পুরো নাম আনু মুহাম্মদ আনিসুর রহমান হলেও আনু মুহাম্মদ নামেই অধিক পরিচিত, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক। ঢাকায় লেখাপড়া শেষ করে ১৯৮২ থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে যোগদান করেন। এছাড়া একই বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগেও শিক্ষকতা করেছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী শোষণ, বৈষম্য, নিপীড়ন ও আধিপত্য বিরোধী তত্ত্বচর্চা ও লড়াইয়ে সক্রিয় অংশ নেন। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদে জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনসহ যে কোন প্রকার নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেন। বর্তমানে তিনি তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব। বাংলাদেশে মার্কসীয় অর্থনীতি ও রাজনৈতিক অর্থনীতি সংক্রান্ত আলোচনায় তিনি সবচেয়ে পরিচিত লেখক।
কন্টেন্ট এর দিক দিয়ে বেশ হেভি, ফেমিনিস্ট ন্যারেটিভ এর বাংলা প্রতিনিধি কম থাকায় মাঝেমধ্যে অনুবাদ সাহিত্যের মতো- ফলো করতে কষ্ট হয়। কিন্তু ঐতিহাসিক প্রেক্ষিতে নারী আন্দোলনের মোটামুটি একটা আন্দাজ পাওয়া যায়। লেখক সমাজতান্ত্রিক কাঠামো তে বিশ্বাসী এবং নারীমুক্তি শুধুমাত্র সেই প্রেক্ষিতেই সম্ভব এমন এক প্রস্তাবনা দাড় করিয়েছেন, যেটা মোটামুটি মেইন্সট্রিম ই বলা চলে। এই ব্যাপারটা মাথায় রেখে তারপর বইটি পড়া উত্তম।
বাংলাদেশের নারী আন্দোলন কে তিনি অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক প্রেক্ষাপটে দেখেছেন, যেটা এই বইয়ের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক। লেখক একজন এক্টিভিস্ট, তাই অনেক পাতায়ই তার ব্যাক্তিগত ক্ষোভ ও আকাঙ্ক্ষার প্রত্যয় ঘটেছে, বুদ্ধিমান পাঠক একটু চোখ খোলা রেখে পড়লেই শেখার মত অনেক কিছু পাবেন।