সোমেন চন্দের কোন লেখা আগে পড়া হয়নি। এই যে অবলীলায় বলে ফেললাম পড়া হয়নি, এটা নিয়ে মন খারাপ করার সুযোগ রয়েছে। ১৯২০ সালে জন্ম গ্রহণ করা এই লেখক মৃত্যুবরণ করেন ১৯৪২ সালে। গুগলের শরনাপন্ন হয়ে যেটুকু পেলাম তা হচ্ছে ২২ বছরের জীবনে তার লেখালেখির সময়টাও ছিল ছোট, মাত্র ৫ বছরের।
'সংকেত ও অন্যান্য গল্প' যখন পড়া শুরু করি, তখন এত কিছু জানতাম না। জানার ভেতর জানতাম ইঁদুর নামে তার একটা বিখ্যাত গল্প আছে।
৫ গল্পের বইয়ের প্রথম গল্প থেকেই আসলে চমক শুরু। প্রতিটা গল্পই বেশ কিছুক্ষণ আপনাকে আচ্ছন্ন করে রাখতে সক্ষম।
গল্পগুলোতে লেখক সে সময়ের সমাজ, নিম্নবিত্ত এবং মধ্যবিত্তের জীবন যাপন, রাজনৈতিক চিত্র, সাম্প্রদায়িকতার বিষ আর এসব কিছু বদলে দেয়ার স্বপ্ন এঁকেছেন সুন্দরভাবে। লেখকের দেখার ভঙ্গী এবং লেখার ধরণ, দুটিই মুগ্ধ হওয়ার মতো। এতো গভীর দৃষ্টিতে জীবন যাপনের খুটিনাটি দেখা এবং তা তুলে ধরা খুব সহজসাধ্য নয়। সোমেন চন্দ খুব সুনিপুনভাবে সেটি করেছেন।
বাংলা সাহিত্যের জন্য সুকান্ত ভট্টাচার্যের মতো আরেক আফসোস সোমেন চন্দ। বই শেষ করে ভাবতেই হয়, এই মানুষটা যদি আরো লিখতে পারতেন! অল্প বয়সেই যদি চলে না যেতেন!
আফসোস, দারুণ প্রতিভাধর এই লেখক রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দরুন খুন হন মাত্র ২২ বছর বয়সে। বাংলা সাহিত্যকে হয়তো আরো অনেক কিছু দেয়ার ছিলো সোমেন চন্দর।