বাল্যবন্ধু নাসিম পারভেজের বিয়েতে অংশ নিতে কক্সবাজারে পা রাখল সাব্বির হোসেন। কিন্তু এসেই জানতে পারল—ঠিক আগের রাতেই নৃশংস ভাবে খুন হয়েছে বেচারা! সেই খুনের জন্য দায়ী মনে করা হচ্ছে তারই বাগদত্তা—মধুমতী চৌধুরীকে! স্থানীয় থানার ওসি, ফেরদৌস আহমেদের সহায়তায় খুনের তদন্তে নামল সাব্বির...যে তদন্তের সূত্র ওকে ঘোরাচ্ছে নাকে দড়ি দিয়ে! ইয়াবার বিষাক্ত ছোবল থেকে নিজেদেরকে রক্ষা করতে চেয়েছিল নাসিম, সেজন্যই কি মরতে হলো ওকে? সাক্ষ্য-প্রমাণ তো সেদিকেই নির্দেশ করে! দৃঢ় প্রতিজ্ঞ সাব্বিরের অভিধানে পিছু হটা বলে কিছু নেই। তদন্ত করতে গিয়ে খুঁজে পেল ও প্রাক্তন মাদক সম্রাট মাহমুদ আসহাফকে, পেল বড়লোকের বখে যাওয়া পুত্র রাজীব মল্লিককে। আর পরিস্থিতিকে আরো ঘোলা করতে হাজির হয়ে গেল ডা. নিশাত তানজুম। কক্সবাজার, শ্যামলাপুর, টেকনাফের সমুদ্র সৈকত থেকে মিয়ানমারের পাহাড় পর্যন্ত বিস্তৃত এই মাদকচক্রের যতি টানতে পারবে তো সাব্বির? নাকি মাদকের বিষাক্ত ছোবলে নীল হয়ে যাওয়া মানুষদের তালিকায় যোগ হবে আরেকটা নাম?
জন্ম সিরাজগঞ্জে, ১৯৮৮ সালে। এসএসসি. পাশ করেন আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে, এইচএসসি-রেসিডেনশিয়াল মডেল কলেজ থেকে। এরপর শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সমাপ্ত করে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ থেকে। বর্তমানে কর্মরত আছেন কক্সবাজার জেলায়।
লেখালেখি শখের বসে, অনুবাদ করতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। প্রথম প্রকাশিত বই আদী প্রকাশন থেকে-ট্রল মাউন্টেন। সেই সাথে রহস্য পত্রিকায় টুকটাক লেখালেখি।
বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটা হলো 'রোহিঙ্গা সমস্যা'। মায়ানমার থেকে প্রাণ হাতে নিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা এই জনগোষ্ঠী আশ্রয় নিয়েছে কক্সবাজারে। সেইসাথে জন্ম দিয়েছে অনেকগুলো সমস্যার। সমস্যাগুলোর একটা হচ্ছে এদেরকে হাতিয়ার করে ইয়াবার মতো সর্বনাশা নেশাদ্রব্যের দেদার প্রবেশ ঘটছে এ দেশে। শূন্য-কল্প-র কাহিনি এই মাদক সমস্যা ও ব্যবসার ওপর ভিত্তি করেই আবর্তিত হয়েছে। লেখক নিজে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে কর্মরত থাকায় এসব সমস্যা দেখেছেন বেশ কাছ থেকে। তাই তার লেখায় অনেকটাই জীবন্ত হয়ে উঠেছে কক্সবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি। ফলে শূন্য-কল্প হয়ে উঠেছে অনেকটাই বাস্তবের কাছাকাছি উপভোগ্য থ্রিলার।
হঠাৎই একদিন দেখা হয়ে যায় বাল্যবন্ধু নাসিমের সাব্বিরের সাথে। জীবনের একটি বড় শিক্ষা সে পেয়েছিল তার এই বন্ধুটি থেকে। বন্ধুর বিয়ের নিমন্ত্রণ রক্ষার্থে কক্সবাজারের জন্য রওনা দেয়। কিন্তু বিধিবাম তার আসার আগেই নির্মমভাবে খুন হয় নাসিম। অগ্রদলের ক্ষমতাবলে কেসের তদন্তে নামে কিন্তু একের বৈঠক এক বিপত্তি যেন পিছু ছাড়ে না।
মাদক সম্রাট মাহমুদের থেকে জানতে পারে মাদক সাম্রাজ্যের অজানা বহু রহস্য আর ইতিহাস। কিন্তু বন্ধুর হত্যার সাথে মাদকের কী সম্পর্ক? নাকি আছে! বন্ধু হত্যার প্রতিশোধের নেশায় পাগল হয়ে পা রাখে সাব্বির অন্ধকার এক দুনিয়ায়। কী হবে এর পরিণতি?
"শূন্য-কল্প", সিরিজের এখনও পর্যন্ত সেরা বই আমার মতে। টুইস্ট আর রহস্যে ভরপুর। বিভিন্ন মেডিক্যাল টার্ম এতে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। কিন্তু গল্প তো এখানেই শেষ হয়নি " অশূন্য-কল্প"- এ পাওয়া যাবে বাকি অংশ। আল আমিনের বলা শেষ কথাগুলো অশূন্য-কল্পর প্রতি আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বইয়ের আর একটি দিক না বললেই নয়, সেটা হলো বইয়ের প্রতিটি চরিত্রের ছোট-বড় গল্প সিরিজে বলা হয়েছে। সেই চরিত্র যত ছোটই হোক না কেন। এর জন্য আবার বর্ণনা বেশি হয়ে গেছে। অনেকের জন্য তা বিরক্তির কারণও হতে পারে কিন্তু আমার ভালো লেগেছে বিষয়টা।
আমি কখনও কক্সবাজার যাইনি। কিন্তু বইটি পড়ার সময় একবারও তা মনে হয়নি আমার। মনে হচ্ছিল যেন চোখের সামনেই সব পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি। আরও মজার ব্যাপার, রোহিঙ্গাদের নিয়ে একটা ডকুমেন্টরি দেখছিলাম। অনেকগুলো জায়গা-ই পরিচিত মনে হচ্ছিল। একজন লেখকের কৃতিত্ব কোথায়? শব্দের মুন্সিয়ানাতে পাঠকের চোখে কাহিনির দৃশ্যপট ফুটিয়ে তোলা। লেখক সফল, খুবই সফল। বইটি কোন জনরার? শুধুমাত্র থ্রিলার ভেবেই হাতে তুলে নেন যদি, ভুল করবেন। একই সাথে থ্রিলার, সামাজিক, সমসাময়িক-সহ বেশ কয়েকটি জনরায় পড়ে এটি। বইটি পড়ার সময় ভাতৃত্ববোধের তীব্রতা আপনাকে কাঁদাবে, প্রতিশোধ স্পৃহা দেখে চমকে যাবেন, মাদকের ভয়াবহতা জেনে বিস্মিত হবেন। সেই সাথে মানুষের লোভ/অর্থলিপ্সা দেখে হয়তো ঘেন্না হবে । কিন্তু বাধ্য হবেন সাব্বিরকে ভালোবাসতে। কাহিনির ভেতরে যাচ্ছি না...সেটা নাহয় নিজেই জেনে নিন।
ঘাতক কে, তা বুঝেছিলাম একরকম শুরুর দিকেই। কিন্তু গল্পের বিষয়বস্তু, অ্যাকশন এবং ব্যাকগ্রাউন্ড রিসার্চ দেখে মুগ্ধ হয়েছি। গল্পটা বলাও হয়েছে চমৎকারভাবে।
এই বইটা আরো অনেক বেশি লাইট ডিজার্ভ করে। বিষয়বস্তুর জন্য। এমন বাস্তব সমস্যা ও বাস্তব জায়গা নিয়ে লিখতে লেখকরা হয় সাহস পান না, অথবা আগ্রহই হয় না। এখানে লেখক সেই কাজটা শুধু করেনইনি, যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়ে, পড়াশোনা করে করেছেন। সাধুবাদ যে তার প্রাপ্য, তা আর বলতে।
বাড়তি পাওনা হিসাবে আছে ঘাতকের টিজার। অপেক্ষায় আছি।
অনেক বছর ধরেই কক্সবাজারে চলছে রোহিঙ্গা ইস্যু, আর সাথে ইয়াবা ব্যবসার কথা কে না জানে। ইয়াবার সাথে বহু বছর ধরে যুদ্ধ করে চলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আবার অনেক অসাধু স্থানীয় ক্ষমতাবান ব্যক্তির হস্তক্ষেপের কারণে, চাইলেও ধরা সম্ভব হয় না এসব ইয়াবা ব্যবসায়ীদের। ধরা পড়ে ছোটোখাটো চুনোপুঁটিগুলোই। আর চালান ধরা পড়ে তাদেরই, যারা উপরমহলের অসাধু ব্যক্তিদের খুশি রাখতে পারে না। এই মাদক ব্যবসা নিয়েই বইটি, নাম শূন্য-কল্প।
শূন্য-কল্প সময় সিরিজের তৃতীয় বই। বুদ্ধের উৎপত্তি ও অস্তিত্বের ভিত্তিতে কল্প দুই প্রকার - শূন্য ও অশূন্য। যেই কল্পে বুদ্ধ থাকেন, তাকে বলা হয় অশূন্য-কল্প। আর যেই কল্পে বুদ্ধ থাকেন না, সেটাই শূন্য-কল্প।
কাহিনি সংক্ষেপঃ
বাল্যবন্ধু নাসিম পারভেজের বিয়েতে যোগ দিতে কক্সবাজারে গেল সাব্বির হোসেন৷ কিন্তু ফোনে কোনোভাবেই নাসিমকে না পেয়ে সরাসরি হোটেলে চলে গেল সে। গিয়েই জানতে পারল, নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে তার প্রাণপ্রিয় বন্ধুটি। আর খুনের পর থেকে নাসিমের বাগদত্তা মধুমতী চৌধুরীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। পুলিশের সন্দেহ, মধুমতীই হত্যা করেছে হতভাগা নাসিমকে।
স্থানীয় পুলিশের সাহায্য নিয়ে তদন্তে নামল সাব্বির। যেভাবেই হোক বন্ধুর খুনীকে বের করে ছাড়বে সে৷ কক্সবাজার থানার ওসি ফেরদৌস আহমেদ রীতিমতো বিরক্ত, সাব্বিরের মতো উটকো ঝামেলা তার কেসে নাক গলাচ্ছে দেখে। তাও সর্বোচ্চ সহায়তা করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
মধুমতীকে খুঁজে পাওয়ার আগ পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্তে আসতে রাজি নয় সাব্বির। তবে বন্ধু নাসিম অনেক আগে থেকেই বলছিল, মধুমতী মাদক গ্রহণ ও ব্যবসার সাথে জড়িত, আর নাসিম তাকে এই পথ থেকে ফেরাতে চায়। তাহলে কি বাগদত্তাকে ফেরাতে গিয়েই এই পরিণতি নাসিমের? এসব প্রশ্নের জবাব মিলতো য্ব্র কাছে, তাকেই তো খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। মেয়েটাই কি খুনী, নাকি নাসিমের মতো তাকেও খুন করে গুম করে ফেলা হয়েছে?
কেঁচো খুঁড়তে সাপ বের হয়ে এল। নাসিমের সাথে কাদের ঘনিষ্ঠতা ছিল দেখতে গিয়ে জানা গেল নানান তথ্য। এমন সব মানুষের আনাগোনা ছিল বন্ধুর সাথে, তাদের মধ্য থেকেও কেউ যদি খুনী হয়ে থাকে, অস্বাভাবিক কিছু হবে না সেটা। মধুমতীর রিহ্যাব সেন্টারের ডাঃ নিশাত আনজুম সহায়তা করার আশ্বাস দিলো সাব্বিরকে। কিন্তু নিশাতকেও কি বিশ্বাস করা যায়? প্রাক্তন মাদক সম্রাট মাহমুদ আসিফও বা নাসিমের খুনের আগের দিন কী করছিল নাসিমের রুমে? তাছাড়া মাদকাসক্ত রাজীবকেও তো সন্দেহের খাতা থেকে বাদ দেয়া যাচ্ছে না। চারদিকে সন্দেভাজনদের নিয়ে আর মাথায় একগাদা প্রশ্ন নিয়ে তদন্ত চালিয়ে গেল সাব্বির৷ শেষ পর্যন্ত ও কি পারবে বন্ধুর হত্যাকারীর মুখোশ উন্মোচন করতে? পারবে বছরের পর বছর ধরে চলে আসা ইয়াবা ব্যবসা বন্ধ করতে? পারবে এই ব্যবসার পেছনের মানুষ নামের অমানুষগুলোকে থামাতে?
হালের থ্রিলার জোয়ারের যে কয়টা বইই পড়া হয়েছে, তার মাঝে একদম বাস্তবিক সমস্যা-ঘটনা-জায়গা ধরে একটা আস্ত থ্রিলার দাঁড় করানোর নজির খুব একটা চোখে পড়েনি। একেবারেই পড়েনি বোধহয়। সে হিসেবে গতানুগতিক থ্রিলারগুলোর চেয়ে শূন্য-কল্প কিছুটা হলেও ভিন্ন স্বাদের লেগেছে আমার কাছে। সাধারণত থ্রিলারগুলো র্যান্ডম শহর-গ্রাম-মফস্বলের আবহে হয়ে থাকে। কিন্তু এ বইয়ের আবহ বিখ্যাত, চেনা পরিচিত এক জায়গায়-কক্সবাজার। এখানে কল্পনার আশ্রয় নেয়া যাবে না, কারণ জায়গাটা বিখ্যাত। ওখানে ঘুরতে যাওয়া পাঠকের সংখ্যাটা কম নয়! যেনতেন কিছু লিখলে তা চোখে ধরা পড়বেই। আমি নিজেও গেছি ওখানে। পড়ার সময় দৃশ্যগুলো ভাসছিল চোখে। এ দিক দিয়ে বলতে হবে ফুয়াদ ভাই সফল। এবার আসি গল্পের প্লটে। কাহিনী কেন্দ্রবিন্দু খুন আর তার রহস্য উন্মোচন হলেও তার সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়ানো মাদক সমস্যা। এমন বাস্তব ইস্যু পুঁজি করে গল্প বলা চোখে পড়েনি এর আগে। সে জন্যেও লেখকের সাধুবাদ প্রাপ্য। সেই সাথে রোহিঙ্গা ইস্যু, মাদক পাচার-এসব নিয়ে বেশ কিছু জানা হয়ে গেল। বুঝাই যায়, নীরেট আর বাস্তব তথ্যের জন্য বেশ খেটেছেন লেখক। ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট, দৃশ্যায়ন, একশন-সবই ছিল মাপামাপা, পরিমিত। ঝুলে যায়নি কোথাও। শেষ করে মনে হয়েছে এটা দিয়ে কিন্তু বেশ ভালো সিনেমা বা ওয়েব সিরিজ বানানো যায়! পারফেক্ট একটা কন্টেন্ট হবে দেশী প্রেক্ষাপটে। বাস্তব লোকেশন, বাস্তব ইস্যু, তার মাঝে থ্রিল, আহা! :D এবার অশূন্য-কল্পের জন্য অপেক্ষা! প্রচ্ছদঃ চমৎকার! প্রোডাকশনঃ চমৎকার! ৪.৫/৫
সময় সিরিজের ২য়(?) নাকি ৩য় বই হল শূন্যকল্প। সাব্বির বরাবরের মতন এই সিরিজের নায়ক। বন্ধুর বিয়ে খেতে কক্সবাজার গিয়ে যদি দেখেন বন্ধু খুন হয়ে গেছে বিয়ের আগের রাতেই আর কনে পালাতক তাহলে কেমন লাগবে আপনার? আর আপনি যদি হন দেশের আইন বিভাগের কেউ তাহলে অবশ্যই চাইবেন কেসটা নিজ হাতে সলভ করতে, তাই নয় কি? সাব্বিরও তার ব্যাতিক্রম নয়। কেসের দায়িত্ব নিজের কাধে তুলে নিয়ে অবশ্য চোখে শর্ষে ফুল দেখতেও দেরী হয়নি তার। ইমোশনের কারনে কেসের সব কিছু লেজে গোবরে অবস্থায় ভেস্তে যাওয়ার পরিস্থিতি করতেও সময় লাগেনি তার। বস্তুত আমি মনে হয় না অন্য কোন গোয়েন্দা/থ্রিলার গল্পে গল্পের মূল চরিত্রকে এত বেশী দুর্বল হতে দেখিনি, তবে অভিজ্ঞতা খারাপ নয়। নতুন স্বাদ পাওয়া গেল এই আর কি। এই উপন্যাসের সবচেয়ে ভাল দিক হল, জানিনা লেখক কক্সবাজারে কাম্পে কাজ করার জন্যেই কিনা, কক্সবাজারের সুক্ষ্ণ বর্ননা। কেউ যদি কক্সবাজারে কোনদিন নাও যেয়ে থাকে তবেও তার চোখের সামনে একবারে ভেসে উঠবে কক্সবাজার পুরোটা ছবির মতন। এই বিষয়ে বাহবা দিতেই হবে লেখককে।
আমার পড়া ফুয়াদ ভাইয়ের প্রথম বই। গল্পের প্লট খুবই ভালো। ছকেবাঁধা কন্সপিরেসি থ্রিলার বা ক্রাইম থ্রিলারের বাইরে গিয়ে ভিন্ন স্বাদ দিয়েছে ইয়াবা মাদকের চোরাচালান নিয়ে গড়ে উঠা এই বই। লোকেশন এবং সমসাময়িকতা অনুসারে এই প্লট নিয়ে থ্রিলার লেখার চিন্তা আসাটাই যথেষ্ট প্রশংসনীয়। সেই সাথে ম্যাপ ব্যবহার করে এবং লোকেশনের নিখুঁত বর্ণনা দিয়ে যেকোনো বাংলাদেশী পাঠকের জন্যে ভিজুয়ালাইজেশন অনেকটাই সহজ হয়েছে। প্রশংসার অংশ এটুকুই। কিন্তু নেগেটিভ দিকগুলো ছাড়িয়ে গেছে এই প্লটকে। প্রথমত, প্রটাগনিস্ট খুবই দুর্বল। বাংলা থ্রিলারগুলোতে থাকা বিভিন্ন এস্পিওনাজ এজেন্সির এজেন্টদের মধ্যে আমার দেখা সবচেয়ে দুর্বল ছিল সাব্বির হোসেন। এত এত ব্লান্ডার করেছে যে আমি রীতিমত বিরক্ত হয়ে গেছি এক পর্যায়ে। এরপরে আসে এন্টাগনিস্ট কে সেটা গল্পের পাতাদশেক পড়ার পরেই বুঝে যাওয়া। এটুকুও মানা যেত যদি যথেষ্ট স্ট্রং টুইস্ট দিয়ে শেষ হত। কিন্তু কেন সাব্বির তাকে সন্দেহ করা শুরু করলো বা এন্টাগনিস্টের অরিজিন স্টোরি কি তার কিছুই স্পষ্ট না। এর সিকুয়েলে *হয়ত* দেখা যাবে সেই অরিজিন, কিন্তু এটা জানার জন্যে সিকুয়েলের অপেক্ষা করাটা আমার কাছে মনঃপূত হলো না। আরেকটা বিরক্তি উদ্রেককারী ব্যাপার ছিল, চরিত্রগুলোর নামের বদলে বারবার যুবক বলে ডাকা। সব মিলিয়ে প্রথম হাফ যতটা ভালো ছিল, পরের হাফ তা পূরণ করতে পারলো না।
This entire review has been hidden because of spoilers.