এগারোটি কালো কাচের টুকরো— এভাবেই এই বইয়ের গল্পগুলোকে চিহ্নিত করব আমি। এদের মধ্যে বেশ ক'টির সঙ্গে হয়তো আপনাদের আগেই পরিচয় হয়েছে। তাই আগে গল্পগুলোর নাম লিখি। তারা হল~ ১. দৃষ্টি ২. এইট সি ৩. হাত ৪. বাতিঘর ৫. ব্ল্যাক আইল্যান্ড ৬. হোটেল ৭. মণিদীপ ৮. কুল দেওতা ৯. হোম স্টে ১০. রক্তকরবী ১১. তুলিজা ভবানী অলৌকিক, কল্পবিজ্ঞান, ডার্ক ফ্যান্টাসি, মনস্তত্ত্ব... সব মিলিয়ে এই গল্পগুলো নিখাদ ভয়ের অনুভূতিই জাগায়। গল্পের চরিত্র সেই ভয় থেকে কখনও বেরোতে পারে, কখনও পারে না। তবে পাঠক কিন্তু থেকে যান সেখানেই! তাঁর জন্য একটি সুন্দর, গোছানো ঘর সাজিয়ে দেন লেখক— যাতে তিনি সেখানেই থেকে যেতে পারেন... বরাবরের জন্য। বইটা ছোট্ট, পড়তে সময় লাগবে না। অথচ না পড়লে কিন্তু সত্যিই ওই কালো কাচের মধ্য দিয়ে দুনিয়াটা দেখার সুযোগ হারাবেন। এইরকম গল্প বাংলায় খুব বেশি লেখা হয়নি। ভালো-মন্দ যাই লাগুক, এদের না পড়লে কিন্তু লোকসান একেবারে নিশ্চিত। তাই আবারও বলব, সুযোগ পেলে বইটা অবশ্যই পড়ুন।
লেখিকা অনুষ্টুপ শেঠের লেখা আমি প্রথম পড়ি গতবছর বইচই পূজাবার্ষিকীতে...সত্যি বলতে কি তাঁর বলিষ্ঠ লেখনীর জোরে রাজা ভট্টাচার্য বা অভীক সরকারের উপন্যাসদুটি ধরার আগেই তাঁর উপন্যাসটা শেষ করি আর বলাবাহুল্য থমকে যাই শেষাংশে এসে। আজকাল বাংলা সাহিত্যে থ্রিলার পড়তে গিয়ে সত্যি সত্যি দমবন্ধ করা অস্বস্তি খুব কমই হয়...কিন্তু মজার ব্যাপার হল এই লেখাটার ক্ষেত্রে সেটা টের পেয়েছিলাম। অনুষ্টুপদির লেখা আগে না পড়লেও তখনই বুঝে গেছিলাম ইনি জুলিয়াস সিজারের ভাষায় সেই, এলেন দেখলেন জয় করলেন গোত্রের৷ সেই ভরসা থেকেই বন্ধু দেবসেনাপতির থেকে দুদিনের জন্যে ধার চেয়ে দেড়মাস লাগিয়ে দিলাম ফেরত দিতে এই বইটা। মানে...রিভিউ আমি খুব একটা লিখতে পারি না; কিন্তু এক্ষেত্রে মুগ্ধতাটা না জানালে ঠাকুর পাপ দেবে বোধহয়। দেড়মাসে লিখবো লিখবো করেও লিখতে পারিনি তার কারণ ওই ঘোর থেকে বেরোতে পারিনি। প্রথমত, ঋজুদা আমার অন্যতম প্রিয় রিভিউয়ার এবং সাহিত্যিক; তাঁর মুচমুচে স্বাদু গদ্যের ভূমিকাই মন ভরিয়ে দিলো। তারপর ধীরে ধীরে দৃষ্টি, এইট সি, হাত, বাতিঘর, ব্ল্যাক আইল্যান্ড, হোটেল, মণিদীপ, কুল দেওতা, হোম স্টে, রক্তকরবী, তুলিজা ভবানী পরপর গল্পের মধ্যে দিয়ে আতঙ্কের এক অন্য মাত্রা ছুঁয়ে গেল। ঠিক শিউরে ওঠা, রাতে একা বাথরুমে যেতে না পারার ভয় নয়। বরঞ্চ সবার মাঝখানে নাগরিক ভিড়েই যে ভয় শিরদাঁড়া বেয়ে নেমে যায় এ ভয় তেমন ভয়...অর্থাৎ সামনে এসে হাঁউমাঁউখাঁউ করে দেখানো নয়; অলক্ষ্য থেকে ভয়ের লুকোচুরি খেলা যেন। প্রচ্ছদ আমার পছন্দ হয়নি সত্যি বলতে কী, তবে বাকি সব দিক দিয়ে দিদি একেবারে ব্যাটে বলে ছক্কা হাঁকিয়েছেন। দিদির কাছে অনুরোধ রইলো; আরও এমন লেখা আনতে জলদি।
আতঙ্ক মানেই যে ভূত ভয় যক্ষ কঙ্কাল নয় সেটা র উত্তর দিয়েছে এই বই টা, একে বারে নতুন ধরনের বিচিত্র কাহিনী নিয়ে মোট এগারোটি গল্প রয়েছে এই বইতে, যত একে র পর এক গল্প এগিয়েছে গল্পের মান এবং গল্প গুলো আরো অনেক বেশি উচ্চমানের এবং চিত্তাকর্ষক হয়েছে , প্রথম কয়েকটা গল্পে মনে হয়েছে গল্প গুলো প্রকৃত অর্থে সেই ভাবে বিস্তার করতে পারেনি, গল্প গুলোর চরিত্র স্থানকাল আরও বেশি গভীর এবং প্রসারিত হলে ভালো হতো। তবে বেশ কিছু গল্প যেমন কুলদেওতা, রক্তকরবী, তুলিজা ভবানী, বাতিঘর , মনিদিপ বেশ ভালো লেগেছে। সবচেয়ে ভালো লেগেছে, একটা গল্প শেষ হয়েও শেষ হয়নি বেশ কিছু প্রশ্ন রেখে গেছে পাঠক এর উদ্দেশে যেটা ছোট গল্পের সার্থকতা।
Excellent collection of short stories with an ongoing theme of thrill and darkness. Loved the inclusion of Maharashtrian culture throughout the anthology...some stories were hurriedly finished and could have been fleshed out more. A sincere take on terror more than horror.