অনেকদিন পরে কোনো লেখা গোগ্রাসে গিললাম। লেখকের প্রথম কোনো লেখা পড়লাম। উপন্যাসের প্রধান পরিবারের ঐতিহাসিক সত্যতা এখনও যাচাই করিনি পড়তে ব্যাস্ত থাকার জন্য। কাল্পনিক হলেও লেখককে তারিফ করতে হবে ঐতিহাসিক চরিত্রের মাঝে নিজের চরিত্রগুলো খুব সুন্দর ভাবে স্থাপন করেছেন। উপন্যাসের অন্তর্নিহিত গল্পটা বলে পাঠকদের রসভঙ্গ করবনা।
Jump cut Narrative, ইতিহাসের গতিধারার সঙ্গে মিশে যাওয়া বর্তমানের সমান্তরাল, সামাজিক পটচিত্র এবং সর্বোপরি যে সাব্ অল্টার্ন হিস্ট্রি নিয়ে কাজের সংখ্যা খুবই কম বাণিজ্যিক পত্রিকায় প্রকাশিত লেখাপত্রের মধ্যে- সবদিক থেকেই -লেখকের কাছে পাঠক হিসাবে আমাদের ঋণ অনেক বেড়ে গেল।
অনেকদিন পর কোনো উপন্যাস পড়লাম যেটি ঐতিহাসিক চরিত্র গুলিকে বজায় রেখে উপন্যাসের চরিত্রের বিস্তার খুব পুঙ্খানুপঙ্খ করেছেন। এতে যেমন ইতিহাস নিজের ধারায় বহমান হয় তেমনি চরিত্র গুলোও নিজের মতো করে লেখনীর আঙিনায় বেড়ে উঠতে থাকে। এই উপন্যাস অবশ্যই ইতিহাস আশ্রিত আরো ভালোভাবে বললে ফিকশনাল হিস্ট্রি গোছের লেখা। উপন্যাসের সূচনা ঘটে একটি ঔপন্যাসিকের অধরা উপন্যাস এর সমাপ্তি সূত্রে, সেটির ভার গিয়ে পড়া নবাগত এক লেখক অমিতজ্যোতির উপর, প্রথমে না বললেও পরে ঔপন্যাসিকের অনুরোধে আর উপন্যাসের বিষয় বস্তুরটানে নিজে থেকে সেই ভার নিতে আগ্রহী হয়। সেই অধরা উপন্যাস এর সময়কাল শুরু হয় সিরাজ উদ দৌল্লার বাংলা থেকে তখনো তিনি বাংলার নবাব হননি আর সঙ্গে উঠে এসে এর কেন্দ্রীয় চরিত্র শিবনাথ চট্টোপাধ্যায়। উপন্যাসের গতিময়তা বেশ জোরালো কোথাও এই ম্রিয়মাণ নয়, উপরন্তু শিবনাথ চট্টোপাধ্যায়ের যে ব্যক্তিত্ব লেখক ফুটিয়ে তুলেছেন তাতে উপন্যাস পড়তে আর বেশি ভালো লাগে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে লেখক পুরোনো কলকাতার গতিবিধির সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির যে রূপরেখা আঁকতে চেষ্টা করেছেন টা খুবই সাবলীল। যারা পুরোনো কলকাতা আর তাদের বাবুয়ানার বিষয়ে আগ্রহী হয়ে থাকেন আর সঙ্গে একটি চমকপ্রদ কাহিনী পড়তে চান , তাঁদের কাছে অবশ্যই এই উপন্যাস সুখপাঠ্য।