Jump to ratings and reviews
Rate this book

মাদার ন্যাচার

Rate this book
প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির এক সন্ধ্যায় তিন বন্ধু আবিষ্কার করলো, ওদের প্রতিদিনের পরিচিত জায়গাটা এমনভাবে রূপান্তরিত হয়ে গেছে যে দেখে মনে হচ্ছে এই স্থানে আগে কখনোই আসেনি ওরা। যে রাস্তা ধরে প্রতিদিন যাওয়া-আসা করে তারা, সেটা কিছুদূর গিয়েই মিশে গেছে পাহাড়ি মাটির সাথে, আর তার ধারে দেখা দিয়েছে আকাশের বুক ছুঁয়ে দেয়া উঁচু গাছে ভরপুর রহস্যময় এক বনভূমি। বজ্রপাত আর ঝড়ের ক্রুদ্ধ গর্জন ওদের হাতে ঐ বনে প্রবেশ করা ছাড়া আর কোনো উপায় রাখেনি। খুব দ্রুতই ওরা বুঝতে পারলো, এটা কোনো স্বাভাবিক বন নয়। এ বন ভেতরে যাওয়ার উপায় রেখেছে, শুধু রাখেনি বেরোবার পথ। অদ্ভুত এ বন যেন পরিচিত জগতের বাইরে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জগৎ, যে জগতে গাছেরা ভেঙে পড়ে শব্দহীন কান্নায়, যে জগৎ মানুষের মনের ভেতর উঁকি দিয়ে বের করে আনে তার সবচেয়ে কদাকার রূপকে, যেখানে ঘুরে বেড়ায় ভয়ংকর সব প্রাণী, শুধু পুরাণের বইতেই যাদের দেখা মেলে।

সে জগতে মাকড়সার জালের ন্যায় ছেয়ে আছে কেবল দুটো অনুভূতি—একাকীত্ব ও বিষণ্ণতা।
আর এই সবকিছুর উপরে আছে অন্যকিছু, একটা নাম।

মাদার ন্যাচার।

288 pages, Hardcover

First published September 20, 2020

6 people are currently reading
86 people want to read

About the author

Asraful Shumon

18 books120 followers
Asraful Shumon is a bangladeshi fantasy author and editor. He is from the port city of Chittagong, currently living in the same city. Developing a story and drawing it in papers through ink and blot has been his passion since 2014. His early career started online, and after writing several novella, novelette and short stories, he decided to take his passion seriously. His debut novel 'Dragomir' was published in January, 2016, which was a high/epic fantasy mixed with metafictional technique.
His second epic fantasy novel 'Kuashia: Spellmaker er onushondhan', the first book of 'Kuashia' pentalogy, was published in 2018. His other two series's are 'Aleya', set in bangladeshi mythological settings and 'mother nature', set in both bangladeshi and world mythological settings.

Besides writing, he likes to spend time reading books, listening to music, humming self-made tunes, watching movies and taking tours.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
11 (16%)
4 stars
28 (42%)
3 stars
20 (30%)
2 stars
6 (9%)
1 star
1 (1%)
Displaying 1 - 18 of 18 reviews
Profile Image for musarboijatra  .
283 reviews358 followers
October 14, 2020
বাংলাদেশে যে কয়েকজন ফ্যান্টাসি নিয়ে আলাদাভাবে কাজ করছেন, তার মাঝে আশরাফুল সুমন একজন। বই প্রকাশ করার অনেক আগে থেকেই ফ্যান্টাসি নিয়ে লেখা, এবং ফ্যান্টাসি গল্প লেখায় নিয়োজিত ছিলেন তিনি। 'মাদার ন্যাচার' তাঁর প্রকাশিত ৫ম বই।

জনরা : হাই এপিক ফ্যান্টাসি।

গল্পে ৩জন 'মানুষ' চরিত্র এসে মূল ঘটনাবলীতে ঢুকে পড়ে। ইয়েমিন, জেনিফার, রোহান। কাহিনী মোটেও ওদেরকে নিয়ে না। শুরুতে বুঝতে পারি হাই ফ্যান্টাসির একটা সেটাপে কাহিনী শুরু হয়েছে এবং ওই দুনিয়াটা মুখ্য। এবারের ওয়ার্ল্ড বিল্ড-আপ একরকম মোটামুটি ছিল, সবদিকই একটু একটু করে বজায় রেখেছেন লেখক। 'ভালো' বলতে কেন বাঁধছে আমার, তাঁর বিস্তারিততে যাচ্ছি।

যা নিয়ে কথা বলবো না - আশরাফুল সুমনের ভাষা নিয়ে কোনো কথা বলবো না। ভাষার ব্যবহার খুবই জড়তাবহুল তাঁর। রীতিমতো ইংরেজিতে লিখে বাংলা করার মতন, পড়লে মনে হয় একটা 'মাঝারী মানের' অনুবাদ পড়ছি। এটা বাড়াবাড়ি ছিল তাঁর প্রথম বইয়ে। সময়ের সাথে উন্নতি করছেন, কিন্তু তাঁর কাজ এবং অভিজ্ঞতার কাছে এরচেয়ে ঢের অগ্রগতি প্রত্যাশিত। মাঝখানে 'কুয়াশিয়া'য় ভাষাগত দুর্বলতা কম ছিল, তাঁর কারণ আলাদা।

দিতীয়ত যেটা বাদ দিব - আশরাফুল সুমন জানেন না প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কিভাবে আচরণ করে। তিনি এটাও জানেন না পরিস্থিতি 'সাধারণ স্বাভাবিক মানুষ'এর মনে কেমন প্রভাব ফেলে। তাই প্রাইমারী ওয়ার্ল্ড থেকে হুট করে এক নতুন দুনিয়াতে তাঁর চরিত্র তিনজন ঢুকে পড়লেও তারা নিশ্চিত নিরুদ্বেগ আচরণ করবে, এটাই তাঁর লেখায় দেখতে হবে আরো কিছুকাল। প্রাপ্তবয়স্করা অপ্রাপ্তবয়স্কদের মতো অভিমান করছে, এটাও চোখে পড়লে এড়িয়ে যেতে হবে।

( spoiler warning: বইটা না পড়ে থাকলে যে যে লাইন আপনার না পড়া উত্তম, তার আগে স্পয়লার ওয়ার্নিং দেওয়া হবে। স্কিপ করে পরের অংশে চলে যাবেন। )

এর বাইরে, চলুন যাওয়া যাক আশরাফুল সুমনের 'টেরিটোরি'-তে। কি কি পয়েন্ট ধরে যাচাই করছি ফ্যান্টাসি বইটাকে?

(১) ম্যাজিক সিস্টেম : এমন একটা সিস্টেমকে পরিচিত করানো হয় ফ্যান্টাসি বইয়ে যেটা বাস্তব জীবনের না। হতে পারে ম্যাজিকাল পাওয়ারের নিয়ম, হতে পারে ম্যাজিকাল ওয়ার্ল্ডের নিজস্ব সায়েন্স। মাদার ন্যাচারে বিভিন্ন স্পিশিজ এবং তাদের বৈশিষ্ট্যের আন্দাজ আমরা পেয়েছি, তবে সুনির্দিষ্ট ম্যাজিকাল সিস্টেমের পরিচয় দেওয়া হয়নি। (স্পয়লার; বই না পড়লে পরের প্যারায় চলে যান) চার ধরণের ইলিমেন্টালদের দেখানো হয়েছে চারটা ইলিমেন্ট ব্যবহার করতে। Avatar: The last air bender এর মতো। তবে এভাটারের বাইরে একটা কৌতুহলের দিক হচ্ছে, প্রকৃতির চারটা ইলিমেন্টের শক্তিধারীরা শুধু প্রকৃতির চার ইলিমেন্টের 'শক্তি'টাই ধারণ করেন না, বরং নিজেরাও একটা সাম্যাবস্থা বা ইকোসিস্টেমের অংশ হয়ে থাকেন। এটা আমার মতে এই বইয়ের ম্যাজিক সিস্টেমের সবচাইতে চমৎকার অংশ। তবে লেখক একটা বিষয় পরিষ্কার করেননি। 'ইরোয়ান', অর্থাৎ ফ্যান্টাস্টিক চরিত্রগুলোর মাঝে যারা ডোয়ারফ/স্যাটার/এলফ/ড্রায়াড/খাপোরি কোনোটাই না, তারা আসলে জাতিগতভাবে কোনটা? এই যে ভিন্ন একটা জাতি, তারা সবাই কি চার ইলিমেন্টের পাওয়ার ধারণ করে, যাদের 'ইলোর' বলা হয়?
এর বাইরে, প্রাকৃতিক বা ম্যাজিকাল কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম বা সিস্টেম লেখক দেখাননি, ফ্যান্টাসিতে যে সিস্টেম তাঁর চরিত্রদের একইসাথে শক্তিশালী আর সীমাবদ্ধ করে। সেক্ষেত্রে এখন অব্দি ম্যাজিক সিস্টেমকে 'সফট ম্যাজিক' ধরে রাখলাম। সফট ম্যাজিকের ক্ষেত্রে ম্যাজিকের খুব বেশি ব্যাখ্যা থাকে না, এমনকি চরিত্ররা ম্যাজিকাল পাওয়ার কোথেকে পেলো তার ব্যাখ্যাও আসা দরকারি না।

(২) ওয়ার্ল্ড বিল্ডআপ বা সেটিং : হ্যারি পটার ইউনিভার্সের মতো, প্রাইমারী ওয়ার্ল্ডের ভেতরেই সেকেন্ডারী ওয়ার্ল্ড অর্থাৎ হাই ফ্যান্টাসির সেটাপ সাজানো হয়েছে এই বইয়ে। আর সেই হাই ফ্যান্টাসির দুনিয়ার আলাদা দুটা মাত্র স্থানে এই বইয়ের কাহিনী গড়িয়েছে। তার মাঝে প্রায় পুরোটাই একটা জঙ্গলে।
জঙ্গলটার ভৌগলিক বর্ণনা খুব বেশি আসেনি, কাহিনীর দরকারে যতটুকু আনা দরকার ছিল লেখক ততটুকুই এনেছেন। এই সিরিজে আরো বই আসবে। সামনের কোনো বইয়ের কাহিনী সম্ভবত আবার এই জঙ্গলে ফিরে আসবে না। যদিবা আসেও, তার কোনো 'ফোর-শ্যাডো' অন্তত রেখে যাননি লেখক, এই জঙ্গলের ভৌগলিক বর্ণনায়।
জিওগ্রাফি ছাড়াও ওয়ার্ল্ড সেটিং-য়ের অংশ হচ্ছে তার মানুষজন বা 'পিপল'। তাদের সমাজ। সমাজের নিয়ন্ত্রক বা পাওয়ার-হোল্ডার। আর সে সমাজে আমাদের চরিত্রগুলোর অবস্থান।
স্যাটার-ড্রায়াড-ইরোয়ান সবাই মিলে কেমন সমাজ গঠন করেছে আর তার 'হাই-টেবিলে' কারা বসে আছে, তা লেখক ভালোই ফুটিয়েছেন।
প্রথম বইয়ে সবকিছুই অনেক অল্প উপস্থাপিত হয়েছে, তেমনই অল্প এসেছে তাদের সমাজ-ব্যাবস্থা ইত্যাদি... একটা আইসোলেটেড ফরেস্টের বাইরে যেহেতু গল্প আমাদেরকে নিয়ে যায়নি।
আগামীতে যখন আমাদের তিন মানবচরিত্র আর কালাহেল-ফেনেলোর-ইলোরচতুষ্টয়ের সাথে আমরা ইরোয়ানদের মূল সমাজব্যবস্থার সাথে পরিচিত হব, তখন তাদের আরো বর্ণনা আশা করছি। বাকিটা লেখকের বিবেচনা।

(৩) চরিত্র : পাঠকদের, যারা ইতিমধ্যে বইটা পড়ে রিভিউ দিয়েছেন, দেখছি প্রথমেই তিন মানব চরিত্রের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করতে। এর বাইরেও কিন্তু অনেক বড় একদল চরিত্রের পরিচয় দিয়েছেন লেখক, যাদের মাঝে নানাবিধ সম্পর্ক যে আছে, পরের বইগুলোতে তা আরো প্রকাশ পাওয়ার দাবি রাখে।

চরিত্রের কথা বললে ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট একটা বড় পয়েন্ট। একইসাথে, সম্পর্কের ডেভেলপমেন্ট।
দুঃখজনকভাবে এই বইয়ে ক্যারেক্টার খুব একটা ডেভেলপ করেনি। রোহান একদমই খাপছাড়া, যেন জেনি-কে চেনানোর জন্যই তাকে রাখা হয়েছে। ইয়েমিন কি ভাবছে বা আবিষ্কার করছে তা পাঠকের জানা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। জেনিকে প্রায় বাইরেই রাখা হয়েছিল সব ঘটনার।

চরিত্রগুলোর সাথে পাঠক নিজেদের ঘনিষ্ঠ ভাবতে পারবে না এই বই পড়ে। আফসোস। ফ্যান্টাসি ফিকশন পাঠক পড়তে চাইবে চরিত্রের জন্য, (অন্তত বড় এবং কমন ফ্যাক্টর) কিন্তু মাদার ন্যাচার সিরিজটা আমি চরিত্রের জন্য পড়ে যাব না।

(৪) দ্বন্দ্ব, বা মিথষ্ক্রিয়া : আত্নদ্বন্দ্ব, অন্তর্দ্বন্ব, আর large-scale conflict, সবই রেখেছেন লেখক। অল পয়েন্টস চেকড। সমস্যা হলো কোনোটাই পাঠকের আগ্রহকে টেনে ধরতে সফল না। একশন সিকোয়েন্সের ডিজাইন ভাল না।
এই তিন বাদ দিলে, কাহিনীর যেটা overarching central conflict, সেটা কি হতে যাচ্ছে পাঠক জানে কিন্তু তার ধারেকাছেও প্রথম বইয়ে পাঠক যেতে পারছে না।

ওয়ান গুড থিং টু এপ্রিসিয়েট। এই বইয়ের কোনো কনফ্লিক্টই অকারণে আসেনি। (স্পয়লার, পরের প্যারায় যান) শেষে চারজনে মারপিট লেগে যেতে দেখে বিরক্ত হচ্ছিলাম, শেষে দেখলাম সেটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল। আবার রোহানের গুন্ডামি-ও তাঁর চরিত্র চেনাতে দরকারি ছিল।

(৫) ক্ষমতা-কাঠামো/সিস্টেম অব গভর্নমেন্ট : ক্ষমতা কার হাতে?

মাদার ন্যাচারের এই একটা জিনিসে আমি অভিভূত! তাদের পার্লামেন্ট। দ্য হাই টেবল অথবা দরবার-ই-খাস বললে ভুল হবে (যদিও তা বলতে চাচ্ছিলাম)। বর্ণনায় যাচ্ছি না। বইয়ের প্রথম অধ্যায়েই তার পরিচয় ভালোভাবে পাওয়া যাবে। এবং ক্ষমতার Hierarchy-ও উপস্থাপিত হয়েছে একপ্রকারে।

কিন্তু ফাঁক অন্য কোথাও। আমাদের কাছের যে চরিত্ররা, এই ক্ষমতা-কাঠামোয় তাদের স্থান কোথায়? তাদের এসেনশন বা ডিসেনশন কোথায় হতে পারে?

(**) লাস্ট, এবং সবচে গুরুত্বপূর্ণ, সবচেয়ে চোখে পড়া পয়েন্ট : Foreshadowing.

গল্পে যদি পাঠকের জন্য ট্যুইস���ট অথবা সারপ্রাইজ থাকে, তার একটা আন্দাজ আগে থেকে দিতে হয় পাঠককে, যাতে পাঠক সেটা আন্দাজ করতে পারে, অথবা শেষে ট্যুইস্টে হকচকিয়ে গেলেও সেটা তাঁর জন্য প্রাসঙ্গিক হয়, যাতে পাঠক মনে করে যে আমার হাতে এই এই পূর্বাভাস ছিল।

(স্পয়লার অ্যালার্ট : বই না পড়ে থাকলে 'কেন এই সিরিজের অপেক্ষায় থাকব' প্যারায় চলে যান।)

কালহেল কোথায় আছে? কি ঘটেছে তাঁর সাথে? একদম 'শুরুর আগে' থেকে এই প্রশ্ন পাঠকের মাথায় আসবে। আর তাঁর জবাব ফেনেলোর হুট করে দিয়ে দেয় এক পর্যায়ে। এটা আমাকে বিরক্ত করেছে। অথচ এটা বলে দেওয়ার পরে, আবার 'হৃদয়হীনের হৃদয়' অধ্যায়ে কালহেলকে খুঁজে বের করা হয়, যেটার আন্দাজ কি-না আগে কোথাও দেওয়া হয়েছিল। আর সবশেষে কালহেল নিজ মুখে বলেছে, সে কিভাবে প্রকৃতিতে মিশে ছিল আর কিভাবে ভয়ঙ্কর প্রাণীতে সে পরিণত হতো। ভেরি পুওর।
তবে এই বইয়েই একটা চমৎকার ফোর-শ্যাডো করা হয়েছে! আলকেমির বই! এই বিষয়টা সত্যিই অভিভূত করেছিল আমাকে। একদম নানান দৃষ্টিভঙ্গি থেকে প্রাসঙ্গিক এবং সার্থক একটা ট্যুইস্ট, যেটা কাহিনীতে খুব ভূমিকা রেখেছে এবং শেষে ভিন্ন চিন্তার জন্ম দিয়ে কাহিনীর মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছে শেষ অধ্যায়ে। সার্থক।

কেন এই সিরিজের অপেক্ষায় থাকব :

Well, this series 'can be' a very big deal. একটা ফ্যান্টাসি ফিকশন হিসেবে বিবেচনা করলে, তাও আবার হাই এপিক ফ্যান্টাসি, অনেক চাওয়ার থাকে বই/সিরিজের কাছে। লেখক পয়লা কিস্তি হিসেবে খুবই কম নির্মাণ করেছেন বা দেখিয়েছেন এই বইয়ে। বইটা ২৮৮ পৃষ্ঠার না হলে ভাল হতো... হয়েছে যখন, ট্রিলজি-তে এই সিরিজ আঁটবে না, পেন্টালজি ডিমান্ড করছেই।
দেখুন, আইসোলেটেড ফরেস্টের বাইরে, ইরোয়ানদের আসল দুনিয়ার পরিচয় এবং ওয়ার্ল্ড-বিল্ডিং দেখানোর বাকি আছে। তাদের হিস্টরি পুরোটাই পড়ে আছে, যার সাথে কিনা আবার মানুষের জানা মিথলজির সত্য-সংযোগ আছে! What's THEIR version of our myths?
তাদের সমাজ-ব্যবস্থা দেখা বাকি। ড্রায়াডরা এক ধাঁচের, স্যাটাররা পুরো বিপরীত, ইতিহাসে একটু দেখলাম। তারা কে কিভাবে জীবন ধারণ করে তা জানার আছে। ড্রায়াড আর স্যাটারদের নিয়ে একটা ক্ষুদ্র গল্প বলা হয়েছে মাত্র... এর বাইরে অনেক lore আসতে পারে। এলফদের কি হলো, ডোয়ারফদের কি হলো, ইত্যাদি। অন্ধকারের শক্তি যারা আছে, এবং 'চির আঁধার' স্বয়ং, তাদের দিক থেকেও অনেক বিস্তারিত জানার আছে।
এবং জিওগ্রাফি। আহ! আমি 'কুয়াশিয়া'-তেও একটা ম্যাপ খুব মিস করেছিলাম। কুয়াশিয়া-তে তো হাই ফ্যান্টাসি ওয়ার্ল্ডের বর্ণনা এসেছেই, মাদার ন্যাচারের ক্ষেত্রে আলাদা কোনো হাই ফ্যান্টাসি ওয়ার্ল্ড দেখানোর সম্ভাবনা থাকবে কি না বুঝা যাচ্ছে না। দেখালে, তার ম্যাপ তৈরী হলে দুর্দান্ত হবে, মাদার ন্যাচারের প্রচ্ছদের মতোই।

এই সিরিজ সাজানোর পেছনের যত্নটুকু দেখতে পাবেন ভোকাবুলারিতে। লেখকের সৃষ্ট ৬০টা বা তারও বেশি শব্দ আছে, তার মাঝে ২৩টার মতো নামবাচক বিশেষ্য, যথেষ্ট পরিমাণে টার্ম, আর ৬-৭টা গালি!

শেষ প্যারা রেখে যাচ্ছি আশরাফুল সুমনের জন্য।
বাংলাদেশের ফ্যান্টাসি জনরার লেখায় এই পর্যন্ত আশরাফুল সুমন যতটা আশাবাদী করেছেন আমাদের, এর আগে ঠিক এই মাত্রায় আর কারো ক্ষেত্রে হইনি। 'কুয়াশিয়া'র সিক্যুয়েলের জন্য যে হাইপ নিয়ে বসে আছি, যেমন আশা নিয়ে থাকব 'মাদার ন্যাচার' সিরিজের জন্যও, সেটা লেখকের সামর্থ্যের প্রমাণ দেয়। বাংলাদেশের ফ্যান্টাসি'র প্র্যাক্টিসকে অনেক উপহার দেওয়ার আছে তাঁর এখনো। প্রিয় লেখক, এইটুকু জানবেন, আমাদের কিছু খিদে কখনোই মিটবে না যতদিন না আপনার সৃষ্টিতে বিচরণের সুযোগ আরো হচ্ছে আমাদের। গডস্পিড!
ও হ্যাঁ, সমালোচনা গ্রহণ করা শিখতে হবে :D

মাদার ন্যাচার
লেখকঃ আশরাফুল সুমন
জনরাঃ ফ্যান্টাসী
প্রচ্ছদঃ লর্ড জুলিয়ান
প্রকাশনীঃ চিরকুট
মুদ্রিত মূল্যঃ ৩৫০ টাকা
পৃষ্ঠা সংখ্যাঃ ২৮৮

কাহিনী সংক্ষেপঃ
রক্ষকদের সভা চলছে। সকলে চিন্তিত, দুয়ারে কড়া নাড়ছে পৃথিবীকে বিনাশ করে দেওয়ার মতো শক্তিশালী এক দুর্যোগ। যা থেকে বাঁচতে হলে সব জাতিকে একত্রিত হতে হবে, ভুলে যেতে হবে তাদের বিভেদ, বহুবছের পুরানো সেই অভিশাপ।
এদিকে প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির এক সন্ধ্যায় তিন বন্ধু জেনিফার, ইয়েমিন ও রোহান আবিষ্কার করলো, ওদের প্রতিদিনের পরিচিত জায়গাটা রূপান্তরিত হয়ে গেছে। প্রতিদিনের আসা যাওয়া করা রাস্তা কিছুদূর গিয়েই মিশে গেছে পাহাড়ি মাটির সাথে, আর তার ধারে দেখা দিয়েছে আকাশের বুক ছুঁয়ে দেয়া এক বনভূমি। বজ্রপাত আর ঝড়ের ক্রুদ্ধ গর্জন ওদের হাতে ঐ বনে প্রবেশ করা ছাড়া আর কোনো উপায় রাখেনি। খুব দ্রুতই ওরা বুঝতে পারলো, এটা কোনো স্বাভাবিক বন নয়, এখান থেকে বেরোবার পথ নেই। বনে বিচরণ করে রহস্যময় সব প্রাণী, এখানে পদে পদে আছে জীবন হারাবার ভয়। আর এই সবকিছুর উপরে আছে অন্যকিছু, একটা নাম।
মাদার ন্যাচার।
Profile Image for Aadrita.
276 reviews229 followers
September 10, 2021
রিভিউ একদম গোড়া থেকেই শুরু করি, বইয়ের বাইরের রূপ দিয়ে। দূর থেকে প্রচ্ছদ দেখেই যেসব বই হাতে তুলে নিতে মন চায় তার মধ্যে এই বইটি অন্যতম। বইটি পড়া শেষ হলে বুঝবেন প্রচ্ছদ কেবলমাত্র দৃষ্টিনন্দনই নয়, বরং ভয়ংকরভাবে অর্থবহ। নিঃসন্দেহে প্রচ্ছদকারের অন্যতম সেরা কাজ এটি। চিরকুট প্রকাশনীর কোনো বই আগে পড়া হয়নি। বইয়ের প্রোডাকশন প্রথমশ্রেণির। জ্যাকেটটা খুলে ফেললেও সস্তা কার্ডবোর্ডের কভার নয়, গ্লসি ফিনিশ দেওয়া শক্ত কভার আছে। কাগজের মান, প্রিন্টিং, বাধাই খুবই ভালো। এমনকি পৃষ্ঠা চিহ্নিত করার জন্য দেওয়া চিকিমিকি ফিতেটাও সুন্দর।

একটানে পড়ে শেষ করার মতো একটা বই। কাহিনী শুরু করা নিয়ে কোনো গড়িমসি করেননি লেখক, প্রথম দুটো অধ্যায় পড়েই গল্পের ভেতরে ঢুকে যেতে পেরেছিলাম। বইটাকে বেশ দ্রুতগতিরই বলবো, কোথাও একঘেয়ে লাগেনি আর পৃষ্ঠা উল্টানোর তাড়া অনুভব করছিলাম বেশ ভালোমতোই৷ বনের রহস্যময় প্রকৃতির বর্ণনা, চরিত্রগুলোর সংলাপ, অ্যাকশন সিনের বেশ ভালো সম্মিলন ছিলো পুরো বই জুড়ে। লেখক যে বিষাদ ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন তাতে বেশ ভালোভাবেই সক্ষম হয়েছেন বলতে হবে। জঙ্গলের রূপের বর্ণনা ও এখানকার অধিবাসীদের কথাবার্তা থেকে অদ্ভূত করমের বিষাদ আর একাকীত্ব ঝরে পড়ছিলো।

মূল তিন চরিত্র সম্পূর্ণ তিন প্রকৃতির। জেনিফার কড়া ফেমিনিস্ট। সাহসী মেয়েটি ক্যাম্পাসের বড় বড় সব নেতাদের ভীতসন্ত্রস্ত করে রাখলেও তার মনের কোনে লুকিয়ে আছে কিছু স্মৃতি যা তাকে মুহূর্তেই কাবু করে দেয়। ইয়েমিন ভালো ছাত্র, সবজান্তা শমসের। সবজান্তা স্বভাবের কারণে বেশি বন্ধু নেই তার, তবে যে দুইজন বন্ধু আছে তার তাদের জন্য যেকোনো ঝুকি নিতে পিছপা হয় না। বিপদের সময়ও মাথা ঠান্ডা রেখে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে জানে। এরপর আসি রোহানের কথায়। ক্যাম্পাসের অস্ত্রধারী নেতা, র‌্যাগার, নারীবিদ্বেষী, তবে জেনিফারের প্রতি দুর্বল। ব্যাক্তিগত জীবনে এইধরণের মানুষগুলো অপছন্দ হওয়ার কারণে রোহানকেও একদমই ভালো লাগাতে পারিনি। তার মুখ থেকে বের হওয়া প্রত্যেকটা বাক্যই বেশ বিরক্তি সহকারে পড়ে গিয়েছি। জেনিফারের মতো এক সাহসী বুদ্ধিমান মেয়ের রোহানের সাথে সম্পর্কের কারণটাও ঠিক বুঝতে পারিনি। এছাড়া পুরো বইতে ছড়িতে ছিটিতে থাকা ছোটখাটো পার্শ্ব চরিত্রগুলোও অনেক যত্ন নিয়ে লেখা, সবারই নিজস্বতা রয়েছে, সবারই রয়েছে নিজের গল্প, আনন্দ-দুঃখ, সাফল্য-ব্যর্থতা।

ম্যাজিক আর ওয়ার্ল্ডবিল্ডিং দুর্দান্ত। ওয়ার্ল্ডবিল্ডিং আগের বই 'কুয়াশিয়া' কেও ছাড়িয়ে গেছে। মিথলজির প্রতি অসম্ভব ভালোলাগার কারণে দ্বিতীয় অধ্যায়ে থাকা ইয়তুনহাইম, মুসপেলহাইম, বিশ্বতরু এই শব্দগুলোই যথেষ্ট ছিলো আমাকে আকৃষ্ট করার জন্য। আমাদের সকলের পরিচিত গ্রীক, নর্স, ইজিপশিয়ান, মায়ান, আজটেক মিথলজির চরিত্রগুলোকেই সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে পরিবেশন করা হয়েছে এখানে। মিথলজির সুপরিচিত ড্রায়াড, ডোয়ার্ফ, এলফ, স্যাটার, হিপোক্যাম্পাস কে নিয়েই সন্তুষ্ট থাকেননি লেখক, ইরোয়ান, উরুয়ান, খাপোরি, ইলোর, কামাজটজ সহ আরো অনেক নতুন জীব সৃষ্টি করেছেন। ম্যাজিক সিস্টেম বলতে মুহূর্তে মুহূর্তে সব চরিত্র জাদু করে বেড়াচ্ছে এমন না, সূক্ষ্ম জাদু মিশে আছে পুরো বইতেই। এ বিষয়ে বেশি বললে বইয়ের মজা নষ্ট হয়ে যাবে।

আর নামকরণের সার্থকতা নিয়ে যাদের একটু সন্দেহ আছে, গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি বই পড়ার পর সন্দেহ উবে যাবে। এই ফ্যান্টাসী ঘরানার উপন্যাসের মধ্য দিয়ে প্রকৃতির অলঙ্ঘনীয় নিয়মকানুন, মানবচরিত্রের ভালো মন্দ খুব ভালোভাবেই উপস্থাপন করা হয়েছে।

সবশেষে বলবো অসাধারণ এক ফ্যান্টাসী বই এই 'মাদার ন্যাচার'। ফ্যান্টাসীপ্রেমীদের বলবো অবশ্যই পড়ে দেখুন বইটা যত দ্রুত সম্ভব।
Profile Image for Zahidul.
450 reviews95 followers
February 11, 2021
“We all have forests on our minds. Forests unexplored, unending. Each one of us gets lost in the forest, every night, alone.” ― Ursula K. Le Guin, The Wind's Twelve Quarters
-
"মাদার ন্যাচার"
-
"মাদার ন্যাচার" বইয়ের কাহিনী শুরু হয় মানবজাতির রক্ষকদের এক সভা থেকে। সেই সভা থেকে জানা যায় পৃথিবীতে এক মহাদুর্যোগ সমাগত। সেই মহাদুর্যোগ এড়াতে তাদের নিতে হবে বিশেষ কিছু ব্যবস্থা।

রোহান, জেনিফার আর ইয়েমিন তিন বন্ধু। চিরচেনা রাস্তা দিয়ে চলার সময় তারা আবিষ্কার করে এক রহস্যময় বন। সেই বনে ঢোকার পরেই তারা বুঝতে পারে যে তারা বেশ অস্বাভাবিক এক বনের ভিতরে প্রবেশ করেছে। আর সেই বনেই একের পরে এক মহা বিপদে পড়ে যায় তারা।

এখন পৃথিবীতে কোন ধরনের মহাদুর্যোগ আসছে? এর সাথে রোহান, জেনিফার, ইয়েমিন আর রহস্যময় বনের কি সম্পর্ক? তা জানতে হলে পড়তে হবে লেখক আশরাফুল সুমন এর ফ্যান্টাসি ফিকশন "মাদার ন্যাচার"।
-
"মাদার ন্যাচার" বইটি মোটাদাগে একটি ফ্যান্টাসি ফিকশন। বইয়ের সাবজনরার দিকে তাকালে আমার কাছে বইটিকে হাই কিংবা এপিক ফ্যান্টাসির চেয়ে লো ফ্যান্টাসি ধারার মনে হলো। সাথে পোর্টাল ফ্যান্টাসি আর ইয়ং এডাল্ট ফ্যান্টাসির টাচও ছিল। সবমিলিয়ে মনে হলো জনরার দিক থেকে বাংলা সাহিত্যে বেশ ইউনিক ধরনের একটি বই হচ্ছে "মাদার ন্যাচার"।

"মাদার ন্যাচার" বইতে সবচেয়ে ভালো লাগলো এর থিম আর প্লট। বাংলা ভাষায় এধরনের থিম আর প্লট নিয়ে পুরো একটা ফ্যান্টাসি বই লিখে ফেলা খুবই আশাব্যাঞ্জক কথা। প্লটের তুলনায় লেখনী একটু কাঁচা হাতের মনে হলো। বইটি পড়তে গিয়ে মাঝে দিয়ে একটু হতাশই হয়ে গেলাম এমন দারুন প্লটের এক্সিকিউশন এরকম হতে দেখে। অনেক জায়গায় এমনও মনে হলো যে কোন ইংরেজি বইয়ের কোনরকমে হওয়া অনুবাদ পড়ছি। তাই এত দারুন প্লটের পরেও বইটির দুনিয়ায় ঢুকতে পুরোপুরি পারছিলাম না বইয়ের ভাষা এবং সংলাপের কারণে। এই ধরণের প্লটের সাথে গল্পের ভাষা আরো আকর্ষণীয় হলেও বইটি পড়তে আরো সুবিধা হতো।

ফ্যান্টাসি বই হিসেবে "মাদার ন্যাচার" বইটির গল্পের ফিকশনাল দুনিয়াটি পাঠকদের কাছে পুরোপুরি ধরা দেয়নি। যেহেতু বইটি একটি সিরিজের অংশ হবে তাই ধরা যায় পরবর্তী বইগুলোতে এই ফিকশনাল ওয়ার্ল্ডটি আরো এক্সপ্লোর করা হবে। বইয়ের ম্যাজিক সিস্টেমও ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং এর মতোই পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা হয়নি। এর এর ফলে বইটির ম্যাজিক সিস্টেম হার্ড আর সফট ম্যাজিক এর মিশ্রনে হয়েছে, এর ভিতরে কিছু সফট ম্যাজিকের ব্যাখ্যা হয়তো সামনের বইতে পাবো। বইটির পেসিং প্রথমদিকে বেশ স্লো ছিল, মাঝে একবারে খেয়ে হারিয়ে ফেলেছিলাম বইয়ের ইনফরমেশন ডাম্পিং এর কারণে। শেষের দিকে অবশ্য বইটি ট্রাকে ফিরে এসেছে।

"মাদার ন্যাচার" বইয়ের চরিত্রের দিকে তাকালে বইয়ের মূল দুই চরিত্র রোহান আর জেনিফার উভয়ের চরিত্রায়ন ফোর্সড মনে হয়েছে। ভার্সিটি বুলি হিসেবে রোহান আর ফেমিনিস্ট হিসেবে জেনিফারকে আরো ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলা যেত। বিভিন্ন সময়ে চরিত্র অনুযায়ী তাদের অভিব্যক্তি আমাকে বিভ্রান্ত করেছে। বইয়ের মূল এই দুই চরিত্রের চেয়ে ইয়েমিন চরিত্রটি বেশি ভালো লেগেছে। সাপোর্টিং ক্যারেক্টার হিসেবে রহস্যময় বনের কিছু চরিত্রও ভালো লেগেছে। এছাড়াও রক্ষক সভায় কিছু চরিত্রও ইন্টারেস্টিং ছিল, এই চরিত্রগুলোর আরো কিছু সময় ব্যাপ্তি দেখতে পেলে ভালো লাগতো।

"মাদার ন্যাচার" বইতে গল্পের প্রয়োজনে যে টুইস্টগুলো এসেছে তার বেশিরভাগই বেশ কমন আর প্রেডিক্টেবল লাগলো। বইয়ের গল্পে বেশ কিছু প্রফেসি, মিথ বিশেষ করে নর্স মিথোলজির সংযোগ ভালোভাবেই ঘটানো হয়েছে। তাছাড়া বইটিতে ইরোয়ানদের সামাজিক এবং রাজনৈতিক ব্যবস্থার শুধু আভাস দেয়া হয়েছে, এদিকটাও আরো ব্যাপ্তি ডিজার্ভ করে। এই বইতে কিছু চেনা পরিচিত চরিত্র ছাড়াও কিছু নতুন ফিকশনাল প্রাণীর দেখা পেয়ে ভালো লাগলো। কিছু প্রাণীর ক্ষেত্রে নিজস্ব ভাষারীতির প্রয়োগও দেখানো হয়েছে। তবে এদের ভিতরে ফাইটিং সিকোয়েন্স এবং ম্যাজিকের প্রয়োগ আরো ভালোভাবে ফুটিয়ে তোলা যেতে পারতো।

"মাদার ন্যাচার" বইয়ের দামের তুলনায় প্রোডাকশন খারাপ না। বইয়ের বাঁধাই অবশ্য বেশ আঁটসাঁট ছিলো যারা কারণে পড়তে কিঞ্চিৎ অসুবিধা হচ্ছিলো। বইয়ের শুরুতে ম্যাপ আর মাঝে কিছু আর্টওয়ার্কের অভাব বোধ করেছি। হয়তো সেগুলো থাকলে কাহিনীটা ভিজুয়ালাইজ করতে আরো সুবিধা হতো। বইতে বানান ভুল কমই ছিলো, প্রুফ রিড সে হিসেবে ভালোই করা হয়েছে বলা যায়। বইটির প্রচ্ছদ এবং নামলিপি বেশ চমৎকার লাগলো, তবে মূল প্রচ্ছদে নামলিপির সাথে লেখকের নামটাও থাকা উচিত ছিল বলে মনে হয়েছে।

ফ্যান্টাসি সাহিত্য, বিশ্বে বেশ জনপ্রিয় ধারা হলেও বাংলাদেশে এই সাহিত্য মাত্র হাটি হাটি পা পা করে এগিয়ে যাচ্ছে। সিরিজের লেখনশৈলীর উন্নতি করা গেলে বাংলা সাহিত্যের ভেতরে ফ্যান্টাসি সাহিত্যের এগিয়ে যাওয়ার বড় একটি ধাপ হতে পারে মাদার ন্যাচার সিরিজ। যাদের ফ্যান্টাসি সাহিত্যভিত্তিক বই পড়তে আগ্রহ রয়েছে তারা বইটি পড়ে দেখতে পারেন।
Profile Image for তান জীম.
Author 4 books279 followers
December 16, 2020
'মাদার ন্যাচার' নিয়ে আমার অনুভূতি জানানোর আগে লেখক আশরাফুল সুমনকে নিয়ে একটু কথা বলে যাই।

আশরাফুল সুমন জন্মগ্রহণ করেছেন বন্দরনগরী চট্রগ্রামে। ছোটবেলা থেকে ফ্যান্টাসি গল্প আর মুভির ফ্যান হলেও লেখালিখির জগতে আসেন ২০১৩-১৪ সালের দিকে। তখন লিখতেন অনলাইনে। ‘অন্যভুবনঃ লুসিয়ানার কার্স’ নামে একটি গল্প লিখে অনলাইনের পাঠকদের মাঝে খানিকটা জনপ্রিয়তা পান তিনি। আর তখনই বুঝতে পারেন, এই ফ্যান্টাসি গল্পটি লিখতে তার খুব একটা পরিশ্রম করতে হয়নি। তাহলে কি তার মাঝে ফ্যান্টাসি গল্প লেখার সহজাত প্রবৃত্তি আগে থেকেই আছে? ঠিক এ ভাবনাটাই তার ফ্যান্টাসি উপন্যাস লেখার পথে এগিয়ে দিয়েছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, বিশ্বের জনপ্রিয় ফিকশন জনরার ক্রম করলে ফ্যান্টাসি শীর্ষ পাঁচের মাঝে থাকলেও আমাদের দেশে ফ্যান্টাসি নিয়ে কাজ বলতে ঐ ঠাকুরমার ঝুলি পর্যন্তই। এ ব্যাপারটাই আশরাফুল সুমনকে ভাবায়। ২০১৩-১৪ সালে যখন আমাদের দেশে থ্রিলারের জয়জয়কার চলছে, ঠিক তখনি এ ভাবনা থেকেই তিনি নেমেছেন স্রোতের বিপরীতে কঠিন বন্ধুর পথে। উদ্দেশ্য ছিলো, ফ্যান্টাসিকে এই দেশের পাঠকের কাছে উপভোগ্য এক জনরা হিসেবে উপস্থাপন করা। তারই ফলশ্রুতিতে তিনি শুরু করলেন ফ্যান্টাসি নিয়ে রীতিমতো গবেষণা। ফ্যান্টাসিকে আরো বেশি জানার পাশাপাশি লেখার চর্চাটা যেন না হারিয়ে যায় সে উদ্দেশ্যে অনলাইনে লিখতেন ফ্যান্টাসি ছোট গল্প। বলাই বাহুল্য সেগুলোর অনলাইনে পাঠকপ্রিয়তা তাকে এনে দেয় আরো আত্মবিশ্বাস। তিনি এগিয়ে চলেন তার স্বপ্নকে লালন করে। তারই ফলশ্রুতিতে, ২০১৬ সালে আদী প্রকাশন থেকে প্রকাশিত হয় তার প্রথম ফ্যান্টাসি উপন্যাস ‘ড্রাগোমির’। প্রথম উপন্যাসে আকাশচুম্বী সাফল্য না পেলেও, ফ্যান্টাসি নিয়ে কাজ করছেন আশরাফুল সুমন এটা জানা হয়ে যায় অনেক পাঠকেরই। তবে পাঠক প্রতিক্রিয়া তার আশানূরুপ না হওয়ায় তিনি খানিকটা হতাশ হলেও ‘আরো উন্নতি করতে হবে’ মাথায় নিয়ে নেমে পড়েন তার প্রজেক্ট ‘কুয়াশিয়া’ নিয়ে। কুয়াশিয়া পেন্টালোজি প্রজেক্টের প্রথম উপন্যাস ‘কুয়াশিয়াঃ স্পেলমেকারের অনুসন্ধান’ রোদেলা প্রকাশনী থেকে ২০১৮ সালের জানুয়ারি মাসে প্রকাশিত হয়। এইবার পাঠক মহলের নড়েচড়ে বসার কারণ হন তিনি। অবশ্য হবেন নাই বা কেন? বাংলা ভাষায় মৌলিক হাই-ফ্যান্টাসি এর আগে যে কেউ লেখেনি! (হাই ফ্যান্টাসি মানে কিন্তু উচ্চমানের আর লো ফ্যান্টাসি মানে কিন্তু নিম্নমানের নয়, এগুলো আসলে উপন্যাসের ওয়ার্ল্ড সেটিং এর ভিত্তিতে ফ্যান্টাসির দুটি সাবজনরা)। ৪৩২ পৃষ্ঠার সুবিশাল এ বইটি বইপাড়ার লোকজনের মাঝে মোটামুটি বেশ আলোড়ন তৈরী করে। আশরাফুল সুমন নামটি ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যায় বাংলাদেশের ফ্যান্টাসি ফিকশনের সাথে। যারই ফলশ্রুতিতে ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে ‘চিরকুট’ প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয় আশরাফুল সুমনের হাই ফ্যান্টাসি উপন্যাস ‘মাদার ন্যাচার’।
২৮৮ পৃষ্ঠার এ উপন্যাসটি নিয়ে এক বাক্যে কিছু বলতে হলে আমি বলবো, উপন্যাসটির সাথে আমার ভ্রমণ বেশ উপভোগ্য ছিলো।
ফ্যান্টাসি উপন্যাস হিসেবে একটা বই কতটুকু স্বার্থক সেটাকে একজন পাঠকের আসন থেকে বিচার করতে বসলে, মূলত কয়েকটা বিষয় অবশ্যম্ভাবী হিসেবে চলে আসে। এগুলো হলো, ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং বা ওয়ার্ল্ড সেটিং, ম্যাজিক সিস্টেম, ফ্যান্টাস্টিক ক্রিয়েচার বা প্রাণী ইত্যাদি। আর সেই সাথে সকল উপন্যাসের মতো চরিত্রায়ন, প্লট, লিখনশৈলী এগুলো তো আছেই। ‘মাদার ন্যাচার’ এ বিষয়গুলো কতটা ভালোভাবে উঠে এসেছে চলুন দেখি।
*ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং/ওয়ার্ল্ড সেটিংঃ ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং বলতে মূলত বোঝায় ফ্যান্টাসি উপন্যাসের মধ্যকার জগতটাকে লেখক কিভাবে সৃষ্টি করছেন সেটাকে। এখানে লেখক তার সুবিধামতো প্রকৃতিকে সাজাতে পারেন, নিয়ম সাজাতে পারেন, সৃষ্ট চরিত্রগুলোর বৈশিষ্ট্য সাজাতে পারেন। আমাদের পরিচিত এই পৃথিবীর মাঝেও তার গল্পের মঞ্চ হতে পারে (প্রাইমারী ওয়ার্ল্ড) আবার একদম সম্পূর্ণ আলাদা, অপরিচিত একটা পৃথিবীও তার গল্পের প্রেক্ষাপট হতে পারে (সেকেন্ডারী ওয়ার্ল্ড)। আবার লেখক চাইলে দুটো ওয়ার্ল্ড মিলিয়েও লিখতে পারেন। মোদ্দাকথা লেখকের মাথার ভেতর থাকা দুনিয়াটা এখানে তুলে ধরতে পারেন লেখক এবং ফ্যান্টাসি জনরার সবচাইতে মজার ব্যাপার হচ্ছে এখানে লেখক যা সাজাবেন তা কিন্তু আমাদের এই পৃথিবীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এমন কোন কথা নেই। যেমনঃ আমরা যেমন দেখি এই পৃথিবীতে কেবল মানুষরাই মনের ভাব পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ করার জন্য কথা বলতে পারে। কিন্তু ফ্যান্টাসি গল্পে গাছেদেরও, প্রাণিদেরও এই ক্ষমতা থাকতে পারে। তবে লেখকের মন মতো তার সবকিছু লেখার অধিকার থাকলেও পরস্পর বিরোধসম্পূর্ণ কোন বিষয় চাইলেই লেখক আনতে পারেন না। যেমনঃ কোন একটা জগতে কোন গ্রাভিটি নেই কিন্তু প্রাণীরা সেই জগতে খুব সহজেই হেঁটে বেড়াচ্ছে এটা কিন্তু পরস্পর বিরোধসম্পূর্ণ একটা বিষয়। এটা যদি কোন লেখক তার ফ্যান্টাসি গল্পে লিখতে চান তাহলে তাকে অবশ্যই একটা যুক্তিযুক্ত সিস্টেম তৈরী করতে হবে
তো মাদার ন্যাচারের ওয়ার্ল্ডবিল্ড ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং বলতে মূলত বোঝায় ফ্যান্টাসি উপন্যাসের মধ্যকার জগতটাকে লেখক কিভাবে সৃষ্টি করছেন সেটাকে। এখানে লেখক তার সুবিধামতো প্রকৃতিকে সাজাতে পারেন, নিয়ম সাজাতে পারেন, সৃষ্ট চরিত্রগুলোর বৈশিষ্ট্য সাজাতে পারেন। আমাদের পরিচিত এই পৃথিবীর মাঝেও তার গল্পের মঞ্চ হতে পারে (প্রাইমারী ওয়ার্ল্ড) আবার একদম সম্পূর্ণ আলাদা, অপরিচিত একটা পৃথিবীও তার গল্পের প্রেক্ষাপট হতে পারে (সেকেন্ডারী ওয়ার্ল্ড)। আবার লেখক চাইলে দুটো ওয়ার্ল্ড মিলিয়েও লিখতে পারেন। মোদ্দাকথা লেখকের মাথার ভেতর থাকা দুনিয়াটা এখানে তুলে ধরতে পারেন লেখক এবং ফ্যান্টাসি জনরার সবচাইতে মজার ব্যাপার হচ্ছে এখানে লেখক যা সাজাবেন তা কিন্তু আমাদের এই পৃথিবীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এমন কোন কথা নেই। যেমনঃ আমরা যেমন দেখি এই পৃথিবীতে কেবল মানুষরাই মনের ভাব পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ করার জন্য কথা বলতে পারে। কিন্তু ফ্যান্টাসি গল্পে গাছেদেরও, প্রাণিদেরও এই ক্ষমতা থাকতে পারে। তবে লেখকের মন মতো তার সবকিছু লেখার অধিকার থাকলেও পরস্পর বিরোধসম্পূর্ণ কোন বিষয় চাইলেই লেখক আনতে পারেন না। যেমনঃ কোন একটা জগতে কোন গ্রাভিটি নেই কিন্তু প্রাণীরা সেই জগতে খুব সহজেই হেঁটে বেড়াচ্ছে এটা কিন্তু পরস্পর বিরোধসম্পূর্ণ একটা বিষয়। এটা যদি কোন লেখক তার ফ্যান্টাসি গল্পে লিখতে চান তাহলে তাকে অবশ্যই একটা যুক্তিযুক্ত সিস্টেম তৈরী করতে হবে।তো মাদার ন্যাচারের ওয়ার্ল্ডবিল্ড ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং বলতে মূলত বোঝায় ফ্যান্টাসি উপন্যাসের মধ্যকার জগতটাকে লেখক কিভাবে সৃষ্টি করছেন সেটাকে। এখানে লেখক তার সুবিধামতো প্রকৃতিকে সাজাতে পারেন, নিয়ম সাজাতে পারেন, সৃষ্ট চরিত্রগুলোর বৈশিষ্ট্য সাজাতে পারেন। আমাদের পরিচিত এই পৃথিবীর মাঝেও তার গল্পের মঞ্চ হতে পারে (প্রাইমারী ওয়ার্ল্ড) আবার একদম সম্পূর্ণ আলাদা, অপরিচিত একটা পৃথিবীও তার গল্পের প্রেক্ষাপট হতে পারে (সেকেন্ডারী ওয়ার্ল্ড)। আবার লেখক চাইলে দুটো ওয়ার্ল্ড মিলিয়েও লিখতে পারেন। মোদ্দাকথা লেখকের মাথার ভেতর থাকা দুনিয়াটা এখানে তুলে ধরতে পারেন লেখক এবং ফ্যান্টাসি জনরার সবচাইতে মজার ব্যাপার হচ্ছে এখানে লেখক যা সাজাবেন তা কিন্তু আমাদের এই পৃথিবীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এমন কোন কথা নেই। যেমনঃ আমরা যেমন দেখি এই পৃথিবীতে কেবল মানুষরাই মনের ভাব পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ করার জন্য কথা বলতে পারে। কিন্তু ফ্যান্টাসি গল্পে গাছেদেরও, প্রাণিদেরও এই ক্ষমতা থাকতে পারে। তবে লেখকের মন মতো তার সবকিছু লেখার অধিকার থাকলেও পরস্পর বিরোধসম্পূর্ণ কোন বিষয় চাইলেই লেখক আনতে পারেন না। যেমনঃ কোন একটা জগতে কোন গ্রাভিটি নেই কিন্তু প্রাণীরা সেই জগতে খুব সহজেই হেঁটে বেড়াচ্ছে এটা কিন্তু পরস্পর বিরোধসম্পূর্ণ একটা বিষয়। এটা যদি কোন লেখক তার ফ্যান্টাসি গল্পে লিখতে চান তাহলে তাকে অবশ্যই একটা যুক্তিযুক্ত সিস্টেম তৈরী করতে হবে।তো মাদার ন্যাচারের ওয়ার্ল্ডবিল্ডিং নিয়ে বললে বলতে হবে, লেখক প্রাইমারী ওয়ার্ল্ডের (মানে আমাদের চেনা পৃথিবী) ভেতরেই সেকেন্ডারী ওয়ার্ল্ড (ম্যাজিকাল জগত) সাজিয়েছেন, হ্যারি পটার ইউনিভার্সের মতো। এটা হাই ফ্যান্টাসির একটা সেটাপ, যেটা আশরাফুল সুমন মোটামুটি ভালোই করেছেন। এখানে সেকেন্ডারী ওয়ার্ল্ডটা একটা রহস্যময় জঙ্গল, যেটার বাইরেও আরেকটা জায়গা আছে, যেখানে এই জঙ্গল বা এই জগতের নিয়ন্ত্রক, হর্তাকর্তারা বসেন সেটা নিয়ে ফোরশ্যাডো করা হয়েছে। ব্যাক্তিগতভাবে ফোরশ্যাডোর জায়গাটা আমার বেশ ভালো লাগলেও, আমার মতে জঙ্গলের আরো বিস্তারিত বর্ণনা থাকা উচিৎ ছিলো। মাদার ন্যাচার যেহেতু একটা সিরিজের প্রথম বই, হতে পারে পরবর্তী বইতে লেখক আরো বিস্তারিত কিছু লেখার পরিকল্পনা করেছেন। তবে একটা কথা না বললেই নয়। সেটা হলো, ফ্যান্টাসি গল্পের মূল আকর্ষণ এই ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং এ আশরাফুল সুমন তার আগের উপন্যাস ‘কুয়াশিয়াঃ স্পেলমেকারের সন্ধানে’র চেয়ে ভালো কাজ দেখিয়েছেন।তো মাদার ন্যাচারের ওয়ার্ল্ডবিল্ডিং নিয়ে বললে বলতে হবে, লেখক প্রাইমারী ওয়ার্ল্ডের (মানে আমাদের চেনা পৃথিবী) ভেতরেই সেকেন্ডারী ওয়ার্ল্ড (ম্যাজিকাল জগত) সাজিয়েছেন, হ্যারি পটার ইউনিভার্সের মতো। এটা হাই ফ্যান্টাসির একটা সেটাপ, যেটা আশরাফুল সুমন মোটামুটি ভালোই করেছেন। এখানে সেকেন্ডারী ওয়ার্ল্ডটা একটা রহস্যময় জঙ্গল, যেটার বাইরেও আরেকটা জায়গা আছে, যেখানে এই জঙ্গল বা এই জগতের নিয়ন্ত্রক, হর্তাকর্তারা বসেন সেটা নিয়ে ফোরশ্যাডো করা হয়েছে। ব্যাক্তিগতভাবে ��োরশ্যাডোর জায়গাটা আমার বেশ ভালো লাগলেও, আমার মতে জঙ্গলের আরো বিস্তারিত বর্ণনা থাকা উচিৎ ছিলো। মাদার ন্যাচার যেহেতু একটা সিরিজের প্রথম বই, হতে পারে পরবর্তী বইতে লেখক আরো বিস্তারিত কিছু লেখার পরিকল্পনা করেছেন। তবে একটা কথা না বললেই নয়। সেটা হলো, ফ্যান্টাসি গল্পের মূল আকর্ষণ এই ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং এ আশরাফুল সুমন তার আগের উপন্যাস ‘কুয়াশিয়াঃ স্পেলমেকারের সন্ধানে’র চেয়ে ভালো কাজ ��েখিয়েছেন।
*ম্যাজিক সিস্টেমঃ ম্যাজিক সিস্টে ওয়ার্ল্ড বিল্ডিং বলতে মূলত বোঝায় ফ্যান্টাসি উপন্যাসের মধ্যকার জগতটাকে লেখক কিভাবে সৃষ্টি করছেন সেটাকে। এখানে লেখক তার সুবিধামতো প্রকৃতিকে সাজাতে পারেন, নিয়ম সাজাতে পারেন, সৃষ্ট চরিত্রগুলোর বৈশিষ্ট্য সাজাতে পারেন। আমাদের পরিচিত এই পৃথিবীর মাঝেও তার গল্পের মঞ্চ হতে পারে (প্রাইমারী ওয়ার্ল্ড) আবার একদম সম্পূর্ণ আলাদা, অপরিচিত একটা পৃথিবীও তার গল্পের প্রেক্ষাপট হতে পারে (সেকেন্ডারী ওয়ার্ল্ড)। আবার লেখক চাইলে দুটো ওয়ার্ল্ড মিলিয়েও লিখতে পারেন। মোদ্দাকথা লেখকের মাথার ভেতর থাকা দুনিয়াটা এখানে তুলে ধরতে পারেন লেখক এবং ফ্যান্টাসি জনরার সবচাইতে মজার ব্যাপার হচ্ছে এখানে লেখক যা সাজাবেন তা কিন্তু আমাদের এই পৃথিবীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এমন কোন কথা নেই। যেমনঃ আমরা যেমন দেখি এই পৃথিবীতে কেবল মানুষরাই মনের ভাব পরিপূর্ণভাবে প্রকাশ করার জন্য কথা বলতে পারে। কিন্তু ফ্যান্টাসি গল্পে গাছেদেরও, প্রাণিদেরও এই ক্ষমতা থাকতে পারে। তবে লেখকের মন মতো তার সবকিছু লেখার অধিকার থাকলেও পরস্পর বিরোধসম্পূর্ণ কোন বিষয় চাইলেই লেখক আনতে পারেন না। যেমনঃ কোন একটা জগতে কোন গ্রাভিটি নেই কিন্তু প্রাণীরা সেই জগতে খুব সহজেই হেঁটে বেড়াচ্ছে এটা কিন্তু পরস্পর বিরোধসম্পূর্ণ একটা বিষয়। এটা যদি কোন লেখক তার ফ্যান্টাসি গল্পে লিখতে চান তাহলে তাকে অবশ্যই একটা যুক্তিযুক্ত সিস্টেম তৈরী করতে হবে।*ম্যাজিক সিস্টেমঃ ম্যাজিক সিস্টেম বলতে উপন্যাসে ম্যাজিক কিভাবে কাজ করবে, কারা কারা ম্যাজিক করার ক্ষমতা রাখে, কাদের ওপর সেগুলো কাজ করবে/কাদের ওপর কাজ করবে না এইসব সুনির্দিষ্ট নীতিমালাকে বোঝায়। এখানে লেখক ঐ ওয়ার্ল্ডের নিজস্ব কোন সায়েন্সও তৈরী করতে পারেন যেটা আমাদের জগতের সাথে হয়তো মিলবে না। কিন্তু সেক্ষেত্রে অবশ্যই তাকে পুরো ব্যাপারটা ব্যাখ্যা করতে হবে, বোঝাতে হবে সিস্টেমটা কিভাবে কাজ করে। মাদার ন্যাচারে আমরা কিছু ম্যাজিকাল ক্রিয়েচারের বর্ণনা পেয়েছি এবং তাদের স্পেশাল ক্ষমতা সম্পর্কেও জানতে পেরেছি, কিন্তু সুনির্দিষ্ট কোন ম্যাজিকাল সিস্টেমের বর্ণনা উপন্যাসে উঠে আসেনি। সে হিসেবে এই উপন্যাসের ম্যাজিক সিস্টেমকে আপাতত ‘সফট ম্যাজিক’ হিসেবে ধরে নিচ্ছি। তবে উপন্যাস পড়ে আমার মনে হয়েছে সিরিজের পরবর্তী উপন্যাসগুলোতে ম্যাজিক সিস্টেমের আরো বিস্তৃতি ঘটবে আর তখন সেটা আর সফট ম্যাজিকের গন্ডীতে আটকে থাকবে না।
*ফ্যান্টাস্টিক ক্রিয়েচার/প্রাণীঃ ফ্যান্টাসি উপন্যাসে সবসময়ই স্পেশাল কিছু প্রাণী থাকে যেগুলোর অস্তিত্ব থাকে লেখকের কল্পনায়, আমাদের এই বাস্তব জগতে নয়। যেমনঃ হ্যারি পটার সিরিজে আমরা দেখি ইউনিকর্ন, হাউজ এলফ, ট্রল। লর্ড অফ দ্যা রিংস এ আমরা দেখি ডোয়ার্ফ জাতি, এলফ জাতি ইত্যাদি ইত্যাদি। মাদার ন্যাচারও এর ব্যাতিক্রম নয়। সুনিপুন দক্ষতায় আশরাফুল সুমন সৃষ্টি করেছেন বেশ কিছু ফ্যান্টাস্টিক ক্রিয়েচার। যেমনঃ শ’টাবায়, স্যাটার, ড্রায়াড, ইরোয়ান, খাপোরি ইত্যাদি। এদের মাঝে খাপোরি ক্রিয়েচারটাকে আর সমাজে তার দায়িত্বের ব্যাপারে লেখকের চিন্তাভাবনা আমার বেশ ভালো লেগেছে। তবে আমার ধারণা ম্যাজিকাল ক্রিয়েচার সম্পর্কে কোন রিভিউতে না বলাই ভালো। কারণ একটা ম্যাজিকাল ক্রিয়েচার একদমই মৌলিক একটা জিনিস, সেটা সম্পর্কে রিভিউ থেকে না জেনে বই থেকে জানলেই পাঠক বেশি লাভবান হবেন। সুতরাং এই জায়গাটা আমি সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাচ্ছি। তবে এটুকু নিশ্চিত থাকতে পারেন যে, মাদার ন্যাচারে আশরাফুল সুমন তার কল্পনার মাধ্যমে যে ম্যাজিক্যাল ক্রিয়েচারগুলো সৃষ্টি করেছেন তা আপনার ভালো বৈ খারাপ লাগবে না।
এবার আসি সকল জনরার উপন্যাসের ক্ষেত্রে সর্বজনীন যে বিষয়গুলোতে নজর দেয়া হয় সেদিকে।
এবার আসি সকল জনরার উপন্যাসের ক্ষেত্রে সর্বজনীন যে বিষয়গুলোতে নজর দেয়া হয় সেদিকে।
‘মাদার ন্যাচার’ যেহেতু একটি সিরিজ হতে যাচ্ছে সে হিসেবে এর প্লট নিয়ে আসলে বেশি কিছু বলার নেই। তবে এটুকু বলাই যায় যে, সিরিজের প্রথম বইটি যেরকম হওয়া উচিৎ, পাঠকের মাঝে যতটুকু আগ্রহ সৃষ্টি করা উচিৎ, তার সবটুকুই মাদার ন্যাচার করতে পেরেছে। চরিত্রায়নের ব্যাপারে স্পষ্টতই বোঝা গেছে, লেখক মূলত জোর দিয়েছেন উপন্যাসের প্রধান ৩ চরিত্র রোহান, জেনিফার আর ইয়েমিনের দিকে। তাদের চরিত্রের একদম ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র বিষয়গুলো উপন্যাসের নানা জায়গায় উঠে এসে চরিত্রগুলোকে সমৃদ্ধ করেছে। তবে ব্যাক্তিগতভাবে, একজন পাঠক হিসেবে পার্শ্বচরিত্রগুলো নিয়ে আমার আরেকটু বিশদ জানার ইচ্ছা ছিলো। তবে এটার কারণে উপন্যাস লাইনচ্যুত হয়েছে, এমনটা ভাবার কোন কারণ নেই। লিখনশৈলীর ব্যাপারে আমি আশরাফুল সুমনকে বাকি দিকগুলোর থেকে খানিকটা পিছিয়ে রাখবো। এর কারণ কি আশরাফুল সুমনের ভাষাজ্ঞান? নাহ, মোটেও না। কারণ আমি বিশ্বাস করি ‘স্পেল’ শব্দটা ম্যাজিকের ক্ষেত্রে যতটা গুরুত্ব বহন করে ‘মন্ত্র’ শব্দটা ততটা গুরুত্ব বহন করতে পারেনা। মাতৃভাষার প্রতি যথেষ্ট সম্মান রেখেই বলছি, এর গোড়াটা আসলে আমাদের মনে। আমরা ধরেই নেই, মন্ত্র মানে আমাদের চিরচেনা তান্ত্রিকের উচ্চারিত ‘ছুঃ মন্তর ছুঃ’ দিয়ে বাণ টাইপের কিছু, আদতে কিন্তু স্পেল ব্যাপারটা ঠিক তা নয়। তারপর ভাবুন তো, ‘ওয়ান্ড’ এর পরিবর্তে ‘ছড়ি’/’যাদুর কাঠি’ শুনতে কি শ্রুতিমধুর লাগে? সুতরাং যেসব শব্দ আমাদের মাথায় সাইকোলজিক্যালি গেঁথে গিয়ে অন্য কোন মানে দাঁড় করায়, সেগুলোকে ইংরেজীতে লিখলে একজন পাঠক হিসেবে ব্যাক্তিগতভাবে আমি কোন সমস্যা দেখি না। আর এই ইংরেজীকে পরিহার করে আমরা পাঠকরা যদি খাঁটি বাংলায় লিখতে লেখকদের মানসিকভাবে চাপ দিই তাহলে দুদিন পর এমন উপন্যাস প্রকাশিত হবে, যেগুলোর মাঝে সাহিত্যরসের চেয়ে বাংলা ব্যাকরণের অংশ বেশি থাকবে। আমার ধারণা আশরাফুল সুমন ঠিক এ সমস্যাটাতেই ভুগছেন। সে কারণে তার প্রথমদিকে অনলাইনে লেখা গল্পগুলোতে ইংরেজী শব্দের ব্যবহার থাকলে গল্পগুলো সহজবোধ্য ছিলো, কারণ ঐ ইংরেজী শব্দগুলো আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহার করতে করতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছি। আর এখন তার লেখায় ইংরেজী শব্দের আধিক্য কমে গেলেও অনেক পাঠকের মতে তা দূর্বোধ্য হয়ে যাচ্ছে এবং মৌলিক লেখা হয়েও খানিকটা আক্ষরিক অনুবাদের স্বাদ দিচ্ছে। তবে আমি বলবো, আমাদের পাঠকদের এখানে ভাববার জায়গা রয়েছে।
যাই হোক, আশরাফুল সুমনকে লিখনশৈলীর দিকে দিয়ে পিছিয়ে রাখার কারণ হিসেবে বলা যেতে পারে, উপন্যাসের কয়েকটা জায়গায় আমার মনে হয়েছে চরিত্রগুলো নিজেদের মত আচরণ না করে, লেখকের মত আচরণ করছে। মানে, কিছু কিছু জায়গাতে লেখক, উপন্যাসের চরিত্রে প্রবেশ করতে পারেননি বলে আমার মনে হয়েছে। যেমনঃ প্রাইমারী ওয়ার্ল্ড থেকে অদ্ভূতভাবে সেকেন্ডারী ওয়ার্ল্ডে প্রথমবার প্রবেশ করাটা যে কোন মানুষের জন্যই তার জীবনের সবচাইতে রোমাঞ্চকর, ভয়, উদ্বেগের ব্যাপার হবার কথা। কিন্তু রোহান, জেনিফার, ইয়েমিন; কারো মাঝেই খুব একটা ভাবাবেগ আমার চোখে পড়েনি। জঙ্গলে ঢোকার কিছুক্ষণ পরেই রোহান আটকে যায় একটা মায়াজালে। একজন চিন্তিত, ভীত মানুষের ক্ষেত্রে একমূহূর্তের মধ্যে মায়াজালে জড়িয়ে পড়ার ঘটনাটা আমার কাছে একটু দ্রুতই মনে হয়েছে। আবার জঙ্গলে ঢোকার কিছুক্ষণ পড়েই নিজেদের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়ে জেনিফারকে দেখা যায় একাকী উল্টো পথে হাঁটতে। এইরকম বিপদসঙ্কুল, রহস্যময় একটা বনে বন্ধুদের সাথে সামান্য একটা বিষয়ে কথা কাটাকাটি হয়ে আলাদা রাস্তায় যাওয়ার ব্যাপারটা আমার কাছে একটু ড্রামাটিক মনে হয়েছে। লেখক জানেন যে কোন ঘটনার পর কি ঘটতে যাচ্ছে, তিনি চিন্তিত নাই হতে পারেন, কিন্তু চরিত্রগুলোর ক্ষেত্রে – তাদের তো ঘটনার ক্রম জানার অবকাশ নেই। সুতরাং স্বাভাবিকভাবে তাদের মধ্যে সেই জিনিসগুলোই দেখার কথা, যেগুলো স্বাভাবিক সুস্থ মানুষ বিপদে পড়লে করে থাকে। সেই হিসেবে এই জায়গাটা আমার একটু দূর্বল মনে হয়েছে।
এরকম দু চারটে বিষয় বাদ দিলে আশরাফুল সুমনের লিখনশৈলী নিয়ে আসলে কথা বলার কিছু নে��। উপন্যাস শুরু হবার ১০ পৃষ্ঠার মধ্যেই পাঠক উপন্যাসে ঢুকে যাবে বলে আমার বিশ্বাস। সেই সাথে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে লেখক যেমন সিরিয়াসভাবে লিখেছেন তেমনি মাঝে মধ্যে বন্ধুদের মাঝে ঘটে যাওয়া রসিকতার ব্যাপারগুলোও হালকা ভাবে তুলে ধরেছেন, যা সব মিলিয়ে উপন্যাসকে একটা সাম্যাবস্থায় রেখেছে। এবং এ কারণেই ‘কুয়াশিয়াঃ স্পেলমেকারের অনুসন্ধান’ উপন্যাসে লেখায় মেদ জমে যাবার ব্যাপার চোখে পড়লেও ‘মাদার ন্যাচার’ এ অপ্রয়োজনীয় তেমন কিছু আমার চোখে পড়েনি বললেই চলে। সব মিলিয়ে ‘মাদার ন্যাচার’কে আমার কাছে বেশ সহজবোধ্য, গতিশীল, গ্রিপিং, পেজ টার্নার একটা উপন্যাস মনে হয়েছে।
Profile Image for Tasnuva Liza.
Author 1 book17 followers
October 15, 2020
বিভিন্ন গ্রুপে আর বইপড়ুয়াদের রিকমেন্ডেশন বা সমালোচনা যাই বলি না কেন, বইটি নিয়ে যেমন হাইপ তৈরি হয়েছে, তাতে পড়ার আগ্রহ থেকেই বইটা কিনেছিলাম, তার উপরে এমন অদ্ভুত সুন্দর প্রচ্ছদ! পড়বো পড়বো করে শেষমেষ পড়েই ফেললাম বইটা। লেখক আশরাফুল সুমনের কোনো বই আগে পড়িনি, এটাই প্রথম। আবার ফ্যান্টাসি জনরার বইও খুব একটা পড়া হয়নি, সেক্ষেত্রে এই বইটা যে আমাকে অন্য একটা জগতে নিয়ে গিয়েছিলো, সেটা বলতেই হয়। বইটার রিভিউ যেখানে যেখানে দেখেছি, বেশ সমালোচিত যে হয়েছে এটা বলতে হয়। তবে আমি শুরু করি বইয়ের কোন কোন ব্যাপার আমার ভালো লেগেছে সেখান থেকে।

ভালো লেগেছেঃ
* মিথ সম্পর্কে প্রচলিত ধারণা এবং ধারণার বাইরে লেখকের কল্পনা মিশ্রিত যে মিথের জগতের ধারণা দেয়া হয়েছে, এটা আমার ভালো লেগেছে। আরো ভালো লেগেছে প্রশ্নত্তোর পর্ব। বইয়ে দেখা যায় এই গল্পে ব্যবহৃত মিথের ধারণা নিয়ে নানা প্রশ্ন ওঠে, কোনো কোনো প্রশ্নের উত্তর তখনই পাওয়া যায়, কোনোটা অন্য কোনো অধ্যায়ে, তবে এইযে একটা একটা করে ধারণা ক্লিয়ার করা, এই বিষয়টা অনেক স্যাটিসফাইং লেগেছে আমার কাছে।

* ফ্যান্টাসিক চরিত্র গুলোর বর্ণনা এবং তাদের সমাজের শ্রেণিবিভাগ। একদম উঁচু শ্রেণীর রক্ষক থেকে শুরু করে যোদ্ধা, বোদ্ধা সকল চরিত্রের সংমিশ্রণ ঘটেছে। কার কি দায়িত্ব সেগুলো সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মানুষের জগতের সাথে ফ্যান্টাসিক জগত কিভাবে সম্পর্কিত সেই ধারণাটাও ভালো লেগেছে।

* লেখকের গবেষণা। চরিত্র সৃষ্টি করে তাকে ফুটিয়ে তোলা বেশ কষ্টকর যদি ঠিকভাবে তার বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করা না যায়। এক্ষেত্রে লেখক সফল বলে মনে হয়েছে। কারণ ফ্যান্টাসিক চরিত্র বা মানব চরিত্র যাদেরই উপস্থিতি আছে, তাদের কারো প্রতি ঘৃণা, কারো প্রতি মায়া, ভয়, ভালোবাসা, চরিত্র সবকিছুই উপলব্ধি করা যায়। চরিত্রগুলোর নামের ব্যবহার, উপাধি, দায়িত্ব, কর্ম থেকেও লেখকের কল্পনা আর গবেষণার ছাপ পাওয়া যায়। নর্থ মিথোলজি, হারিয়ে যাওয়া সভ্যতা, আলকেমি ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে লেখকে প্রজ্ঞা প্রকাশ পেয়েছে বিভিন্ন অধ্যায়ে।

* বাস্তব জীবনের সাথে সাদৃশ্য। আমাদের বর্তমান সমাজের অনেক দিক ফুটে উঠেছে বইটিতে। যেমন নারীদের উত্যক্ত করা, পলিটিকাল পাওয়ার, ক্যাম্পাসে র‍্যাগ, ফেমিনিজম ইত্যাদি নানান বিষয় উঠে এসেছে এবং সেখান থেকে পজিটিভ কিছু ম্যাসেজও পাওয়া গিয়েছে। আবার মানুষের বা কাল্পনিক চরিত্রের কর্মফল ভোগের যে ব্যাপারটা অভিশাপ হিসেবে নিয়ে আসা হয়েছে সেটাও বেশ উপভোগ্য। কৃতকর্মের ফল যে পেতে হয়, এই ব্যাপারটা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

এবার আসি যেসব ব্যাপার ভালো লাগেনিঃ
* কিছু কিছু জায়গায় বানান ভুল আছে, শুরুর দিকে হয়তো বেশি ছিলো। ব্যাপারটা বেশ দৃষ্টিকটু আর বিরক্তিকর।

* প্রথমদিকে ডায়লগ বুঝতে খুবই সমস্যা হয়েছে। এটাকে বর্ণনার দুর্বলতা বলবো কিনা ঠিক বুঝতে পারছি না, কিন্তু কোন কথা টা কোন চরিত্র বলছে এটা বুঝতে বেগ পেতে হয়েছে। বিশেষ করে "সে বললো" এধরনের ডায়লগের ক্ষেত্রে "কে" কথাটা বললো সেটা সবসময় স্পষ্ট ছিলো না, তার জন্য আগের প্যারা বা অধ্যায়ের কিছু অংশ আবারো পড়তে হয়েছে।

* তিনজন মানুষের বনের মাঝে ঢুকে যাওয়ার পর ইয়েমিনের কিছুটা উত্তেজনা প্রকাশ করা হলেও, বাকিরা নির্লিপ্ত ছিলো বেশ খানিকটা। রোহান বিপদে ছিলো, তবে জেনির আচরণ মোটেও অবাক হওয়ার মতো ছিলো না, বনে ঢুকে যাওয়ার পর পুরোটা গল্প জুড়েই অবশ্য জেনির তেমন কোনো এফোর্ট দেখা যায় না। যেন জেনি জানতোই তাদের সাথে এমন হওয়ার কথা ছিল।

* বনের মধ্যে তারা কতক্ষণ ছিলো নির্দিষ্ট করে বলা নেই, তবে বেশ দীর্ঘ সময়ে যে ছিলো তা আন্দাজ করা যায়। কিন্তু বনে ঢুকে যাওয়ার পর তাদের অন্যান্য মানবীয় গুণ ঠিক থাকলেও ক্ষুধা তৃষ্ণার কথা খুব একটা নিয়ে আসা হয়নি। এতো ঝড় ঝাপটা, বিপদ তাদের উপর দিয়ে যায় অথচ মাত্র ২বার (একবার ফল, আরেকবার রান্না করা খাবার) খাবারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অবশ্য ফ্যান্টাসিক জগতে প্রবেশের পর তাদের পরিবর্তন হয়েছে বা ক্ষুধা তৃষ্ণা এতোটা গুরুত্বপূর্ণ না, ভাবলেও ভাবা যায়।

* রোহানের অতিরিক্ত বাজে ভাষার ব্যবহার ভালো লাগেনি। বাজে ভাষা ছাড়াও তার চরিত্রের বর্ণনা যথেষ্ট ছিলো।

যেসব চরিত্র ভালো লেগেছেঃ (স্পয়লার এলার্ট)
*ফেনেলোরঃ একজন সত্যিকারের আবেগী প্রেমিকা বলতে যা বোঝায় ফেনেলোর তার উত্তম উদাহরণ। তাকে যদিও গল্পের শুরুর দিকে প্রতারক হিসেবে পরিচয় করানো হয়েছে, তবে তার প্রতারণার কারণ সে ব্যাখ্যা করেছে, এবং কারণ জানার পর আবেগী পাঠক তাকে বেশ পছন্দই করবে। পুরোটা সময় মানুষ তিনজনকে সে যেভাবে সাহায্য করেছে, সেখান থেকেও ভালো লাগা এসে যায়।
*ইয়েমিনঃ ইয়েমিনের মাধ্যমে পুরো বইয়ের বেশিরভাগ জানার বিষয়, জ্ঞানের বিষয় ফুটে উঠেছে, সেটা তার বক্তব্যের মাধ্যমে হোক বা প্রশ্নের মাধ্যমে। বন্ধুদের প্রতি তার দায়িত্বশীলতাও অনেক। একজন প্রাজ্ঞ এবং ভদ্র মানুষ হিসেবে তার আবির্ভাব এবং শেষ পর্যন্ত তা অক্ষুণ্ণ ছিলো। প্রথম দিকে তার ভীতু ভাবটা প্রকাশ পেলেও বন্ধুদের বাচাতে সেই ছিলো একজন নিস্বার্থ মানুষ।

যে চরিত্রগুলো খারাপ লেগেছেঃ (স্পয়লার এলার্ট)
*শ'টাবায়ঃ যতগুলো নেগেটিভ চরিত্র আছে তার মধ্যে শ'টাবায় বেশ ভালোভাবে নিজের নেগেটিভিটি প্রকাশ করেছে। ধুর্ত, জাদুকরী হিসেবে খারাপের মধ্যে খারাপ ছিলো।

*অরিকিলিসঃ দক্ষিণের রক্ষক অরিকিলিসকে শুরু থেকেই পছন্দ হচ্ছিলো না। যেন ইতিহাসের ক্ষতিকারক ক্ষমতাবানদের চরিত্র প্রকাশ পেয়েছে তার মধ্যে। তার চেয়ে নিচের শ্রেনী তো বটেই, সম্মানিত চরিত্র গুলোর সাথেও তার বাজে আচরণ তাকে ঘৃণা করতে বাধ্য করেছে। রাণী ঔসিয়ার বিপরীত ধরনের চরিত্র।

*রোহানঃ বখাটে আর স্বার্থপরের উতকৃষ্ট উদাহরণ। একদিকে যেমন ক্যাম্পাসে জুনিয়রদের সাথে খবরদারি করে, মেয়েদের উত্যক্ত করে। তেমনি ফ্যান্টাসিক জগতেও তার এই চরিত্রহীনতা শুরু থেকেই প্রকাশ পায়। জেনির জন্য তার ভালোবাসা থাকলেও তার অন্যান্য চরিত্র তাকে জেনির অযোগ্য ভাবতেই সায় দিয়েছে। রোহানের পরিনতি তাকে কতোখানি শিক্ষা দিয়েছে বুঝিনি, তবে চরিত্রহীন এবং লোভীদের সাথে এমন পরিণতি হওয়াই উচিত।

*জেনিফারঃ অনেক চেষ্টা করেও জেনি কে ভালো লাগার চরিত্রে বসাতে পারলাম না। প্রথমে যতটা প্রতিবাদী সাহসী তাকে দেখানো হয়েছে, পরবর্তীতে তার সেই সাহস তেমন দেখতে পাইনি। তবে নারীদের পাশে দাড়ানো, র‍্যাগ থেকে জুনিয়রদের বাচানো, তার শুদ্ধ ভালোবাসা এসব দেখে জেনিকে ভালো লাগলেও, পরবর্তীতে রোহানের চরিত্র যতোই স্পষ্ট হচ্ছিলো, জেনির রুচির উপরও সন্দেহ হচ্ছিলো। মনে হচ্ছিলো এতো প্রতিবাদী, সাহসী, সৎ মানুষ একজন দুশ্চরিত্র, পলিটিকাল পাওয়ারের অঅপব্যবহার কারীকে জেনে শুনে কেন ভালোবাসবে? জেনির পারসোনালিটি আমার কাছে হিপোক্রেসি মনে হয়েছে।

কাহিনি সংক্্ষেপঃ হাই ফ্যান্টাসির জগতের একটা ঘটনা থেকে কাহিনি শুরু হলেও এক পর্যায়ে দেখা যায় মানব সমাজের তিনজন বন্ধু একটা জঙ্গলে ঢুকে যায়। এই জঙ্গলটাই মূলত ভিন্ন এক জগত, যে জগতের গাছ পালা, প্রাণি এমনকি মানুষের রূপধারী চরিত্র গুলোও বিচিত্র। তাদের আছে আলাদা সমাজ, আলাদা আলাদা বৈশিষ্ট্য, তাদের সৃষ্টি ও এক রহস্যময় কারণে যা হয়তো মানুষ আগে কখনো জানতে পারেনি। এই জগতে ঢুকে যাওয়ার পর তিন বন্ধু পদে পদে নানা বিপদে পড়ে। প্রাণীর আক্রমণ, অভিশাপ, ঝড় এগুলো প্রতিটা মুহূর্তকে বিপদসংকুল করে তোলে। তাদের বাচাতে এগিয়ে আসে ইরোয়ান রা। তাদের আবার নিজেদের আছে মধ্যে দ্বন্দ্ব সংঘাত। কারা এই ইরোয়ান? তাদের সাথে মানুষের যোগাযোগ কি? তিন বন্ধু কি পেরেছিলো বিপদ থেকে মুক্ত হয়ে বাস্তবের পৃথিবীতে ফিরে আসতে? যে জগতে মাকড়সার জালের ন্যায় ছেয়ে আছে কেবল দুটো অনুভূতি - একাকিত্ব ও বিষন্নতা, সে জগত থেকে কি বের হতে পেরেছিলো জেনি, ইয়েমিন আর রোহান? জানতে হলে পড়তে হবে "মাদার ন্যাচার"

শেষকথাঃ শুরুতে বুঝতে একটু সমস্যা হলেও গল্পের ভিতরে ঢুকে যাওয়ার পর বেশ উপভোগ করেছি বলা চলে। ফ্যান্টাসি, ম্যাজিক, পাওয়ার, রহস্য, মিথ, ঘৃণা, ভালোবাসা আর বিভিন্ন অনুভূতি পাঠকের মধ্যে বেশ ভালোভাবেই ছড়িয়ে দেয়া হয়েছে। বাংলায় মৌলিক ফ্যান্টাসি খুব বেশি নাই। তাই লেখককে ধন্যবাদ এই জগতের সাথে আমাদের আরো একটু পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য। পরের বইয়ের অপেক্ষায় থাকবো। বইটি পড়া উচিত কিনা জিজ্ঞাস করলে বলবো, হ্যা অবশ্যই পড়া উচিত।

পারসোনাল রেটিংঃ ৩.৯/৫
Profile Image for Tarik Mahtab.
167 reviews3 followers
September 9, 2021
September#3

ফ্যান্টাসী যারা পছন্দ করেন তাদের কাছে আশরাফুল সুমন একটি পরিচিত নাম। তার হাত ধরেই দেশে হার্ড ফ্যান্টাসী জনরাটি প্রতিষ্ঠার পথে এগোচ্ছে। প্রথম বই ❝ড্রাগোমির❞ ছিল একটি মেটাফিকশন ফ্যান্টাসী। বইটি পড়া আছে বিধায় বলতে পারছি খুবই সুন্দর একটি বই। বর্তমানে বইটি প্রিন্ট আউট। তারপর তার কুয়াশিয়া,অন্তিম শিখা,আলেয়া এগুলো যেমন পাঠকের মন জয় করেছে তেমনই অনেকে সমালোচনাও করেছে। দেশে ফ্যান্টাসী পাঠক যেমন কম,তেমন ফ্যান্টাসী পছন্দকারী মানুষও আসলে কমই।
বাংলা সাহিত্যের বাস্তববাদী সাহিত্য কাজগুলো পড়তে পড়তে অনেকের কাছে আবার ফ্যান্টাসী সাহিত্যকে ঠুনকো বলে মনে হয়। কেউ কেউ ছোটবেলায় শোনা রুপকথার সাথেও গুলিয়ে ফেলেন এই জনরাটিকে। এর পেছনে সঠিক কারণ বলা মুশকিল। তবে আমার মনে হয় দেশে ফ্যান্টাসী পাঠক কম হওয়ার পেছনে এর লেখক কম হওয়াটাও দায়ী। এদিক দিয়ে শরীফুল হাসান ভাইয়ের ❝সাম্ভালা❞ ফ্যান্টাসী থ্রিলার হিসেবে বেশ জনপ্রিয়। আবার তানজীম ভাইয়ার আর্কন,অক্টারিন,কেটজালকোয়াটল এই বইগুলোও কিন্তু বেশ জনপ্রিয়। এই বইগুলোকে আসলে সরাসরি ফ্যান্টাসী জনরায় ফেলা যায় না। কোনোটা হরর ফ্যান্টাসী,তো কোনোটা আবার ফ্যান্টাসী থ্রিলার,আবার কোনোটা মিথোলজিক্যাল। কিন্তু হার্ড ফ্যান্টাসী জনরাটা এদেশে মোটেই তেমন জনপ্রিয়তা পায়নি। সুমন ভাইয়ের আন্ডাররেটেড কাজগুলোই এর প্রমাণ।
বর্তমানে হার্ড ফ্যান্টাসী জনরা নিয়ে একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাওয়া অন্যতম লেখক হলেন আশরাফুল সুমন।ওনার ধৈর্য আর একনিষ্ঠ প্রচেষ্টাকে অবশ্যই সম্মান জানাতে হয়।

কাহিনী সংক্ষেপ:
প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির এক সন্ধ্যায় তিন বন্ধু রোহান,ইয়েমিন আর জেনিফার আবিষ্কার করলো ওদের প্রতিদিনের পরিচিত রাস্তাটা এমনভাবে রুপান্তরিত হয়ে গেছে যে দেখে মনে হয় যে এই স্থানে আর কখনোই আসেনি ওরা। যে রাস্তা ধরে প্রতিদিন যাওয়া আসা করে তারা সেটা কিছুদূর গিয়েই মিশে গিয়েছে পাহাড়ি মাটির সাথে,আর তার ধারে দেখা যাচ্ছে আকাশের বুক ছুঁয়ে দেয়া উঁচু গাছে ভরপুর রহস্যময় এক বনভূমি। খুব দ্রুতই ওরা বুঝতে পারলো এটা কোনো স্বাভাবিক বন নয়। এ বন ভেতরে যাওয়ার উপায় রেখেছে,শুধু রাখেনি বেরোবার পথ।

অদ্ভুত এই বন যেন পরিচিত জগতের বাইরে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জগৎ। যেখানে গাছেরা ভেঙে পড়ে শব্দহীন কান্নায়,যে জগৎ মানুষের মনের ভেতর উঁকি দিয়ে বের করে আনে তার সবচেয়ে কদাকার রুপকে,যেখানে ঘুরে বেড়ায় সব ভয়ংকর প্রাণী,শুধু পুরাণের বইতেই যাদের দেখা মেলে। সে জগতে মাকড়সার জালের ন্যায় ছেয়ে আছে শুধু দুটো অনুভূতি-একাকীত্ব ও বিষণ্ণতা।
আর এই সবকিছুর উপরে আছে অন্যকিছু,একটা নাম। ❝মাদার ন্যাচার❞।
একাকীত্বের স্বরুপ বুঝতে চান? তবে বিষণ্ন এই জগতে আপনাকে স্বাগতম।

পাঠ প্রতিক্রিয়া:
এক কথায় বললে হাই ফ্যান্টাসী হিসেবে খুবই চমৎকার বই ❝মাদার ন্যাচার❞।
ভালো দিক:
⭕হাই ফ্যান্টাসী কিংবা এপিক ফ্যান্টাসী জনরার বইগুলোতে ওয়ার্ল্ড বিল্ডিংয়ে লেখককে কিছটা সময় নিতে দেখা যায়। এতে কাহিনীতে ঢুকতে একটু সময় লাগে। বোরিংও লাগতে পারে। Leigh Bardugo’র ❝Ninth House❞ বইটি পড়ার সময় ব্যাপারটা প্রথম নজরে আসে। তার আগে অবশ্য এপিক ফ্যান্টাসী পড়াও হয়নি। কিন্তু এই বইটিতে যা দেখলাম,ওয়ার্ল্ড বিল্ডিংয়ে লেখক অযাচিত সময় লাগাননি। বরং কাহিনীর মাধ্যমে আস্ত ধীরে ফুটিয়ে তুলেছেন তার জগতটাকে। এতে কাহিনী কোথাও ঝুলে পড়েনি। গতিও কমে যায়নি। বরং ভালোই লাগছিল। তবে হ্যাঁ,কাহিনীতে ঢুকতে কিংবা বলা যায় পুরোপুরি বুঝে উঠতে একটু সময় লেগেছে বৈকি!
⭕জগত তৈরিতে লেখক খুবই দক্ষতা দেখিয়েছেন। মাদার ন্যাচারে যেই জগতটা আমরা দেখতে পাই তা একেবারেই ভিন্ন এবং লেখক সাজিয়েছেনও বেশ ভালোভাবে। পরবর্তী বইয়ে আরো বিস্তৃত রুপ পাবো হয়তো।
⭕একটা ফ্যান্টাসী বইয়ে যা যা থাকা উচিত সবই ছিল। অভিশাপ,ভবিষ্যদ্বাণী,যুদ্ধ,মর্মোদ্ধার কিংবা নতুন স্থান পরিভ্রমণ আর অজানা বিপদ সবই আছে। এদিকটাও ভালো লাগার দিক।
⭕বইয়ের চরিত্রগুলোর সংলাপ খুবই স্ট্রং আর মনে গেঁথে যাওয়ার মতো। যখনই তাদের সংলাপ পড়েছি ব্যাপারটা টের পেয়েছি।
⭕বইয়ে গতি বেশ ভালোই বজায় ছিল। কোথাও বোর হওয়ার সুযোগ নেই।
⭕বইয়ের সমাপ্তিটা সবচেয়ে পছন্দের দিক। থ্রিলারে টুইস্ট হালকা হতে পারে,তেমন স্ট্রং কিংবা মারাত্মক না ও হতে পারে। আবার প্রেডিক্টেবলও হতে পারে। তবে এ পর্যন্ত যতোগুলো হাই ফ্যান্টাসী কিংবা লো ফ্যান্টাসী পড়েছি কোনোটার টুইস্টই প্রেডিক্ট করতে পারিনি। আর এই টুইস্টগুলোর অন্য একটা বৈশিষ্ট্য হচ্ছে,মন ছুঁয়ে যায়। অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করে তখন। এই বইয়েও তেমনটাই ঘটেছে। সার্থক হাই ফ্যান্টাসী বলা যায় মাদার ন্যাচারকে।

বইয়ে খারাপ লাগার দিক কমই আছে। যা আছে তুলে দিলাম।
মন্দ দিক:
⭕বইয়ের কিছু কিছু জায়গায় বর্ণনা কম মনে হয়েছে। আরেকটু বর্ণনা করলে ভালো হতো। যেহেতু ফ্যান্টাসী সেহেতু আশেপাশের দৃশ্যগুলো আরেকটু বিস্তারিত বর্ণনা করলে ভালো লাগতো। তাছাড়া চরিত্রগুলোর দৈহিক বর্ণনা নেই বললেই চলে। যার কারণে সেভাবে কল্পনা করতে পারিনি।
⭕সংলাপগুলো আমার খুবই ভালো লাগলেও কিছু কিছু জায়গায় কথাটা কার বলা তা বুঝতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে।
⭕২০৩ পৃষ্ঠায় এক জায়গায় লেখক ক্যাডমায়েল আর ফ্যাবিওকে গুলিয়ে ফেলেছেন। পরবর্তী সংস্করণে ঠিক করে নেওয়ার অনুরোধ রইলো।
⭕বইয়ে কিছু মাইনর প্লটহোল ছিল। শেষে বলছি সেটা।

সবমিলিয়ে বেশ উপভোগ্য একটা যাত্রা ছিল ❝মাদার ন্যাচার❞।

লেখনশৈলী:
আমার পড়া লেখকের প্রথম বই ❝আলেয়া❞। এরপর ❝ড্রাগোমির❞ পড়া হয়েছে। আলেয়ার লেখনশৈলীর কথা মনে নেই। তবে বইটা বেশ ভালো ছিল।
❝ড্রাগোমির❞ এর লেখনশৈলী বিবেচনা করলে ❝মাদার ন্যাচার❞এ লেখা প্রচণ্ড ধারালো। তার শব্দচয়ন,উপমার প্রয়োগ,বর্ণনা করার ক্ষমতা সবই অসাধারণ। তবে আক্ষেপ শুধু বর্ণনা কম করেছেন। তার শব্দভান্ডার আর ব্যাকরণের জ্ঞান অসাধারণ। বলা বাহুল্য,একজন সম্পাদক হিসেবে এমনটাই যুক্তিযুক্ত।

চরিত্রায়ণ:
বইয়ের প্রধান চরিত্র ইয়েমিন,রোহান আর জেনিফারের চরিত্রগুলো প্রথম অধ্যায়েই ভালোভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এরপর প্রত্যেক অধ্যায়ে ধীরে ধীরে তাদের আক্ষেপ,তাদের অতীত,অন্ধকার দিক,পরস্পরের মধ্যকার অন্তর্দহন,বিশ্বাস-অবিশ্বাস এগুলো চরিত্রগুলোকে আরো স্পষ্ট করে তুলেছে।
বইয়ে চরিত্র তেমন বেশি না।
ক্যাডমায়েল,ফ্যাবিও,ফেনেলোর,কালহেল,ইটজেল,কোলেল এদের চরিত্র নিয়ে ভাসা ভাসা ধারণা পাওয়া গিয়েছে। পরবর্তী বইতে হয়তো আরো ভালোভাবে তুলে ধরা হবে।

প্রোডাকশন:
চিরকুটের প্রোডাকশন নিয়ে কথা বলার তেমন প্রয়োজন পড়ে না। সবাইই বুঝেন সেটা। বইয়ে সম্পাদনাজনিত কিছু বানান ভুল ছিল। ‘সূক্ষ্ণ’,‘দৃষ্টতা’ এরকম।আশা করি পরবর্তী সংস্করণে ঠিক করে নেওয়া।
প্রোডাকশন এবং দাম দুটোই বেশ সন্তোষজনক।
জুলিয়ান সাহেবের করা প্রচ্ছদটা যাস্ট ওয়াও। সংগ্রহে থাকা সেরা প্রচ্ছদগুলোর একটা এটা। খুবই সুন্দর হয়েছে।

মাইনর প্লটহোল (না পড়াই বেটার):
১.রেহানকে শ'টাবায়ের হাত থেকে ক্যাডমায়েল যখন বাঁচাতে যায় তখন সে পানিকে গরম করে ফেলে। পানি ফুটতে শুরু করে। এতে শ'টাবায় পালালেও রল
রোহানের শরীরে কোনো প্রভাব পড়েনি কেন? অত্যধিক তাপে রোহানের শরীরেও তো প্রভাব পড়বার কথা,তাই না?
২.ক্যাডমায়েল পানিকে গরম করে রোহানকে বাঁচালেও শেষ ইটজেলের সাথে লড়ার সময় পানিতে নিজের প্রভাব বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়। ইন ফ্যাক্ট একরকম অক্ষম হয়ে পড়ে। ব্যাপারটা সাংঘর্ষিক মনে হয়েছে।
৩.ইটজেলের আঘাতে শ'টাবায় ইয়েমিনকে ছেড়ে পালালেও শেষে চারজন মিলেও ওকে থামাতে পারে না। হ্যাঁ,নিজের ভালোবাসার জন্য হিংস্র হয়ে ওঠে সে। কিন্ত সেরকম কিছুই লেখক বর্ণনা করেননি।(শেষ)

মূলত আরেকটু ভালোভাবে বর্ণনা করলেই এই ছোটোখাটো ভুলগুলো থাকতো না।

পরিশেষে:
কিছু প্রশ্নের উত্তর রয়ে গেছে। সেগুলো পাওয়ার অপেক্ষায় রইলাম। খুব সুন্দর একটি বই ❝মাদার ন্যাচার❞। নতুন কিছু ট্রাই করতে চাইলে পড়ে দেখতে পারেন।

বই:মাদার ন্যাচার(মাদার ন্যাচার#১)
লেখক:আশরাফুল সুমন
প্রকাশনী:চিরকুট
পৃষ্ঠা:২৮৮
মুদ্রিত মূল্য:৩৫০ টাকা
প্রচ্ছদ:জুলিয়ান
জনরা:হাই/এপিক ফ্যান্টাসী
রেটিং:৪.২৫/৫
Profile Image for Tusar Abdullah  Rezbi.
Author 11 books55 followers
May 10, 2022
#পাঠক_অনুভূতি
#স্পয়লার_ফ্রি
#মাদার_ন্যাচার

সত্যি আর এক কথায় বলতে গেলে, বইটার গল্প মাথায় এখনো ঘুরছে। দারুণ একটা গল্প পড়েছি, উপভোগ করেছি। ‌"মাদার ন্যাচার" নিয়ে যখন রিভিউ চোখে পড়ছিল বা যতবার রিভিউগুলো আসছিল, প্রায় ততবারই আগ্রহ হারাচ্ছিলাম। কিন্তু ফ্যান্টাসি গল্প বলে আগ্রহ কিছুটা হলেও আগ্রহ থেকেই যেত। অবশেষে, সংগ্রহ করলাম আর পড়লাম। পড়ে একটা বিষয় বুঝতে পারলাম, রিভিউ দেখে বইয়ের লেখার মান বিচার করা ঠিক না। একদম যে ঠিক না তাও না। তবে সবসময় রিভিউ দেখে বইকে জাজ না করে, নিজে কিনে দেখে পড়া উচিত। ভালো হোক বা মন্দ। নিজে না পড়লে বিচার করা যায় না। এই গল্পে লেখক যেভাবে গল্পটাকে সাজিয়েছে দেখে মনে হয়নি কোনো বিষয়ে কমতি থাকতে পারে বা আছে। হ্যাঁ, আছে তবে সেটা বর্ণনাতে। কয়েকজায়গায় মনে হয়েছে বর্ণনা বাড়ালে ভালো লাগত। কোনো বই ভুলের উর্ধ্বে নয়। ভুল আছে কিছু। সেগুলো তেমন মনোযোগ দিয়ে না পড়লে বোঝা যায় না। লেখকের লেখায় কমতি নেই বললেই চলে।আমার শুরুতে কিছু বিষয় বুঝতে কষ্ট হয়েছিল। যেহেতু আমি ফ্যান্টাসি পাঠক হিসাবে নতুনই বলা চলে, সেহেতু ওই বিষয়গুলো নিয়ে জেনেছি। পরবর্তী মনে হয়েছে, আরেহ! এত সহজ বিষয় বুঝতে পারলাম না!
যাই হোক লেখকের বর্ণনা ভঙ্গি + লেখন কৌশলও বেশ ভালো। লেখকের এমন বর্ণনার ফলে মনে হচ্ছিল চোখের সামনে সব ভাসছে। বোরিং একদমই লাগেনি। সেই কারণে আরামে পড়ে শেষ করতে পেরেছি। আর একটা কথা, আমার মতামতের সাথে আপনার মতামত নাই মিলতে পারে। আমি উপভোগ করার জন্য পড়ি। গল্পের ভিতরে বিচরণ করতে ভালোবাসি।
Profile Image for Himel Rahman.
Author 7 books45 followers
January 14, 2021
সময়ের সাথে সাথে আরও অনেক ভালো ফ্যান্টাসি লেখা হবে বাংলা ভাষায়। কিন্তু বাংলা ফ্যান্টাসির উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখার কারণে কোনো একদিন হয়তো আশরাফুল সুমনকে আমরা বাংলা ফ্যান্টাসির অগ্রদূত হিসাবে স্মরণ করবো।
Profile Image for Peal R.  Partha.
211 reviews13 followers
January 31, 2022
⚈ স্পয়লার-ফ্রি রিভিউ⚊ ❛মাদার ন্যাচার❜ [৩.৫]

❝আমি...আসলে কৌতূহল কত ভয়ংকর জিনিস তা তো জানো। তুমি জানো এখানে উঁকি দিলে এমন কিছু দেখবে যা দেখে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবে না, এরপরেও উঁকি তুমি দেবেই।❞

অটের (অ্যাটাক অন টাইটান) এরেন-মিকাসা-আরমিন ভার্সনের সামান্য আঁচ যেন ❛মাদার ন্যাচার❜ ইউনিভার্সের রোহান-জেনিফার-ইয়েমিন চরিত্রদের আচরণে পড়তে দেখলাম! খুব বেশি না তবে আরমিন-ইয়েমিন; নাম ও কাম দুটোর মাঝে অনেক মিল। তেমনই মনে হয়েছে আমার। প্রভাবিত বলে একটি অনুভূতি সার্বক্ষণিক আমাদের মস্তিষ্কে জেগে থাকে। লেখক হয়তো সেই অনুভূতি পুঁজি করে নিজের ইউনিভার্সের চরিত্রায়ন করতে চেয়েছেন। তবে এখানে টাইটান-টাইটান খেলা বা ওইরকম কিছুই একেবারে নেই; আছে ইরোয়ান-উরুয়ান খেলা। একটু খোলসা করে বলি। হাতে অফুরন্ত সময় থাকলে তবেই পড়া শুরু করুন।

প্রথমে আমাদের জানতে হবে ❛মাদার ন্যাচার❜ ইউনিভার্স লেখক কীভাব তৈরি করেছেন এবং কোন কোন উপাদান কাজে লাগিয়ে। এটুকু বলছি কারণ বইটির প্রতি যেন আপনার আগ্রহ বজায় থাকে। মৌলিক ফ্যান্টাসি পড়তে সাধারণত পাঠকরা ইতস্তত বোধ করে; রোসবোধহীন এক উপন্যাসের চর্বিতচর্বণের ভয়ে। অভিযোগও থাকে অনুবাদের টোন আর চরিত্রদের দাঁত ভাঙা নামের কারণে। খুব বেশি বাছাই করার মতো মৌলিক ফ্যান্টাসি বই আমাদের দেশে নেই; তাই আগ্রহ জাগে এমন দুয়েক লাইন নিয়ে আলোচনা না করলে বইয়ের ভেতরে কী আছে তা অজানায় থেকে যাবে।

যাহোক, প্লট আর্কিটাইপে ‘ওভারকামিং দ্য মনস্টার’ থিওরি অনুযায়ী কোনো ভয়ানক দানব বা অপশক্তির বিরুদ্ধে গল্পের মূল চরিত্র বা চরিত্রগুলোকে লড়াই করতে দেখা যায়। তাদের উদ্দেশ্য থাকে যে-ভাবেই হোক এগিয়ে আসা দানব থেকে নিজ মাতৃভূমিকে রক্ষা করা। যা, যে-কোনো হাই/এপিক ফ্যান্টাসি গল্পের কমন প্লট হয়ে থাকে। তবে সেটাকে লেখকদ্বয় কীভাবে উপস্থাপনা করছেন; মৌলিকত্ব সেখানেই প্রমাণ হয়। ঠিক তেমনই একটি প্লট নিয়ে লেখা, লেখকের ❛মাদার ন্যাচার❜ উপন্যাসটি। তবে এই উপন্যাস যথাসম্ভব কোনো ট্রিলজি অথবা সিরিজের প্রথম খণ্ড হিসেবে বিবেচিত। মূল লড়াইয়ের পূর্বে যে উপকরণ অর্থাৎ কেন অপশক্তি হামলা করবে, কারা এই আঁধারের বিরুদ্ধে আলোর ঢাল হয়ে দাঁড়াবে, কোন চরিত্র বা চরিত্রগুলো এই দানবকে ধ্বংস করতে সক্ষম হবে—তা নিয়ে মূলত এই উপন্যাস রচিত।

জগৎ নির্মাণের সাধর্ম্য ধারণাতে মূল বিষয়টি কুক্ষিগত করতে সক্ষম হলেও আসল আকর্ষণ নিয়ে এখনও কিছু বলিনি। ঠিক ধরেছেন, উপচার। নতুনত্ব কী আছে এই উপন্যাসে; যা গল্পটি পড়তে আগ্রহ জাগাবে? বলছি, যাতে বইটি পড়া শুরু করার পূর্বে আমার লেখাটি আপনাকে সহযোগিতা করতে পারে।

❛মাদার ন্যাচার❜ উপন্যাসে কয়েকটি পুরাতন জাতির সাথে নতুন জাতির আবির্ভাব ঘটেছে। পুরাতন জাতি বিলুপ্ত প্রায়। তাই নতুনদের নিয়ে কথা বলছি। গ্রিক মিথে অথবা ডিসি ইউনিভার্সের ‘অ্যামাজনের নারী যোদ্ধা’র কথা মনে আছে? সেই নারী যোদ্ধাদের লেখক উক্ত উপন্যাসে ‘ড্রায়াড’ জাতি হিসেবে উপস্থাপন করাছেন। নতুন সংযোজন জন্য জুড়ে দিয়েছেন জাদুর কয়েকটি মিশ্রণ। বর্তমানে ড্রায়াড রানির আসনে অধিষ্ঠিত আছেন থিসিলিয়া। এই ড্রায়াডদের সাথে সাপে নেউলে সম্পর্ক ‘স্যাটার’ জাতির। যারা যুদ্ধবিগ্রহে উন্নত এবং ভালো অস্ত্র বানাতে পারদর্শী। যে পারদর্শিতা এক সময় ‘ডোয়ার্ফ’ জাতির মধ্যে বিদ্যমান ছিল। কিন্তু এই ইউনিভার্সে তারা বিলীন। কেন বিলীন জানা যায়নি। বর্তমানে স্যাটারদের রাজা হচ্ছে—শিভরান।

যা-ই হোক, মূল কাহিনি এই স্যাটার-ড্রায়াড জাতির রহস্যময় এক ঘটনার অন্তর্দ্বন্দ্ব নিয়ে। কী সেটা আপনারা বই পড়ে জানবেন। কাহিনি বা গল্প বলা বইয়ের কাজ, আমার শুধু সেগুলো পরিচিতি করানো।

এই ড্রায়াড-স্যাটার জাতিরা ‘ইরোয়ান’ অর্থাৎ আলোর অধীনে। শুরুতে বলেছিলাম ইরোয়ান-উরুয়ান খেলা নিয়ে। ইরোয়ান আলো হলে, উরুয়ান হচ্ছে অন্ধকার। আমাদের ও পৃথিবীর দিকে যত মহাজাগতিক বিপদ-মহাদুর্যোগ ধেয়ে আসে; সে-সব থেকে রক্ষা কারার দায়িত্বে আছে—ইরোয়ান’রা। তারা আমাদের অভিভাবক। পৃথিবীর চার প্রান্তে এ-রকম চার জন রক্ষক (অভিভাবক) দ্বারা সুরক্ষিত। যখন কোনো উরুয়ান (শয়তান, পিশাচ) অথবা শূন্যগর্ভের দাস (বইয়ের দানব) পৃথিবীকে গ্রাস করতে আসে; এই রক্ষক’রা তখন ইরোয়ানের মাধ্যমে আমাদের বাঁচিয়ে থাকে। যাদের আমরা ভূত বলে অবিশ্বাস করি অথবা চোখের ভুল ভেবে চিহ্নিত করি তারাই হচ্ছে ইরোয়ান! ইন্টারেস্টিং।

যে চারজন রক্ষকের কথা বললাম। যারা আমাদের পৃথিবীর পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর ও দক্ষিণ প্রান্তের সুরক্ষা ঢাল হয়ে দায়িত্ব পালন করে; তাদের একটু পরিচয় করিয়ে দিই।

অ্যাটলা হচ্ছে উত্তরের রক্ষক। একজন নারী; তিনি কোনো কারণে অসুস্থ। তাই বর্তমানে দায়িত্ব পালনে আছে অ্যাটলার ভাই হ্রেইদমার। দক্ষিণের রক্ষক অরিকিলিস। আইন ও অভিশাপের রক্ষক। সর্বস্তরে আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা ওর দায়িত্ব। ক্ষমতাবান আর চতুর। পূর্বে আছে সেখনেখ। একজন নারী; যিনি ভালোবাসা ও সম্পর্কের রক্ষক। বিনয়ী এবং শান্ত। একেবারে শেষে পশ্চিমের রক্ষক ইয়াড্রিচ। মহারানি ঔসিয়ার ভীষণ অনুগত। আর হ্যাঁ, এই মহারানি ঔসিয়া হচ্ছে পুরো ‘কালোসিয়াম’; যেখানে রক্ষক ও ইরোয়ানদের সভা বসে—সেই সভার প্রধান। কফিনে শেষ পেরেক টোকা থেকে সকল আদেশ ও বিচার করার ক্ষমতা যার হাতে। স্বয়ং স্রষ্টা যাকে এই পৃথিবী রক্ষার দায়িত্ব অর্পণ করেছেন।

আরও আছে ‘খাপোরি’। এরা মূলত রক্ষকের—নথি বা স্মৃতি রক্ষার দায়িত্ব পালন করে। এ-ছাড়াও করে সভার শুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, সন্দেহজনক আচরণ এবং দরকারি কথা লেখার দায়িত্ব। খুবই অসহায় এই জাতি। শোষিত আর নির্যাতিত। চার রক্ষকের চার জন খাপোরি রয়েছে। অন্য দিকে ইরোয়ানদের পবিত্র অস্ত্র ‘ইয়ড’ তো আছেই। যা একজন ‘নিমেদ’-ই ব্যবহার করতে পারে। এত কিছু রয়েছে; ডেমিগড তাহলে বাদ যাবে কেন? এই উপন্যাসে ডেমিগড (দেবতা বা দেবীদের সন্তান) ‘রেহালার’ নামে পরিচিত।

‘ইরোয়ান’ থেকে প্রশ্ন আসতে পারে। যদি তারা ভূত হয় অথবা রক্ষক’রা যদি আমাদের সুরক্ষা দিয়ে থাকে তাহলে তাদের কেন আমরা দেখতে পায় না? ওই লুকানো জগৎ আর আমাদের জগতের মাঝে ‘সাহোরাত’ নামের একটি রহস্যময় পর্দার দেওয়াল থাকার কারণে। ওই পর্দার আড়ালের জগতে বসে আমাদের রক্ষা করে যাচ্ছে—মাদার ন্যাচার।

✱ আখ্যানপত্র—

প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির এক সন্ধ্যায় তিন বন্ধু আবিষ্কার করলো, ওদের প্রতিদিনের পরিচিত জায়গাটা এমনভাবে রূপান্তরিত হয়ে গেছে যে দেখে মনে হচ্ছে এই স্থানে আগে কখনোই আসেনি ওরা। যে রাস্তা ধরে প্রতিদিন যাওয়া-আসা করে তারা, সেটা কিছুদূর গিয়েই মিশে গেছে পাহাড়ি মাটির সাথে, আর তার ধারে দেখা দিয়েছে আকাশের বুক ছুঁয়ে দেয়া উঁচু গাছে ভরপুর রহস্যময় এক বনভূমি। বজ্রপাত আর ঝড়ের ক্রুদ্ধ গর্জন ওদের হাতে ঐ বনে প্রবেশ করা ছাড়া আর কোনো উপায় রাখেনি। খুব দ্রুতই ওরা বুঝতে পারলো, এটা কোনো স্বাভাবিক বন নয়। এ বন ভেতরে যাওয়ার উপায় রেখেছে, শুধু রাখেনি বেরোবার পথ। অদ্ভুত এ বন যেন পরিচিত জগতের বাইরে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক জগৎ, যে জগতে গাছেরা ভেঙে পড়ে শব্দহীন কান্নায়, যে জগৎ মানুষের মনের ভেতর উঁকি দিয়ে বের করে আনে তার সবচেয়ে কদাকার রূপকে, যেখানে ঘুরে বেড়ায় ভয়ংকর সব প্রাণী, শুধু পুরাণের বইতেই যাদের দেখা মেলে।

সে জগতে মাকড়সার জালের ন্যায় ছেয়ে আছে কেবল দুটো অনুভূতি—একাকীত্ব ও বিষণ্ণতা।
আর এই সবকিছুর উপরে আছে অন্যকিছু, একটা নাম।

মাদার ন্যাচার।

✱ পাঠ প্রতিক্রিয়া ও পর্যালোচনা—

❛মাদার ন্যাচার❜ উপন্যাস পুরোপুরি উপভোগ করতে চাইলে আপনাকে ধৈর্য ধরে বসতে হবে। ওপরে যে জাতি-রক্ষক-দায়িত্ব নিয়ে ধারণা দিলাম সেটা শুরুর দিকের। সহজে যেন কাহিনির সাথে যোগসাধন করতে পারেন সে-জন্য লেখা। ফ্যান্টাসি নিয়ে কিঞ্চিৎ অনুমান থাকলে; বিষয়টি ধরতে পারবেন।

উপন্যাসের প্লট এবং জগৎ নির্মাণ নিয়ে দুয়েকটা কথা বলি। ‘হ্যারি পটার’ পড়েননি বা নাম শুনেনি এমন পাঠক খুব কমই আছেন। সেই হ্যারি পটারের ‘সেক্লুডেড ওয়ার্ল্ড’ হচ্ছে ফ্যান্টাসির অন্যতম সাব-জনরা। লেখক ❛মাদার ন্যাচার❜ উপন্যাসকে প্রাইমারি ওয়ার্ল্ড (আমাদের পরিচিত পৃথিবী) থেকে সেকেন্ডারি ওয়ার্ল্ডে নিয়ে যাওয়ার সময় ‘সেক্লুডেড’ টার্ম ব্যবহার করেছেন। ভালো এবং প্রশংসনীয়। কিন্তু ‘হাই ফ্যান্টাসি’ ট্যাগ এই উপন্যাসের সাথে সংযুক্ত করতে গিয়ে বিপত্তিটা বাধে। হাই ফ্যান্টাসি; যেখানে ম্যাজিকের সর্বোচ্চ ব্যবহার বা আলাদা কিছু নিয়মের মধ্যে দিয়ে পরিচালিত করতে হয়—উক্ত উপন্যাসে তা উধাও ছিল। সফট ম্যাজিক বলতে ‘আলকেমি’ নিয়ে বলা আর প্রাকৃতিক চারটি এলিমেন্ট থেকে প্রাপ্ত ধারণা থেকে যতটুকু উপভোগ করেছি তা ‘লো ফ্যান্টাসি’র কাতারে পড়ে। অন্য দিকে ‘এপিক ফ্যান্টাসি’ জনরায় ফেলতে হলে যে ওয়ার্ল্ড বিল্ডিংয়ের কাঠামোর প্রয়োজন তা বলতে শুধু একটি ‘রহস্যময় জঙ্গল’। এই জঙ্গলের অবস্থান নিয়ে বলা হলেও, ভূমধ্যসাগরে অবস্থিত থেকে কীভাবে জায়গা পরিবর্তন করে তা বলা হয়নি। শুধু ভেতরের পারিপার্শ্বিক পরিচিত ব্যতীত, এই জঙ্গলের নির্মাণের অতীত অথবা কোনো ব্যাকস্টোরি নিয়ে ধারণা নেই। শুধু একাকিত্ব আর বিষণ্ণতার প্রতীক রূপে এই জঙ্গলের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে। ঠিক এই কারণে ‘এপিক ফ্যান্টাসি’ ট্যাগ দিতেও ঈষৎ না অনেকটাই দ্বিধাবোধ হচ্ছে। আমার মতে পিটার প্যান, নার্নিয়ার মতো ‘পোর্টাল ফ্যান্টাসি’ ��িসেবে আপাতত ঠিকঠাক।

ম্যাজিক সিস্টেম নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই; ইতোমধ্যে ‘লো ফ্যান্টাসি’ ট্যাগ দিয়েছি উক্ত উপন্যাসকে। নামমাত্র যে ঝলক—ফাইটিং সিকোয়েন্সে দেখানো হয়েছে; তার ব্যাপ্তি নিতান্ত কম। তা-ও একই সময়ে দুটো বিশেষ ঘটনার আবর্তিত হওয়ার কারণে; ওই ম্যাজিকের সিকোয়েন্স কিছুটা মঞ্চের আড়ালে চলে গেল বলে মনে হলো।

কাহিনির অন্যান্য বিষয় বলতে গেলে মিথস্ক্রিয়া অথবা অন্তঃকলহ চমকপ্রদ মনে হয়েছে। এই কলহ তিন ভাগে বিভক্ত। একটি সেই কালোসিয়াম সভা, আরেকটি অভিশপ্ত জঙ্গলের চার ইরোয়ানের এবং শেষটি গল্পের প্রাইমারি চরিত্র রোহান-জেনি-ইয়েমিন চরিত্রায়নের মাধ্যমে।

উক্ত উপন্যাস পড়ে যে বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি উপলব্ধি করতে পারবেন; তা হচ্ছে—প্রকৃতির প্রতি করা অবিচারের দণ্ড, ছাত্র রাজনীতির কুফল, শক্ত খোলসের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ভয়, বন্ধুত্বের টানাপোড়েন, অবিশ্বাসের শাস্তি, ভালোবাসা হারানোর তিক্ত অনুভূতি।

কাহিনির শুরুটা হয় উপন্যাসের চৌম্বক একটি অংশের মাধ্যমে। এর পরেই কালোসিয়াম সভার কথোপকথন, তারপরে মূল অংশে। তাই কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে লেখককে সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে আসার সময়টুকু দেওয়ার জন্য।

● সূত্রপাত—

ফেনোলার জাতে একজন ড্রায়াড। বিশ্বাসঘাতক নিমেদ। কোনো এক অজ্ঞাত কারণে অরিকিলিস এসে ফেনোলারের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। ইরোয়ানদের পবিত্র অস্ত্র ইয়ড ডেকে এনেও ফেনোলারের শেষ রক্ষা হয়নি। ওইদিকে কালহেলের হয়েছে এক করুণ পরিণতি, যা করেছে অরিকিলিস। কী সেটা? কালহেল-ই বা কে? ফেনোলারের সাথে কালহেলের কী সম্পর্ক?

কালোসিয়াম সভায় আলোচনা হচ্ছে আগত যুদ্ধ নিয়ে। আঁধার ঘনিয়ে আসছে কারণ বিশ্বতরুর দ্বিতীয় শেকড়ে ইয়োতুনহাইমের যে দ্বার আছে তা দুর্বল হয়ে পড়েছে। প্রতি শতাব্দীতে ইয়োতুনহাইম থেকে কিছু দানব বেরিয়ে এসে পুরো এক গ্রামের সমস্ত মানুষ হত্যা করে। গত শতাব্দীতে তার ব্যত্যয় ঘটেনি। বর্তমানে মুস্পেলহাইম থেকে অগ্নি দানবের বিশাল এক বাহিনী জড়ো করেছে। যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ওরা। অবস্থা খুবই সংকটপন্ন।

রোহান-জেনিফার-ইয়েমিন তিন বন্ধু। হঠাৎ একদিন তারা আবিষ্কার করে, প্রতিদিনের পরিচিত পথ রূপান্তরিত হয়ে বিশাল এক অরণ্যে পরিণত হয়েছে। ফিরে যাওয়ার উপায় নেই, ঢুকতে হবে এই রহস্যময় জঙ্গলের অন্তরালে। তারপর?

রহস্যময় সব ঘটনা, অজানা যত প্রশ্ন। সব রহস্যের সমাধান ও উত্তর খুঁজতে হলে ডুব দিতে হবে ❛মাদার ন্যাচার❜ উপন্যাসের জগতে।

● গল্প বুনট » লিখনপদ্ধতি » বর্ণনা শৈলী—

❛মাদার ন্যাচার❜ উপন্যাসের গল্প বুননের কৌশল আপ টু দ্য মার্ক মনে হয়নি। বেশ কয়েকটি অধ্যায় ছিল দার্শনিক আলাপনে পূর্ণ। কাটছাঁট করার সুযোগ থাকলেও লেখক করেননি। বিস্তারিত বর্ণনা বেশ ছিল। তবে তা সংলাপে পরিপূর্ণ। রিপিটেড হয়েছে এ-রকম সংলাপ ও শব্দের অভাব নেই। মনে হচ্ছে লেখক নতুন কোনো শব্দ যুক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ায় পূর্বের সংলাপ বা শব্দের পুনরাবৃত্তি করেছেন। একই ঘটনার অনুবৃত্তি; আসন্ন টুইস্ট সম্পর্কে ওয়াকিবহাল করে দিচ্ছিল। কিছু অধ্যায়ে মনোযোগ ধরে রাখার জন্য রীতিমতো লড়াই করতে হচ্ছিল। এর কারণ লিখনপদ্ধতি।

বাংলিশ বাদ দিয়ে সাহিত্যিক ধারা বজায় রাখতে লেখককে মাঝেমধ্যে ব্যর্থ হতে হয়েছে। কাহিনির রস আস্বাদন করতে গিয়ে একরোখা পারিপার্শ্বিক বর্ণনার ছোঁয়া বেশি পেয়েছি। যে-সব পাঠকের বাংলা শব্দ ভাণ্ডার দুর্বল; তাঁরা একটু রয়েসয়ে পড়বেন ঘটনাপ্রবাহ বোঝার জন্য। যদি আপনি লেখক কী বোঝাতে আর দেখাতে চাচ্ছে সেগুলো কিছুই না অনুধাবন করতে পারেন; তবে পাঠ বৃথা মনে হতে পারে। আর তখনই আপনি বইটিকে ‘ভালো লাগেনি’ বা ‘ফালতু বই’ হিসেবে ট্যাগ দিয়ে দিবেন। তাই সতর্ক থাকবেন। আমি নিজেই বইটি একদিনে পড়ে শেষ করতে পারতাম কিন্তু পুরো কাহিনি ও লেখকের লেখা ও উদ্দেশ্য বুঝতে তিন দিন খরচ করেছি।

বিবেকের অনেক মারপ্যাঁচ থাকলেও, আবেগকে নাড়া দেওয়ার শক্তি অনেকটা নিষ্ক্রিয় থেকে গেল। কাহিনি ও আনুষাঙ্গিক বিষয় দুটো আলাদা জিনিস। গল্পের বাহ্যিক বিষয় লেখক যতটা সাবলীল বর্ণনাতে বুঝিয়ে দিয়েছেন, কাহিনি ততটা না। অন্তত ‘কুয়াশিয়া স্পেলমেকারের অনুসন্ধান’ বইয়ের থেকে বেটার না। মৌলিক হিসেবে ওই বইটা এখন পর্যন্ত পছন্দনীয় হলেও, ❛মাদার ন্যাচার❜ সেই অনুযায়ী আশানুরূপ হয়নি। কেবল লেখকের চিন্তা ও কাহিনি সাজানো ব্যতীত। লিখনপদ্ধতির জড়তা আর রসকষহীন বর্ণনা অনেকটা আশাহত করেছে। সংলাপে হিউমার, গালাগালি, অনুভূতি ব্যক্ত করার প্রয়াস এসব আপেক্ষিক বিষয়; রসকষহীন বলার কারণ ঐকতান, তরঙ্গায়িত-সহ কয়েকটি শব্দের পুনঃপুন ব্যবহার। সীমাবদ্ধতা।

লেখকের ধারা অনুযায়ী পারফেক্ট হতে পারে, আমার অনুযায়ী না।

● চরিত্রায়ন—

চরিত্রের তালিকা অনেক লম্বা। প্রথম দিন আমি শুধু ৩৮ পৃষ্ঠা পড়েছি লেখক কোন চরিত্র কীভাবে আর কী উদ্দেশে নির্মাণ করেছেন তা জানার জন্য। তা-ও মূল কাহিনি শুরু হওয়ার পূর্বে। বলা ভালো, এত এত চরিত্র থাকার পরেও হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া তেমন কাউকে পছন্দ হয়নি।

চরিত্রায়নের পেছনে বৈশিষ্ট্য এবং ব্যাকস্টোরি পছন্দ হয়েছে। বিশেষ করে জেনিফার ও রোহান চরিত্র আমাদের সমাজে অহরহ। ইয়েমিনও কম যায় না। কূটনৈতিক চালিয়াতচন্দর হিসেবে অরিকিলিস ভালোই খেল দেখিয়েছে। অনুভূতি কমে যাচ্ছে বলে আমার আবেগ তেমন নড়েনি; তবে আপনার বেশি থাকলে নড়ে একেবারে স্থান পরিবর্তন করে ফেলতে সক্ষম হবে।

● অবসান—

ট্রিলজি বা সিরিজের প্রথম বই হিসেবে শেষটা ভালোই লেগেছে। মাঝে কাহিনি ও চরিত্রের মেলবন্ধন ঝড়, উত্থান-পতনের প্রকরণ থাকলে সমাপ্তি সুন্দর। কয়েকটি বিষয় যেমন—বিস্ময়বিমূঢ় অবস্থা ঠিক যেখানে করা দরকার; সেখানে করা হয়নি। এমন কিছু টুকটাক বিষয় পাশে সরিয়ে রাখলে বইটি উপভোগ্য। ফ্যান্টাসি পছন্দ হলে, লেখকের কাজ পূর্বে ভালোবাসলে—পড়ে ফেলতে পারেন।

◆ খুচরা আলাপ—

লেখক বরাবর-ই ধাঁধা প্রিয় মানুষ। ওনার বইতে এই থিমটা বেশ কমন আর ইউনিক। ধাঁধা সমাধান করে অন্যরা যেখানে গুপ্তধন খোঁজে; লেখক সেখানে ধাঁধার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করে।

প্রকৃতি নিয়ে ভাবনা, বর্তমান সমাজের বুলিং-এর চিত্র এবং নারী-পুরুষের বৈষম্য নিয়ে লেখকের ধারণার অনেকটাই এই উপন্যাসে প্রস্ফুটিত হয়েছে। ক্ষমতার ব্যবহার ও অপব্যবহার দুটোর উদাহরণ উক্ত উপন্যাসে পোক্ত। মোদ্দা কথা, উপন্যাসের কনসেপ্ট বেশ পছন্দনীয়।

◆ লেখক নিয়ে কিছু কথা—

লেখকের তিনটি বই ইতোমধ্যে পড়া শেষ। মেটামিকশন জনরার ‘ড্রাগোমির’, হাই/এপিক ফ্যান্টাসি ‘কুয়াশিয়া স্পেলমেকারের অনুসন্ধান’ এবং ❛মাদার ন্যাচার❜। এখন পর্যন্ত আমার পছন্দে কুয়াশিয়া অবশ্যই এগিয়ে থাকবে। তবে ❛মাদার ন্যাচার❜ উপন্যাসের সিক্যুয়েলের জন্য অপেক্ষা করব। তার চেয়েও বেশি রয়েছি কুয়াশিয়ার সিক্যুয়েলের জন্য। আশা করছি দারুণ কিছু পেতে যাচ্ছি। লেখকের জন্য শুভকামনা।

দিনশেষে ফ্যান্টাসি জনরায় দেশিয় প্রেক্ষাপট নির্ভর করে যে কাহিনি তৈরি করেছেন; তার জন্য সাধুবাদ জানাই। প্রকৃতি নিয়ে এবংবিধ দারুণ সব লেখা আরও চাই।

● সম্পাদনা ও বানান—

৭১ পৃষ্ঠায় ‘ডায়াপার পড়তে’ না হয়ে পরতে, ৯১ পৃ: ‘দেয়াল ধ্বংস দিতে পারবে’-এর মাঝে ধ্বংস ‘করে’ হবে। ১৬৬ পৃষ্ঠায় ‘ছটফট করছে ইরোয়ান’-এর পরিবর্তে উরুয়ান-সহ কয়েকটি ত্রুটি লক্ষণীয় ছিল।

গুটি-কে ঘুটি, রূপ-কে রুপ, ভঙ্গি-কে ভঙ্গী বলার মতো বানান ভুলও অনেক ছিল। দেয়া অর্থ মেঘ, দেওয়া অর্থ দিচ্ছে। এই দেয়া-দেওয়া, নেয়া-নেওয়��, দেয়াল-দেওয়াল টাইপের ভুল পুরো উপন্যাসে রয়েছে। আশা করছি পরবর্তী সংস্করণে ত্রুটিবিচ্যুতিগুলো ঠিক হয়ে যাবে।

● প্রচ্ছদ » নামলিপি—

শুধু প্রচ্ছদের জন্য হলেও বইটি সংগ্রহে রাখা যায়। নামের সাথে প্রচ্ছদের সামঞ্জস্যতা অন্য লেভেলের। ফ্রন্ট ও ব্যাক—উভয় পার্টের কারুকাজ মুগ্ধ করার মতোই। নামলিপিও সহনীয় মাত্রায় সুন্দর। প্রচ্ছদ শিল্পীর সেরা কাজের মধ্যে এটি একটি। তবে লেখকের নাম ফ্রন্ট পার্টে থাকা দরকার ছিল। নারী অবয়ব ও মাদার লেখাটির মাঝে ছোট্ট করে হলেও।

● মলাট » বাঁধাই » পৃষ্ঠা—

চিরকুটের প্রোডাকশন নিয়ে কিছু বলার না থাকলেও, এত শক্ত বাঁধাই যে বই খুলেই পড়া যায় না। আঙুল ব্যথা হয়ে যায় শুধু পৃষ্ঠা চেপে ধরে রেখে পড়তে। একটু ছেড়ে দিলে যে পৃষ্ঠা পড়ছি সেটা এলোমেলো হয়ে হারিয়ে যায় অন্য পৃষ্ঠাগুলোর মাঝে। বিরক্তিকর। আশা করছি নতুন বইগুলোয় বাঁধাইয়ের এই সমস্যাটি থাকবে না।

≣∣≣ বই : মাদার ন্যাচার • আশরাফুল সুমন
≣∣≣ জনরা : লো/পোর্টাল ফ্যান্টাসি
≣∣≣ প্রথম প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০২০
≣∣≣ নামলিপি • প্রচ্ছদ : জুলিয়ান
≣∣≣ প্রকাশনা : চিরকুট প্রকাশনী
≣∣≣ মুদ্রিত মূল্য : ৩৫০ টাকা মাত্র
≣∣≣ পৃষ্ঠা : ২৮৮
Profile Image for Masuma Tasnim L.
17 reviews1 follower
October 21, 2020

কাহিনী শুরু হয় ফেনেলোরের এক করুণ দৃশ্য দিয়ে ।ইউনিকর্ণ মারা যাচ্ছে তার সামনে ।সাধারণ মৃত্যু নাকি দূর্যোগের ভবিষ্যত বাণী তা নিয়ে দ্বীধা তার। এরপর তার অরিকিলিসের সাথে খন্ডযুদ্ধ থেকে যুদ্ধ আগমন নিয়ে এক সভার মাধ্যমে এই জগৎ এর দৃশ্যের সমাপ্তি ঘটে। এইটুক পর্যন্ত পড়ে আমি লেখনীর উপর অসন্তুষ্ট ছিলাম। সাবলীলতার অভাব তার সাথে অনেক ক্রিয়েচার বৈশিষ্ট্য, বর্ণনার খুব কম আছে বলে মনে হলো।
এরপর চলে আসে মানুষের সাধারণ জগতে যেখানে দেখায় তিন বন্ধু যারা তিনজন মোরাল,চরিত্রগত দিক থেকে খুব ভিন্ন। রোহান,জেনিফার ও ইয়েমিন।পরিচিত রাস্তা একদিন হঠাৎ বদলে চলে আসলো এক গভীর অরণ্য ।তিনজন হারিয়ে গেল সেই অরণ্যের রহস্যের আর বিপদের বেড়াজালে ।
১৯০ পৃষ্ঠা পর্যন্ত পড়তে অনেকটা কষ্ট হয়েছে লেখায় সাবলীলতা পাইনি স্টোরি বুঝতেই হিমশিন খাচ্ছিলাম। কিন্তু এরপরের বইয়ের এনগেজমেন্ট বাড়তে থাকে ।এপিক ফ্যান্ট্যাসি থেকে মিস্ট্রি সবকিছুই পেয়েছি ।দারুণ লেগেছে শেষটা ।শেষটার জন্য পড়া টা স্বার্থক।
Profile Image for শুভাগত দীপ.
276 reviews43 followers
February 12, 2021
|| রিভিউ ||

বইঃ মাদার ন্যাচার
লেখকঃ আশরাফুল সুমন
প্রকাশকঃ চিরকুট
প্রকাশকালঃ সেপ্টেম্বর, ২০২০
ঘরানাঃ ফ্যান্টাসি থ্রিলার
প্রচ্ছদঃ লর্ড জুলিয়ান
পৃষ্ঠাঃ ২৮৮
মুদ্রিত মূল্যঃ ৩৫০ টাকা
ফরম্যাটঃ হার্ডকভার

কাহিনি সংক্ষেপঃ বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তিন তরুণ-তরুণী ইয়েমিন, রোহান ও জেনিফার একদিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফেরার পথে অদ্ভুত এক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলো। হঠাৎ করেই উল্টেপাল্টে গেলো তাদের পৃথিবী। বদলে গেলো এই তিন বন্ধুর চিরচেনা পথ। পথের মাঝে রাতারাতি জেগে উঠলো অদ্ভুতদর্শন এক বন; যে বনের জন্ম হয়তো ভিন্ন কোন এক জগতে।

বাধ্য হয়েই ইয়েমিন, জেনিফার আর রোহানকে প্রবেশ করতে হলো সেই বনে। বনের গাছগুলোও কেমন যেন বিষাদগ্রস্ত। দেখলে মনে হয়, কাঁদছে। এই বনে ডাকে না কোন পাখি। নিঝুম আর নিস্তব্ধতা ছেয়ে থাকে এর বাতাসে। বনে প্রবেশের পরপরই বিপদে পড়তে হলো ওদেরকে। জীবন্ত লতার দেয়াল উঠলো ওদের সামনে। পেঁচিয়ে মারতে চাইলো ওদেরকে। মায়ার জালে বাঁধা পড়লো রোহান। অনিন্দ্য সুন্দরী এক নারীর পেছন পেছনে বনের আরো গভীরে অগ্রসর হলো সে। জেনিফারের সাথে ভয়াবহ ঝগড়া শুরু হলো রোহানের এটা নিয়ে। দুই বন্ধুর এমন মন কষাকষি আর রহস্যময়ী সেই নারীর পেছনে ছুটে চলা রোহানের মনস্তত্ত্ব ইয়েমিনকে দ্বিধার মধ্যে ফেলে দিলো।

বহুকাল আগে এই বনে আটকা পড়েছিলো চার ইরোয়ান (শুভ শক্তির ধারক)। একসময়ের হরিহর আত্মা এই চার বন্ধুর মধ্যে আজ আর কোন সুসম্পর্ক নেই। বরং একে অপরকে প্রচণ্ড ঘৃণা করে ওরা। ফ্যাবিও, ক্যাডমায়েল, কোলেল ও ইটজেল নামের এই চার বন্ধু বারবার ইয়েমিন, রোহান আর জেনিফারের এই বিপদশঙ্কুল যাত্রায় বারবার নানাভাবে ভূমিকা রাখতে লাগলো। শ'টাবায়ের (ভ্যাম্পায়ার সদৃশ পিশাচ) মতো উরুয়ানের (অশুভ শক্তির ধারক) কবলে পড়ে রোহান যখন মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ ও লজ্জাজনক পরিণতি বরণ করতে চলেছে, ঠিক তখন ওদের সামনে এসে আবির্ভূত হলো ফেনেলোর নামের এক ড্রায়াড মেয়ে। মেয়েটা কথা দিলো, রোহানকে সারিয়ে তুলবে। ওদিকে ফেনেলোরের ডেরার বাইরেই অপেক্ষা করছে এক হিংস্র অতিকায় জন্তু, যার কোন হৃৎপিণ্ড নেই!

যে বন মানুষকে একা করে দেয়, প্রিয়জনদের থেকে আলাদা করে দেয় - সেই বন থেকে বের হওয়ার রাস্তা খুঁজে পাওয়া কি এতোই সহজ? ইরোয়ান আর উরুয়ানদের মধ্যে চলতে থাকা হাজার হাজার বছরের দ্বন্দ্ব কি আবারো নতুন কোন রূপ নিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে? আবারো কি শেকল ভেঙে জেগে উঠবে শুন্যগর্ভের দাস? এই সমস্ত প্রশ্ন ছাপিয়ে আরো একটা প্রশ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠলো সবার সামনে। আর প্রশ্নটা হলো, আসলে কি চান রহস্যময়ী মাদার ন্যাচার?

ইয়েমিন, রোহান আর জেনিফার নিজেদেরকে বাঁচানোর চক্করে নিজেদের অজান্তেই ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হলো। একাকীত্বের স্বরূপ আবিস্কারের মধ্য দিয়ে শুরু ও শেষ হলো দারুণ এক গল্প।

পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ 'মাদার ন্যাচার' যখন শুরু করেছিলাম, তখন আমি ব্যাচেলর। আর যখন শেষ করলাম, ততোদিনে আমি বিবাহিত। তাই এই বইটা যে আমার কাছে বিশেষ একটা বইয়ে পরিণত হয়েছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। যাই হোক, আমি আসলে ফ্যান্টাসি থ্রিলার খুব বেশি পড়ি না৷ কিন্তু আশরাফুল সুমনের এই বইটার প্রতি একটা আগ্রহ কাজ করছিলো এর ব্যাককভারের সিনোপসিস পড়ার পর। তাই শুরু করে দিয়েছিলাম। একদম শুরুর দিকে 'মাদার ন্যাচার'-এর কাহিনি আমার কাছে সামান্য দুর্বোধ্য মনে হচ্ছিলো। সম্ভবত ফ্যান্টাসি সম্পর্কে আমার জ্ঞান সীমিত হওয়ার কারণেই এমনটা মনে হচ্ছিলো। অবশ্য ধীরে ধীরে এই দুর্বোধ্য ভাবটা কাটিয়ে উঠেছিলাম একটা সময়।

ভিন্ন এক জগতে তিন বন্ধুর চমকপ্রদ জার্নির বর্ণনা উঠে এসেছে এই বইয়ে। ইরোয়ান, উরুয়ান, ইলোর, নিমেদ, ইয়ড সহ বিভিন্ন টার্ম তাঁর এই ফ্যান্টাসি থ্রিলারে ব্যবহার করে এটার কাহিনি দাঁড় করিয়েছেন লেখক আশরাফুল সুমন। ফ্যান্টাসি নির্ভর জাদুময় যে দুনিয়া তিনি নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন, সেই উদ্দেশ্যে তিনি সফল আমার মতে। আশরাফুল সুমনের লেখার ধরণ আমার নিজের কাছে বেশ ভালো লেগেছে। 'ড্রাগোমির' আর 'কুয়াশিয়া'-এর মতো বই লিখলেও আমার পড়া এটাই তাঁর প্রথম বই। আমি বেশ ঢিমেতালে পড়ছিলাম জন্য বইটা শেষ করতে একটু বেশিই সময় লেগে গেলো। তবে ফ্যান্টাসি থ্রিলার ঘরানার ভক্তরা বেশ দ্রুতই বইটা শেষ করতে পারবেন ধরলে।

আমাকে যদি প্রশ্ন করা হয়, এক কথায় বলুন কেমন লেগেছে আপনার কাছে 'মাদার ন্যাচার' - তাহলে আমি বলবো, মোটামুটি ভালোই লেগেছে। কারণ, আমি জিরো এক্সপেকটেশনের কাছাকাছি এক্সপেকটেশন নিয়ে বইটা পড়া শুরু করেছিলাম৷ কিছু জায়গায় বেশ কিছু ব্যাপার আমার কাছে ক্লিয়ার হয়নি। যেমন, সিগনি নামের খাপোরি যে স্মৃতিচারণ করছিলো নিজের মধ্যে সেটার সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু লেখেননি লেখক। এমনও হতে পারে, 'মাদার ন্যাচার'-এর কোন সিক��য়েল লেখার পরিকল্পনা আছে তাঁর। সেক্ষেত্রে হয়তো অনেক কিছুই পরিস্কার হয়ে যাবে আগামী বইয়ে।

চিরকুটের প্রোডাকশন বরাবরের মতোই নান্দনিক ছিলো। লর্ড জুলিয়ানের করা প্রচ্ছদ ও নামলিপি অসাধারণ লেগেছে।

ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৩.৫০/৫
গুডরিডস রেটিংঃ ৩.৮৪/৫

#Review_of_2021_6

~ শুভাগত দীপ ~

(১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১; নাটোর)
Profile Image for Mehshan Ul-Islam.
8 reviews17 followers
March 22, 2025
ডায়রিতে অনেক গুলো বইয়ের রিভিউ লিখে রেখেছিলাম যখন পড়েছিলাম বইগুলা। গুড্রিডসে দেওয়া হয় নাই। ২১ সালের পড়া বইয়ের রিভিউ ২৫ সালে দিচ্ছি।
লেখকের কুয়াশিয়া পড়ে যতটুকু মুগ্ধ হয়েছিলাম মাদার ন্যাচার পড়ে ঠিক ততটুকুই হতাশ। তিন মেইন ক্যারেক্টারের একজনকেও অ্যাডাল্ট বলে মনে হয় নাই। সংলাপেও কেমন যেন আর্টিফিশিয়াল সব। মাঝে মাঝে কিছু লেখায় গালি থাকলে রিয়েলিস্টিক একটা ফিল আসে এইখানে হইসে তার উল্টা। মনে হইসে গালি টা রাখার জন্যই ডায়লগ দেওয়া হইসে। বইটায় ভাষাগত দুর্বলতা অনেক। আমাকে যদি কুয়াশিয়া আর মাদার ন্যাচার দিয়ে বলে কোনটা আগে লেখা হইসে আমি বলতাম মাদার ন্যাচার। কিন্তু বাস্তবে হইসে এইখানে উলটা।
এই সব জিনিস বাদ দিলে মাদার ন্যাচার নিশ্চিত ভাবেই ৫ এ ৫ পেত। পরবর্তী বই এর আগে আরেকবার পড়া লাগতে পারে। তাও পরবর্তী বই এর জন্য অপেক্ষা করছি।
Profile Image for Muntasir Nabil.
20 reviews1 follower
November 3, 2020
সত্যি কথা বলতে যদিও বলা হয় Don’t judge a book by its cover, কিন্তু আমি প্রচ্ছদ টা দেখেই বই টা কিনবো ঠিক করি। এরকম মৌলিক ফ্যান্টাসি অবশ্য না পড়েও উপায় নেই।
বই টা কেমন লেগেছে সেটা ভাবতে হলে বইটা ২ ভাগে ভাগ করবো। প্রথম দুই-তৃতীয়াংশ খুব ধৈর্য নিয়ে পড়েছি, ভাষা সাবলীল না হওয়া,বেশ কিছু কঠিন শব্দের কারণে জোর করেই পড়েছি।।
শেষ এক তৃতীয়াংশ খুব ই আগ্রহ জাগিয়েছে। কঠিন শব্দগুলোর সাথে মানিয়ে নিতে পেরেছি, কাহিনীও ভালোই গতি পেয়েছে। এই শেষ অংশের কারণেই বই টা কে একটা ভালো বই বলা যায়, এমন একটা বাংলা ফ্যান্টাসি পড়ে আত্নতৃপ্তি আসে।
রেটিং করতে হলে- ৩.৫/৫ দিবো। আশা করি বই এর সিকুয়্যাল আসবে এবং হলে অবশ্যই অনেক ভালো হবে।
Profile Image for Diganto.
21 reviews3 followers
August 6, 2021
ব্যক্তিগতভাবে আমার ধারণা এই গল্পটার বিস্তৃতি লেখকের মস্তিষ্কে দারুণ হলেও, ছাপায় তা ফুটে ওঠেনি। প্রধান চরিত্রগুলোর ক্যারেক্টারাইজেশন অনেকটাই আরোপিত। অতি নাটুকে ডায়লগ বেশ কিছু ক্লাইম্যাক্স খেলো করে দিয়েছে। টুইস্টগুলোও ছিল প্রেডিক্টেবল। সিরিজের দ্বিতীয় বই কেনার আগে ভাববো, এটা নিশ্চিত।
Profile Image for Tasmin Nisha.
163 reviews6 followers
October 14, 2022
ইয়েমিন,রোহান ও জেনিফার একই বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত তিন বন্ধু। জীবন তাদের স্বাভাবিক ভাবেই চলছিল কিন্তু হঠাৎ একদিন বাড়ি যাওয়ার পথে তিন বন্ধু হারিয়ে যায় এক বনে, তাদের চেনা রাস্তাই তাদের নিজ চোখে এক অপরিচিত বনে রূপান্তরিত হতে থাকে। প্রবেশ করে তারা বিষণ্ণতায় ঘেরা এক বনে যেখানে কোনো সম্পর্কই স্থায়ী হয় না, যেখান থেকে হয়তো মানুষ ফেরতও যেতে পারে না পূর্বের স্বাভাবিক জীবনে। তবে দুর্ঘটনাবশত তারা এই বনে প্রবেশ করেনি বরং তাদের ইচ্ছাকৃতভাবে এখানে প্রবেশ করানো হয়েছে।

বনটিকে ঘিরে রয়েছে উদ্ভট কিছু উদ্ভিদ, ভয়ংকর এক প্রাণী ও রক্ত পিপাসু পিশাচিনী। বনে চারজন পাহারাদার আছেন যাদেরকে ইরোয়ান বলা হয়। এই চারজন ইরোয়ান মিলেই স্বয়ং মাদার নেচার। অন্যদিকে উরুয়ান যাদের শয়তান হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়, তারা সর্বদা মানবজাতির ক্ষতি করার চেষ্টা করলেও ইরোয়ানরা তাদের বাধা দেওয়ার জন্য সর্বদা তৈরি থাকে। আর এই পুরো পৃথিবীর রক্ষক হিসেবে কাজ করেন চারজন রক্ষাকর্তা যারা মহারানি ঔসিয়ার অধীনে। হঠাৎ রক্ষাকর্তারা খবর পান মহা দুর্যোগের যা নিমিষেই পারে পুরো মানবজাতিকে ধ্বংস করতে।

বনে প্রবেশ করে তিন বন্ধু আবিষ্কার করলো অদ্ভুত সব ঘটনা যা মানবজাতির কাছে লুকায়িত বহু বছর ধরে। বনে পা দিয়ে তাদের পড়তে হয় একের পর এক বিপদে। মাদার নেচার কিছু চাচ্ছিল তাদের থেকে , মহা দুর্যোগ থেকে বাঁচানোর পথ যেন তাদের হাতেই ছিল।

সত্যি বলতে বইটা কেনা কেবল এর প্রচ্ছদের জন্য। ভয়ংকর সুন্দর প্রচ্ছদ যেন একেই বলে। বইয়ের চার ইরোয়ান , রক্ষাকর্তাদের আলাপচারিতা, ফেনেলোর ও কালহেলকে ঘিরে অংশগুলো বেশ উপভোগ্য ছিল। অন্যদিকে তিন বন্ধুর আলাপচারিতা চরম মাত্রার বিরক্তির কারণ। একমাত্র ইয়েমিনের চরিত্রকে গল্পে সঠিক জায়গায় মনে হয়েছে , বাকি দুজনকে বেখাপ্পা লেগেছে গল্পে। আর রোহানের মতো নিম্ন মানসিকতার মানুষকে পিশাচিনীর হাতে ছেড়ে দেওয়াই উত্তম ছিল বলে মনে করি। বইটা পড়ে খারাপ লাগেনি কিন্তু এই বই আরো ভালো হতে পারতো।
Profile Image for Maahi Kaniz.
79 reviews12 followers
June 7, 2022
এই বইটা পড়তে যে এত সময় লাগবে তা কখনো ভাবিনি।২৮৮ পৃষ্ঠার একটা বই পড়তে সময় লেগেছে ২মাসেরও বেশি। এরজন্যে অবশ্যই দোষ দিবো লেখকের লেখনীকে।ওনার লেখনী আমার কেনো জানি ভালো লাগেনি নেক্সট টাইম ওনার আর কোনো বই পড়বো নাকি তাও সন্দেহ।আর যদি আসি গল্পের প্লট নিয়ে তাহলে সেটাও ভালো লাগেনি।মানলাম এটা একটা ফ্যান্টাসি বই কিন্তু তারপরও যাচ্ছেতাই একটা প্লট।কাহিনীর কোনো আগামাথা নেই।শেষমেষ বলবো প্লিজ আমার মত সুন্দর কভার দেখে বই কিনবেন না।
Displaying 1 - 18 of 18 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.