What do you think?
Rate this book


764 pages, Kindle Edition
Published March 29, 2020
Postmodernism : উত্তর আধুনিকতা
সময় বিশেষ করে সমাজের গতিপ্রবাহ সম্পর্কিত একটি সাম্প্রতিক প্রত্যয়ের প্রচলিত নাম হচ্ছে ‘উত্তর আধুনিকতা'। যখন বাংলা সাহিত্যে রবীন্দ্রনাথ কথাটি সূর্যের মত প্রধান ছিল, তখন 'রবীন্দ্রপূর্ব' কথাটির সাধারণ বোধ্য অর্থ ছিল রবীন্দ্রনাথ পর্যন্ত। কিন্তু যেমন বস্তু, তেমনি প্রত্যয় । কোন কিছুই স্থির বা অপরিবর্তিত নয়। সে কারণে বাংলাসাহিত্যে রবীন্দ্রোত্তর বা রবীন্দ্রনাথের পরবর্তী কথাটিও চালু হয়েছিল। এ সব বিমূর্ত প্রত্যয় নিয়ে আলোচনায় নানা অসুবিধা দেখা দেয়। যা নিয়ে আলোচনা তা মূর্ত হলেও নানাজনের নানা মনোভাবভিত্তিক আলোচনা কেবল যে বিমূর্ত হয়ে দাঁড়ায় তাই নয়। বেশ কিছুটা নৈরাজ্যিক বা অনির্দিষ্ট হয়েও পড়ে।
সাহিত্যের ক্ষেত্রে রবীন্দ্রোত্তর কথাটি অনিবার্য না হলেও তত দুর্বোধ্য নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক কালে সামাজিক, বিশেষ করে সমাজের রাজনৈতিক বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে 'পোস্ট মডারনিজম' বা 'উত্তর আধুনিকতা' কথাটি দেখতে বা শুনতে যত সহজ, তাকে ধরা তত সহজ নয়। ইউরোপ আমেরিকার কথা বাদ দিয়ে আমাদের পরিচিত বাংলাভাষার পরিমণ্ডলে 'উত্তর আধুনিকতা' দ্বারা কেবল যে, 'যা আধুনিক নয়' বুঝার চেষ্টা করা যায়, তাই নয়। উত্তর আধুনিকতাবাদীদের একটি প্রবণতা হচ্ছে বস্তু জগৎকে বুঝার ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম নীতি, ধারাবাহিকতা, এমনকি কার্য-কারণ বা 'কজ এ্যাণ্ড এফেকট' রূপ কোনো অনিবার্যতার সম্পর্ককে অস্বীকার করার প্রবণতা। সব কিছু সব কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন, কোনো কিছুই কোনো কিছুর সঙ্গে সম্পর্কিত নয়: অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে কোনো কিছুই কোনো কিছু নয়: এরূপ একটি নেতিবাচক ভাবের প্রচার করা।
postmodernism আধুনিকোত্তর মতবাদ দার্শনিক আন্দোলনের প্রেক্ষিত থেকে বিচার করলে আধুনিকোত্তর-মতবাদকে অষ্টাদশ শতকের নবজাগরণের যুগের দার্শনিক ধারণা, প্রাককল্পনা ও মূল্যবোধের বিরুদ্ধ প্রতিক্রিয়া বলে ধরা যেতে পারে। বিষয়গত বাস্তবকে আধুনিকোত্তর দর্শন ধারণবিশিষ্ট নির্মাণ বলে মনে করে। এই দর্শনে যুক্তি এবং যুক্তিশাস্ত্রের ব্যবহারের সাহায্যে সমাজকে উন্নত ও সমাজকে সংবেদনশীল করার কথা ভাবা হয়। ভিত্তিবাদ, বাস্তববাদ এবং আবশ্যিকতাবাদের বিরোধী দর্শনরূপে আধুনিকোত্তর মতবাদ আত্মপ্রকাশ করে। ররটি রিচার্ড (*Rorty Richard) ষোড়শ থেকে অষ্টাদশ শতকের ভিত্তিবাদের দার্শনিক প্রতিষ্ঠার বিরুদ্ধে মত পোষণ করেন। অন্য দিকে নিৎসে (Nietzsche), হাইডেগার (Heidegger) ফুকো (Foucault) এবং দেরিদা (Derrida) মূলত একই যুক্তিতে প্রাককল্পনাকে বাতিল করেন।