দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জুড়ে এথনাে-পলিটিকস্এর বিবাদে প্রধান এক ভূমিকা পালন করছে। বিভিন্ন জাতিসত্তার স্ব-বাছাইকৃত ইতিহাস। এরূপ। ইতিহাস ‘মন্ত্র’-এর মতাে এবং প্রত্যেকের ইতিহাসে জাতিসত্তাগুলাে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব’-এর কথা বলে, কেবল নিজেদের ইতিহাসকেই ‘সত্য বিবেচনা করে এবং অপর’-এর প্রতি নীরব বৈরিতা ও ঐতিহাসিক হিংসা লালন করে। এইরূপ ‘ঐতিহাসিক উপলব্ধি সর্বশেষ যে কথা সামনে নিয়ে আসে তা হলাে, সংখ্যালঘু ‘অপর’-এর ওপর সংখ্যাগুরুর চূড়ান্ত বিজয়-এর মধ্যদিয়েই রাষ্ট্র-এর ‘স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হতে পারে। কথিত এই স্থিতিশীলতার খোঁজে শ্রীলঙ্কা তামিল জাতীয়তাবাদকে মােকাবেলায় ইতােমধ্যে ২৬ বছর স্থায়ী এক গৃহযুদ্ধ পেরিয়ে এসেছে। তারই পূর্বাপর এই গ্রন্থ।
আলতাফ পারভেজের জন্ম ২১শে ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬। দর্শনশাস্ত্রে প্রথম স্থান অধিকার করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর অধ্যয়ন শেষ করেন। ছাত্রত্ব ও ছাত্র রাজনীতির পর সাংবাদিকতার মাধ্যমে পেশাগত জীবন শুরু। পরে গবেষণা ও শিক্ষকতায় সংশ্লিষ্টতা। প্রকাশিত গ্রন্থ ছয়টি। যার মধ্যে আছে—‘কারাজীবন, কারাব্যবস্থা, কারা বিদ্রোহ : অনুসন্ধান ও পর্যালোচনা’, ‘অসমাপ্ত মুক্তিযুদ্ধ, কর্নের তাহের ও জাসদ রাজনীতি’, ‘বাংলাদেশের নারীর ভূ-সম্পদের লড়াই’, 'মুজিব বাহিনী থেকে গণবাহিনী ইতিহাসের পুনর্পাঠ'।
হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে, সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে। -জীবনানন্দ দাশ
একটি ইতিহাসের বই ঠিক কতটা আকর্ষণীয় হলে তা গতিময় হয়? লেখকের বর্ননাভঙ্গি এতটাই সাবলীল যে বইয়ের পাতা থেকে চোখ সরানো কষ্ট। সুলেখক আলতাফ পারভেজ দীর্ঘদিন যাবত দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি নিয়ে গবেষণা করছেন। সেই গবেষণা সিরিজের (এথনো-পলিটিক্স ইন সাউথ এশিয়া) প্রথম বই এটি। শ্রীলঙ্কায় দীর্ঘ ২৬ বছর গৃহযুদ্ধ হয়েছিল। সেই ২৬ বছরের পূর্বাপরকে দুই মলাটের মাঝে তুলে এনেছেন তিনি।
শ্রীলঙ্কার অভ্যন্তরীণ সংকটককে বুঝতে হলে প্রথমেই আমাদের জাতিসত্তা ও জাতীয়তাবাদ নিয়ে স্পষ্ট ধারণা নিতে হবে। জাতিসত্তা বিষয়টি যেকোনো ছোট বড় নির্দিষ্ট একটা সম্প্রদায়ের ক্ষেত্রে হতে পারে। তবে জাতীয়তাবাদ পশ্চিমা বিশ্বের তৈরি করা এবং এই ধারণায় বৃহৎ কোনো এলাকার সকল জাতিসত্তাকে বোঝানো হয়। জাতিসত্তা ও জাতীয়তাবাদের সংকট থেকেই একটি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সংকট সৃষ্টি হতে পারে; যেমনটা হয়েছিল শ্রীলঙ্কায়।
শ্রীলঙ্কায় মূলত দুইটি জাতির মানুষ বসবাস করে; উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তামিলরা এবং দক্ষিণাঞ্চলের সিংহলিরা। সংখ্যার দিক দিয়ে সিংহলিরা এগিয়ে থাকলেও তামিলরাও নিজেদের স্বতন্ত্র জাতি হিসেবে বিবেচনা করে। তামিলদের মধ্যেও আবার বিভাজন রয়েছে। অধিকাংশ তামিলরা হিন্দু হলেও খ্রিস্টান ও মুসলিম তামিলও রয়েছে। তবে তামিলদের প্রতিনিধিত্ব করে হিন্দু তামিলরাই। অন্যদিকে সিংহলিরা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। এছাড়া উত্তর ও পূর্বাঞ্চলের তামিলদের মধ্যেও বিভাজন দেখা যায়। তামিল ও সিংহলিদের মধ্যে ধর্মীয় বিভাজনের চাইতে জাতিগত বিভাজনই সংকট তৈরিতে প্রধান ভূমিকা রেখেছিল।
তামিল ও সিংহলিদের সংকটের পেছনে ক্ষুদ্র কারণ যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে বৃহৎ কারণও। ব্রিটিশদের থেকে স্বাধীনতা লাভের আগে চা বাগানে কাজের জন্য অনেক তামিলকে ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেইসব তামিলদের নাগরিকত্ব প্রদানে সরকারি জটিলতা ছিল। ব্রিটিশদের ডিভাইড এন্ড রুল নীতিও ছিল অভ্যন্তরীণ কোন্দল সৃষ্টির কারণ হিসেবে। তামিলরা সংখ্যালঘু হলেও ব্রিটিশ শাসনের সময় ইংরেজি শিক্ষাকে তারা গ্রহণ করেছিল। ফলে সরকারি চাকরি ও শিক্ষাক্ষেত্রে তামিলদের আনাগোনা বেশি হয়ে যায়। স্বাধীনতার পর এই সংখ্যা বৈষম্য দূর করতে সংবিধান সংশোধন করা হয়। এতে করে তামিলদের মধ্যে বিদ্বেষের বীজ রোপণ হয়। আবার তামিল অঞ্চলগুলোতে সিংহলিদের পুনর্বাসন তামিলরা মেনে নিতে পারেনি। সিংহলিরা সংখ্যাগুরু হয়েও সংখ্যালঘু মনস্তত্ত্বের অবসান করতে গিয়ে প্রশাসন তামিলদের বিরাগভাজনের শিকার হয়। এমন একটা সময় গিয়েছে তামিল অঞ্চলে সিংহলি জাতিত মানুষের দেখা পাওয়া যেত শুধু সেনাবাহিনীর টহল দলে।
তামিলরা যেখানে সংখ্যালঘু হওয়ায় অধিকার আদায়ে আন্দোলন করে আসছিল; সেই তামিলরাই আবার সংখ্যালঘু মুসলিম তামিলদের উৎখাত এবং শোষণ করতো। শোষকের চেহারা সর্বক্ষেত্রেই অভিন্ন। এছাড়া নিম্ন শ্রেণির তামিলদের উচুবর্গের তামিলরা অধিকার আদায়ে বাধা প্রদান করতো। এক ব্যক্তি এক ভোট আইন প্রণয়ন এই সংকটে আরো উস্কানি প্রদান করে। এতে করে সকল তামিলরা ভোট দিতে পারে এবং নেতৃত্বস্থানীয় তামিলদের ক্ষমতা নড়বড়ে হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি করে।
১৯৫৮ সালে শ্রীলঙ্কায় সর্বপ্রথম জাতিগত দাঙ্গা হয়। তবে এই দাঙ্গা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। তামিলরা সিংহলির থেকে আলাদা হয়ে নতুন রাষ্ট্র গঠন করতে চেয়েছিল; যাকে তারা 'ইলম' বলতো। এই দাবি আদায়ে অনেকগুলো রাজনৈতিক সংগঠন গঠিত হয়। এই রাজনৈতিক সংগঠনগুলো একসময় সহিংসতার পথ ধরে। তামিল সশস্ত্রতার কথা আসলে প্রথমেই আসে ভেলুপিল্লাই প্রভাকরণের নাম। তিনি প্রধান তামিল জাতীয়তাবাদী দল 'এলটিটিই' এর প্রতিষ্ঠাতা ও কমান্ডার ছিলেন। ১৯৮৩ সালের ২৩ জুলাই সেনাবাহিনীর ১৩ জনকে হত্যা করে এলটিটিই। এরই মধ্য দিয়ে তামিল ও সেনাবাহিনী ইলম যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে; যার রেশ ছিল ২০০৯ সাল পর্যন্ত।
শ্রীলঙ্কার ২৬ বছরের গৃহযুদ্ধে ভারত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত ছিল। ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বিরাট অঞ্চলের জনগণ তামিলদের অন্তর্ভুক্ত। ফলে শ্রীলঙ্কার তামিলদের প্রতি ভারতীয়দের সহানুভূতি সবসময় ছিল। তাই তামিলরা যখন আলাদা রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যয় নিয়ে কাজ শুরু করে তখন থেকেই ভারত তামিলদের সহায়তা করে আসছিল। এই সহায়তা পেয়েছিল প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সময়ে। লোকবল, অস্ত্রশস্ত্র এমনকি ভারতের মাটিতে তামিলদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছিল। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল শ্রীলঙ্কার অভ্যন্তরীণ সংকটে। ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যুর পর রাজীব গান্ধীও তামিলদের সাহায্য সহযোগিতা করেছিলেন। ভারতের সাহায্য করার পেছনে যুক্তি হিসেবে ঐ অঞ্চলে আমেরিকা কিংবা চীনের আধিপত্য খর্ব করার কথা তোলা হয়েছিল। তবে এর চাইতে নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শনকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন ভারতীয় নেতারা।
ভারতীয় মদদপুষ্ট তামিলরা একসময় ভারতের আনুগত্য থেকে বের হয়ে যেতে শুরু করে। এলটিটিই অন্যান্য তামিল গ্রুপগুলোকে ধ্বংস করে এবং একক তামিল সংগঠন হিসেবে শ্রীলঙ্কার উত্তরাঞ্চলে নিজেদের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করে। ১৯৮৭ সালে রাজীব-জয়াবর্ধনে চুক্তির মাধ্যমে ভারতীয় বাহিনী শ্রীলঙ্কায় প্রবেশ করে এবং এলটিটিই'র সাথে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। দক্ষিণাঞ্চলে জেভিপি নামক কমিউনিস্ট পার্টি ও সরকারি বাহিনীও যুদ্ধ শুরু করে দেয়। একই দেশ অথচ দুই দিকে চারটি পক্ষ নিজেদের মধ্যে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। সরকার কঠোর হাতে জেভিপিকে দমন করে এবং বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীদের হত্যা করে। অন্যদিকে ভারতীয় বাহিনী যখন এলটিটিই দমনে ব্যস্ত তখন খোদ সিংহলিরাই আবার ভারতীয়দের হটাতে বদ্ধপরিকর হয়। ফলস্বরূপ ১৯৯১ সালে পরাজিত বিধ্বস্ত হয়ে ভারতীয় বাহিনী দেশে ফিরে যায়। আর শ্রীলঙ্কায় ভারতীয় বাহিনীর সশস্ত্র অভিযানের মূল্য পরিশোধ করতে হয় রাজীব গান্ধীর জীবন দিয়ে।
ভারত যখন শ্রীলঙ্কা সরকারের সাথে চুক্তি সম্পাদন করে তখন চুক্তির পক্ষ হিসেবে তামিলদের গ্রাহ্যই করা হয়নি। অথচ মূল সমস্যাটা ছিল তামিলদের নিয়েই। এজন্য তামিলরা ক্ষেপে ছিল ভারতের প্রতি। দীর্ঘ এই সময়ে অনেক তরুণরা তামিল জাতীয়তাবাদ লালন করে নিহত হয় এবং বিদেশে পালিয়ে যায়। ২০০৮ সালে শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনী চূড়ান্তভাবে এলটিটিই'কে দমনে অভিযান শুরু করে। ২০০৯ সালের মে মাসে প্রভাকরণের মৃত্যু হলে তামিলদের আন্দোলন দমে যায় এবং গৃহযুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত হয়।
এলটিটিই'র পরাজয়ের মাধ্যমে তামিল সশস্ত্রতার অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলেও তামিলরা তাদের স্বতন্ত্র ভূমির দাবি এখনো ত্যাগ করেনি। তামিল-সিংহলি দ্বন্দ্ব এখনো দেশটিতে রয়েছে। এই দ্বন্দ্ব ভবিষ্যতে মাথাচাড়া দিয়ে উঠবেনা তার নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারবেনা। অদূর ভবিষ্যতে আবারও গৃহযুদ্ধের আশঙ্কা করে থাকেন বিশ্লেষকরা। তবে গৃহযুদ্ধের সমাপ্তির পরে কিছুটা হলেও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছিল। শ্রীলঙ্কার ঘটনাগুলোর বর্ননা করতে গিয়ে লেখক বাংলাদেশের কিছু ঘটনার প্রাসঙ্গিক আলোচনাও করেছেন।
ইতিহাস সবসময় পছন্দের। আর যদি হয় সুন্দর লেখনি তাহলে তো বইটি সম্পর্কে আগ্রহ সৃষ্টি হবেই। এই বইটিও তেমন আগ্রহোদ্দীপক। বইটিকে লেখক খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করেছেন। শুধু তথ্যের সমাবেশ করেন নি; করেছেন ঘটনা পরম্পরার বিশ্লেষণ। ধারাবাহিকভাবে ঘটনাগুলো বর্ননা করেছেন যাতে করে সামঞ্জস্য থাকে। শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতির দীর্ঘ ইতিহাস জানতে চাইলে বইটি অবশ্যপাঠ্য। হ্যাপি রিডিং।
বেশ বড় আর অত্যন্ত তথ্যবহুল বই। কেবল দক্ষিণ এশিয়া নয়, পুরো পৃথিবীতে তামিল বিদ্রোহ একটি অনন্যসাধারণ ঘটনা। কয়েক দশকব্যাপী গৃহযুদ্ধে ভারতের ভূমিকা, ডিপ্লোমেসির রকমফের আর শ্রীলঙ্কার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রভাবে বারবার উঠে এসেছে, শান্তিরক্ষা করা কতটা কঠিন। দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি বোঝার জন্য এ ক্রাইসিসের ব্যবচ্ছেদ অনেক সাহায্য করে। আর সেই কাটা-ছেঁড়ার কাজটি লেখক সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। সবচেয়ে আকর্ষণীয় হচ্ছে কেবল দায়সারা ভাবে রেফারেন্স দেয়া নয়, বরং প্রতিটি সূত্রই ব্যাখ্যা করে লেখা হয়েছে যা বাংলাদেশি লেখকদের অধিকাংস ঐতিহাসিক বইয়ে অনুপস্থিত।
শ্রীলঙ্কায় দীর্ঘকাল ধরে চলে আসা গৃহযুদ্ধের আপাত অবসান হয় ২০০৯ সালে। শুধুমাত্র তামিল বনাম সিংহলী জাতিসত্ত্বার বিবাদ এই গৃহযুদ্ধকে ব্যাখ্যা করতে পারেনা।
বইটা মূলত ১৯৪৮- ২০০৯ টাইমলাইনে তামিল ইলাম ওয়ার এর প্রেক্ষাপটে ইন্টারনাল আর এক্সটার্নাল এক্টর আর তাদের মধ্যেকার রিলেশনশিপগুলাকে আইডেন্টিফাই করে গেসে।
ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর থেকে যাওয়া কলোনিয়ালিজমের ভূত, দেশের অসংখ্য জাতিসত্ত্বার মধ্যে বিভেদ, এলিটদের পরিবারতান্ত্রিক শাসন, ভারতের হস্তক্ষেপ, আন্তর্জাতিক মহলের ভূমিকা সব মিলে কনফ্লিক্ট শুধু বেড়েই গেসে। আমার কাছে বইটা এদিক থেকে বেশ অসাধারণ লাগসে যে স্বল্প পরিসরেই মোটামুটি সবকটা ফ্যাক্টর আলোচনা করা হইসে নিরপেক্ষভাবে।
২০১৭ সালে বই প্রকাশের পাঁচ বছর পার হয়ে গেসে। বর্তমানে শ্রীলঙ্কার ফরেন রিজার্ভের অবস্থা খুব একটা ভালো না। এই অবস্থায় বাংলাদেশের শ্রীলঙ্কাকে ঋণ দেয়া বেশ সাড়া জাগানো একটা নিউজ ছিল। এই বিষয়ে একটা ভিডিওঃ https://youtu.be/Oi_r4MYYLOI