Jump to ratings and reviews
Rate this book

দ্য পপার প্রিন্স অ্যান্ড দ্য ইউক্যালিপটাস জিন অ্যান্ড আদার স্টোরিজ

Rate this book
দ্য পপার প্রিন্স অ্যান্ড দ্য ইউক্যালিপটাস জিন
আটাশ বছর বয়স্ক যুবক সালমান। আমেরিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সে। প্রেমিকা সারাকে নিয়ে মোটামুটি সুখের সংসার। কিন্তু তার দাদুর মৃত্যুর খবর আসার সাথে সাথেই হুট করে সব বদলে গেল!
কেন জিনাত মহলের কথা ভাবতেন সালমানের দাদু? আসলেই কি জিনাত মহল একজন মুঘল রাজকুমারী ছিলেন? সত্যিই কি পুরাতন লাহোরের সেই ইউক্যালিপটাস গাছটায় একট জিন থাকতো? কেন সালমানের দাদু আর বাবা কখনোই পাকিস্তানে ফিরে যাননি?
সব রহস্যের সমাধান করতে পাকিস্তান রওনা হলো সালমান...

ইশক

ব্রেন ক্যান্সার ধরা পড়ার পর আম্মার বলা অজস্র গল্পের একটি হলো তারই বোন পারভীন আর এক মিষ্টিআলু বিক্রেতা হাশিমের প্রেমগাঁথা। পুরোনো লাহোর শহরের এক সরু গলির মধ্যে যে ভালোবাসার গাঁথার সূচনা ও সমাপ্তি ঘটেছিল, তা পড়ার পর পাঠক নিজের অজান্তেই একটা অদ্ভুত নস্টালজিক অনুভূতির সাথে পরিচিত হবেন। আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি অসাধারণ এই গল্পটি পড়ার জন্য।

দ্য ভ্যাপোরাইজেশন এনথালপি অব অ্যা পিকিউলিয়ার পাকিস্তানি ফ্যামিলি
প্রেমিকা গুলমিনার মৃত্যুর পর তার ভাই সিদ্ধান্ত নেয়, সে এর পেছনের অর্থটা পাহাড়ে ধ্যান করে বোঝার চেষ্টা করবে। কয়েকবছর পর তারা নিজেও একা হয়ে যাওয়ায় সে সিদ্ধান্ত নেয়, সেও বের হবে সত্যের সন্ধানে। বিজ্ঞান ও ভালবাসার এক অপূর্ব গাঁথা গল্পটি উপমহাদেশের একমাত্র “ব্রাম স্টোকার অ্যাওয়ার্ড” পাওয়া গল্প।

128 pages, Hardcover

First published April 22, 2015

1 person is currently reading
25 people want to read

About the author

Usman T. Malik

55 books110 followers
Usman T. Malik is a Pakistani vagrant camped in Florida. He reads Sufi poetry, likes long walks, and occasionally strums naats on the guitar.

His fiction has won the Bram Stoker Award and been nominated for the Nebula. His stories have appeared or are forthcoming in The Year’s Best Dark Fantasy and Horror, The Year’s Best YA Speculative Fiction, The Best Science Fiction and Fantasy of the Year, Year’s Best Weird Fiction, Tor.com, The Apex Book of World SF, Nightmare, Strange Horizons, and Black Static among other venues. He is a graduate of Clarion West.

In Dec 2014, Usman led Pakistan’s first speculative fiction workshop in Lahore in conjunction with Desi Writers Lounge and Liberty Books.

Ratings & Reviews

What do you think?
Rate this book

Friends & Following

Create a free account to discover what your friends think of this book!

Community Reviews

5 stars
3 (9%)
4 stars
7 (21%)
3 stars
15 (46%)
2 stars
7 (21%)
1 star
0 (0%)
Displaying 1 - 13 of 13 reviews
Profile Image for Shariful Sadaf.
212 reviews106 followers
September 22, 2022
An interesting fantasy story that takes its time setting the scene before it starts to introduce its fantasy elements. The main story is told from the point of view of the grandson, whose grandfather came from Pakistan. Via the story, we learn of the grandfather's past and his relationship with a former Princess who ran a small tea stall at a eucalyptus tree, rumoured to be inhabited by a Jinn from the ancient past.

But tragedy would strike (literally) after a boy gets hurt after a fall from the tree. Amid calls to remove the tree as a menace to the community, it get destroyed by lightning, including the stall and the Princess moves away, while the grandfather gradually migrates to the US after adventures in various other places, gradually losing his memory of events apparently due to senility.

All this sounds like a perfectly normal non-Fantasy story until the second half after the grandfather passes away and the grandson gets possession of his grandfather's hidden diary. In numerous strange entries, he learns the apparent real history of his grandfather and his relationship with the princess. Determined to get to the truth, he journeys back to Pakistan.

And there is where the Fantasy start. For upon finding the original place where the eucalyptus tree used to be, he discovers himself in possession of an ancient artefact that may have come from the dawn of time and space and possessed his grandfather. And now he has to choose what is to become of it.

A well told tale that takes its time building up the story, to immerse the reader in the situation before the fascinating revelation.
Profile Image for Amin Choudhury.
63 reviews
October 13, 2020
জটিল প্লট, কয়েকটি জনরার মিশেল আর খানিকটা বিরক্তিকর বর্ণনাভঙ্গি…

উসমান টি. মালিকের মোট তিনটি গল্প জায়গা পেয়েছে এই বইয়ে। নভেলা 'পপার প্রিন্স এন্ড দ্য ইউক্যালিপটাস জিন' এবং 'ইশক' ও 'দ্য ভেপোরাইজেশন এনথালপি অফ অ্যা পিকিউলার পাকিস্তানি ফ্যামিলি' নামক দু'টি ছোটগল্প। নভেলাটির অনুবাদ করেছেন লুৎফুল কায়সার আর ছোটগল্প দু'টির অনুবাদক বিমুগ্ধ সরকার রক্তিম।

ছোটবেলায় দাদুর কাছে এক অদ্ভুত দুঃখী রাজকুমারীর গল্প শুনেছিলেন আমাদের গল্প কথক সালমান আলি জাইদি। অনেকদিন পরিবার থেকে আলাদা থাকার পর দাদুর মৃত্যুতে যখন নিজের বাড়িতে ফিরে এলো সালমান তখন মৃত দাদুর নানান কাগজপত্রের মধ্যে সেই রাজকুমারীকে নিয়ে কিছু রহস্যের গন্ধ পেলো সে। সেই রহস্য উদঘাটনে যেতো হবে পাকিস্তানে।

মোটামোটি এই হলো গল্পের প্লট। তবে শুনতে সাদামাটা মনে হলেও আসলে গল্পটি অনেক জটিল। কোনো নির্দিষ্ট জনরায় ফেলার মতোও না। এন্ডিং মনমতো হয়নি তবুও বইয়ের সেরা গল্প এটাই ছিলো। যদিও লেখকের বর্ণনাভঙ্গি ভালো লাগেনি। অনুবাদ ভালো ছিলো তুলনামূলক। অন্তত ছোটগল্পের তুলনায়।

'ইশক' গল্পে দেখানো হয়েছে পাকিস্তানের দরিদ্র একটি এলাকার একজন পঙ্গু যুবতী এবং একজন মিষ্টিআলু বিক্রেতার প্রেমকাহিনি। ভালো লাগেনি একদমই। রোমান্সের সাথে লেখক কিছুটা হরর ফিল দিয়েছেন গল্পে। গল্পে কোনো হিডেন মেসেজ থাকলেও থাকতে পারে তবে আমার কাছে একদম সাদামাটা একটা গল্প মনে হয়েছে। অনুবাদও ভালো হয়নি। কাঠখোট্টা অনুবাদ। যদিও শেষের দিকে কিছুটা সাবলীল ছিলো।

তৃতীয় এবং শেষ গল্প শুরু হয় ভাই-বোনের মধ্যে কথোপকথনের মাধ্যমে যেখানে দেখা যায় স্ত্রী হারা একজন স্বামী লোকালয় ছেড়ে চলে যাচ্ছেন। কিছুদিন পর একমাত্র আপনজন মাকে হারিয়ে বোনও অজানার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। শেষমেষ ড্রামাটিক একটা দৃশ্যের অবতারণার মাধ্যমে বেশ স্ট্রং মেসেজ এই গল্পের সমাপ্তি হয়। লেখক এই গল্পে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ এবং ড্রোন হামলাকে নিয়ে চমৎকার একটি প্লট সাজিয়েছেন। তবে আবারো সেই একই কাহিনি। এতো জটিল বানানোর কোনো দরকারই ছিলোনা প্লটকে। অদ্ভুত সব দার্শনিক কথাবার্তা গল্পের ফ্লো নষ্ট করেছে। এ গল্পে এসেও বর্ণনাভঙ্গি পছন্দ হয়নি। এ গল্পের অনুবাদও ভালো লাগেনি। পুরো আক্ষরিক অনুবাদ লেগেছে আমার কাছে। এ গল্পের ইংরেজীটাও পড়েছি। অনুবাদকের দোষ দিয়ে লাভ নেই। আসলে গল্পটাই ভালো লাগেনি আমার।

বেশ আশা নিয়ে বসেছিলাম বাট…
Profile Image for Salma Maliha.
51 reviews16 followers
Read
May 17, 2024
কীর্তনখোলার পাড়ে আমার এক মিষ্টি-হৃদয়ের বাড়ি, তার থেকেই এক ফেব্রুয়ারির সন্ধ্যায় বইটা হাতে পাই আমি।

উপমহাদেশের পশ্চিমাংশের লেখকদের লেখা থেকে কেমন একটা মেটে গন্ধ পাওয়া যায়—শুষ্ক মাটির গন্ধ যেমন। 'দ্য পপার প্রিন্স এন্ড দ্য ইউক্যালিপটাস জিন এন্ড আদার স্টোরিজ', এই বইটার লেখক পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত উসমান টি মালিক—এবং বরাবরের মতোই বইয়ের পুরোটা জুড়ে সেই অদ্ভুত মেটে গন্ধটা আমার নাকে সুড়সুড়ি দিয়ে গেছে। বইটায় মোটে তিনটে গল্প আছে—প্রথমটা গল্পের চেয়ে বেশি উপন্যাসিকা। আর পরের দু'টি গল্পের অনুবাদ তুলে এনে উপন্যাসিকার সাথে জুড়ে এক মলাটে বাঁধাই করেছে ভূমিপ্রকাশ।

লেখকের সম্ভবত ইউক্যালিপটাস গাছের প্রতি বিশেষ দুর্বলতা আছে, প্রতিটা গল্পেই ঝিরঝিরে পাতার এই গাছটাকে কোনো না কোনোভাবে উল্লেখ করেছেন উনি। আর প্রতিটা গল্পের প্রেক্ষাপটই পাকিস্তান, পাকিস্তানের শহর, শহরতলি, লাহোরের কিছু অলি-গলি। গল্পগুলোকে স্পেসিফিক কোনো জনরায় ফেলা যায় কি না, তা নিয়ে এক পশলা তর্ক করাই যায়। এক নিঃস্ব মুঘল রাজপুত্রের আত্মপরিচয় আবিষ্কারের মুহূর্তে মনে হতে পারে ফ্যান্টাসির জগতে চলে এসেছি। আবার 'ইশক'—বইয়ের দ্বিতীয় গল্প—পড়ে মনে হবে এ কোন আধিভৌতিক একটা জগতে এসে পড়লাম! শেষ গল্পটা অদ্ভুত, দুর্বোধ্য কিন্তু উপভোগ্য। পড়তে পড়তে মনে হবে কোনো দুর্বোধ্য সাই-ফাই পড়ছি। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, 'দ্য ভ্যাপরাইজেশন এনথালপি অব আ পিকিউলিয়ার পাকিস্তানি ফ্যামিলি' গল্পটা উপমহাদেশের একমাত্র 'ব্রাম স্টোকার এওয়ার্ড' পাওয়া গল্প! সে অনুযায়ী একে ডার্ক ফ্যান্টাসি বললেও অত্যুক্তি হবে না।

অনুবাদকদ্বয়ের অনুবাদের হাতও বেশ পাকা। সব শেষে একটা ছোট কমপ্লিমেন্ট—সুখপাঠ্য।
রেকমেন্ডেড।
Profile Image for শুভঙ্কর শুভ.
Author 11 books50 followers
October 25, 2020
দ্য পপার প্রিন্স অ্যান্ড দ্য ইউক্যালিপটাস জিন- এটাই ভালো লেগেছে, যদিও এন্ডিং পছন্দ হয় নাই। মানে আরো চাই- এমন অনুভূতি ছিল। তবে এই অনুভূতিকে চাপা দিতে নোভেলারই একটা লাইন যথেষ্ট ছিল- প্রতিটা গল্পই প্রশ্ন রেখে যায়, প্রশ্ন না রাখলে সেটা আবার ভালো গল্প হলো নাকি!
রেটিং- ৩.৫
Profile Image for Jenia Juthi .
258 reviews68 followers
December 20, 2021
প্রথম গল্পট ভালো ছিলো।তবে, এন্ডিং আরও সুন্দর আশা করেছিলাম।
দ্বিতীয় গল্পটাও ভালো ছিলো। তবে পড়তে পড়তে ভয় পাচ্ছিলাম, কিছুটা ভুতুড়ে ভাব ছিলো।
আর তৃতীয় গল্পটা, এতোটাই বিরক্ত লাগছিলো যে পড়ার ইচ্ছাটাই চলে গেছে।
Profile Image for Peal R.  Partha.
211 reviews13 followers
December 18, 2020
⚈ ❝স্পয়লার-ফ্রি❞ রিভিউ—

❝সন্ত্রাসীরা দেশের শত্রু, এদের কোনো ধর্ম নেই!❞

ছোটো মরিচের ঝাল কেমন সেটার ব্যাখা আশা করছি নতুন করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই? এই যে, ভূমিপ্রকাশের বইটা যখন হাতে নিলাম আগ্রহ একেবারে শূন্যতে ছিল। শুরুতে ভালো লাগা কিন্তু শেষে গিয়ে মেজাজ খারাপ হয়ে গেল এ কেমন বই? ওয়েট, সবকিছুকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য ভাবে দেখতে যাওয়াটা উচিত কাজ নয়। উপর থেকে গল্প যতটা সহজ মনে হচ্ছে ভেতরের শব্দের গাঁথুনিতে যে বীজ লেখক বুনন করেছেন সেটার মাহাত্ম্য বুঝতে কিছু তো কাঠখড় পোড়াতে হবে।

উসমান টি. মালিক মূলত পাকিস্তানি লেখক, উনার গল্পের নির্দিষ্ট কোনো জনরা আপনি খুঁজে পাবেন না আমিও পাইনি। তাহলে কেন উনার বইটা একবার হলেও ছেঁকে দেখা উচিত কারণ কিছুটা না অনেকটা বাস্তবতা উনার কল্পনার দুনিয়ার গল্পগুলোর সাথে জড়িয়ে রয়েছে। এই যে ছোটো ছোটো উপন্যাসিকা লিখে এতটা খ্যাতি ছড়িয়েছেন যেটার সাড়া আজ পাঠক মহলে বহাল তবিয়তে আছে। আসলে কী উনার লেখাতে জাদু নামের কিছু ছিল? নাকি সবটাই ভ্রম?

এক মলাটে তিনটে গল্প। একটা উপন্যাসিকা ও দুইটা ছোটো গল্প দিয়ে সাজানো বইতে প্রধান একটি বিষয় বেশ নজর কেড়েছ সেটা হচ্ছে ‘ভালোবাসা।’ অর্থাৎ তিনটে গল্পে এই বিষয়টা লেখক দারুণ ভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন সেই সাথে খানিকটা হরর, ফ্যান্টাসি ও বৈজ্ঞানিক যুক্তির প্রেক্ষিতে অনেক কিছু যুক্ত হয়েছে। অবশ্য ইউক্যালিপটাস গাছের অবদান এই বইতে অসামান্য।
তিনটে গল্পের মধ্যে প্রথম ‘দ্য পপার প্রিন্স অ্যান্ড দ্য ইউক্যালিপটাস জিন’ অনুবাদ করেছেন লুৎফুর কায়সার ও বাকি দুটো ‘ইশক’ এবং ‘দ্য ভ্যাপোরাইজেশন এনথালপি অব অ্যা পিকিউলিয়ার পাকিস্তানি ফ্যামিলি’ অনুবাদ করেছেন বিমুগ্ধ সরকার রক্তিম।

যেহেতু তিনটে গল্প তাই আলাদাভাবে সবগুলোর প্রতিক্রিয়া জানানোর চেষ্টা করবো। তবে প্রথম দুটো গল্প থেকে শেষ গল্পটা কিছুটা দুর্বোধ্য ও জটিল কিসিমের। তবে সেই গল্প যদি বুঝে নিতে পারেন তাহলে এই বইটা পড়া স্বার্থক বলে মনে হবে। আমি নিজেও শেষ গল্পটা দুইবার পড়তে হয়েছে নিঁখুত ভাবে অনুধাবন করার জন্য কারণ অনুবাদে প্রাঞ্জলতার ঘাটতি চোখে পড়েছে।

➲ আখ্যান—

⚈ দ্য পপার প্রিন্স অ্যান্ড দ্য ইউক্যালিপটাস জিন

আটাশ বছর বয়স্ক যুবক সালমান। আমেরিকার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সে। প্রেমিকা সারাকে নিয়ে মোটামুটি সুখের সংসার। কিন্তু তার দাদুর মৃত্যুর খবর আসার সাথে সাথেই হুট করে সব বদলে গেল!
কেন জিনাত মহলের কথা ভাবতেন সালমানের দাদু? আসলেই কি জিনাত মহল একজন মুঘল রাজকুমারী ছিলেন? সত্যিই কি পুরাতন লাহোরের সেই ইউক্যালিপটাস গাছটায় একট জিন থাকতো? কেন সালমানের দাদু আর বাবা কখনোই পাকিস্তানে ফিরে যাননি?
সব রহস্যের সমাধান করতে পাকিস্তান রওনা হলো সালমান...

⚈ ইশক

ব্রেন ক্যান্সার ধরা পড়ার পর আম্মার বলা অজস্র গল্পের একটি হলো তারই বোন পারভীন আর এক মিষ্টিআলু বিক্রেতা হাশিমের প্রেমগাঁথা। পুরোনো লাহোর শহরের এক সরু গলির মধ্যে যে ভালোবাসার গাঁথার সূচনা ও সমাপ্তি ঘটেছিল, তা পড়ার পর পাঠক নিজের অজান্তেই একটা অদ্ভুত নস্টালজিক অনুভূতির সাথে পরিচিত হবেন। আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি অসাধারণ এই গল্পটি পড়ার জন্য।

⚈ দ্য ভ্যাপোরাইজেশন এনথালপি অব অ্যা পিকিউলিয়ার পাকিস্তানি ফ্যামিলি

প্রেমিকা গুলমিনার মৃত্যুর পর তার ভাই সিদ্ধান্ত নেয়, সে এর পেছনের অর্থটা পাহাড়ে ধ্যান করে বোঝার চেষ্টা করবে। কয়েকবছর পর তারা নিজেও একা হয়ে যাওয়ায় সে সিদ্ধান্ত নেয়, সেও বের হবে সত্যের সন্ধানে। বিজ্ঞান ও ভালবাসার এক অপূর্ব গাঁথা গল্পটি উপমহাদেশের একমাত্র “ব্রাম স্টোকার অ্যাওয়ার্ড” পাওয়া গল্প।

➤ পাঠ প্রতিক্রিয়া ও পর্যালোচনা—

প্রথকে উসমান টি. মালিকের লিখনশৈলী নিয়ে বলতে গেলে কিছুটা জটিল। অর্থাৎ উনি সহজ ভাবে উপস্থাপনা করতে চাইছেন না বা ইচ্ছে নেই সেটা ‘দ্য ভ্যাপোরাইজেশন এনথালপি অব অ্যা পিকিউলিয়ার পাকিস্তানি ফ্যামিলি’ গল্পটা পড়ে পাঠক ভালোভাবে উপলব্দি করতে পারবেন। তবে লুৎফুর ও রক্তিম ভাই ভালো চেষ্টা করেছেন মূল লেখকের ভাইব বজায় রাখার জন্য।

⚈ দ্য পপার প্রিন্স অ্যান্ড দ্য ইউক্যালিপটাস জিন

তিনটে আলাদা গল্পের প্রথম গল্পটা নিয়ে আলোচনা করা যাক। সত্যিকার অর্থে গল্পটা যেইভাবে শুরু হয়েছিল শেষটা সামঞ্জস্য রেখে শেষ করা হয়েছে। ছোটো ছোটো বেশকিছু সাসপেন্স ক্রিয়েট করলেও মূলে ছিল আকর্ষণ করার মতো একটা টুইস্ট। তবে অতিপ্রাকৃত নিয়ে বিশদ আলোচনা বিশেষ করে জিন জাতি নির্ভর করে এই উপন্যাসিকা লিখেছেন। কীভাবে জিনদের তৈরি করা হয়েছে, দুনিয়ার বুকে তাদের কেমন কর্ম করার জন্য পাঠিয়েছে এর ফল স্বরূপ কাদের কতটা উপকার হচ্ছে এইটা এই গল্পের প্রধান একটা অংশ। তবে গল্পটা সাজিয়েছি একটা পরিবারের অতীত ও ভবিষ্যৎ মিলিয়ে এইখানে পাঠক ইন্টারেস্টিং কয়েকটা টার্ন পাবে এবং আকৃষ্ট হবে।

উক্ত গল্পে ফোকাসে ছিল দুইটি চরিত্র সালমান ও তার দাদা। তার দাদার অতীতের অনেক গোপনীয় সত্য যখন সালমানের সম্মুখে উন্মুক্ত হতে শুরু করে তখন গল্পের মোড় পুরোপুরি ভাবে পরিবর্তন হয়ে যায়। বৈজ্ঞানিক ব্যাখা উপেক্ষা এমন সব আধিভৌতিক রিসার্চ আধো একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে কীভাবে সম্ভব হয়েছে সেটা জানতে বইটি যে পড়তে হচ্ছে। মিথলজি, বহু বছরের ইতিহাস, পারিবারিক জীবনের উত্থান পাত্থান, ভালোবাসা এবং বিজ্ঞানের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে সুন্দর একটি নভেলা।

⚈ ইশক

এই গল্পটা আক্ষরিক অর্থে আপনাকে সামান্য হলেও নস্টালজিয়া করবে আর ভালো তো অবশ্যই লাগবে। ছোটোখাটো গল্প লিখেছেন অথচ মনে হচ্ছে কতটা বিশাল কলেবরে গল্পটাকে জীবন্ত বানিয়েছেন লেখক। একটা ট্রাজেডি নিয়ে তৈরি করা গল্পে কতটা মোহগ্রস্ত হতে পারে পাঠক এই ‘ইশক’ সেটার প্রমান। এক মা তার ছেলেকে নিজের বোন ও একজন মিষ্টিআলু বিক্রেতার অমর প্রেমের গল্প শুনাচ্ছেন। কিন্তু সেখানে সস্তা কিছু নেই আছে জীবনবোধ ও শিক্ষা। হিংসা, বন্যা ও যাবতীয় নানাবিধ সমস্যা তোয়াক্কা না করে এগিয়ে চলা একনিষ্ঠ অসম এক প্রেমগাঁথা।

❝মৃত্যুর পরও যে ভালোবাসা রয়ে যায়, সেটাই ইশক।❞

স্বার্থকতা এইখানে লেখক এই গল্পে ঢুকিয়েছেন গা শিউরে উঠানো বাস্তব সত্য ও ভয়ের রেশ জাগানো এক অশরীরী আতঙ্ক। আদতে কী হয়েছিল? কেন এতসব বাস্তব ও অবাস্তবতা ‘ইশক' গল্পে উঠে এসেছে? শেষটা কতটা মর্মস্পর্শী ও কষ্টসহিষ্ণু ছিল? লাহোরের প্রাকৃতিক দুর্যোগের আবহে যে রূঢ় বাস্তবতা ফুটিয়ে তুলেছেন সেই সাথে হার না মানা ভালোবাসার পাশা খেলাটা শেষ পর্যন্ত কী পরিণতি এনে দিয়েছিল?

⚈ দ্য ভ্যাপোরাইজেশন এনথালপি অব অ্যা পিকিউলিয়ার পাকিস্তানি ফ্যামিলি

মারাত্মক! এই গল্পের মাহাত্ম্য যদি বুঝতে পারেন তাহলে গল্পটা আজীবন মনে পুষে রাখতে পারবেন অন্যথা ফালতু গল্প বলে চালিয়ে দিতে দ্বিধাবোধ করবেন না। এই সায়েন্স ফিকশন নির্ভর ছোটো গল্পটি পদার্থ বিজ্ঞানের অণুর ক্রিয়াকলাপের সাথে একটা পরিবারের নির্দিষ্ট কিছু মানুষের যে মেলবন্ধন লেখক ঘটিয়েছে সেটা অদ্ভুত সুন্দর। অনেক সিনেমা বা সিরিজ তো দেখেছেন যেগুলো হাল্কা চালে মাথার উপর দিয়ে চলে যায় এক্ষেত্রে এই গল্পটাও তেমন। তবে আমি সংক্ষেপে কিছুটা উদাহরণ টানার চেষ্টা করবো। স্পয়লারের ভয় নেই, এই গল্প প্রথমবার পড়েও সম্পূর্ণ বুঝবেন না অন্ততপক্ষে দুই বা তিনবার মাস্টরিড! যদি বেশি সমস্যা হয় তাহলে এই জায়গা স্কিপ করে যেতে পারেন। তাই আলোচনা করা যাক—

উক্ত গল্পে পাঁচটা ছোটো অধ্যায় রয়েছে, পুরো গল্পের আবহ তৈরিতে পদার্থের কঠিন অবস্থা, তরল অবস্থা, বায়বীয় স্ফুটনাংক, প্লাজমা ও ম্যাক্রোস্কোপিক কোয়ান্টাম ফেনোমেনা (ঈশ্বর কণা) ইত্যাদি গল্পের সাথে সামঞ্জস্য ভাবে ব্যবহার করে উপমহাদেশে একমাত্র ‘ব্রাম স্টোকার অ্যাওয়ার্ড’ পুরষ্কার জিতে নিয়েছে মালিকের এই গল্পটি।

১ম : কঠিন অবস্থা—

গল্পটা দুইজন ভাইবোনের যারা হারিয়েছে নিজের আপনজনদের আত্মঘাতী বিস্ফোরণের (বোমা হামলা) কারণে। একজন সোহালি (সোহাইল) অন্যজন তারা। সোহালি (ছেলে) তার প্রিয়তম প্রেমিকা গুলমিনার মৃত্যুর শোক নিতে না পেরে সিদ্ধান্ত নেয় পাহাড়ে চূড়ায় গিয়ে ধ্যান করে খুঁজবে এই বিস্ফোরণের রহস্য কি! অন্যদিকে তারা (মেয়ে) সে তার স্বামী, ননদ, মা, ভাই, ভাইয়ের প্রেমিকা হারিয়ে একপ্রকার সমাজে অবহেলিত নারীদের একজন। বেঁচে থাকতে হলে তাকে হতে হবে পাগল নাহয় পতিতা! কিন্ত সে বেঁচে থাকতে চায় সম্মানের সহিত তাই চলে যায় মায়ের আপন চাচাতো ভাই ওয়াসিফ খানের নিকট; সেখানে থেকে পুরোদমে পড়াশুনা শুরু করে। কিন্তু বিধাতা হয়ত সেই সুখটাও সহ্য করতে পারেনি!

তারাকে এখানে পদার্থের কঠিন অবস্থায় থাকা অণুর সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। যে পদার্থের অণুগুলো একে অপরের সাথে শক্ত ভাবে জুড়ে থাকে। অর্থাৎ ‘তারা’ প্রথমে যেভাবে পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ ছিল সেটা পরবর্তীতে ছিন্ন হতে থাকে সেটাকে আন্তঃআণবিক শক্তির মাধ্যমে বুঝানো হয়েছে। আর সেটা করতে যে পরিমাণ শক্তির প্রয়োজন হয়, সেটার নাম ‘হিট অব ফিউশন।’

২য় : তরল অবস্থা—

একজন মানুষ যখন কঠিন থেকে তরলে পরিণতি হয় তখন সে অস্থির অবস্থায় ঘোরাফেরা করে। অণুগুলো থেকে দূরত্ব বেশি থাকায় তাদের যে পাত্রে ঢালা হোক না কেন, সেই পাত্রের আকার ধারণ করবে। কঠিন অবস্থা থেকে তরল অবস্থার শক্তির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। তারা'র অবস্থা হয়েছিল ঠিক সেইরকম, এই অধ্যায়ে তারাকে পূর্বের ন্যায় আরও শক্তিশালী মনোভাবের একজন দেখানো হয়েছে। এক্ষেত্রে সে গতিময় ও নমনীয় হয়ে যায়।

৩য় : বায়বীয় স্ফুটনাংক—

পদার্থের বায়বীয় অবস্থায় অণুগুলোর মধ্যে এতটাই শক্তি জমা হয় যে, তারা আন্তঃআণবিক শক্তিকে অগ্রাহ্য করতে পারে। অর্থাৎ পাকিস্তানে চল্লিশ বছরের মধ্যে সেই প্রদেশে যেখানে তারা বসবাস করছিল সেখানে ভয়াবহ বন্যাটা দেখা দিয়েছিল। একদিকে আত্মঘাতী বোমা হামলা অন্যদিকে বন্যা এক দুর্বিষহ জীবনে অতিবাহিত করতে হচ্ছিল। তখন তারার মধ্যকার অণুগুলো তরল অবস্থা ছেড়ে বায়বীয় ভাবে স্ফুটনাংকের রূপ নিচ্ছিল। যেখানে সব পিছুটান ফেলে সাহায্য করে যাচ্ছিল বন্যা দুর্গত শিশুদের যারা কিনা স্কুল মাঠে অবস্থান করছিল। কিন্তু সেখানেও বোমা হামলা হয়! ‘মরার উপর খড়ার ঘা’ অবস্থা।

তারার মধ্যকার একটা কালো ছায়া তাকে গড়গড় করে কিছু বলছে। প্রতিশোধের স্পৃহা তাকে কোনোভাবে শান্ত হতে দিচ্ছিল না। এরপরে?

৪র্থ : প্লাজমা অবস্থা—

অণু থেকে পরমাণু এরপরে সেখান থেকে বেরিয়ে আসে ইলেকট্রন! পদার্থকে উচ্চ তাপমাত্রায় উত্তপ্ত করার ফলে ইলেকট্রন সব বের হয়ে যায়। তখন সেই ইলেকট্রন ‘সমুদ্রে’ ভেসে বেড়াতে থাকে। এরকম অবস্থাকে বলা হয় প্লাজমা অবস্থা।

সন্ত্রাসী হামলা, বন্যা সব মিলিয়ে অবস্থা যখন ভীষণ বেগতিক তখন সেই স্থান পরিত্যাগ করে যাওয়াটা সমীচীন বলে বিবেচিত হয়। তারার উদ্দেশ্য ছিল তার ঘর ছেড়ে চলে যাওয়া ভাইকে (সোহালি) খোঁজা। সেই উদ্দেশ্য নিয়ে যাত্রা করতে ফেলে যেতে হয়েছিল পানি, আগুন আর ভূমি থেকে হিসহিস শব্দ উঠা সেই নগরীকে। দীর্ঘ এক যাত্রায় সামিল হয়ে ভাবতে থাকে এই অনাচারে পূর্ণ পৃথিবীর কথা। শান্তির ছায়াটা জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে জিজ্ঞেস করবে, ভয়হীন কোনো এক মানচিত্র ঘটিত হবে কি? ভেতরে অণুগুলো ভেঙে পরমাণু এরপরে সেটাকে ফুটিয়ে ইলেকট্রন বের হয়ে ধনাত্মক আধানগুলো ‘সমুদ্রে’ বেসে যেভাবে বেড়াতে থাকে তারার অবস্থাও ঠিক সেইরকম ভাবে ফুটিয়ে তুলেছে লেখক। সেখানে উল্লেখযোগ্য ছিল, বজ্রাপাত ও বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গ!

৫ম : ম্যাক্রোস্কোপিক কোয়ান্টাম ফেনোমেনা (ঈশ্বর কণা)—

কয়েকটা লাইন বলবো বই থেকে যেটা আপনাকে সহজে সবকিছু বুঝিয়ে দেবে আক্ষরিক অর্থে তারা ও সোহালির কী করা উচিত সেই মূহুর্তে!

❝নম্রতা থাকুক এই জগতে, সে ভাবলো। থাকুক জগতের সাম্যাবস্থা। তবেই আমরা কোনো না কোনো অবস্থায় বেঁচে থাকতে পারবই। থাকুক দয়া, থাকুক করুণা। আরও থাকুক কোনো কিছু পাওয়ার চিহ্ন, তা যতই অনিশ্চিত হোক না কেন।❞

কিছু বুঝলেন? পৃথিবীতে যতদিন নম্রতা ও সাম্যাবস্থা চালু হবে না এইভাবে ধ্বংস হতে থাকবে সবকিছু। এক পক্ষ অন্যায় করলে আরেক পক্ষকে সেটা মেনে নিয়ে চুপ থাকাটা শ্রেয়। দয়া ও করুণা যে মানব জীবনের মহানুভবতার এক দারুণ উদাহরণ। অজ্ঞানী বুদ্ধিমান এই প্রাণীদের করে যাওয়া অপরাধের শাস্তি কী তাহলে এই দয়া ও করুণা দিয়ে সমাপ্তি হবে? ভালো কিছু পেতে হলে যে অনেক কিছুই বিসর্জন দিতে হয়, রাত্রি শেষে তো ভোর আসেই নাহয় সেটার জন্য অপেক্ষা করাটা উৎকৃষ্ট উদাহরণ হোক।

.

জানি রিভিউটা ভীষণ বড়ো হয়ে গিয়েছে, এত ছোটো বইতে যে বৃহত্ত কিছু থাকবে এইটা কে ভেবেছিল? ভূমিপ্রকাশকে ধন্যবাদ ভাবনার খোঁড়াকে তা দেওয়ার জন্য হলেও এই বইটা প্রকাশ করার জন্য। উসমান টি. মালিকের আরও কয়েকটা নভেলা নিয়ে আসুন পড়ে নিজের মস্তিষ্ককে খানিকটা ব্যস্ত রাখতে চাই।

ভুলত্রুটি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন, যদি কোনো ব্যাখায় ভুল হয়ে থাকে ধরিয়ে দিবেন, দিনশেষে পদার্থ নিয়ে নাড়াচাড়া করার কোনো দক্ষতা আমার নেই, শুধুমাত্র বইয়ের আলোকে উদাহরণ গুলো টেনে দেখানোর চেষ্টা করেছি।

➢ অনুবাদক, বানান, প্রচ্ছদ, মলাট, বাঁধাই—

অনুবাদকের মান ভালো তবে লুৎফুল কায়সার ভাইয়ের থেকে আরেকটু বেশি আশা ছিল, যদিও লেখকের বর্ণনাভঙ্গি কিছুটা জটিল সেইদিক থেকে ব্যপারটা ছাড় দেওয়া যায়। রক্তিম ভাইয়ের 'ইশক' দারুণ হলেও ‘দ্য ভ্যাপোরাইজেশন এনথালপি অব অ্যা পিকিউলিয়ার পাকিস্তানি ফ্যামিলি’ আরও প্রাঞ্জল হতে পারত। অনেকে উক্ত গল্পটা পড়ে মাথা চাপড়াবে তবে দুই/তিনবার পড়লে মোটামুটি বুঝাতে আসবে। ভাবান্তর বা ভাষা ভিত্তিক রূপান্তর না করে নিজের মতো করে অনুবাদের কাজটা করলে বেশি ভালো হতো বলে মনে করছি। যদিও উনার প্রথম অনুবাদ পড়েছি আশা করছি পরবর্তী বই গুলোতে প্রাঞ্জলতা ছাপ আরেকটু বেশি পাওয়া যাবে। দুইজনকে ধন্যবাদ দারুণ একটা বইয়ের কাজ করার জন্য।

বইয়ের সম্পাদনা প্রয়োজন ছিল বলে মনে করছি, কারণ চেষ্টা করলে আরেকটু সহজবোধ্য করা যেত বলে আশাবাদী। তবে বানান সংশোধনে জাকির ভাই ছিলেন সেইদিক থেকে বিশেষ কোনো অসুবিধে চোখে পড়েনি। কয়েক জায়গায় মিস্টেক থাকলেও সেটা চোখ এড়িয়ে যাবে।

সজল ভাইয়ের করা প্রচ্ছদ নিয়ে বিশেষ কিছু বলার নেই। প্রত্যকটা গল্পের এলিমেন্ট তিনি দারুণ ভাবে প্রচ্ছদে ফুটিয়ে তুলেছেন, এবং সেগুলো বিশেষ বার্তা বহন করেছে নির্দ্বিধায়।

যেহেতু কয়েকটা গল্প মিলিয়ে বইটা তৈরি তাই চাইলেও আরও কয়েকটি গল্প ঢুকানো যেত বলে মনে হয়। আশা করছি পরবর্তীতে এইটা বিবেচনা করে দেখবে ভূমিপ্রকাশ টিম। মলাট, বাঁধাই ও পৃষ্ঠার মান এই বইয়ের দারুণ ছিল অভিযোগ করার মতো কিছু নেই।


➠ বই : দ্য প্রপার প্রিন্স অ্যান্ড দ্য ইউক্যালিপটাস জিন অ্যান্ড আদার স্টোরিজ | উসমান টি. মালিক
➠ জনরা : হরর ফ্যান্টাসি
➠ প্রথম প্রকাশ : সেপ্টেম্বর ২০২০
➠ অনুবাদক : লুৎফুল কায়সার, বিমুগ্ধ সরকার রক্তিম
➠ প্রচ্ছদ : সজল চৌধুরী
➠ প্রকাশনী : ভূমিপ্রকাশ
➠ মুদ্রিত মূল্য : ২২০ টাকা মাত্র
Profile Image for musarboijatra  .
288 reviews363 followers
October 14, 2020
একটা নভেলা আর দুইটা ছোটগল্প নিয়ে সাজানো হয়েছে বইটা। বইয়ের প্রতিটা গল্পই বেশ মিশ্র জনরায় পড়ে। মূলত ফ্যান্টাসি আর জাদুবাস্তবতা; নভেলাটা তো সাই-ফাই জনরার জন্য উদ্দিষ্ট 'নেবুলা পুরষ্কার'এর মনোনয়নও পেয়েছিল। সব মিলে 'স্পেক্যুলেটিভ ফিকশন'। আর একটু হরর।

প্রথমেই বলে রাখি, এই বইটা আদতে কোনো আস্ত বইয়ের অনুবাদ না। লেখকের তিনটা আলাদা লেখাকে অনুবাদ করে এক মলাটে আনা হয়েছে বাংলায়। এমনিতে 'দ্য পপার প্রিন্স এন্ড দ্য ইউক্যালিপটাস জিন' আর 'দ্য ভ্যাপোরাইজেশন এন্থালপি অব আ পিকিউলিয়ার পাকিস্তানি ফ্যামিলি' আলাদাভাবেই বই হিসেবে পাওয়া যায়। সাথে আছে ছোটগল্প 'ইশক'। পপার প্রিন্স অনুবাদ করেছেন লুৎফুল কায়সার, পরের দুইটা করেছেন বিমুগ্ধ সরকার রক্তিম।

বাংলাদেশের পাঠকদের কাছে পাকিস্তানি লেখকরা তেমন পরিচিত নন। সাদাত হোসেন মান্টোর পাঠক আছেন বটে, তাও গড়পড়তা জনপ্রিয় নন তিনি এই দেশে। মান্টো'র একেকটা লেখাই যেমন মাস্টারপিস, তেমন উসমান তানভীর মালিকের যে অল্প কয়েকটা সৃষ্টি রয়েছে, তাতে লেখকের অনবদ্যতার পরিচয় স্পষ্ট। এই সঙ্কলনটার সার্থকতা, বাংলাদেশী পাঠকদের কাছে উসমান টি. মালিককে পরিচিত করা। অনুবাদকদের ধন্যবাদ এই কাজটা হাতে নেওয়ার জন্য।

লং স্টোরি শর্ট :
এক কথায় সমাজবাস্তবতার নিগূড় উপাখ্যান এই তিনটা লেখা-ই, যার মাঝে পাকিস্তানি সমাজের চিত্র একটা দরকারি অনুষঙ্গ। মিথলজি, ইসলামিক ফোকলোর, ইতিহাস, পারিবারিক জীবন, বিজ্ঞান ইত্যাদি সব মিলেমিশে অদ্ভূত এবং অভাবিত গল্প লিখেছেন লেখক। 'দ্য পপার প্রিন্স এন্ড দ্য ইউক্যালিপটাস জিন' উপন্যাসিকা আপনাকে একটা গল্পের মাঝে দিয়ে হাঁটিয়ে নিবে, কিন্তু আপনি অনুভব করবেন, এখানে আসল জিনিস কাহিনীতে না, বরং গল্পের বাইরের অন্য একটা কিছু। 'ইশক' বাকি দুটার চেয়ে হালকা চালে শুরু হলেও, এক সময়ে লাহোরের গলি ছেড়ে তার পটভূমি হয়ে ওঠে মানুষের মন। বুঝার পক্ষে ওটাই শেষ সহজ গল্প। শেষ দানে 'দ্য ভ্যাপোরাইজেশন এন্থালপি অব আ পিকিউলিয়ার পাকিস্তানি ফ্যামিলি' খুব জটিল এক উপস্থাপনা... একইসাথে প্রচন্ড মানবিক। দুনিয়াজোড়া পাঠকের নব্বইভাগ একই কথা বলে স্বীকার করে নিয়েছেন যে গল্পটা দুর্বোধ্য এবং ব্রিলিয়ান্ট।

'ভূমি অনুবাদ' প্রকল্পে এই লেখকের অনুবাদ নিয়ে আসা প্রশংসনীয় উদ্যোগ ছিল। তবে লেখকের আরো প্রকাশিত লেখাগুলোর অনুবাদ মিলিয়ে আরেকটু কন্টেন্টবহুল করা যেত বইটাকে। মাত্র তিনটা গল্প না ছাপিয়ে কলেবর বড় করলে পাঠক বইটা কেনার আরেকটু কারণ খুঁজে পেতো।
বরাবরের মতোই, সজল ভাই প্রচ্ছদ নিয়ে দারুণ কাজ করেছেন। এবং এই 'রয়্যাল ভাইব'এর উদ্দেশ্য, আর প্রচ্ছদের বেইজ রং কেন খয়েরি- এই দুই প্রশ্নের জবাব পাঠক পেয়ে যাবেন দ্য পপার প্রিন্স নভেলার মাঝখানে। এছাড়াও, কাভারে দেখানো প্রতিটা ইলিমেন্টই প্রাসঙ্গিক। সুচিন্তিত কাজ। ব্র্যাভো।

অনুবাদ :
যেহেতু অনুবাদ বই, অনুবাদ সম্পর্কে মূল্যায়ন দেওয়া বাঞ্ছনীয়। উসমান টি. মালিকের লেখার ধাঁচ কোথাও কোথাও ইচ্ছাকৃত জটিল। যেমন তৃতীয় গল্পে, ডায়লগ প্যাটার্ন এবং ন্যারেটিভও কোথাও কোথাও অদ্ভূত। রক্তিম এখানে লেখকের ধাঁচটা ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন, কিন্তু আমার মতে তিনি বাক্যগুলো নিজের মতো করে সাজালে ভাল করতেন। পাঠক সেক্ষেত্রে লেখকের নিজস্বতার স্বাদ হারাতো, কিন্তু অন্তত পড়তে জটিল লাগতো না। ৩য় গল্পের ব্যাপারে আমি রেকমেন্ড করব মূল ইংরেজিতে পড়তে। তাতেও গল্পের জটিলতা কমবে না। কিন্তু অন্তত লেখকের স্বাদটা পাওয়া যাবে।
'ইশক' এর অনুবাদ আমার মতে দারুণ হয়েছে। খুব স্পর্ধার কথা হয়ে যাবে, তবু বলি, এখানে রক্তিম তাঁর অগ্রজকেও ছাপিয়ে গিয়েছেন।
'পপার প্রিন্স'এর অনুবাদ কায়সার ভাইয়ের বরাবরের মতোই। যতটা ভাল অনুবাদ করলে তা আর অনুবাদ মনে হয় না, তত ভালো না হলেও স্বাচ্ছন্দ্যে পড়ার মতো অনুবাদ।


এবার লং স্টোরির পালা।

প্রথমত, নভেলা, 'দ্য পপার প্রিন্স এন্ড দ্য ইউক্যালিপটাস জিন'।
গল্পটা সালমানের, যে বস্টনে প্রফেসরের জীবন চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টায় আছে। তার বাবা-মা ফ্লোরিডায় থাকে, সাথে থাকে সালমানের দাদা। সালমানের মাঝে পুরাণ আর লোকজ কাহিনীর আগ্রহ জাগিয়েছিল মূলত তার দাদা। এককালে পাকিস্তানের লাহোরে থেকে আসার স্মৃতি আধো-আধো মনে করতে পারার মাঝখানে বুড়ো তাকে এক হৃতগৌরব মোঘল রাজকন্যার গল্প বলে, গলির মাঝে চা দোকান চালিয়ে একরকম চলে যেত যার। চা দোকানকে ছায়া দিত একটা ইউক্যালিপটাস গাছ, লোকমুখে শোনা যায় সেই গাছে বাস করতো এক জ্বীন, যার কাজ ছিল বংশানুক্রমে মোঘল বংশধরদের হেফাজত করা।
দাদার জীবনে সেই মোঘল রাজকন্যার কি ভূমিকা, কেন তাঁর ঘরে এক অচেনা সম্ভ্রান্ত মহিলার ছবি টাঙানো আছে, তা জানতো না বাড়ির কেউই। কিন্তু গল্পের এবং সালমানের জীবনের মোড় ঘুরে যায় যখন দাদার মৃত্যুর পর তাঁর এক ডায়েরি খুঁজে পায় সালমান। ডায়েরি না, বরং একজন একাডেমিক স্কলারের গবেষণাপত্রের উপযুক্ত কাজ দেখতে পায় সে, দাদার কাগজপত্রের মাঝে। দাদা সারা রাতদিন খেটে যেসব অবাক করা চিত্রলিপি আর লেখালেখি রেখে গেছেন, স্মৃতি হারানো বুড়োর মাঝে এমন মানুষটার লুকিয়ে থাকা মোটেও আশা করেনি সালমান। আর এই আবিষ্কার তাকে প্রতিদিনকার জীবন ছেড়ে লাহোরে যেতে বাধ্য করে, যেখানে কোনো এক আধিদৈবিক সত্যের মুখোমুখি হওয়া অপেক্ষা করে আছে তার জন্য।
এর বেশি বলে স্পয়লার দিলাম না। আমি আশঙ্কা করছি এই বর্ণনাটুকু পাঠককে গল্পটা পড়তে উদ্বুদ্ধ করবে না। কিন্তু 'দ্য পপার প্রিন্স এন্ড দ্য ইউক্যালিপটাস জিন' আসলেই জীবনে অন্তত একবার পড়ে দেখার মতো একটা লেখা। চিয়ার্স!

'দ্য ভ্যাপোরাইজেশন এন্থালপি অব আ পিকিউলিয়ার পাকিস্তানি ফ্যামিলি' শেষের গল্পটা, যার জন্য লেখক এই উপমহাদেশের একমাত্র 'ব্রাম স্টোকার পুরষ্কারবিজয়ী' হয়েছেন।
বালুচিস্তানের কোনো এক অজানা স্থানে বসবাসকারী ভাই-বোন, তারা আর সোহাইলকে নিয়ে এই গল্প (অনুবাদক সোহাইলকে 'সোহালি' লিখেছেন পুরোটায়)। তাদের এলাকার প্রধান দুই বৈশিষ্ট্য, কৃষি, আর ড্রোন হামলা। সোহাইলের স্ত্রী, গুলমিনা, এমন এক হামলাতেই মারা গিয়েছিলেন আর সোহাইল তার প্রতিশোধ নিতে বদ্ধপরিকর। একইসাথে প্রকৃতির দেওয়া বন্যা আর মানুষের দেওয়া আত্নঘাতী বোমাহামলার পটভূমিতে লেখক গল্প বুনেছেন। যেখানে আবার বিজ্ঞান আর পুরাণকে মিশিয়েছেন সমপরিমাণে।
একটা আগ্রহের ব্যাপার হচ্ছে, প্রতি অংশের (বা অধ্যায়ের) শুরুতে লেখক পদার্থের একটা সায়েন্টিফিক ফেনোমেনা বর্ণনা করেছেন সায়েন্স টেক্সটবুকের মতো করে। শুরুতে পদার্থের কঠিন অবস্থা। দ্বিতীয় অধ্যায়ের শুরুতে তরল পদার্থ। তৃতীয়ে স্ফুটনাঙ্কে বায়বীয়। চতুর্থ অধ্যায়ে প্লাজমা অবস্থা, আর পঞ্চমে বোসন কণার 'ম্যাক্রোস্কপিক কোয়ান্টাম ফেনোমেনা'। এক দেখায় এই উল্লেখগুলোর সাথে গল্পের কোনো সংযোগ নেই... তবে লক্ষ্যণীয়, এই বৈজ্ঞানিক ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা আমাদের দেখায়, ক্রমাগত শক্তি যোগ করে যেতে থাকলে পদার্থের বন্ধনের কি পরিবর্তন ঘটে। গল্পেও কাছাকাছি একটা পরিবর্তন দেখতে পাওয়া যায়। ক্রমাগত বিশৃঙ্খলা বাড়তে থাকলে মানবজীবনের পরিবর্তনের যাত্রাটা কেমন হয়, সেটা গল্পটার প্রতিপাদ্য। যুদ্ধবিধ্বস্ত পারিবারিক জীবনের একটা মানবিক গল্প পাবেন পাঠক।

'ইশক', সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত, সহজবোধ্য গল্প, তাও লাহোরের সামাজিক জীবনের রূঢ় বাস্তবতার মাঝে মানুষেরে মনের অভিনবত্ব তুলে ধরে। "আমি শুধু তাদের মধ্যকার ভালবাসাটা নিজে পেতে চেয়েছিলাম", আমার মতে এই এক লাইনেই গল্পের সবটুকু জমা হয়ে আছে। শেষে হরর এলিমেন্ট এসেছে খানিকটা, বইয়ের একমাত্র হরর।


এমন কিছুর স্বাদ চান যেটা আপনার জন্য হতে পারে একদমই নতুন? তাহলে বইটা আপনাকে রেকমেন্ড করবো। প্রস্তুতি নিয়ে বসুন।


লেখক : উসমান তানভীর মালিক
অনুবাদক : লুৎফুল কায়সার, বিমুগ্ধ সরকার রক্তিম
প্রকাশকাল : অক্টোবর ২০২০
প্রকাশক : ভূমি প্রকাশ
পৃষ্ঠা সংখ্যা : ১২৫
মুদ্রিত মূল্য : ২২০ টাকা
Profile Image for Wazedur Rahman Wazed.
Author 2 books23 followers
December 1, 2023
উসমান টি. মালিক পাকিস্তানি লেখক। তার লেখায় হরর, সায়েন্স ফিকশন ও ফ্যান্টাসি থাকে বিধায় তাকে অনেকই মিশ্র ধারার লেখক বলে অভিহিত করে থাকেন। ২০১৪ সালে তার রচিত 'দ্য ভ্যাপোরাইজেশন এনথালপি অব অ্যা পিকিউলিয়ার পাকিস্তানি ফ্যামিলি' ছোট গল্পটি দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম হিসেবে ব্রাম স্টোকার পুরষ্কার পায়। আর 'দ্য পপার প্রিন্স অ্যান্ড দ্য ইউক্যালিপটাস জিন' গল্পটি নেবুলা পুরষ্কারের জন্য মনোনয়ন পেয়েছিল।

তার লেখা একটা নভেলা ও দুইটা গল্প অবলবনে ভূমিপ্রকাশের এই বইটা। উপরে উল্লেখিত দুটি নাম ছাড়াও এই বইটে ইশক নামে আরো একটি গল্প স্থান পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভালো লেগেছে নভেলা অর্থাৎ, দ্য পপার প্রিন্স অ্যান্ড দ্য ইউক্যালিপটাস জিন'। এর পেছনে অবশ্য কারণটা হচ্ছে সচরাচর এমন গল্প পড়া হয় না। একদমই ব্যতিক্রম আর ভিন্ন ধারার একটা হরর গল্প। বেশ ভালো লেগেছে। উপভোগ করেছি বলতে গেলে। অনুবাদও প্রাঞ্জল ছিল।

ইশক গল্পটা অনেক বেশি রিলেট করতে পেরেছি। কারণ হচ্ছে, পুরানো লাহোর শহরের বর্ণনা। পুরানো ঢাকা, পুরানো দিল্লি, পুরানো লাহোর, পুরানো করাচি, পুরানো চট্টগ্রাম - এই প্রত্যেকটা শহরের একটা বিষয় বেশ কমন, তা হচ্ছে শহরগুলোর গলি-ঘুপচি, দালানের সঙ্গে লাগোয়া দালানে মানুষের বসবাস, ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে বর্তমানে টিকে থাকা-এসবই একই ধরণের। যেহেতু পুরানো ঢাকায় শৈশব কেটেছে তাই এই গল্পটার খুব বেশি রিলেট করে পেরেছি। যদিও মূল গল্পটা খুব একটা ভালো লাগেনি। অনুবাদ ভালো হয়েছে।

সবার শেষে যে গল্পটা, যেটা ব্রাম স্টোকার পুরষ্কারে ভূষিত হয়েছে, গল্পটা আসলে ভালো লাগেনি। এখন হতে পারে গল্পটা পুরোপুরি বুঝিনি, অথবা হতে পারে গল্পটাই এমন আসলে। লেখক নিজের লেখনশৈলীতে এখানে কিছু বাক্য কঠিন করে লেখেছে। যেটা অনুবাদক লেখকের লেখার ধাঁচ বজায় রাখতে একইভাবে অনুবাদ করেছে। যে কারণে অনেক কঠিন লাগে পড়তে।
Profile Image for Imran.
136 reviews7 followers
July 10, 2021
শেষ গল্পটি ছাড়া বাকি দুটো বেশ ভালো লেগেছে।
Profile Image for Adib Zaman.
6 reviews
July 17, 2024
মোটামুটি লেগেছে। প্রথম গল্পটা একটু বেশি ভালো লেগেছে লাস্টেরটা একদম ভালো লাগেনি। অনুবাদও খুব একটা ভালো লাগেনি।
Profile Image for Gilgamesh .
46 reviews4 followers
January 23, 2026
★দ্য পপার প্রিন্স এন্ড দ্য ইউক্যালিপটাস জিন এন্ড আদার স্টোরিজ★
লেখক : উসমান টি. মালিক
অনুবাদ : লুৎফুল কায়সার, বিমুগ্ধ সরকার রক্তিম


মোট ৩টা গল্প আছে। প্রথমটা উপন্যাসিকা, অন্য দুইটা ছোট গল্প।
রিভিউ দেখছিলাম ৩য়টা খুব বেশি ভালো না৷ ওইটাই আগে পড়ছি।

★দ্য পপার প্রিন্স এন্ড দ্য ইউক্যালিপটাস জিন★

প্রথম গল্পটা ইন্টারেস্টিং ছিলো। কিছুটা মিস্ট্রি, থ্রিল আবার সাই-ফাই ও মনে হইছে। আবার অতিপ্রাকৃত বিষয়ও আছে।
দাদুর কাছে এক রাজকুমারীকে নিয়ে এক গল্প শুনে সালমান। যদিও রাজকুমারি ছিলো দুঃখী। রাজকুমারীর ঘটনার সাথে ইউক্যালিপ্টাস গাছের জিন এর ঘটনা জড়িত থাকে। প্রথমে রুপকথার মতো শোনালেও পরে সে বুঝতে পারে এর মাঝে বেশ রহস্য আছে। সেই রহস্য উদঘাটনের জন্যই সালমান আবার পাকিস্তান ফিরে আসে। রহস্য সমাধানের জন্য হন্য হয়ে খুজতে খুজতে এক সময় ঠিকই আসল সত্যটা জানতে পারে। কখনো রূপকথার মতো, কখনো বা কিছুটা সাই-ফাই এর মিশেল আবার অতিপ্রাকৃত ভাব, সবমিলিয়ে উপভোগ্য ছিলো।
শেষটা কিছুটা মনে হইছে আরেকটু ভালো হইতে পারতো। বিশেষত গল্পটা বড় হলেও খারাপ লাগতো না। ভালো কিছু টুইস্ট-টার্ন ছিলো। তবে ওপেন এন্ডিং এর মতো। শেষ হইয়াও হইলো না শেষ। এই বিষয়টা যেকোনো বইয়ে থাকলে বিরক্ত লাগে।

★ইশক★

দ্বিতীয় গল্পটাও ভালো। পুরো গল্পটা প্রথমে মনে হয়েছে সাধারণ গভীর প্রেম কাহিনীর মাঝেই থাকবে, কিন্ত না। ট্রাজেডি, বাস্তব-অবাস্তবের মাঝে দোলাচলে দুলতে থাকার মতো অদ্ভুদ্ভাবেই শেষ হয়। সাধারণ কিন্তু অদ্ভুতভাবে শেষ হওয়া এই গল্পটাও ভালো ছিলো।
এই গল্পে আবার কিছু অংশ বেশ অস্বস্তিকর ছিলো।

"ইশক। প্রেমিকের থেকে আলাদা হয়ে গেলে, কিংবা তার কথা বারবার চিন্তা করলে বা এরকম অবস্থায় হৃদয়ের যে অবস্থা হয়, সেটাই ইশক। সেই অবস্থাটায় প্রেমিক হয়ে যায় প্রিয়তম। মাঝমধ্য সেটা দিয়ে অপূরণীয় ভালোবাসে কিংবা নস্টালজিয়াও প্রকাশ করা হয়।
মৃত্যুর পরও যে ভালোবাসাটা রয়ে যায়, সেটাই ইশক। "

★দ্য ভ্যাপোরাইজেশন এন্থালপি অব অ্যা পিকিউলিয়ার পাকিস্তানি ফ্যামিলি★

তৃতীয় গল্পটার সারমর্ম বুঝতে পারি নাই আসলে কি বুঝাইতে চাইছে। গল্পটাই বেশি গুরুগম্ভীর না অনুবাদে মূল ভাবটা ফুটিয়ে তুলতে পারে নাই, বুঝি নাই। ওতো ভালো লাগে নাই। মনে হয় বুঝতেই পারি নাই ভালোভাবে। এই গল্পটাই আবার উপমহাদেশের একমাত্র "ব্রাম স্টোকার এওয়ার্ড" পাওয়া গল্প। তো কে জানে কি সমস্যা।

কোনো পাকিস্তানি লেখকের প্রথম বই পড়া হইলো। পাকিস্তান, লাহোরের অলি-গলি, তাদের সামাজিক অবস্থা সম্পর্কে কিছুটা নতুনভাবেই ধারণা পাওয়া যায়। সবমিলিয়ে বেশ উপভোগ্য ছিলো 3য় গল্পটা বাদ দিলে।

হ্যাপি রিডিং📖📚
Displaying 1 - 13 of 13 reviews

Can't find what you're looking for?

Get help and learn more about the design.