শহর কলকাতা ২০১৭। ধীরে ধীরে বৃদ্ধাশ্রম হয়ে ওঠা কলকাতা, অথচ বৃদ্ধরাই যেন ব্রাত্য। শহরের ভঙ্গুর নিরাপত্তার সুযোগে খুন হলেন দুই বৃদ্ধ নৃসিংহবাবু ও পার্থবাবু। একই আবহে, একই পদ্ধতিতে তাঁদের খুন করা হয়েছে।
বাঁকুড়ার এক অভিনব আদিবাসী স্কুলের শিক্ষক নিখিলেশ চান সংবাদপত্রে ফলাও করে তাঁর কাজের খবর ছাপা হোক। এতে ফান্ডিং যোগাড়ে সুবিধে হবে। কিন্তু কি এমন হোল যে খবরের কাগজে নাম বেরনোর নামে আচমকা ভয়ে কুঁকড়ে গেলেন?
আমেরিকা থেকে কলকাতা এসেছে প্রফেসর ভল্গা সেন। ফরেন্সিক সাইকোলজি নিয়ে তার বক্তৃতা শেষে বহু পুরনো বন্ধু অরণ্যর সাথে আবার দেখা হোল। পনের বছর পর। কি এমন ঘটেছিল পনের বছর আগে যে ভল্গা কাউকে না জানিয়ে সুদূর বিদেশে পাড়ি জমায়? “মেয়েবেলায় মাঝে মাঝে একটা দুঃস্বপ্ন দেখতাম। নিজের শহরে হোটেলে অতিথি হয়ে উঠেছি। জীবনের অনেক স্বপ্নভঙ্গের মধ্যে এই দুঃস্বপ্নটাই দেখলাম একমাত্র ফলে গেল।” ভল্গার দুঃস্বপ্নের কি এখানেই শেষ না শুরু? কলকাতা শহরের বো ব্যারাক্স ১৯৭২। এক ক্রিশ্চান পরিবারে ভাঙ্গন ধরতে শুরু করে। ১৯৭৬ সালের ২১শে সেপ্টেম্বর রাত্রি আড়াইটের সময় কি এমন ঘটে যে ডগ্লাস আর ফেলিক্স ব্রিগ্যাঞ্জা, দুই ভাইয়ের জীবন ধীরে ধীরে তছনছ হয়ে যায়? একজন বাল-সংশোধানাগারে আর একজন আমেরিকার নিঃসঙ্গ জীবনে হারিয়ে যায়।
ডঃ জা.হিদ হুসেন চিকিৎসা বিজ্ঞানের ফরেনসিক শাখা ছেড়ে ফরেন্সিক অ্যান্থ্রোপোলজিতে আসক্ত হয়ে পড়েন। ভোপালের সন্নিকটে ওবেদুল্লাগঞ্জের কাছে এক পুরাতাত্ত্বিক সাইটে হঠাৎ-ই আবিষ্কার করেন এক বিশাল রহস্যের, যা ভারতবর্ষের ইতিহাস সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে সবাইকে। ঠিক যেমনটি তুরস্ক দেশের গোবেক্লি-টেপির খননকার্য মানুষকে নতুন করে ভাবাচ্ছে তার ইতিহাস নিয়ে। কি সেই অজানা তথ্য যার জন্য ইতিহাসের বইগুলোকে নতুন করে লিখতে হবে? নিখিলেশ, ভল্গা, ডঃ হুসেন, ডগ্লাস, ফেলিক্স – অদ্ভুত কিছু জীবন। কিন্তু কোনো এক রহস্যে তাদের জীবনগুলো একই সূত্রে গাঁথা। কি সেই রহস্য? পুরাতত্ত্বের সাইটে স্তরে স্তরে লুকিয়ে থাকে বহু অজানা গল্প। খননের সাথে এক এক করে সেগুলো সামনে আসতে থাকে। ‘ফেনিক্স পাখির ফসিল’ উপন্যাসেও এক একটা স্তরে লুকিয়ে রয়েছে এক এক চমক। পুরাতত্ত্বের সত্য কিছু আবিষ্কার, ফরেন্সিক বিজ্ঞান জগতের কিছু সত্য ঘটনা আর বর্তমান ভারতের কিছু টুকরো ছবির কোলাজ. এই রহস্যোপন্যাস।
I am a business innovation consultant by day and a historical thriller novelist by the wee hours of the night, the right time of the day to be so. I am an avid reader by passion and love to create a world of quasi-reality for my readers. I am a researcher in the occult too. I loathe to write about myself but, if you are reading this piece of the text, you know I often land up doing so. I believe I am a simple person born and brought up in a close-knit family with interesting lineage. My grandfather was a Gandhian freedom fighter who fought the British but fell in love with their language. My grandmother was from a Bengali family of advocates that lived in Andhra Pradesh. On my maternal side there were stalwart politicians, and my father was one of the founding members of a party that pioneered socialism. My great grandfather started his own press and poetry magazine in British India when he was in his teens and the poems were not very kind to the colonizers. He eloped with the daughter from a lower caste family as he did not believe in the caste system. My parents instilled in me the love for literature and, despite being a student of engineering and business management, my passion for historical fiction inspired me to eventually take up the pen myself. History is all about swords, so, in a sense, I took up something mightier. My first Bengali novel got published in 2015 by one of the most reputed publication houses in India, the Ananda Publishers which has published more than a dozen Sahitya Akademi Award winning books and the book was launched at the prestigious Kolkata International Book Fair 2016. My books try to bring together history, politics, thrill, pun and supernatural – a genre that is unique to the Bengali literature.
দুপুর পেরিয়ে সন্ধে নামল। ফোন, মেসেঞ্জারের পিং, সান্ধ্য চা, গল্প-গুজব— সব কাটল। কিন্তু এই অদ্ভুতনামা রহস্যকাহিনি আমাকে ছাড়ল না। বইটা একেবারে শেষ হলেই থামতে পারলাম, কিন্তু তাতেও নিজেকে, পিংক ফ্লয়েডের ভাষায়, 'কমফোর্টেবলি নাম্ব' ভাবা গেল না। কেন? দুটো কারণে। প্রথম কারণটা পজিটিভ, আর সেটা হল লেখকের লা-জবাব লেখনী। সরস, নির্মেদ, নির্মম এই ভাষায় দেওয়া একটা শব্দও উপেক্ষা করা অসম্ভব। পুলিশি জেরা থেকে ব্যর্থ প্রেমিকের হতাশা, স্বামী-স্ত্রীর খুনসুটি থেকে রাজনীতির অমোঘ বয়ান, আলাদা-আলাদা সমাজ ও সময়ের ভাষা থেকে নির্বিকার রাষ্ট্রভাষা— সবই একইরকম দক্ষতা ও ভেদ্যতার সঙ্গে পরিবেশনে সক্ষম হয়েছে এই লেখনী। দ্বিতীয় কারণটা নেগেটিভ, আর তা হল লেখকের ফোকাস হারিয়ে ফেলা। অযুত সম্ভাবনা নিয়েও এই বই শেষ অবধি ঢুকে পড়ল আজকের গৈরিক রাজনীতি নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত দুর্ভাবনা আর আরও অনেকগুলো খেয়ালের ল্যাবিরিন্থে। একের পর এক মানুষের হত্যারহস্য, এমনকি গল্পের ভরকেন্দ্র যে প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার, সব সরিয়ে লেখক নির্মাণ করলেন এক অদ্ভুত হ্যালুসিনেজনিক আখ্যান। বো ব্যারাকের এক পরিবার, পরে কিছু গোপন পরীক্ষা, মানবসভ্যতার ভিত নড়িয়ে দেওয়া এক আবিষ্কার— সব ঘেঁটে গেল। হঠাৎ অ্যাকশন, হঠাৎ আবেগ, হঠাৎ করে প্রটাগনিস্টের মাথায় লকডাউন হয়ে যাওয়া... এগুলো দিয়ে লেখক কোন রাজনৈতিক ভাষ্য নির্মাণ করতে চাইলেন, জানি না। মাঝখান থেকে এত ভালো আর সম্ভাবনাময় প্লটটাকে সেই রাজনীতির চক্রব্যূহে ঢুকিয়ে একেবারে সপ্তরথীর মারে শেষ করে দেওয়া হল! তবু, আমি সব হতাশা সরিয়ে বইটা পড়তে বলব পাঠকদের অন্য দুটো কারণের জন্য। তারা হল~ (১) তথ্য ও তত্ত্বের স্বাদু মিশ্রণে পাঠকের মনে বেশ কিছু প্রশ্ন জাগিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছেন লেখক। সমৃদ্ধ দত্ত'র 'অন্য দেশ' পড়া পাঠকও হয়তো ভারতবর্ষকে নতুন করে বুঝতে চাইবেন এই প্রশ্নগুলোর মধ্য দিয়ে। (২) বইয়ের শেষে থাকা তথ্যসূত্রটি স্রেফ অমূল্য। ওই বই এবং তথ্যচিত্রগুলোর মধ্য দিয়ে আগ্রহী পাঠকের সামনে খুলে যাবে এক নতুন ভুবন, যেখান থেকে ভাবনাদের ছড়িয়ে দেওয়া যায় মানবেতিহাস নিয়ে নানা সম্ভাবনা আর ব্যাখ্যার দিকে। সরস লেখনী আর এই প্রশ্ন-জাগানিয়া নির্দেশিকার জন্য বইটি পড়তে অনুরোধ করব।
ফিনিক্স পাখির ফসিল এমন কিছু রাস্তায় আমাদের নিয়ে যায়, যে রাস্তাগুলোয় আধুনিক বাংলা সাহিত্যের আনাগোনা বিরল। এই বই এমন কিছু প্রশ্ন তোলে যার উত্তর খুঁজতে আমাদের নিজেদের মনের গভীরে উঁকি দিতে হয়। উত্তরগুলো একেক জনের কাছে একেক রকম, নিজেদের বিশ্বাস অনুযায়ী। এই বই এই বিশ্বাসের গোড়াটা নাড়িয়ে দেয়। সব কিছু আবার নতুন ভাবে জানার বোঝার একটা ক্ষিদে তৈরি করে। প্রায় দুশো পাতার বই চোখের নিমেষে শেষ হয়ে যায়, এখানেই লেখকের মুনশিয়ানা। খুব সহজ, সরল, চলতি ভাষায় কিছু খুব বড় উপলব্ধির চৌকাঠ অবধি আমাদের নিয়ে যায় এই বই। চৌকাঠ পেরোনোর বা না পেরোনোর সিদ্ধান্তটা ছেড়ে দেওয়া হয় পাঠকের ওপর। গল্পটার মতবাদ জোর করে পাঠকের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেনা। লেখককে অভিনন্দন কিছু সাহসী প্রশ্ন তোলার জন্য এবং আর একটা দ্রুত গতির দুর্দান্ত থ্রিলার আমাদের উপহার দেওয়ার জন্য। অনুরোধ থাকবে আপনি মানুষের আদি ইতিহাস নিয়ে আরো লিখুন, এই জায়গাটা অনেকটাই অচেনা, অজানা। এই জায়গায় আরো অনেক লেখা, চর্চার প্রয়োজন …