Jump to ratings and reviews

গল্পসংগ্রহ ২

342 pages, Hardcover

First published February 1, 2019

Loading...
Loading...

About the author

Wasi Ahmed

27 books24 followers
ওয়াসি আহমেদের জন্ম ১৯৫৪ সালে, সিলেট শহরের নাইওরপুলে। স্কুলের পাঠ বৃহত্তর সিলেটের নানা জায়গায়। পরবর্তী শিক্ষাজীবন ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। কবিতা দিয়ে লেখালেখির শুরু। ছাত্রাবস্থায় প্রকাশিত কবিতা সংকলন ‘শবযাত্রী স্বজন’। কথাসাহিত্যে, বিশেষত গল্পে, মনোনিবেশ আশির দশকে। প্রথম গল্প সংকলন ‘ছায়াদণ্ডি ও অন্যান্য’ প্রকাশিত হয় ১৯৯২ সালে। পুস্তকাকারে প্রথম উপন্যাস ‘মেঘপাহাড়’ প্রকাশ পায় ২০০০ সালে। সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে কূটনীতিকের দায়িত্ব পালনসহ কাজ করেছেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের নানা অঙ্গনে। লেখালেখির স্বীকৃতি হিসেবে পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ দেশের প্রায় সব প্রধান সাহিত্য পুরস্কার।

Ratings & Reviews

What do you think?

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
1 (50%)
4 stars
1 (50%)
3 stars
0 (0%)
2 stars
0 (0%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 1 of 1 review
Profile Image for Swajon .
134 reviews77 followers
August 10, 2020
ওয়াসি আহমেদের লেখা প্রথমে পড়ি ২০১৮ তে। তার 'তলকুঠুরির গান' উপন্যাসটি পড়ে মুগ্ধ বিস্ময়ে তাড়িত হয়ে আবিষ্কার করি অন্যান্য লেখাগুলো। পড়ে বিস্ময় আর আবিষ্কারের মাত্রা কেবল বাড়তে থাকে৷ শুদ্ধস্বর থেকে 'নির্বাচিত গল্প' পূর্বে প্রকাশিত হয়েছিল। কিন্তু শুদ্ধস্বরের কার্যক্রম এখন পুরোপুরি বন্ধ। চৈতন্য প্রকাশনী থেকে দুই খণ্ডে গল্পসমগ্র প্রকাশিত হওয়ায় সুযোগ হয় সব গল্পগুলো একসাথে পড়ার৷

ওয়াসি আহমেদ যে সময়ে গল্প লেখা শুরু করেন, সে সময়ে বাংলাদেশে ছোটগল্প চর্চার জগতে নিরীক্ষাপ্রবণতার ডামাডোল চলছে। বিভিন্ন ফর্ম, দুর্বোধ্যতা, রিয়েলিটির বিভিন্ন লেয়ার --এসবের বাইরে যারা পাঠকের সাথে সহজে কম্যুনিকেট করে গল্প লেখেন, ওয়াসি আহমেদ তাদের একজন। এবং এখন অবধি তার গল্প, পড়া শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই পাঠকে পেরে ফেলতে সক্ষম। কিন্তু লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, সহজে গল্পে প্রবেশ করতে পারলেও গল্পের ভেতরের নানাবিধ সমান্তরাল বাস্তবতাকে অনুসরণ করে করে এগিয়ে যাওয়া, তীক্ষ্ণ মনোযোগ দাবি করে। পাঠকে বেশি মেধাবী হতে হবে না, তবে মনোযোগী হতে হবে বটে। অবশ্য এই মনোযোগের কিয়দাংশ ওয়াসি নিজেই তৈরি করে দেন গল্পের শুরু থেকেই তার শাণিত, ঝকঝকে, টু দ্য পয়েন্ট ভাষা দিয়ে।

গ্রাম ও শহর দুই পটভূমিতেই ওয়াসি গল্প লিখেছেন৷ তবে এই দুই জায়গার মানুষের মধ্যে একটা কমন বৈশিষ্ট্য হলো, তারা সামাজিক, অর্থনৈতিক কাঠামোর যে স্তরেই অবস্থান করুক না কেন, তাদের মুখের এবং শরীরের ভাষা তাদের দৈনন্দিন জীবনকে না, বরং নির্দেশ করে দৈনন্দিনতার সমান্তরালে বয়ে চলা অন্য এক বাস্তবতাকে। এই সমান্তরাল বাস্তবতা নিছক ব্যক্তির রোমান্টিকতা, ক্ষুধা বা যৌনতা দ্বারা তৈরি জগত নয়, বরং বিশ্বায়ন, উন্নয়ন রাজনীতির ভৌগলিক প্রভাব এই বাস্তবতা তৈরির ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা নেয়। ফলে গল্পে চরিত্রদের পারিপার্শ্বিক পরিবেশও সেই বাস্তবতায় নিজেদের সঁপে দেয়। আঞ্চলিকতার নানা বাস্তব বয়ানও সেই একই কারণে অবধারিতভাবে আন্তর্জাতিক উপাদান হয়ে ওঠে। সমকামীতা বিষয় হিসেবে উপস্থিত এমন গল্পেও দেখি একজন হিজড়ে ভাবছে দেশের বাইরে অন্যত্র যেখানে তাদের মতো মানুষেরা অধিকতর জোটবদ্ধ, ক্ষমতাবান--সেখানে চলে যাওয়ার কথা।

আমার বেশ পছন্দের গল্পটি হলো 'দীপার দুপুর' গল্পটি৷ একজন অতি সাধারণ স্তরের কর্মজীবী নারী মানসিক, শারীরিকভাবে ক্রমিক নির্যাতনের শিকার হলেও, বেঁচে থাকার জ্বালানি হিসেবে তার তৈরি করা কল্পজগতটি স্তব্ধ বিস্ময় সৃষ্টি করে। সে ঠিক বুঝে উঠতে পারে না, যে জগতে সে এতো স্বাভাবিক, সাবলীলভাবে বেঁচে থাকছে নিশ্বাস নিচ্ছে, অন্য জগতে কেন তার নিজের বিন্দুমাত্র নিয়ন্ত্রণ নেই? কিন্তু তার রক্তমাংসের শরীরের তো বেঁচে থাকা এই নাগরিক জীবনে৷ ফলে, সে কল্পজগতকে মাথায় যাতে বেশিদিন ঠাঁই দিতে পারে, সে জন্যই এই জগতে নিজের বাঁচা নিয়ে পুরোপুরি সচেতন থাকে বৈকি৷ এই গল্পে দীপা নামের মেয়েটিকে দিয়ে ওয়াসি সেই বাস্তবতাকে চিনিয়ে দিলেও, এটা নারী-পুরুষ নির্বিশেষে এই সময়ের নাগরিক বাস্তবতা।

ওয়াসি আহমেদের গল্প নিয়ে হাসান আজিজুল হকের বক্তব্যটি লক্ষণীয় :

"ওয়াসি বরাবরই আমাদের চারপাশের ভয়াবহ বাস্তবকে খুব নিচু ঠাণ্ডা চোখে দেখে থাকেন। তাঁর হাতে ছুরির ফলার মতো ঝকঝক করে বর্তমানের এই বাস্তব। চেনা বাস্তবকে অতিক্রম করে বাস্তবাতীত আর এক বাস্তব, তার সারাৎসার। এই রকম বাস্তব নির্মাণ করেই তবে ওয়াসি সম্পন্ন করেন সেই কাজ যা সব সাহিত্যিকেরই শেষ লক্ষ্য--পর্যবেক্ষণ, পর্যেষণ, আঁশে আঁশে বিশ্লেষণ আর ব্যবচ্ছেদ। জীবনকে খুঁজে ফেরা, বাস্তবকে চিনতে গিয়ে অনির্দেশ্যতার চোরাবালিতে গিয়ে পড়া।"

ওয়াসি আহমেদ অনেক কম পঠিত, তুলনামূলকভাবে। তাকে অধিক পড়া হোক, তাকে নিয়ে পাঠকমহলে কথা হোক। বাংলাদেশের পাঠক ওয়াসি আহমেদকে চিনুক।
Displaying 1 - 1 of 1 review