এটি একটি ভ্রমণকাহিনি হলেও তা গতানুগতিক ধারার পর্যটকের ব্যক্তিগত বৃত্তান্ত নয়। এখানে লেখক তাঁর অনুসন্ধানী চোখ ও মন দিয়ে ছুঁতে চেয়েছেন জাপানি সমাজের আত্মা, তার টানাপোড়েন ও রূপান্তর। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাপানের বিদ্বৎসমাজে এবং নতুন প্রজন্মের মনে নানান জিজ্ঞাসা তৈরি হয়েছে। তার একটি ছবি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে এখানে। বিশেষ করে যুদ্ধের স্মৃতি এবং জাতীয়তাবাদ নিয়ে যে সামাজিক বিতর্ক চলছে, তার একটি একাডেমিক আলোচনা আছে এ বইয়ে। লেখক দেখাতে চেয়েছেন, আমরা যে জাপানকে চিনি, তার মধ্যেও আছে অন্য এক জাপান, যেখানে মানুষ লড়াই করে নিজের সঙ্গে, সমসাময়িক তত্ত্ব ও ধারণার সঙ্গে। একদিকে সমরবাদ আর অন্যদিকে ভোগবাদ, এর বিরুদ্ধে রয়েছে তরুণদের অন্য রকম জীবন খোঁজার চেষ্টা।
জন্ম ১৯৫২, ঢাকায়। পড়াশোনা গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। ১৯৭০ সালের ডাকসু নির্বাচনে মুহসীন হল ছাত্র সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বিএলএফের সদস্য হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। দৈনিক গণকণ্ঠ-এ কাজ করেছেন প্রতিবেদক ও সহকারী সম্পাদক হিসেবে। দক্ষিণ কোরিয়ার সুংকোংহে বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘মাস্টার্স ইন এনজিও স্টাডিজ’ কোর্সের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও অধ্যাপক। তাঁর লেখা ও সম্পাদনায় দেশ ও বিদেশ থেকে বেরিয়েছে বাংলা ও ইংরেজিতে লেখা অনেক বই।
গান শুনে যে কারোরই মন নেচে উঠতে পারে, কিন্তু কখনও কোন গানের লাইন, একটা দেশ সমন্ধে জানায় কি! লেখক জেনেছেন একটা গানের লাইন দিয়েই একটা দেশকে। আগ্রহ জেগেছে এবং একটু একটু করে সে দেশটাকে তিনি জেনেছেন চিনেছেন। সেই দেশটার নাম জাপান, আর সেই গানের লাইনটা হল-- " মেরা জুতা হ্যায় জাপানি"।
স্কুল জীবনে টুকরো টুকরো কিছু তথ্য দিয়ে চেনা জানা হয় জাপান দেশটা, এর পর শিশুসাহিত্যিক লেখক মোহাম্মদ মোদাব্বের এর " জাপান ঘুরে এলাম" বইটা পড়ে লেখক মুগ্ধ হন এবং জানতে পারেন জাপান নিয়ে। অবশেষে ২০০৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর " এশিয়া লিডারশিপ ফেলো পোগ্রাম " এ অংশ নেওয়ার জন্য প্রথম টোকিওতে পৌঁছান লেখক।
"বাঙালির জাপান আবিষ্কার" বইটা লেখক মহিউদ্দিন আহমদ এর ভ্রমণ কাহিনি। তবে ধারাবাহিক বা গতানুগতিক যে ভ্রমণ কাহিনিগুলো আমরা পড়ে থাকি বইটা তার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। লেখক জাপানে যাবার আগে জাপান নিয়ে যে ভাবনা তা দিয়ে শুরু করেছেন, এর পর একটু একটু করে তিনি সে দেশটাকে আমাদের সামনে নিয়ে এসেছেন নিজের অনুসন্ধানী চোখ ও মন দিয়ে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগের জাপান এবং যুদ্ধের পরের বাস্তবতা, নতুন প্রজন্মের কাছে যুদ্ধ পরবর্তী যে জিজ্ঞাসা, যুদ্ধের স্মৃতি, জাতীয়তাবাদ, সমাজচিত্র ও সামাজিক বিতর্ক তুলে ধরেছেন। একই সাথে শিক্ষা ব্যবস্থা, লোকাচার, সরকারি প্রতিষ্ঠান, স্কুল ও সেখানকার এনজিও নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার সাথে সাক্ষাৎকারের একটা অংশ জুড়ে দিয়েছেন বইটাতে।
লেখক গতানুগতিক যে রাজনৈতিক বিষয়ে লিখে থাকেন তা থেকে বহু দূরে সরে গিয়ে দারুণ একটা লেখা, স্বাদটাই পাল্টে দিলেন তবে মানটা একই রইলো।