মৃত্যুর এত বছর পরেও এইচ পি লাভক্র্যাফটের জনপ্রিয়তা এতটুকু কমেনি। বরং বলা যায়, দিনে দিনে তা যেন বাড়ছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, গোটা বিশ্বে এমন জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও বাঙালি পাঠকের কাছে সেভাবে গৃহীত হননি ক্ষণজন্মা শক্তিশালী এই সাহিত্যিক। সেই কবে অদ্রীশ বর্ধন ‘দ্য কেস অব চার্লস ডেক্সটার ওয়ার্ড’ অনুবাদ করেছিলেন। তারপর দীর্ঘ সময় ধরে সেভাবে কেউই অনুবাদ করার কথা ভাবেননি লাভক্র্যাফটের রচনা। একেবারে হালফিলে বাংলা ভাষায় লাভক্র্যাফটচর্চা খানিক গতি পেয়েছে। তবুও লাভক্র্যাফট সম্যক পরিচিতি পেয়ে গিয়েছেন, এমনটা নয়। তাই এই বইয়ের পরিকল্পনার সময় থেকেই আমাদের উদ্দেশ্য ছিল, লাভক্র্যাফটের সঙ্গে সকলের যথার্থ পরিচয় করানো। কেবল তাঁর কয়েকটি রচনার অনুবাদ প্রকাশ করা
বাংলায় লাভক্র্যাফটের রচনা অনুবাদের ক্ষেত্রে ভগীরথ হলেন অদ্রীশ বর্ধন। সাম্প্রতিক কালে এই ধারাটি একাধিক অনুবাদকের প্রয়াসে পুষ্ট হয়েছে। সেইসব অনুবাদকদের মধ্যে কারও কাজ নন্দিত হয়েছে আবার কারও কাজ হয়েছে প্রবলভাবে নিন্দিত। কল্পকাহিনির জগতে লাভক্র্যাফটের স্থায়ী প্রভাবের কথা ভেবে তাঁর সেরা বারোটি লেখা বেছে নিয়েছিল কল্পবিশ্ব। তারপর, এই সময়ের কয়েকজন পরিচিত লেখক ও অনুবাদকের ওপর ন্যস্ত হয়েছিল লাভক্র্যাফটের দু'টি করে লেখা অনুবাদের দায়িত্ব। তারই পরিণাম হল এই সংকলন। এই সংকলনে লেখাগুলোর অনুবাদের মান যথেষ্ট ভালো— স্বচ্ছন্দ অথচ মূলানুগ। তবে বইটার মূল্য অনেকগুণে বেড়ে গেছে উদ্ধার হওয়া পুরোনো অলংকরণ এবং টীকার উপস্থিতিতে। কল্পবিশ্ব ইদানীং সু-সম্পাদিত কাজের ক্ষেত্রে একটি গোল্ড-স্ট্যান্ডার্ড হয়ে উঠেছে। এই বই তারই অন্যতম নিদর্শন। লেখাগুলো বেছে নেওয়ার সময় লাভক্র্যাফটের বিপুল রচনার মধ্যেও সেগুলোকেই চিহ্নিত করা হয়েছিল, যারা মানুষটির লেখনী, সৃজনশীলতা, আর অন্তর্লীন আতঙ্কের একটা সামগ্রিক ছবি তুলে ধরতে পারে। তাই লাভক্র্যাফটের ভয়াল রচনার জগতে প্রবেশ করার জন্য এই সুমুদ্রিত ও প্রতিনিধিত্বমূলক সংকলনটির থেকে ভালো প্রাইমার কল্পনা করা কঠিন। অলমিতি।