এই বইয়ের প্রবন্ধগুলো ভিন্ন ধরণের, বিষয় ও আলোচনার দৃষ্টিভঙ্গি দুইদিক থেকেই। এগুলো কেবল তথাকথিত নন্দনতাত্ত্বিক সাহিত্যের বৃত্তে সীমিত থাকেনি। বরং আমাদের মানবিক ও সামাজিক দায়বোধের প্রশ্ন এখানে যথেষ্ট স্পষ্টতা ও গুরুত্ব সহকারে উঠে এসেছে। ‘উত্তর-উপনিবেশী মন’ শিরোনামের লেখাটি নানা কারণে গুরুত্ববহ। উপনিবেশের জ্ঞানচর্চা ও সাংস্কৃতিক আধিপত্য এখনো শাসন করছে আমাদের সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার নানা দিক; এখনো আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অবহেলিত, নিম্ন-মূল্যে নির্দিষ্ট। এই বেড়ি ছিঁড়ে কীভাবে আত্ম-পরিচয় ও ঐতিহ্যের মাটিতে দাঁড়িয়ে নব্যসাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াইটা করা সম্ভব তার একটা ইঙ্গিতময় প্রস্তাবনা আছে রচনাটিতে। এ প্রেক্ষিত থেকেই দেখা যেতে পারে ‘বুদ্ধিজীবীর দায়ভার’ লেখাটিকে। এতে মানবিক দায়বোধের ভিত্তিতে বুদ্ধিজীবীর বৈশিষ্ট্য, তৎপরতা ও অবস্থানভিত্তিক সাধারণ পরিচয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে; এর ফলে একালের তথাকথিত ‘বুদ্ধিজীবী’দের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়নের ভিত্তিটা তৈরি হয়। মিশেল ফুকো ও এডওয়ার্ড সাঈদের চিন্তার সাথে আমাদের প্রাসঙ্গিকতা খোঁজাও জরুরি কাজ; দুটো প্রবন্ধে লেখক সে চেষ্টা করেছেন। এসবদিক মিলে আটটি প্রবন্ধের এই বই আমাদের সামাজিক, সাহিত্যিক-সাংস্কৃতিক চিন্তা ও চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ বলেই মনে হয়।