What do you think?


রামের সুমতি
নারায়ণী এবং রামের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে রামের সুমতি উপন্যাসের আখ্যান।
32 pages, Hardcover
First published January 1, 1920
About the author
Sarat Chandra Chattopadhyay
284 books991 followersComplete works of Sarat Chandra (শরৎ রচনাবলী) is now available in this third party website:
http://sarat-rachanabali.becs.ac.in/i...
Sarat Chandra Chattopadhyay (also spelt Saratchandra) (Bengali: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) was a legendary Bengali novelist from India. He was one of the most popular Bengali novelists of the early 20th century.
His childhood and youth were spent in dire poverty as his father, Motilal Chattopadhyay, was an idler and dreamer and gave little security to his five children. Saratchandra received very little formal education but inherited something valuable from his father—his imagination and love of literature.
He started writing in his early teens and two stories written then have survived—‘Korel’ and ‘Kashinath’. Saratchandra came to maturity at a time when the national movement was gaining momentum together with an awakening of social consciousness.
Much of his writing bears the mark of the resultant turbulence of society. A prolific writer, he found the novel an apt medium for depicting this and, in his hands, it became a powerful weapon of social and political reform.
Sensitive and daring, his novels captivated the hearts and minds of thousands of readers not only in Bengal but all over India.
Some of his best known novels are Palli Samaj (1916), Charitraheen (1917), Devdas (1917), Nishkriti (1917), Srikanta in four parts (1917, 1918, 1927 and 1933), Griha Daha (1920), Sesh Prasna (1929) and Sesher Parichay published posthumously (1939).
"My literary debt is not limited to my predecessors only. I'm forever indebted to the deprived, ordinary people who give this world everything they have and yet receive nothing in return, to the weak and oppressed people whose tears nobody bothers to notice and to the endlessly hassled, distressed (weighed down by life) and helpless people who don't even have a moment to think that: despite having everything, they have right to nothing. They made me start to speak. They inspired me to take up their case and plead for them. I have witnessed endless injustice to these people, unfair intolerable indiscriminate justice. It's true that springs do come to this world for some - full of beauty and wealth - with its sweet smelling breeze perfumed with newly bloomed flowers and spiced with cuckoo's song, but such good things remained well outside the sphere where my sight remained imprisoned. This poverty abounds in my writings."
http://sarat-rachanabali.becs.ac.in/i...
Sarat Chandra Chattopadhyay (also spelt Saratchandra) (Bengali: শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়) was a legendary Bengali novelist from India. He was one of the most popular Bengali novelists of the early 20th century.
His childhood and youth were spent in dire poverty as his father, Motilal Chattopadhyay, was an idler and dreamer and gave little security to his five children. Saratchandra received very little formal education but inherited something valuable from his father—his imagination and love of literature.
He started writing in his early teens and two stories written then have survived—‘Korel’ and ‘Kashinath’. Saratchandra came to maturity at a time when the national movement was gaining momentum together with an awakening of social consciousness.
Much of his writing bears the mark of the resultant turbulence of society. A prolific writer, he found the novel an apt medium for depicting this and, in his hands, it became a powerful weapon of social and political reform.
Sensitive and daring, his novels captivated the hearts and minds of thousands of readers not only in Bengal but all over India.
Some of his best known novels are Palli Samaj (1916), Charitraheen (1917), Devdas (1917), Nishkriti (1917), Srikanta in four parts (1917, 1918, 1927 and 1933), Griha Daha (1920), Sesh Prasna (1929) and Sesher Parichay published posthumously (1939).
"My literary debt is not limited to my predecessors only. I'm forever indebted to the deprived, ordinary people who give this world everything they have and yet receive nothing in return, to the weak and oppressed people whose tears nobody bothers to notice and to the endlessly hassled, distressed (weighed down by life) and helpless people who don't even have a moment to think that: despite having everything, they have right to nothing. They made me start to speak. They inspired me to take up their case and plead for them. I have witnessed endless injustice to these people, unfair intolerable indiscriminate justice. It's true that springs do come to this world for some - full of beauty and wealth - with its sweet smelling breeze perfumed with newly bloomed flowers and spiced with cuckoo's song, but such good things remained well outside the sphere where my sight remained imprisoned. This poverty abounds in my writings."
Ratings & Reviews
Friends & Following
Create a free account to discover what your friends think of this book!
Community Reviews
Displaying 1 - 30 of 73 reviews
September 29, 2020
মাতৃহীন ১৬ বছরের কিশোর ছোট্ট শিশু রামের সঙ্গে তার ভ্রাতৃবধু নারায়ণীর তিক্ত-মধুর সম্পর্কটি অত্যন্ত মুগ্ধ করেছে। বইটি আরেকটু বড় হলে এবং পাগলা দাশু'র মতো রামের দুরন্তপনার কিছু বিস্তারিত বিবরণ দেয়া থাকলে শরৎবাবুর প্রতি অতিশয় কৃতজ্ঞ থাকতাম!
May 18, 2022
ক্লাস ফোর কি ফাইভে থাকতে "প্রিয় বই" রচনা পড়ার সময় এই বইয়ের সন্ধান পাই। তারপর আম্মুর কালেকশনে খুঁজে দেখি সমগ্রের মধ্যে গল্পটা আছে। মুগ্ধ হয়ে পুরোটা পড়ে ফেলি। রামের সুমতি এতোটাই প্রভাবিত করেছিল যে সমগ্রের আরও কয়েকটা গল্প ও উপন্যাস পড়ে ফেলি।
"রামের সুমতি" দিয়েই শরৎচন্দ্রের লেখার সাথে আমার পরিচয় হয়েছিল। এতো চমৎকার মিষ্টি সম্পর্ক নিয়ে দারুণ লেখনশৈলীর মাধ্যমে লেখক যে গল্পটা বলেছেন বহুদিন মনে রাখার মতো। আর ভালোলাগাটা সারাজীবন থাকার মতো...
"রামের সুমতি" দিয়েই শরৎচন্দ্রের লেখার সাথে আমার পরিচয় হয়েছিল। এতো চমৎকার মিষ্টি সম্পর্ক নিয়ে দারুণ লেখনশৈলীর মাধ্যমে লেখক যে গল্পটা বলেছেন বহুদিন মনে রাখার মতো। আর ভালোলাগাটা সারাজীবন থাকার মতো...
September 11, 2020
যদ্দুর মনে পড়ে শরৎচন্দ্রে হাতেখড়ি হয়েছিল এখানা দিয়েই!
November 13, 2023
নুপুরের সাজেশনে শুনে ফেললাম অডিওস্টোরিটা। মায়ের স্নেহের সামনে যে পাহাড়সম বাধা ধুলোয় মিশিয়ে যায় তার উদাহরণ এই বই। মীর এর টেকে অডিওস্টোরি শুনে মন জুড়িয়ে গেলো। অনেক ভালো লেগেছে।
May 12, 2023
গপ্পো মীরের টেকের সুবাধে এই দারুণ বইটার অডিওবুক শোনা হয়ে গেল।
মাতৃস্নেহের কাছে সবকিছু তুচ্ছ। সবাই তুচ্ছ।
বেশ আবগাপ্লুত করে দেয়া বই।
মাতৃস্নেহের কাছে সবকিছু তুচ্ছ। সবাই তুচ্ছ।
বেশ আবগাপ্লুত করে দেয়া বই।
December 31, 2014
রামের সুমতি আগে কোনো বড়গল্পের সংকলনের মাঝে পড়েছিলাম। কিন্তু বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের এই সংস্করণটি একে উপন্যাস বলছে। অবশ্য কাউকে উপন্যাস বা কাউকে গল্প কেন বলতে হবে পাঠক হিসেবে এ জাতীয় আলোচনায় আমি খুব একটা আগ্রহ পাই না।
রামের সুমতি রাম এবং তার বৌদি নারায়ণীর গল্প। নারায়ণী শুধু নামেই বৌদি, দায়িত্বেও মা, অবস্থানেও মা। সে দস্যি ছেলে রামের মা। কিন্তু সম্পর্কের দৃঢ়তা, এই মমতার বাঁধন বোঝা তো অন্য কারো সাধ্যি নয়। কাজেই ঢুকে যায় তৃতীয়পক্ষ ঘটিত সমস্যা। আর শুরু হয় স্নেহের বাঁধনে টানাপোড়েন। কিন্তু সব কিছুর উপরেই জিতে যায় মমতা, দুটো হৃদয়ের নিখাদ মমতা।
কারো যদি বই পড়ে দু'ফোটা চোখের পানি ফেলার সাধ হয়, তবে এই বইটি পড়তে পারেন। এটা নিয়ে ববিতার একটা সিনেমাও ছিল যতদূর মনে পড়ে। কোনো শুত্রুবারে বিটিভিতে দেখেছিলাম।
বইটি আমাকে এবারও স্পর্শ করেছে এবং ভাল লেগেছে।
রামের সুমতি রাম এবং তার বৌদি নারায়ণীর গল্প। নারায়ণী শুধু নামেই বৌদি, দায়িত্বেও মা, অবস্থানেও মা। সে দস্যি ছেলে রামের মা। কিন্তু সম্পর্কের দৃঢ়তা, এই মমতার বাঁধন বোঝা তো অন্য কারো সাধ্যি নয়। কাজেই ঢুকে যায় তৃতীয়পক্ষ ঘটিত সমস্যা। আর শুরু হয় স্নেহের বাঁধনে টানাপোড়েন। কিন্তু সব কিছুর উপরেই জিতে যায় মমতা, দুটো হৃদয়ের নিখাদ মমতা।
"...সাজানো থালার সুমুখে নারায়ণীর কোলের উপর বসিয়া রাম বুকের মধ্যে মুখ লুকাইয়া আছে, এবং তাহার মাথার উপর, পিঠের উপর, আর একজনের অশ্রু বৃষ্টি ধারার মতো ঝরিয়া পড়িতেছে।"
কারো যদি বই পড়ে দু'ফোটা চোখের পানি ফেলার সাধ হয়, তবে এই বইটি পড়তে পারেন। এটা নিয়ে ববিতার একটা সিনেমাও ছিল যতদূর মনে পড়ে। কোনো শুত্রুবারে বিটিভিতে দেখেছিলাম।
বইটি আমাকে এবারও স্পর্শ করেছে এবং ভাল লেগেছে।
January 2, 2025
আহ। বড়ই মধুর!
Read
December 6, 2022সেই কোন বালিকাকালে বউ হইয়ে বাড়িতে ঢুকেচিল নারায়ণী। দু-আড়াই বৎসরের শিশু রামলালকে নারায়ণীর কোলে দে শাশুড়ি ইহলোক ত্যাগ দিলেন। সে থেকেই রামকে কোলেপিঠে মানুষ করার দায়িত্ব গে পড়লো বৌদি নারায়ণীর উপর। বৌদি নয় একেবারে রামের মা হইয়েই নারায়ণী পালন করচিল রামকে।
দস্যি ছেলে রাম। তার নামে নালিশের শেষ নাই। আজ এ পাড়ায় অনাচিষ্টি করলো তো কাল ও পাড়ায় তান্ডব করে এলো। এই চলচে। নারায়ণী এর ওর নালিশ শুনতে শুনতে অতিষ্ট।
সকলের কাছে দস্যি খ্যাতি পাওয়া রাম বৌদির কতা শুনে বইকি। কিন্তু দস্যিপনা ছাড়ে না। বৌদির জ্বর ভালো হয় না বলে ডাক্তারবাবুকে শাষিয়ে দেয়। আবার বৌদি বকা দেলে গাল ফুলিয়ে চোখ ছলছল করে অভিমানও করে।
এরপর বাড়িতে এলো নারায়ণীর মা দিগম্বরী। দুরন্তপনা আর সকলকে অমান্যি করার মাঝেও সব ঠিক-ই ছিল। কিন্তু দিগম্বরীর আগমনের পর সব একেবারে তালগোল পাকিয়ে গেল। দিগম্বরী দু❜চক্ষে দেখতি পারতো না রামকে। রামও তাই। এই ঐ করে লেগেই থাকতো। সেইটেই বিরাট আকার নিলো একদিন পিয়ারা গাছতে দিগম্বরীর উদ্দেশ্যে ছুঁড়ে দেয়া পিয়ারা নারায়ণীর মাথায় আঘাত করায়। স্বামী শ্যামলাল ঘটনায় ক্ষু ব্দ হইয়ে সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারা করে নারায়ণীকে রামের সাতে কতা না কইবার দিব্যি দে দেলেন।
এবার কী হবে? রাম তার প্রিয় বৌদির সাতে কতা না কয়ে, তার হাতে ভাত না খেয়ে থাকতে পারবে? নারায়ণী পারবে পুত্রসম রামকে এড়িয়ে যেতে?
রামের সুমতি আর কবে হবে?
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
আমিও পড়ে ফেললুম শরৎ বাবুর উপন্যাস (না ছোটো গল্প?) ❛রামের সুমতি❜। ৪৭ পৃষ্ঠার ছোট্ট ক্রাউন সাইজের বইটা পড়তে বেশি সময় লাগে নাই। তবে পুরোটা সময় যাকে বলে ওয়ান্ডারফুল কে টে ছে।
দেবর-বৌদির ভালোবাসার এক গপ্পো। না প্রেম না। শিশুকাল তে দেবরকে মায়ের মমতায় পালন করে আসার অসাধারণ একটি কাহিনি ফেঁদেছেন লেখক।
রামের তার বৌদির প্রতি ভালোবাসা মুগ্ধ করেচে। বৌদিকে অনিচ্ছায় আঘাত করে ফেলার পরে যখন রাম আঘাতটা কেমন কষ্ট দিয়েছে তা পরখ করে দেকতে নিজেকেই একটু আঘাত করচিল এই ব্যাপারটা একেবারে অসাধারণ ছিল।
ছোট্ট বই নিয়ে বেশি কিচু কইতে গেলে তার আকার বইয়ের আকারকেও না ছাড়িয়ে যায় এই সংশয় থাকে। তাই আর কতা না বাড়াই।
শুধু কইবো এই অসাধারণ গপ্পোটির পরিধি আরেকটু বড়ো হইলে পড়তে একটুও খারাপ লাইগতো না যে
দস্যি ছেলে রাম। তার নামে নালিশের শেষ নাই। আজ এ পাড়ায় অনাচিষ্টি করলো তো কাল ও পাড়ায় তান্ডব করে এলো। এই চলচে। নারায়ণী এর ওর নালিশ শুনতে শুনতে অতিষ্ট।
সকলের কাছে দস্যি খ্যাতি পাওয়া রাম বৌদির কতা শুনে বইকি। কিন্তু দস্যিপনা ছাড়ে না। বৌদির জ্বর ভালো হয় না বলে ডাক্তারবাবুকে শাষিয়ে দেয়। আবার বৌদি বকা দেলে গাল ফুলিয়ে চোখ ছলছল করে অভিমানও করে।
এরপর বাড়িতে এলো নারায়ণীর মা দিগম্বরী। দুরন্তপনা আর সকলকে অমান্যি করার মাঝেও সব ঠিক-ই ছিল। কিন্তু দিগম্বরীর আগমনের পর সব একেবারে তালগোল পাকিয়ে গেল। দিগম্বরী দু❜চক্ষে দেখতি পারতো না রামকে। রামও তাই। এই ঐ করে লেগেই থাকতো। সেইটেই বিরাট আকার নিলো একদিন পিয়ারা গাছতে দিগম্বরীর উদ্দেশ্যে ছুঁড়ে দেয়া পিয়ারা নারায়ণীর মাথায় আঘাত করায়। স্বামী শ্যামলাল ঘটনায় ক্ষু ব্দ হইয়ে সম্পত্তি ভাগ-বাটোয়ারা করে নারায়ণীকে রামের সাতে কতা না কইবার দিব্যি দে দেলেন।
এবার কী হবে? রাম তার প্রিয় বৌদির সাতে কতা না কয়ে, তার হাতে ভাত না খেয়ে থাকতে পারবে? নারায়ণী পারবে পুত্রসম রামকে এড়িয়ে যেতে?
রামের সুমতি আর কবে হবে?
পাঠ প্রতিক্রিয়া:
আমিও পড়ে ফেললুম শরৎ বাবুর উপন্যাস (না ছোটো গল্প?) ❛রামের সুমতি❜। ৪৭ পৃষ্ঠার ছোট্ট ক্রাউন সাইজের বইটা পড়তে বেশি সময় লাগে নাই। তবে পুরোটা সময় যাকে বলে ওয়ান্ডারফুল কে টে ছে।
দেবর-বৌদির ভালোবাসার এক গপ্পো। না প্রেম না। শিশুকাল তে দেবরকে মায়ের মমতায় পালন করে আসার অসাধারণ একটি কাহিনি ফেঁদেছেন লেখক।
রামের তার বৌদির প্রতি ভালোবাসা মুগ্ধ করেচে। বৌদিকে অনিচ্ছায় আঘাত করে ফেলার পরে যখন রাম আঘাতটা কেমন কষ্ট দিয়েছে তা পরখ করে দেকতে নিজেকেই একটু আঘাত করচিল এই ব্যাপারটা একেবারে অসাধারণ ছিল।
ছোট্ট বই নিয়ে বেশি কিচু কইতে গেলে তার আকার বইয়ের আকারকেও না ছাড়িয়ে যায় এই সংশয় থাকে। তাই আর কতা না বাড়াই।
শুধু কইবো এই অসাধারণ গপ্পোটির পরিধি আরেকটু বড়ো হইলে পড়তে একটুও খারাপ লাইগতো না যে
September 6, 2024
**রামের সুমতি** শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা একটি কালজয়ী ছোটগল্প, যেখানে রাম নামের এক চঞ্চল, অবাধ্য ছেলের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। সমাজ এবং পরিবারের নিয়ম-কানুনকে অমান্য করে রাম দুষ্টুমি আর খেয়ালিপনায় মত্ত ছিল। তবে গল্পের শেষে, মায়ের পরম স্নেহ আর পরামর্শে তার জীবনে পরিবর্তন আসে। শরৎচন্দ্র অত্যন্ত সুকৌশলে শৃঙ্খলা, মা-বাবার পরামর্শ এবং সমাজের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার গুরুত্বকে উপস্থাপন করেছেন। গল্পটি বাঙালি সমাজের সাধারণ জীবনধারার গভীরতা এবং চরিত্রের গঠনপ্রক্রিয়াকে ছুঁয়ে যায়।
August 10, 2023
মীরদা এই গল্পে প্রাণ সঞ্চার করেছেন। পাঁচ তারার একটা তারা তার জন্যে।
June 17, 2023
নারায়ণীর সাথে বৈমাত্রেয় বড় ভাই শ্যামলালের বিয়ের বছরই, শাশুড়ি তার আড়াই বছরের ছেলে রামকে পুত্রবধূর নারায়ণীর হাতে তুলে দিয়ে পরলোক গমন করেন।
নারায়নী তার দেবর রামকে নিজের ছেলের মতো করে, কোলে নিয়ে লালন করতে থাকেন। রামের বয়স এখন পনেরো-ষোল বছর, দুষ্টুমিও বেড়ে গেছে, পাড়ার লোকেরাও ভয় করতে শুরু করেন। নারায়ণীকে রাম মায়ের মতই ভালোভাসত, এবং ভয় করতো। এভাবেই চলছিল তাদের জীবন।
ঘটনাক্রমে, নারায়ণীর মা দিগম্বরিকে তাদের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হলো। রাম-নারায়ণী'র মধ্যে এত ভালোবাসার সম্পর্ক সে মেনে নিতে পারতেছিল না।তাই বিভিন্ন চক্রান্ত করে তাঁদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানোর চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে।
নারায়নী তার দেবর রামকে নিজের ছেলের মতো করে, কোলে নিয়ে লালন করতে থাকেন। রামের বয়স এখন পনেরো-ষোল বছর, দুষ্টুমিও বেড়ে গেছে, পাড়ার লোকেরাও ভয় করতে শুরু করেন। নারায়ণীকে রাম মায়ের মতই ভালোভাসত, এবং ভয় করতো। এভাবেই চলছিল তাদের জীবন।
ঘটনাক্রমে, নারায়ণীর মা দিগম্বরিকে তাদের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হলো। রাম-নারায়ণী'র মধ্যে এত ভালোবাসার সম্পর্ক সে মেনে নিতে পারতেছিল না।তাই বিভিন্ন চক্রান্ত করে তাঁদের মধ্যে বিচ্ছেদ ঘটানোর চেষ্টা চালিয়ে যেতে থাকে।
October 21, 2024
কৈশোরিক স্মৃতি অংশ এই বই। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বাৎসরিক পরীক্ষা সেরা পাঠকের পুরষ্কার হিসেবে পেয়েছিলাম বই।
সেসময় কি গোগ্রাসে গিলেছিলাম,সেই স্মৃতি এখনো দগদগে। আহা, সেকি ভালো লাগা। যদিও এখন পড়লে কেমন লাগবে জানি না।
সেসময় কি গোগ্রাসে গিলেছিলাম,সেই স্মৃতি এখনো দগদগে। আহা, সেকি ভালো লাগা। যদিও এখন পড়লে কেমন লাগবে জানি না।
February 6, 2025
রামের দস্যিপনা যেমন ভালো লেগেছে, বিরক্ত হয়েছি তেমনি নারায়ণীর বিধবা মায়ের প্রতি। পুরোটা সময় উপভোগ করেছি।
January 1, 2024
তখন আমি মনে হয় ক্লাস থ্রি ফোরে হবো। ইদের ছুটিতে দাদা বাড়ি যাচ্ছি। তখন ট্রেনে উঠে একটাই বায়না থাকতো আব্বুর কাছে গল্পের বই কিনে দেয়ার। "রামের সুমতি" এভাবেই হাতে এলো। এক মলাটে শরৎচন্দ্রের দুটো বড় গল্প।
একটানা পড়ে শেষ করি। রামের জন্য তখন আমার মন কেমন করে। চোখে পানি চলে আসে। তারপরে কতবার যে পড়েছি এটা।
এই গল্প দিয়েই শরৎচন্দ্রের লেখা পড়ার হাতেখড়ি।
আহা কি সব মধুর দিন ছিলো তখন।
একটানা পড়ে শেষ করি। রামের জন্য তখন আমার মন কেমন করে। চোখে পানি চলে আসে। তারপরে কতবার যে পড়েছি এটা।
এই গল্প দিয়েই শরৎচন্দ্রের লেখা পড়ার হাতেখড়ি।
আহা কি সব মধুর দিন ছিলো তখন।
February 6, 2024
কিশোর উপন্যাস
কিশোর রামের প্রতি বৌদি নারায়ণীর যে স্নেহ, মমতা, শাসন। এটাই এ উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু। রাম শত দূরন্তপনা, দুষ্টুমি করলেও বৌদির স্নেহের কমতি ছিল না।
কিন্তু ঝামেলা বাঁধায় নারায়ণীর মা দিগম্বরী৷ রামের পিছনে লেগে থাকে সবসময়। এই হলো কাহিনি।
এই উপন্যাসের নাম বৌদি হলে ভালো হত। বড়দি,মেজদি নামে যেহেতু উপন্যাস আছে। স্টলে বসে বসে পড়ে ফেললাম। কিশোরদের জন্য সুখপাঠ্য হবে বইটি
__
বই : রামের সুমতি
লেখক : শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রকাশনা
পৃষ্ঠা : ৩৮
মূল্য : ১৩০৳
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
কিশোর রামের প্রতি বৌদি নারায়ণীর যে স্নেহ, মমতা, শাসন। এটাই এ উপন্যাসের মূল বিষয়বস্তু। রাম শত দূরন্তপনা, দুষ্টুমি করলেও বৌদির স্নেহের কমতি ছিল না।
কিন্তু ঝামেলা বাঁধায় নারায়ণীর মা দিগম্বরী৷ রামের পিছনে লেগে থাকে সবসময়। এই হলো কাহিনি।
এই উপন্যাসের নাম বৌদি হলে ভালো হত। বড়দি,মেজদি নামে যেহেতু উপন্যাস আছে। স্টলে বসে বসে পড়ে ফেললাম। কিশোরদের জন্য সুখপাঠ্য হবে বইটি
__
বই : রামের সুমতি
লেখক : শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রকাশনা
পৃষ্ঠা : ৩৮
মূল্য : ১৩০৳
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
April 2, 2019
ভদ্রলোক এত ঘ্যানর ঘ্যানর প্যানর প্যানর করেন যে, তাঁর শ্রীকান্ত বাদে কোন লেখাকেই টেনেটুনে ৩ এর বেশি দেয়া যায় না। এটার সঠিক রেটিং আড়াই।
September 14, 2024
আদর একটা বই🥹💌
November 29, 2017
'Ramer Sumati' by Saratchandra Chattapadhay is a hearty life story of Ram & his Brother's wife Narayani who was more appropriate as Ram's mother. The sweet & sour typically Saratchandraish story hits the right chord of our heart. A breezy,nostaljic,feel good piece.. 💖💖
June 9, 2023
ফুপিয়ে ফুপিয়ে কেদেছি শুধু 🥹 শেষটা ছিলো পরিপূর্ণ তৃপ্তি
August 17, 2023
কি অসাধারণ!
October 29, 2023
Nostalgia and Heartbreak. My favorite work of Sarat Dadu.
March 14, 2026
4.5 stars! I am taking 0.5 stars off because I wanted more! Why is this just a short story! This author >>>
January 10, 2026
It was really good
October 29, 2024
বইটা শুরু করার আগে জানতাম না কি ধরনের plot হতে পারে। কিন্তু পড়তে পড়তে মনটা কেড়ে নিল।
রাম একজন মাতৃহারা ছেলে যার দায়ভার স্নেহের সাথে তুলে নিয়েছিল তার সৎ ভাইয়ের নতুন বউ। খুব ভালোবাসতো সে তার দেওরকে। কিন্তু এজন্য কম লোকের কথা শুনতে হয়নি। তবুও ভালোই চলছিল সবকিছু। হঠাৎ করে এই ছোট সংসারটিতে এসে জুটলো নতুন একজন যে বাধা হয়ে দাড়ালো এই মা-তুল্য বৌদি এবং সন্তান-তুল্য দেওরের মমতার সম্পর্কে।
এই ছোট বইটি পড়তে গিয়ে বারবার চোখে কান্না এসেছে। আর জন্মেছে দিগম্বরীর প্রতি আক্ষেপ।
রাম একজন মাতৃহারা ছেলে যার দায়ভার স্নেহের সাথে তুলে নিয়েছিল তার সৎ ভাইয়ের নতুন বউ। খুব ভালোবাসতো সে তার দেওরকে। কিন্তু এজন্য কম লোকের কথা শুনতে হয়নি। তবুও ভালোই চলছিল সবকিছু। হঠাৎ করে এই ছোট সংসারটিতে এসে জুটলো নতুন একজন যে বাধা হয়ে দাড়ালো এই মা-তুল্য বৌদি এবং সন্তান-তুল্য দেওরের মমতার সম্পর্কে।
এই ছোট বইটি পড়তে গিয়ে বারবার চোখে কান্না এসেছে। আর জন্মেছে দিগম্বরীর প্রতি আক্ষেপ।
June 20, 2016
উপন্যাসটা পড়ে আমি নির্বাক হয়ে গেছি। এত অসাধারণ আখ্যান! এই মা কে আমারও মা ডাকতে ইচ্ছে করে, আমারও ভালোবাসা পেতে ইচ্ছে করে।
এই মায়ের জন্য আমারও সব কিছু উজাড় করতে মন চায়।
মাথা নত করছি এই মাতৃত্বের কাছে।
এই মায়ের জন্য আমারও সব কিছু উজাড় করতে মন চায়।
মাথা নত করছি এই মাতৃত্বের কাছে।
September 15, 2023
যার আঁচল দিয়ে এতদিন স্নেহের পরশে ডাকা ছিলো জীবন হঠাৎ করেই যদি সে বদলে যায় খারাপ লাগবে না? কষ্ট হবে না তখন মনে? বুক দিয়ে যে আগলে রাখতো আজ হঠাৎ করেই কেনো সে মুখ ফিরিয়ে নিলো! কেনো আর কাছে যেতে দেয় না। আদর করে খাইয়ে দেয় না। আগের মতো ভালোবাসে না! তাহলে কী কোনো অন্যায় হয়ে গেলো? সত্যি সত্যি সে মুখ ফিরিয়ে নিলো! তাহলে কী হবে!! মা ও তো নেই যে তাঁর বুকের মাঝে গিয়ে অভিমানে দুটো নালিশ করা যাবে।
সে তো ভালোবাসতো, তাহলে আজ হঠাৎ করে এমন নিশ্চুপ হয়ে গেছে কেনো! কষ্ট হচ্ছে যে! বড্ড কষ্ট হচ্ছে! তাঁর কী তবে কষ্ট হয় না? সেকি তাঁর আদরের রামের থেকে দূরে থাকতে পারবে? খুব রাগ দেখানো হচ্ছে তাই না! ভুল করলে কেউ বুঝি এইরকম মুখ ফিরিয়ে নেয়! কাছে যেতে ইচ্ছে করে তো! এই কয়দিন ভালো করে একটু কথাও বললো না। এই শাস্তি যে বড় কষ্ট দিচ্ছে! এর থেকে যদি বৌদি দু ঘা মারতো তাতেও বোধহয় কষ্ট হতো না।
আর ওদিকের গল্প আরো করুণ। বুকের ভেতরটা জ্বলে শেষ হয়ে যাচ্ছে। আদরের সন্তানকে বুকের মাঝে নিতে পারছে না নারায়নী। হ্যা সন্তান, রাম তাঁর গোবিন্দর মতো আরেক সন্তান। কখনো কখনো মাতৃত্বে গোবিন্দকেও ছাপিয়ে যায় এই ভালোবাসা। কিন্তু উপায় যে নেই। এই মুহূর্তে এটা করতেই হবে তাঁকে রামের জন্য।
//কাহিনী সংক্ষেপঃ ভাবছেন ছোট গল্পের কাহিনী সংক্ষেপ বলা যায় না? আসলে কিন্তু বলা যায় পুরোটা গল্পজুড়ে শুধু রাম আর নারায়নী। এটা কোনো আর দশটা সাধারণ গল্প নয়। এটা জীবন থেকে নেয়া বলা যায়। কারণ এমন অপার স্নেহের কথা বিরল নয়। এবং সেখানে স্বার্থের কোনো টান নেই। মায়ের মমতায় বুকে আগলে রাখে নারায়নী দেবর রামকে।
রামলাল ও শ্যামলাল দুই ভাই। বড় ভাই শ্যামলাল গুরুগম্ভীর রাশভারী গোছের মানুষ। একাই দক্ষ হাতে সংসারের হাল ধরেছেন। এবং বেশ কাজের মানুষ। স্ত্রী নারায়নী এবং ছেলে গোবিন্দর সাথে ভাই রামকে নিয়ে তাঁর সংসার। স্ত্রী নারায়নীর উপরে অবশ্য মাঝে মাঝে বিরক্ত হয়। আদর দিয়ে দিয়ে রামের মাথাটা খাচ্ছে একদম।
রামলাল ছোট। ডানপিটে, অবাধ্য স্বভাবের। বৌদির কাছে অবশ্য সুবোধ বালক। বৌদির আদর পেতে ভালো লাগে। বৌদিকে নিয়ে বাজে কথা একদম শুনতে পারে না। পাড়ার ছেলেদের সাথে ঝামেলা লেগেই আছে। আজ একে মারে তো কাল ওকে। বৌদির কাছে সবসময় প্রতিজ্ঞা করে আজকে ভালো ছেলে হয়ে যাবে কিন্তু একটু পরেই প্রতিজ্ঞা ভুলে যায়। রাম জানে বৌদি একটু বকাঝকা করবে কিন্তু একটু পরে আদর করে নিজেই ভাত বেড়ে খাওয়াবে।
নারায়নী এই বাড়ির গিন্নী। সেই ছোট্টবেলায় কতই বা বয়স ছিলো ওর। বউ হয়ে যখন এ বাড়িতে আসে তখন আড়াই বছরের রাম আর সংসার তাঁর হাতে সঁপে দিয়ে শাশুড়ি মারা গেলেন। ওইটুকু রামকে বুকে আগলে রেখে সেই থেকে মানুষ করেছে নারায়নী। বলা যায় রামের আরেক মা সে। বুকের ধনকে তাই নারায়নী বড় যত্নে আগলে রাখে। দেবর নয়। রাম তাঁর নিজের সন্তান। সন্তান যতই দুষ্টু হোক, মা কী তাঁকে কখনো ফেলে দিতে পারে! স্বামী অবশ্য বিরক্ত হয়। তবুও নারায়নীর ভালোবাসা একই রকম আছে।
// ভালোবাসায় যখন বাঁধা এলোঃ
নারায়নীর মা এসে উঠেছেন জামাইবাড়ি। তাঁর নাকি থাকার জায়গা নেই। জামাই শ্যামলালের অবশ্য তাতে আপত্তি নেই কারণ শাশুড়ি তেমন কোনো বাড়তি বোঝা নয়। কিন্তু রামের সাথে বুড়ির ঝামেলা লেগেই আছে। বুড়ি সুযোগ পেলেই খোঁচা দিয়ে কথা বলে আর অবুঝ রাম রেগে তুলকালাম কাণ্ড করে। নারায়নী আবার বুঝিয়ে শান্ত করে।
একদিন রাম বোধহয় কোথাও গন্ডগোল করে এসেছে বুড়ি বাড়ি আসতেই যা তা বলা শুরু করলো। রামের গেলো রাগ বেড়ে। বুড়িকে মারতে গিয়ে সেই আঘাত লাগলো এসে নারায়নীর মাথায়। নারায়নী নিজেও এবার রেগে গেলো। স্বামী তো আছেই। ঠিক করা হলো রামের সাথে আর কোনো সম্পর্ক নেই। সবকিছু ভাগ করে দেয়া হবে।
রাম প্রথমে ভেবেছিল ওকে বোধহয় ভয় দেখানো হচ্ছে। কিন্তু সত্যি সত্যি যখন দেখলো ভাগ করা হয়েছে সে একেবারে ভেঙে পড়লো। বয়স তো বেশি নয়, একা একা তাঁর দমবন্ধ হতে লাগলো। মুখে যতই বড় কথা বলুক মনে মনে তাঁর বৌদির কাছে যাওয়ার জন্য মনটা ছটফট করতে থাকে। আহা! তাঁর বৌদি যে তাঁর মায়েরই আরেক রুপ তাঁর কাছে।
ওদিকে নারায়নী নিজেও যে মরে যাচ্ছে। রামকে ওর বুকের ধন। যাকে সেই ছোট্টবেলা থেকে মানুষ করেছে তাঁকে দূরে রেখে নারায়নীর গলা দিয়েও যে খাবার নামে না। চাকর এসে খবর দিলো রাম ঠিক করে খাচ্ছে না। খাবার ফেরত দিয়েছে তাই নারায়নী নিজেও খাবার ছুঁয়েও দেখেনি।
তাহলে কী এভাবেই চলবে? রাম আর নারায়নী কী এমন আলাদাই থাকবে? দুজনে দুজনকে ছাড়া বাঁচতে পারবে তো? বোধহয় সেই উত্তর শেষ পাতায়।
// পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ
শরৎচন্দ্রের লেখা অনবদ্য এক ছোটগল্প এই রামের সুমতি। এই গল্প নিয়ে যেমন সিনেমা তৈরি হয়েছে বিভিন্ন ভাষায় ঠিক তেমনি এটি আজও কালজয়ী ক্লাসিক বইয়ের সাথে জড়িয়ে আছে।
শরৎচন্দ্রের বিখ্যাত সব লেখার নাম করলে এই লেখার কথা আসবেই। এতো চমৎকার করে লিখেছেন যে বেশ ভালো লেগেছে এবং দারুন লেগেছে শেষের অংশটা।
বিশ্বাস করুন আমি শেষের অংশটার জন্য বোধহয় এই বই দ্বিতীয়বার পড়ার তালিকায় অনায়াসে রাখতে পারি।
কী অসাধারণ সাবলীলভাবে একটা গল্প শোনালেন আমাদের। গল্পটা ভালোবাসার, গভীর আবেগের এবং এই ভালোবাসায় এক রত্তি খাদ নেই। ভালোবাসা কী শুধু এক রুপে পাওয়া যায়?
ভালোবাসার হাজার রুপ আছে। এখানে ফুটে উঠেছে এক সুন্দর রুপ। মাতৃস্নেহ যে কতটা গভীর হতে পারে তা এক দেবরকে সন্তান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে। তাঁর জন্য লড়াই পর্যন্ত করা যায় সবার সাথে। সার্থক ছোটগল্পের তালিকায় রাখবো।
বইয়ের নামঃ "রামের সুমতি"
লেখকঃ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪.৮/৫
সে তো ভালোবাসতো, তাহলে আজ হঠাৎ করে এমন নিশ্চুপ হয়ে গেছে কেনো! কষ্ট হচ্ছে যে! বড্ড কষ্ট হচ্ছে! তাঁর কী তবে কষ্ট হয় না? সেকি তাঁর আদরের রামের থেকে দূরে থাকতে পারবে? খুব রাগ দেখানো হচ্ছে তাই না! ভুল করলে কেউ বুঝি এইরকম মুখ ফিরিয়ে নেয়! কাছে যেতে ইচ্ছে করে তো! এই কয়দিন ভালো করে একটু কথাও বললো না। এই শাস্তি যে বড় কষ্ট দিচ্ছে! এর থেকে যদি বৌদি দু ঘা মারতো তাতেও বোধহয় কষ্ট হতো না।
আর ওদিকের গল্প আরো করুণ। বুকের ভেতরটা জ্বলে শেষ হয়ে যাচ্ছে। আদরের সন্তানকে বুকের মাঝে নিতে পারছে না নারায়নী। হ্যা সন্তান, রাম তাঁর গোবিন্দর মতো আরেক সন্তান। কখনো কখনো মাতৃত্বে গোবিন্দকেও ছাপিয়ে যায় এই ভালোবাসা। কিন্তু উপায় যে নেই। এই মুহূর্তে এটা করতেই হবে তাঁকে রামের জন্য।
//কাহিনী সংক্ষেপঃ ভাবছেন ছোট গল্পের কাহিনী সংক্ষেপ বলা যায় না? আসলে কিন্তু বলা যায় পুরোটা গল্পজুড়ে শুধু রাম আর নারায়নী। এটা কোনো আর দশটা সাধারণ গল্প নয়। এটা জীবন থেকে নেয়া বলা যায়। কারণ এমন অপার স্নেহের কথা বিরল নয়। এবং সেখানে স্বার্থের কোনো টান নেই। মায়ের মমতায় বুকে আগলে রাখে নারায়নী দেবর রামকে।
রামলাল ও শ্যামলাল দুই ভাই। বড় ভাই শ্যামলাল গুরুগম্ভীর রাশভারী গোছের মানুষ। একাই দক্ষ হাতে সংসারের হাল ধরেছেন। এবং বেশ কাজের মানুষ। স্ত্রী নারায়নী এবং ছেলে গোবিন্দর সাথে ভাই রামকে নিয়ে তাঁর সংসার। স্ত্রী নারায়নীর উপরে অবশ্য মাঝে মাঝে বিরক্ত হয়। আদর দিয়ে দিয়ে রামের মাথাটা খাচ্ছে একদম।
রামলাল ছোট। ডানপিটে, অবাধ্য স্বভাবের। বৌদির কাছে অবশ্য সুবোধ বালক। বৌদির আদর পেতে ভালো লাগে। বৌদিকে নিয়ে বাজে কথা একদম শুনতে পারে না। পাড়ার ছেলেদের সাথে ঝামেলা লেগেই আছে। আজ একে মারে তো কাল ওকে। বৌদির কাছে সবসময় প্রতিজ্ঞা করে আজকে ভালো ছেলে হয়ে যাবে কিন্তু একটু পরেই প্রতিজ্ঞা ভুলে যায়। রাম জানে বৌদি একটু বকাঝকা করবে কিন্তু একটু পরে আদর করে নিজেই ভাত বেড়ে খাওয়াবে।
নারায়নী এই বাড়ির গিন্নী। সেই ছোট্টবেলায় কতই বা বয়স ছিলো ওর। বউ হয়ে যখন এ বাড়িতে আসে তখন আড়াই বছরের রাম আর সংসার তাঁর হাতে সঁপে দিয়ে শাশুড়ি মারা গেলেন। ওইটুকু রামকে বুকে আগলে রেখে সেই থেকে মানুষ করেছে নারায়নী। বলা যায় রামের আরেক মা সে। বুকের ধনকে তাই নারায়নী বড় যত্নে আগলে রাখে। দেবর নয়। রাম তাঁর নিজের সন্তান। সন্তান যতই দুষ্টু হোক, মা কী তাঁকে কখনো ফেলে দিতে পারে! স্বামী অবশ্য বিরক্ত হয়। তবুও নারায়নীর ভালোবাসা একই রকম আছে।
// ভালোবাসায় যখন বাঁধা এলোঃ
নারায়নীর মা এসে উঠেছেন জামাইবাড়ি। তাঁর নাকি থাকার জায়গা নেই। জামাই শ্যামলালের অবশ্য তাতে আপত্তি নেই কারণ শাশুড়ি তেমন কোনো বাড়তি বোঝা নয়। কিন্তু রামের সাথে বুড়ির ঝামেলা লেগেই আছে। বুড়ি সুযোগ পেলেই খোঁচা দিয়ে কথা বলে আর অবুঝ রাম রেগে তুলকালাম কাণ্ড করে। নারায়নী আবার বুঝিয়ে শান্ত করে।
একদিন রাম বোধহয় কোথাও গন্ডগোল করে এসেছে বুড়ি বাড়ি আসতেই যা তা বলা শুরু করলো। রামের গেলো রাগ বেড়ে। বুড়িকে মারতে গিয়ে সেই আঘাত লাগলো এসে নারায়নীর মাথায়। নারায়নী নিজেও এবার রেগে গেলো। স্বামী তো আছেই। ঠিক করা হলো রামের সাথে আর কোনো সম্পর্ক নেই। সবকিছু ভাগ করে দেয়া হবে।
রাম প্রথমে ভেবেছিল ওকে বোধহয় ভয় দেখানো হচ্ছে। কিন্তু সত্যি সত্যি যখন দেখলো ভাগ করা হয়েছে সে একেবারে ভেঙে পড়লো। বয়স তো বেশি নয়, একা একা তাঁর দমবন্ধ হতে লাগলো। মুখে যতই বড় কথা বলুক মনে মনে তাঁর বৌদির কাছে যাওয়ার জন্য মনটা ছটফট করতে থাকে। আহা! তাঁর বৌদি যে তাঁর মায়েরই আরেক রুপ তাঁর কাছে।
ওদিকে নারায়নী নিজেও যে মরে যাচ্ছে। রামকে ওর বুকের ধন। যাকে সেই ছোট্টবেলা থেকে মানুষ করেছে তাঁকে দূরে রেখে নারায়নীর গলা দিয়েও যে খাবার নামে না। চাকর এসে খবর দিলো রাম ঠিক করে খাচ্ছে না। খাবার ফেরত দিয়েছে তাই নারায়নী নিজেও খাবার ছুঁয়েও দেখেনি।
তাহলে কী এভাবেই চলবে? রাম আর নারায়নী কী এমন আলাদাই থাকবে? দুজনে দুজনকে ছাড়া বাঁচতে পারবে তো? বোধহয় সেই উত্তর শেষ পাতায়।
// পাঠ প্রতিক্রিয়াঃ
শরৎচন্দ্রের লেখা অনবদ্য এক ছোটগল্প এই রামের সুমতি। এই গল্প নিয়ে যেমন সিনেমা তৈরি হয়েছে বিভিন্ন ভাষায় ঠিক তেমনি এটি আজও কালজয়ী ক্লাসিক বইয়ের সাথে জড়িয়ে আছে।
শরৎচন্দ্রের বিখ্যাত সব লেখার নাম করলে এই লেখার কথা আসবেই। এতো চমৎকার করে লিখেছেন যে বেশ ভালো লেগেছে এবং দারুন লেগেছে শেষের অংশটা।
বিশ্বাস করুন আমি শেষের অংশটার জন্য বোধহয় এই বই দ্বিতীয়বার পড়ার তালিকায় অনায়াসে রাখতে পারি।
কী অসাধারণ সাবলীলভাবে একটা গল্প শোনালেন আমাদের। গল্পটা ভালোবাসার, গভীর আবেগের এবং এই ভালোবাসায় এক রত্তি খাদ নেই। ভালোবাসা কী শুধু এক রুপে পাওয়া যায়?
ভালোবাসার হাজার রুপ আছে। এখানে ফুটে উঠেছে এক সুন্দর রুপ। মাতৃস্নেহ যে কতটা গভীর হতে পারে তা এক দেবরকে সন্তান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে। তাঁর জন্য লড়াই পর্যন্ত করা যায় সবার সাথে। সার্থক ছোটগল্পের তালিকায় রাখবো।
বইয়ের নামঃ "রামের সুমতি"
লেখকঃ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
ব্যক্তিগত রেটিংঃ ৪.৮/৫
August 19, 2025
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছোটগল্প “রামের সুমতি” মূলত দেবর-বৌদির সম্পর্কের এক অনন্য রূপকথা। এখানে বৌদি নারায়ণী শুধু পরিবারের একজন সদস্য নন, বরং রামের কাছে তিনি হয়ে ওঠেন মায়ের মতোই আশ্রয়। ছোট্ট বয়সে রাম যখন মাতৃহারা হয়, তখন নারায়ণীর কোলেই সে মানুষ হয়। সেখান থেকেই তৈরি হয় ভালোবাসা, টান, আবার অভিমানের এক অদ্ভুত মেলবন্ধন।
রামের চরিত্রটি দুরন্তপনা আর বেয়াদপনার মিশ্রণ পাড়ার সবাই তাকে একরকম ভয়ে ভয়ে দেখে। কিন্তু সেই রামই বৌদির কাছে একেবারে ভিন্ন। সে বকুনি খায়, রাগ করে, আবার মুহূর্তে চোখ ভিজিয়ে ফেলে। এমনকি বৌদির অসুখে ডাক্তারকে ধমক দিতে সে পিছপা হয় না। এই টানাপোড়েনেই ফুটে ওঠে তার সরল অথচ গভীর ভালোবাসা।
গল্পে মোড় আসে যখন নারায়ণীর মা দিগম্বরী আসেন। তাঁর সঙ্গে রামের সম্পর্ক একেবারেই উল্টো দ্বন্দ্ব, অশান্তি, বিদ্বেষ। আর সেই বিরোধ একদিন গড়িয়ে পড়ে বিপজ্জনক জায়গায়, যখন রাম দিগম্বরীর উদ্দেশে ছোড়া পেয়ারা ভুল করে বৌদির মাথায় লাগে। এর ফল ভয়াবহ শ্যামলাল রাগ করে সম্পত্তি ভাগ করে দেন এবং রামকে বৌদির সঙ্গে কথা না বলার শাসন দেন।
এখানেই পাঠক টের পান রামের আসল রূপ। শাসন মানা, বৌদির হাতের ভাত ছাড়া থাকা এসব তার পক্ষে অসম্ভব। রাম নিজের দস্যিপনার ভেতর দিয়েই শিখতে শুরু করে মায়া, টান আর দায়িত্ব কী জিনিস। বৌদির কষ্ট সে নিজের শরীরে অনুভব করতে চায়। এখানেই গল্পের নাম “রামের সুমতি” যথার্থ হয়ে ওঠে।
পাঠ প্রতিক্রিয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে
“রামের সুমতি” পড়ে মনে হয়, এটি নিছক দেবর-বৌদির সম্পর্কের গল্প নয়; এটি মমতা ও দায়িত্বের এক জীবন্ত রূপক। নারায়ণীর মাতৃস্নেহ আর রামের দুষ্টুমির মধ্যে দিয়ে যে বন্ধন তৈরি হয়, তা বাংলা সাহিত্যে বিরল। গল্পটি ছোট হলেও তার আবেগ পাঠককে দীর্ঘসময় ছুঁয়ে রাখে। বিশেষ করে রামের আত্মসমালোচনার মুহূর্ত যখন সে নিজের শরীরে আঘাত দিয়ে বৌদির কষ্ট যাচাই করতে চায় তা পাঠকের হৃদয়ে গভীর দাগ কাটে।
শরৎচন্দ্রের কলমে সম্পর্কের এই মমতাময় চিত্রায়ণ সত্যিই অনন্য। হয়তো গল্পটির পরিধি আরও বড় হলে পাঠক আরও তৃপ্ত হতেন, কিন্তু তার সংক্ষিপ্ততাই একে আরও নিখুঁত করেছে।
রামের চরিত্রটি দুরন্তপনা আর বেয়াদপনার মিশ্রণ পাড়ার সবাই তাকে একরকম ভয়ে ভয়ে দেখে। কিন্তু সেই রামই বৌদির কাছে একেবারে ভিন্ন। সে বকুনি খায়, রাগ করে, আবার মুহূর্তে চোখ ভিজিয়ে ফেলে। এমনকি বৌদির অসুখে ডাক্তারকে ধমক দিতে সে পিছপা হয় না। এই টানাপোড়েনেই ফুটে ওঠে তার সরল অথচ গভীর ভালোবাসা।
গল্পে মোড় আসে যখন নারায়ণীর মা দিগম্বরী আসেন। তাঁর সঙ্গে রামের সম্পর্ক একেবারেই উল্টো দ্বন্দ্ব, অশান্তি, বিদ্বেষ। আর সেই বিরোধ একদিন গড়িয়ে পড়ে বিপজ্জনক জায়গায়, যখন রাম দিগম্বরীর উদ্দেশে ছোড়া পেয়ারা ভুল করে বৌদির মাথায় লাগে। এর ফল ভয়াবহ শ্যামলাল রাগ করে সম্পত্তি ভাগ করে দেন এবং রামকে বৌদির সঙ্গে কথা না বলার শাসন দেন।
এখানেই পাঠক টের পান রামের আসল রূপ। শাসন মানা, বৌদির হাতের ভাত ছাড়া থাকা এসব তার পক্ষে অসম্ভব। রাম নিজের দস্যিপনার ভেতর দিয়েই শিখতে শুরু করে মায়া, টান আর দায়িত্ব কী জিনিস। বৌদির কষ্ট সে নিজের শরীরে অনুভব করতে চায়। এখানেই গল্পের নাম “রামের সুমতি” যথার্থ হয়ে ওঠে।
পাঠ প্রতিক্রিয়ার দৃষ্টিকোণ থেকে
“রামের সুমতি” পড়ে মনে হয়, এটি নিছক দেবর-বৌদির সম্পর্কের গল্প নয়; এটি মমতা ও দায়িত্বের এক জীবন্ত রূপক। নারায়ণীর মাতৃস্নেহ আর রামের দুষ্টুমির মধ্যে দিয়ে যে বন্ধন তৈরি হয়, তা বাংলা সাহিত্যে বিরল। গল্পটি ছোট হলেও তার আবেগ পাঠককে দীর্ঘসময় ছুঁয়ে রাখে। বিশেষ করে রামের আত্মসমালোচনার মুহূর্ত যখন সে নিজের শরীরে আঘাত দিয়ে বৌদির কষ্ট যাচাই করতে চায় তা পাঠকের হৃদয়ে গভীর দাগ কাটে।
শরৎচন্দ্রের কলমে সম্পর্কের এই মমতাময় চিত্রায়ণ সত্যিই অনন্য। হয়তো গল্পটির পরিধি আরও বড় হলে পাঠক আরও তৃপ্ত হতেন, কিন্তু তার সংক্ষিপ্ততাই একে আরও নিখুঁত করেছে।
June 18, 2023
ছোটোবেলায় পড়া। ইউটিউবে মির এর চ্যানেলে গপ্প মিরের ঠেকের সৌজন্যে রিভিজিট হয়ে গেল। স্কুলের পাঠ্যবই থেকে অভাগির স্বর্গ , মহেশ পড়ার পরেই শরৎ গল্প সমগ্রে ম্যারাথন দিয়ে অনেক গল্প পড়ে ফেলি। পিছন ফিরে তাকালে মনে পড়ে তখনো এই কিংবদন্তি কথা সাহিত্যিকের লেখা পড়ে ততটাই নাড়া খেতাম যতটা কালকে রাত্রে গপ্প মিরের ঠেকে গল্প শুনতে শুনতে পেলাম। গল্প কথনের খাতিরে সাধু ভাষা থেকে চলিত ভাষায় রূপান্তর করেছেন মির, তবে বাকি গল্পে কোনো পরিবর্তন করেছেন মনে হলো না।
পাঁচ তারা সেই সব বইকেই দিয়ে থাকি যা ব্যক্তি হিসাবে আমাকে নতুন করে চিন্তা করায়। যে গল্পে বারবার ফিরে আসতে ইচ্ছে করে নতুন কিছু আবিষ্কারের জন্যই হোক বা প্রথম পাঠের অনুভূতি ফিরে পেতেই হোক। বারবার যে গল্পের কাছে ফিরে আসতে ইচ্ছে করে সেটাই তো মাস্টারপিস। ধন্যবাদ মিরকে এই মাস্টারপিস নতুন করে পরিবেশন করার জন্য।
পাঁচ তারা সেই সব বইকেই দিয়ে থাকি যা ব্যক্তি হিসাবে আমাকে নতুন করে চিন্তা করায়। যে গল্পে বারবার ফিরে আসতে ইচ্ছে করে নতুন কিছু আবিষ্কারের জন্যই হোক বা প্রথম পাঠের অনুভূতি ফিরে পেতেই হোক। বারবার যে গল্পের কাছে ফিরে আসতে ইচ্ছে করে সেটাই তো মাস্টারপিস। ধন্যবাদ মিরকে এই মাস্টারপিস নতুন করে পরিবেশন করার জন্য।
April 20, 2026
"রামের সুমতি" শরৎ বাবুর খুবই সুন্দর একটা গোছালো চিরায়ত গল্প। গল্পটা রামলাল নামের ডানপিটে, চঞ্চল অথচ আদুরে এক কিশোরের গল্প। সৎভাই শ্যামলাল ও মাতৃসম বৌদি নারয়ণীর সংসারে বেড়ে ওঠা অনাথ রামের দুষ্টুমি ভরা ছেলেমানুষি কাজকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে ওঠা নারয়ণীর আদর-যত্ন ও প্রয়োজনীয় শাসনের মধ্য দিয়ে কীভাবে রামের সুমতি ঘটে তারই নাতিদীর্ঘ বর্ণনা করেছেন শরৎচন্দ্র। চট্টপাধ্যায়।
গল্পে রামের প্রতি নারায়ণীর অকৃত্রিম ভালোবাসা ও স্নেহ-মমতা বড় সচ্ছতার সাথে তুলে ধরা হয়েছে। বইটার সাথে সময়টা বেশ ভালো কেটেছে। গত রবিবার "কবি নজরুল পাঠাগার" থেকে সংগ্রহ করি। ৩৮ /৪০ পৃষ্ঠার এই ছোট্ট বইটা এক বসায় পড়ে ফেলা যায়। যেকোন বয়সী পাঠক বইটা পড়তে পারে এবং পড়ে বেশ আরাম পাবে।
রেটিং ৪/৫
সংগ্রহে থাকলে পড়ে দেখতে পারেন।
আরজু আহমেদ
গল্পে রামের প্রতি নারায়ণীর অকৃত্রিম ভালোবাসা ও স্নেহ-মমতা বড় সচ্ছতার সাথে তুলে ধরা হয়েছে। বইটার সাথে সময়টা বেশ ভালো কেটেছে। গত রবিবার "কবি নজরুল পাঠাগার" থেকে সংগ্রহ করি। ৩৮ /৪০ পৃষ্ঠার এই ছোট্ট বইটা এক বসায় পড়ে ফেলা যায়। যেকোন বয়সী পাঠক বইটা পড়তে পারে এবং পড়ে বেশ আরাম পাবে।
রেটিং ৪/৫
সংগ্রহে থাকলে পড়ে দেখতে পারেন।
আরজু আহমেদ
June 26, 2026
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘রামের সুমতি’ হলো একান্নবর্তী বাঙালি পরিবারের ভাঙা-গড়া এবং বৌদি-দেওরের মধ্যকার পবিত্র ও নিঃশর্ত স্নেহের এক অপূর্ব দলিল। গল্পের মূল আকর্ষণ রাম—যে ভীষণ দুরন্ত, একগুঁয়ে আর পাড়ামাতানো এক কিশোর, যার সব অবাধ্যতা নিমেষে জল হয়ে যায় তার বড় বৌদি নারায়ণীর মাতৃসম ভালোবাসা আর শাসনের কাছে। সাংসারিক কলহের জেরে একসময় যখন এই দুই প্রাণ আলাদা হয়ে যায়, তখন রামের সেই ছটফটানি এবং এক বখে যাওয়া খামখেয়ালি ছেলের হঠাৎ করে দায়িত্বশীল হয়ে ওঠার রূপান্তরটি পাঠককে ভীষণভাবে আবেগপ্রবণ করে তোলে। অতি সাধারণ গ্রামীণ পটভূমিতে শাসন আর ভালোবাসার সঠিক মিশ্রণ কীভাবে একটি মানুষের মনকে বদলে দিতে পারে, লেখক তা অত্যন্ত দরদ দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন। সব মিলিয়ে, ‘রামের সুমতি’ চোখের জল আর মুখের হাসির এমন এক নিখাদ পারিবারিক ক্লাসিক, যা পড়ার পর মনের ভেতর এক পরম মমতা ও ভালো লাগার রেশ রেখে যায়।
Displaying 1 - 30 of 73 reviews































