উপনিবেশী ও নয়া-উপনিবেশী আগ্রাসন, সাংস্কৃতিক আধিপত্য আর ক্ষমতার নানামুখি প্রকাশ নিয়ে প্রায় এক যুগ ধরে লিখছেন ফয়েজ আলম। এবং এই পটভূমি থেকে আমাদের ইতিহাস, রাজনীতি, সমাজনীতি, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে বুঝে নেয়ার একটা প্রেক্ষিত তৈরির চেষ্টা করছেন। এই বইয়ের প্রবন্ধগুলো সেই প্রয়াসেরই ধারাবাহিকতা। স্বাধীনভাবে বাঁচা আর বেড়ে ওঠার জন্য ব্যক্তি কিংবা একটি জাতির ভাষা ও সংস্কৃতির স্বাধীন অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কতটা জরুরি? নয়া-উপনিবেশী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যে লড়াই চলছে সারা পৃথিবীব্যাপী তাতে ভাষা ও সংস্কৃতি কতটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে এবং কিভাবে? সাহিত্যের মতো আপাত-নিরপেক্ষ বিষয়গুলো কি আসলেই রাজনীতি ও ক্ষমতা নিরপেক্ষ? ব্যক্তির স্বাধীন অস্তিত্ব রক্ষায় এ কালের বুদ্ধিজীবীর ভূমিকা কী আর আমাদের দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক তৎপরতাই-বা কোনমুখি? এইসব বিষয় নিয়ে ছয়টি প্রবন্ধের সংকলন এই বইটি। সাম্রাজ্যবাদ-বিরোধী লড়াইয়ে শামিল ব্যক্তি কিংবা আপাত-নিরপেক্ষ পাঠক উভয়ের কাছেই লেখাগুলো উদ্দীপনার উৎস হবে বলে আশা করি।
বুদ্ধিজীবী সিভিল সোসাইটির একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ।তারা স্বীয় চিন্তা ও মেধা দিয়ে দেশ ও দশের উন্নয়ন ও সীমাবদ্ধতার জায়গাগুলো তুলে ধরে। পাশ্চাত্য মতাদর্শে বুদ্ধিজীবীর যে সংজ্ঞা ও বৈশিষ্ট্য আছে আমাদের দেশের তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা তা ধারণ করেন না।নিজের স্বীয় বুদ্ধি বদলে দলীয় অনুগত্যকে বেশি গুরুত্ব দেন।নিজের বিবেক খুইয়ে অন্যায়কে জাস্টিফাই করার চেষ্ঠা করেন।এই চর্চাটা আজকের নয়।সেই উপনিবেশ আমল থেকেই এই নোংরা চর্চা হয়ে আসছে।যেখানে সক্রেটিস হেমলক পান করে নিজে স্বকীয় সত্তাকে আজও অমর রেখেছেন সেখানে আমাদের নামধারী বুদ্ধিজীবীরা যেন তৎকালীন এথেনীয় সমাজের সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর প্রতিরূপ হয়ে আছে।সমাজে বৈষম্য অনাচারের প্রশ্নে আজ তারা নীরব।
কোথায় তাদের দায় ও সীমাবদ্ধতা, উপনিবেশ থেকে কীভাবে একটা তথাকথিত সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর আর্বিভাব ঘটেছে লেখক তার বইয়ের গোটা কয়েক প্রবন্ধ তারই বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।একজন বুদ্ধিজীবীকে বিচার করতে কি কি বিষয়গুলো কাজ করে সেটাও খোলামেলা আলোচনা। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষিতে লেবাসধারী আর প্রকৃত বুদ্ধিজীবীদের চেনার এইতো সময়।বইটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে আমার বিশ্বাস।