কে এই দেবতা পাংগু, যিনি ঘুমিয়ে ঘুমিয়েই সৃষ্টি করেছেন স্বর্গ ও পৃথিবী? দেবী নুওয়া না চাইলে, ধরণী কি পেত মানুষের দেখা? কেন আজো বানর-রাজা সন-ওয়েকংকে দেখা যায় চীনের বিভিন্ন পণ্যের মোড়কে? সমৃদ্ধ চৈনিক লেখন-শৈলীর জন্ম হলো কীভাবে? চাঁদের দিকে তাকালে কেন দেখতে পাওয়া যায় জেড খরগোশের অবয়ব? চৈনিক পুরাণ, চীনা-সভ্যতার মতোই, বহু প্রাচীন এবং সমৃদ্ধ। এর সঙ্গে যুগে যুগে যোগ হয়েছে অগণিত কিংবদন্তি, মুখরোচক গল্পে বুঁদ হয়েছে মানুষ। প্রিয় পাঠক, আসুন, চৈনিক পুরাণের মজাদার আখ্যানে আমরাও করি অবগাহন।
পুরাণ শব্দটা শুনলে আমার মাথায় রামায়ণ থেকে শুরু করে গ্রীক সমস্ত দেব দেবী একসাথে জট পাকিয়ে যায়। আর চায়না সম্পর্কে আমার বিশদ জ্ঞান Kung Fu Panda থেকে শুরু হয়ে Kung Fu Panda 3 তে গিয়ে শেষ হয়। সব মিলিয়ে ধারণা ছিল বইটা দুর্বোধ্য কিছু ঠেকবে আমার কাছে। এত সুন্দর গোছানো, সহজ সাবলীল ভাষায় লেখা একেবারেই আশা করিনি। পুরাণের কাহিনী আর কিংবদন্তি থেকে প্রভাবিত কিছু গল্পকে এই বইতে আনা হয়েছে। বইয়ের ভূমিকাতে লেখা অংশগুলো ভালো। কিংবদন্তী রাজা আর কিছু রাজবংশের শাসনামল দেয়া। আমার ভুলও হতে পারে, তবে কিছু সাল এ প্রিন্টিং মিস্টেক আছে সম্ভবত। চীনের ইতিহাস আর পুরাণ অনেকটা মিশে আছে একসাথে। কিন্তু একজন বিশেষ রাজার অবিবেচকের মত অসংখ্য বই জ্বালিয়ে দেয়াতে এইসব ইতিহাস বের করা কষ্ট হয়ে যায়, অনেক পরিবর্তন আসে। অধ্যায়গুলো সুন্দর করে সাজানো পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে শুরু করে হস্তলিপির প্রচলণ, কৃষিবিদ্যা, নদী বশীকরণ সব কিছু নিয়ে ছোট ছোট কাহিনী ধাপে ধাপে আগানো হয়েছে। এরপর দেয়া বেশ কিছু কিংবদন্তী চরিত্র আর তাদের ঘিরে গল্প। সেই ২০০১ এর বইমেলায় বানর রাজা সন ওয়েকং এর সাথে একটু পরিচয় হয়েছিল। তখন ভেবেছিলাম সাধারণ রূপকথা। কিন্তু সে যে এত বিখ্যাত চরিত্র তা জানা ছিলনা। এরপরের পূর্ণিমায় খুঁজে দেখবো চাঁদে জেড খরগোশকে দেখা যায় কিনে। 🤭 সবগুলো অধ্যায় এর সব কাহিনীই অনেক চমকপ্রদ আর ভালো লেগেছে। গল্পগুলার মধ্যে অনেক লুকানো মোরাল আছে।
কয়েকটা প্রিন্টিং মিস্টেক আর ডাস্টকভার টা বই এর সাথে আঠা দিয়ে লাগানো - এছাড়া আর কোন কিছুই আমার একটুও খারাপ লাগে নাই বইটার।
পুরাণ, শব্দটা সংস্কৃত ভাষা থেকেই এসেছে বলে মনে করা হয়, আপাতদৃষ্টিতে যার অর্থ হচ্ছে- প্রাচীন কথা বা ইতিহাস। মিথ শব্দটার উৎপত্তি গ্রিক শব্দ মাইথস হয়ে ল্যাটিনের সাথে মাখামাখি করে তবেই। তো মাইথস বেচারা দুই চারটা চিহ্নের জন্য পরিচিতি লাভ করেছিল- যেটাকে ভাষা এবং লিপি হিসাবে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছিল, অমনি ল্যাটিন লেগে গেল এর পেছনে- শুধু ভাষা, লিপিতে কাজ চলবে না, রূপক অলঙ্করণে কাহিনি বানাতেই হবে। যাইহোক, পুরাণ, মিথের পাশাপাশি আরো একটা শব্দের উল্লেখ করতে হয়- কিংবদন্তি। অনেকেই দেখছি আজকাল মিথ, পুরাণ আর কিংবদন্তিকে এক কাতারে এনে নিজেরাও গুলিয়ে ফেলছে এবং অন্যকেও গুলিয়ে দিচ্ছে। সত্যি বলতে কী এই তিনই আলাদা। সংক্ষেপে একটু আলোচনা করা যাক তবে। মিথ নিয়ে উপরেই বলেছি। ইউরোপীয় ভাষায় নেই পুরাণ আর ভারতীয় ভাষায় নেই মিথ। দুটি শব্দের ব্যঞ্জনা-পরিসর অনেকটা এক হলেও কিছুটা স্তরের পার্থক্য আছে। আছে ভৌগোলিক আর ঐতিহ্যগতও অমিল, ক্ষেত্রবিশেষে অল্প একটু মিল। এদিকে যেহেতু মিথের বাংলা কোনো প্রতিশব্দ পাওয়া যাচ্ছিল না কিন্তু পুরাণের স্তরের সাথে এর কিছুটা অন্তত মিল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল তাই প্রতিশব্দ হিসাবে মিথকে বাংলায় পুরাণ বলে আমরা স্বীকার করে নিয়েছি। মিল অমিলের প্রসঙ্গ এইটুকুতেই বুঝে নেওয়া উচিত। অপরদিকে কিংবদন্তি- এটা ব্যক্তি নির্ভর এবং অবশ্যই সেই ব্যক্তি কল্পনা সৃষ্ট নয়। একজন ঐতিহাসিক চরিত্র, যে আর দশজনের মতো হয়েও নিজের কাজের জন্য সবার থেকে আলাদা। কিংবদন্তি কখনো সেই মানুষটার বীর গাথা শোনায় আবার কখনো তাকে ঘিরে কোনো ঐতিহাসিক ঘটনাকে শোনায়। কিংবদন্তিতে মানুষের কল্পনার রঙ মিথের চেয়ে অনেকাংশেই কম। মিথের প্রধান বৈশিষ্ট্য যেখানে দেবদেবী আর সৃষ্টিতত্ত্ব, সেখানে কিংবদন্তি এই সবের ধার ধারে না। পুরাণ আবার এইসব থেকে আলাদা হয়েছে একটা ভিন্ন উপায়ে- বর্ণাশ্রম বিন্যস্ত, ব্রাহ্মণ্যতন্ত আর ক্ষাত্রশক্তি পরিচালিত সমাজের চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে। তিনের মিল আর অমিলও এই কারণেও। এখন আসি মূল কথায়। চৈনিক বলতে চীনদেশ সম্পর্কীয় বুঝাই আমরা, হোক সেটা ভাষা কিংবা মানুষ অথবা সমগ্র দেশটাই। সুতরাং এই চৈনিক পুরাণ দিয়ে প্রাচীন চীন দেশের ইতিহাসই বুঝানো হয় এবং এই বইও এর প্রমাণ রেখেছে- মিথ্যার মধ্য দিয়ে সত্যকে অনুসন্ধানের মাধ্যমে। হুম, ওই মিথ্যা শব্দ দেখেই এখন চোখ কপালে উঠেছে, উঠুক। বলা তো যায় না, এই মিথ্যার আদি ভার্সন মিথ্যিয়া থেকেই হয়তো মিউথোস> মিথ এসেছে (আমার কল্পনা)। যাইহোক, সামনে এগিয়ে যাই... এই বইয়ের সবচেয়ে ভালো লাগা অংশটুকু হলো চীনের দশ কিংবদন্তি রাজা আর তাদের শাসনামল ও উল্লেখযোগ্য অবদানের একটা ছক। সাথে প্রধান ঐতিহাসিক রাজবংশ আর তাদের শাসনামল ও উল্লেখযোগ্য অবদানের ছক। এর আগে চীনের মিথ নিয়ে বাংলায় কোনো লেখা আমি পাইনি। খুব যে একটা জানাশোনা ছিল এটা নিয়ে তাও না। চৈনিক পুরাণ পড়তে নিয়ে যখন প্রথমেই এই ছকটি চোখে পড়ল এবং একটা ঘাঁটাঘাঁটি করলাম, সহসা বুঝতে পারলাম লেখক খেটেছে ভালোই। বইটাকে অল্পের মাঝে পূর্ণাঙ্গভাবে সাজাতে আপ্রাণ চেষ্টা করেছে। সেই বিবেচনায় বইটাকে স্বয়ংসম্পূর্ণ বলব আমি। পুরাণের প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সৃষ্টিতত্ত্ব। এই বইতেও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে লেখক। প্রথম অধ্যায়েই পৃথিবী ও মানুষের উৎপত্তির আখ্যান দিয়ে শুরু হয়েছে চৈনিক পুরাণ। পরবর্তী অধ্যায় এসেছে হস্তলিপি ও বিদ্যার আখ্যান, যেখানে আছে মোট তিনটা গল্প। তারপর এসেছে তৃতীয় অধ্যায়- প্রকৃতির আখ্যান, যেখানে আছে তিনটা গল্প। চতুর্থ অধ্যায় এসেছে লি তিগুয়াই-এর উপাখ্যান, এখানেও আছে তিনটা গল্প। এই পর্যন্ত গল্পগুলো কিংবদন্তি আর পুরাণের মিশ্রণে মোড়া। কষ্ট করে এই চার অধ্যায় পাড় করে এলেই দেখা পাবেন বানর-রাজার, সন ওয়েকং এর। তারপর বইটাকে রোলারকোস্টার বলে মনে হবে আপনার। কেননা, চেনা পরিচিত কিছু খুব সহজেই আকৃষ্ট করে ফেলে আমাদের। উক্ত চার অধ্যায়ের সাথে হয়তো অনেকেরই প্রথম পরিচয় ঘটবে, কিন্তু অধ্যায় পাঁচেই আমাদের চিরচেনা মাঙ্কি কিং-এর দেখা পাবো আমরা। এরপরেই অধ্যায় ছয়- নুওয়ার প্রতিশোধ, অধ্যায় সাতে আছে তিন রাজ্যের উত্থানের উপাখ্যান এবং অধ্যায় আটে আছে কিছু কিংবদন্তির কাহিনি (ইউনিকর্নের দৈববাণী, জেড খরগোশ এবং নেই-ঝা... ইত্যাদি। এখানে একটা কথা বলে রাখা দরকার, চীনের এইসব কিংবদন্তি আর মিথ নিয়ে অনেকগুলো এনিমেটেড আর লাইভ অ্যাকশন সিনেমা আছে, নেই-ঝা তেমনই একটা। সন ওয়েকং যে কতবার কতভাবে পর্দায় উপস্থাপিত হয়েছে এবং হচ্ছে সে তো প্রায় সবারই জানা।) অতঃপর অধ্যায় নয়- অধুনিক পুরাণের কাহিনি, যেখানে লাউয়ের খোলের ভেতর সাত বালকের জন্ম কাহিনি দিয়ে বইয়ের সমাপ্তি। দীর্ঘ একটা যাত্রার সমাপ্তি হওয়ার পর মন মোহাচ্ছন্ন হয়ে থাকে, প্রতিক্রিয়া জানানোর মতো অবস্থায় থাকে না সে আর। ভেবে দেখলাম, আমরা গ্রীক মিথলজি নিয়ে যতটা জানি ততটা অন্য মিথলজি নিয়ে হয়তো জানি না। এমনকি আমরা এটাও জানি না যে প্রায় বিশ্বজুড়ে এমন আরো বহু মিথলজির সন্ধান পাওয়া যাবে এবং আশার কথা এর বেশকিছু হয়তো আগামীতে বিব্লিওফাইল থেকে প্রকাশও হবে। চৈনিক পুরাণের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি প্রকাশ পেয়েছে নর্স মিথলজি- র্যাগনোর্ক। বইতে উল্লেখ করা আছে আগামীতে প্রকাশ হতে পারে এমন কিছু শিরোনামও, তাই অপেক্ষায় রইলাম। লেখকের প্রতি রইল শুভকামনা, বিশেষ করে কোরিয়ান স্টিফেন কিং খ্যাত ইউ ঝাঙ-ঝাঙের লেখা 'দ্য গুড সান' এর অনুবাদের জন্য।
পুরাণ মানেই সৃষ্টি রহস্য আর দেব-দেবীদের নিয়ে লোকগাথার হাতছানি। যা শুনতে যেমন ভালো লাগে, তেমনই কল্পনায় রং চড়াতে। ছোটোবেলা থেকে সকলে নানান রূপকথার গল্প শুনে বড়ো হয়েছি। তাই রূপকথা নিয়ে আগ্রহ ঠিক তখন থেকে। তবে রূপকথা আর পুরাণ ঠিক এক নয়; ভিন্নতা আছে। পুরাণে সৃষ্টির শুরুর কথা থাকে, যা দেশ ভেদে আলাদা হয়। রূপকথায় দেশিয় মিথ থেকে উৎপত্তি কিছু কিছু গল্প অঞ্চলভেদে ভিন্ন হয়।
যাহোক, আমরা হিন্দু, মিশরীয়, গ্রিক, নর্স পুরাণ নিয়ে যতটা জানি—তার খুব অল্পই জানি জাপান, চীন নিয়ে। পুরাণ পছন্দ করেন এমন পাঠকদের চীনা উপকথা বা প্রচলিত সৃষ্টির শুরু আর কিংবদন্তি চরিত্রদের সম্পর্কে জানতে ❛চৈনিক পুরাণ❜ বইটি লেখা। কিংবদন্তি রাজা, প্রধান ঐতিহাসিক রাজবংশ পরিচিতির মাধ্যমে এই বইয়ের সূত্রপাত। এর পরে একে একে উঠে আসে পৃথিবী ও মানুষের উৎপত্তি, হস্তলিপি ও বিদ্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগের রহস্য, লি তিগুয়াইয়ের মহত্ত্বের কথা, আকর্ষণীয় ও দুর্দমনীয় বানর-রাজ সন ওয়েকং-এর আদ্যোপান্ত, দেবী নুওয়ার প্রতিশোধের গল্প, তিন রাজ্যের উত্থান, কিংবদন্তিদের কিছু কাহিনি এবং আধুনিক পুরাণ মিলিয়ে মোট নয়টি অধ্যায়ের গল্প।
এক বসায় পড়ে শেষ করার মতো বই। পুরাণ হলেও লেখক তা গল্প আকারে উপস্থাপনা করেছেন; যা পড়তে ভালো লেগেছে। না জানা অনেক কিছুই, এই বই থেকে জানতে পেরেছি। ব্যাপ্তিতে এই বই বিশালাকার অথবা আরও অজানা কিংবদন্তির লেখা না থাকলেও; প্রয়োজনীয় কাহিনির দেখা কিন্তু এই বইয়ে রয়েছে। তাই জানার জন্য হলেও বইটি পড়ে নিরাশ হবেন না।
ড্রাগন নিয়ে আমাদের সব সময় কৌতূহল থাকে। তেমনই ইউনিকর্ন অথনা ফিনিক্স পাখি নিয়েও। এই প্রাণীদের কিংবদন্তি যুগ যুগ ধরে প্রচলিত হয়ে আসছে। চৈনিক পুরাণে ড্রাগনদের একেবারে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে; যা খুবই ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত। আকার-আকৃতিতে হয়েছে পার্থক্য। এখানে ড্রাগন, ইউনিকর্ন পবিত্র জীব। যা মানুষের ভাগ্য পালটে দিতে দারুণ সহায়তা করে।
রাজ্য নিয়ে দ্বন্দ্ব, বিশ্বাসঘাতকতা—এমন কাহিনির যেমন আবির্ভাব ঘটেছে; তেমনই সততা আর পরিশ্রমের কথা উঠে এসেছে। তাওবাদ ও বৌদ্ধ ধর্ম নিয়ে বিস্তর আলোকপাত রয়েছে। সব মিলিয়ে উপভোগ্য।
বইয়ের মলাট বেশ শক্তপোক্ত, আঙুল দিয়ে পৃষ্ঠা ধরে মেলে রাখতে হয়। বইটি সম্ভবত ১০০ পৃষ্ঠার আশেপাশে সেটাপ করা যেত। অযথা পৃষ্ঠা বাদ দিয়ে দিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু করাটা অপ্রয়োজনীয় মনে হয়েছে। বেশ কিছু বানান ভুল আর কিছু জায়গায় সম্পাদনার আরেকটু ছোঁয়া পেলে মন্দ হতো না। তবে লেখকের এমন কাজকে সাধুবাদ জানাই। প্রথম বই হিসেবে তিনি বেশ সাবলীল কাজ করেছেন।
পুরাণ শব্দটা শুনলে আমার মাথায় রামায়ণ থেকে শুরু করে গ্রীক সমস্ত দেব দেবী একসাথে জট পাকিয়ে যায়। আর চায়না সম্পর্কে আমার বিশদ জ্ঞান Kung Fu Panda থেকে শুরু হয়ে Kung Fu Panda 3 তে গিয়ে শেষ হয়। সব মিলিয়ে ধারণা ছিল বইটা দুর্বোধ্য কিছু ঠেকবে আমার কাছে। এত সুন্দর গোছানো, সহজ সাবলীল ভাষায় লেখা একেবারেই আশা করিনি। পুরাণের কাহিনী আর কিংবদন্তি থেকে প্রভাবিত কিছু গল্পকে এই বইতে আনা হয়েছে। বইয়ের ভূমিকাতে লেখা অংশগুলো ভালো। কিংবদন্তী রাজা আর কিছু রাজবংশের শাসনামল দেয়া। আমার ভুলও হতে পারে, তবে কিছু সাল এ প্রিন্টিং মিস্টেক আছে সম্ভবত। চীনের ইতিহাস আর পুরাণ অনেকটা মিশে আছে একসাথে। কিন্তু একজন বিশেষ রাজার অবিবেচকের মত অসংখ্য বই জ্বালিয়ে দেয়াতে এইসব ইতিহাস বের করা কষ্ট হয়ে যায়, অনেক পরিবর্তন আসে। অধ্যায়গুলো সুন্দর করে সাজানো পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে শুরু করে হস্তলিপির প্রচলণ, কৃষিবিদ্যা, নদী বশীকরণ সব কিছু নিয়ে ছোট ছোট কাহিনী ধাপে ধাপে আগানো হয়েছে। এরপর দেয়া বেশ কিছু কিংবদন্তী চরিত্র আর তাদের ঘিরে গল্প। সেই ২০০১ এর বইমেলায় বানর রাজা সন ওয়েকং এর সাথে একটু পরিচয় হয়েছিল। তখন ভেবেছিলাম সাধারণ রূপকথা। কিন্তু সে যে এত বিখ্যাত চরিত্র তা জানা ছিলনা। এরপরের পূর্ণিমায় খুঁজে দেখবো চাঁদে জেড খরগোশকে দেখা যায় কিনে।
পুরাণ মানেই অনেক অনেক আগের পুরাতন/ঐতিহাসিক/কাল্পনিক কিছু কাহীনি বা লোকগল্প বা ধর্মীও বিশ্বাস। যা থাকে কিছু লিখিত বা কিছু থাকে লোকমুখে, বংশানুক্রমে সময়ের পরিক্রয়াম চলামান থাকে এই তথ্যগুলো। চৈনিক পুরাণ বাইটা পড়ে চীনের বিশ্বাস, ধারণা সম্পর্কে, দৈনিন্দন জীবনে বিভিন্ন প্রতিকী চিত্রগুলোর ব্যবহার সম্পর্কে একটু হলেও অবগত হলাম। ভালো লেগেছে বইটা।
গ্রীক, মিশর, ভারতীয় পুরাণ নিয়ে অনেক আগে থেকেই ধারণা আছে। বাংলাদেশী কিছু মিথ নিয়েও পড়েছি। কিন্তু চীনের পুরান নিয়ে ধারণা খুব একটা ছিলোনা। বইটা পড়ে চীনের পুরাণ বিশ্বাস, ধারণা সম্পর্কে জানতে পেরেছি। ভালো লেগেছে।