The Thin White Line: The Inside Story of Cricket’s Greatest Scandal tells the story of the spot-fixing scandal of 2010, which sent shockwaves through the sport. It stunned the wider sporting world and confirmed the reputation of the News of the World’s Mazher Mahmood as the most controversial news reporter of his generation. It was the start of a stunning chain of events that saw the News of the World shut down, Pakistan captain Salman Butt and bowlers Mohammad Asif and Mohammad Amir banned and sent to prison, before Mahmood himself ended up behind bars.
This gripping, forensic account takes the reader through the twists and turns of those fateful days late one August and beyond. For the first time, it shines a light on the tradecraft of the News of the World team and how they exposed the criminal scheming of the cricketers and their fixer Mazhar Majeed. It reveals how deeply fixing had penetrated the Pakistan dressing room, and lifts the lid on the black arts of investigative reporting which would eventually prove Mahmood’s undoing.
সেই বিখ্যাত(নাকি কুখ্যাত) স্ক্যান্ডাল।সেই ঘটনার আগে আমার কিশোর মন ভাবত আসলেই কি ইচ্ছে করে ম্যাচ হারা যায়?আসলেই টাকা খেয়ে ইচ্ছে করে আউট হওয়া যায়?ঘটনা পত্রিকায় দেখার পর এক কথায় অবিশ্বাস ই করেছিলাম কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ঘটনাবহুল পড়ার পর আর অবিশ্বাস করতে পারি নি।ক্রিকেটের একনিষ্ট ফলোয়ার হিসেবে প্রতি ঘটনার সাথে মিলাতে পেরেছি কখন কোথায় পাকিস্তান ট্যুর করেছিল,কোন ম্যাচ জিতেছিল ইত্যাদি। পুরো বইটি তে সুন্দরভাবে কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে।একদম A to Z কোথেকে কিভাবে কি করে সব হল।পুরো বই শেষ করে একজনের প্রতি সহানুভূতি হবে আর আরেকজনের প্রতি তীব্র ঘ্রীনা আসবে এটা অন্তত বলতে পারি। ট্রান্সলেটর সাদিদ ভাই কে ধন্যবাদ সুন্দর অনুবাদ টা করার জন্য।দারুণ অনুবাদ করেছেন পুরো বইটির।
“হাঁটতে শেখার পর থেকে প্রতিটা মিনিট আমি কেবল হিসাব করেছি, কীভাবে ক্রিকেট ম্যাচ জিততে পারি। আজ আমি জানলাম, কিছু জারজ ক্রিকেট খেলতে শুরু করেছে— যারা উপায় খুঁজছে, কিভাবে ম্যাচ হেরে যেতে পারে।”
উপরের উক্তিটি করেছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার রিচি বেনো। যিনি একসময় ইংল্যান্ডের পত্রিকা ‘নিউজ অব দি ওয়ার্ল্ড ’-এ ক্রিকেট বিষয়ক কলাম লিখে বেড়াতেন। তার এই আক্ষেপের ভিত লুকিয়ে আছে অনেক গভীরে। তিনি যখন এই কথাটা বলেন, তখন আসলে কিছু ক্রিকেটারের নাম লেখা হয়ে গিয়েছে কফিনের উপর। সারাবিশ্বে, পুরো ক্রিকেট দুনিয়ায় ক্রিকেটকে কলঙ্কিত করা কিছু মানুষের মুখোশ খুলে দেওয়ার মঞ্চ তখন প্রস্তুত। সুনিপুণ কারিগরের ন্যায় শেষ আঁচড় দেওয়ার সময় উপস্থিত। যারা শুধু নিজ দেশের সাথে গাদ্দারী করেনি, ক্রিকেট নামের এই খেলাকেও অপবিত্র করেছে। আচ্ছা, শুরু থেকে শুরু করা যাক।
ফিক্সিং কেলেঙ্কারি শুনলে আপনার সামনে কী কী ঘটনার কথা ভেসে ওঠে? একবিংশ শতাব্দীর এই আধুনিক ক্রিকেট যখন প্রসারের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন কোন ঘটনা আপনাকে মনে করিয়ে দেয়— ক্রিকেট আসলে স্বচ্ছতার জায়গা না? হয়তো মনে করে আপনি বলবেন মোহাম্মদ আশরাফুলের কথা। কিংবা সাকিব আল হাসানের নিষিদ্ধ হওয়ার সময়টা। কিন্তু সব ছাপিয়ে দুই হাজার দশ সালের সেই দিনটি আসলে বের করে এনেছিল একটি নির্দিষ্ট দেশ আর তাদের ক্রিকেটারের অসদাচরণ। ক্রিকেটকে যারা কলঙ্কিত করেছে। বিশ্বাসঘাতকতা করেছে দর্শকদের সাথেও। আর প্রতিপক্ষ? যাদের ভালো খেলার মূল্যটাও যেখানে মূল্যহীন!
ক্রিকেট খেলা যতটা না শারীরিক, তারচেয়েও মানসিক। মনস্তত্ত্বের এই খেলায় যে যতক্ষণ টিকে থাকতে পারে যাবে, জয়ের ভিত্তি ততটাই মজবুত হবে। কিন্তু এই ভিত যদি নড়বড়ে হয়ে যায়? কোনো ব্যাটার ক্যাচ মিসের সুযোগ নিয়ে শতক হাকিয়ে উৎযাপন করে, আর পরে জানা যায় সেই ক্যাচ মিস কোনো এক অদৃশ্য সুতোর টানে— সেই শতকের মূল্য থাকে? কিংবা টেস্ট ক্রিকেটের শেষ বেলার সৌন্দর্যে যখন আচমকা বিজয় এসে উপস্থিত হয়, পরবর্তীতে প্রতিপক্ষের সেই পরাজয়ে আঙ্গুল ওঠে— তখন যে নিজেদের জয়ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এই প্রশ্নবিদ্ধ কিছু গল্পের প্রমাণ পাওয়া যায় না, উত্তর খুঁজে বের করা খুব দুষ্কর!
একটা ছোট্ট মেসেজ থেকে জানা যায়, কিছু একটা ঘটছে বা ঘটবে। ক্রিকেটের অভ্যন্তরে এমন কিছু চলছে যা বেরিয়ে এলে পুরো ক্রিকেট দুনিয়া ওলটপালট হবে। ব্রেকিং নিউজ ছেয়ে যাবে ক্রিকেট খেলুড়ে দেশগুলো। কিন্তু এই ঘটনাক্রম কীভাবে সামনে আনা যাবে? সবাইকে জানান দিতে হবে, ক্রিকেটকে অপবিত্র করার নিমিত্তে কিছু অসৎ, দুর্নীতিবাজ ক্রিকেটারের আবির্ভাব হয়েছে। তাদের মুখোশ খুলে দেওয়ার শপথ যেন নিয়েছে মাজহার মাহমুদে! দলবল নিয়ে ফাঁদ পাততে প্রস্তুত সে।
পাকিস্তান সেবার ইংল্যান্ড সফরে বেশ ভালো করছে। তরুণ পেসার মোহাম্মদ আমির ও অভিজ্ঞ মোহাম্মদ আসিফের জুটি বেশ ভোগাচ্ছে ব্যাটসম্যানদের। অধিনায়ক হিসেবে সালমান বাট মনে হচ্ছে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছে প্রতিনিয়ত। ক্রিকেটের তীর্থস্থান লর্ডসে খেলার প্রাক্কালে তারা জানতেও পারেনি তাদের জীবনে কী নেমে আস্তে চলেছে। যদি জানত, তাহলে হয়তো ভুলের সেই পথে পা বাড়াতেন না।
এর আগে পেছনের কিছু কথা বলা জরুরি। পাকিস্তান ক্রিকেটে অর্থকড়ির ছড়াছড়ি তেমন একটা নেই। যেখানে পাশের দেশের একজন সাধারণ মানের খেলোয়াড় আইপিএলের বদৌলতে যে টাকা আয় করে, পাকিস্তানের জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা তার কাছেও পৌঁছুতে পারে না। ওদিকে রাজনৈতিক শত্রুতার বলি হিসেবে আইপিএলেও নিষিদ্ধ পাক ক্রিকেটাররা। তাহলে কী করবে? আয়ের এই অসম প্রতিযোগিতা, প্রতিবেশী দেশের বিশাল আয়ের উৎসে যেন ফুটছিল কিছু ক্রিকেটার। আর সেই কারণেই হয়তো অন্য পথ বেছে নিতেই কার্পণ্য করেনি অর্থলোভী ক্রিকেটাররা।
সেসব ক্রিকেটারের একজন এজেন্ট ছিলেন। মাজহার মজিদ নামের সেই ব্যক্তি শুধু ক্রিকেটারদের এজেন্ট ছিলেন না, অর্থের প্রতি তার ছিল নিখাদ লোভ। সেই লোভ তিনি ছড়িয়ে দিতে পেরেছেন তার হাতে থাকা ক্রিকেটারদের মাঝে। ‘দুই বলার, দুই ব্যাটার, দুই অলরাউন্ডার’ যেন ছিল তার কথা শোনার জন্য। যদিও আজ সবাইকে নিয়ে কথা বলব না। সেই তিনজন— যারা প্রকাশ্যে এসেছিল এক স্টিং অপারেশনে মাধ্যমে তাদের নিয়েই কথা হোক। কারণ বাকিদের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই অপারেশন না চললে হয়তো, তারা এখনও ক্রিকেটটা খেলতেন। নাম কামিয়ে অনেকের অনুপ্রেরণা হতেন। কেউ জানত না, এরা ক্রিকেটের গাদ্দার। এদের হাতে ক্রিকেট কলঙ্কিত।
স্টিং অপারেশন আসলে কী? স্টিং অপারেশন মূলত এমন এক অপারেশন, যেখান ফাঁদে ফেলে কোনো অপরাধীর অপরাধকর্ম তুলে ধরা হয়। ‘নিউজ অব দি ওয়ার্ল্ড’ পত্রিকার ‘ফেইক শেখ’ হিসেবে খ্যাত মাজহার মাহমুদকে স্টিং অপারেশনের কিং বলা হয়। এভাবেই তিনি বিশ্বজুড়ে বড়ো বড়ো ব্রেকিং নিউজ করে থাকেন। সাংবাদিকতার দিক থেকে সেটি কতটা নৈতিক— এ প্রশ্ন অবশ্য করা যায়। তারপরও এমন সব অপরাধকর্ম তুলে আনলে হয়তো দেশ ও দশের উপকারে আসে, ফলে এমন অনৈতিকতাকে সাধুবাদ দিতে হয় হয়তো। এখানে আরেকটা প্রশ্ন এসে যায়, এসব ফাঁদে যারা পা দেন— তারা সবাই কি অপরাধী? না-কি ভুলক্রমে ফাঁদে জড়িয়ে যায়। কে জানে!
সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। ফাঁদ পাতা শেষ, এবার প্রকাশের পালা। ‘নিউজ অব দি ওয়ার্ল্ড’ এবার বোমা ফাটাতে চলেছে। কী ঘটবে তারই অপেক্ষায় প্রহর গুনছে গোটা ক্রিকেট পাড়া। বোমা ফেটেছিল দুই হাজার দশ সালের কোনো এক রবিবার। উঠে এসেছিল ক্রিকেটের এক ন্যক্কারজনক ঘটনা। বিশাল তিন নো-বল কান্ড ঘটিয়ে পুরো বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল তিন পাক ক্রিকেটার। দেশের ভাবমূর্তি তো নষ্ট করে দিয়েছিল-ই, সাথে ক্রিকেট খেলাটার মর্যাদাও রাখতে পারেনি।
“দ্য থিন হোয়াইট লাইন” বইয়ে উঠে এসেছে সেই ঘটনার নেপথ্যর কারিগরি। কীভাবে এ অপারেশন পরিচালনা করা হয় হয়েছিল, কীভাবে ফাঁদে ফেলা গিয়েছিল মজিদকে, কীভাবে ঘটেছিল সেই ঘটনা— সব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বর্ণনা করা হয়েছে। একই সাথে তুলে ধরা হয়েছিল এর আগের কিছু ঘটনাও, যায় প্রমাণ অবশ্য মেলেনি। এসেছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ফিক্সিং কেলেঙ্কারির ঘটনাও। এমন অনেক পাক ক্রিকেটারের নাম জানা গিয়েছিল, কেবল নামের ভারে তারা ছিল ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আমি শহীদ আফ্রিদিকে পছন্দ করি না। কিন্তু একটা বিষয়ে তাকে খুব সম্মান করি, এই মানুষটা ক্রিকেটকে ভালোবাসত। টাকার জন���য নিজেকে বিকিয়ে দেননি।
বইটিতে ফিক্সিং ঘটনার পরবর্তীতে এর তদন্ত প্রক্রিয়া, বিচারকার্যের প্রতিও আলোকপাত করা হয়েছে। মোহাম্মদ আসিফকে আমার মনে হয়েছে ক্রিমিনাল মাইন্ডের একজন খেলোয়াড়। খুব তীক্ষ্ণ বুদ্ধিসম্পন্ন, নিজেকে কী করে বাঁচাতে হয় খুব ভালো করেই জানেন। নিজেকে উদাসীন দেখিয়ে নিজের কাজ দারুণ হাসিল করতে পারেন। তাই তো প্রমাণ অর্থ তার কাছে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে সালমান বাট ঔদ্ধত্য একজন ক্রিকেটার। প্রমাণ থাকার পরও নিজেকে নির্দোষ দাবি করে গিয়েছেন। আর মোহাম্মদ আমির? নিজের দোষ স্বীকার করে নিলেও আমার সন্দেহ হয়। গ্রামের এই সদ্য আঠারো পেরোনো ছেলেটা সত্যি ছলনার স্বীকার? না-কি আগে থেকেই এই দলে ভিড়ে গিয়েছেন? জানা যায় না…
লেখক এমন সব আনুষঙ্গিক বিষয় তুলে ধরেছেন, যার সাথে মূল ঘটনার যোগসাজস কম। যেমন এই ঘটনার মূল নায়ক, স্টিং অপারেশন কিং মাজহার মাহমুদ যে পরিণতি বরণ করেছিলেন— তার বর্ণনা ক্রিকেটের বাইরে। তবুও হয়তো প্রয়োজন ছিল। কেননা তিনিই যে গল্পের মূল চালিকাশক্তি। তিনি নিজেকে মনে করতেন কিং। তার হাত দিয়ে যেসকল অপরাধী শ্রী-ঘরে গিয়েছেন, তার জন্য তিনি গর্ববোধ করতেন। যদিও যৌক্তিক অযৌক্তিক প্রশ্ন বারবার ছুটে আসে। আরাম আয়েশের দিন শেষে তিনি ফাঁদে পড়েছিলেন। নিজের পাতা ফাঁদে পা দিয়েছিলেন।
অনুবাদ ভালো ছিল, তবে কিছু শব্দ অনুবাদক ব্যবহার করেছিলেন যার অর্থ বুঝিনি। প্রচলিত শব্দে এর ব্যবহার আমি পাইনি। এখন আর মনে নেই কী কী শব্দ। কিছু অংশের অনুবাদ সাবলীল লাগেনি। মনে হচ্ছিল মাঝেমাঝে অনুবাদক খেই হারিয়ে ফেলছেন। হয়তো এই কারণে বইটা শেষ হতে সময় নিয়েছে। বইটি ভীষণ ধীরগতির ছিল অবশ্য। লেখক সরাসরি নন-ফিকশন ধারায় গল্প না বলে ফিকশন আবহ রাখতে পারলে আরেকটু উপভোগ্য লাগত।
প্রোডাকশন কোয়ালিটি পছন্দ হয়নি। বই ধরলেই মনে হয় খুলে যাবে। বানান ভুল ছিল, ছাপার ভুল ছিল। দুয়েকটা পরিচ্ছদে অ্যালাইন ঠিক ছিল না। কোনো কারণ ছাড়াই কোনো শব্দের শেষে ঋ-কার চলে এসেছিল। এসব বিষয়ে আরো সচেতন হতে হবে।
পরিশেষে, ক্রিকেটের গভীরে দুর্নীতি চলে। সেই দুর্নীতির খবর সামনে আসে সামান্যই। প্রমাণের অভাবে হারিয়ে যায় অনেক অসৎ, ক্রিকেটকে বিক্রি করে দেওয়া সময়ের উপাখ্যান। আর আমরা মনে করি, এসব তো বিচ্ছিন্ন ঘটনা। এগুলো আমলে নিতে হয় না। ক্রিকেটে এখনো স্বচ্ছতা আছে। আদৌ কি আছে?
▪️বই : দ্য থিন হোয়াইট লাইন - দ্য ইনসাইড স্টোরি অব ক্রিকেট’স গ্রেটেস্ট স্ক্যান্ডাল ▪️লেখক : নিক গ্রিনস্লেড ▪️অনুবাদ : রিজওয়ান রেহমান সাদিদ ▪️প্রকাশনী : আদী প্রকাশন ▪️পৃষ্ঠা সংখ্যা : ৩০৪ ▪️মুদ্রিত মূল্য : ৪৫০ টাকা ▪️ ব্যক্তিগত রেটিং : ৩.৮/৫
A well researched book which cricket lovers will like to read. Being a Pakistani, I ofcourse found it difficult to read about a sordid episode of our country's cricket. The shame that the likes of Salman Butt, Mohammed Amir and Mohammed Asif brought to the country is unforgivable. i would imagine many in England, Australia, India and South Africa would also feel the same over incidents that marred their cricketing nations pride and honor. The book is well written and very informative in many respects and is a must read for cricket fans.