আমেরিকা। নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে উন্নতির শিখরে থাকা একটি দেশ। চকচকে রাস্তাঘাট, ঝকঝকে উঁচু দালান। অর্থ আর প্রাচুর্যের মোহ হাতছানি দিয়ে ডাকে সেই দেশটির দিকে। কিন্তু একটু ভালোভাবে চিন্তা করলেই মনে পড়ে দেশটির সরকার বর্তমান বিশ্বের চলমান এবং সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া প্রায় সমস্ত যুদ্ধের জন্যই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দায়ী।
সৈন্য পাঠিয়ে, ড্রোন হামলা চালিয়ে আমেরিকা নিয়মিত অসংখ্য মানুষের মৃত্যুর কারণ তো হচ্ছে একেবারে আমাদের চোখের সামনেই। কিন্তু গোপনে তারা গুয়ান্তানামো, আবু গারিবসহ অসংখ্য ভয়ঙ্কর কারাগার স্থাপন করে ইতিহাসের পাতায় লিখে যাচ্ছে সীমাহীন অত্যাচার আর নিপীড়নের ভয়াবহ একেকটি অধ্যায়। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় নিয়োজিত সংগঠন জাতিসংঘ তাদের বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারছে না।
এই বইটিতে গুয়ান্তানামো বে কারাগারে অন্তরীণ হওয়া পাকিস্তানে নিযুক্ত সাবেক আফগান রাষ্ট্রদূত আব্দুস সালাম যাইফের সাবলীল বর্ণনায় উঠে এসেছে সেখানকার নিদারুণ কষ্টকর একেকটি দিনের স্পষ্ট চিত্র। আছে নিরপরাধ মানুষগুলোকে অপরাধী প্রমাণের জন্য সেখানকার কর্মকর্তাদের একের পর এক ব্যর্থ চেষ্টার বিবরণ। কেবল একজন সাধারণ বন্দীই না, একজন রাজনীতিবিদের চোখে অন্ধকার সে কারাগারের প্রকৃত পরিস্থিতিটা আসলে কেমন তা সম্পর্কে ধারণা পেতে এই বইটি যথেষ্ট সাহায্য করবে। রাজনৈতিক কূটকৌশল কেমন করে রাজনীতির ভাষা দিয়েই সামলাতে হয় তারও দেখা পাওয়া যাবে এই বইটিতে।
প্রজন্ম পাবলিকেশনের কোনো বই আমার পড়া হয়নি।কেনো পড়া হয়নি বা কিজন্য পড়া হয়নি সেটা আমি নিজেই জানিনা আসলে।দুদিন আগে এই বইটা বারবার চোখের সামনে আসছিলো।পড়ার কিছু হাতে না থাকার কারণে ভাবলাম বইটা একটু পড়ে নেয়া যাক।
চমৎকার একটা বই পড়ে শেষ করলাম আলহামদুলিল্লাহ।বইটির অনুবাদ অনেক সাবলিল এবং সহজবোধ্য ছিলো।বইটা একটানা পড়েই শেষ করেছি।আর কল্পনায় বইয়ের লেখা ঘটনায় ডুব দিয়েছি।
বইটা পড়ে অনেক খারাপ লেগেছে।অনেক কষ্ট পেয়েছি।কি পরিমাণ নির্যাতন করা হয় আমাদের মুসলিম নিরপরাধ ভাইদের বলে বুঝানো সম্ভব না।মানবতার বুলি আওড়ানোর নামে এমন পাশবিক নির্যাতন করা হয় যা কেউ কল্পনাও করতে পারবে না।
বিশ্বাসঘাতকের অপর নাম পাকিস্তান। যারা যখন তখন নিজেদের ভোল পাল্টাতে পারে। কিভাবে একটি দেশের একজন সম্মানিত রাষ্ট্রদূতকে বেআইনিভাবে টাকার বিনিময়ে আমেরিকার কাছে তুলে দিয়ে তার উপর আমেরিকানরা অমানবিক নির্যাতন চালিয়েছে বিনা অপরাধে সেই চিত্রপটকে সূচায়িত করেছেন ভুক্তভোগী নিজেই। বইটির অনুবাদও অসাধারন ছিল। তবে মেইন ইংলিশ বইটা কলেবরে আরো বড়ো। সেই অনুযায়ী বিবেচনা করলে বাংলা অনুবাদটা একটু ছোটই মনে হয়।
রোমহষর্ক, বেদনাদায়ক ও অমানবিক ও পাশবিক অত্যাচারের উপাখ্যান। গোয়ান্তানামো বে নামক নরকের মুখোশ উন্মোচন করেছে এ বই। আমেরিকার মানবতার ফাঁকা বুলি নগ্ন হয়ে গেছে।
বইটির লেখক মোল্লা আবদুস সালাম জাইফ তালেবান শাসনামলে পাকিস্তানে নিযুক্ত আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। নাইন ইলেভেনের পরে, কথিত 'সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ'-এর অংশ হিসেবে পাকিস্তান থেকে তাকে আটক করে আমেরিকা, আন্তর্জাতিক নীতিমালার তোয়াক্কা না করে, সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে। পাঠায় কিউবার কুখ্যাত কারাগার গুয়ানতানামো বে'তে। বইটি লেখকের সেই কারাজীবনের শব্দচিত্র। তথ্যমূলক রচনা। মানবতার জয়গান গেয়ে চলা আমেরিকাকে বে-নেকাব করা হয়েছে। উন্মোচিত হয়েছে তাদের প্লাস্টিক মানবতার মুখোশ।
বইটি বাংলাভাষায় প্রকাশ করেছে 'প্রজন্ম পাবলিকেশন'। অনুবাদের মান সন্তোষজনক।
বইয়ের বর্ণনার ধাঁচ সংবাদপত্রের। লেখক যদি 'লেখক' হতেন তাহলে আমরা একজন বন্দীর আবেগ-অনুভূতির ছায়া ও ছাপ পেতাম রচনায়। তা হয়নি। লেখক তেমন কোনো 'বাড়তি' কথা বলেননি। সে হিসেবে বইটির সাহিত্যগত আবেদন ততটা না থাকলেও সময়ের দলীল হিসেবে অবশ্যই সেটি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হবে। বিশ্বরাজনীতির পাঠকদের জন্য লোভনীয় উপাদান; নির্দ্বিধায় বলা যায়।