আত্মশুদ্ধি নিয়ে সালাফে সালেহীন বা আমাদের পূণ্যবান পূর্বসূরিগণ প্রচুর বইপত্র রচনা করেছেন। অনাগত প্রজন্মের জন্য রেখে গেছেন দিকনির্দেশনা। নিজেদের লব্ধ অভিজ্ঞতাকে কাগজের পাতায় বন্দি করেছেন। যাতে করে চারিত্রিক পরিশুদ্ধির জন্য পথনির্দেশ পেতে তাদের বেগ পেতে না হয়। এই ধরণের একটি আত্মশুদ্ধিমূলক ছোট পুস্তক হচ্ছে ‘উয়ূবুন নাফসি ওয়া মুদাওয়াতুহা'। যার শাব্দিক তরজমা করলে অর্থ দাঁড়ায়- অন্তরের রোগ-বালা ও তার নিরাময়।এই পুস্তিকাটি রচয়িতা হলেন পঞ্চম শতাব্দির বিখ্যাত আলেম আবূ আবদুর রহমান আস-সুলামী রাহিমাহুল্লাহ। যিনি ছিলেন মানুষের অন্তরের রোগ-বালাই ও আত্মিক সমস্যা এবং তার প্রতিকার বিষয়ে একজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তি। তিনি স্বীয় জীবনের সঞ্চিত বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে এটি লিপিবদ্ধ করেন। ফলে এই পুস্তকটিকে মনে করা হয় এই বিষয়ে ‘ অল্প কথায় অধিক ফলপ্রসু ’ একটি রচনা।
ছোটবেলায় দেখতাম স্কুলের মাঠের সামনের রাস্তাটায় বই বিক্রেতারা নিউজপ্রিন্টের ছোট ছোট বই নিয়ে মাদুর বিছিয়ে বসতো। সেখানে হরেক রকম বই থাকতো- কিছু ধাঁধার বই, কিছু ছোট গল্পের বই- কখনো ঈশপের, কখনো কালিদাসের। আরেক রকম বইও সেখানে থাকতো- একটি নির্দিষ্ট কাজের ৫০ কি ১০০টি কৌশল অবলম্বনে একটি বই। একটা নির্দিষ্ট কাজের ওপর কৌশলি হতে এতোগুলো কৌশল কিন্তু কোনো কম কথা নয়!
‘আত্মশুদ্ধি’ এমন এক বই যেখানে আলোচিত হয়েছে প্রায় ৭০টি আত্মিক ব্যাধি এবং সেগুলোর কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক চিকিৎসা। বান্দার নাফস্ তথা অন্তর এমন এক অঙ্গ যার নিয়মিত কুরআনিক পরিচর্যা না করলে স্বভাবতই তা শয়তানের বশবর্তী হয়ে যাবে। প্রায় ১০০০ বছর পূর্বে রচিত এই বইটিতে আপনি এমন কিছু কৌশল খুঁজে পাবেন যা আপনাকে সাহায্য করবে নাফসে আম্মারাকে নাফসুল মুত্বমায়িন্যায় পরিণত করতে।
আবূ আবদুর রহমান আস্-সুলামী রহিমাহুল্লাহ্-র ‘উয়ুবুন নাফসি ওয়া মুদাওয়াতুহা’ নামক গ্রন্থের অনুবাদ ‘আত্মশুদ্ধি’। রচয়িতার পরেও অনুবাদকের কিছু বিশেষ কাজ থাকে তা এই বইটির অনুবাদ থেকেই অনুধাবন করা যায়। উস্তাদ আব্দুল্লাহ্ আল মাসউদ অনূদিত এই বইয়ে শুধু রচয়িতার লেখাকেই ভাষান্তর করা হয়নি বরং কুরআন সুন্নাহ্-র সাথে সামঞ্জস্যতা রেখে, হাদিসের শুদ্ধতা-অশুদ্ধতা যাচাই করে সূত্র প্রদান করা হয়েছে। একজন আত্মসমালোচক পাঠক তাই সহজেই যেমনি নিজের নাফসের ত্রুটি নির্ণয় করতে পারবেন এই বইটি পড়ে, তেমনি রেফারেন্সভিত্তিক সুষ্ঠু অনুবাদের স্বাদ পেয়ে তৃপ্তও হবেন বলে আশা করা যায়।
একদা ইবনু রজব হাম্বলী রহিমাহুল্লাহ্ বলেন, “অন্তর হলো বাদশাহ’র মতো, আর অঙ্গপ্রত্যঙ্গ যেন তার সৈন্য-সামন্ত। বাদশাহ যদি সৎ হয়, তার সৈন্যরা সৎ আদেশপ্রাপ্ত হয় এবং তারা ভালো কাজের আঞ্জাম দেয়। পক্ষান্তরে, বাদশাহ যদি অসৎ হয়, তার আদেশও অসৎ হয়। ফলে অন্যায় আদেশ মান্য করতে গিয়ে সৈন্য-সামন্তও পাপাচারে জড়িয়ে পড়ে।” আল্লাহ্ সুবহানা ওয়া তা'আলা যেন আমাদের সকলকে নাফসুল মুত্বমায়িন্যা রূপে তাঁর কাছে উপস্থিত হবার তাওফিক দান করেন। আমিন।
বইটি পড়ে আমার অনেক ভালো লেগেছে। অনেক মারাত্মক ব্যাধির প্রতিকার পেয়েছি। মারাত্মক ব্যাধি বলতে একজন মুসলিমের মারাত্মক ব্যাধিকে বুঝিয়েছি। ইন শা আল্লাহ্ আজ থেকে বইয়ের লেখাগুলোকে কাজে লাগাতে পারবো। ❤️