প্রায় ১২ বছর ধরে লেখা গল্পগুলি বিষয় বৈচিত্র্যে বহু দূর বিস্তৃত।তাঁর গল্পে আছে শৈশব থেকে বার্ধক্য পর্যন্ত জীবনের নানা সময়ের গভীর অনুভব।স্বপ্ন, হতাশা, বিপন্নতার মর্মস্পর্শী বিষয়। বহু রচনায় আছে শহরতলির নিখুঁত চিত্র। সেখানকার প্রকৃতি; জনজীবন; কৌতুকপ্রদ কিন্তু অক্ষম, স্বার্থপর রাজনীতি; আছে বিগত-যৌবনাদেহ পসারিণীর অসহায়তা; গ্রাম্য চাষির ঋণগ্রস্ত দশা; সরকারি স্বাস্থ্য কর্মী বনাম হাতুড়েদাই – যার মধ্যে ধরে যায় সমাজের অনুপুঙ্খ পরিবর্তন।পারিবারিক জীবনের বহু তিক্ত-মধুরসম্পর্কচিত্রণে ও গল্পগুলি সার্থক। নিরুদ্দেশ স্বামীর জন্য অপেক্ষমান স্ত্রী, সন্তান কামনায় দম্পতির মন্দির যাত্রা, পিতৃ হৃদয়ের সুগভীর স্নেহ, নারী হৃদয়ের অমলিন প্রেম- যা, এমনকী বৃদ্ধ বয়সেও উদ্ভাসিত হয়! এই সংকলনের অন্যতম সম্পদ লেখকের রম্যগল্পগুলি। জীবনের গভীর ও কঠোর সত্যের পাশাপাশি একই মুনশিয়ানায় বোনা আছে মধুর ও হাস্যরসাত্মক কাহিনি।কিছু গল্প পাঠককে বিষণ্ণ করবে, ভিজিয়ে দেবে দুঃখ ও অসহায়তায়। কিন্তু অনেক গল্পই দুঃখহরণ করে উপহার দেবে অনাবিল হাসির সম্ভার।
উল্লাস মল্লিকের জন্ম ১৯৭১ হাওড়া জেলায়, গাছগাছালি দিঘি ঘেরা এক শান্ত গ্রামে।বাবা সমরসিংহ মল্লিক, মা গীতা মল্লিক। একটু বড় হয়ে সপরিবারে চলে আসেন হাওড়া জেলারই আর এক চমত্কার গ্রাম কেশবপুরে।বাবা ছিলেন সেখানকার বিশিষ্ট শিক্ষক। স্নাতক হবার পর শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু।চাকরি ছেড়েছেন; পেশা বদলেছেন।দুষ্টুমির বাল্যকৈশোর, অনিশ্চিত কর্মজীবন, চেনা-অচেনা, ভাল-মন্দ বাছবিচার না করেই মানুষের সঙ্গে মেলামেশা, অদ্ভুত সব ঘটনা আর স্নিগ্ধ প্রকৃতি তাঁর লেখা জুড়ে।মনে আনন্দ আর রসবোধ নিয়েই বেঁচে থাকতে চান। ২০০০ সালে লেখালিখির শুরু।বিভিন্ন বছরে ‘দেশ’ হাসির গল্প প্রতিযোগিতায় বিজয়ী।একডজন উপন্যাস, দেড়শোর বেশি গল্প আর রম্যরচনা লিখেছেন।