বিহারের দেওঘর জিলার পুনাসি বাঁধ এলাকার পাড়ারিয়া নামে একটি গ্রামে জশিডি থানার পুলিশবাহিনী ১৯৮৮ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি সারারাত ধরে ২৫ জন মেয়েকে ধর্ষণ করে। এই ঘটনার মাত্র তিন মাস আগে বিশ্বনাথ জেল ভেঙ্গেছে। পাড়ারিয়া ধর্ষণের প্রধান ফরিয়াদি ছিল রাধিয়াদেবী। রাধিয়ার সঙ্গে কেলুর বিয়ে হয়েছিল আর কেলু ক্রমেই ঘর থেকে দূরে, আরো দূরে, আরো দূরে চলে যেতে-যেতে শেষে কলকাতা শহরে ও বঙ্গোপসাগরে পৌঁছে যায়। এই কলকাতা শহরেই মিতু বড় হচ্ছে, স্কুলের বাসে যাওয়া আসার পথের গল্প প্রতি সন্ধ্যায় যে মায়ের সাথে করে। স্কুলের পড়া না করলে যার মনে শান্তি আসে না, কেঁদে অস্থির হয়।
আট আখ্যানে বিভক্ত ২০৪ অধ্যায়ের এই মহাকাব্যিক উপাখ্যানে ডেভেলপমেন্ট, কনস্ট্রাকশন, স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পথ ধরে অবশ্যম্ভাবী পরিণতিতেই যেন পুলিশ সারারাত ধর্ষণে মেতে ওঠে বাঁধের ধারে, যে বাঁধ বিপুল ফসলের প্রতিশ্রুতির সাক্ষর। আদালত পুলিশের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ খারিজ করে, ধর্ষিতরা সমাজ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়, আর সম্পূর্ণ সময় আমাদের বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে না যে এই উপন্যাস সত্য ঘটনার বৃত্তান্ত মাত্র, আমাদের বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে না যে আমরা এখনও সেই পাড়ারিয়া গ্রামেই বেঁচে আছি।
দেবেশ রায়ের জন্ম ১৯৩৬ সালে অধুনা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের পাবনা জেলার বাগমারা গ্রামে। ১৯৪৩ সালে তাঁর পরিবার জলপাইগুড়ি চলে আসেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টির সর্বক্ষণের কর্মী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ার সময় প্রত্যক্ষ বাম রাজনীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। রাজনীতির সূত্রে শিখেছিলেন রাজবংশী ভাষা। কলকাতা শহরেও ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন। তিনি সেন্টার ফর স্টাডিজ ইন সোশ্যাল সায়েন্সে একজন গবেষণা সহকর্মী ছিলেন। তাঁর প্রথম গল্প প্রকাশিত হয় ১৯৫৩ সালে জলার্ক পত্রিকায়। প্রথম উপন্যাস ‘যযাতি’। ১৯৭৯ সাল থেকে তিনি এক দশক পরিচয় পত্রিকা সম্পাদনা করেন। ১৯৯০ সালে ‘তিস্তাপারের বৃত্তান্ত’ উপন্যাসের জন্যে সাহিত্য অকাদেমি পুরস্কার লাভ করেন। ২০২০ সালে কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে দেবেশ রায়ের জীবনাবসান হয়।