এই আরেকটা বই যেটা উইশলিস্টে ছিল কয়েক বছর। ওয়াজিদরে নিয়ে পড়তে হবে, যা কিছু আছে, এমন একটা চিন্তা তো ছিলই। শামিম আহমেদের লেখাও খারাপ লাগে না। তবে একটু গ্যাঁজানোর অভ্যাস আছে লেখকের। এই বইয়েও তার প্রমাণ আছে। তা বাদে বইটা ভালো। ৫০/৬০ পৃষ্ঠা কম হলে আরো ভালো লাগত। এখন ওয়াজিদ আলী শাহ্র মতোই একটু মেদবহুল লাগল আমার।
লেখক এই উপন্যাস লিখছেন কয়েকটা ঢঙ মিলায়ে। যেমন মহাভারতের পর্ব অনুসরণ করে। এখানেও সভাপর্ব, বনপর্ব, শান্তিপর্ব... আছে। কিছু জায়গায় মহাভারতের আদলেই ফেলছেন ওয়াজিদ ও তার পরিবারের ঘটনাকে। যেমন শান্তনুর সত্যবতী কামনার সাথে মিলাইছেন আমজাদ আলী শাহ্র একটা বিয়েকে। এমন আরো ৩/৪টা সিকোয়েন্স আছে এই বইয়ে। কিন্তু তার সাথে আবার ব্লেন্ড করছেন ইসলামী কথকতা, কারবালা, মর্সিয়া ও পুঁথির গল্পকথনকে। আম পাঠকের জন্য এই বই তাই অনেক ক্ষেত্রে একটু বা অনেকটাই জটিল হয়ে যাবে তবে রসিকের মজাই লাগবে।
গ্যাঁজানোর কথা বলছিলাম, কিছু ক্ষেত্রে বর্বণা দীর্ঘ এবং পুনরাবৃত্তি বেশ। সেটা মাঝে মাঝেই রসভঙ্গ করে। দ্বিতীয়ত, শামিম আহমেদ এই বইটা উপন্যাসে গল্প বলার মতো করে বলেন নাই, কমেন্ট্রি দেওয়ার মতো ঘটনা বলে গেছেন। সেই জায়গায় অনেক সময়েই যাত্রা ক্লান্তিকর করে তোলে। এর বাইরে লক্ষনৌ থেকে মেটিয়াবুরুজ, ওয়াজিদ, সেপাই বিদ্রোহ, ওয়াজিদের অন্দর ও অন্তরমহল, তার পারিবারিক ইতিহাস মিলায়ে এই বই রসিকের জন্যে সুখপাঠ্য।