্রথমটা পড়তে শুরু করে বেশ ভালোই লাগছিল। গল্পের প্লট বেশ সুন্দর ছিল কিন্তু এতগুলো টাইমলাইন এর হিসেব রাখতে গিয়ে কেমন যেন সব গুলিয়ে গেলো। অধিক সন্ন্যাসী তে গাজন নষ্ট হয়ে গেলো মনে হচ্ছে যেন।
পড়ে ভয় লাগেনি। উনার সব গল্পই কেমন যেন মানবতার প্রতি ভালোবাসার গল্প। ভীতি ঠিক কাজ করেনা। একজন পাঠক হিসেবে এরকম থ্রিলার থেকে একটু গা শিরশিরে অনুভূতি আশা করি।
অনেক আশা নিয়ে বইটা পড়তে বসেছিলাম । আগমবাগীশ সিরিজের উপন্যাস বলে কথা ! কিন্তু শুরুতে কৈফিয়তে যখন পড়লাম যে লেখক দেবী মহাকালীর গল্পের সাথে তাঁর একটি পূর্বলিখিত কল্পবিজ্ঞানের গল্প জুড়ে দিয়েছেন তখন মনটা সত্যিই দমে গেল । একটা লোমহর্ষক ভয়ের গল্প আশা করছিলাম, সেখানে কল্পবিজ্ঞান টেনে এনে লেখক ভয়টা দেখাতে পারবেন তো? এটা তো আর লাভক্রাফ্ট ঘরানার হরর নয় যে মহাজাগতিক কোনো ব্যাখ্যাহীন, অবর্ণনীয় বিভীষিকার মাধ্যমে লেখক এই অকল্পনীয় রকমের সুবিশাল মহাবিশ্বে মানুষের নগণ্যতাকে তাঁর সামনে তুলে ধরে মনস্তাত্ত্বিক ভীতির সঞ্চার করবেন ! যাই হোক, "দেখা যাক" বলে শুরু করলাম ।
প্রথমে শুরু করি গল্পটিতে কী-কী ভালো লেগেছে সেটা দিয়ে— যেটা প্রথমেই বলতে হয় তা হল লেখকের এই প্রয়াসকে আমি সাধুবাদ জানাতে চাই । কল্পবিজ্ঞান আর অলৌকিকত্বের মেলবন্ধনই শুধু তিনি ঘটাননি, দুটোকে একে-অপরের পরিপূরক হিসেবে উপস্থাপনা করেছেন । এমনটা এখনো অবধি আমি আর অন্য কোনো গল্পে দেখিনি । আর আগমবাগীশ সিরিজের গল্প মানেই ভালোবাসার গল্প; এটাও তার ব্যতিক্রম নয় । কালজয়ী এক ভালোবাসার গল্প এটা, যা দেড় হাজার বছর আগেকার এক অনাথ যুবকের অকৃত্ৰিম পোষ্যপ্রেম আর বর্তমান সময়ের দুই বন্ধুর ভালোবাসাকে এক সুতোয় বেঁধে দেয়; যেখানে দুর্নিবার পিতৃস্নেহের বশে এক পিতা নিজের সন্তানকে কালগহ্বরের গ্রাস থেকে ছিনিয়েই শুধু আনেন না, তাকে বুকে টেনে নিয়ে অবসান ঘটান তাঁর শৈশবের সমস্ত বঞ্চনার । আগমবাগীশের গল্পে ভালোবাসার পরাজয় হয় না শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও, কারণ "ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় তন্ত্র, সবচেয়ে বড় জাদু ।" গল্পে কৃষ্ণানন্দ আগমবাগীশ সচরাচর যেমন friend, philosopher, and guideএর ভূমিকা পালন করে থাকেন, এখানেও তাই করেছেন । এইদিক দিয়ে নতুনত্ব সেরকম কিছু নেই । নতুনত্ব রয়েছে কল্পবিজ্ঞানের পটভূমিকায় । লেখক যে এই বিষয়েও পড়াশুনো করে লিখেছেন সেটা বোঝা যায় । যদিও আলাদা মাত্রা (dimension) কল্পনা করা একটা নতুন রং কল্পনা করার মতোই দুরূহ ব্যাপার ! তদ্সত্ত্বেও বলব লেখকের কল্পনাশক্তি প্রশংসনীয় ।
এবারে আসি কী ভালো লাগেনি সেই প্রসঙ্গে— দুর্ভাগ্যবশত, যে ভয়টা পাচ্ছিলাম সেটাই সত্যি হয়েছে । লেখক অকাল্ট হরর আর কল্পবিজ্ঞানের মিশেলে গল্প লিখতে গিয়ে অকাল্ট আর কল্পবিজ্ঞানকেই কেবল ধরে রাখতে পেরেছেন; হররটা বিলকুল উবে গিয়েছে ! গল্পের আর সবকিছু ভালো লাগলেও ভয়টাই আর পাওয়া হয়ে ওঠেনি । যেটা হরর গল্প হওয়ার কথা ছিল, সেটা হয়ে গিয়েছে থ্রিলার । যদিও সেটা যে চেষ্টার ত্রুটিতে এমন নয় । লেখক চেষ্টা করেছেন; কিন্তু মুশকিলটা হচ্ছে কিছু জিনিস স্বচক্ষে দেখলে যতখানি ভয় লাগবে, বইতে পড়লে তাঁর ছিঁটে-ফোঁটাও লাগবে না । মহাকাল ও মহাকালীর দ্বৈরথকালীন প্রকৃতির যে রুদ্ররূপের বর্ণনা লেখক দিয়েছেন তা আদতেই বড় ভয়ঙ্কর; কিন্তু বইয়ের পাতায় তা ভয় দেখাতে অপারগ (অবশ্য হতে পারে আমার কল্পনাশক্তি যথেষ্ট প্রবল নয়, তাই !) ।
আর পদার্থবিজ্ঞানী শঙ্কর গাঙ্গুলী নাহয় খুব বড়মাপের বিজ্ঞানী মানলাম, কিন্তু তাই বলে তাকে এতটাও অতিরঞ্জিত করার প্রয়োজন ছিল কি? ফিজিক্স আর ম্যাথসে অলিম্পিয়াডে গোল্ড মেডেলিস্ট অবধি ঠিক ছিল কিন্তু তাই বলে একেবারে ফিল্ডস মেডেল? তাও কিনা Fermat's last theorem সমাধান করার জন্য ! বড্ডই বাড়াবাড়ি হয়ে গেল এটা । দরকার ছিল না । পদার্থবিদ্যা আর গণিত— এই দুটি বিষয় বর্তমানে এতটাই বিস্তৃত আর গভীর যে দুটি বিষয়ই কোনো একজন মানুষের করায়ত্ত হওয়া অসম্ভব ! তার উপরে ফার্মা'স লাস্ট থিওরেম হল একটা Millennium Prize problem; পিয়ের দে ফার্মা এই সমস্যার কথা লিখে যাওয়ার পর ৩৫০ বছর লেগেছে এর সমাধান হতে ! আর বাস্তবজগতে যিনি এর সমাধান করেন, সেই অ্যান্ড্রু ওয়াইলস (Andrew Wiles) দীর্ঘ ৭ বছর ধরে শুধু ওই সমস্যাটা নিয়েই লেগে ছিলেন । যাই হোক, কথাটা হল লেখক অনেক পড়াশুনো করলেও "জিনিয়াস" বাস্তবে কীরকম হয় তা ঠিক ধরতে পারেননি ।
সব মিলিয়ে তাই গল্পটি নিয়ে আমার প্রতিক্রিয়া মিশ্র । ভালোও লেগেছে কিন্তু হতাশও খানিকটা হয়েছি । কল্পবিজ্ঞানের সাথে ভৌতিক মেশাতে যাওয়াটা যে ঝুঁকিপূর্ণ কাজ এবং তাতে যে গল্পটা শেষ অবধি কোনোটাই ঠিকমতো হয়ে ওঠে না, আমার এই আশঙ্কাটাই সত্যি হল "প্রেতবত্থু"র ক্ষেত্রে । আশা করি ওনার বাকি গল্পগুলোতে ভালোবাসার সাথে ভয়টাকেও খুঁজে পাওয়া যাবে ।
বাংলা সাহিত্যের সাম্প্রতিককালের উদিয়মান প্রতিবাভান লেখকদের মধ্যে অভীক সরকারের নাম কে না জানে!! ওনার লেখা উপন্যাস পেত বথু পড়ে ফেললাম। পার্টিকল ফিজিক্স, কোয়ান্তুম ফিজিক্স, স্পেস টাইম এসবের সাথে তন্ত্রের মেলবন্ধন ঘটানোর একটি দুঃসাহসিক কাজ করেছেন লেখক। বাংলা ভাষায় এরকম দুঃসাহসিক এক্সপেরিমেন্ট প্রথম বার দেখলাম। বইটি থ্রিলার হিসেবে খুব ভালো এবং পাঠক কে গুগল সার্চ করে অনেক কিছু জানার এবং শে���ার প্ররোচনা দেবে নিঃসন্দেহে। প্যারালাল তিনটি সময়ের গল্প বলা হয়েছে, যা আজকাল খুব পপুলার।
কিন্তু দুটি বিষয়ে বই টিতে আরেকটু মন দিলে ভালো হতো। বেশ কিছু টার্ম ব্যবহার করা হয়েছে, যা অনেকে প্রথম বার শুনবে বা পড়বে। সেগুলো আরো জীবন্ত করার জন্য কিছু ছবি দিলে আরো ভালো হতো। লেখক বা পাবলিশার কারুর একজনের এই বিষয়টা ভাবা দরকার। আর দ্বিতীয়ত, ফিজিক্স এর কিছু টার্ম বা তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, কিন্তু সেগুলো সেরকম প্রাঞ্জল ভাবে বোঝানো হয়নি। সাধারণ পাঠকের জন্য আরেকটু সহজভাবে তথ্যগুলো বোঝালে আরো ভালো হতো। মুশকিল হয়েছে এই ফিজিক্সে মন দিতে গিয়ে লেখকের যা ইউএসপি, তন্ত্র বিদ্যা, সেটাতে অতটা মন দেয়া হয়নি। খোঁড়া ভৈরভির মাঠ বা এবং ইনকুইজিশন পড়ে যে তন্ত্রের সন্ধান পাওয়া যায়, সেটা এই বইতে অনুপস্থিত।
আরেকজন ভারতীয় লেখক আশ্বিন সাংভির Keepers of Kalachakra একই বিষয়ে লেখা। সেই বইটি তে যথেষ্ট ছবি এবং সহজ এক্সপ্লানেশন দিয়ে এই জিনিস ত বোঝানো হয়েছে।
মুখিয়ে ছিলাম পড়ার জন্য। অবশেষে পড়ে শেষ করে ফেললাম অভীক সরকারের লেখা এই বই। লেখকের লেখার মধ্যে একটা টানটান অথচ এক সুমধুর ব্যাপার আছে, যা একদিকে উত্তেজনা, অন্যদিকে এক পরম শান্তির উদ্রেক করে।
কিন্তু বইটি আমার খুব যে ভালো লেগেছে তা বললে ভুল হবে। প্রথমেই লেখনীর কথা বললাম, তা খুবই ভালো। যারা লেখকের লেখা পড়েছেন আগে, তারা জানবেন, লেখক সমান্তরাল সময়কাল নিয়ে লেখায় পারদর্শী। সেই পারদর্শিতা এই বইতেও চোখে পড়েছে। কিন্তু দেড় হাজার বছর থেকে শুরু করে, বর্তমান সময়কাল অব্দি আসতে, লেখক এত চরিত্র, এত থিমে হাত দিয়েছেন, যে শেষে নিজেই সামাল দিতে পারেননি। দেড় হাজার বছর আগের যে সময়কালের কথা, ১৯৫৯ এর কথা, এগুলো উপন্যাসে মনে হয়েছে বড় তাড়াতাড়ি এসে গেছে। বিজ্ঞানের সাথে তন্ত্রকে এবার লেখক মেলাবার চেষ্টা করেছেন। নিঃসন্দেহে নতুন প্রচেষ্টা, কিন্তু সম্পূর্ণ ভাবে সফল, তা বলবো না। আমার মনে হলো, ইতিহাস লেখকের যতটা সহজে আসে, বিজ্ঞান ততটা আসে না। আগমবাগিশকেও কেমন যেন লাগলো এবার! যাইহোক, মোটের উপর, একবার পড়তেই পারেন, নিরাশ হবেন না। তবে কতটা উপভোগ্য লাগবে, বলা মুশকিল।
জমলো না, বইয়ের আকারে প্রকাশ করতে গিয়ে হয়ত ঘেঁটে গিয়েছে। কেননা যে উপন্যাসটা শারদীয়া বইচই এ পড়েছিলাম সেটার বাঁধুনি এর চাইতে একটু ভালো ছিল। সম্ভবত প্রকাশকের তাগাদায় লেখক একটু থিওরী বেশি ঢুকিয়ে দিয়েছেন। অভীক সরকারের যা লেভেল তার চাইতে পেতবত্থু বিলো এভারেজ লেখা বলেই মনে হয়েছে, পাঠক হিসেবে হয়ত সেটা আমারই ব্যর্থতা যে আমি সঠিকভাবে বুঝতে পারি নি।
দেড় হাজার বছরের একটি অভিশাপ মুক্ত করতে গিয়ে কেনই বা দলাই লামার একজন অত্যন্ত কাছের মানুষকে খুন হতে হয়? কেনই বা উত্তরবঙ্গের একটি চা বাগানের বস্তি থেকে উধাও হয়ে যাচ্ছে লোকজন, যন্তর মন্তর নামের মস্ত বাগানবাড়িতেই বা কি হচ্ছে,সেখানে স্থানীয় কারো প্রবেশাধিকার নেই কেন? অন্যদিকে যেচে উপকার করতে আসছেন কেষ্টদা নামের এক ব্যক্তি,তাঁর আসল পরিচয়টাই বা কি? জানতে হলে পড়তে হবে। একেবারেই ফেলে দেওয়ার মত নয়,পড়ে দেখতেই পারেন।