“… কিযী তাহনিন। একজন ছোটগল্পকার হিসেবে এরই মধ্যে তার একটা ভালো পরিচিতি দাঁড়িয়ে গেছে। গল্পকার হিসেবে কিযীর শক্তির জায়গাগুলো হচ্ছে তার দেখার এবং অনুভবের গভীরতা, তার প্রকাশ কুশলতা অর্থাৎ ভাষার ওপর তার এক অনায়াস দখল এবং গল্পকে খুব সাবলীল দক্ষতায় এক শক্তগাঁথুনি দেয়া। ‘আছে এবং নাই’-তে এই শক্তিগুলো আরো জোরদার হয়েছে। ভাষা এ বইতে শানিত, মেদহীন … গল্পগুলি শেষ হয় একটা আত্মদর্শনের মধ্য দিয়ে। … অনেক সময় অনেক সূক্ষ্ম অনুধাবনকে কিযী যখন মূর্ত করেন, মনে হয় তিনি একটা কবিতা লিখছেন। কবিতার সুষমা থাকে তার ভাষায়। ‘আছে এবং নাই’ শেষ পর্যন্ত আমাদের প্রত্যেকের গল্প, প্রতিদিনের গল্প। প্রচলিত চিন্তা আর ফর্মের বাইরে গিয়ে লেখা এ বইটি আমি নিশ্চিত, অনেকবার পড়ার জন্য।”—সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
Kizzy Tahnin is a contemporary Fiction Writer currently living in Bangladesh. Kizzy is a free spirited soul who is aware of and understands the wider world - and their place in it. She writes to create the world that no one ever seen, the characters no one ever met before.
She has written 3 books and numerous stories both published and yet to be published in national and international literary magazines. Her stories are being translated and published into English.
Publications in Bangla: 1. Der Nambari 2.Budh Grohe Chad Utheche 3.. Ache Ebong Nai 4. Iccher Manchitra
She is a development worker by profession and has been working for more than 7 years to promote and safeguard Culture and Heritage. In early 2016, The Department of Foreign Affairs and Trade of Australia selected Kizzy from Bangladesh for their documentary, named “Story of My Life“ https://www.youtube.com/watch?v=eNTok....
'তুই রঙ চিনিস? বলতো আকাশের রঙ কি?' 'নাই' চুপ। আমি ভাবলাম 'উত্তর' পাব না। কিন্তু নাই উত্তর দেয়। বলে, "আকাশের কোনো রং নাই, এইটারে বলে পাইনসা রং।'
একটা মায়া আছে বইটায়। লেখিকা ভালো লেখেন। আমি যেরকম ভেবে বইটা কিনি, এটা সেরকম না, টিপিক্যাল না। সুন্দর, অন্যরকম। সম্পর্কের অনেক বড় একটা দুনিয়া আছে। প্রেম, ভালোবাসা আর রক্তের সম্পর্ক ছাড়া সম্পর্ক গুলোকে আমরা কেন যেন খুব একটা মূল্য দিতে চাইনা সহজে। লেখিকা দিলেন। ভালো লাগলো তাই। পৃষ্ঠাসংখ্যা হিসাবে বইটা খুবই ছোট। সুন্দর বাঁধাই, সুন্দর পৃষ্ঠা। কিন্তু তারপরও ৭০ পৃষ্ঠার বইয়ের গায়ে লেখা মূল্য ২৯০!! বেশ চড়া দাম দিয়েই কেনা বলা যায়!
জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় হচ্ছে – ‘আছে’ আর ‘নাই’। রঙিন হোক আর বিবর্ণ, জঞ্জালে ভরা আমাদের জীবনটাতে ঐ দুটো শব্দের ভার অনেক। বা বলা চলে অকল্পনীয়। মানব মনের নিগূঢ় রহস্য জড়িয়ে থাকে ঐ দুই শব্দের অন্তর্জালে। এমনকি সারাদিন কেটে যায় কি আছে আর কি নেই এই ভেবেই।
যাদের কাছে কিছু আছে, তারা চিন্তিত সেটা হারাবার ভয়ে। আর যাদের কাছে কিছুই নেই, তারা চিন্তিত আজীবনেও কিছু হবে কি না তা নিয়ে। আমরা সকলেই একই রকম। - হারুকি মুরাকামি
প্রিয় লেখকের সুরেই তাই বলতে হয় আমরা সকলেই আসলে ঐ ‘আছে-নাই’ এর সীমাবদ্ধে আবদ্ধ। জীবন জড়িয়ে থাকে আছে আর নাইতে। কিন্তু কখনো কি এভাবে ভেবে দেখেছি যদি আছে আর নাই একে অপরের মুখোমুখি হয় তাহলে কি হবে? কিংবা কি হতে পারে? নাহ আমরা হয়তো ভাবিনি। ভেবেছে কিযী তাহ্নিন নামের তরুণ লেখিকা। আর তাই ‘আছে-নাই’ কে সত্তায় রূপান্তর করে রচনা করেছেন 'আছে এবং নাই' নামক এক গ্রন্থ।
আছে এবং নাই আদতে একটি গল্পগ্রন্থ। তবে প্রতিটা গল্পই পূর্বেরটার পরবর্তী সংস্করণ বলা চলে। ধারাবাহিক বিবরণের গল্প বা নিত্যদিনের জীবনের গল্প। তাই সবকটা মিলিয়ে উপন্যাস বললেও তেমন একটা ক্ষতি নেই। অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০ এ বইটি প্রকাশ করেছিল পাঠক সমাবেশ। প্রচ্ছদ করেছেন সেলিম আহ্মেদ; সাদামাটায় নান্দনিকতার ছাপ দেয়ার প্রচেষ্টা লক্ষ্যনীয় প্রচ্ছদে। পাঠক সমাবেশের বইয়ের কাগজ, বাঁধাই – সব মিলিয়ে বেশ দারুণ গেটআপ থাকে বইয়ের তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
ভালোবাসা সহজ হয়ে গেলে আমরা কেমন কঠিন হতে শুরু করি। - কিযী তাহ্নিন
‘আছে’ এবং ‘নাই’ – তারা দুজন। নিত্যদিনের চোখে দেখা স্বাভাবিক দুটি সত্তা। ক্যাম্পাসের সবুজ চত্বরে কৃষ্ণচূড়ার তলায় পরিচয় হয় দুজনের। খুব ঘটা করে সেই পরিচয় না; কেবলই নিত্যদিনের অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনার মতোই। নিজের কাছ থেকে পালাতে দুজন অপরিচিত মানুষ যেমন কথায় মশগুল হয়ে উঠে তেমন। বয়সের ব্যবধানে তাদের মাঝে তেমন কোনো বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে না। বরং দূরত্বটা যেন আরো কমিয়ে দেয়।
‘আছে’ মূলত আমাদের চেনা পরিচিত এক সত্তা। যাকে নিয়ে আগ বাড়িয়ে কিংবা নতুন করে কিছুই বলার নেই। তবে ‘নাই’ কে ঘিরে অনেক কথাই বলা যায়। যদিও ‘নাই’ও আমাদের পরিচিত এক চরিত্রেরই নাম। তবুও ‘নাই’ অনন্য। নিজের সমস্যা জর্জরিত জীবনে অন্যের সমস্যা সমাধানে ব্যস্ত এক মানুষ ‘নাই’। ছোটখাটো এই মানুষটা নিজের বয়সের চাইতে বেশি ভারী আর দার্শনিক বুলি কপচায়। জীবনের প্রতি ব্যাপক উদাসীন এই বালকের পা দুটোতে জুতোর বদলে বালুর রাজত্ব।
আচমকা ‘আছে’ আর ‘নাই’ এর পরিচয়ে একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি হয়। সেই সম্পর্ক কখনো আকর্ষণীয় লাগে; কখনোবা অনাকর্ষনীয়। কখনো সূক্ষ্ম আবার কখনো ভোঁতা। কিন্তু এই সম্পর্কের ভীড় ঠেলে অসংখ্য গল্প উঁকি দেয় পাঠকদের উদ্দেশ্যে। আকাশ দেখার গল্প, বসন্ত দিনের হাওয়াই মিঠাইয়ের গল্প, সময় পড়া বা বুঝতে অথবা দেখতে না পারার গল্প, এলোমেলো কথোকপথন এবং একরাশ বিরক্তিতে পূর্ণ আলাপ-আলোচনা। নিত্যদিনের সেই অভ্যস্ত জীবনও ছুটে চলে নিজস্ব তালে। এসবের মাঝে বাস্তবতার আবির্ভাব হয় সুনামির রূপে। ঢেউয়ের তোড়ে ভাসিয়ে নিয়ে যায় ‘আছে’ এবং ‘নাই’কে। এই হারানো কি চিরন্তন নাকি সাময়িক?
আমরা মানুষেরা নিজেদের শুদ্ধ আবেগগুলো লুকিয়ে রাখতে ভালোবাসি কেন কে জানে। শুদ্ধতা কি অনাকর্ষণীয়? - কিযী তাহ্নিন
কিযী তাহ্নিন। সমসাময়িক কথাসাহিত্যে ছোটগল্পকার হিসেবে সাহিত্যাঙ্গনে ভালোই পরিচিত। তার লেখা গল্প এবং কলাম ইতিমধ্যেই স্বনামধন্য পত্র-পত্রিকায় ছাপানো হয়েছে। আর সেই সুবাদেই গল্পকার হিসেবে খানিকটা পরিচিতি অর্জন করেছেন নিজের প্রাপ্তির ঝুলিতে। পেশায় যুক্ত আছেন জাতিসংঘের একটি অঙ্গসংস্থায়। আর পাশাপাশি পুরো উদ্যমে চালিয়ে যাচ্ছেন নিজের ভাব প্রকাশের কাজ। অর্থাৎ লেখালেখির কাজ। লেখিকার প্রথম গ্রন্থ ইচ্ছের মানচিত্র।
লেখিকার একটা ছোটগল্প পড়েছিলাম ফেসবুকের কল্যাণে প্রথম আলোর ইপেপারে। মোটামুটি ভালোই লেগেছিল। এছাড়া, লেখিকার আর কোনো লেখা পড়া হয়নি। এটাই দ্বিতীয় এবং পূর্ণাঙ্গ কোনো বই। কিযী তাহ্নিনের লেখা ভালোই লেগেছে। অন্তত জোর করে কিছু লেখার চেষ্টা করেননি। যা লিখেছেন তার পুরোটাই স্বতঃস্ফূর্ত। যেজন্য বইটাতে একটা আবেগ আছে। বইটার গল্প যাই হোক না কেন, আবেগটা স্পষ্টই পাঠককে ছুঁতে বাধ্য।
জীবনের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র আর তুচ্ছ বিষয়গুলোকে খুব সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছেন কিযী তাহ্নিনি। আর সেজন্যই টুকরো টুকরো আবেগ লেপ্টে আছে বইটার সর্বত্র জুড়ে। কেননা, এসব তুচ্ছ বিষয়গুলোর কথা পড়েই মানুষ নিজেকে চরিত্রে কিংবা গল্পের পারিপার্শ্বিকতায় দাঁড় করায় অথবা খুঁজে পায়। ‘আছে’ আর ‘নাই’ চরিত্র দুটোকে এজন্যই বেশ জীবন্ত মনে হয়। প্রাণবন্ত আর দোষগুণে পূর্ণ দুটি সত্তা বলে বিশ্বাস হয়।
যে কারও জন্য অপেক্ষা করে না, তার গভীর কষ্ট। আবার, যার জন্য কেউ অপেক্ষা করে না, তারও যে বড্ড তীক্ষ্ম কষ্ট। - কিযী তাহ্নিন
প্রেম, ভালোবাসা কিংবা রক্তের সম্পর্ক ছাড়া মানুষ সাধারণত অন্য কোনো সম্পর্ককেই খুব বেশি গুরুত্ব দেয় না। অথচ সম্পর্কের গোটা একটা দুনিয়ায় আছে। সেই দুনিয়ার অল্প কিছু সম্পর্কই গুরুত্ব পায় কিংবা মূল্যায়িত হয় আমাদের কাছে। কিযী তাহ্নিন ঠিক সেই সম্পর্কটা নিয়েই লিখেছেন। মূল্যায়ন করেছেন। গুরুত্ব দিয়েছেন সেখানটাতে সবচেয়ে বেশি। যেজন্য ‘আছে’ এবং ‘নাই’ এর প্রতীকী দৃশ্যমান ফারাকটা খুব সহজেই নজরে পড়ে।
তবে বেশ বানান ভুল চোখে পড়েছে। আবার প্রিন্টিং মিস্টেকও। এগুলো পাঠক সমাবেশের মতো প্রকাশনীর কাছে থেকে কাম্য নয়। উপরন্তু, মাত্র ৭০ পৃষ্ঠার বইটার মলাটমুল্য রাখা হয়েছে প্রায় তিন শতকের কাছাকাছি। যেটা অযৌক্তিক মনে হয়েছে। যদিও সাহিত্য মূল্য দিয়ে বিচার করার বিষয় না। তবুও একটা নির্দিষ্ট মাত্রা থাকা উচিত ছিল বলে মনে হয়েছে।
সর্বমোট ১৮টা গল্প আছে আছে আর নাইকে ঘিরে। প্রতিটি অনুচ্ছেদ মিলে একটি গল্প দাঁড়িয়েছে। তার মধ্যে অল্প কয়টা গল্পেরই গভীরতা রয়েছে যেগুলো পড়ে উল্লেখিত মায়া বা আবেগ ভাবটা পরিপূর্ণভাবেই কাজ করেছে। তবে কিছু গল্প অপ্রাসঙ্গিক বা শুধু লেখার জন্য লেখা ধরণের বলে মনে হয়। যদিও সবগুলো মিলিয়ে একটা গল্প বলে ধারাবাহিকতা ছিল। তবু বিরক্ত ভাবটা আসে বা আসতেও পারে। পাঠক থেকে পাঠকে ভিন্নতা থাকে তাই এমনটা হবার সম্ভাবনা থাকলেও থাকতে পারে।
বই: আছে এবং নাই লেখক: ���িযী তাহ্নিন প্রকাশনী: পাঠক সমাবেশ পৃষ্ঠা সংখ্যা: ৭০ মলাট মূল্য: ২৯০/- টাকা
ছোট গল্পকার ও লেখিকা কিযী তাহ্নিন এর “আছে এবং নাই” বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০২০ সালে। এই বইটিই আমার পড়া তাঁর লেখা প্রথম বই।
এই বইটির প্রধান দুটি চরিত্রই ‘আছে’ এবং ‘নাই’। তারা দুজন আলাদা মানুষ। ‘আছে’ হলো বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ছাত্র আর ‘নাই’ টোকাই টাইপের একটি ছেলে, যার সাথে ‘আছে’ এর দেখা হয় সবুজ চত্বরে। ‘আছে’-‘নাই’ কে নিয়ে এই বইটিতে আঠারোটি ছোট ছোট গল্প আছে । ‘আছে’-‘নাই’ সমবয়সী না, তবুও তারা কী সুন্দর একে অন্যের সাথে মিশে যায়। ‘আছে’ আর ‘নাই’-এর প্রায়ই দেখা হয় সবুজ চত্বরে, তারা একসাথে বাদাম খায়, আকাশ দেখে, ভাঙ্গা পাচিলে বসে পা ঝোলায় অথবা অপেক্ষায় থাকে। দোষে-গুনে ভরপুর দুই আলাদা সত্তা। ‘নাই’ ছোট হলেও তার উপর অনেক দায়িত্ব। কখনো সে তার বন্ধুর সমস্যার সমাধানদাতা, কখনো সে তার বন্ধুর বিড়াল পালে, আবার কখনো সে তার মায়ের কাজে সাহায্য করে। কখনো আবার মকবুল চাচার মতো বয়স্ক লোক তাকে খুব ভালো পায়। ‘আছে’-‘নাই’ মিলে কখনো হাওয়াই মিঠাই খেয়ে বসন্ত উদযাপন করে আবার কখনো তারা কালবৈশাখী ঝড়ের অপেক্ষায় থাকে। কখনো ‘আছে’, ‘নাই’ এর জন্য ক্যাটক্যাটে হলুদ রঙের ঘড়ি কিনে দিয়ে ‘নাই’-কে অবাক করে দেয়, এতেই ‘আছে’ আনন্দ পায়। কখনো বা তারা দূর থেকে একসাথে বন্ধু দিবস পালন করা দেখে আনন্দ পায়।
‘আছে’-এর চরিত্রে কৌতুক করার স্বভাব বেশ পরিলক্ষিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ‘আছে’ কৌতুক করে করে ‘নাই’-এর সাথে আলাপ করে। ‘নাই’ অবশ্য ‘আছে’-এর কৌতুকে খুব একটা সাড়া দেয় না। ‘নাই’-তো এমনই, দার্শনিক। সাধারণ পাঠক হিসেবে ‘নাই’-কে আমার কাছে অসম্ভব বাস্তববাদী মনে হয়েছে। কেননা, ‘নাই’ জানে, বড়রা পথ হারায় না, বড়দের পথ হারানোর ভয় থাকে না। এমনই করে অল্প অল্প গল্পে ‘আছে’-‘নাই’-এর জীবন চলতে থাকে সমান্তরালভাবে।
আমাদের সমাজেও এমন অনেক সম্পর্ক থাকে, যেখানে না থাকে বয়সের মিল, না থাকে কোনো রক্তের সম্পর্ক, তারপরও আমরা তাদেরকে প্রবলভাবে অনুভব করি। লেখিকা কিযী তাহ্নিন এমনই এক অসম বন্ধুত্বের ছবি তুলে ধরেছন ‘আছে’-‘নাই’ এর মাধ্যমে।
একদিন ‘আছে’-‘নাই’ এর জীবনে হঠাৎ এক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় ‘নাই’ হারিয়ে যায়। কিন্তু ‘নাই’-কে খুঁজে বেড়ায় ‘আছে’; কেউ তার খোঁজ দিতে পারে না, এমনকি অসুস্থ শরীরেও হাসপাতালে ‘নাই’ এর অপেক্ষায় থাকে ‘আছে’। ‘আছে’ জানে, ‘নাই’ একদিন ঠিক ফিরে আসবে।
‘আছে’ এবং ‘নাই’ এর দিকে তাকালে মনে হয় আরে, এই ‘আছে’ তো আমি, আবার কখনো মনে হয় আরে নাহ, আমি তো আসলে ‘নাই’। ‘আছে’-‘নাই’ এর সম্পর্কের কোন নাম হয়তো আমরা দিতে পারবো না, কিন্তু তাদের দুজনের সম্পর্ক সুন্দর, স্বার্থহীন।
লেখিকা কিযী তাহ্নিন তাঁর সাবলীল ভাষার মাধ্যমে আমাদের সমাজের বিভিন্ন ঘটনা, দুর্ঘটনা, চাওয়া-পাওয়া, না-পাওয়া তুলে ধরেছেন স্পষ্টভাবে। এক কথায় আমি বলব, লেখিকা অসম্ভব পর্যবেক্ষণশীল। আমার মনে হয় লেখিকা ‘আছে’ আর ‘নাই’ এর মাধ্যমে আসলে আমাদের সমাজের নানা ধরণের মানুষের জীবনচিত্র এঁকেছেন তাঁর সুনিপুণ দক্ষতায়। আঠারোটি গল্প যেন আসলে জীবনের আঠারোটি ঘটনা, আঠারোটি পর্ব।
এতক্ষণতো বললাম গল্পের কথা, এখন একটু বইএর মলাটটার কথা বলি। মলাটের ছবি দুটো খুব অদ্ভুত। একটা জানালা রং-বেরঙ্গের, আরেকটা জানালা যেন কাঠ দিয়ে আটকানো, এই জানালা দিয়ে মনে হয় কোন আলো-বাতাস ঢুকবে না। আসলে আমাদের জীবনটাও তো এমনই, কখনো খুব রঙ্গিন, আবার কখনো ধূসর, ফিকে।
এই গল্পের বইটি পড়ে কারো একঘেয়ে লাগবে বলে আমার মনে হয় না। লেখিকার ভাষা অত্যন্ত সহজ-সরল ও বোধগম্য। এছাড়া ছোটদের জন্য এই বইটি উপযুক্ত বলে আমি মনে করি। এমনকি যারা নতুন পাঠক, তাদের আমি এই বইটি পড়ার অনুরোধ করবো। গল্পকার ও লেখিকা কিযী তাহ্নিন কে ধন্যবাদ জীবনের নানা দিক তুলে ধরার জন্য।