নাম: The Choice: Even in hell hope can flower
লেখক: Edith Eger
প্রকাশনা: Penguin Random House Uk (2018)
পৃষ্ঠা: 367
মান: ৪.৫/৫.০
ধরন: ইতিহাস
আমি বরাবরই বিল গেটসের বইয়ের রিভিউ এর খুব ভক্ত। এই বইটি উনার রিভিউ থেকে নেয়া। প্রথমত বইটি হচ্ছে একজন মানুষের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সারভাইভ করার সত্যি কাহিনী। লেখিকা Edith Eger পেশায় একজন মনোবিশেষজ্ঞ এবং উনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার নির্যাতনের ক্যাম্প Auschwitz সারভাইভর। Auschwitz হচ্ছে জার্মান নাজী আর্মি দ্বারা পরিচালিত একটি টর্চার ক্যাম্প বা Auschwitz concentration camp নামেই বেশি পরিচিত।
বইটি মূলত চার ভাগে বিভক্ত: প্রিজন, এসকেপ, ফ্রিডম ও হিলিং। বইটির প্রথম ভাগে লেখিকার শৈশবের জীবন, হাসি, আনন্দ, দুঃখ ও প্রেমের বর্ণনা দেয়া খুবই সুন্দরভাবে। বাবা-মা এর মধ্যে সম্পর্ক, নিজের সাথে বাবা-মা এর সম্পর্ক। লেখিকা ছিলেন তিন বোন। বোনদের ইচ্ছে -অনিচ্ছার বর্ণনা; বলা যায় এক কথায় অসাধারণ। লেখিকা ছিলেন ইহুদি। ইহুদি হবার কারণে যে বৈষম্যের শিকার হয়েছে তারও বর্ণনা ছিল।
এরপর শুরু হলো দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সহিংসতা। এই কিশোরী বয়সে জার্মান নাৎসি বাহিনী নিয়ে গেল পুরো পরিবারকে Auschwitz এ। এরপর শুরু হল অমানুষিক নির্যাতনের কাহিনী। আমি মাঝে মাঝে ইহুদিদের বর্তমান দেখে হিটলারের দিকে কিছুটা পক্ষপাতদুষ্টে আক্রান্ত ছিলাম কিন্তু এই নির্যাতনের স্বরূপ দেখে আমি আসলেই হতবাক। এতটুকু নিষ্ঠুর হওয়া কি মানুষের পক্ষে সম্ভব? মা বাবা কে মেরে ফেলা হয় বয়স বেশি বলে। লেখিকা এবং উনার এক বোনকে এক সাথে রাখা হয়। পরবর্তীতে সব বোন এই টর্চার ক্যাম্পের থেকে উদ্ধার পায়। বইয়ে ঐ কনসেনট্রেশন ক্যাম্পের অত্যাচারের যে বর্ণনা দেয়া আছে ওটা শুধু ভিকটিমের পক্ষে অনুধাবন করা সম্ভব।
লেখিকা যখন বাড়ি ফিরে আসে তখন উনি আসলে একটা মানুষের জীবিত কংকাল ছাড়া কিছুই নয়। বইটির পরবর্তী অংশে লেখিকার আবার নিজের জীবনকে ফিরে পাওয়া। স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার যুদ্ধের কথা বর্ণিত আছে। যে মানসিক ট্রমার মধ্যে দিয়ে লেখিকা কে আজীবন চলতে হয় তার বর্ণনা এখানে খুব গুরুত্বের সহকারে দেয়া আছে। লেখিকা পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞান এর উপর ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেন এবং মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত মানুষদের কাউন্সিলিং করেন। ঐ বর্ণনায় বেশ কিছু কেস স্টাডি দেয়া আছে যা পাঠককে অনুধাবন করতে বাধ্য করবে মানসিক নির্যাতন বা সঠিক মানসিক পরিবেশে বড় হতে না পারা কি পরিমাণ প্রভাব সৃষ্টি করে আমাদের সাধারণ জীবনযাপনের ক্ষেত্রে। লেখিকা একময় আবার Auschwitz concentration camp পরিদর্শন করেন শুধুমাত্র নিজের মানসিক ট্রমা থেকে মুক্তি পেতে। লেখিকা বলতে চেয়েছেন আমরা মানসিক নির্যাতন থেকে পালিয়ে বেড়ালে কখনো মুক্তি পাব না বরং আমাদেরকে সেই মানসিক ট্রমার সাথে মুখোমুখি দাঁড়াতে হবে।
আমার পড়া অসাধারণ বইয়ের মধ্যে এটি যুক্ত হয়ে থাকবে।
#ধূসরকল্পনা