সত্তর বছরের বেশি সময় ধরে আমেরিকা মানুষের মস্তিষ্ককে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব তা নিয়ে পরীক্ষা নিরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। নিষিদ্ধ মাদক এবং তড়িৎ-চুম্বকীয় তরঙ্গ কাজে লাগিয়ে মস্তিষ্কের নিজস্ব কাজকর্মকে তছনছ করে দিয়ে এমন একটি বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইছে সে দেশের গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ যাতে যে কোনও ব্যক্তিকে সহজেই আজ্ঞাবহ যন্ত্রমানবে পরিণত করা যাবে। আমেরিকায় চাকরি করতে গিয়ে ঘটনাচক্রে এই সংক্রান্ত গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ল বাঙালি বিজ্ঞানী তুঙ্গভদ্রা দাশগুপ্ত ওরফে ঝিলিক। সিআইএ চায় ঝিলিকের উদ্ভাবনকে নিজেদের কাজে লাগাতে। কিন্তু ঝিলিক তার গবেষণার ফলাফল কোনও অনৈতিক কাজে ব্যবহার হোক চায় না। ঝিলিকের প্রত্যাখ্যান এক ভয়ংকর বিপর্যয় নিয়ে এল তার জীবনে। একদিকে বিশ্বের অন্যতম সেরা গুপ্তচর সংস্থা, আর একদিকে এক বাঙালি তরুণীর জেদ। ঝিলিক কি এই চক্রব্যূহ ভেঙে বেরিয়ে আসতে পারবে?
কাজল ভট্টাচার্যের জন্ম কলকাতায়, ১৯৭১ সালে। পড়াশোনা কলকাতায়। আধুনিক ইতিহাসে এম. এ.। সাংবাদিকতা ও জনসংযোগ বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিপ্লোমা। লেখালেখির সূচনা কৈশোরে। প্রথম মুদ্রিত রচনা ১৯৮৪-তে একটি বিজ্ঞান পত্রিকায়, এ ছাড়া লিখেছেন আনন্দবাজার, বর্তমান, যুগান্তর, দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকা এবং বহু সাময়িকপত্রে। সংবাদপত্রে চাকরি দিয়ে পেশাপ্রবেশ, বর্তমানে রাজ্য সরকারের আধিকারিক। বই পড়তে, গান শুনতে এবং বেড়াতে ভালোবাসেন৷
রহস্য-রোমাঞ্চ সাহিত্যের অনুরাগী বাঙালি পাঠক প্রায়ই আক্ষেপ করে থাকেন, বিশ্বরাজনীতি আর প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে লেখা রুদ্ধশ্বাস থ্রিলার আমরা কেন সেভাবে পড়তে পাই না? ওপার বাংলায় এই অভাবটা গত কয়েকবছরে অনেকটাই মিটেছে। এস্পিওনাজ থেকে শুরু করে অ্যাকশন— সবরকম 'থৃলার' লিখে ফেলেছেন বাংলাদেশের তরুণ লেখকেরা, যাতে গতি আর প্রযুক্তি, দুর্নীতি আর রাজনীতি একে অপরের হাত ধরে পাঠককে একেবারে ছুটিয়ে নিয়ে গেছে গল্পের শেষ অবধি। কিন্তু এপারে? অ...ব...শে...ষে সে এল! কঠোরভাবে তথ্যনিষ্ঠ নন-ফিকশন লেখায় সিদ্ধহস্ত সাংবাদিক কাজল ভট্টাচার্য'র লেখার সঙ্গে আমাদের ইতিমধ্যেই পরিচয় ঘটেছে 'ব্ল্যাক অপারেশন' ও 'কলগার্লের দুনিয়া'-র মাধ্যমে। এবার তিনি পাঠকদের উপহার দিয়েছেন এমন এক কাহিনি, যা থ্রিলারের প্রতিটি শর্ত পূরণ করেও প্রশ্নাতীতভাবে বাঙালি মননসঞ্জাত ও মৌলিক। গল্পটা কী নিয়ে? বাইপাসের ধারে এক মহিলার মৃতদেহ পাওয়া গেল। জানা গেল, নানা শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে ড্রাগ ওভারডোজ মিশে গিয়ে মহিলার মৃত্যুর কারণ হয়েছে। মহিলা হলেন ঝিলিক, ওরফে বিজ্ঞানী তুঙ্গভদ্রা দাশগুপ্ত। কী হয়েছিল তাঁর? আমেরিকায় চাকরি করতে গিয়ে ঝিলিক একটি মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন। দেশে ফিরে এসেও তিনি ভারি অদ্ভুত কিছু সমস্যায় ভুগতে থাকেন। চিকিৎসা করাতে গিয়ে তিনি ও তাঁর প্রেমিক অভিষেক এমন কিছু জানতে পারেন, যা ওই 'অসুস্থতা' নিয়ে যাবতীয় ধারণাকেই বদলে দেয়। কিন্তু একইসঙ্গে তাঁরা বুঝে ফেলেন, অত্যন্ত শক্তিশালী কিছু মানুষ চায় না, এই 'অসুস্থতা'-র কারণটা অন্যরা জানুক। সেই মানুষদের আক্রমণে দিশেহারা হয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে গেছিলেন ঝিলিক। তারপর এই মৃত্যু? তাই কি? তাই নয়? ঠিক কী হয়েছিল তুঙ্গভদ্রা'র সঙ্গে? কারা তাঁর পিছু নিয়েছিল? এবার কী হবে? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পেতে গেলে আপনাকে এই আক্ষরিক অর্থে রুদ্ধশ্বাস থ্রিলারটি পড়তে হবে। নেভাডা থেকে কলকাতা, দিল্লি থেকে সিঙ্গাপুর, ক্যানবেরা থেকে তেল আভিভ অবধি বিস্তৃত এই প্রাপ্তমনস্ক ও প্রাপ্তবয়স্ক থ্রিলারটির মতো লেখা এপার বাংলায় আজ অবধি পড়িনি। বইটির ছাপা নির্ভুল ও স্পষ্ট। লেখক প্রয়োজনীয় তথ্যসূত্র এবং ব্যক্তিগত অনুভবের কথা লিখে বইটিকে আরও সমৃদ্ধ করে তুলেছেন। ফ্রেডরিক ফরসিথ থেকে হুসেন জায়দি— এই অতি সমৃদ্ধ ধারায় লেখা এই থ্রিলারটিকে উপেক্ষা করলে কিন্তু সত্যিই বড়ো ভুল করবেন।
একটা চমৎকার টানটান থ্রিলার পড়লুম। লালমোহনবাবুর ভাষায় যাকে বলে রহস্-রোমাঞ্চ্ উপনিয়্যাস্! তবে এটি লেখকের ‘সাম্প্রতিকতম’ নয়, বরং একদম প্রথম উপন্যাস।
রহস্য-রোমাঞ্চ সৃষ্টি করার অনেক উপায় আছে। ঘটনার ঘনঘটা, বারে বারে দৃশ্যপট পরিবর্তন, গল্পের গতি, পশ্চাদ্ধাবনের পরিস্থিতি, আক্রমণ, লড়াই, পালানো, পদে পদে বিপদ… ইত্যাদি অনেক টেকনিক আছে যা দিয়ে পাঠককে শিহরিত, আবিষ্ট, পর পর পাতা উলটে যেতে বাধ্য করা যায়। এই বইতে সেগুলি সবই যথোপযুক্ত মাত্রায় আছে, সেই সঙ্গে আছে আরেকটি মোক্ষম উপাদান যা সহজলভ্য নয়।
বিষয়বস্তু। এক সম্পূর্ণ অন্যরকম, ঘোর বাস্তব বিজ্ঞানঘটিত ও একইসঙ্গে প্রায় অবিশ্বাস্য পর্যায়ের একটি বিষয় এই উপন্যাসের মূল। পড়তে পড়তে পাঠক বার বার হতবাক হয়ে ভাবেন, এও সম্ভব হতে পারে?
অথচ, পারে যে তা লেখকের ভূমিকাটি পড়লেই বোঝা যায়। যথেষ্ট পড়াশুনো করেই এমন একটি বিষয় নিয়ে তিনি লিখেছেন।
কী আছে বইতে, কী হয়—তা বইয়ের প্রথমে সারসংক্ষেপেই আছে। এক বাঙালী বিজ্ঞানী, এক লোভী ও নির্মম কোম্পানি, এক অত্যাধুনিক, অকল্পনীয় প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বিবাদ ও তার ভয়ংকর এক পরিণাম। এর বেশি বলা উচিত নয়। লেখা গতিশীল, ঝরঝরে। বইটি সুমুদ্রিত, কভার সুন্দর।
ও হ্যাঁ, ভালো লাগার আরও একটি কারণ বলে যাই—উপন্যাসের মূল সুরে শুভচেতনার সরব উপস্থিতি। যা ভালো, যা উচিত… শেষ অবধি তার জন্যই লড়ে গেছে উপন্যাসের মূল চরিত্ররা। হাতে পেলেই পড়ে ফেলুন। হাতে না পেলে… কলেজ স্ট্রিটে খুঁজুন, পেয়ে যাবেন। 🙂
---
বই—মগজ দখল লেখক—কাজল ভট্টাচার্য প্রকাশক—সৃজন মুদ্রিত মূল্য—২৭৫/-
“If someone can change your mind, he has won you over without raising his hand against you. This is the future of warfare.” ― Bangambiki Habyarimana, Pearls Of Eternity
হীরক রাজার দেশে "মস্তিষ্ক প্রক্ষালক" যন্ত্রের ব্যবহার সম্পর্কে তো আমরা সবাই জানি কিন্তু ওটা তো সিনেমার পর্দায় , কিন্তু যদি বাস্তবে এরকমটা হতো তাহলে ? ধরুন আপনার মাথার ভেতরের সব সত্তার ওপরেও কোনো সত্তা আড়াল থেকে নির্দেশ দিচ্ছে আর আপনি ভাবছেন সেটা আপনারই মস্তিষ্ক প্রসূত ।। কি ভয়ঙ্কর তাই না ? সাল টা ১৯৫৩ এপ্রিল মাস , হেনরি গত্লিয়েব তখন আমেরিকান গুপ্তচর সংস্থার কেমিস্ট হিসেবে একটা অদ্ভুত এসাইনমেন্ট পেলেন । অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে রাউন্ড টেবিল তিনশত তার কাছে মানুষের আচরণ কন্ট্রোল করার জন্যে পরীক্ষার নিরীক্ষা করার আদেশ দেয় ।। এরপর নানান রোমাঞ্চকর ঘটনা একের পর এক ঘটে যায় , আমেরিকান গুপ্তচর সংস্থার অধীনে প্রায় বহু বছর মানুষের মস্তিস্কের ওপর দখল নেওয়ার নানান পরীক্ষা ও প্রচেষ্টা সি আই এ করে গিয়েছে।। যত দিন না ১৯৭২ সালে এই পরীক্ষার নিরীক্ষার প্রধান নিজেই এই কাণ্ড কারখানা সংক্রান্ত ৭০০ পাতার নথি জনসমক্ষে এনে নিজেই তা ব্যর্থ বলে সম্বোধন করেন।। যদিও হিউম্যান মাইন্ড কন্ট্রোল সম্পর্কিত বহু তথ্যই আজও গোপনে রয়েছে , এছাড়াও গোপন রয়েছে সেই সব মানুষদের পরিচয় যারা এই ঘৃণ্য পরীক্ষার ফল হেতু হয় পাগল হয়ে গিয়েছেন বা মারা গিয়েছেন ।।
🍂🍂🍂 সদ্য পড়ে শেষ করলাম লেখক কাজল ভট্টাচার্যের লেখা "মগজ দখল" সত্তর বছরের বেশি সময় ধরে আমেরিকা মানুষের মস্তিষ্ককে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তা নিয়ে পরীক্ষা করে গিয়েছেন। নিষিদ্ধ মাদক থেকে শুরু করে ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক পালস কাজে লাগিয়ে এমন এক মানুষ তৈরী করতে চেয়েছিল তারা যা হবে একেবারেই আজ্ঞাবহ । ঘটনা সূর্তে ওই গবেষণা সংক্রান্ত কাজে চাকরি করতে আমেরিকায় গিয়েছে বাঙালি এক তরুণী তুঙ্গভদ্রা দাশগুপ্ত ওরফে ঝিলিক। সি আই এ চায় এই তরুণীর উদ্ভাবনী জ্ঞান কে নিজেদের কাজে লাগাতে কিন্তু ঝিলিক কোনো ভাবেই এই কাজ করতে অস্বীকার করায়, নেমে এলো একের পর এক ভয়ঙ্কর বিপর্যয় তার জীবনে।।
এক দিকে বিশ্বের ভয়ঙ্কর গুপ্তচর সংস্থা অন্য দিকে এক বাঙালি তরুণীর জেদ। ঝিলিক কিভাবে এই চক্রব্রূহ থেকে বেরিয়ে এলো তাই এই উপন্যাসের ফাইনাল ডেস্টিনেশন ।
🍂🍂🍂 পাঠ প্রতিক্রিয়া --- বাংলা সাহিত্যে স্পাই থ্রিলার এ যাবৎ কালে অনেক বের হচ্ছে ঠিকই তবেই , এই উপন্যাস এক অনন্য সৃষ্টি।। প্রায় ১৮৪ পাতার এই উপন্যাস ঠিক যতটা টানটান উত্তেজনাময় ঠিক ততটাই সঠিক তথ্য ভিত্তিক , একবারের জন্যেও মনে হবে না যে ���া পড়ছি সব টাই কাল্পনিক , বরঞ্চ মনে হবে হয়তো এরকমটাই হয়তো হয়ে থাকে। সম্পর্কের টানা পড়েন হোক কিংবা গুপ্তচর বৃত্তিতে জড়িয়ে থাকা মানুষদের কার্য প্রণালী কোনো কিছুতেই কোনো কমতি নেই।। ঝড় ঝড়ে লেখা একটানা পড়ে শেষ করলেও মনে হবে আর একটু বড়ো হলে ভালো হত।। একটি দেশের গুপ্তচর সংস্থা কতটা গোপনীয়তার সাথে কাজ করে তার যে চিত্র এই উপন্যাস তুলে ধরে তার জন্যে লেখকের গল্প বুননের গুণের তারিফ করতেই হয়।।
এই সব গল্পের ক্ষেত্রে সব থেকে কঠিন কাজ "dot binding" মাল্টিপল ডাইমেশান থাকা গল্পে শেষে গিয়ে অনেক সময়ই খাপ ছাড়া থেকে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। তবে এই গল্পে লেখক যে মুন্সিয়ানার সাথে সব কনফ্লিকটকে এক সরল রেখায় এনেছে তা পড়ে রোমাঞ্চ ও খুশি দুটোই হয়েছি।। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমীকরণ , দেশীয় নিরাপত্তা , বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তি ব্যবহার ও আবিষ্কারে দুটি দেশের মধ্যে ব্যাকডোর কলাবরেশন কি নেই এই উপন্যাসে ।। সব শেষে রয়েছে একটি সাধারণ সিভিলিয়ান হিসেবে একটি মেয়ের আত্ব ত্যাগের কাহিনী যা পড়লে সত্যি বলতে হয় "kahte hay hame pyaar se India Wale haar jit chin le haar se India Wale"
🍂🍂🍂 খারাপ লাগার বিষয় - সেরকম কিছুই নেই সত্যি বলতে , পুরো উপন্যাস আমি ফ্যাক্ট চেক করে পড়েছি MK ultra সংক্রান্ত সব তথ্যই সত্যি ও মানুষের মস্তিষ্ক দখলের পদ্ধতি হিসেবে যে মাধ্যম ও উপায় এখানে বর্ণনা করা হয়েছে সবই একেবারেই ঠিক ।
🫧সব শেষে লেখক ও শব্দ প্রকাশনীকে ধন্যবাদ এরকম সুন্দর একটা বই পাঠকদের উপহার দেওয়ার জন্যে।।
A woman named Jhilik, also known as scientist Tungabhadra Dasgupta, was tragically found dead near EM Bypass. Her death was caused by a combination of physical illnesses and a drug overdose.
Jhilik had been working in America and upon returning home, she fell ill with strange symptoms. With the help of her partner Abhishek, she began to uncover unsettling truths about her illness. However, powerful individuals did not want this information to come to light and they ultimately attacked and killed Jhilik.
The circumstances surrounding Tungabhadra's death and the people responsible for it must now be investigated. This thrilling Bengali novel by Kajal Bhattacharya takes readers on a captivating journey across various locations, weaving together a story filled with suspense and intrigue. With expertly researched details and personal anecdotes, this gripping tale is a must-read for fans of suspense and mystery. Don't miss out on this compelling narrative that will keep you on the edge of your seat until the very end. The story is wonderfully enhanced by the exceptional cover art by Suman Sarkar.
লেখক যেভাবে উপন্যাসটি বুনেছেন তা সত্যি চমকপ্রদ , মানে যা ডিটেইল আছে এই বইতে সত্যি তা প্রশংসনীয় । লেখাটিতে কিছু টুইস্ট এন্ড টার্ন থাকিলেও এক কথায় লেখাটি স্ট্রেইট ফরোয়ার্ড । এক সিটিং শেষ করার মত বই কোনো জায়গায় কোনরকম ধীরগতি অনুভব করিনি । এক কথায় অনবদ্য ।
দুর্দান্ত রুদ্ধশ্বাস একটি থ্রিলার। লেখকের লেখনীর সাথে প্রথম পরিচয় হলো এই বইটির মাধ্যমে। ভবিষ্যতে ওনার অন্য লেখা পড়ার অদম্য ইচ্ছা জন্মাল। যারা থ্রিলার ভালোবাসেন তাদের জন্য মাস্ট রিড।