আনমনে দুপুরে জানালার পাশ দিয়ে তাকিয়ে আছেন আপনি, অথবা সৃয্যি মামা ডোবার ক্লান্ত বিকেলে বাসে ঝুলে ঝুলে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্র থেকে বাসায় ফিরছেন, অথবা ক্লান্ত সন্ধ্যায় মোবাইলে প্রিয় গেইমটি খেলছেন, রাতে পাশের বাসার ভাবির সাথে বসে আড্ডা দিচ্ছেন এমন সময় কানে ভেসে এলো মুআযধিনের আযান। কিন্তু আপনি আযান শুনেও না শোনার ভান করলেন, আযান শেষে আপনি আপনার কাজে ফিরে গেলেন। এমন ঘটনা জীবনে কতবার ঘটেছে আপনি হয়ত গুনেও শেষ করতে পারবেন না। কিন্তু...............
একদিন আসবে যেদিন আপনাকে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে, হিসাব দিতে হবে জীবনের প্রতিটি ক্ষণের, প্রতিটি কাজের। জানেন কি সেদিন কি হবে? সেদিন আপনার গ্যাজেট, কর্মস্থল, স্বামী-সংসার নিয়ে আপনার ব্যস্ততা, পড়ালেখা, ডিগ্রী এগুলোর একটি সম্পর্কেও জিজ্ঞেস করা হবে না। আপনাকে আল্লাহু সবার আগে জিজ্ঞেস করবেন আপনার নামাযের ব্যাপারে। সেই নামাযের ব্যাপারে যা আপনার আমার উপর ফরয ছিলো, সেই নামায যা জান্নাতের চাবি। কিন্তু হয়ত আপনার আমলনামাতে গুটিকয়েক জুমা আর ঈদের নামায ছাড়া আর কোনো নামাযের অংশই নেই। সেদিন নষ্ট করা প্রতিটি মুহুর্তের জন্য আফসোস হবে। কিন্তু সেদিন দুনিয়ার জীবনে ফেরত আসার আর কোনো সুযোগই থাকবে না। কিন্তু সুযোগ আজকে আছে। আসুন আজ থেকেই ঘ্বুরে দাঁড়াই, আজ থেকেই বদলে যাই। আজ থেকেই শুরু হোক নামাধী জীবন, পবিত্র জীবন।
"আল্লাহ জ্বীন এবং মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তাঁর ইবাদতের জন্য।" [সূরা যারিয়াত-৫৬]
আমাদের মানবজীবনে যেন সবথেকে গাফিলতি এই ইবাদতেই(নামাযে)।আমাদের সব কিছুর শিডিউল থাকে,টু ডু লিস্ট অনুসারে সব কাজ সময়মতো করি।কিন্তু এর ভেতর নামাজ ইনক্লুড থাকে না।আমরা যেন ভুলেই গেছি আমাদের কোন উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করা হয়েছে।দুনিয়াবি কাজের মোহে আমরা আখিরাতকে ভুলে যাই।দুনিয়ায় এক পশলা শান্তির আশায় হাঁড়ভাঙ্গা খাটুনি করতেও রাজি। অথচ আমার রব আমাদের যুগে যুগে নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন শুধুমাত্র ইসলামের দাওয়াতের জন্য।আর আমরা শ্রেষ্ঠ নবীর উম্মত।আল্লাহ আমাদের জন্য ৫০ ওয়াক্ত নামায নির্ধারণ করেছিলেন।রাসূল(সা:) সুপারিশ করে তা ৫ ওয়াক্তে নিয়ে এসেছেন।কিন্তু সওয়াব সেই ৫০ ওয়াক্তের সমান ই পাব।এরপরেও দিনের ২৪ ঘন্টার ভেতর নামাযের জন্য আমাদের একটু সময় হয় না।সব আলস্য,ক্লান্তি,অযুহাত যেন নামাযেই।রাসূল (সা:) বলেছেন-"সন্তানের বয়স যখন ৭ বছর,তোমরা তাদেরকে তখন সালাতের আদেশ দাও।আর তাদের বয়স যখন ১০ বছর তখন তাদেরকে(প্রয়োজনে) সালাতের জন্য প্রহার কর।" আল কুরআনের ৬২৩৩ আয়াতের কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ আখিরাত নিয়ে। আখিরাতে বিশ্বাস করলেও এর ভয়াবহতা আমাদের অন্তরকে জাগিয়ে তুলে না।আমরা যেন উপলব্ধি করতে পারি না এর শাস্তি সম্পর্কে। অনেকেই আবার বলে থাকেন,বয়স হলে সালাত পড়ব।এতোটা বয়স কি তাহলে হেলায় কাটিয়ে দিবেন?যৌবনের ইবাদত যে আল্লাহর কাছে অধিক পছন্দনীয়।তাহলে আর দেরী কেন?চলেন আখিরাতমুখী হই।প্রতিটা কাজ নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।তাহলে নিয়তটা হোক সালাতের জন্য।নিয়তেই যদি ১০০০ গুন সওয়াব থাকে তাহলে সালাতের বিনিময়ে আপনার রব আপনাকে কতগুন বেশিই না পুরষ্কৃত করবেন।অনেকেই আবার বলে থাকি,আল্লাহ ক্ষমাশীল আমাদের মাফ করে দিবেন।হে আল্লাহর প্রিয় বান্দারা ভুলে যাবেন না,আল্লাহ আর-রহমান হওয়ার পাশাপাশি আল-কাহহার ও।আর-রহীম যদি তিনি হয়ে থাকেন,তবে সেই তিনিই আল-গালিব,গাফীরুয যাম্ব হলেও তিনি শাদিদুল ইকবও,তিনি একদিক দিয়ে তাওবা কবুলকারী আরেকদিক দিয়ে কঠিন শাস্তিদানকারী।আল্লাহর রহমতের যোগ্য হলেই পরে রহমত পাওয়া যায়।আল্লাহর সন্তুষ্টি মোতাবেক কাজ যারা করে তাঁরাই আল্লাহর রহমত ও দয়া লাভে ধন্য হবে।সব সমস্যার সমাধান একমাত্র নামাযে।নামাযেই প্রতিটা হৃদয়ে বয়ে আনে প্রশান্তির বার্তা।আজই ফিরে আসুন সকল আলস্য ত্যাগ করে,উপলব্ধি করুন,তাওহীদ বুঝুন।নিজের ছন্দতা ধরে রাখার রহস্য নিজেই উৎঘাটন করুন,নামায পড়ুন। জান্নাতে আল্লাহকে দেখতে পাবে এটা ভেবেই মুমিনরা পুলকিত হন।দুনিয়ায় আল্লাহর সান্নিধ্যে আসার একমাত্র মাধ্যম নামায।রবের সব থেকে নিকটবর্তী হয় বান্দা যখন সিজদাহরত অবস্হায় থাকে।এই নিয়ামত থেকে মাহরুম হবেন কেন আপনি?আর একটুও দেরী নয়,বিলম্ব নয় এক মুহুর্তও।আজকেই মনস্হির করে নিন,যতদিন আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখবেন এক ওয়াক্ত নামাযও ছেড়ে দেবো না।আল্লাহর ডাকে সারা দিন।এখনই প্রতিজ্ঞা করে নিন"আর ছাড়বো না নামায।"