উইলিয়াম শার্লক স্কট হোমস—ঠিকানা ২২১বি, বেকার স্ট্রিট, লন্ডন। জন্ম ১৮৫৪ সালে। বাবা সিগার হোমস, মা ভায়োলেট শেরিনফোর্ড। হোমসের দাদি ছিলেন ফরাসি শিল্পী ভারনেটেজ গেন। ছাপার অক্ষরে শার্লক হোমসের প্রথম আবির্ভাব ১৮৮৭ সালে। আবির্ভাবে দৃষ্টি কাড়তে না পারলেও পরে ঠিকই তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, পাল্টে দেয় রহস্য-সাহিত্যের ধারা। হোমস ছয় ফুট তিন ইঞ্চি লম্বা, চৌকো মুখ, সংগীতে আসক্ত। অবসরে ভায়োলিন বাজাতে পছন্দ করে। প্রখর পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণশক্তির অধিকারী, ছদ্মবেশ নিতে জুড়ি নেই। জন্ম দিয়েছে অনুমানবিজ্ঞান—অর্থাৎ সায়েন্স অভ ডিডাকশনের। অপরাধের তদন্তে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ছোঁয়া লাগে হোমসেরই কল্যাণে। হাত-পায়ের ছাপ নিতে প্লাস্টার অভ প্যারিসের ব্যবহার, জমাট রক্তের পরীক্ষা, টাইপরাইটিঙের বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা, অপরাধীকে অনুসরণে কুকুর ব্যবহার—এসবই প্রথম দেখা যায় হোমসের গল্পে। পরে একসময় বিভিন্ন দেশের পুলিশ বিভাগ এসব পদ্ধতি গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছে। অপরাধী শনাক্তকরণে হোমসের অবদান মাথায় রেখে, ২০০২ সালে, লন্ডনের রয়্যাল সোসাইটি অভ কেমিস্ট্রি শুধু হোমসের ফরেনসিক বিদ্যার ওপর গবেষণা করে ফেলোশিপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। পৃথিবীতে কোনো কল্পিত চরিত্রের ওপর এমন বৈজ্ঞানিক গবেষণার সুযোগ এই প্রথম। আজ প্রায় দেড়শো বছর পরও হোমসকে নিয়ে রয়েছে তুঙ্গস্পর্শী উন্মাদনা। সেই উন্মাদনার ছোঁয়া বাংলাদেশি পাঠকদের দিতে শার্লকের সবগুলো গল্প ও উপন্যাসের অনুবাদ চার খণ্ডে প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে বিবলিওফাইল প্রকাশনী। পাঠকের সুবিধার্থে এ অনুবাদে যোগ করা হয়েছে টীকা, এবং বেশ কিছু ইলাস্ট্রেশন।
Sir Arthur Ignatius Conan Doyle was a Scottish writer and physician. He created the character Sherlock Holmes in 1887 for A Study in Scarlet, the first of four novels and fifty-six short stories about Holmes and Dr. Watson. The Sherlock Holmes stories are milestones in the field of crime fiction.
Doyle was a prolific writer. In addition to the Holmes stories, his works include fantasy and science fiction stories about Professor Challenger, and humorous stories about the Napoleonic soldier Brigadier Gerard, as well as plays, romances, poetry, non-fiction, and historical novels. One of Doyle's early short stories, "J. Habakuk Jephson's Statement" (1884), helped to popularise the mystery of the brigantine Mary Celeste, found drifting at sea with no crew member aboard.
কিনেছিলাম মূলতঃ প্রচ্ছদ দেখে। বইয়ের প্রচ্ছদটা এক কথায় চমৎকার। একটা ক্লাসি ক্লাসি ভাব আছে। ক্লাসিক শার্লক হোমসের জন্য ক্লাসিক প্রচ্ছদ। অবশ্য প্রচ্ছদশিল্পীর সবগুলো কাজই হা করে দেখার মতো!
এইবার ভিতরে ঢু মারি। শার্লক হোমসের প্রথম অনুবাদ পড়ি নচিকেতা ঘোষের। সেভেনে ছিলাম মেবি। বেশ চটপটে অনুবাদ। পড়েও মজা ছিল। গোগ্রাসে গিলেছিলাম। পরে ইংলিশ ভার্সন পড়তে গিয়ে টের পাই, কতোটা কাটছাঁট করে অনুবাদ ছিল ওটা। কখনো কখনো মনে হয়েছিলো যেন অন্য গল্প পড়ছি। সেই তুলনায় এই বইতে কিছুই বাদ দেয়া নেই। লাইন বাই লাইন অনুবাদ করা। আপনি কোনো রেফারেন্স বুঝতে পারেননি? ব্যাপার না, আপনাকে বোঝানোর জন্য টীকা দিয়ে দিয়েছেন অনুবাদক।
অনেকদিন পরে কোনো অনুবাদ পড়লাম। অনুবাদ ছেড়েছিলাম দেশের অনুবাদের বেহাল দশা দেখে। কতো ভালো ভালো বই, শুধুমাত্র বাজে অনুবাদের জন্য অখাদ্য হয়ে যায়। বিশেষ করে, সাবলীলতা রক্ষার নামে লেখায় ভুরিভুরি ইংরেজি শব্দ ঢুকিয়ে দিলে খারাপ লাগে পড়তে। লেখার গাম্ভীর্য নষ্ট হয়ে যায়, ঠুনকো ঠুনকো লাগে। আবার অনেকে অনুবাদ করতে করতে চেয়ারের বদলে ‘আরামকেদারা’ লিখে যায়– মানে অপ্রয়োজনীয় অনুবাদ করে। এটাও বিরক্তিকর, উপভোগ করা যায় না বই তখন।
শার্লক হোমসের এই বইতে মাঝে মাঝেই অতি-অনুবাদের ঘটনা ঘটেছে বলে বিশ্বাস আমার। সবসময় না, তবে মাঝেমধ্যে মনে হবে। সত্যি বলতে ইংলিশ আর বাংলার ভারসাম্য রাখা একটা কঠিন কাজ। আমার কাছে যা সাবলীল, দেখা গেল আরেকজনের কাছে তা দাঁতভাঙা। তাই বলবো অনুবাদক এক্ষেত্রে যথেষ্ট ব্যালান্স রেখেছে।
সম্পাদনা ত্রুটি চোখে পড়ার মতো। বানান ভুল, মাঝে মাঝেই শব্দ গায়েব। যতিচিহ্নের ভুলও দেখলাম। দুয়েকটা বানান হেরফের হলে সমস্যা হয় না। কিন্তু ভুল যদি বই পড়ার গতিকে নষ্ট করে, সেটা সমস্যা।
বইতে ছবি আছে বেশ কয়েকটা। এই জিনিস আমার কখনোই পছন্দ হয় না। মানে, গল্প পড়তে পড়তে আমি আমার মনের মতো করে চরিত্র কল্পনা করতে ভালোবাসি। বইতেই যদি ছবি দিয়ে দেয়, আর তা মন মতো না হয়– মেজাজ বিগড়ে যাবে না বলেন? বইয়ের কোনো দোষ না এখানে। কিছু কিছু ছবি গল্প বুঝতে বড় রকমের সাহায্য করবে। তবে ব্যক্তিগতভাবে জিনিসটায় কষ্ট লাগে *স্যাড রিয়্যাক্ট*
অভারল, বইটা ভালো। এমন একটা অনুবাদের দরকার ছিল। তিন খন্ডে প্রকাশিত হবে সম্পূর্ণ শার্লক হোমস সমগ্র। পরবর্তী খন্ডগুলো সংগ্রহ করার ইচ্ছা আছে।
বেশ চমৎকার ও সাবলীল অনুবাদ। বাকিদুটোও সংগ্রহে রাখবো। আর শার্লক হোমসকে নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই, একজন মানুষের ডিডাকশন ক্ষমতা কি করে এতো প্রবল ভাবার বিষয়! অসাধারণ... প্রিয় শার্লক হোমস...
আর্থার কোনান ডয়েলের লেখার গাঁথুনির জন্য নয়। এই রেটিং সম্পূর্ণ অনুবাদকের জন্য। আমি অনেকদিন এত সাবলীল অনুবাদ পড়িনি। যত ভালো অনুবাদই হোক, ভাষান্তরের ক্ষেত্রে কিছুটা কাঠিন্য থেকেই যায়। তবে মারুফ হোসেন যেভাবে অনুবাদ করেছেন তা অনবদ্য। অনুবাদের কাঠিন্য দূর করতে তিনি যেসব বাগধাঁরা বা প্রবাদ ব্যবহার করেছে তা সত্যিই দুর্দান্ত।
আশা করি অনুবাদক ও প্রকাশনী উভয়ে আগামীতে বাকি খন্ডগুলোতেই একইভাবে যত্নবান হবেন। বিবলিওফাইল এবং মারুফ হোসেনকে অনেক শুভকামনা।
শার্লক হোমসের পূর্ণাঙ্গ বাংলা অনুবাদের এই সমগ্রটা কাউকে সাজেস্ট করতে হলে আমি শুধুমাত্র অনুবাদের জন্যই সাজেস্ট করবো। অনুবাদক মারুফ হোসেনের সহজ-সাবলীল ভাষায় করা অনুবাদ শার্লক হোমসের এ্যাডভেঞ্চারের স্বাদ পাঠককে নিজ ভাষায় পাইয়ে দিতে সক্ষম।
তবে কাবাব মে হাড্ডি হয়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯৪ পৃষ্ঠার এই বইয়ের ৪১৮ টি টিকা। প্রথমত, শার্লক হোমসের বইগুলো এতোটা প্রাচীন বা দুর্বোধ্য বই না যে এটা পড়তে পাঠকদের পাতায় পাতায় টিকা ভাষ্য দরকার হবে। দ্বিতীয়ত, অনেকক্ষেত্রেই টিকা যথেষ্ট বিরক্তিকর কারণ এটা পাঠকের একটানা পড়াতে বাধা সৃষ্টি করে। গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় টিকা হয়তো একটা বইকে পর্যাপ্ত তথ্যসমৃদ্ধ করে তোলে কিন্তু অপ্রয়োজনীয় একগাদা টিকা বইয়ের ফর্মা বাড়ায় শুধু। ধরুন টেলিগ্রাম সম্পর্কে আপনার একটা সাধারণ ধারণা আছে। এখন শার্লক হোমস পড়তে গিয়ে টেলিগ্রাম কি, কে আবিষ্কার করেছে, কবে করেছে এসব তো জানার দরকার নেই। ঠিক একই কারণে সাইকেল, টাইপরাইটার, বিভিন্ন মডেলের পিস্তল, টায়ার, পেন্সিল এসবের আবিষ্কারের তথ্য উল্লেখ করে বইটাকে এনসাইক্লোপিডিয়া বানানোর ক্ষুদ্র চেষ্টারও কোনো অর্থ হয় না৷
তারপর আসে এমন কিছু টিকা যেগুলো আপনার গোয়েন্দাগল্প পড়ার আনন্দ মাটি করতে দিতে শতভাগ সক্ষম। তার ওপর যদি আপনি শার্লক ভক্ত হন। উদাহরণ দেই, ধরুন আমরা জানি শার্লক হোমস যেকোনো সিগারেটের ছাই দেখে তার ব্র্যান্ডের নাম বলে দিতে পারতেন। এখন এই অংশে উল্লিখিত টিকায় আপনি যখন জানতে পারবেন যে সিগারেটের ছাই খালি চোখে দেখে আদৌও ব্র্যান্ডের নাম বলা সম্ভব না কারো পক্ষে। ভাবুন তো কেমন লাগবে আপনার। কার কেমন লাগবে জানি না তবে আমার বেশ খারাপ লেগেছে একজন শার্লক ভক্ত হিসেবে। যেনো কেউ আমার সামনে শার্লকের সব জারিজুরি শেষ করে দিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। এখানে প্রত্যেক পৃষ্ঠার টিকা সেই পৃষ্ঠার নিচেই দেয়া, সহজ কোনো শব্দে টিকার চিহ্ন দেখলে কৌতুহলবশত সেই অংশের টিকায় চোখ চলে যাবেই।
শার্লক হোমস একটা কাল্পনিক চরিত্র। তবুও তাকে নিয়ে অনেকে অনেক গবেষণা করেছেন, তার কেসের অনেক খুঁত ধরেছেন। এখন হোমস কোথায় কোন ভুল করেছে, ওয়াটসন কোথায় ভুল তথ্য দিয়েছে বা কোন গবেষক লেখার কোন ভুল ধরেছেন এসব বিষয় তারা পাঠকদের জানাতে চাইলে "শার্লক হোমস ভুল সমগ্র" নামে আলাদা একটা বই বের করতে পারতেন।গল্পের পাতায় পাতায় টিকার মাধ্যমে এসব ভুল ধরিয়ে দেয়ার আইডিয়া কোন অতি বিচক্ষণ(?) ব্যক্তির অলস মস্তিষ্কে এসেছিলো আমি জানি না ; তবে তার এই কাজ আমার পড়ার মজা,মেজাজ অনেকটা নষ্ট করে দিয়েছে।
শার্লক হোমস। স্যার আর্থার কোনান ডয়েলের এমন এক অনবদ্য সৃষ্টি যে কল্পনা থেকে রীতিমতো বাস্তবে প���িণত হয়ে গিয়েছে। প্রায় ১৪০ বছরেরও বেশী সময় আগে সৃষ্ট এই গোয়েন্দা চরিত্র অবদান রেখেছে বাস্তব জীবনের তদন্ত পরিচালনাতেও!! শার্লকের তদন্ত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতো তখনকার পুলিশ ও ফরেনসিক বিভাগ। বিশ্বজুড়ে এমনই এক ক্রেজ এই শার্লককে নিয়ে যে যুগ�� যুগে তৈরী হয়েছে অসংখ্য মুভি, সিরিজ ও মঞ্চ নাটক। শুধুমাত্র শার্লকের সম্মান ২২১বি, বেকার স্ট্রিট নামে আলাদা একটা ঠিকানাই তৈরী করা হয়েছে, যেখানে এখনো আসে ভক্তদের স্তুতিমাখা চিঠি। আজ এতো বছর পরেও পুরো বিশ্বে এই গোয়েন্দার আবেদন কমেনি এতোটুকুও। সারা বিশ্বের প্রায় সব ভাষায় অনুদিত হয়েছে শার্লকের কাহিনীগুলো। খোদ বাংলা ভাষাতেই এর অনুবাদ গুনে শেষ করা যাবে না। এই অনুবাদগুলোর মাঝে বিবলিফাইলের ৪ খন্ডের সমগ্রটা নিঃসন্দেহে সেরা। যার প্রথম খন্ড নিয়ে আমার আজকের এই আলোচনা।
যদ্দুর মনে পড়ে আজ থেকে প্রায় দুই যুগ আগে সম্ভবত ৮ম কি ৯ম শ্রেনীতে পড়ার সময়ে নিতান্তই বালক বয়সে প্রথম শার্লক হোমসের গল্প পড়েছিলাম। এক খন্ডের একটা সমগ্র এলাকার পাবলিক লাইব্রেরিতে পড়েছিলাম। শার্লক হোমসের অসাধারণ পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা আর এক নজর দেখেই অনেক কিছু বলে দেয়ার অনুমান ক্ষমতা ছাড়া এখন আর অবশ্য সে বইয়ের কাহিনীর কিছুই মনে নেই। অবশ্য ওই বয়সে অতো কিছু বুঝতাম বলেও মনে হয় না। আর তাই এই পরিণত বয়সে এসে আবার পড়া শুরু করলাম।
সত্যি বলতে বলতে এতো এতো থ্রিলার পড়ার কারনে ভেবেছিলাম শার্লকের সেকেলে গল্প আমার হয়তো খুব একটা ভালো লাগবে না। অথচ অদ্ভুতভাবে গল্পগুলো আমার খুবই ভালো লেগেছে। কারনটা সম্ভবত আমি নিজে ১৮৮০ সালের সময়টায় চলে যাওয়াটা!! না না বাস্তবে নয়, কল্পনাতেই নিজেকে সেই সময়ে নিয়ে যাওয়াতে শার্লকের কর্মকান্ডগুলো সেই সময়ের বিচারে অনুধাবন করতে পেরেছি আর এতে করে বইটা উপভোগের মাত্রাও বেড়ে গিয়েছে বহুগুনে। বিবলিওফাইল প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত শার্লক হোমস সমগ্রের ১ম খন্ডে দুইটি উপন্যাস এবং ১২টি ছোট গল্প ঠাঁই পেয়েছে। আমি সেগুলো নিয়ে আমার নিজস্ব অনুভূতি ব্যক্ত করছি।
আ স্টাডি ইন স্কারলেট:
নির্জন এক বাড়িতে পাওয়া গেল এক আমেরিকান লোকের লাশ। সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও এর পরপরই আবিষ্কৃত হলো আরো এক আমেরিকান মানুষের লাশ। গোলকধাঁধায় পড়ে দুই গোয়েন্দা সাহায্য চাইলো শার্লকের কাছে।
এই বইতেই আমরা প্রথম পরিচিত হই শার্লক হোমস এবং তার বন্ধু ডক্টর জেমস ওয়াটসনের সাথে। তাদের চারিত্রিক বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য নিয়ে ইতোমধ্যেই অসংখ্য লেখা আপনাদের পড়া হয়েছে নিশ্চয়ই। তাই আর সেদিকে না গিয়ে গল্পটুকু আমার কেমন লেগেছে সেটা বলি।
গল্পের প্রথম পর্বে গতানুগতিক খুনের রহস্য আর সেটার সমাধানের স্টেপ নিয়ে এগিয়েছে। এক্ষেত্রে শার্লকের পর্যবেক্ষণ, দূরদৃষ্টি আর অনুমান ক্ষমতার ব্যবহার দেখে আসলেই চমকে উঠেছি। এমনভাবেও কেউ ভাবতে পারে!! ঘটনাপ্রবাহ যেনো শার্লক তার দিব্যচোখে দেখতে পায়। কিছু জায়গায় তার অনুমান একটু ধাক্কা খেলেও, সব মিলিয়ে শার্লক বেশ যৌক্তিকভাবেই রহস্যের খোলাসা করে। অন্তত ওই সময়ের বিচারে যতোটা যৌক্তিক হওয়া সম্ভব ততটাই। গল্পের দ্বিতীয় খুনের ঘটনা আবিষ্কার করাটা আমার কাছে বেশ চমক হয়েই এসেছে। শার্লকের অপরাধীকে ধরার অংশটাতেও যথেষ্টই অবাক হয়েছি। এক্কেবারে পোড় খাওয়া পাঠকের মনে হয়তো গল্পের কিছু অংশ নিয়ে আপত্তি আসতে পারে, কিন্তু শার্লক কি ইতোমধ্যেই এইসব প্রশ্নের অনেক উর্ধে চলে আসেনি!!
তবে আমার জন্য এই গল্পের মূল চমক ছিলো এর দ্বিতীয় পর্বটা। হুট করেই লেখক নিয়ে গেলেন বেশ অনেক বছর আগের এক সময়ে। যেখানে আবার উঠে এসেছে ইতিহাসের কিছু অংশও। জানতে পারলাম মর্মন ধর্ম আর তাদের অদ্ভুত কিছু নিয়ম আর নিষ্ঠুরতার ব্যাপারে। সত্যি বলতে খুব খুব উপভোগ করেছি অতীতের এই অংশটুকু। সেই সময়ের মানুষদের প্রতিশোধ স্পৃহাটা অন্য লেভেলের ছিল। সব মিলিয়ে আমি বলবো আ স্টাডি ইন স্কারলেট শার্লকের শুরু হিসাবে বেশ শক্ত পদক্ষেপই ফেলেছে।
দি অ্যাডভেঞ্চারস অভ শার্লক হোমস:
১২টি ছোট গল্পের এই সংকলনের গল্পগুলোর বেশীরভাগই শুরুতে পাঠককে রহস্যের মাঝে নিয়ে গিয়ে দ্রুত সমাধান দেয়া হয়েছে। ২০ পৃষ্ঠার আশেপাশে থাকা এই গল্পগুলোতে লেখক ঘটনার পারিপার্শ্বিক পরিবেশের খুবই চমৎকার বর্ণনা দিয়েছেন। যে কারনে কলেবরে ছোট হলেও গল্পগুলোর সাথে পাঠকের রিলেট করতে কোনোই অসুবিধা হবে না। গল্পগুলোর কাহিনী কিছুটা সাদামাটা হলেও, প্রায় প্রতিটা গল্পেই শার্লকের দূর্দান্ত বুদ্ধি আর পর্যবেক্ষণের ক্ষমতায় চমকৃত হয়েছি।
আ স্ক্যান্ডাল ইন বোহেমিয়া এক সম্ভ্রান্ত রাজ পরিবারের একটি স্ক্যান্ডালের কাহিনী। গল্পের শেষে শার্লক যেভাবে একটি মেয়ের বুদ্ধির কাছে পরাস্ত হয় তা পড়ে অবাক হয়েছি। শার্লকও তাহলে হারতে পারে! ভালো লেগেছে গল্পটা।
দ্য রেড-হেডেড লিগ গল্পের শুরুতে রহস্যটা বেশ জমজমাট মনে হলেও কিছুদূর পরেই বুঝা যায় যে ঘটনা কি ঘটতে যাচ্ছে। মোটামুটি লেগেছে এই গল্পটা।
আ কেস অভ আইডেন্টিটি গল্পটা এক সাদাসিধা বেচারি মেয়ের ভালোবাসার মানুষের বিয়ের আসর থেকে উধাও হয়ে যাওয়ার রহস্য নিয়ে। কিছুটা দুঃখজনক গল্প হলেও, মানের বিচারে সাদামাটাই লেগেছে আমার কাছে।
দ্য বসকোম ভ্যালি মিস্ট্রি গল্পটা ছোট গল্পগুলার মাঝে সবচেয়ে ভালো লেগেছে আমার কাছে। খুনের শিকার হওয়া এক ব্যক্তির ছেলেকেই গ্রেপ্তার করা হলো খুনী হিসাবে। সে-ও নিজের মুখে কুলুপ এটে রেখেছে। সপক্ষে বলছে না কিছুই। গল্পের শেষটুকুতে বেশ ভালোই চমক পেয়েছি।
দ্য ফাইভ অরেঞ্জ পিপস বলতে গেলে অমীমাংসিত ভাবেই শেষ হয়েছে এই গল্পটা। রহস্যটা বেশ জমাট হলেও পুরোপুরি খোলাসা করা হয়নি। মোটামুটি লেগেছে গল্পটা। চরিত্রদের পরিণতিটাও বেমানান লেগেছে।
দ্য ম্যান উইথ দ্য টুইস্টেড লিগ সবচেয়ে অদ্ভুত আর হাস্যকর গল্পও বলা যায়। বেশ ভালো লেগেছে এই গল্পটা। শেষটায় চমক পেয়েছি।
দি অ্যাডভেঞ্চার অভ দ্য ব্লু কারবাস্কল আরো একটা মজাদার গল্প। শুরু হয় একটা হাঁস খোয়া যাওয়ার মাধ্যমে, যা শেষে গিয়ে জড়িয়ে যায় অনেক দামী একটা হিরে চুরির ঘটনায়৷ ভালো লেগেছে এই গল্পটা৷
দি অ্যাডভেঞ্চার অভ দ্য স্পেকল্ড ব্যান্ড গল্পটার মূল মোটিভের সাথে আইডেন্টিটি কেসের গল্পটার সাদৃশ্য রয়েছে। তবে রহস্যটুকু সেটার তুলনায় বেশ ডার্ক। গল্পটায় কিছু ফাঁকফোকর আছে। এছাড়াও শার্লকের তদন্ত প্রক্রিয়াও কিছুটা অতিরঞ্জিত মনে হয়েছে এখানে। তবুও বলবো গল্প হিসাবে বেশ ভালো এটাও।
দি অ্যাডভেঞ্চার অভ দি ইঞ্জিনিয়ার্স থাম্ব আরো একটা পরিণতিহীন গল্প বলা যায়৷ শার্লক যিদিও রহস্য সমাধান করে ফেলে, তবে অপরাধী ধরা পড়ে না। মোটামুটি লেগেছে গল্পটা।
দি অ্যাডভেঞ্চার অভ দ্য নোবল ব্যাচেলর বিয়েশাদির সমস্যা বিষয়ক আরো একটা গল্প। খুবই সাদামাটা কাহিনী। ঠিক জমেনি আমার কাছে।
দি অ্যাডভেঞ্চার অভ দ্য বেরিল করোনেট রাজ পরিবারের মহামূল্যবান মুকুট থেকে পান্না চুরি যাওয়ার গল্প। বেশ ভালো গল্প। রহস্যটা ভালোভাবেই জমানো হয়েছে। কালপ্রিট কে তা বোঝা গেলেও, কিভাবে কি হয়েছে সেটা বুঝতে শেষ পর্যন্ত পড়তে হয়েছে।
দি অ্যাডভেঞ্চার অভ দ্য কপার বিচেস গল্পটাও বেশ ভালো। অদ্ভুত সব ঘটনার আড়ালে লুকিয়ে থাকা কুৎসিত এক ঘটনার গল্প। ভালো লেগেছে এই গল্পটাও।
দ্য ভ্যালি অভ ফিয়ার:
অবশেষে দেখা মিললো হোমসের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রফেসর মরিয়ার্টির। প্রফেসর মরিয়ার্টিকে হোমসের কাউন্টার পার্ট হিসাবে উল্লেখ করেন অনেকে। তবে মরিয়ার্টি কিন্তু বইটাতে একদমই অনুপস্থিত। অনেকটা ছায়ায় থাকা একটা চরিত্র।
বইয়ের মূল রহস্য ডগলাস নামের এক ব্যক্তির খুলি উড়িয়ে দেয়া লাশ পাওয়া থেকে শুরু হয়। সাক্ষ্যপ্রমাণ, উপস্থিত সূত্র, ডগলাসের অতীত সব মিলিয়ে বেশ বিদঘুটে একটা কেস। কোনোভাবেই ধরা যাচ্ছিলো না আসলে খুনটা হলো কিভাবে। কখনো পরকীয়া, কখনো বা গুপ্তসংঘের কাজ বলে মনে হচ্ছিলো। যথারীতি শার্লক একের পর এক তথ্য, অনুমান সাজিয়ে আর বাতিল করে দিয়ে রহস্যের সমাধান করে। যেটা ভালো লেগেছে এই গল্পে শার্লক পুরোটা সময়ে পাঠককে অন্ধকারে রাখে না। রহস্যের খোলাসাটা পাঠককে সাথে নিয়েই ঘটে। এবং দূর্দান্ত একটা চমকের সাহায্যে যবনিকা টানা হয় গল্পের।
তবে এখানেও গল্পের পিঠে রয়েছে আরেক গল্প। আর সেই ২য় পর্বে আমাদের ঘুরে আসতে হয় ডগলাসের অতীতে। এই অতীত অংশটুকু এবারও বেশ ভালো লেগেছে। এই পর্বেও সুন্দর একটা চমক আছে। সব মিলিয়ে ভালো সময় কেটেছে পুরো গল্পটার সাথে। শেষটা যদিও হ্যাপি এন্ডিং টাইপ শেষ নয়। মরিয়ার্টির ব্যাপারে শুধু শুনেছি, কিন্তু পড়া হয়নি। এই গল্পটাও সেই অন্ধকারে রেখেই শেষ হলো, এতোটুকুই আফসোস।
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ( এসব বইয়ের কি রেটিং হয়! আমার মতো পাঠকের সেটা দেয়ার যোগ্যতা আছে বলে মনে করি না। শার্লক তার নিজের সময় ছাড়িয়ে এগিয়ে গিয়েছে বহুদূর, এবং আরো অনেক পথ যে যাবে তা নিশ্চিত। আমি শুধু এতোটুকু বলতে পারি শার্লক হোমসের এই সমগ্রটি পড়ে আমি ব্যাপক আনন্দ পেয়েছি। মনের খোড়াক সবটাই পূরণ করেছে বইটা )
অনুবাদ: মারুফ হোসেনের অনুবাদ আগেও পড়া হয়েছে আমার। উনার অনুবাদ যথেষ্ট সাবলীল এবং পড়ে আরাম পাওয়া যায়। এটাও ব্যতিক্রম নয়। বইয়ে প্রচুর পরিমাণ টীকা দেয়া হয়েছে। এই টীকাগুলো পুরো বইটার রিডিং এক্সপেরিয়েন্সকে একটা ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। কোনান ডয়েলের লেখার সময়কার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিশদভাবে জানতে পেরেছি এইসব টীকার কারনে। শার্লককে নিয়ে যে এতো এতো গবেষণা হয়েছে তাও জানতে পেরেছি এই টীকার সৌজন্যে। আমি খুবই অবাক হয়েছি এটা দেখে যে বেশীরভাগ গবেষক বইয়ের কোনো ভুল ভ্রান্তিকে শার্লক বা ওয়াটসনের ভুল হিসাবে উল্লেখ করেছেন দেখে। লেখকের ভুল হিসাবে কেউ ধরেই নাই। এমনভাবে লেখা যেনো এই চরিত্রগুলা বাস্তব চরিত্র!! এমনকি বইয়ে উল্লেখিত বিভিন্ন স্থান, কাল ও পাত্রকেও আলাদা করে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। অদ্ভুত লেগেছে আমার কাছে! কোনো বইয়ের টীকা এতো বিশদ এবং প্রয়োজনীয় হতে পারে তা এই বই না পড়লে জানা হতো না। আর এ কারনেই আমার মতে শার্লক হোমসের এরচেয়ে সেরা বাংলা অনুবাদ আর হতে পারে না। এর বাইরে অন্য কোনো অনুবাদ কেনার মানে স্রেফ টাকা নষ্ট আমার মতে। এমনকি টীকা বিহীন ইংরেজি ভার্সনের বইগুলোর চেয়ে প্রয়োজনীয় এবং কার্যকরী বিবলিওফাইলের এই অনুবাদ ভার্সনটা।
প্রোডাকশন: বিবলিওফাইলের প্রোডাকশন ভালো ছিলো। পেইজ, ফন্ট, সেটআপ সবই বেশ ভালো হলেও বাঁধাইটা বেশ টাইট থাকায় পড়তে অসুবিধা হচ্ছিলো। তবে এটা বিবলিওফাইলের শুরুর দিকে বই হওয়াতে এই সমস্যাটা হয়েছে। তাদের এখনকার বইয়ের বাঁধাই বেশ ভালো হয়। আর বইয়ের প্রচ্ছদটাও হয়েছে অসম্ভব সুন্দর। তবে সম্পাদনা জনিত ত্রুটি ছিল চোখে লাগার মতো। অনেক বাক্যে শব্দ মিসিং হওয়ার পাশাপাশি, কিছু বাক্যে একই শব্দ বারবার ব্যবহার হওয়াটাও পড়ার মাঝে বিরক্তির কারন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। হয়তো নতুন মূদ্রণে বিষয়গুলো ইতোমধ্যেই ঠিকঠাক করা হয়েছে।
পুনশ্চ: আবারও বলি বাংলা ভাষায় শার্লক হোমস পড়তে, জানতে এবং ভালোভাবে বুঝতে চাইলে বিবলিওফাইল প্রকাশনী হতে বের হওয়া শার্লক হোমস সমগ্রের কোনো বিকল্প নেই। অন্য কোনো ভার্সন কারো কেনা থাকলে সেগুলা এখনই বিক্রি করে দিয়ে এটা নিয়ে নিন। প্রয়োজনে ধীরে ধীরে একটা একটা করে খন্ড সংগ্রহ করুন, তবুও এটাই নিন।
শার্লক হোমস নিয়ে আর কি বলবো? সবাই জানে অনবদ্য সব গল্প। তাই শুধু অনুবাদ আর প্রোডাকশন নিয়ে বলবো। বিবলিওফাইলের এই সমগ্র যখন আসলো তখন থেকেই ইচ্ছা ছিলো যে নিবো। আমার হোয়াইট এডিশন। প্রচ্ছদে একটা ক্লাসি ভাইভ আছে। এছাড়া বাইন্ডিং, পেইজ কোয়ালিটি টপ নচ। বানান ভুল ছিলো বেশ কিছু বিশেষ করে শব্দ আগে-পিছে হইছে কয়েক জায়গায়। লাইন রিপিটও হইছে। তবে সাবলীল আর ঝরঝরে অনুবাদের জন্যে পড়তে ভালো লেগেছে। এছাড়া সাথে টীকা গুলো অনেক কৌতুহল নিবৃত্ত করেছে। ভালো লেগেছে।
খুব ভালো লাগল। দারুণ অনুবাদ, সেই সাথে বোনাস হিসাবে আছে পর্যাপ্ত টীকাটিপ্পনী। ফলে পড়ার আনন্দ অনেকগুণ বেড়ে গেছে। হোমসের সাথে ভিক্টোরিয়ান ইংল্যান্ডের আনাচে-কানাচে নানান অ্যাডভেঞ্চারে ঘুরে বেড়িয়েছি তো বটেই, এসব টীকার কল্যাণে খেয়ালি এই গোয়েন্দাকে আরও কাছ থেকে জানাশোনার সুযোগও হয়েছে। মনে হয়েছে হোমসের একেবারে অন্তস্তল পর্যন্ত পড়তে পারছি যেন। এমন একটা অনুবাদের দরকার ছিল। অভিযোগ একটাই, এইরকম দুর্দান্ত ক্লাসিক সমগ্রে বানান ভুল মেনে নেওয়া কষ্টকর। ছোটখাটো কিছু প্রিন্টিং মিস্টেক মাঝে মাঝে চোখে লেগেছে, চমৎকার এই বইয়ের কিছুটা সৌন্দর্যহানির কারণও হয়েছে। অবশ্য এমন ভুলের মাত্রা একেবারেই কম। এসব ভুল উপেক্ষা করা যায় চমৎকার অনুবাদ আর বইয়ের গুণগত প্রডাকশনের কারণে। সব মিলিয়ে শার্লক হোমস সমগ্রের প্রথম খণ্ড পড়া এক আনন্দময় অভিজ্ঞতা ছিল।
বই প্রকাশের পরপরই শার্লক হোমস সমগ্র ১ নেওয়া হলেও বইটা না পড়ে ফেলে রেখেছিলাম অনেকদিন। অবশেষে শেষ করেছি সমগ্র ১। শার্লক হোমসের গল্প নিয়ে বিস্তারিত রিভিউ দিচ্ছি না, কারণ গোয়েন্দা গল্প হিসেবে শার্লক হোমস কেমন তা ইতোমধ্যেই পাঠক জানেন আমি আর নতুন করে কি বলবো। ২২১বি বেকার স্ট্রিটের শার্লক হোমস আর ড. ওয়াটসনের জুটিতে শার্লক হোমসের দুর্দান্ত পর্যবেক্ষণ ক্ষমতায় একের পর এক কেস যেভাবে সমাধান করে গেছেন, তাতে বই জুড়ে গল্পে বুঁদ হয়েছিলাম। প্রতিটি গল্পই প্রথমদিকে জটিল মনে হলেও শার্লক হোমসের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতায় সমাধান হওয়ার পর মনে হয় আরে, এ তো একদম সহজ কেস!
বইটিতে ২টি বড়ো গল্প
'আ স্টাডি ইন স্কারলেট' (শার্লক হোমসের প্রথম গল্প) এবং দ্য ভ্যালি অফ ফিয়ার' এর পাশাপাশি স্থান পেয়েছে ১২টি ছোটোগল্পও
সেগুলো হলো- আ স্ক্যান্ডাল ইন বোহেমিয়া দ্য রেড-হেডেড লিগ আ কেস অভ আইডেন্টিটি দ্য বসকোম ভ্যালি মিস্ট্রি দ্য ফাইভ অরেঞ্জ পিপস দ্য ম্যান উইথ দ্য টুইস্টেড লিপ দি অ্যাডভেঞ্চার অভ দ্য ব্লু কারবাঙ্কল দি অ্যাডভেঞ্চার অভ দ্য স্পেকল্ড ব্যান্ড দি অ্যাডভেঞ্চার অভ দ্য ইঞ্চিনিয়ার্স থাম্ব দি অ্যাডভেঞ্চার অভ দ্য নোবল ব্যাচেলর দি অ্যাডভেঞ্চার অভ দ্য বেরিল করোনেট দি অ্যাডভেঞ্চার অভ দ্য কপার বিচেস
বইটির অনুবাদ এবং প্রোডাকশন এ দুটো নিয়ে যদি বলি, তাহলে এক কথায় দুর্দান্ত হয়েছে। মারুফ হোসেনের অনুবাদে শার্লক হোমস সমগ্র বইটি পড়ে গিয়েছি সাবলীল ভাবে, মাঝে চোখে পড়ার মতো অবশ্য বেশ টাইপিং মিস্টেক চোখে লেগেছে, কিন্তু অনুবাদ দুর্দান্ত। শার্লক হোমস পড়ার ক্ষেত্রে যারা অনুবাদ নিয়ে সংশয়ে ভুগছেন তারা কোনো সংশয় ব্যাতিরেখেই বইটা নিয়ে নিতে পারেন। বইটার প্রচ্ছদ সজল চৌধুরী হাতে দুর্দান্ত হলেও তা দেখতে ভালোও লাগে কিন্তু ছবি তোলা যায় না ঠিক ভাবে, মানে ফোকাস করা যায় না বইটার উপর ক্যামেরা।
যাইহোক শার্লক হোমসের বিবলিওফাইল থেকে প্রকাশিত সব সমগ্রই আমার সংগ্রহে আছে এবার সময় করে বাকি গুলোও শেষ করে ফেলবো, আশাকরি এই বইয়ের মতো শার্লক হোমস আর ওয়াটসনের সাথে পরবর্তী অ্যাডভেঞ্চার গুলোও দুর্দান্ত হবে।
২০২৪ এ পড়া আমার প্রথম বই। অনেকদিন পর, অল্প অল্প করে, সময় নিয়ে, ধীর গতিতে পড়া শেষ করলাম। প্রথম যখন শার্লক পড়েছিল তখন ছিলাম টিনেজার। এখন মধ্য বয়স্ক। সেই অনুবাদ ছিল অতি সংক্ষেপিত। মাঝে টিভিতে, সিনেমায় শার্লকের বিচরণ দেখার সৌভাগ্য হলেও এই অনুবাদ ঝরঝরে, পুর্নাঙ্গ তদন্তের এডভেঞ্চারের ভরপুর। অল্প কিছু বানান ভুল ছাড়া।
তো ২০২০ সালের পর ( যদিও এই রিভিও আসলে ২০২৪ এ লিখছি) করো যদি বাংলায় ওয়াটসন আর শার্লকের সাথে তদন্তের আহ্বানে সাড়া দিতে ইচ্ছে জাগে, তাহলে এই বইটি আপনার জন্য।