মন্দিরের গায়ের ভাস্কর্য এবং শিল্প নিয়ে প্রথম আগ্রহ এবং সচেতনতা জাগে ফেলুদার কৈলাসে কেলেঙ্কারি পড়ে। পরবর্তীতে একই আগ্রহে নারায়ণ সান্যালের ভারতীয় ভাস্কর্যে মিথুন এবং অজন্তা-অপরূপা পড়া হয়েছে। প্রতিটি বইই একটা জিনিস উপলব্ধি করিয়েছে যে শিল্প কতটা মহান এবং কতটা শিল্পীর নিজস্ব অনুভূতির সাথে একীভূত। যৌবনের হাট বলে অভিহিত করেছেন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর কোনারককে৷ মন্দিরের শিল্পকর্মের ব্যাপকতা এই ছোট্ট কথাতেই শালীনভাবে ধরা পড়ে। অরুণ সেনের এই বইটি আসলে প্রতিক্ষণে প্রকাশিত প্রবন্ধেরই বিস্তারিত রূপ। এখানে প্রথমেই লেখকের কোনারক দেখার প্রথম স্মৃতিটা উঠে এসেছে যেটা আবার খুব নাটকীয়ভাবে লেখকের সামনে খুলে দেয় এক নতুন দিগন্ত। পরবর্তীতে কোনারক নিয়ে রীতিমতো গবেষণা করেছেন তিনি। নির্মলকুমার বসু, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বুদ্ধদেব বসু, মারী সিটন প্রত্যেকেই কোনারক গেছেন এবং বিমুগ্ধ হয়েছেন৷ অবনীন্দ্রনাথ এর পরামর্শে জাপানি শিল্পী ওকাকুরা কোনারক দেখতে গেছেন এবং ফিরে এসে বলেছেন সেইবার কোনারক না দেখলে তাঁর ভারতবর্ষে আসাই বৃথা হত। বিষ্ণু দে তাঁর অসংখ্য কবিতায় কোনারক নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। অবন ঠাকুর বা নির্মলকুমার যাত্রাপথের বর্ণনা শুনে একই পথ ধরে যেতে চেয়েছেন বুদ্ধদেব বসুও, চেয়েছেন কোনারকে সূর্যোদয় দেখতে। যদিও ভাগ্যদোষে তা হয়নি! এঁদের ভ্রমণ প্রতিক্রিয়ার চুম্বক অংশ বইটিতে তুলে এনেছেন লেখক। কোনারকের ভাস্কর্য, ইতিহাস এর পাশাপাশি এই অংশগুলোও এই অসম্ভব সুখপাঠ্য বইটির সম্পদ। তবে আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে মারী সিটনের প্রবন্ধটি, যেটার চমৎকার অনুবাদ করেছেন অরুণ সেন৷ পর্নোগ্রাফি আর যথার্থ শিল্পের মধ্যে যে অলঙ্ঘনীয় দূরত্ব তা ঠিক কোথায় সেই পার্থক্যটাই মারী সিটন স্পষ্ট করেছেন তাঁর লেখায়। লেখার পাশাপাশি সত্যজিৎ রায়ের স্কেচগুলো ছিল বাড়তি পাওনা। তবে বইয়ে ব্যবহৃত কোনারক মন্দিরের ছবিগুলো সাদাকালো না হয়ে রঙিন হলে আরেকটু ভালো হত। তবুও কোনারকে একটি মানসভ্রমণ করতে চাইলে অরুণ সেনের এই ছোট বইটি পড়ে নেয়া যেতেই পারে।