Prafulla Roy was a Bengali author, lived in West Bengal, India. He received Bankim Puraskar and Sahitya Akademi Award for his literary contribution in Bengali.
শারদীয়া কিশোর ভারতী ২০১২, ২০১৪,২০১৫। তিন বছরের তিন পর্বে এই উপন্যাসখানি প্রকাশিত হয় । তিনটি পর্বই ছিল অনবদ্য । সবচেয়ে অনবদ্য ছিল বিল্টুদের শয়তানি ও তাদের কীর্তিকলাপ। তিন প্রেত নন্দ, কালুয়া আর খগেনদের কারসাজি ছিল দেখার মতো। সবকিছু মিলিয়ে বইটি যথেষ্ট সুখপাঠ্য আর আমার মনে হয় সবার বেশ ভালোই লাগবে।
রামভরোসা আগরওয়াল। অগাধ টাকা তার। টাকা পয়সা থাকলে কি হবে, একটি আধুলি বা এক পয়সা সিকিও দু আঙুলের ফাঁক দিয়ে বেরোয় না। এরকম অবস্থায় তার স্ত্রী মহালছমী ও একমাত্র সুরেশ আবদার করে বসলো- তাঁদের একটি গাড়ি চাই। অনেক টালবাহানা করে অবশেষে ছেলে ও বউয়ের চাপে কিনল আদ্যিকালের লঝঝড় একটি গাড়ি। কেনার পর দেখা গেলো বিকট হর্ণের আওয়াজ। এতটাই বিকট যে হর্ণের আওয়াজে হারবাটগঞ্জের মানুষ টিকতে না পেরে শেষপর্যন্ত ঠেলে ফেলে দেয় টিলার মাথা থেকে...!
এছাড়া তিনটে বিচ্ছু ছেলে- বিল্টু, নান্টু আর লাটু। তাদের শয়তানি ও বজ্জাতির জন্যে পাড়ার ও শহরের লোকজন অতিষ্ঠ। ওরা এমন পাজি যে বাপ-মা ওদের বাড়ি থেকে খেদিয়ে দিয়েছে। ওরা এসে রামভরোসাকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে গাড়িটাকে খাদ থেকে তোলে, মেরামত করিয়ে দেয়। ওদের আবদার, কয়েকদিন বেড়াবার জন্যে গাড়িটা দিতে হবে। বিল্টুদের সঙ্গী হয় তিন প্রেত। তিন জ্যান্ত আর তিন ভূতকে নিয়ে শুরু হয় আশ্চর্য এক সফর।
পাতায় পাতায় অনাবিল মজার পাশাপাশি এই তিনটে বদমাশ ছেলের এক্কেবারে পালটে যাওয়ার এক অদ্ভুতুরে অ্যাডভেঞ্চার কাহিনী। বিল্টুরা যখন ফিরে এলো, তখন শহরের লোকজন প্রশংসায় পঞ্চমুখ। ওদের মতো হীরের টুকরো ছেলে নাকি আর হয়না!
সত্যিই অসাধারণ একটি বই। হাসি, এডভেঞ্চার, তিন প্রেতের কীর্তি আর হার কঞ্জুস রামভরোসার কিপ্টেমি সবমিলিয়ে বইটি এককথায় দুর্দান্ত। যারা বইটি এখনও পড়েননি অবশ্যই পড়ে ফেলুন।