সিজার বাগচী-র জন্ম ১৯৭৭ সালে। দক্ষিণ কলকাতায়। পূর্বপুরুষের বসবাস ছিল অধুনা বাংলাদেশের ময়মনসিংহে। অল্প বয়সে পিতৃহীন। কলেজে পড়ার সময়ে লেখালিখি শুরু। ফিচার, গল্প, প্রবন্ধ, সমালোচনা, চিত্রনাট্য, কথিকা, উপন্যাস। সহজ তরতরে ভাষায় লেখা সব গল্প-উপন্যাসের বিষয়ই আলাদা। এবং তা উঠে আসে রোজকার জীবনযাত্রা থেকে। বড়দের পাশাপাশি ছোটদের গল্পও লিখছেন নিয়মিত৷ নানা পেশায় যুক্ত থেকেছেন। দীর্ঘদিন সাংবাদিকতার চাকরি করেছেন ‘আনন্দলোক’ পত্রিকায়। বর্তমানে ‘আনন্দমেলা’য় কর্মরত৷ লেখালিখি ছাড়াও বাংলার লোকসংস্কৃতি নিয়ে কাজ করতে ভালবাসেন।
পুজোর জন্য নতুন জামা কাপড় যে কেনা শুরু করতে হবে, তা বুঝতাম পূজাবার্ষিকী ঘরে আসার পরেই। ২০০৭ সাল থেকে আনন্দমেলা কিনে এসেছি প্রতিবার, কোনো ঝড় ঝঞ্ঝা প্রলয় মহামারী কিছুই আটকাতে পারে নি। ধীরে ধীরে এই পূজাবার্ষিকী আনন্দমেলা কেনা এক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। প্রতিবছর জুলাই মাসের শেষ থেকেই খোঁজ করি শারদীয়া বেরোলো কিনা!
🤹 যা হোক, এবারে ১৪২৭ -এর শারদীয়া আনন্দমেলার ব্যাপারে আসা যাক। এবারে সব কিছুই বেশ ব্যতিক্রমী তাই আনন্দমেলাও প্রকাশ হয় আগস্ট মাসে। তার মধ্যে সব থেকে বেশি 'না পাওয়া' হয়তো ফেলুদার কমিক্স। প্রতিবার বইটা নিয়েই আগেই কমিক্সগুলো পড়ে ফেলি। এবারে কাকাবাবু কমিক্স থাকলেও তা যেন ঠিক জমে ওঠে নি। বরঞ্চ অনেক ভালো গল্প উপহার দিয়েছেন সুযোগ বন্দ্যোপাধ্যায় তার রাপ্পা রায় কমিক্সে।
🃏 উপন্যাসের মধ্যে অবশ্যই আছে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ' হিরণগড়ের ব্যাপারস্যাপার ' । যথারীতি সেখানে স্থান পেয়েছে এক স্মৃতিভ্রষ্ট মানুষ। তাকে নিয়েই শুরু হয়েছে গোলমাল। গল্পটি মজার হলেও বড্ড একরকম হয়ে গিয়েছে। যদিও স্মরণজিৎ চক্রবর্তীর ' সাদা সোনার দেশে ' উপন্যাসটি আমার বেশ ভালো লেগেছে। সেখানে রয়েছে সাইবেরিয়ার বরফের তলায় গুপ্তধনের খোঁজ। রহস্য ও রোমাঞ্চে ভরা এক টানটান লেখনী। উল্লেখযোগ্য হিসেবে আরো দুটি উপন্যাসের কথা বলতেই হয় একটি দেবাশীষ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ' রানিকাহিনী' যেখানে একটি ঐতিহাসিক উপন্যাস গড়ে উঠেছে বাংলার ছোট্টরাজ্য ভুরশুটের রানী ভবশঙ্করী ও পাঠানদের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মাধ্যমে। আরো একটি অসাধারণ উপন্যাস দীপান্বিতা রায়ের 'কর্কটচক্র'। যেখানে দুই কিশোর তাদের জেঠুর আবিষ্কার রক্ষার্থে ভয়ানক মেডিকেল মাফিয়াদের সম্মুখীন হয়।
🕹️ গল্পের মধ্যে সবকটিই বেশ ভালো লেগেছে আমার। নতুন লেখকদের স্পর্শে আনন্দমেলা যেন আবার সেই পুরোনো গৌরব ফিরে পেয়েছে। তারই মধ্যে শ্যামল দত্ত চৌধুরীর ' বুড়ী মাঈ' পড়ে সত্যি গায় কাঁটা দিয়ে ওঠে আমার। এছাড়াও আমার সব থেকে প্রিয় গল্পটি প্রচেত গুপ্তর ' ঘাসের কথা' গল্পটির সরলতা যেন পাঠক অনুভব করবেন তার অন্তর দিয়ে। সব মিলিয়ে এবারের আনন্দমেলা আমার মন্দ লাগেনি। অনেক নতুন লেখকের লেখা পড়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য এবং আমার ছেলেবেলার অভ্যাসটিকে জীবন্ত রাখার জন্য আনন্দমেলাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।